ভোলা জেলার পাখির পুল এলাকায় সম্পত্তি লিখে না দেওয়ায় বৃদ্ধ মাকে শারীরিক নির্যাতন, বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া এবং ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ছেলের বিরুদ্ধে।
অভিযুক্তের নাম মোঃ কাওসার হোসেন (২৬)। তিনি ভোলা জেলার চেউয়াখালী, ধনিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং মোঃ ইব্রাহিমের ছেলে। কাওসার হোসেন বর্তমানে ভোলা জেলা আদালতে একজন আইনজীবীর সহকারী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কাওসার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। তিনি দুটি বিয়ে করেছেন। প্রথম বিয়ে করেন ২০২২ সালে, তবে কিছুদিন সংসার করার পর বিভিন্ন অজুহাতে স্ত্রীকে তালাক দেন। এরপর একাধিক নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের নভেম্বরে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন।
বিয়ের পরপরই কাওসার হোসেন তার স্ত্রী মরিয়ম হোসেন (তাসমিয়া), শাশুড়ি ও ফুপার প্ররোচনায় মায়ের কাছে জমি লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। শুরুতে বিষয়টি উপেক্ষা করলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকে।
ভুক্তভোগী মা গণমাধ্যমকে জানান, গত ১ ফেব্রুয়ারি রাতে কাওসার তার কাছে ২ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা দিতে না পারায় তিনি ও তার ছোট মেয়ে অশ্লীল ভাষায় গালাগালির শিকার হন। এর ধারাবাহিকতায় ৪ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে কাওসার তাকে খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে জমি লিখে দিতে চাপ দেন। এতে রাজি না হওয়ায় তিনি মাকে মারধর করেন এবং ভয়ভীতি দেখান। একপর্যায়ে রাত ১টার দিকে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে তিনি বাড়ির ছাদে আশ্রয় নেন।
পরদিন ৫ ফেব্রুয়ারি সকালে তিনি বরিশাল শহরে মেয়ের বাসায় গিয়ে ওঠেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কাওসার হোসেন তার মা ও বোনকে ধর্ষণ করিয়ে হত্যা করার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। একই সঙ্গে আলমারি ভেঙে জমির দলিল, স্বর্ণালংকার ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।
ভুক্তভোগীর দাবি, কাওসার হোসেন তার প্রবাসী বাবাকে প্ররোচিত করে মাকে তালাক দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন এবং উল্টো পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করার ভয় দেখাচ্ছেন। এসব হুমকির ভয়েস রেকর্ডসহ প্রমাণ তার কাছে রয়েছে বলে জানান তিনি।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বরিশালে এসে কাওসার হোসেন তার বোনকে মারধর করলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরে থানায় মুচলেকা দিয়ে ভালো হওয়ার আশ্বাস দিলে সেদিনই তাকে ছাড়িয়ে আনা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, থানা থেকে বের হয়েই তিনি আবারও পরিবারকে হুমকি দিতে শুরু করেন।
পরবর্তীতে ২৭ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগী মা এয়ারপোর্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডি নম্বর: ১১৬০। পুলিশ ফোন করলেও অভিযুক্ত তাদের সাথেও দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ।

বর্তমানে ভুক্তভোগী মা ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং নিজ বাড়িতে ফিরতে পারছেন না। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।