বরিশাল জেলায় প্রথমবারের মতো জেলার সব ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি) উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সর্বজনীন পেনশন স্কিম বাস্তবায়ন বিষয়ক মতবিনিময় সভা হয়েছে। আজ সোমবার (১৮ মার্চ) বেলা ১২টায় জেলা প্রশাসন বরিশালের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সম্মেলন কক্ষে জেলার সব ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি) উদ্যোক্তাদের সঙ্গে এ সভা হয়। বরিশালে জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মনদীপ ঘরাই, ১০ উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা ও ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি) উদ্যোক্তারা।
শুরুতে সর্বজনীন পেনশন স্কিম নিয়ে ভিডিও ডকুমেন্টারি ও পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। পরে উন্মুক্ত আলোচনা শেষে সংক্ষিপ্ত এক আলোচনায় অতিথিরা সর্বজনীন পেনশন স্কিমের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরে আলোচনা করেন। এ সময় জেলা প্রশাসক বরিশাল শহিদুল ইসলাম বলেন, সর্বজনীন পেনশন স্কিম বাস্তবায়নে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি) উদ্যোক্তাগণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাদেরকে এ পেনশন স্কিম বাস্তবায়নে শুভেচ্ছা দূত হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় উদ্যোক্তারা জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বরিশাল জেলাকে সর্বোচ্চ পেনশন স্কিমের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
গত ১৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি এমনভাবে করা হচ্ছে যাতে দেশের ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী সব নাগরিকই এ ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারবেন এবং ৬০ বছর বয়স থেকে তারা আজীবন পেনশন পাবেন। শুরুর দিকে চিন্তা না থাকলেও পরে ৫০ বছরের বেশি বয়সীদেরও পেনশন কর্মসূচির আওতায় রাখার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। তারা টানা ১০ বছর চাঁদা দেওয়ার পরই পেনশন সুবিধা পাবেন।
আপাতত চার শ্রেণির জনগোষ্ঠীর জন্য চার ধরনের পেনশন কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। এগুলো হচ্ছে- প্রগতি, সুরক্ষা, সমতা ও প্রবাসী। এর মধ্যে বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের জন্য ‘প্রগতি’, স্বকর্মে নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য ‘সুরক্ষা’,প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ‘প্রবাসী’ এবং দেশের নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য ‘সমতা’ শীর্ষক কর্মসূচি চালু করা হবে। ‘প্রগতি’ ও ‘সুরক্ষা’ কর্মসূচির আওতায় মাসিক চাঁদার হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। ‘প্রবাসী’ কর্মসূচিতে মাসিক চাঁদার হার ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। ‘সমতা’ কর্মসূচিতে মাসিক চাঁদা ৫০০ টাকা। এ কর্মসূচিতে সমপরিমাণ অর্থাৎ ৫০০ টাকা করে চাঁদা দেবে সরকার
কয়েকটি কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের চেষ্টার বিষয়ে গোয়েন্দাদের কাছে পরিষ্কার খবর আছে। যারা পালিয়ে গেছে, তারা অর্থ সরবরাহ করছে এবং যারা বেহেশতের টিকিট বিক্রি করতো তাদের মাধ্যমে অর্থ দিচ্ছে। এই দুই পক্ষ এক হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর মাদরাসা মাঠে এক জনসভায় তিনি এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
কেউ যাতে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে সে বিষয়ে জনগণকে সচেতন হবার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান। তিনি বললেন, একটি দল মুখে চব্বিশের কথা বলে, কিন্তু তারা শহীদদের স্মরণে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলো না। তাদের মুখে এক কথা, কর্মে আরেক।
তারেক রহমান দাবি করেন, কতগুলো দল বিএনপির তথা জনগণের কর্মসূচি সফল হোক তা চায় না। আগামী ৫ বছর বিএনপিকে সমর্থন দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান দলটির চেয়ারম্যান।
সরকারপ্রধান আরও বলেন, বিদেশ থেকে কেউ এসে দেশ গড়ে দিয়ে যাবে না। নিজেদেরকেই গড়তে হবে। তিস্তা ও পদ্মায় সরকারই ব্যারেজ তৈরি করবে। কুচক্রী মহল দেশের ভাগ্য বদলে বাধা দিতে চেষ্টা করছে। পানির ন্যায্য হিস্যা বুঝে নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
পিরোজপুরের নাজিরপুর ও নেছারাবাদ খেয়া পারাপারে অতিরিক্ত যাত্রী ও ৬ টি মোটরসাইকেল বহনের কারণে একটি ট্রলার দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনায় এক শিশু প্রাণ হারিয়েছে এবং তার মা দুর্ঘটনার ১৮ ঘন্টা অতিবাহিত হওয়ার পরেও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে দুর্ঘটনাকবলিত নাজিরপুরের শ্রীরামকাঠী ও নেছারাবাদের ভরতকাটী খেয়া ঘাট এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মেদ সোহেল মনজুর।
জানা যায়, সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে শ্রীরামকাঠী-ভরতকাঠী ফেরিঘাট এলাকায় অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল নিয়ে কালিগঙ্গা নদী পার হওয়ার সময় অতিরিক্ত যাত্রী পারাপার করতে গেলে তলাটি একপাশে কাত হয়ে যায় এবং ট্রলারে থাকা যাত্রী নদীতে পড়ে যায়। নদীতে পড়ে যাওয়া যাত্রীরা সাঁতরে এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় পাড়ে উঠতে পারলেও নিখোঁজ হন মা ও মেয়ে। ফায়ার সার্ভিস ডুবুরি দলের চেষ্টায় রাত ১১ টা ১০ মিনিটের দিকে মৃত অবস্থায় মেয়েকে উদ্ধার করা হলেও মাকে (মঙ্গলবার বেলা তিনটা পর্যন্ত) ১৮ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরেও তার খোঁজ মেলেনি। তবে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এবং নৌ বাহিনীর ডুবুরী দলের উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী উদ্ধার কাজের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় নিখোঁজ নারীকে দ্রুত উদ্ধারে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা প্রশাসক মো. গোলাম রাব্বানী, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান, নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজিয়া শাহনাজ তমা, ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর কর্মকর্তা এবং নাজিরপুর থানা পুলিশের একটি দল।
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরিশাল। | 17 October 2026, 6:17 pm
বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিজেই ঠিকাদারীর সাথে যুক্ত হয়ে কাজ বাগানোর অভিযোগ উঠেছে। তাছাড়া ঘুষ, কমিশন বাণিজ্য, দরপত্রে অনিয়ম, বিল আটকে রাখা এবং নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার একাধিক অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্ট সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ২৪ জন ঠিকাদার। তাঁর অপসারণ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে মানববন্ধনও করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ঠিকাদারদের অভিযোগ, প্রকল্পের কার্যাদেশ দেওয়া থেকে শুরু করে বিল উত্তোলন ও নিরাপত্তা জামানত ফেরতের বিভিন্ন পর্যায়ে একটি প্রভাবশালী বলয়ের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের নামে কাজ নিয়ে অন্য ঠিকাদারদের কাছে সাবকন্ট্রাক্টে হস্তান্তর, দরপত্র মূল্যায়নে প্রভাব বিস্তার এবং বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে কমিশন দাবির অভিযোগও করেছেন তাঁরা।
অভিযোগকারীদের দাবি, বরিশালের মেসার্স মোমিন সিকদার, দিনাজপুরের মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজ, চট্টগ্রামের ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স এবং খুলনার মেসার্স রাফিদ ট্রেডার্স নামের চারটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ বণ্টন ও সাবকন্ট্রাক্টের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের সাথে বেনামে মালিকানায় থেকে ব্যবসায়িক সম্পর্ক এবং কাজ বণ্টন করছেন বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম।
প্রায় ৩২ কোটি টাকার কারিগরি স্কুল ও কলেজ স্থাপন প্রকল্প ঘিরেও কমিশন লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া বরিশাল নগরীর কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের দরপত্র, নিরাপত্তা জামানত কর্তন এবং ঠিকাদারদের বিল আটকে রাখার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। কাজ সম্পন্ন করার পরও অনেক ঠিকাদার মাসের পর মাস বিল পাচ্ছেন না। এতে ব্যাংকঋণের সুদ, শ্রমিকের মজুরি ও নির্মাণসামগ্রীর বকেয়া পরিশোধে সংকট তৈরি হচ্ছে।
দরপত্রে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দিতে প্রতিযোগী ঠিকাদারদের কারিগরি ত্রুটির অজুহাতে বাদ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি কাজের মান, প্রকল্পের অগ্রগতি এবং অতিরিক্ত বিলের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। দরপত্র, কার্যাদেশ, পরিমাপ বই, বিল-ভাউচার ও প্রকল্পের বাস্তব অবস্থা যাচাই করলেই এর সত্যতা পাওয়া যাবে।
নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঠিকাদার ফারুক হোসেনকে ফোনে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ২০২৫ সালের ২৯ নভেম্বরের ঘটনার পরদিন বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় ২০৭৬ নম্বরে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন ঠিকাদারদের একাংশ। সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত দাবি করেছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামকে অফিসে গিয়ে তার কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি। তার মুঠো ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী জানিয়েছেন, দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা পাঁচ দিনের ছুটির সমন্বয় করতে আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের কার্যক্রম চালু থাকবে। স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী চলবে সেবা কার্যক্রম। এদিকে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর দেশের সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। এর বিপরীতে আজ সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও ব্যাংক খোলা রাখা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সচল রাখতে সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দরে অবস্থিত ব্যাংকের শাখা ও বুথগুলোকে ২০ থেকে ২২ অক্টোবরের সরকারি ছুটি এবং ২৩ ও ২৪ অক্টোবরের সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও সীমিত পরিসরে আমদানি-রফতানিসংক্রান্ত ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে।
আকাশ, ঝালকাঠি প্রতিনিধি | 16 October 2026, 9:53 pm
মানুষের জন্য কিছু মানুষ বেঁচে থাকেন নিজের মতো করে। প্রচারের আলোয় নয়, বরং কারও মুখের হাসিতে, কারও বিপদের দিনে বাড়িয়ে দেওয়া সহযোগিতার হাতে তাঁরা খুঁজে নেন জীবনের সার্থকতা। আবির হোসেন রানা তেমনই একজন মানুষ, যাঁর দীর্ঘ পথচলার সঙ্গে মিশে আছে স্বেচ্ছাসেবা, মানবিকতা, নেতৃত্ব ও সাহিত্যের প্রতি গভীর অনুরাগ।
২০০৭ সালের দিকে প্রথম আলো বন্ধুসভার সঙ্গে যুক্ত হয়ে ঘূর্ণিঝড় সিডর পরবর্তী মানবিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তাঁর স্বেচ্ছাসেবী জীবনের সূচনা। দুর্যোগের ক্ষত বুকে নিয়ে বেঁচে থাকা মানুষের অসহায়ত্ব তাঁকে শিখিয়েছে, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সব সময় বড় সামর্থ্যের প্রয়োজন হয় না, প্রয়োজন হয় একটি সংবেদনশীল হৃদয়ের। সেই উপলব্ধি থেকেই ধীরে ধীরে বিস্তৃত হয়েছে তাঁর মানবিক পথচলা।
পরবর্তীকালে জাগো ফাউন্ডেশনের জাগো সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সাধারণ সদস্য হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করেন। ২০০৯ সালের দিকে প্রায় ১০০ জন পথশিশুর হাতে ঈদের পোশাক তুলে দেওয়ার উদ্যোগ ছিল তাঁর মানবিক কর্মকাণ্ডের উল্লেখযোগ্য একটি অধ্যায়। যাদের ঈদের আনন্দ অনেক সময় অভাবের আড়ালে চাপা পড়ে যায়, তাদের মুখে হাসি ফোটানোর এই প্রচেষ্টা প্রমাণ করে, মানুষের জন্য করা ছোট একটি উদ্যোগও কারও জীবনে বড় আনন্দ হয়ে উঠতে পারে।
মানুষের কল্যাণে কাজ করার পাশাপাশি সমাজের অসংগতি নিয়েও তাঁর ভাবনা রয়েছে। টিআইবির সচেতন নাগরিক কার্যক্রমের ইয়েস দলের দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর সামাজিক দায়বদ্ধতাকে আরও গভীর করেছে।
২০২০ সালে ইয়ুথ অ্যাকশন সোসাইটি, ইয়াস গঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন আবির হোসেন রানা। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠালগ্নে সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সাল থেকে সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে সংগঠনের কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তরুণদের মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, সামাজিক সচেতনতা তৈরি এবং মানুষের প্রয়োজনের সময়ে পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে তিনি স্বেচ্ছাসেবার পরিসরকে আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করছেন।
তবে একজন সংগঠক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের বাইরেও রয়েছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। তিনি নতুন প্রজন্মের স্বেচ্ছাসেবকদের কাছে একজন পরামর্শদাতা ও অনুপ্রেরণার মানুষ।
ইয়াসের স্বেচ্ছাসেবক আকাশ বলেন, আবির হোসেন রানা জুনিয়র স্বেচ্ছাসেবকদের সব সময় কাজের প্রতি উৎসাহিত করেন। ধৈর্য ধরে দায়িত্ব পালন করা, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও হাল না ছাড়া এবং নতুন উদ্যোগ নিয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করার বিষয়ে তিনি পরামর্শ দেন। তাঁর কাছ থেকে নতুনরা শুধু সাংগঠনিক কাজের অভিজ্ঞতাই নয়, বরং দায়িত্বশীলতা, ধৈর্য ও মানুষের প্রতি আন্তরিকতার শিক্ষাও পায়। একজন অভিজ্ঞ স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে তিনি নতুনদের এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখান এবং তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরিতে ভূমিকা রাখেন।
আবির হোসেন রানার শিক্ষাজীবন কেটেছে ঝালকাঠি পৌর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ঝালকাঠি সরকারি কলেজে। সামাজিক কর্মকাণ্ডের ব্যস্ততার বাইরেও গল্প ও উপন্যাস পড়ার প্রতি তাঁর রয়েছে বিশেষ ভালোবাসা। সাহিত্যের প্রতি এই টান তাঁর চিন্তাজগৎকে সমৃদ্ধ করে, মানুষের জীবন ও মনস্তত্ত্বকে কাছ থেকে বুঝতে সাহায্য করে। বইয়ের পাতায় তিনি খুঁজে পান মানুষের সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহ, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি আর সমাজের নানা বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি।
সাহিত্য মানুষের ভেতরের মানুষটিকে চিনতে শেখায়, আর স্বেচ্ছাসেবা সেই উপলব্ধিকে বাস্তব জীবনে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করে। আবির হোসেন রানার জীবনেও যেন এই দুই ধারার এক মেলবন্ধন রয়েছে। একদিকে বইয়ের পাতায় মানুষের জীবনকে জানা, অন্যদিকে বাস্তব জীবনে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। এই দুইয়ের সমন্বয় তাঁর ব্যক্তিত্বে যোগ করেছে আলাদা মাত্রা।
বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক মানবিক উদ্যোগের প্রচার দেখা যায়। কিন্তু আবির হোসেন রানার পরিচয়ের বিশেষ দিক হলো, প্রচারের চেয়ে কাজকে গুরুত্ব দেওয়ার মানসিকতা। তাঁর কাছে মানুষের পাশে দাঁড়ানো কোনো প্রদর্শনীর বিষয় নয়, বরং নিজের সামর্থ্য ও দায়িত্ববোধ থেকে করা এক ধরনের মানবিক অঙ্গীকার। যদিও তাঁর কাজের প্রতিটি দিক প্রচারের বাইরে থাকে কি না, তা আলাদাভাবে যাচাইয়ের বিষয়, তবু দীর্ঘদিনের স্বেচ্ছাসেবী সম্পৃক্ততা তাঁর সামাজিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতার পরিচয় দেয়।
সিডর পরবর্তী মানবিক কার্যক্রম থেকে পথশিশুদের ঈদের আনন্দে শামিল করা, দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা থেকে ইয়াসের নেতৃত্ব, প্রতিটি পর্যায়েই রয়েছে মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা। সময়ের সঙ্গে দায়িত্ব বদলেছে, কাজের পরিধি বেড়েছে, কিন্তু মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়ই তাঁর পথচলার মূল প্রেরণা হয়ে রয়েছে।
ঝালকাঠির এই মানবিক মুখ আবির হোসেন রানার গল্প তাই কেবল একজন স্বেচ্ছাসেবীর জীবনের গল্প নয়, এটি দায়িত্ববোধ, মননশীলতা ও মানুষের প্রতি মমত্ববোধের গল্প। যে গল্পে সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে সমাজের জন্য কাজ করে যাওয়ার নিরন্তর প্রয়াস। কারণ, সব অর্জন পদক বা পরিচয়ে মাপা যায় না, কিছু অর্জন থেকে যায় মানুষের মনে, কারও বিপদের দিনে পাশে দাঁড়ানোর স্মৃতিতে, আর কারও মুখে ফিরে আসা একটুখানি হাসিতে।
আবির সিকদার, বিএম কলেজ | 16 October 2026, 10:32 am
সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে নামমাত্র চিকিৎসাকেন্দ্র ও চিকিৎসক থাকলেও ন্যূনতম চিকিৎসা সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা নেই। প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের থেকে চিকিৎসা খাত বাবদ অর্থ আদায় করা হয়, কিন্তু সেখানে ওষুধ বা প্রাথমিক চিকিৎসার মৌলিক কোনো ব্যবস্থাপনা নেই। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ফি দিয়েও পাচ্ছেন না কাঙ্ক্ষিত সেবা, যা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মনে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজমান।
কলেজের হিসাব শাখার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর সেশন চার্জের সাথে প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে চিকিৎসাকেন্দ্র খাতে ২০ টাকা করে নেওয়া হয়। কলেজের ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর হিসাব অনুযায়ী, বাৎসরিক প্রায় ৬ লাখ টাকা এ খাতে জমা হয়। কিন্তু বাস্তবে চিকিৎসাকেন্দ্রে গেলে এক পিস প্যারাসিটামল, এন্টাসিড, অ্যান্টিহিস্টামিন, খাওয়ার স্যালাইন, অ্যান্টিসেপটিক বা সামান্য ব্যান্ডেজ পাওয়া যায় নাহ।
কলেজের কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে তাকে চিকিৎসাকেন্দ্রটিতে বা দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য অ্যাম্বুলেন্স, হুইলচেয়ার, ট্রলি কিংবা স্ট্রেচারের পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেই। গত বছরের অক্টোবরে প্রাথমিক চিকিৎসা না পেয়ে চরম অবহেলায় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্রী রুমানা আক্তার সুমির অকালমৃত্যু ঘটে।
চলতি বছরের গত মে মাসে ১০ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন নামলে প্রশাসন সপ্তাহে তিন দিনের জন্য একজন এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগ দেয়। বর্তমানে কলেজের জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন কলা ভবন-২-এর নিচতলায় নামমাত্র চিকিৎসাকেন্দ্রে ডা. নাইমা জান্নাত বসলেও সরঞ্জাম ও ওষুধের অভাবে কেবল পরামর্শ ও চিকিৎসাপত্র দেওয়া ছাড়া তিনি আর কোনো সেবা দিতে পারছেন না।
হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র মেহেদী হাসান তানবীর আক্ষেপ করে বলেন, “এখানে যে একটি চিকিৎসাকেন্দ্র আছে, তা অনেকেই জানে না। আর জেনে থাকলেও লাভ নেই, কারণ সেখানে কোনো ওষুধ পাওয়া যায় না।”
একই ধরনের অভিযোগ জানান অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ছাদিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গুরুতর অসুস্থ তো দূরে থাক। আমাদের শরীরের কোন অংশ কেটে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার মতো নূনতম সেবলন, তুলা বা ব্যান্ডেজ পর্যন্ত এখানে পাওয়া যায় নাহ। তাহলে প্রতি বছর আমরা যে টাকা চিকিৎসা খাত বাবদ দিয়ে থাকি তা কোথায় ব্যয় হয়?”
এ বিষয়ে চিকিৎসাকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. নাইমা জান্নাত বলেন, “প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবে বর্তমানে শুধু ব্যবস্থাপত্র দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। সদ্য বিদায়ী অধ্যক্ষের কাছে একাধিকবার প্রয়োজনীয় ঔষধ ও উপকরণ নিয়ে তাগিদ দেওয়া হলেও তা আলোর মূখ দেখেনি।”
অন্যদিকে, বিএম কলেজের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর কাজী জাবের আহমেদ জানান, “চিকিৎসকের নিকট প্রয়োজনীয় মালামালের পূর্ণাঙ্গ তালিকা চাওয়া হয়েছে। দ্রুতই অক্সিজেন সিলিন্ডার, স্ট্রেচার ও জরুরি ওষুধের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি একটি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থার জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানানো হবে।”
শিশুদের রক্তে সিসার উপস্থিতি ও এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করেছে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআর,বি। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১১টায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে কলেজের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
কর্মসূচির শুরুতে প্রজেক্টরের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিসার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। পরে সিসা দূষণ প্রতিরোধের উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি কলেজ ক্যাম্পাসসহ বরিশালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্টিকার লাগানো এবং বিভিন্ন দোকানে লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়।কর্মসূচিটি সমন্বয় করেন বিএম কলেজের শিক্ষার্থী মো. সজিব, মো. মেহেরাব হোসেন, অনামিকা, রিফাত ও জামিল।
বরিশালে কর্মসূচির সমন্বয়ক মো. সজিব বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সিসা দূষণ ও এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির জন্য এ আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট ও স্টিকার বিতরণ করা হয়েছে।
আইসিডিডিআর,বি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সিসা দূষণ প্রতিরোধ সপ্তাহ উপলক্ষে ১৮ থেকে ২৪ অক্টোবর সনাক্তকরণ থেকে প্রতিরোধে প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ২০২৬ সালের বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে দেশের ১৭টি জেলার ২৫টি উপজেলার স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে সিসা দূষণবিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি জনবহুল এলাকায় তরুণদের সম্পৃক্ত করে লিফলেট ও স্টিকার বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউনিসেফের মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (এমআইসিএস) ২০২৫ অনুযায়ী, দেশে ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৩৮ দশমিক ৪ শতাংশ শিশুর রক্তে প্রতি ডেসিলিটারে ৫ মাইক্রোগ্রাম বা তার বেশি মাত্রায় সিসা পাওয়া গেছে। সিসা একটি বিষাক্ত ভারী ধাতু, যা মস্তিষ্ক, কিডনি ও শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ও আচরণের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সিসাযুক্ত ধুলা ও ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ এবং দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে এটি মানবদেহে প্রবেশ করতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সিসার এমন কোনো মাত্রা নেই, যাকে সম্পূর্ণ নিরাপদ বলা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সিসার সংস্পর্শ কমাতে দূষণের উৎস শনাক্ত করা, নিরাপদ খাবার ও পানি নিশ্চিত করা এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি। এ ক্ষেত্রে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরিশাল। | 14 October 2026, 7:48 pm
বরিশাল নগরীর ১১ নম্বর ওয়ার্ডের ভাটারখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। ২০২৬-২৯ সালের জন্য গঠিত এ কমিটিতে দাতা সদস্য মো. ফয়সালকে সভাপতি এবং সাংবাদিক সংস্থার বরিশাল জেলা সভাপতি মোঃ মামুন-অর-রশিদকে শিক্ষানুরাগী সদস্য করা হয়েছে। এছাড়া মো. নাসির উদ্দিন খলিফা সহ-সভাপতি ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিজা খন্দকার কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
কমিটির তালিকা অনুযায়ী এতে অভিভাবক প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি, উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষক প্রতিনিধি, শিক্ষক প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শ্রেণির সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিটিতে আফরোজা আক্তার, মো. জুয়েল ফকির, মো. সজীব হাওলাদার, আরজু আক্তার, মোসা. লাখি, সীমা রানী ঘোষ ও মাধুরী রানী বিশ্বাস সদস্য হিসেবে রয়েছেন।
এদিকে নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে স্কুল লাইব্রেরীতে এই অনুষ্ঠানে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন। ১১নং ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক হুমায়ুন কবীর, স্থানীয় ব্যক্তিত্ব আনোয়ার হোসেন, আঃ মতিন, মোঃ অভি সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ নবগঠিত কমিটিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
তারা আশা প্রকাশ করেন, বিদ্যালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে কমিটি যথাযথ ভূমিকা রাখবে।
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরিশাল। | 14 October 2026, 6:52 pm
জেলা প্রশাসন ও বিএসটিআই, বরিশাল কর্তৃক বিশ্ব মান দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে অদ্য সকাল ১১:০০ ঘটিকায় বরিশাল সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ বছর বিশ্ব মান দিবসের প্রতিপাদ্য “Shared vision for a better world ∑ Affordable and Clean Energy” অর্থাৎ “অভিন্ন লক্ষ্য উন্নত বিশ্ব ∑ সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি”। পবিত্র ধর্ম গ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে সভা শুরু হয়।
স্বাগত বক্তব্যে বিএসটিআই, বরিশালের উপপরিচালক ও অফিস প্রধান জনাব মোঃ হাবিবুর রহমান, মানের সংজ্ঞা, মানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য, সাশ্রয়ী জ্বালানী ব্যবস্থা ও মান নিয়ন্ত্রণে বিএসটিআই’র ভুমিকা এবং ভোক্তার সচেতন চোখই মানের ব্যাপারে সবচেয়ে বড় সার্ভিল্যান্স ক্যামেরা উল্লেখ করে পন্য ও সেবার মানকে আর্ন্তজাতিক বাজারে তুলে ধরার আহ্বান জানান।
সভার প্রধান অতিথি জনাব খলিল আহমেদ, বিভাগীয় কমিশনার, বরিশাল বিভাগ, বরিশাল জীবনের সকল ক্ষেত্রে মান ও সঠিক পরিমাপের অনুশীলন করার দিক নির্দেশনা প্রদান করেন এবং ভেজালমুক্ত পণ্য উৎপাদন ও ভোক্তার নিকট সরবরাহ/ বিক্রিতে মানবিক মানুষ হওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় বিশেষ অতিথি জনাব আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্, পুলিশ কমিশনার বরিশাল তার গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে জীবনের প্রতি ক্ষেত্রে নৈতিকতা চর্চা এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সঠিক মান রক্ষার পরামর্শ দেন।
সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি জনাব সালমা পারভীন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), বরিশাল বলেন পণ্য ও সেবার মান বজায় রাখার জন্য বিএসটিআইসহ সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, বেসরকারি, ও শিল্প প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন ব্যবসা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এবং মহানগরীর গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) অধীনে ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজিতে (আইইটি) রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে কলেজটির বিদ্যমান আইনি কাঠামো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ বিস্তারিত প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের শিক্ষকসংকট, প্রশাসনিক জটিলতা ও একাডেমিক অস্থিতিশীলতা নিরসনের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ছাড়াও ফরিদপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউটে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ৫ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের কারিগরি শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত চিঠি জারি করা হয়।
চিঠিতে চারটি কলেজের বিদ্যমান আইনগত ভিত্তি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রণালয়।
বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া এস এম খালিদ সাইফুল্লাহ মনে করেন, কলেজটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউটে রূপান্তর করা হলে শিক্ষকসংকট ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনের পথ তৈরি হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে কলেজটির কার্যক্রমে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ও বিশ্ববিদ্যালয়—দুই প্রশাসনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। ইনস্টিটিউটে রূপান্তর করা হলে একক প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে। এতে ইউজিসির নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের শিক্ষকসংকট দূর করা সম্ভব হবে।
খালিদ সাইফুল্লাহ আরও বলেন, সেমিস্টারের মাঝপথে যথেচ্ছ শিক্ষক বদলি বন্ধ করে একাডেমিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা যাবে। পাশাপাশি বিদ্যমান অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে নেভাল আর্কিটেকচার বিভাগ চালু করা সম্ভব হবে। দক্ষ ল্যাব জনবল নিয়োগের মাধ্যমে শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়সংকটও দূর করা যাবে।
বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউটে রূপান্তরিত হলে এর একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাঠামোয় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে ডিগ্রি প্রদান, পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, পরীক্ষা পরিচালনা, শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা কীভাবে পরিচালিত হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান পর্যালোচনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে বর্তমান শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম কীভাবে চলবে এবং রূপান্তরের ক্ষেত্রে তাঁদের জন্য কী ব্যবস্থা রাখা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে রূপান্তরের নির্দিষ্ট সময়সীমা কিংবা বাস্তবায়নের বিস্তারিত প্রক্রিয়া উল্লেখ করা হয়নি। বরং বিদ্যমান আইনি কাঠামো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পদক্ষেপসহ প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ, চারটি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউটে রূপান্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। আপাতত এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তি, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও করণীয় নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহযোগী অধ্যাপক মো. লিটন রাব্বানী বলেন, বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মন্ত্রণালয় ইউজিসিকে চিঠি দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ইউজিসি থেকে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজিতে রূপান্তরের প্রস্তাবটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের অংশ। মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।