গৌরনদী উপজেলার হোসনাবাদ-সরিকল সড়কের একমাত্র কালভার্টটি ভেঙে পড়ায় প্রতিনিয়ত চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে কয়েকটি গ্রামের মানুষসহ হাজার হাজার পথচারী। গত ১ বছর ধরে কালভার্টটি ভেঙ্গে পড়ে থাকলেও সংস্কারের উদ্যোগ নেয়নি কেউ। ওই কালভার্টের উপর দিয়ে ভ্যান, টলি, ভটভটি, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেল ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এতে মাঝেমধ্যে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটলেও যেকোনো মুহূর্তে বড় কোন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়াও কৃষকের উৎপাদিত ফসল আনা নেওয়া ও শিক্ষার্থীদের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের হোসনাবাদ-সরিকল রাস্তায় সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই রাস্তার মাঝখানে অবস্থিত কালভার্টটির দুইপাশেই ঢালাই ধসে রড় বের হয়ে আছে। ভাঙা কালভার্টের উপর দিয়ে প্রতিনিয়ত চলছে বিভিন্ন ধরনের শতশত গাড়ি। মাঝেমধ্যে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে থাকলেও যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল গনি বলেন, কিছুদিন আগে ভাঙা ওই কালভার্টে মোটরসাইকেল ও অটোভ্যান পরে গিয়ে দুইজন ব্যক্তি মোটামুটি ভাবে আহত হয়। উপায় না পেয়ে ঝুঁকি নিয়েই আমাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বহন করতে হয়। দ্রুত এর সমাধান না করলে আরো বড় দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।
হোসনাবাদ গ্রামের মকবুল প্যাদা বলেন, ১ বছরের অধিক এ কালভার্টটি একপাশে ধসে আছে। কিছুদিন হলো দুপাশই ধসে পড়েছে। দেখার যেন কেউ নেই। আমিসহ হাজার হাজার মানুষকে এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়। অনেক সময় মনেই থাকেনা কালভার্টটি ধসে গেছে। কালভার্টি যেন এখন একটি মৃত্যু ফাঁদ। চলাচলে খুব ঝুঁকিপূর্ণ মনে হলেও প্রয়োজনের তাগিদে বাধ্য হয়ে যাতায়াত করতে হয়।
ইজিবাইক চালক অনুতোষ দাস , অটো ভ্যান চালক, বায়জিদ, ট্রলি চালক বলেন, কালভার্ট ভেঙে যাওয়ায় চলাচল অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে। বর্তমানে এটি নাজুক অবস্থায় থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেই গাড়ি চালকদের কৃষকদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য নিয়ে যেতে হচ্ছে। তাছাড়া কলেজ, স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা কালভার্টের উপর দিয়ে যানবাহনে যাতায়াত করছে। অনেক দিন ধরে ভাঙা থাকায় কালভার্টের ধসে যাওয়া অংশটি ধীরে ধীরে বড় হয়ে যাচ্ছে। ফলে, দিন দিন ঝুঁকি আরো বাড়ছে । ভাঙা কালভার্টে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে থাকলেও ওই গর্তে পড়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই এলাকার জনপ্রতিনিধিরা এগুলো দেখেও যেন না দেখার ভান ধরে বসে থাকে। আমাদের কষ্ট দেখার মতো মানুষ এদেশে নাই।
বরগুনায় রক্তদাতা সম্মেলন ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকালে বরগুনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের নিয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সামাজিক সংগঠন ‘তারুণ্যের শেকড়’।
আবদুর রহমান সালেহ’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা আতিকুর রহমান সাবু। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরগুনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অনিমেষ বিশ্বাস।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হান্নান প্রধান, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক সহকারী পরিচালক ডা. মো. ইউনুস আলী, বরগুনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও এনজিও ফোরামের সভাপতি জাকির হোসেন মিরাজ, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ বরগুনা জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুস শাকুর, বরগুনা প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মালেক মিঠু, যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর আনিসুর রহমান, এটিএন বাংলার সাবেক উপস্থাপক, শিক্ষক ও উদ্যোক্তা মাওলানা বাকী বিল্লাহ এবং ‘সচেতনতার ফেরিওয়ালা’ খ্যাত ইঞ্জিনিয়ার সাঈদ রিমন, বরগুনা রেডক্রিসেন্টের যুব প্রধান মোঃ সজিব হোসেন, বন্ধুসভার বরগুনা সভাপতি খান নাঈম, সংগঠক বনি আমিন সহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শতাধিক স্বেচ্ছায় রক্তদাতা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় মানবিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সংগঠনের পক্ষ থেকে রক্তদাতাদের বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা স্বেচ্ছায় রক্তদানে তরুণ সমাজকে আরও বেশি উৎসাহিত করা এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ববিসাস) অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বেলা ১১:৩০ এ গ্রাউন্ডফ্লোরে কেক কাটা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনানন্দ দাশ কনফারেন্স হলে ও “গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের করণীয়” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কনফারেন্স হলের সামনে এসময় বাংলাদেশের সংবাদপত্রের ইতিহাস ও জুলাই আন্দোলনের ওপরে তথ্যচিত্র প্রদর্শনী করা হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ এবং প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক আকবর হোসেন।
এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরু, বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আনিসুর রহমান স্বপন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সহযোগী অধ্যাপক ড. আবদুল আলিম বছির, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক মো. ফরহাদ উদ্দীন এবং বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আযাদ আলাউদ্দীন। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ববিসাসের সভাপতি মো. রবিউল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আকবর হোসেন বলেন, গণতন্ত্র আর গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। গণতন্ত্রের জন্য যেমন গণমাধ্যম দরকার তেমনি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য গণতান্ত্রিক চর্চা দরকার। আরেকটি বিষয় সাংবাদিকতা অন্যান্য পেশার মতো নয় এই পেশায় আসার পর কেউ আপনাকে প্রশংসা করবে আবার কেউ আপনাকে নিন্দা করবে দুটোই গ্রহণ করে আপনাকে এগিয়ে যেতে হবে। সাংবাদিকের মতাদর্শ থাকতে পারে এটা সবারই আছে। কিন্তু সাংবাদিকতায় বস্তুনিষ্ঠতা জরুরি, বস্তুনিষ্ঠতা বজায় থাকলে মতাদর্শ থাকার পরও কারো প্রতি জাস্টিসটা করা সম্ভব হয়। তিনি আলোচনায় আরও বলেন, একজন সাংবাদিকের স্বাধীন থাকার বড় শক্তি তার সততা ও পেশাদারিত্ব। এই পেশাদারিত্বের মধ্য দিয়ে সরকার ও ক্ষমতাকে তিনি প্রশ্ন করবেন স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবেন। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবেন বলতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। সাংবাদিকের সাথে ক্ষমতাশীনদের সবসময় মাঝামাঝি সম্পর্ক বজায় থাকবে ভালো খারাপ দুটোর কোনটির দরকার নেই। গণমাধ্যমের নিজের এই সততা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে সরকারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে।”
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বক্তব্যে বলেন, “সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পাশাপাশি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা চর্চার কথা বলেন। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মধ্য দিয়ে সত্য তুলে ধরার আহ্বান জানান।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা, বরিশাল শহরের বিভিন্ন পত্রিকার সাংবাদিক। উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিএম কলেজ সাংবাদিক সমিতির সভাপতিসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। ক্রেস্ট প্রদান শেষে সভাপতি মো. রবিউল ইসলাম সবাইকে অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রোগ্রামের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের সুরেন্দ্র ভবন ছাত্রাবাসে অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে সিনিয়র ও জুনিয়র শিক্ষার্থীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আসিফ নামের এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে ক্রিকেট খেলার স্টাম্প দিয়ে মাথায় আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে সিনিয়র শিক্ষার্থী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। আহত শিক্ষার্থীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে ছাত্রাবাসে এ ঘটনা ঘটে। ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থী ও হল তত্ত্বাবধায়কের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হলের পুকুরের মাছ ধরা এবং ছাত্রাবাসের পুরোনো কিছু বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে কথা কাটাকাটির সময় নজরুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে আসিফের মাথায় ক্রিকেট খেলার স্টাম্প দিয়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার খবর পেয়ে ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়ক মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে আহত শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এদিকে অভিযুক্ত নজরুল ইসলামের ছাত্রত্ব নেই বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রাবাসের কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থী।
এ বিষয়ে বিএম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর কাজী জাবের আহমেদ বলেন, হলের তত্ত্বাবধায়ক তাঁকে বিষয়টি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে বিরোধের সূত্র ধরে নজরুলের সঙ্গে আসিফের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নজরুল ওই শিক্ষার্থীর মাথায় আঘাত করেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। আহত শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরে গেছেন বলে তাঁকে জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নজরুলের বিরুদ্ধে এর আগেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁর ছাত্রত্ব ও হলে থাকার বৈধতা নিয়েও পরস্পরবিরোধী তথ্য রয়েছে। বিষয়টি যাচাই করা হবে। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ছাত্রাবাসের পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।
ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়ক মিজানুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথমে কিছুটা মনোমালিন্য হয়। পরে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে নজরুল আসিফের মাথায় আঘাত করেন। তবে আহত শিক্ষার্থী আসিফের বিরুদ্ধেও আগে বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব বিষয়ে তাঁকে কয়েকবার সতর্ক করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর আসিফকে হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পর সিটি স্ক্যানের প্রতিবেদনে গুরুতর কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি বলে তাঁকে জানানো হয়েছে। বিষয়টি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসার কথা জানিয়েছেন।
ছাত্রাবাসের পুকুরের মাছ ধরা ও বিক্রির বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক মিজানুর রহমান বলেন, এসব বিষয় নিয়ে এর আগেও নজরুলকে সতর্ক করা হয়েছিল। তাঁকে ছাত্রাবাস ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, ছাত্রাবাসের পুকুরের কিছু মাছ ধরে বিক্রি করা হলেও সেই অর্থের কোনো অংশ হলের তহবিলে জমা দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে নজরুলের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি তাঁকে হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও এখনো তিনি ছাত্রাবাসে অবস্থান করছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত নজরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে আহত শিক্ষার্থী আসিফের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
আকাশ, ঝালকাঠি প্রতিনিধি | 1 November 2026, 6:54 pm
সাংগঠনিক দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ, ধৈর্য ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ঝালকাঠি জেলার সফল যুব সংগঠক পুরস্কার পেয়েছেন ইয়ুথ অ্যাকশন সোসাইটির (ইয়াস) সাধারণ সম্পাদক মো. মাহিদুল ইসলাম রাব্বি।
রবিবার (১ নভেম্বর) সকাল ১০টায় ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এ সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন। তিনি মাহিদুল ইসলাম রাব্বির হাতে সফল যুব সংগঠকের পুরস্কার তুলে দেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন ও সিভিল সার্জন ডা. হুমায়ুন কবির। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, ঝালকাঠির উপপরিচালক মো. আলাউদ্দিন।
যুবসমাজকে সংগঠিত করা, তরুণদের সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন এবং স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেওয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে ইয়ুথ অ্যাকশন সোসাইটির সাংগঠনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন মাহিদুল ইসলাম রাব্বি। সংগঠনের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন, স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়, নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল রাখতে তাঁর ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে যেকোনো উদ্যোগ বাস্তবায়নে ধৈর্য, দায়িত্বশীলতা ও সমন্বয় দক্ষতার পরিচয় দিয়ে থাকেন তিনি। সহযোদ্ধাদের নিয়ে কাজ করার মানসিকতা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও স্থির থেকে কাজ এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা তাঁকে সংগঠনের ভেতরে একটি নির্ভরযোগ্য অবস্থানে নিয়ে গেছে।
তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতৃত্বগুণের প্রশংসা করে ইয়াসের অঙ্গসংগঠন ইয়াস ব্লাড ব্যাংকের আহ্বায়ক আকাশ বলেন, মাহিদুল ভাইকে আমি সাংগঠনিক জাদুকর বলতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। কারণ, একটি আয়োজনের পেছনে যে কত ধরনের পরিকল্পনা, সমন্বয়, পরিশ্রম ও ধৈর্যের প্রয়োজন হয়, তা তিনি খুব ভালোভাবে বোঝেন। যেকোনো কাজ তিনি অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে সম্পন্ন করার চেষ্টা করেন। কোনো কিছুতেই তাড়াহুড়ো না করে প্রতিটি বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখেন এবং সহযোদ্ধাদের সাহস জোগান।
তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে শুদ্ধ কথন ও প্রমিত লিখনশৈলীর অভিযাত্রা শীর্ষক একটি আয়োজন বাস্তবায়নের সময় আমি তাঁর কাছ থেকে বিশেষ সহযোগিতা পেয়েছি। আয়োজনটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে তিনি আমাকে সাহস দিয়েছেন, বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন এবং প্রতিটি কাজ গুছিয়ে নিতে সহযোগিতা করেছেন। একজন সংগঠক হিসেবে তাঁর সবচেয়ে বড় গুণ হলো, তিনি শুধু নিজে কাজ করেন না, অন্যদেরও কাজ করার সাহস ও আত্মবিশ্বাস তৈরি করে দেন। তাঁর মতো ধৈর্যশীল, দায়িত্বশীল ও সহযোগিতাপরায়ণ মানুষ একটি সংগঠনের জন্য নিঃসন্দেহে বড় সম্পদ। তাঁর এই অর্জনে আমরা গর্বিত।
পুরস্কারপ্রাপ্তির অনুভূতি প্রকাশ করে মো. মাহিদুল ইসলাম রাব্বি বলেন, এই অর্জন শুধু আমার একার নয়, এটি ইয়ুথ অ্যাকশন সোসাইটির সকল সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক এবং সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে অক্লান্ত পরিশ্রম করা প্রত্যেক সহযোদ্ধার অর্জন। আমি এই পুরস্কার ইয়াসের সকল উপদেষ্টা, শুভাকাঙ্ক্ষী, সদস্য ও পরিশ্রমী সহযোদ্ধাদের প্রতি উৎসর্গ করছি। তাঁদের আন্তরিকতা, শ্রম ও সহযোগিতাই আমাকে আজকের এই অর্জনে অনুপ্রাণিত করেছে।
একটি সাংগঠনিক স্বীকৃতির বাইরেও এই অর্জন তরুণদের সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার অনুপ্রেরণা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মাহিদুল ইসলাম রাব্বির এ সম্মাননা ইয়ুথ অ্যাকশন সোসাইটির সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের উপলক্ষ তৈরি করেছে।
আকাশ, ঝালকাঠি প্রতিনিধি | 31 October 2026, 9:12 pm
ঝালকাঠির ছেলে সাব্বির হোসেন রানা। সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া তাঁর পথচলায় যুক্ত হয়েছে স্বেচ্ছাসেবা, সাংগঠনিক নেতৃত্ব, মানবিক কার্যক্রম, প্রযুক্তি এবং উদ্যোক্তা হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা। ২০১৬ সাল থেকে বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে যুক্ত থেকে নানা দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বর্তমানে চাকরির সুবাদে ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং একটি প্রতিষ্ঠানে আইটি এক্সিকিউটিভ হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত জাগো সেন্টার ফর হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ছিল তাঁর প্রথম সামাজিক সংগঠন। স্থানীয় এই সংগঠনে প্রথমে সদস্য এবং পরবর্তীতে প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। মূলত এই সংগঠনের মাধ্যমেই সামাজিক সংগঠনে কাজ করার প্রাথমিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
এরপর ২০১৮ সালে পাঠক সংগঠন প্রথম আলো বন্ধুসভার ঝালকাঠি শাখায় যুক্ত হন সাব্বির হোসেন রানা। সেখানে ভারপ্রাপ্ত তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তাঁর সাংগঠনিক পথচলা শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক, ২০২১ ও ২০২২ সালে সাধারণ সম্পাদক এবং ২০২৩ সালে সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বন্ধুসভার দায়িত্ব পালনকালে একুশের প্রথম প্রহর নামের একটি ম্যাগাজিন সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন তিনি। সাংগঠনিক দায়িত্বের পাশাপাশি সাহিত্য ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডেও তাঁর আগ্রহের পরিচয় পাওয়া যায় এ উদ্যোগে।
২০২০ সালে দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, টিআইবির ইয়েস গ্রুপে যুক্ত হন তিনি। সেখানে কাজের মাধ্যমে সুশাসন, নাগরিক সচেতনতা ও দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট, ইয়েস গ্রুপের লিডার হিসেবে ২০২২ সালের জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া অ্যাকটিভ সিটিজেনস গ্রুপের ভূমি টিমের সদস্য হিসেবেও কিছুদিন কাজ করেছেন।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবেও মাঠপর্যায়ে কাজ করেছেন সাব্বির। এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঘটক ও পুরোহিতদের সচেতন করা, ইউনিয়নভিত্তিক সভা সেমিনার আয়োজন এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেন তিনি।
তাঁর সাংগঠনিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ইয়ুথ অ্যাকশন সোসাইটি, ইয়াস। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় এবং ২০২০ সালের ১৭ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে এর যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠালগ্নে আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব এবং পরবর্তীতে কার্যনির্বাহী পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
বর্তমানে সংগঠনটি ঝালকাঠির স্থানীয় সমস্যা চিহ্নিতকরণ, সামাজিক উন্নয়ন এবং যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্প ও পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। সংগঠনটি সমাজসেবা অধিদপ্তর ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধিত।
করোনাকালীন সংকটময় সময়ে ইয়াসের উদ্যোগে কুইক অক্সিজেন রেসপন্স টিম গঠন করে বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবা প্রদান করা হয়। এছাড়া স্বাবলম্বী প্রজেক্ট, শিশুদের মুখে রঙিন হাসি, সাক্ষরতা দূরীকরণে সাপ্তাহিক ক্যাম্পসহ বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে সংগঠনটি। স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানে নানা উদ্যোগ গ্রহণেও সংগঠনটির কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
ইয়াসের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে ইউনিসেফ, ইয়াস ব্লাড ব্যাংক, ৭১ এর চেতনা, ডিওয়াইডিএফ এবং বিডি ক্লিনের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। এসব সংগঠনে কাজের পাশাপাশি ঝালকাঠি জেলা পর্যায়ে আইটি কোঅর্ডিনেটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
মানবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ পর্যন্ত ১১ বার স্বেচ্ছায় রক্তদান করেছেন সাব্বির হোসেন রানা। রক্তদানে আগ্রহ থেকেই বিভিন্ন রক্তদাতা সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন এবং একাধিক সংগঠনে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিক্ষণ ব্লাড রিজার্ভেশন অব বাংলাদেশের ঝালকাঠি শাখার সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি পেশাগত জীবনেও রয়েছে তাঁর বিভিন্ন অভিজ্ঞতা। বর্তমানে ঢাকায় HEMA নামের একটি প্রতিষ্ঠানে আইটি এক্সিকিউটিভ হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৭ সাল থেকে হেলথকেয়ার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে কাজ করে আসছে।
এর আগে ইউএনডিপির ল্যান্ড প্রজেক্টে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। এছাড়া ঝালকাঠি জজ কোর্ট, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রেকর্ড রুম এবং নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন প্রকল্পে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ডাটা এন্ট্রি পদে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
উদ্যোক্তা হিসেবেও নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন সাব্বির হোসেন রানা। ঝালকাঠিতে শখের সওদা নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কয়েক বছর সফলতার সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে উদ্যোক্তা হিসেবেও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তিনি।
সামাজিক সংগঠন থেকে শুরু করে স্বেচ্ছাসেবা, মানবিক কার্যক্রম, সাংগঠনিক নেতৃত্ব, প্রযুক্তি এবং উদ্যোক্তা কার্যক্রম, প্রতিটি ক্ষেত্রেই কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন সাব্বির হোসেন রানা। ঝালকাঠি থেকে শুরু হওয়া তাঁর এই পথচলা বর্তমানে বিস্তৃত হয়েছে রাজধানী ঢাকার পেশাগত জীবনেও।
বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের মহাত্মা অশ্বিনী কুমার (ডিগ্রি) হলে ‘বহিরাগতদের প্রবেশ’ নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল নেতাকর্মী ও আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে হলের ডাইনিংয়ে আবাসিক শিক্ষার্থীদের আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ ঘটনার সূত্রপাত হয় বলে শিক্ষার্থীরা জানান।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সভা চলাকালে রাত ১১টার দিকে বিএম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি জুবায়ের ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদের নেতৃত্বে নেতাকর্মী ও অর্ধশতাধিক বহিরাগত সেখানে উপস্থিত হন। সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যের পর সভায় বহিরাগতদের উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি জানান আবাসিক শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সভাস্থল ত্যাগ করেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এ সময় হলের কেয়ারটেকার মোবারকের বাসভবনে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে সিসিটিভি কন্ট্রোল রুমের চাবি নেয় ছাত্রদল এবং ক্যামেরাগুলো বন্ধ করে দেশীয় অস্ত্র, রামদা ও পাইপ নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার চেষ্টা করে। রাতভর কয়েক দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এতে হল এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের দিকে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ এবং বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি তাসনিম ও সাধারণ সম্পাদক তুষার ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।
আবাসিক শিক্ষার্থী আবির সিকদার বলেন, ওই রাতে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারত। তাঁদের অভিযোগ, প্রায়ই বহিরাগতদের মাধ্যমে তাঁরা হেনস্তা ও বাধার শিকার হচ্ছেন। বারবার অভিযোগ জানিয়েও কলেজ প্রশাসন ও হল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ পাচ্ছেন না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে বিএম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি জুবায়ের ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। কলেজ অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
হলের তত্ত্বাবধায়ক জানান, তিনি প্রাতিষ্ঠানিক কাজে ঢাকায় অবস্থান করছেন। এ কারণে রাতের ঘটনার বিস্তারিত তাঁর জানা নেই।
কোতোয়ালি মডেল থানার এক কর্মকর্তা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে তিনি জানান।
আকাশ, ঝালকাঠি প্রতিনিধি | 29 October 2026, 7:41 pm
সামাজিক কুসংস্কার দূরীকরণ দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গঠন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে তরুণদের সচেতন করতে ঝালকাঠি প্রেসক্লাবে নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে
বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর সকালে ঝালকাঠি প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সমতায় তারুণ্য ইয়ুথ ফর ইকুয়ালিটি প্রকল্পের আওতায় এ সংলাপের আয়োজন করে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন তারুণ্যের নলছিটি যুব সংগঠন জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের যৌথ বাস্তবায়নে এবং ঢাকাস্থ নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের আর্থিক সহায়তায় কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়
সংগঠনের সভাপতি মো খালেদ সাইফুল্লাহর সভাপতিত্বে সংলাপের বিভিন্ন সেশন পরিচালনা ও সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেরাব হোসেন রিফাত ও নুসরাত জাহান
সংলাপে ডিজিটাল নিরাপত্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা অনলাইনে প্রচারিত তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং সামাজিক পরিবর্তনে তরুণদের নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয় পাশাপাশি মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধে তরুণদের সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়
আলোচনায় মো খালেদ সাইফুল্লাহ অনলাইন নিরাপত্তা ও ডিজিটাল মাধ্যমে সতর্কতার সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনার গুরুত্ব তুলে ধরেন একই সঙ্গে লেখালেখির চর্চা দায়িত্বশীলভাবে মতপ্রকাশ এবং সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে লেখনীর ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন
কর্মসূচিতে ঝালকাঠির বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের তরুণ স্বেচ্ছাসেবীরা অংশ নেন এ সময় ঝালকাঠির স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইয়ুথ অ্যাকশন সোসাইটির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন আকাশ রেহান সাকিব রাহাত তামান্না মওদুদ ও ইভা
এর আগে সংগঠনটির ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২৮ অক্টোবর নলছিটি উপজেলা অডিটোরিয়ামে তরুণ-তরুণীদের অংশগ্রহণে একই প্রকল্পের আওতায় দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয় এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে তরুণদের মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
দেশজুড়ে প্রায় ২ হাজার ৩০০ ভিডিও নির্মাতাকে পেছনে ফেলে সেরা ২৫-এ জায়গা করে নিয়েছেন তরুণ এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর
বরিশালের তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইন্তেখাব তামিম জায়গা করে নিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান PRAN-RFL Group আয়োজিত ‘Get the Challenge’ প্রতিযোগিতার সেরা ২৫ প্রতিযোগীর তালিকায়। দেশজুড়ে প্রায় ২ হাজার ৩০০ জন ভিডিও নির্মাতাকে পেছনে ফেলে তাঁর এই অর্জন কনটেন্ট ক্রিয়েশনের জগতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
সৃজনশীল ভিডিও নির্মাণ ও নিজস্ব উপস্থাপনশৈলীর মাধ্যমে দর্শকদের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছেন এন্তেখাব তামিম। প্রতিযোগিতায় সেরা ২৫-এ জায়গা করে নেওয়া তাঁর সৃজনশীল কাজের স্বীকৃতির পাশাপাশি সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
PRAN-RFL-এর মতো বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ভিডিও নির্মাতারা অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেওয়ায় ইন্তেখাব তামিমের অর্জন বরিশালের তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্যও অনুপ্রেরণার বার্তা বহন করছে।
এখন সবার নজর প্রতিযোগিতার ফাইনাল পর্বের দিকে। সেখানে নিজের সৃজনশীলতা, নির্মাণদক্ষতা ও স্বতন্ত্র উপস্থাপনার মাধ্যমে আরও ভালো ফল অর্জনের প্রত্যাশা করছেন তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
বরিশালের এই তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বরং ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাণে তরুণদের সম্ভাবনা ও সৃজনশীলতারও একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। ফাইনাল পর্বে সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ইন্তেখাব তামিম আরও বড় অর্জন ছিনিয়ে আনবেন—এমন প্রত্যাশা তাঁর ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের।
মশিউর রহমান তাসনিম, বিশেষ প্রতিবেদক | 29 October 2026, 12:49 am
নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বরিশালে সড়ক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মামুন খন্দকার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ফারিসা উপমা, যিনি স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম, নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বরিশাল জেলা আলফা-থ্রি-হুইলার (টেম্পো/মাহিন্দ্রা) মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব এস এম মিজানুর রহমান অহিদসহ সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং চালক, যাত্রী ও পথচারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় সড়ক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য ও দাবি তুলে ধরেন তাঁরা।
সভায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বরিশালের ৩৯টি পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ট্রাস্টি বোর্ড কর্তৃক মঞ্জুরীকৃত আর্থিক সহায়তার আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়। এ সময় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ব্যক্তিদের জন্য ১ লাখ টাকা এবং নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদানের চেক প্রদান করা হয়।
বক্তারা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় একটি পরিবারের সদস্য হারানোর ক্ষতি কোনো আর্থিক সহায়তা দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে সরকারের এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তাঁরা।
আর্থিক সহায়তা পেয়ে উপকারভোগীরা সরকারের ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় পরিবারের সদস্য হারানো কিংবা গুরুতর আহত হওয়ার কারণে সৃষ্ট আর্থিক সংকটের মধ্যে এ সহায়তা তাঁদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের মানবিক উদ্যোগের জন্য তাঁরা সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে এ ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে প্রশাসন, পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভা শেষ হয়।
মেহেরাব হোসেন রিফাত, ঝালকাঠি | 28 October 2026, 9:56 pm
ছবি: বরিশাল পত্রিকা
সামাজিক কুসংস্কার ও প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করা, নারীর অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে ঝালকাঠির নলছিটিতে তরুণ-তরুণীদের নিয়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলা অডিটোরিয়ামে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে তারুণ্যের নলছিটি যুব সংগঠন। সমতায় তারুণ্য প্রকল্পের ইয়ুথ ফর ইক্যুয়ালিটি কার্যক্রমের আওতায় আয়োজিত প্রশিক্ষণে স্থানীয় নির্বাচিত তরুণ তরুণীরা অংশ নেন।
প্রশিক্ষণে জেন্ডার স্টেরিওটাইপ বা লিঙ্গভিত্তিক প্রচলিত ধারণা, নারীর অধিকার, ডিজিটাল নিরাপত্তা, গণমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং সামাজিক পরিবর্তনে তরুণদের নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রশিক্ষকরা আলোচনা করেন। পাশাপাশি এসব বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মেহেরাব হোসেন রিফাত ও নুসরাত জাহান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তারুণ্যের নলছিটি যুব সংগঠনের সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহ।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী মুনমুন আক্তার বলেন, এ প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে জেন্ডার সমতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও গণমাধ্যম সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পেরেছি। অর্জিত জ্ঞান ভবিষ্যতে আমাদের ব্যক্তিগত জীবন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে কাজে আসবে।
আয়োজকরা জানান, তরুণ তরুণীদের মধ্যে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি, সামাজিক বৈষম্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণেরা নিজেদের অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখবেন বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।
সমতায় তারুণ্য: ইয়ুথ ফর ইক্যুয়ালিটি প্রকল্পটি জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের যৌথ বাস্তবায়নে এবং ঢাকাস্থ নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের আর্থিক সহযোগিতায় পরিচালিত হচ্ছে।