Junaed siddiki
৫ জুলাই ২০২৪, ৩:৫৭ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

সারা দিন পোলা-মাইয়ারা আসে, বাজে কাম করে ট্যাহা দিয়া

ঢাকায় অক্সিজেনের বড় আধার মিরপুরের জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান বা বোটানিক্যাল গার্ডেন। যার উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষা গবেষণা ও উদ্ভিদ সংরক্ষণে কাজ করা। তবে সবকিছু থেকে অনেকটা দূরে রয়েছে এ উদ্যান। শিক্ষা গবেষণা দূরে থাক, উদ্যানটি রীতিমতো পরিণত হয়েছে অশ্লীলতা আর মাদকের ভূস্বর্গে। এমন কার্যক্রম বন্ধে কর্র্তৃপক্ষের রয়েছে উদাসীনতা। শুধু উদ্যান জুড়ে রয়েছে দায়সারা সচেতনতামূলক প্রচারণা।

 

উদ্যানের ভেতরে সাইনবোর্ডে অশ্লীলতা পরিহার করার কথা বললেও ভেতরে ঠিকই তা চলে। জানা গেছে, উদ্যানের ভেতরে প্রতি দুজন ছেলেমেয়েকে বিশেষ ব্যবস্থায় সময় কাটানোর ব্যবস্থা করে দিতে জায়গাভেদে নেওয়া হয় ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা। যেখানে সাধারণভাবে ভেতরে প্রবেশ করতে লাগত ২০ টাকা। অন্যদিকে শরীরচর্চায় উদ্যানে যেতে ছিল না কোনো ধরাবাঁধা সময়। বছরপ্রতি করতে হতো ১ হাজার টাকার কার্ড। তবে সব নিয়ম পাল্টে গেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে।

 

 

নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ১২ বছরের ঊর্ধ্ব বয়সীদের ১০০ টাকার বিনিময়ে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এবং ১২ বছরের কমবয়সীদের জন্য ৫০ টাকা দিয়ে উদ্যানে থাকতে পারবেন। এ ছাড়া শরীরচর্চার জন্য বার্ষিক ৫০০ টাকার বিনিময়ে কার্ড করতে হবে। তবে থাকা যাবে শুধু সকাল ৬টা থেকে ৭টা পর্যন্ত।

 

 

সূত্রমতে, প্রতি বছর টেন্ডারের মাধ্যমে ইজারাদার নির্বাচন করা হয়। যাদের কাছে নির্ধারিত অর্থের বিনিময়ে হস্তান্তর করা হয় টিকিট বিক্রির প্রক্রিয়া। পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বারবার মেসার্স সাগর এন্টারপ্রাইজ নামের একই প্রতিষ্ঠান ইজারা পেয়ে থাকে এ টিকিট বিক্রির। ২০২৪ সালের ইজারা পেতে দিতে হয়েছে ৩ কোটি টাকারও বেশি। প্রশ্ন উঠেছে, প্রতিদিন কী পরিমাণ দর্শনার্থী আসেন উদ্যানে? এ দর্শনার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া টাকায় কর্মীদের কীভাবে বেতন পরিশোধ করা হয় এ জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে? যদিও কর্তৃপক্ষ এ সংক্রান্ত কোনো ডেটা দেখাতে পারেনি।

 

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি ইজারাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাগর এন্টারপ্রাইজের কাউকে।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উদ্যানে কাজ করা স্থানীয় এক নারী বলেন, ‘সারা দিন পোলা-মাইয়ারা আসে। বাজে কাম করে ট্যাহা দিয়া। ভিতরের ব্যাডারা এই ট্যাহা নেয়। কেউ ফডু তুলতে গেলে মাইরও খায়। এর লাইগ্যা কেউ কথা কয় না।’

 

মিরপুরের এক বাসিন্দা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শরীরচর্চা করতে আমাদের নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়ে সারা দিন অশালীন কর্মকা-কে প্রমোট করে সেখান থেকে বাড়তি আয় করে সংশ্লিষ্টরা। তাই শরীরচর্চাকারীদের ফ্রেমে আটকে রাখতে চাচ্ছে তারা। এ ছাড়া সাধারণ মানুষ এত টাকা দিয়ে ভেতরে যাবে না। যারা অসামাজিক কাজ করতে আসে, তারা ১০০ টাকা নয়, এর বাইরেও টাকা দিয়ে যাবে।’

 

 

মিরপুর-১-এ থাকা আরেক বাসিন্দা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বার্ষিক কার্ড করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা দিতে পারেনি। উল্টো বলল ৫০০ টাকার কার্ড নিতে, যা দিয়ে সকাল ৬টা থেকে ৭টা পর্যন্ত থাকা যাবে উদ্যানে। অথচ আমি আমার সন্তানকে স্কুলে দিয়ে ৮টায় ব্যায়াম করতে যেতাম। কিন্তু এখন তা সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া বিকেলে যারা ব্যায়াম করেন তারা কোনো কার্ড পাচ্ছেন না। উল্টো কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রতিদিন ১০০ টাকা দিয়ে ব্যায়াম করতে হবে।’

 

উদ্যানে প্রবেশ মূল্য বাড়ানোর প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন। তারা বলছে, ঢাকায় দিন দিন সবুজের পরিমাণ কমছে। শিশুরা সবুজ দেখতে পায় না। তার মধ্যে এত ফি বাড়ানো শিশুদের বিকাশকেও বাধাগ্রস্ত করবে। তাই এটির প্রত্যাহার প্রয়োজন।

 

এদিকে দেশ রূপান্তরের অনুসন্ধানে জানা গেছে, বোটানিক্যাল গার্ডেনের গহিন অংশে ছেলেমেয়েদের বিশেষ মুহূর্তে কাটানোর ব্যবস্থা করে অর্থ আদায় করা হয়। এ ছাড়া উদ্যানে কাজ করা কর্মীরা নারীসঙ্গী সাপ্লাইও দিয়ে থাকে। উদ্যানের ভেতরে রয়েছে দোকানপাট। যেখানে খাবারের পাশাপাশি রয়েছে ধূমপানের ব্যবস্থা। যদিও কাগুজে নিয়ম অনুযায়ী উদ্যানে ধূমপান এমনকি আগুন সম্পর্কিত কিছুই ব্যবহার করবার সুযোগ নেই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইউনিফর্ম পরে উদ্যানে প্রবেশের অনুমতি না থাকলেও সবই চলছে এখানে। কেউ এ নিয়ে কথা বলতে গেলে উল্টো আনসার দিয়ে ভয় দেখানোরও চেষ্টা করা হয়। অন্যদিকে উদ্যানের ভেতরে বেশ কিছু পকেটগেট রয়েছে, যা দিয়ে মাদক সেবন ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনাও ঘটে।

 

এমন সব তথ্য নিয়ে একটি ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে দেশ রূপান্তরের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে, যা নজরে আসে উদ্ভিদ উদ্যান পরিচালক শওকত ইমরান আরাফাতসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের।

 

উদ্যানের এমন পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয় শওকত ইমরান আরাফাতের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি নতুন দায়িত্ব পেয়েছি। সবকিছুতেই পরিবর্তন আসবে। শুধু একটু সময় প্রয়োজন। দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদন আমাদের নজরে এসেছে। অশ্লীলতা বন্ধ করতে দ্রুতই উদ্যানে সিসি ক্যামেরা লাগানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আমরা চিহ্নিত করা শুরু করেছি কারা এগুলোর সঙ্গে যুক্ত। যারাই যুক্ত হবে তাদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। ইতিমধ্যে আনসার কমান্ডারকে বদলি করা হয়েছে।’

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘বড় পরিবর্তন আসবে এ উদ্যানে। তাছাড়া টিকিটের মূল্য কমাতে আমি মন্ত্রণালয়ে পুনর্বিবেচনার জন্য প্রস্তাবও করেছি। উদ্ভিদ উদ্যানের মূল ফটকেও আসবে পরিবর্তন। এ ছাড়া ভেতরে যুক্ত হবে ম্যানগ্রোভ কর্নার ও মুক্তিযুদ্ধে গেরিলা যোদ্ধাদের স্মৃতি স্মরণে প্রাকৃতিক স্থাপনা।’

 

 

Facebook Comments Box

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বরিশাল জেলার শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ নির্বাচিত বিএম কলেজের প্রফেসর ড. শেখ মো. তাজুল ইসলাম

বিএম কলেজে অধ্যায়নরত হিজলা-মুলাদি-বাবুগঞ্জ-কাজিরহাট শিক্ষার্থী কল্যান পরিষদের কমিটি প্রকাশ

আমতলীতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় নাগরিক সংলাপ

বরিশালে অনুষ্ঠিত হলো ‘English Carnival 2026’

সিরিয়াল পেতে অতিরিক্ত টাকা দাবির অভিযোগ, বরিশাল মেডিনোভার সেবায় অসন্তোষ

বিএম কলেজে বার্ষিক সাময়িকী ‘অনুরণন’-এর মোড়ক উন্মোচন

বরিশাল সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নানা ঘাটতি, টিআইবির সঙ্গে মতবিনিময়

বিএম কলেজ রোভার স্কাউট গ্রুপের জমকালো আয়োজনে নবীনবরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন

বিএম কলেজে ছাত্র অধিকার পরিষদের আয়োজনে নবীন বরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

আমতলীতে পিএম ইন্টারন্যাশনালের নিবন্ধিত ৭৪১ শিশুর মাঝে বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ

১০

ডিসেম্বরকে টার্গেট করে সক্রিয় হচ্ছে আওয়ামীলীগ

১১

ইয়াসের উদ্যোগে সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সচেতনতা প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

১২

বিএম কলেজের উপাধ্যক্ষ৷ আবুল কালাম আজাদর নিয়োগ আদেশ বাতিল

১৩

নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে: টিআইবি

১৪

বিএম কলেজে ‘মিটআপ উইথ শায়েখে চরমোনাই’ ও জুলাই স্মরণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

১৫

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ইয়াসের আয়োজনে বৈদারাপুরে সচেতনতামূলক সেমিনার

১৬

ফের ক্রেতার সাথে খারাপ ব্যবহার “জেমি কর্ণার’র কর্মচারীর

১৭

আগাছানাশক ‘প্যারাক কোয়াট’: বিশ্বজুড়ে নিষিদ্ধ হলেও বাংলাদেশে অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, বাড়ছে প্রাণহানি:

১৮

প্রাণঝুঁকি আর মৃত্যুফাঁদে বসবাস করছে বিএম কলেজের ডিগ্রি হলের শিক্ষার্থীরা

১৯

আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন আজ

২০
📰 পুরো পাতায় পড়ুনPDF