
প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পরও নিয়োগপত্র পাননি বরিশাল জেলার ৭২ প্রার্থী। কেন তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়নি, তার সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে দেওয়া এক স্মারকলিপিতে এ দাবি জানান নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীরা।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর বরিশাল জেলায় ৩৭১ জনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। তবে সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে ৭২ জন এখনো নিয়োগপত্র পাননি বলে দাবি করেছেন তারা।
প্রার্থীদের অভিযোগ, বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার কথা বলা হলেও তাদের নিয়োগ না দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। এ অবস্থায় নিয়োগ বাতিল বা স্থগিতের কোনো লিখিত আদেশ, প্রতিবেদন কিংবা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত থাকলে তার অনুলিপি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়ার কোনো কাগজপত্র বা প্রশাসনিক কার্যক্রম অসম্পূর্ণ থাকলে তা সম্পন্ন করার সুযোগ, পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে লিখিত নির্দেশনা এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট স্মারক নম্বর ও বর্তমান অবস্থা জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীদের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে অনুসন্ধান করে কেন তাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি, সেই কারণ স্পষ্ট করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
বিএম কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মো. জাহিদ হাসান বলেন, ‘আমার বয়স শেষ পর্যায়ে। পরে আর সুযোগ পাব কি না জানি না। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করব—এই আশায় মেট্রোরেলের চাকরিও ছেড়ে দিয়েছিলাম। চাকরি ছাড়ার পর দীর্ঘ আট মাস বেকার সময় পার করছি। এখন আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কেন বাদ দেওয়া হয়েছে, সেটিও জানি না।’
তিনি বলেন, ‘এখনো যদি যোগদান করতে না পারি, তাহলে আমার সবকিছু হারাতে হবে। আমরা যারা বাদ পড়েছি, আমার মনে হয় সবাই যোগ্য প্রার্থী। তাই কোনো কারণ না জানিয়ে বাদ না দিয়ে আমাদের একযোগে নিয়োগ দিয়ে কর্মস্থলে যোগদানের সুযোগ দেওয়া উচিত।’
নিয়োগবঞ্চিত ৭২ প্রার্থীর দাবি, চূড়ান্ত সুপারিশের পরও কেন তাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি, তা দ্রুত স্পষ্ট করে যোগদানের সুযোগ নিশ্চিত করা হোক।
