নাগরিক অধিকার সুরক্ষা, সরকারি সেবার মানোন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বরগুনার আমতলীতে নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় আমতলী পিপলস ভয়েস অব আমতলী (পিভিএ) হলরুমে, ন্যাশনাল অ্যাডভান্সমেন্ট ফর গভর্ন্যান্স অ্যান্ড রাইটস ইনিশিয়েটিভস ইন কমিউনিটিস (NAGRIC) নাগরিক প্রকল্পের সহায়তায় এবং সিবিডিপি বরগুনার আয়োজনে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
আমতলী উপজেলা নাগরিক প্ল্যাটফর্মের সাধারণ সম্পাদক, গণমাধ্যম ও মানবাধিকারকর্মী আবু জিহাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বরগুনা জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) রূপ কুমার পাল।
এতে সভাপতিত্ব করেন আমতলী উপজেলা নাগরিক প্ল্যাটফর্মের সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক মো. জাকির হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরগুনা সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. হেমায়েত উদ্দিন এবং আমতলী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মনজুরুল হক কাওসার। বরগুনা সিবিডিপি নির্বাহী পরিচালক সিনিয়র সাংবাদিক মোঃ জাকির হোসেন মিরাজ,
সংলাপে আরও উপস্থিত ছিলেন আঠারগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নাজমুন নাহার মুকুল, আমতলী প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মো. মহসীন মাতুব্বর, আমতলী প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও গণমাধ্যম-মানবাধিকার
কর্মী আবদুর রহমান সালেহ, তারুণ্যের আলো যুব ফোরামের সভাপতি মুক্তা রানীসহ যুব ফোরামের সদস্যরা।
এ ছাড়া আমতলী উপজেলা, আমতলী সদর ইউনিয়ন ও আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের নাগরিক প্ল্যাটফর্মের সদস্য, প্রকল্পের উপকারভোগী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিক এবং মানবাধিকারকর্মীরা সংলাপে অংশ নেন।
সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুপ কুমার পাল বলেন, নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে হলে সরকারি সেবাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, নারী, যুবসমাজ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে তা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
নাগরিক সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা, সরকারি সেবা গ্রহণে প্রতিবন্ধকতা, নাগরিক অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, নারী ও যুবসমাজের অংশগ্রহণ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন।
আয়োজকরা জানান, স্থানীয় জনগণের মতামত ও অভিজ্ঞতা সরাসরি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছে তুলে ধরার মাধ্যমে নাগরিক ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ তৈরি করাই এ ধরনের সংলাপের অন্যতম উদ্দেশ্য। নিয়মিত এমন সংলাপ আয়োজনের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নাগরিক অংশগ্রহণ আরও জোরদার হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, যুব প্রতিনিধি, নাগরিক প্ল্যাটফর্মের সদস্য ও উপকারভোগীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।