আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটের দিন বরিশালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ১৬ হাজার সদস্য মাঠে সক্রিয় থাকবেন। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন করতে নজিরবিহীন নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা হয়েছে গোটা বরিশাল। তবুও শঙ্কায় রয়েছেন জেলার ৬টি আসনের প্রার্থীরা রয়েছে। এর আগে বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানিয়েছেন তাদের শঙ্কার কথা।
সবশেষ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরেও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বরিশাল-৩ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ নির্বাচনের দিন শঙ্কার কথা জানিয়েছেন। এর আগেও বরিশালের একাধিক প্রার্থী সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের নির্বাচনি এলাকায় বিশেষ দলের ক্যাডারদের দ্বারা ভোটারদের হুমকি, কেন্দ্রে যেতে বাধা ও কিংবা নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে চাপ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
বরিশাল-৩ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে পাঁচটি লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনো সুরাহা পাওয়া যায়নি। অভিযোগ দিলে তারা বলছেন এসপিকে জানাতে। এসপি আবার বলছেন বিষয়টিতে তাদের এখতিয়ার নেই। ওএসডি হওয়ার ভয়ে কেউ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। তাদের কাছে এলাকার সন্ত্রাসীদের তালিকা দিয়েছি। অথচ তারা কোনো ধরনের অভিযান কিংবা ব্যবস্থা নেয়নি। সন্ত্রাসীরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে ও ভোটারদের প্রভাবিত করছে।
এর আগে (২৬ জানুয়ারি) বরিশাল-৬ আসনকে নির্বাচনি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করার জন্য বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ (বাকেরগঞ্জ সার্কেল) বাকেরগঞ্জ উপজেলার সব ইউনিয়ন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জদের প্রত্যাহার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ক্যাপ্টেন (অব.) মো. কামরুল ইসলাম খান।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং ওই সব কর্মকর্তারা একটি বিশেষ দলের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মাঠে কাজ করছেন। এ অবস্থায় সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
এছাড়া জেলার ৬টি আসনের বিভিন্ন স্থানে একাধিক হামলা মামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় প্রার্থীসহ কর্মীদের কারণ দর্শানোর নোটিশও দিয়েছে আদালত। বরিশাল-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনি প্রচারে সমর্থকদের ওপর হামলা ও অব্যাহত হুমকির ঘটনায় বিএনপির প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপনসহ সাত কর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন আদালত। এছাড়া বরিশাল-৪ আসনে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় নির্বাচনি সহিংসতার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। এ ঘটনায় দুই পক্ষ থেকেই করা হয়েছে মামলা।
এদিকে বরিশাল জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম সূত্রে জানা গেছে, তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরির মাধ্যমে ভোটকেন্দ্র ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, আনসার ও র্যাবের সমন্বয়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। সেখানে নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বড় একটি জনবল নিয়োগ করা হয়েছে পুলিশ ও আনসার বাহিনী থেকে। বরিশাল জেলা পুলিশের অধীনে সাধারণ কেন্দ্রে দুজন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে তিনজন করে পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। জেলায় সর্বমোট ১ হাজার ৩৮২ জন পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি ৯৯টি মোবাইল টিম এবং ১২টি স্ট্রাইকিং টিম কাজ করবে।
অন্যদিকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) ১ হাজার ২৮৫ জন সদস্য ১৯৯টি কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। আধুনিক প্রযুক্তির অংশ হিসেবে বিএমপি পুলিশ ১০৩টি বডি অন ক্যামেরাও ব্যবহার করবে। সবচেয়ে বড় জনবল হিসেবে থাকছে ১০ হাজার ৮২৯ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য। প্রতিটি কেন্দ্রে তিনজন সশস্ত্র সদস্যসহ মোট ১৩ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন, যার মধ্যে নারী ও পুরুষ উভয় সদস্য অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
ভোটের মাঠে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকাও থাকবে জোরালো। বরিশাল জেলায় ১৪০০-১৫০০ জন সেনা সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে, যেখানে প্রতি উপজেলায় গড়ে ১০০ জন ও মেট্রোপলিটন এলাকায় ৪০০ জন সেনা সদস্য অবস্থান করবেন। প্রতি দুই থেকে তিনটি ইউনিয়নের জন্য একটি করে পেট্রোল টিম কাজ করবে।
পাশাপাশি বিজিবির ১৪ প্লাটুন সদস্য জেলার বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন করা হবে, যার মধ্যে বরিশাল সদরে ৫ প্লাটুন ও বাকি ৯টি উপজেলায় ৯ প্লাটুন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। র্যাবের পক্ষ থেকেও ৬টি বিশেষ পেট্রোল টিম সার্বক্ষণিক টহলে থাকবে।
নদীবেষ্টিত অঞ্চল হওয়ায় বরিশালের জলপথেও কড়া নজরদারি রাখা হয়েছে। নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জেলার নদীপথগুলোতে অবস্থান করবে জাহাজ ‘বানৌজা সালাম’, যেখানে ৬০ জন কর্মকর্তা ও নাবিক দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে কোস্টগার্ডের প্রায় ১৫০ জন সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। নদী এলাকার ৮টি ভোটকেন্দ্রের সুরক্ষায় নৌপুলিশও দায়িত্ব পালন করবে।
বরিশাল জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. খায়রুল আলম সুমন জানান, নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ক্রমাগত বাড়ানো হয়েছে ও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বরিশাল জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল জেলার ছয়টি আসনে মোট ৮৩৩টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ ভোট কেন্দ্র রয়েছে ৩৪২টি, গুরুত্বপূর্ণ ভোট কেন্দ্র ১৯৭টি ও অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ২৫৪টি।
বরিশাল-১ আসনে মোট ভোট কেন্দ্র ১২৯টি। এর মধ্যে সাধারণ ভোট কেন্দ্র ৪৩টি, গুরুত্বপূর্ণ ৫১টি ও অতিগুরুত্বপূর্ণ ৩৫টি। বরিশাল-২ আসনে মোট ভোট কেন্দ্র ১৪০টি। এর মধ্যে সাধারণ কেন্দ্র ২৫টি, গুরুত্বপূর্ণ ৫১টি ও অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ৬৪টি।
বরিশাল-৩ আসনের মোট ভোট কেন্দ্র ১২৬টি। এর মধ্যে সাধারণ ভোট কেন্দ্র ৩৭টি, গুরুত্বপূর্ণ ৩৯টি ও অধিক গুরুত্বপূর্ণ ৫০টি। বরিশাল-৪ আসনে মোট ভোট কেন্দ্র ১৪৯টি। এর মধ্যে সাধারণ ভোট কেন্দ্র ৯৮টি, গুরুত্বপূর্ণ ১৭টি ও অতি গুরুত্বপূর্ণ ৩৪টি।
বরিশাল-৫ আসনে মোট ভোট কেন্দ্র ১৭৬টি। এর মধ্যে সাধারণ ভোট কেন্দ্র ৯৩টি, গুরুত্বপূর্ণ ৪৬টি ও অতি গুরুত্বপূর্ণ ৩৭টি। বরিশাল-৬ আসনে ১১৩টি ভোট কেন্দ্র। এর মধ্যে সাধারণ ভোট কেন্দ্র ৪৬টি, গুরুত্বপূর্ণ ৩২টি ও অতিগুরুত্বপূর্ণ ৩৫টি।
সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও লেখক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিনের লেখা ‘অগ্নিবীজ থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ বই নিয়ে পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় কলেজের মুক্তমঞ্চে ব্রজমোহন বই-বন্ধু সংগঠনের উদ্যোগে এ পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হয়।
পাঠচক্রে বইটির লেখক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বইটি রচনার প্রেক্ষাপট, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে পাঠকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। পাশাপাশি বইটির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং উপস্থিত পাঠকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
পাঠচক্রটি সঞ্চালনা করেন ব্রজমোহন বই-বন্ধুর সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সজিব। তাঁর সঞ্চালনায় লেখক, শিক্ষার্থী ও পাঠকদের অংশগ্রহণে বইটির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা, মতবিনিময় ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে ব্রজমোহন বই-বন্ধুর সভাপতি মুহাম্মাদ ইয়ামিন বইটির ওপর আলোচনা করেন। তিনি বইটির বিষয়বস্তু ও প্রেক্ষাপট নিয়ে নিজের পাঠ-অনুভূতি তুলে ধরার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য বই পড়া ও পাঠচর্চার গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেন।
এ সময় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সজিব বইটির বিভিন্ন দিক ও ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বই নিয়ে সম্মিলিতভাবে আলোচনা ও মতবিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পাঠচক্রে লেখকের বক্তব্যের পাশাপাশি উপস্থিত শিক্ষার্থী ও পাঠকদের অংশগ্রহণে বইটির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়। লেখকের সরাসরি উপস্থিতিতে পাঠকদের সঙ্গে এমন মতবিনিময় বইটির বিষয়বস্তু ও প্রেক্ষাপট আরও গভীরভাবে বোঝার সুযোগ তৈরি করে।
ব্রজমোহন বই-বন্ধু ৪ মার্চ ২০২৪ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা ও জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সংগঠনটির কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে বিনামূল্যে বই পড়ার সুযোগ, পাঠচক্র, কুইজ প্রতিযোগিতা ও বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক আলোচনা সভা। এসব আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বইয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা এবং ক্যাম্পাসে পাঠচর্চার পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে সংগঠনটি।
আয়োজকরা জানান, বইকে কেন্দ্র করে নিয়মিত আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠের আগ্রহ আরও বাড়বে। পাঠচক্র জ্ঞানকে বিকশিত করে এবং চিন্তার পরিধি বিস্তৃত করে। ভবিষ্যতেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বই নিয়ে পাঠচক্রসহ জ্ঞান ও সাহিত্যভিত্তিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশে বড় রদবদল নিয়ে এসেছে সরকার। ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি এবং পুলিশ সুপার পর্যায়ের মোট ৩১ জন কর্মকর্তা পাচ্ছেন নতুন দায়িত্ব।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনে এ পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি হাবিবুর রহমান খানকে পুলিশের ট্রাফিক অ্যান্ড ড্রাইভিং স্কুলে (টিডিএস) কমান্ড্যান্ট, সুপারনিউমারারি ডিআইজি হিসেবে পদোন্নতি পাওয়া মোহাম্মদ এনামুল হককে সিলেট মহানগর থেকে খাগড়াছড়ি এপিবিএন ও বিশেষ ট্রেনিং সেন্টারে এবং ওই পদে থাকা পরিতোষ ঘোষকে পার্বত্য জেলা এপিবিএন কার্যালয় বদলি করা হয়েছে।
এছাড়া স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) অতিরিক্ত ডিআইজি আনিছুর রহমানকে খুলনা রেঞ্জে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ওএসডি হিসেবে থাকা অতিরিক্ত ডিআইজি গিয়াস উদ্দিন আহমদকে রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে।
পাশাপাশি সুপার নিউমারারি হিসেবে পদোন্নতি পাওয়া অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারও রয়েছেন বদলির এই তালিকায়।
ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় সব সমুদ্রবন্দরে জারি করা হয়েছে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এমন পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
এতে বলা হয়— পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে।
এটি আজ সন্ধ্যা ৬ টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৭০ কি.মি. দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৪৫ কি.মি. দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৬৯৫ কি.মি. দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭২০ কি.মি. দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। পরবর্তী ১২ ঘন্টায় আরো পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।
এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কি.মি. এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কি.মি., যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৫০ কি.মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।
এ অবস্থায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
বরিশালের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য উনকোরেক্স। যশোরে অভিযান চালিয়ে পিকআপভ্যান থেকে ২ হাজার ২৫৭ বোতল উনকোরেক্সসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৬-এর যশোর ও ঝিনাইদহের যৌথ দল।
গ্রেপ্তাররা হলেন বরিশাল সদরের হেমায়েত উদ্দীন ও মির্জাগঞ্জ এলাকার সুজন হোসেন।
এসআরবি সূত্র জানায়, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যশোরের চুড়ামনকাটি রেলক্রসিং এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি পিকআপভ্যানে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ উনকোরেক্স উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা জানান, উদ্ধার হওয়া মাদকের চালানটি বরিশালে নেওয়া হচ্ছিল। এতে বরিশালমুখী মাদকের এই চালান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
এসআরবি-৬-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর এটিএম ফজলে রাব্বি প্রিন্স জানান, গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। পরে তাদের যশোর কোতোয়ালী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।
বরিশালকে কেন্দ্র করে মাদকের এই চালানের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বরিশাল নগরীতে স্বামী নুরুজ্জামান হাওলাদার (৫৫) হত্যাকাণ্ডে প্রধান আসামি তার দ্বিতীয় স্ত্রী নাসিমা বেগমকে ঢাকার ভাটারা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বরিশাল এয়ারপোর্ট থানার ওসি (তদন্ত) সুমন কুমার আইচ জানান, নাসিমাকে গ্রেপ্তারের পর রাতেই পুলিশের একটি দল তাকে নিয়ে বরিশালের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইছাকাঠী কলোনির একটি ভাড়া বাসায় নুরুজ্জামানের মরদেহ পাওয়া যায়। পরদিন ভোরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নুরুজ্জামান বরিশাল আদালতের একজন আইনজীবীর সহকারী (মুহুরি) ছিলেন। পাশাপাশি তিনি বরিশাল আইনজীবী সহকারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
দাম্পত্য কলহের পর রহস্যজনক মৃত্যু
স্থানীয় সূত্রের বরাতে পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের আগে কয়েকদিন ধরে নুরুজ্জামান ও নাসিমার মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে দাম্পত্য কলহ চলছিল।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দাম্পত্য কলহের জেরে নুরুজ্জামানকে আঘাতের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এরপর বাসার বাইরে থেকে দরজায় তালা দিয়ে নাসিমা আত্মগোপনে চলে যান বলে পুলিশের দাবি।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই নাসিমা পলাতক ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে ঢাকার ভাটারা এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ।
নিহত নুরুজ্জামান মুলাদী উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নের পূর্ব তয়কা গ্রামের মৃত সাত্তার হাওলাদারের ছেলে। কর্মসূত্রে তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী নাসিমাকে নিয়ে বরিশাল নগরীর ইছাকাঠী এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
হত্যার নেপথ্যে আসলে কী ঘটেছিল—গ্রেপ্তার নাসিমাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে তারই উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) সামনের বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক সংস্কারের কোন কাজ না করায় শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েছেন বরিশাল সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম।
মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিনিধি দল সওজ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে গিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ শুরু না হওয়ার কারণ জানতে চায়। এ সময় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম তাদের তোপের মুখে পড়েন বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত চলতি বছরের ৯ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন দপদপিয়া ব্রিজে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। তার মৃত্যুর পর বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক সংস্কারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
ওই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের সামনে এসে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম লিখিত প্রতিশ্রুতি দেন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সড়কের বিটুমিন উঠে গেলে তা পুনরায় সংস্কার করা, আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে সড়কের দুই পাশে ফুটপাত নির্মাণের কাজ শুরু করা এবং ১০ নভেম্বরের মধ্যে মূল সড়কে আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ করার কথা ছিল। একই সঙ্গে সড়কের দুই পাশে আলোর ব্যবস্থা করারও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আন্দোলনের পর মাত্র একবার সড়কের গর্তগুলো বিটুমিন দিয়ে সংস্কার করা হলেও পরবর্তীতে আর কোনো দৃশ্যমান কাজ হয়নি।
মঙ্গলবার সরেজমিনে দপদপিয়া সেতুর টোল প্লাজা থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ভোলা রোড পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়েছে । বিশেষ করে দপদপিয়া সেতুর ওপর বেশ কয়েকটি বড় গর্ত দেখা গেছে। এতে যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর গেটের সামনেও ড্রেনে পানি জমে থাকতে ও অসংখ্য ছোট বড় গর্ত দেখা যায়।
স্থানীয় ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ করে বলছে , সড়কের খানাখন্দের কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। গত এক মাসে প্রায় পাঁচটি থ্রি-হুইলার উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে তারা জানান। এসব ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি দলের সদস্য মো. রাজীব বলেন, কথা ছিল আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে সকল প্রক্রিয়া শেষ করে রাস্তার দুই পাশে ফুটপাত নির্মাণের কাজ শুরু করতে হবে, পাশাপাশি ১০ নভেম্বরের ভিতর আরসিসি ঢালাই ও সড়কের পাশে আলোর ব্যবস্থা করতে হবে। এই কাজের তদারকি করার জন্য সড়ক জনপদের কর্মকর্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটা প্রতিনিধি টিম গঠন করা হয়। আমরা দেখেছি তাদের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক কোন কাজই হচ্ছে না। এখনো পর্যন্ত কোন কাজের টেন্ডারই করতে পারিনি। তাহলে তারা কিভাবে নির্ধারিত সময়ের ভিতরে কাজ শুরু করবে? তাদের কাজের সময় পার হচ্ছে যাচ্ছে সেটা জানান দিতেই আজ এখানে আসা।
আরেক সদস্য মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, সড়ক ও জনপদের কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম বলেছিল রাস্তায় যতবার গর্ত হবে ততবার সেটা বিটুমিন দিয়ে সংস্কার করে দিবে। কিন্তু নামে মাত্র একবার সংস্কার করে দিয়েই সড়ক ও জনপদের লোক হাওয়া হয়ে গেছে। রাস্তায় অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়েছে প্রতিদিনই কোন না দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের রাস্তায় দুরবস্থার কারণে আমরা মাইশা, ইয়াসিন আরাফাতকে হারিয়েছি। এখন আর কত লাশ দিলে এই রাস্তার সংস্কার হবে? লিখিত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত সড়ক সংস্কার, ফুটপাত নির্মাণ, আরসিসি ঢালাই ও সড়কের পাশে আলোর ব্যবস্থা করার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্যই এখানে আসা।
অপর দিকে বরিশাল সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে ফুটপাত নির্মাণ, আরসিসি রোড নির্মাণ, সড়কে লাইটের ব্যবস্থা করা। সে ব্যাপারে একটা প্রস্তবনা ইতিমধ্যে প্রেরণ করা হয়েছে। সেটা যদি অনুমোদন হয় তাহলে আমরা অতিশীগ্রই নতুন দরপত্র আহ্বান করে এই কাজগুলো করতে পারবো। তবে কবে নাগাত এই কাজ শুরু করতে পারবো সেটা বলতে পারছি না।
আমতলী প্রতিনিধি, বরগুনা | 21 September 2026, 9:29 pm
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক প্রতিরোধ জোরদার এবং শিশুদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বরগুনার আমতলী উপজেলাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাল্যবিবাহমুক্ত উপজেলা ঘোষণা করা হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় আমতলী উপজলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ফিতা কেটে ও ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে আমতলীকে বাল্যবিবাহ মুক্ত উপজেলা ঘোষণা করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মো. হাফিজুর রহমান।
ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, আমতলী এপির সহযোগিতায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নজরুল স্মৃতি সংসদ (এনএসএস) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
এনএসএসের মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন কর্মকর্তা ও সাংবাদিক মো. জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনএসএসের নির্বাহী পরিচালক ও সিনিয়র সাংবাদিক অ্যাডভোকেট শাহাবুদ্দিন পান্না। তিনি অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের বরিশাল এপিসিওর সিনিয়র ম্যানেজার স্টিফেন হালদার রুবেন, টেকনিক্যাল স্পেশালিস্ট মো. হুমায়ুন কবির এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, আমতলী এপির এরিয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার বিভুদান বিশ্বাস।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) সনঞ্জয় কুমার দত্ত, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রূপকুমার পাল, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রাসেল, উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. মনিরুল হক, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল আলম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রুনু বেগম, উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলী, উপজেলা মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম মাহমুদ সেলিম এবং আমতলী পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশিদ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন ফকির, সাবেক সদস্য সচিব মো. তুহিন মৃধা, আমতলী প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক মো. রেজাউল করিম বাদল, সুশাসনের জন্য নাগরিক—সুজনের আমতলী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু জিহাদ, আমতলী প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহসীন মাতুব্বর, গণমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মী আবদুর রহমান সালেহ, সাংবাদিক নাসরিন সুলতানা সিপু ও শিউলী মালাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ইমাম, পুরোহিত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, এনজিও প্রতিনিধি, ইয়ুথ ও চাইল্ড ফোরামের সদস্য, ভিডিএস সদস্য এবং এনএসএস ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের আমতলী এপির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ধারাবাহিক কার্যক্রম
অনুষ্ঠানে এনএসএস আমতলীর প্রোগ্রাম ম্যানেজার মৃদুল সরকার বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বিগত সময়ে পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রম, জনসচেতনতামূলক উদ্যোগ, সামাজিক সম্পৃক্ততা ও অর্জন নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। প্রেজেন্টেশনে বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব, শিশুদের শিক্ষা ও অধিকার সুরক্ষা, পরিবার ও সমাজের ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ শুধু একটি পারিবারিক বা সামাজিক সমস্যা নয়; এটি শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক বিকাশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। বাল্যবিবাহের কারণে বিশেষ করে কন্যাশিশুদের শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অল্প বয়সে মাতৃত্বের কারণে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ফলে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং তরুণ সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
‘সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি। এটি বন্ধ করতে শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়; পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন, গণমাধ্যমসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”
তিনি বলেন, আমতলীকে বাল্যবিবাহমুক্ত রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। কোথাও বাল্যবিবাহের আয়োজন বা বাল্যবিবাহ সংঘটিত হওয়ার খবর পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে শাহাবুদ্দিন পান্না বলেন, একটি শিশুর শিক্ষা, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও স্বাভাবিক বিকাশের অধিকার নিশ্চিত করা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত দায়িত্ব। বাল্যবিবাহ বন্ধ করা গেলে মেয়েদের বিদ্যালয়ে অবস্থান ও শিক্ষার সুযোগ বাড়বে, অল্প বয়সে মাতৃত্বজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি কমবে এবং পরিবার ও সমাজে একটি শিক্ষিত, দক্ষ ও সচেতন প্রজন্ম গড়ে উঠবে।
বক্তারা বলেন, শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মধ্যেই বাল্যবিবাহমুক্ত উপজেলার কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। ঘোষণাটিকে কার্যকর ও টেকসই করতে নিয়মিত নজরদারি, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বিদ্যালয়ভিত্তিক কার্যক্রম, পরিবারকে সম্পৃক্ত করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক প্রতিরোধ আরও জোরদার করতে হবে।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, এনজিও, গণমাধ্যম, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, অভিভাবক, তরুণ সমাজ ও শিশু প্রতিনিধিরা আমতলীকে বাল্যবিবাহমুক্ত রাখার বিষয়ে সম্মিলিত অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
অংশগ্রহণকারীরা বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা, কোনো শিশুর বাল্যবিবাহের আয়োজনের খবর পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা এবং শিশুদের শিক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করতে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তাদের প্রত্যাশা, প্রশাসন, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমতলী উপজেলার বাল্যবিবাহমুক্ত ঘোষণাটি একটি টেকসই সামাজিক উদ্যোগে পরিণত হবে এবং ভবিষ্যতেও আমতলী বাল্যবিবাহমুক্ত উপজেলা হিসেবে তার অবস্থান ধরে রাখবে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপকের ছেলে অপ্রতিম হত্যার ক্লু শনাক্ত করা এবং প্রকৃত হত্যাকারীকে গ্রেফতার না করা পর্যন্ত এ ঘটনায় ননস্টপ কাজ করে যাবেন বলে জানিয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
পুলিশ সুপার বলেন, কিছু তথ্যপ্রযুক্তিগত বিষয়সহ তদন্তের জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন। ঘটনাটি সবাইকে কাঁদিয়েছে। ছোট্ট নিষ্পাপ একটি শিশুর সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, ঘটনার মোটিভসহ সবকিছু খুব শিগগিরই তদন্ত করে জানানো হবে।
এ ঘটনায় আটক একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আটক ব্যক্তির মোবাইল, প্রযুক্তিগত তথ্য, লোকেশন এবং অপ্রতিমের অবস্থান—সবকিছু মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। যাকে আটক করা হয়েছে, সে নির্দোষও হতে পারে, আবার জড়িতও হতে পারে। তাই তদন্তের এ পর্যায়ে মূল হত্যাকারীরা যেন কোনো তথ্য পেয়ে আত্মগোপনে যেতে না পারে, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই কাজ করা হচ্ছে।
এদিকে, আজ অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে তার মা বলছিলেন, আমার ছোট্ট ছেলে কী অন্যায় করেছে, আমি এটার জবাব চাই। আমি কোনো বিচার মানিনা। আমাকে উত্তর দিতে হবে।
প্রসঙ্গত, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যায়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে অপ্রতিমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী জঙ্গল লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
এর আগে, শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হয়ে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। পরে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
আমার ছোট্ট ছেলে কী অন্যায় করেছে, আমি এটার জবাব চাই। আমি কোনো বিচার মানিনা। আমাকে উত্তর দিতে হবে। অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন কুমিল্লায় মৃত উদ্ধার ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিমের মা নাহিদা বেগম। তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্থানীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী শোকসন্তপ্ত পরিবারের সাথে দেখা করতে যান। তিনি গিয়ে বিলাপ করতে দেখেন সন্তানহারা মা’কে।
নাহিদা বেগম বলতে থাকেন, আমি কোন দেশে থাকি? এটা কোন দেশ? একটা ছেলে বের হলে তাকে মেরে ফেলতে হবে?
নাহিদা আর্তনাদ করতে করতে বলেন, আমি বাঁচব ক্যামনে? আমার তো একটাই ছেলে!আমি ক্যামনে আমার জীবন কাটাব? আমি আমার জীবন পার করবো ক্যামনে?
পরে সামনে আসেন শিশুর বাবাও। তিনিও অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ফোনটা নেওয়ার জন্য মেরে ফেললো আমার ছেলেকে!
এসময় উপস্থিত এমপি মনিরুল হকও কাঁদতে থাকেন। তাকেও হতবিহ্বল হয়ে চোখের জল মুছতে দেখা যায়।
বরিশালের বাকেরগঞ্জে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ঘুমন্ত স্ত্রীকে ধারালো বটি দিয়ে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে ইমরান হোসেন উজ্জ্বল নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। মেয়েকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাঁর শ্বশুর ও শাশুড়িকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখান থেকেই অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশ।
আহতরা হলেন—ইমরানের স্ত্রী রুমানা আক্তার (২১), শ্বশুর মাহবুব আলম মিন্টু হাওলাদার (৫৮) ও শাশুড়ি মাহমুদা বেগম (৫৫)। গুরুতর অবস্থায় তাঁদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টার দিকে উপজেলার দাঁড়িয়াল ইউনিয়নের উত্তমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ইমরান একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক বিরোধের জেরে ভোরে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ঘুমন্ত স্ত্রী রুমানাকে ধারালো বটি দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন ইমরান। রুমানার চিৎকার শুনে তাঁর বাবা-মা ছুটে এলে তাঁদের ওপরও হামলা চালানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে, তিনজনকে আহত করার পর ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান ইমরান। পরে আহতদের আর্তচিৎকার শুনে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
পুলিশের ভাষ্য, ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করে ইমরান নিজেও শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। খবর পেয়ে সকাল ১০টার দিকে হাসপাতাল থেকেই তাঁকে আটক করে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ।
বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি আদিল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নেশাগ্রস্ত জামাইয়ের হামলায় স্ত্রী, শ্বশুর ও শাশুড়ি গুরুতর আহত হয়েছেন। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি বলেন, হামলার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।’