বরিশাল-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আবদুল জব্বারের সমর্থকদের ওপর বার বার হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রার্থীর প্রধান এজেন্ট সৈয়দ গুলজার আলম।
আজ মঙ্গলবার বিকেল তিনটায় বরিশাল প্রেসক্লাব হলরুমে এই সংবাদ সম্মেলন হয়।
সৈয়দ গুলজার আলম তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, “নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিন সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় আন্দারমানিক ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বেে ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের কলকুঠি মাদরাসা এলাকায় প্রচারণা করছিল। তখন স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা তাদেরকে বাধা দেয়। এ নিয়ে জামায়াত নেতা-কর্মীরা প্রতিবাদ করলে পাশে বিএনপি অফিসের মধ্য থেকে লাঠিসোটা এনে তাদের ওপর বেধরক হামলা চালায় বিএনপি কর্মীরা। হামলায় নেতৃত্ব দেয় মোফাজ্জেল দেওয়ান, মোহাম্মদ আলী, আয়নাল মাঝি, আনোয়ার হাওলাদার সহ আরও ২৫/৩০ জন। বিএনপির নেতা-কর্মীরা জামায়াতের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে থাকা ১২টি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে খালে ফেলে দেয় এবং একটি মোটরসাইকেল হামলাকারীরা নিয়ে যায়। এ সময় লাঠির আঘাতে কয়েকজনের মাথা ফেটে গুরুতর আহত হয় এবং এক জনের পা ভেঙে যায়। আহত কয়েকজন পাশের চায়ের দোকানে আশ্রয় নিলে সেখানেও তারা হামলা চালায়। এক পর্যায়ে জামায়াত নেতা-কর্মীরা সেনাবাহিনী ফোন দিলে সেনাবাহিনী এসে তাদেরকে উদ্ধার করে।”
সৈয়দ গুলজার আলম আরও বলেন, “আহতদের মধ্যে আশঙ্কাজনক দুজনকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়, বাকি পাঁচজনকে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর আগেও গত ২ ফেব্রুয়ারি হামলাকারী মোহাম্মদ আলীসহ ধানের শীষের কর্মী বেলাল দাই, নাসির মৃধা, দুলাল খান, জুলহাস সিকদার, মফিজ হাওলাদার, শহিদ বিশ্বাস, মুনছুর মিয়া, মনির দেওয়ান, আল আমিন খান, নূরুল ইসলাম, মোজাম হাওলাদার, আলাউদ্দিন আলী রানা, নাসির উজ্জ্বলসহ তাদের ১৫/২০ জন সন্ত্রাসীরা আমাদের মহিলা কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছিল। সে ঘটনায় তখন কাজিরহাট থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল, কিন্ত পুলিশ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় পুনরায় এই হামলার ঘটনা ঘটলে।”
সৈয়দ গুলজার আরও বলেন, “এসব ঘটনায় বার বার লিখিত অভিযোগ দিয়েও আমরা কোনো প্রতিকার পাইনি। উল্টো আমাদের ধানের শীষের নেতাকর্মীরা আমাদের সমর্থকরেদকে হুমকি ধামকি দিয়ে বেড়াচ্ছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এহেন কাজ নিশ্চিতরুপে সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”
এ সময় দৈনিক সংগ্রামের ব্যুরো চিফ শাহে আলম, নির্বাচনী মিডিয়া কমিটির সমন্বয়ক মুজাহিদুল ইসলাম ইউসুফ ও সালেহ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন