Saturday, 14 December 2024সম্পাদক: এস.এম মহিউদ্দীনhttps://barishalpatrika.com/
আন্তর্জাতিক

সিরিয়ার বিখ্যাত যে মসজিদে ঈসা (আ.)-এর আগমন ঘটবে

প্রতিবেদক: জুনায়েদ সিদ্দিকী   |   প্রকাশিত: 14 December 2024, 4:54 pm
সিরিয়ার বিখ্যাত যে মসজিদে ঈসা (আ.)-এর আগমন ঘটবে

হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী দামেস্কের উমাইয়া মসজিদ। এটি মুসলিম বিশ্বের বৃহদায়তনের প্রাচীনতম মসজিদগুলোর একটি। উমাইয়া খলিফা আল ওয়ালিদ এই মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু করেন এবং ৭১৫ খ্রিস্টাব্দে তা সম্পন্ন হয়। খ্রিস্টান ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের কাছে এই মসজিদের বিশেষ গুরুত্ব ও মর্যাদা রয়েছে।

হাদিসের বর্ণনা অনুসারে এই মসজিদে কিয়ামতের আগে ঈসা (আ.) আগমন করবেন এবং পৃথিবী থেকে জুলুমের অবসান ঘটাবেন। এ ছাড়া এই মসজিদের সঙ্গে কারবালার ময়দানে শহীদ হুসাইন বিন আলী (রা.) এবং কারবালার ময়দানে বন্দি যোদ্ধাদের নানা স্মৃতি সংরক্ষিত আছে। মসজিদের পাশেই একটি বাগানে শায়িত আছেন ক্রুসেড বিজয়ী মুসলিম শাসক সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবি (রহ.)। তিনি খ্রিস্টানদের কাছ থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস উদ্ধার করেন।

ধর্মীয় তীর্থ হিসেবে এই স্থানের ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন। ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুসারে, লৌহ যুগে অ্যারামিয়ানরা এখানে দেবতা হাদাদের মন্দির নির্মাণ করেন। ৬৪ খ্রিস্টাব্দে রোমান শাসকরা সেই মন্দির ভেঙে দেবতা জুপিটারের মন্দির নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে, খ্রিস্টান বাইজেন্টাইনরা দামেস্ক জয় করার পর জুপিটারের মন্দির ভেঙে জন দ্য ব্যাপ্টিস্টের গির্জা ও ক্যাথেড্রাল নির্মাণ করেন।

উমাইয়া মসজিদের আয়তন দৈর্ঘ্যে ৩১৮ ফুট এবং প্রস্থে ৫১২ ফুট। মসজিদের উত্তরাংশজুড়ে আছে বিশাল আঙিনা এবং দক্ষিণাংশকে বলা হয় হারাম বা পবিত্র সীমানা। পুরো মসজিদ কমপ্লেক্স পাথরের সীমানাপ্রাচীর দ্বারা সংরক্ষিত, যেখানে একাধিক তোরণ এবং জোড় স্তম্ভ রয়েছে। প্রধান নামাজ কক্ষে তিনটি তোরণ ও মসজিদের সর্ববৃহৎ গম্বুজ ‘কুব্বাতু নিসর’ (ঈগল গম্বুজ) স্থাপিত। এটি মূলত কাঠের তৈরি ছিল, তবে ১৮৯৩ সালের অগ্নিকাণ্ডে ধ্বংস হলে পাথরের গম্বুজ নির্মাণ করা হয়। ঐতিহাসিক উমাইয়া মসজিদে মোট তিনটি মিনার রয়েছে, যা বিভিন্ন সময়ে নির্মিত হয়েছে।

PDF সেভ করতে উপরের বাটনে চাপুন এবং Destination থেকে “Save as PDF” নির্বাচন করুন।