বরিশাল পত্রিকা
www.barishalpatrika.com

বিএম কলেজের সুরেন্দ্র ভবনে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্ব, স্টাম্প দিয়ে আঘাতের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ: 1 November 2026, 8:55 pm

ডেস্ক রিপোর্ট :

বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের সুরেন্দ্র ভবন ছাত্রাবাসে অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে সিনিয়র ও জুনিয়র শিক্ষার্থীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আসিফ নামের এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে ক্রিকেট খেলার স্টাম্প দিয়ে মাথায় আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে সিনিয়র শিক্ষার্থী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। আহত শিক্ষার্থীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে ছাত্রাবাসে এ ঘটনা ঘটে। ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থী ও হল তত্ত্বাবধায়কের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হলের পুকুরের মাছ ধরা এবং ছাত্রাবাসের পুরোনো কিছু বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে কথা কাটাকাটির সময় নজরুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে আসিফের মাথায় ক্রিকেট খেলার স্টাম্প দিয়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

ঘটনার খবর পেয়ে ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়ক মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে আহত শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এদিকে অভিযুক্ত নজরুল ইসলামের ছাত্রত্ব নেই বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রাবাসের কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থী।

এ বিষয়ে বিএম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর কাজী জাবের আহমেদ বলেন, হলের তত্ত্বাবধায়ক তাঁকে বিষয়টি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে বিরোধের সূত্র ধরে নজরুলের সঙ্গে আসিফের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নজরুল ওই শিক্ষার্থীর মাথায় আঘাত করেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। আহত শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরে গেছেন বলে তাঁকে জানানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নজরুলের বিরুদ্ধে এর আগেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁর ছাত্রত্ব ও হলে থাকার বৈধতা নিয়েও পরস্পরবিরোধী তথ্য রয়েছে। বিষয়টি যাচাই করা হবে। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ছাত্রাবাসের পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।

ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়ক মিজানুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথমে কিছুটা মনোমালিন্য হয়। পরে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে নজরুল আসিফের মাথায় আঘাত করেন। তবে আহত শিক্ষার্থী আসিফের বিরুদ্ধেও আগে বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব বিষয়ে তাঁকে কয়েকবার সতর্ক করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর আসিফকে হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পর সিটি স্ক্যানের প্রতিবেদনে গুরুতর কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি বলে তাঁকে জানানো হয়েছে। বিষয়টি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসার কথা জানিয়েছেন।

ছাত্রাবাসের পুকুরের মাছ ধরা ও বিক্রির বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক মিজানুর রহমান বলেন, এসব বিষয় নিয়ে এর আগেও নজরুলকে সতর্ক করা হয়েছিল। তাঁকে ছাত্রাবাস ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, ছাত্রাবাসের পুকুরের কিছু মাছ ধরে বিক্রি করা হলেও সেই অর্থের কোনো অংশ হলের তহবিলে জমা দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে নজরুলের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি তাঁকে হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও এখনো তিনি ছাত্রাবাসে অবস্থান করছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত নজরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে আহত শিক্ষার্থী আসিফের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বরিশাল পত্রিকা · www.barishalpatrika.com