ডেস্ক রিপোর্ট
৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ৮:৪৮ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের শোক

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মইজ্জু।

তিনি অন্তর্বর্তী সরকার ও দেশের মানুষের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে এক্সে এক শোক বার্তা প্রকাশ করেন।

পোস্টে মইজ্জু বলেন, ‘এই শোকের সময়ে, সর্বশক্তিমান আল্লাহ তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের শক্তি ও ধৈর্য দান করুন।’ প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন বেগম খালেদা জিয়া। তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। পাশাপাশি কিডনি, ফুসফুস, হার্ট ও চোখের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যাও ছিল তার।

হার্ট ও ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ার পর মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে গত ২৩ নভেম্বর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তার চিকিৎসা তদারকি করেন।

এই মাসের শুরুতে চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় পরবর্তীতে তা সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে খালেদা জিয়া ‘আপসহীন নেত্রী’ উপাধি পেয়েছিলেন। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে জীবনের পরম সত্যের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

রাজনীতিকদের জীবনে উত্থান-পতন থাকে। মামলা-মোকদ্দমা, গ্রেফতার, কারাবাস, নির্যাতন, প্রতিপক্ষের আক্রমণ- এসবও তাদের জীবনে অভাবনীয় নয়। খালেদা জিয়াও চরম পর্যায়ের এমন নির্যাতন সহ্য করেছেন। সহ্য করেছেন স্বামী-সন্তান হারানোর গভীর শোক আর দীর্ঘ রোগযন্ত্রণা।

রাজনৈতিক জীবনে মতাদর্শিক দ্বন্দ্ব-সংঘাত ছাড়াও প্রতিপক্ষের ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা, বিদ্বেষ, লাঞ্ছনা ও নিষ্ঠুরতার শিকার হয়েছেন খালেদা জিয়া।

খালেদা জিয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারপারসন, যিনি ১৯৯১ সাল থেকে তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নির্বাচিত নারী সরকারপ্রধান ছিলেন।

১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুর জেলায় ইস্কান্দার মজুমদার ও তৈয়বা মজুমদারের ঘরে তার জন্ম। তার বাবা ভারতের জলপাইগুড়ি থেকে দেশভাগের পর তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে চলে আসেন। তাদের আদি বাড়ি ফেনীতে। তিনি দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এবং পরে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়াশোনা করেন। ১৯৬০ সালে তিনি জিয়াউর রহমানকে বিয়ে করেন।

১৯৮১ সালের ব্যর্থ অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপতি জিয়ার মৃত্যুর পর ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি তিনি বিএনপিতে সাধারণ সদস্য হিসেবে যোগ দেন। ১৯৮৩ সালের মার্চে তিনি ভাইস-চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালের আগস্টে দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।

বেগম জিয়া দেশের রাজনীতিতে একটি অনন্য রেকর্ডের অধিকারী। তিনি কখনো কোনো আসনে পরাজিত হননি। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি পাঁচটি পৃথক আসন থেকে নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তিনটি আসনেই বিজয়ী হন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিএনপির ভূমিধস বিজয়

দেশের ইতিহাসে অনন্য সাধারণ নির্বাচন হয়েছে: জামায়াতে ইসলামী

ভোটের মাধ্যমে নতুন দিনের সূচনা হলো: জামায়াত আমির

আজ ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট

কাস্টমসের অনাপত্তি নিয়েই ঢাকা ছেড়েছিলেন ঠাকুরগাঁও জামায়াত আমির

জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে অপতথ্য ছড়াচ্ছে একটি গোষ্ঠী: জামায়াত আমির

বিএনপিতে যোগ দেওয়া সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান অস্ত্রসহ আটক

কঠোর নিরাপত্তায় বরিশাল, তবুও কাটছে না প্রার্থীদের শঙ্কা

পটুয়াখালীতে ভোটকেন্দ্রে অগ্নিসংযোগ

মেহেন্দীগঞ্জে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত ১২, পাল্টাপাল্টি মামলা

১০

জামায়াতে যোগ দিলেন বিএনপির সাবেক এমপির ভাইসহ ৩৫০ জন

১১

বরিশালে অর্ধেকের বেশি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, নিরাপত্তায় এসেছে বিশেষ হেলিকপ্টার

১২

বরিশালে জামায়াত সমর্থকদের ওপর হামলার প্রতিবাদ

১৩

প্রধান উপদেষ্টাসহ সব উপদেষ্টার সম্পদ বিবরণী প্রকাশ

১৪

বরিশাল পত্রিকার ঝালকাঠি প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পেলেন তরুণ সংগঠক ইমাম মেহেদী হাসান

১৫

প্রবাসীর স্ত্রীর শয়নকক্ষ থেকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক জামায়াত নেতা

১৬

বরিশালের ৫টি আসনেই চ্যালেঞ্জের মুখে বিএনপির প্রার্থীরা

১৭

বিকাশ-নগদে ক্যাশ আউট বন্ধ, সেন্ড মানিতেও সীমা আরোপ

১৮

সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা

১৯

২৯৯ আসনে সব ব্যালট পৌঁছে গেছে: ইসি সচিব

২০