বরিশাল নগরীতে অটোরিকশার ভাড়া এখন কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা উপেক্ষা করে চালকদের ইচ্ছামতো ভাড়া আদায়ের অভিযোগে প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ যাত্রীরা।
নগরীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, স্বল্প দূরত্বেও যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতে এই ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।
নগরবাসীর অভিযোগ, অটোরিকশা চালকদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো নজরদারি না থাকায় তারা ইচ্ছামতো ভাড়া নিচ্ছেন। ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে প্রায়ই তর্ক-বিতর্ক ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে এই বিরোধ হাতাহাতিতেও রূপ নিচ্ছে।
নথুল্লাবাদ থেকে লঞ্চঘাট পর্যন্ত আগে যেখানে ভাড়া ছিল ১৫ থেকে ২০ টাকা, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ টাকায়। আবার আগে ৫ টাকার স্বল্প দূরত্বের ভাড়া থাকলেও এখন কোনো চালকই সেই ভাড়ায় যেতে রাজি নন। ফলে যাত্রীদের সঙ্গে প্রায়ই কথা কাটাকাটি হচ্ছে।
এছাড়া সদর রোড থেকে রুপাতলি রুটেও ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে যেখানে ভাড়া ছিল ২০ টাকা, বর্তমানে তা বেড়ে ২৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।
একজন ভুক্তভোগী যাত্রী বলেন, “প্রতিদিন অফিসে যাতায়াতে বাড়তি ভাড়া দিতে হচ্ছে। কোনো নিয়মই যেন মানা হচ্ছে না। কিছু বললেই চালকদের সঙ্গে ঝামেলা হয়।”
আরেকজন শিক্ষার্থী জানান, “স্বল্প দূরত্বেও এখন ১০-১৫ টাকার নিচে কোনো অটো পাওয়া যায় না। এতে আমাদের মতো শিক্ষার্থীদের খরচ বেড়ে যাচ্ছে।”
এদিকে অটোরিকশা চালকদের দাবি, জ্বালানি, ব্যাটারি চার্জ, গ্যারেজ ভাড়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির কারণে তারা বাধ্য হয়েই ভাড়া বাড়িয়েছেন। তাদের ভাষ্য, “আগের ভাড়ায় এখন আর খরচ উঠানো সম্ভব নয়।”
তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্ধারিত নিয়মের বাইরে গিয়ে ভাড়া আদায় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নগর পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভাড়া নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে এবং যাত্রীদের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা বাস্তবায়নে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর কথাও জানিয়েছেন তারা।
নগরবাসীর দাবি, অটোরিকশা ভাড়া নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং নগর জীবনে অস্থিরতা তৈরি হবে।

