ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা আবারও চরমে পৌঁছেছে। শুক্রবার (৯ মে) সন্ধ্যায় জম্মু ও কাশ্মীরের উরি ও পুঞ্চ এলাকায় পাকিস্তানি সেনারা ভারী কামান ও গোলা ব্যবহার করে গোলাবর্ষণ শুরু করে বলে দাবি করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস। ভারতের পাল্টা জবাবেও চলছে সমানতালে গোলাবর্ষণ।
এদিকে, শুক্রবার রাতে ভারতের জম্মু, সাম্বা ও পাঞ্জাবের পাঠানকোট সেক্টরে একাধিক পাকিস্তানি ড্রোনের গতিবিধি লক্ষ্য করা গেছে বলে জানিয়েছে ভারতের প্রতিরক্ষা সূত্র। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী জানায়, তারা সফলভাবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।
সাম্বা জেলায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে। এরইমধ্যে আকনূরে সম্পূর্ণ ব্ল্যাকআউট জারি করা হয়। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ও সম্ভাব্য আক্রমণ প্রতিহতের লক্ষ্যে সীমান্তবর্তী এলাকায় কড়া নজরদারি ও সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। সীমান্তে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভারতে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং যেকোনো অনুপ্রবেশ ঠেকাতে প্রস্তুত রয়েছে বাহিনী।
এর আগে ভারত অভিযোগ করে, বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তান ৩০০ থেকে ৪০০ ড্রোন পাঠিয়ে জম্মু-কাশ্মিরসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলার চেষ্টা করে, যা তারা সফলভাবে প্রতিহত করেছে। তবে ইসলামাবাদ এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তারা ভারতে কোনো ধরনের ড্রোন বা মিসাইল হামলা চালায়নি।
পাকিস্তানি এক সরকারি কর্মকর্তা মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে বলেন, “পাকিস্তান কূটনৈতিক সমাধানের জন্য অপেক্ষা করছে, তবে তা ব্যর্থ হলে উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। তিনি আরও দাবি করেন, ভারত মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে ‘হাইপ’ তৈরি করছে।
পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই-এর মহাপরিচালক লেফটেনেন্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী ভারতের মিসাইল হামলার অভিযোগকে ‘হাস্যকর’ বলে অভিহিত করেন।
ভারতের সেনাবাহিনী জানায়, জম্মু ও পাঞ্জাবের পাঠানকোট এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল। পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানিয়েছে স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে তাদের নির্দোষিতা প্রমাণে সাহায্য করতে।
এদিকে, পরমাণু শক্তিধর এই দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশ কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ।
দেশজুড়ে প্রায় ২ হাজার ৩০০ ভিডিও নির্মাতাকে পেছনে ফেলে সেরা ২৫-এ জায়গা করে নিয়েছেন তরুণ এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর
বরিশালের তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইন্তেখাব তামিম জায়গা করে নিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান PRAN-RFL Group আয়োজিত ‘Get the Challenge’ প্রতিযোগিতার সেরা ২৫ প্রতিযোগীর তালিকায়। দেশজুড়ে প্রায় ২ হাজার ৩০০ জন ভিডিও নির্মাতাকে পেছনে ফেলে তাঁর এই অর্জন কনটেন্ট ক্রিয়েশনের জগতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
সৃজনশীল ভিডিও নির্মাণ ও নিজস্ব উপস্থাপনশৈলীর মাধ্যমে দর্শকদের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছেন এন্তেখাব তামিম। প্রতিযোগিতায় সেরা ২৫-এ জায়গা করে নেওয়া তাঁর সৃজনশীল কাজের স্বীকৃতির পাশাপাশি সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
PRAN-RFL-এর মতো বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ভিডিও নির্মাতারা অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেওয়ায় ইন্তেখাব তামিমের অর্জন বরিশালের তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্যও অনুপ্রেরণার বার্তা বহন করছে।
এখন সবার নজর প্রতিযোগিতার ফাইনাল পর্বের দিকে। সেখানে নিজের সৃজনশীলতা, নির্মাণদক্ষতা ও স্বতন্ত্র উপস্থাপনার মাধ্যমে আরও ভালো ফল অর্জনের প্রত্যাশা করছেন তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
বরিশালের এই তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বরং ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাণে তরুণদের সম্ভাবনা ও সৃজনশীলতারও একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। ফাইনাল পর্বে সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ইন্তেখাব তামিম আরও বড় অর্জন ছিনিয়ে আনবেন—এমন প্রত্যাশা তাঁর ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের।
মশিউর রহমান তাসনিম, বিশেষ প্রতিবেদক | 29 October 2026, 12:49 am
নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বরিশালে সড়ক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মামুন খন্দকার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ফারিসা উপমা, যিনি স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম, নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বরিশাল জেলা আলফা-থ্রি-হুইলার (টেম্পো/মাহিন্দ্রা) মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব এস এম মিজানুর রহমান অহিদসহ সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং চালক, যাত্রী ও পথচারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় সড়ক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য ও দাবি তুলে ধরেন তাঁরা।
সভায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বরিশালের ৩৯টি পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ট্রাস্টি বোর্ড কর্তৃক মঞ্জুরীকৃত আর্থিক সহায়তার আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়। এ সময় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ব্যক্তিদের জন্য ১ লাখ টাকা এবং নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদানের চেক প্রদান করা হয়।
বক্তারা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় একটি পরিবারের সদস্য হারানোর ক্ষতি কোনো আর্থিক সহায়তা দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে সরকারের এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তাঁরা।
আর্থিক সহায়তা পেয়ে উপকারভোগীরা সরকারের ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় পরিবারের সদস্য হারানো কিংবা গুরুতর আহত হওয়ার কারণে সৃষ্ট আর্থিক সংকটের মধ্যে এ সহায়তা তাঁদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের মানবিক উদ্যোগের জন্য তাঁরা সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে এ ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে প্রশাসন, পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভা শেষ হয়।
মেহেরাব হোসেন রিফাত, ঝালকাঠি | 28 October 2026, 9:56 pm
ছবি: বরিশাল পত্রিকা
সামাজিক কুসংস্কার ও প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করা, নারীর অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে ঝালকাঠির নলছিটিতে তরুণ-তরুণীদের নিয়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলা অডিটোরিয়ামে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে তারুণ্যের নলছিটি যুব সংগঠন। সমতায় তারুণ্য প্রকল্পের ইয়ুথ ফর ইক্যুয়ালিটি কার্যক্রমের আওতায় আয়োজিত প্রশিক্ষণে স্থানীয় নির্বাচিত তরুণ তরুণীরা অংশ নেন।
প্রশিক্ষণে জেন্ডার স্টেরিওটাইপ বা লিঙ্গভিত্তিক প্রচলিত ধারণা, নারীর অধিকার, ডিজিটাল নিরাপত্তা, গণমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং সামাজিক পরিবর্তনে তরুণদের নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রশিক্ষকরা আলোচনা করেন। পাশাপাশি এসব বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মেহেরাব হোসেন রিফাত ও নুসরাত জাহান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তারুণ্যের নলছিটি যুব সংগঠনের সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহ।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী মুনমুন আক্তার বলেন, এ প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে জেন্ডার সমতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও গণমাধ্যম সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পেরেছি। অর্জিত জ্ঞান ভবিষ্যতে আমাদের ব্যক্তিগত জীবন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে কাজে আসবে।
আয়োজকরা জানান, তরুণ তরুণীদের মধ্যে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি, সামাজিক বৈষম্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণেরা নিজেদের অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখবেন বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।
সমতায় তারুণ্য: ইয়ুথ ফর ইক্যুয়ালিটি প্রকল্পটি জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের যৌথ বাস্তবায়নে এবং ঢাকাস্থ নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের আর্থিক সহযোগিতায় পরিচালিত হচ্ছে।
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় সমুদ্রসৈকতের কাছে ১৫ তলাবিশিষ্ট পাঁচতারা হোটেল ও রিসোর্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’ নামের এ প্রকল্পে কটেজ, সুইমিং পুল, জিম ও জামে মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রকল্পটিকে প্রচারে দেশের প্রথম শরিয়াহসম্মত বা ‘হালাল’ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। তবে প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকায় প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এ সময় নির্মাণস্থলে নিষেধাজ্ঞাসংবলিত ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়। ব্যানারে উল্লেখ করা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া স্থাপনা নির্মাণ করায় কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকল্পটির তত্ত্বাবধানে রয়েছেন পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। তিনি প্রয়াত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে প্রকল্পটির প্রচার করেছেন তিনি।
প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন পাঁচতারা হোটেল ও রিসোর্টের পাশাপাশি সেখানে কটেজ, সুইমিং পুল, জিম ও মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটিতে সাধারণ মানুষের বিনিয়োগের সুযোগের কথাও প্রচার করা হয়েছে। সর্বনিম্ন চার লাখ টাকা বিনিয়োগ করে অংশীদার হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের বছরের নির্দিষ্ট সময়ে বিনা মূল্যে অবস্থানের সুযোগ এবং বছর শেষে মুনাফার অংশ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
তবে প্রকল্পটির ওয়েবসাইটে বিনিয়োগের বিস্তারিত শর্ত, এ পর্যন্ত সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ এবং মুনাফা বণ্টনের আইনগত ভিত্তি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক মো. ইয়াসীন সাদেক বলেন, প্রকল্পটির জন্য বরিশালের বিভাগীয় কমিশনারের অনুমোদন নেই। প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ দণ্ডনীয় অপরাধ।
বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, কুয়াকাটার মাস্টারপ্ল্যান এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এ ছাড়া কুয়াকাটা হয়ে পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে মোংলা পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ইস্তানবুল প্রকল্পের একটি অংশ প্রস্তাবিত রেললাইনের জন্য নির্ধারিত এলাকায় পড়েছে।
বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, প্রকল্পটির প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকায় স্থানীয় প্রশাসনকে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতেই নির্মাণকাজ বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী মৌজায় এসএ ২৯২ নম্বর খতিয়ানের প্রায় ২১ একর ৬৬ শতক জমিকে কেন্দ্র করে প্রকল্পটির কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে অন্তত ছয় একর জমিতে উন্নয়নকাজ ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে।
এদিকে প্রকল্পের জমির মালিকানা নিয়েও বিরোধ রয়েছে। কলাপাড়া উপজেলার হাড়িপাড়া এলাকার রাখাইন সম্প্রদায়ের বাসিন্দা উমাচ্যান জমিটির মালিকানা দাবি করে মামলা করেছেন। তাঁর দাবি, জমিটির মালিক ছিলেন তাঁর দাদা চিথাও ও নাথোও। তবে মামলার বর্তমান অবস্থা এবং জমির মালিকানা নিয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী বলেন, প্রকল্পের একটি অংশের অনুমোদন ছিল না। এ জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। দ্রুত অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার পর প্রকল্পটির নির্মাণকাজ কবে পুনরায় শুরু হবে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’
দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সড়ক যোগাযোগের অন্যতম প্রধান পথ ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে শৃঙ্খলা ফেরাতে বসানো হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) ক্যামেরা। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংসহ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে পদ্মা সেতু চালুর পর যান চলাচল বেড়েছে। তবে বেপরোয়া গতি ও ট্রাফিক আইন অমান্য করার কারণে সড়কটিতে দুর্ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকে ২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত এই সড়কে প্রায় ৫৮৯টি দুর্ঘটনায় ১৫২ জন নিহত এবং ৯৫০ জন আহত হয়েছেন।
এক্সপ্রেসওয়ের ৫৫ কিলোমিটার অংশের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলায় রয়েছে ৩৫ কিলোমিটার। ফলে দক্ষিণাঞ্চল থেকে ঢাকামুখী যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের চলাচলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে উঠেছে।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বাসসকে জানান, অধিকাংশ দুর্ঘটনার পেছনে রয়েছে বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা।
সম্প্রতি মুন্সীগঞ্জে উন্নয়নকাজ পরিদর্শনে গিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েকে এআই ক্যামেরার আওতায় আনার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলা ও আঞ্চলিক মহাসড়কেও এ প্রযুক্তির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি বাড়ানো হবে। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে আইনানুগ ব্যবস্থা।
গাজীপুর রিজিয়নের হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জানান, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে অধিকাংশ দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ অতিরিক্ত গতি। পুরো সড়ক এআই ক্যামেরার আওতায় এনে দ্রুতগতির যানবাহন, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মমিনুল ইসলাম বাসসকে জানান, দুর্ঘটনা রোধে সড়কের বিভিন্ন স্থানে গতিসীমা নির্ধারণ, সাইন-মার্কিং এবং সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
তবে বেপরোয়া গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের পাশাপাশি আকস্মিক ইউটার্ন, চালকের অসতর্কতা, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং ঘন কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এআই ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালু হলে চালকদের মধ্যে আইন মানার প্রবণতা বাড়বে। কমবে বেপরোয়া গাড়ি চালানো ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং। এতে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথে সড়ক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সহজ হবে।
ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে আঘাত হেনেছে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে উপকূলে আঘাত হানার পর ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে ঘূর্ণিঝড়টির স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া। এর প্রভাবে সৃষ্ট পৃথক ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের কেউ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, আবার কেউ গাছ ভেঙে পড়ার ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের (আইএমডি) তথ্য অনুযায়ী, অন্ধ্র প্রদেশের বিশাখাপত্তনম, আনাকাপল্লে, কাকিনাড়া, কোনাসীমা ও পশ্চিম গোদাবরী জেলায় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
বুধবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে প্রকাশিত বুলেটিনে আইএমডি জানায়, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে অর্ণব অন্ধ্র প্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূল অতিক্রম করেছে। উপকূল অতিক্রমের সময় ঝড়টির একটানা বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার গতিবেগ উঠেছিল ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত।
পরে বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঘূর্ণিঝড়টি অতি প্রবল থেকে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয় বলে জানায় আবহাওয়া অধিদপ্তর।
ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত মোকাবিলায় অন্ধ্র প্রদেশ ও ওডিশার বিভিন্ন এলাকা থেকে এক লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে আগেই নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়। দুই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ভারী বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। উপড়ে পড়েছে বহু গাছ।
বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত অন্ধ্র প্রদেশের বিশাখাপত্তনমে সর্বোচ্চ ৩১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। বিজয়নগরমে ৩০১, আনাকাপল্লেতে ২৭৫, শ্রীকাকুলামে ২৫৭ এবং কৃষ্ণা জেলায় ২২৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে, ওডিশার কোরাপুটে ১৮৮, গঞ্জামে ১৬১ এবং গজপতিতে ১৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বুধবার বিশাখাপত্তনম ও বিজয়ওয়াড়াগামী বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কিছু এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। বাতিল হয়েছে কয়েকটি ট্রেনের চলাচলও।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার ও বৃহস্পতিবারও সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়টির নাম ‘অর্ণব’ প্রস্তাব করেছিল বাংলাদেশ। ২০২০ সালে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) ও জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (এসকাপ) ঘূর্ণিঝড়বিষয়ক প্যানেল অনুমোদিত নামের তালিকায় এটি অন্তর্ভুক্ত হয়।
বাংলা ভাষায় ‘অর্ণব’ শব্দের অর্থ সমুদ্র বা সাগর।
উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের তালিকায় বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশের প্রস্তাবিত ১৬৯টি নাম রয়েছে। বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণে ধারাবাহিকভাবে এসব নাম ব্যবহার করা হয়।
ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের মূল উদ্দেশ্য হলো ঝড়কে সহজে শনাক্ত করা, জনসাধারণকে সতর্ক করা এবং দুর্যোগকালীন যোগাযোগে বিভ্রান্তি কমানো।
মশিউর রহমান তাসনিম, বিশেষ প্রতিবেদক | 28 October 2026, 7:08 pm
বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য ও বরিশাল জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে পরিচিত অ্যাডভোকেট জিয়াউর রহমান রুমিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন অভিযোগ ও বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টে তাঁর ব্যক্তিগত ভিডিও কলের কিছু দৃশ্য ভাইরাল হওয়ার দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংবাদপত্রের পাতায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তবে ভাইরাল হওয়া ছবি বা ভিডিওর সত্যতা, প্রেক্ষাপট এবং সেগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পৃক্ততা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
এ ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদপত্রে প্রচারিত পুরোনো একটি খবর আবারো আলোচনায় এসেছে। ২০১৮ সালে কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই মহিউদ্দিন মাহি এডভোকেট রুমিকে ইয়াবা বিক্রির সময় পুকুরে ঝাপ দিয়ে পালানোর সময় গ্রেপ্তার করে ও মাদক মামলায় তাঁকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্টে আইনজীবী সমিতি থেকে তাঁকে বহিষ্কারের বিষয়েও দাবি করা হয়েছে। তবে বহিষ্কারের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত, সংশ্লিষ্ট সমিতির বিজ্ঞপ্তি কিংবা কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া না গেলে বিষয়টিকে প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা সমীচীন নয়।
নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি
আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলে সেগুলোর যথাযথ তদন্ত এবং প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের আগে কাউকে দোষী হিসেবে উপস্থাপন করাও অনুচিত।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবী সমিতি, আদালত প্রশাসন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বক্তব্যের মাধ্যমে বিষয়গুলোর প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। অভিযোগগুলোর বিষয়ে অ্যাডভোকেট জিয়াউর রহমান রুমির বক্তব্যও জানা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন উঠছে—অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্যতা কী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অবস্থান কী? নির্ভরযোগ্য তথ্য, নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্যের ভিত্তিতেই এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে দেখা প্রয়োজন।
আকাশ, ঝালকাঠি প্রতিনিধি | 27 October 2026, 6:40 pm
জেন্ডার স্টেরিওটাইপ বা নারী–পুরুষকে নিয়ে প্রচলিত গতানুগতিক ধারণা দূরীকরণ, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঝালকাঠিতে অ্যাডভোকেসি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা ১১টায় ঝালকাঠি প্রেসক্লাব মিলনায়তনে স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ইয়ুথ অ্যাকশন সোসাইটির (ইয়াস) আয়োজনে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। ‘সমতায় তারুণ্য: ইয়ুথ ফর ইকুয়ালিটি’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত কর্মসূচিটি জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের উদ্যোগে, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সহযোগিতায় এবং নেদারল্যান্ডস সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
ইয়াসের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহিদুল ইসলাম রাব্বির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি আবির হোসেন রানা।
সংলাপে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি জেলা তথ্য অফিসার লেলিন বালা, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান, শহর সমাজসেবা অফিসার খান জসিম উদ্দিন, উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার মো. মাহামুদ আলম জোমাদ্দার, ঝালকাঠি দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ইসমাঈল মুসাফির এবং সাংবাদিক শাহিন আলম।
সংলাপে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন যুব সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন। এ সময় জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠা এবং নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ের সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও সম্ভাব্য সমাধান নির্ধারণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন দোলন আক্তার ও সাহরিয়া পাপন।
আলোচনায় জেন্ডারভিত্তিক সামাজিক ধ্যানধারণা, নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য, নারীর অধিকার সুরক্ষা এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের প্রতিটি স্তরে নারী-পুরুষের সমান মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্যহীন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
বক্তারা বলেন, জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠা ও নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও তরুণদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে।
জেলা তথ্য অফিসার লেলিন বালা বলেন, জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও ইতিবাচক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা জরুরি। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম ও তথ্যসেবার মাধ্যমে নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
মেডিকেল অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা, ব্যক্তিগত মর্যাদা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সুজনের সম্পাদক ইসমাঈল মুসাফির নারীর সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা, সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় নারীর অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ইয়াসের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহিদুল ইসলাম রাব্বি বলেন, “জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচক পরিবর্তন, নারীর অধিকার সুরক্ষা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় নারী ও তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে নারীর প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্য প্রতিরোধে সরকারি দপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং যুব সংগঠনগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। এ ধরনের সংলাপ পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার পাশাপাশি তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশেও ভূমিকা রাখবে।
সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠা, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা নিশ্চিত করার আশাবাদ জানান।
আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এ সংলাপের মাধ্যমে জেন্ডার সমতা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনের সঙ্গে সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বয় জোরদার এবং নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের পথ সুগম হবে।
মেহরাব হোসেন রিফাত, ঝালকাঠি। | 26 October 2026, 8:27 pm
ঝালকাঠির নলছিটিতে নেতিবাচক জেন্ডার স্টেরিওটাইপ মোকাবেলা, ডিজিটাল নিরাপত্তা, গণমাধ্যম সম্পর্কে সচেতনতা এবং সামাজিক পরিবর্তনে তরুণ তরুণীদের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে স্থানীয় সরকার, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধ নিয়েও আলোচনা হয়।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় নলছিটি উপজেলা পরিষদের হলরুমে তারুণ্যের নলছিটি যুব সংগঠনের আয়োজনে এবং জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের যৌথ বাস্তবায়নে এবং ঢাকাস্থ নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত সমতায় তারুণ্য প্রকল্পের আওতায় এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
তারুণ্যের নলছিটি যুব সংগঠনের সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেরাব হোসেন রিফাত। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নলছিটি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিসুর রহমান হেলাল, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার, উপজেলা মাধ্যমিক কার্যালয়ের একাডেমিক সুপারভাইজার বদরুল আমিন, নলছিটি থানার সেকেন্ড অফিসার সুফল সরকার, ভলান্টিয়ার্স অব নলছিটির আহ্বায়ক ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) নলছিটি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত আলম ফকির এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নলছিটি উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষক মনির ইউ জামান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নলছিটি উপজেলা শাখার সভাপতি শাহজালাল হোসাইন জিহাদী।
এ ছাড়া সরকারি নলছিটি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক জামাল হোসাইন, উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরি ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষক মনিরুজ্জামান, জুলফিকার আলী ভুট্টো ডিগ্রি কলেজের শরীরচর্চা শিক্ষক রুবেল হোসেন, উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রতিনিধি আঃ মান্নান, জাতীয় স্বীকৃতিপ্রাপ্ত উদ্যোক্তা ও রেনেসা যুব সামাজিক সংঘের সভাপতি আক্তারুজ্জামানসহ প্রাণের টানে রক্তদান, রাইট টক বাংলাদেশ, ইস্কুল ম্যাগাজিন, তারুণ্যের নলছিটি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সংলাপে বক্তারা মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধ, তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, নারী-পুরুষ সম্পর্কে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা ও সামাজিক কুসংস্কার দূর করা, নারীদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, অনলাইন নিরাপত্তা এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ব্যবহার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পাশাপাশি এসব সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও তরুণদের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিসুর রহমান হেলাল বলেন, মাদক ও কিশোর গ্যাং সমাজের জন্য একটি ব্যাধি। এসব সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি নারীদের অধিকার সুরক্ষা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সমাজের সব শ্রেণি পেশার মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার বলেন, নারীদের পিছিয়ে পড়া রোধে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের সংলাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নারীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
সংলাপে নারী পুরুষ সম্পর্কে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা, নেতিবাচক জেন্ডার স্টেরিওটাইপ, সামাজিক কুসংস্কার ও তার প্রভাব এবং মোকাবেলায় সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের সচেতন ও সংবেদনশীল করা হয়। আলোচনার শেষ পর্যায়ে সকলের অংশগ্রহণে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়।
আয়োজকেরা জানান, তরুণ তরুণীদের নেতৃত্ব বিকাশ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, নেতিবাচক জেন্ডার স্টেরিওটাইপ মোকাবেলা এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে তরুণদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এ ধরনের সংলাপের মূল লক্ষ্য। এই সংলাপের মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুব নেতৃত্বাধীন সংগঠনসমূহ স্থানীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়, যা নেতিবাচক জেন্ডার স্টেরিওটাইপ মোকাবেলায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
আকাশ, ঝালকাঠি প্রতিনিধি | 26 October 2026, 8:15 pm
প্রচলিত সামাজিক ভুল ধারণা ভাঙা, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সামাজিক পরিবর্তনে তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশের লক্ষ্যে ঝালকাঠির নলছিটিতে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২৬) নলছিটি উপজেলা অডিটোরিয়ামে উপজেলার ৩৫ জন তরুণের অংশগ্রহণে প্রশিক্ষণটির আয়োজন করে সুহাসিনী স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন। ‘সমতায় তারুণ্য’ প্রকল্পের ‘ইয়ুথ ফর ইক্যুয়ালিটি’ কার্যক্রমের আওতায় এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশিক্ষণে জেন্ডার স্টেরিওটাইপ, নারীর অধিকার, ডিজিটাল নিরাপত্তা, গণমাধ্যমে তথ্য যাচাই ও অ্যাডভোকেসির মাধ্যমে সামাজিক পরিবর্তনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। তরুণদের অধিকার সচেতনতা বৃদ্ধি, বৈষম্য ও কুসংস্কার প্রতিরোধ এবং সামাজিক সমস্যা সমাধানে গঠনমূলক ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এতে
প্রশিক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন মো. ইমরান খান ও সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি সাথী আক্তার।
জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের যৌথ বাস্তবায়নে এবং ঢাকাস্থ নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের আর্থিক সহযোগিতায় ‘সমতায় তারুণ্য’ প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণটি অনুষ্ঠিত হয়।