সামাজিক সংগঠন থেকে পেশাগত জীবনে, এক দশকের অভিজ্ঞতায় এগিয়ে চলেছেন ঝালকাঠির সাব্বির হোসেন রানা

ঝালকাঠির ছেলে সাব্বির হোসেন রানা। সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া তাঁর পথচলায় যুক্ত হয়েছে স্বেচ্ছাসেবা, সাংগঠনিক নেতৃত্ব, মানবিক কার্যক্রম, প্রযুক্তি এবং উদ্যোক্তা হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা। ২০১৬ সাল থেকে বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে যুক্ত থেকে নানা দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বর্তমানে চাকরির সুবাদে ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং একটি প্রতিষ্ঠানে আইটি এক্সিকিউটিভ হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত জাগো সেন্টার ফর হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ছিল তাঁর প্রথম সামাজিক সংগঠন। স্থানীয় এই সংগঠনে প্রথমে সদস্য এবং পরবর্তীতে প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। মূলত এই সংগঠনের মাধ্যমেই সামাজিক সংগঠনে কাজ করার প্রাথমিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
এরপর ২০১৮ সালে পাঠক সংগঠন প্রথম আলো বন্ধুসভার ঝালকাঠি শাখায় যুক্ত হন সাব্বির হোসেন রানা। সেখানে ভারপ্রাপ্ত তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তাঁর সাংগঠনিক পথচলা শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক, ২০২১ ও ২০২২ সালে সাধারণ সম্পাদক এবং ২০২৩ সালে সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বন্ধুসভার দায়িত্ব পালনকালে একুশের প্রথম প্রহর নামের একটি ম্যাগাজিন সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন তিনি। সাংগঠনিক দায়িত্বের পাশাপাশি সাহিত্য ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডেও তাঁর আগ্রহের পরিচয় পাওয়া যায় এ উদ্যোগে।
২০২০ সালে দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, টিআইবির ইয়েস গ্রুপে যুক্ত হন তিনি। সেখানে কাজের মাধ্যমে সুশাসন, নাগরিক সচেতনতা ও দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট, ইয়েস গ্রুপের লিডার হিসেবে ২০২২ সালের জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া অ্যাকটিভ সিটিজেনস গ্রুপের ভূমি টিমের সদস্য হিসেবেও কিছুদিন কাজ করেছেন।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবেও মাঠপর্যায়ে কাজ করেছেন সাব্বির। এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঘটক ও পুরোহিতদের সচেতন করা, ইউনিয়নভিত্তিক সভা সেমিনার আয়োজন এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেন তিনি।
তাঁর সাংগঠনিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ইয়ুথ অ্যাকশন সোসাইটি, ইয়াস। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় এবং ২০২০ সালের ১৭ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে এর যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠালগ্নে আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব এবং পরবর্তীতে কার্যনির্বাহী পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
বর্তমানে সংগঠনটি ঝালকাঠির স্থানীয় সমস্যা চিহ্নিতকরণ, সামাজিক উন্নয়ন এবং যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্প ও পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। সংগঠনটি সমাজসেবা অধিদপ্তর ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধিত।
করোনাকালীন সংকটময় সময়ে ইয়াসের উদ্যোগে কুইক অক্সিজেন রেসপন্স টিম গঠন করে বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবা প্রদান করা হয়। এছাড়া স্বাবলম্বী প্রজেক্ট, শিশুদের মুখে রঙিন হাসি, সাক্ষরতা দূরীকরণে সাপ্তাহিক ক্যাম্পসহ বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে সংগঠনটি। স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানে নানা উদ্যোগ গ্রহণেও সংগঠনটির কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
ইয়াসের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে ইউনিসেফ, ইয়াস ব্লাড ব্যাংক, ৭১ এর চেতনা, ডিওয়াইডিএফ এবং বিডি ক্লিনের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। এসব সংগঠনে কাজের পাশাপাশি ঝালকাঠি জেলা পর্যায়ে আইটি কোঅর্ডিনেটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
মানবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ পর্যন্ত ১১ বার স্বেচ্ছায় রক্তদান করেছেন সাব্বির হোসেন রানা। রক্তদানে আগ্রহ থেকেই বিভিন্ন রক্তদাতা সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন এবং একাধিক সংগঠনে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিক্ষণ ব্লাড রিজার্ভেশন অব বাংলাদেশের ঝালকাঠি শাখার সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি পেশাগত জীবনেও রয়েছে তাঁর বিভিন্ন অভিজ্ঞতা। বর্তমানে ঢাকায় HEMA নামের একটি প্রতিষ্ঠানে আইটি এক্সিকিউটিভ হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৭ সাল থেকে হেলথকেয়ার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে কাজ করে আসছে।
এর আগে ইউএনডিপির ল্যান্ড প্রজেক্টে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। এছাড়া ঝালকাঠি জজ কোর্ট, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রেকর্ড রুম এবং নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন প্রকল্পে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ডাটা এন্ট্রি পদে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
উদ্যোক্তা হিসেবেও নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন সাব্বির হোসেন রানা। ঝালকাঠিতে শখের সওদা নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কয়েক বছর সফলতার সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে উদ্যোক্তা হিসেবেও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তিনি।
সামাজিক সংগঠন থেকে শুরু করে স্বেচ্ছাসেবা, মানবিক কার্যক্রম, সাংগঠনিক নেতৃত্ব, প্রযুক্তি এবং উদ্যোক্তা কার্যক্রম, প্রতিটি ক্ষেত্রেই কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন সাব্বির হোসেন রানা। ঝালকাঠি থেকে শুরু হওয়া তাঁর এই পথচলা বর্তমানে বিস্তৃত হয়েছে রাজধানী ঢাকার পেশাগত জীবনেও।
|
৩১ অক্টোবর, ২০২৬









