বরিশালের বাকেরগঞ্জে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিনটি বসত ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১ টায় উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড পূর্ব লক্ষীপাশা গ্রামের হাওলাদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোর সর্বস্ব পুড়ে যাওয়ায় এলাকাজুড়ে শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১ টার দিকে মজিবুর হাওলাদারের বসত ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পাশের শাহআলম হাওলাদার ও হাসান হাওলাদারের ঘরে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা প্রথমে নিজ উদ্যোগে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালালেও আগুনের তীব্রতায় তা নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হন। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
অগ্নিকাণ্ডে তিনটি বসত ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ঘরে থাকা আসবাবপত্র, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও প্রয়োজনীয় মালামালসহ ১ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দাবি করেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, চোখের সামনে সাজানো সংসার পুড়ে যেতে দেখলেও আগুনের তীব্রতার কারণে ঘরে ঢোকার কোন সুযোগ ছিল না। জীবন বাঁচাতে তারা পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই বের করতে পারেননি।
ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আরিফ জনকণ্ঠকে জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দুটি ইউনিট নিয়ে ঘটনস্থানে আসলে সড়ক সরু থাকায় ফায়ার সার্ভিসের অগ্নি নির্বাপক গাড়ি বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করানো সম্ভব হয়নি।
ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ও স্থানীয়দের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিসের পাম্প মেশিন পুকুরে লাগিয়ে আগুন নিভাতে কিছুটা বিলম্ব হয়। তবে আমরা এক ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিভাতে সক্ষম হয়েছি না হলে বাড়ির ভিতর আরো ৫ টি বসত ঘর ছিল সব পুড়ে যেত। প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।
এদিকে বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত স্থান পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারি সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
মন্তব্য করুন