জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রক্তস্নাত চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করে এবং ইনসাফভিত্তিক একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে ঝালকাঠিতে যাত্রা শুরু করেছে ব্যতিক্রমধর্মী নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ঝালকাঠি ইনসাফ মঞ্চ। এটি কোনো একক ব্যক্তির নেতৃত্বাধীন সংগঠন নয়, বরং জেলার সচেতন, দায়িত্বশীল ও প্রতিবাদী তরুণদের একটি সম্মিলিত অরাজনৈতিক ও সৃজনশীল প্রয়াস।
সংগঠনটির মূল লক্ষ্য হচ্ছে জুলাই বিপ্লবের সাহস ও প্রতিরোধের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া এবং সমাজে ন্যায়বিচার ও সাম্য প্রতিষ্ঠা করা। ঝালকাঠি ইনসাফ মঞ্চের উদ্যোক্তারা মনে করেন, জুলাই কেবল একটি ক্যালেন্ডারের পাতা নয়, বরং এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার এক চিরন্তন প্রেরণা। সেই প্রেরণাকে পুঁজি করেই তারা একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখছেন।
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনটি ঝালকাঠিতে বেশ কিছু সাড়া জাগানো ও ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন করে আসছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো প্রতিবাদী ভ্যান র্যালি, সাংস্কৃতিক আয়োজন, হাদি সন্ধ্যা, শহীদদের স্মরণে গণ-ইফতার এবং ঈদের আগের রাতে ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে বর্ণাঢ্য ঈদ মিছিল। এসব কর্মসূচিতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে, যা সংগঠনটিকে সাধারণ মানুষের কাছাকাছি নিয়ে গেছে।
কেবল মাঠের কর্মসূচিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি এই প্ল্যাটফর্ম। আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে জ্ঞান ও চিন্তাকে গুরুত্ব দিয়ে তারা এবার শুরু করেছে ‘ইনসাফ যুব পাঠাগার ও সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্র’। একটি আধুনিক ও ভিন্নধর্মী কমিউনিটি লাইব্রেরি মডেলে এটি পরিচালিত হবে। যেখানে নিয়মিত পাঠচক্র, বই বিনিময় এবং স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে তরুণ ও শিশুদের বইমুখী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কেন্দ্রের মাধ্যমে সাহিত্য, ইতিহাস এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নের বিভিন্ন কর্মশালাও আয়োজিত হবে।
সংগঠনটির সংশ্লিষ্টরা জানান, শহীদ ওসমান হাদির আত্মত্যাগ তাদের কাজের মূল অনুপ্রেরণা। ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা এবং সমাজের প্রতিটি স্তরে নৈতিক প্রতিবাদ গড়ে তোলা তাদের অন্যতম প্রধান কাজ। তারা বিশ্বাস করেন, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঠিক চর্চা এবং সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিবেশই পারে একটি শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল প্রজন্ম উপহার দিতে।
চেতনায় জুলাই ও আদর্শে ইনসাফ—এই স্লোগানকে সামনে রেখে ঝালকাঠি ইনসাফ মঞ্চ তাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে। জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠন এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে সোচ্চার এই তরুণ নেতৃত্ব অচিরেই একটি মানবিক ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জেলাবাসী আশা প্রকাশ করছেন।