বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ২৩ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আদালতে মামলা করেছেন নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা তানজিদুল হক মঞ্জু। গত বছর ২৬ আগস্ট মেরিন একাডেমি সংলগ্ন আনন্দ বাজারে একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মামলাটি দায়ের করা হয়।
বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দ্রুত বিচার আমলি আদালতে দায়ের করা এই মামলায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান এবং ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আতিক আব্দুল্লাহসহ ২৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে ১৭ জনই ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী। এর আগে বাদী বন্দর থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ তা গ্রহণ না করায় তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন।
মামলায় উল্লেখযোগ্য অভিযুক্তরা হলেন, ইংরেজি বিভাগ: মোঃ মিঠু, মোঃ বাবুল মিয়া, সিপাহী রিজ্জামিন রকিন, মুকুল আহমেদ, আতিক আব্দুল্লাহ, মোঃ মিজানুর রহমান, মোঃ রিফাত, মোঃ করিমুল ইসলাম, মোঃ এনামুল হক, মোঃ তারিক হোসেন, প্রীতম ঘোষাল সাগর, বাসুদেব কর্মকার, ইয়াসিন কাজী, মোস্তফা শাহরিয়ার, মোঃ নাহিদ আকন, গাজী আশিক ইমরান এবং তারিক পারভেজ।
এছাড়াও মোঃ ইব্রাহিম হোসেন সজন (উদ্ভিদবিজ্ঞান), মোঃ মামুনুর রশিদ ও মাহমুদুল হাসান তোহা (ভূতত্ত্ব ও খনিজ বিদ্যা), মোঃ হাবিবুর রহমান বাপ্পি ও সাব্বির রহমান জিসান (রাষ্ট্রবিজ্ঞান) এবং মোঃ জাহিদুল ইসলাম (লোক প্রশাসন)।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষার্থী ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার আগের দিন বিভাগে ছাত্র সংসদ (অ্যাসোসিয়েশন) নির্বাচন ছিল। ওই নির্বাচনে নিজের অনুসারী ছাত্রলীগ কর্মীদের সংগঠিত করতে তানজিদুল হক মঞ্জু ক্যাম্পাসে আসেন। তিনি আরও জানান, “মঞ্জুর উপস্থিতিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে ধাওয়া দেয়। এসময় তিনি নিজের মোটরসাইকেলটি ফেলে রেখে দ্রুত পালিয়ে যান। পরবর্তীতে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা রাস্তায় পড়ে থাকা মোটরসাইকেলটিতে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।”
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক আব্দুল কাদের জীবনের বরাতে জানা গেছে, মামলার অনেক অভিযুক্তই ঘটনার দিন ও সময়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। এমনকি মামলার নথিতে উল্লেখিত সাক্ষীদের বিষয়েও রহস্য দানা বেঁধেছে। বেশ কয়েকজন সাক্ষী দাবি করেছেন, তারা এই মামলার বিষয়ে কিছুই জানেন না এবং ঘটনার সময় তারা বরিশালে ছিলেন না। এছাড়া স্থানীয় যে সব সাক্ষীর নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে, বাস্তবে সেই ঠিকানায় তাদের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি।
মামলার ৪ নম্বর আসামি ও ববি ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতা হয়ে কোনো প্রমাণ ছাড়াই ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া বিচার বিভাগকে প্রশ্নবিদ্ধ করার শামিল। একজন অপরাধী হয়ে তিনি কীভাবে নিরপরাধ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন, তা নিয়ে আমরা শঙ্কিত।”
ইনকিলাব মঞ্চের ববি শাখার আহ্বায়ক ও মামলার ৫ নম্বর অভিযুক্ত আতিক আব্দুল্লাহ ‘ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য তানজিদ মঞ্জু আমার নামে যে মামলা দায়ের করেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ছাত্র-জনতা যখন তার দীর্ঘদিনের জুলুম ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল, তখন তারা তার মোটরসাইকেলটিতে আগুন দেয়। অথচ সেই ঘটনাস্থলে আমি উপস্থিতই ছিলাম না।” তিনি আরও যোগ করেন,”অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদায় এবং গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নতুন সরকার গঠনের এই সময়ে এসে এ ধরনের ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করা অত্যন্ত দুঃখজনক। মূলত পূর্বশত্রুতার জেরে এবং আমাদের হয়রানি করতেই এই কাল্পনিক মামলা সাজানো হয়েছে।”