বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) চলমান রাস্তার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে ঠিকাদারের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ঠিকাদারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে ছাত্রদলের নেতাদের দাবী বিশ্ববিদ্যালয়ের টেকশই উন্নয়নের স্বার্থেই প্রতিবাদ করতে যেয়ে মামলার শিকার হয়েছেন তারা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ঠিকাদার এবিএম আওলাদ হোসেন (মনু) বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) বন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে সাবেক ছাত্রনেতা রেজা শরীফ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আজমান সাকিব (২৩) এবং আরিফ হোসেন শান্তসহ (২৪) অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।
থানায় দেওয়া অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, মেসার্স ধারা এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি হিসেবে এবিএম আওলাদ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-১ এর সম্মুখে আরসিসি সড়ক নির্মাণ কাজের কার্যাদেশ পেয়ে কাজ শুরু করেন। গত ১ মার্চ (২০২৬) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে শিক্ষার্থী আজমান সাকিবের নেতৃত্বে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থলে এসে কাজে বাধা প্রদান করে। ঠিকাদারের দাবি, অভিযুক্তরা তার কাছে কাজের ‘ভাগের টাকা’ বা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে কাজ বন্ধ করে দেয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।
এ বিষয়ে ঠিকাদার আওলাদ হোসেন (মনু) বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করার সময় আজমাইন সাকিব এসে ঢালাই বন্ধ করতে বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করতে হলে রড, বালি, পাথর টেস্ট করে কাজ করতে হয়, আমি সেভাবেই করছি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের নিয়ম মেনেই কাজ করি। কিন্তু তারা এসে বলে কাজের ভাগ দিতে হবে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “পুরো ঘটনাটি ছাত্রদল নেতা রেজা শরীফের গাইডলাইনে তার নেতৃত্বেই ঘটছে। এমনকি তিনি এ বিষয়ে ভিসির সাথেও মিটিং করেছেন।চাঁদা দাবির কোনো প্রমাণ আছে কিনা জানতে চাইলে ঠিকাদার বলেন, “আমার কাছে কোনো ডকুমেন্টস নেই। যারা চাঁদা চেয়েছিল, তাদের চেনার জন্য আমি একটি ছবি তুলেছিলাম। কিন্তু ছাত্রদল নেতা আমার কাছ থেকে ফোন কেড়ে নিয়ে সেটি ডিলিট করে দিয়েছেন।”
চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মী আজমাইন সাকিব বলেন, “ধারা ও আমেনা এন্টারপ্রাইজ দীর্ঘদিন ধরে মুরশিদ আবেদিনের নেতৃত্বে সিন্ডিকেট করে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন কাজ করে আসছিল। চলমান রাস্তার কাজের মান অত্যন্ত খারাপ হওয়ায় আমি পাথর, বালি ও ইট পরিবর্তনের অনুরোধ জানাই।”
সাকিব আরও বলেন, “একপর্যায়ে ঠিকাদার মনু বিভিন্ন বিএনপি নেতার নাম ভাঙিয়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন। বিষয়টি পরে বরিশাল বিএনপির নেতা রেজা শরীফ ভাইয়ের কাছে উপস্থাপন করা হলে, সেখানে উপস্থিত নেতাকর্মীরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন এবং পরবর্তীতে নিম্নমানের পাথর পরিবর্তন করা হয়।”
এবিষয়ে জানতে চাইলে ববি ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রেজা শরীফ বলেন,”ক্যাম্পাসে যায় না তারপরও আমার নামে অভিযোগ দেয় ঠিকাদাররা। বিএনপির সিনিয়র নেতারা আমারে ফোন দিছে তারপর আমি গেছি নতুবা জানতামও না। চাঁদার বিষয়ে তিনি বলেন, চাইলে সে(মনু) টাকা দিতো কিন্তু আল্লাহ দিলে আমার অনেক হয়েছে। আমাদের একটাই দাবী ছিলো এই ঠিকাদার ক্যাম্পাসে কোনো কাজ করতে পারবে না।”