সদ্য বিদায়ী ঈদুল ফিতরে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াতে সড়কে ৩১৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ৩২২ জন নিহত ও ৮২৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ
সমিতি আরও জানায়, একই সময়ে রেলপথে ২১টি দুর্ঘটনায় ২০ জন নিহত, ৮ জন আহত হয়েছেন। নৌ-পথে ৪টি দুর্ঘটনায় ১০ জন নিহত, ১ জন আহত ও ১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সর্বমোট ৩৪০টি দুর্ঘটনায় ৩৫২ জন নিহত ও ৮৩৫ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (৯ এপ্রিল) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন এ তথ্য জানান সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।
তিনি জানান, ঈদযাত্রা শুরুর দিন ২৪ মার্চ থেকে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ১৫ দিনে ৩১৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২২ জন নিহত ৮২৬ জন আহত হয়েছেন। ২০২৪ সালের ঈদুল ফিতরে ৩৯৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০৭ জন নিহত ও ১৩৯৮ জন আহত হয়েছিলেন। আগের বছরের সঙ্গে তুলনা করলে এবারের ঈদে সড়ক দুর্ঘটনা ২১.০৫ শতাংশ, প্রাণহানী ২০.৮৮ শতাংশ ও আহত ৪০.৪১ শতাংশ কমেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বরাবরের মতো এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। এবারের ঈদে ১৩৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫১ জন নিহত ও ১৫৫ জন আহত হয়েছেন। যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৪২.৮৫ শতাংশ, নিহতের ৪৬.৮৯ শতাংশ এবং আহতের ১৮.৭৬ শতাংশ প্রায়।
এই সময় সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ৭০ জন চালক, ৪৭ জন পরিবহন শ্রমিক, ৫০ জন পথচারী, ৬০ জন নারী, ৪০ জন শিশু, ৩৩ জন শিক্ষার্থী, ২০ জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ৬ জন শিক্ষক, ৪ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, এক জন সাংবাদিকের পরিচয় মিলেছে।
সংগঠিত দুর্ঘটনা বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট যানবাহনের ৩২.২৭ শতাংশ মোটরসাইকেল, ১৬.৫৬ শতাংশ বাস, ১৪.৮৬ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা, ১৪.৪৩ শতাংশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান, ৮.০৬ শতাংশ কার-মাইক্রো, ৭.২১ শতাংশ নছিমন-করিমন ও ৬.৫৮ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা এসব দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল।
দুর্ঘটনার ২৭.৩০ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৪২.২২ শতাংশ পথচারীকে গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা, ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ার ঘটনা, ১.৫৮ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনে, ০.৩১ শতাংশ চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে ও ৮.৫৭ শতাংশ অন্যান্য অজ্ঞাত কারণে দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে।
দুর্ঘটনার ধরণ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট সংঘটিত দুর্ঘটনার ৩৮.৪১ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ২১.২৬ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ৩৪.৬০ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়। এছাড়াও সারাদেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৩.৪৯ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ০.৬৩ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও ১.৫৮ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংগঠিত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলন মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, প্রতিবছর ঈদকেন্দ্রিক সড়ক দুর্ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় সংগঠনটি ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানীর বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে পর্যবেক্ষণ করে আসছে। তবে এবার দীর্ঘ ছুটির কারণে ধাপে ধাপে বাড়ি ফেরার সুযোগ হওয়ায় ঈদযাত্রা স্বস্থিদায়ক হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা কিছুটা কমেছে বলে সংগঠনের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।
তিনি বলেন, পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে দেশের সড়ক-মহাসড়কের অবস্থা আগের তুলনায় ভালো থাকায়, সরকারের বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএ, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, হাইওয়ে পুলিশ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কার্যক্রম ছিল যাত্রীবান্ধব ও দৃশ্যমান। উল্লেখ্য, যাত্রীসাধারণ অসংগঠিত ও সচেতন না হওয়ায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য ও পথে পথে যাত্রী হয়রানি চরমে পৌঁছেছিল। গণপরিবহনগুলোতে ঈদকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্যর কারণে বাসের ছাদে, ট্রেনের ছাদে, খোলা ট্রাকে, পণ্যবাহী পরিবহনে যাত্রী হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দরিদ্র লোকজনদের ঈদে বাড়ি যেতে হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে— দেশের সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা, অটোরিকশা অবাধে চলাচল; জাতীয় মহাসড়কে রোড সাইন বা রোড মার্কিং, সড়কবাতি না থাকায় হঠাৎ ফিডার রোড থেকে যানবাহন উঠে আসা; সড়কে মিডিয়ামে রোড ডিভাইডার না থাকা, অন্ধবাঁকে গাছপালায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি; মহাসড়কের নির্মাণ ক্রটি, যানবাহনের ক্রটি, ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা; উল্টোপথে যানবাহন, সড়কে চাদাঁবাজি, পণ্যবাহী যানে যাত্রী পরিবহন; অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত যাত্রীবহন এবং বেপরোয়া যানবাহন চালানো এবং একজন চালক অতিরিক্ত সময় ধরে যানবাহন চালানো।
দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সুপারিশগুলো হচ্ছে— মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশা আমদানি ও নিবন্ধন বন্ধ করা; জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে রাতের বেলায় অবাধে চলাচলের জন্য আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা; দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ, যানবাহনের ডিজিটাল পদ্ধতিতে ফিটনেস প্রদান; গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়কে সার্ভিস লেনের ব্যবস্থা করা; সড়কে চাদাঁবাজি বন্ধ করা, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা সুনিশ্চিত করা; মহাসড়কে ফুটপাত ও পথচারী পারাপারের ব্যবস্থা রাখা, রোড সাইন, রোড মার্কিং স্থাপন করা; সড়ক পরিবহন আইন যথাযতভাবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রয়োগ করা; উন্নতমানের আধুনিক বাস নেটওর্য়াক গড়ে তোলা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা; মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও মেরামত সুনিশ্চিত করা, নিয়মিত রোড সেফটি অডিট করা; মেয়াদোত্তীর্ণ গণপরিবহন ও দীর্ঘদিন যাবৎ ফিটনেসহীন যানবাহন স্ক্যাপ করার উদ্যোগ নেওয়া এবং ঈদের ছুটি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সমিতির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ জকরিয়া, যুগ্ন মহাসচিব তাওহীদুল হক লিটন, অর্থ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রাসেল, প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাসুদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ রফিকা আফরোজ, মোহাম্মদ আরিফ, মনজুর হোসের ইশা প্রমুখ।
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরিশাল। | 12 October 2026, 11:38 pm
বরিশাল সদর উপজেলার ০৯ নম্বর টুংঙ্গিবাড়িয়া ও ০৮ নম্বর চাঁদপুরা ইউনিয়নে একই পরিবারের দুই ভাইয়ের সার ডিলারশিপ পাওয়া নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। বড় ভাই বাবুল খন্দকার বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। তাঁর দুই ভাই সিরাজ খন্দকার ও শাহ আলম খন্দকার পৃথক দুটি ইউনিয়নে সার ডিলারশিপ পেয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া, যোগ্যতা যাচাই এবং সরকারি নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খন্দকার পরিবারের মূল বাড়ি ভোলা জেলায়। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারটি বরিশাল সদর উপজেলার টুংঙ্গিবাড়িয়া ইউনিয়নে বসতি স্থাপন করে। বাবুল খন্দকারের রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের বিষয়টি সামনে রেখে তাঁর ছোট ভাই সিরাজ খন্দকার টুংঙ্গিবাড়িয়া ইউনিয়নে সার ডিলারশিপ পেয়েছেন। অন্যদিকে, আরেক ভাই শাহ আলম খন্দকার চাঁদপুরা ইউনিয়নের কুন্দিয়ালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় দিয়ে ‘খন্দকার স্টোর’ নামে সার ডিলারশিপ নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৫’ এবং পরবর্তী সংশোধিত নির্দেশনায় ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণে স্বচ্ছতা, যোগ্যতা যাচাই এবং একই পরিবারের একাধিক ডিলারশিপের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণভাবে উঠে এসেছে। ২০২৫ সালের নীতিমালায় একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে ডিলার নিয়োগের সুযোগ রহিত করার কথা বলা হয়েছিল। পরবর্তী সংশোধিত নীতিমালা ও ২০২৬ সালের নির্দেশনাও এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত একই পরিবারের একাধিক সদস্যের ডিলারশিপ নিষিদ্ধ করার বিধানের ওপর হাইকোর্টের স্থিতাবস্থার আদেশ স্থগিত করেন বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট নিয়োগের ক্ষেত্রে কার্যকর নীতিমালা, আদেশের সময়কাল এবং প্রযোজ্য শর্ত যাচাই করা জরুরি।
অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয়দের প্রশ্ন, একই পরিবারের দুই ভাই পৃথক দুটি ইউনিয়নে সার ডিলারশিপ পেয়ে থাকলে তাঁদের নিয়োগের ক্ষেত্রে পারিবারিক সম্পর্ক,আবেদনকারীদের স্থায়ী ঠিকানা, ব্যবসায়িক যোগ্যতা, গুদাম ও অন্যান্য শর্ত কীভাবে যাচাই করা হয়েছে? একই সঙ্গে, ডিলার নিয়োগে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব কোনো ভূমিকা রেখেছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
কৃষকদের জন্য সরকার-নির্ধারিত মূল্যে সার সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ডিলার নিয়োগে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং যোগ্য আবেদনকারীদের ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ব্যাপারে নিয়োগ পাওয়া স্যার ডিলার খন্দকার শাহআলম ও খন্দকার সিরাজ প্রতিবেদককে জানান, আমরা সরকারি নিয়ম নীতি মেনেই ডিলারশিপ পেয়েছি।
ঝালকাঠির নলছিটি থেকে স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের যাত্রা শুরু করে জাতীয় পর্যায়ে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি অর্জন করেছেন মো. খালেদ সাইফুল্লাহ। শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অবদানের জন্য তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় প্রদত্ত ‘Youth Volunteer Award 2025’ অর্জন করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সারাদেশ থেকে নির্বাচিত ১২ জন পুরস্কারপ্রাপ্তের মধ্যে তিনি বরিশাল বিভাগের একমাত্র প্রতিনিধি।
শৈশব থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি সাংগঠনিক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে আগ্রহী ছিলেন খালেদ সাইফুল্লাহ। ঝালকাঠি এনএস কামিল মাদ্রাসায় পড়ার সময় কোরআন তেলাওয়াত, বক্তৃতা, কবিতা আবৃত্তি ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তাঁর আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বের বিকাশ ঘটে। অষ্টম শ্রেণিতে বন্ধুদের নিয়ে ‘মানব উন্নয়ন ফাউন্ডেশন’ গঠন করেন। ছোট পরিসরে সভা, সেমিনার ও সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তাঁর স্বেচ্ছাসেবামূলক পথচলা।
২০১৩ সালে ফিলিস্তিন সংকটের প্রেক্ষাপটে স্থানীয়ভাবে ইসরায়েলি পণ্য বর্জনের প্রচারণায় অংশ নেন তিনি। সংগঠনের কার্যক্রম সচল রাখতে শিক্ষার্থীদের জন্য সাজেশন পুস্তিকা বিক্রির উদ্যোগও গ্রহণ করেন। অষ্টম শ্রেণিতে জেলায় প্রথম স্থান অর্জনসহ ট্যালেন্টপুল বৃত্তি এবং দাখিলে জিপিএ-৫ অর্জন করেন খালেদ।
কলেজজীবনে লেখালেখি ও সংগঠনে সম্পৃক্ততা
কলেজজীবনে তাঁর সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি লেখালেখির প্রতি আগ্রহ বাড়ে। হাতেম আলী কলেজে অধ্যয়নকালে ‘ইসলামিক কালচারাল প্ল্যাটফর্ম’ গড়ে তোলেন। ‘চেতনার খোরাক’ নামে পাণ্ডুলিপি প্রকাশ এবং ‘সোনালী সকাল’ যৌথ কাব্যগ্রন্থে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সাহিত্যচর্চায় যুক্ত থাকেন।
বিতর্ক, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও অধিকারভিত্তিক আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলন ও প্রশ্নফাঁসবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ তাঁর নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করে। পাশাপাশি পাঠক পাঠাগার ও ডিবেটার্স কমিউনিটি অব বরিশালসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কাজ করেন।
করোনাকালে ‘তারুণ্যের নলছিটি’
২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারির সময় তরুণদের সংগঠিত করে নিজ এলাকায় সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন খালেদ সাইফুল্লাহ। তাঁর নেতৃত্বে ‘তারুণ্যের নলছিটি’ শিক্ষা, সবুজায়ন, সামাজিক সচেতনতা, দক্ষতা উন্নয়ন ও তরুণ নেতৃত্ব বিকাশে কাজ করতে থাকে।
কর্মশালা, অলিম্পিয়াড, প্রশিক্ষণ এবং স্থানীয় সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের সামাজিক কাজে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছে সংগঠনটি। বর্তমানে তিনি সংগঠনটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিশিক্ষায় ‘Team STEM’
শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক শিক্ষায় আগ্রহী করে তুলতে ‘Team STEM’ নামে একটি উদ্যোগ গড়ে তোলেন খালেদ সাইফুল্লাহ। কর্মশালা, প্রতিযোগিতা ও বিজ্ঞান প্রদর্শনীর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখার সুযোগ তৈরির চেষ্টা করা হয়।
২০২৪ সালে সেভ দ্য চিলড্রেন আয়োজিত ‘Idea Challenge 2024’-এ জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ী হওয়ার অভিজ্ঞতাকে তিনি নিজের উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিযোগিতায় অর্জিত পুরস্কারের অর্থ দিয়ে নলছিটিতে উদ্ভাবনবিষয়ক কর্মশালা ও STEM প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
খালেদের মতে, মেধা বিকাশের জন্য শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা, বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং নতুন কিছু করার সুযোগ। স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের এমন সুযোগ তৈরি করাই তাঁর উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
লেখালেখি ও সাংবাদিকতায় অবদান
লেখালেখি ও নাগরিক সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও সক্রিয় খালেদ সাইফুল্লাহ। বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কলাম, ফিচার ও চিঠিপত্র লিখেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে প্রায় অর্ধশত পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়েছে।
তাঁর বিশ্বাস, লেখালেখি মানুষের চিন্তা প্রকাশের পাশাপাশি সমাজের সমস্যা, সম্ভাবনা ও তৃণমূলের মানুষের কথা তুলে ধরার শক্তিশালী মাধ্যম। এ ছাড়া ‘পাঠক পাঠাগার’ নামে কমিউনিটি লাইব্রেরির ধারণা নিয়েও কাজ করেছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক পরিসরে তরুণ নেতৃত্ব নিয়ে কাজ
২০২৪ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা Care for Assets, Resources & Obligations (CARO)-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবে কাজ করছেন খালেদ সাইফুল্লাহ। বর্তমানে তিনি সংস্থাটির সাধারণ সম্পাদক।
CARO-এর মাধ্যমে সম্পদ, দায়িত্ব ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতে ন্যায়ভিত্তিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার ধারণা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। সংস্থাটির Universal Governance Framework (UGF), PlayerOne Initiative ও Youth Political Leadership Simulation-এর মতো উদ্যোগে তরুণদের নীতি প্রণয়ন, সমস্যা বিশ্লেষণ ও নেতৃত্বের অনুশীলনের সুযোগ তৈরির চেষ্টা চলছে।
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের তরুণদের মধ্যে নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারণ বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে এসব উদ্যোগ ভূমিকা রাখছে বলে জানান তিনি। তাঁর লক্ষ্য, তরুণদের শুধু পরিবর্তনের প্রত্যাশী হিসেবে নয়, বরং দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হিসেবেও গড়ে তোলা।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি
২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেন খালেদ সাইফুল্লাহ। তাঁর মতে, তরুণদের সম্মিলিত উদ্যোগ ও ঐক্য সমাজে পরিবর্তন আনার শক্তি রাখে। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি অর্জনের পর পুরস্কারটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের উৎসর্গ করেছেন বলে জানান তিনি।
২০২৫ সালে ‘Youth Volunteer Award’ অর্জন তাঁর দীর্ঘদিনের স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। পুরস্কারের সঙ্গে ক্রেস্ট, সনদ ও এক লাখ টাকা সম্মানী দেওয়া হয়। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণের মুহূর্তটি তাঁর জীবনের স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।
তবে এই অর্জনকে তিনি কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবে দেখেন না। বরং স্থানীয় পর্যায়ে তরুণদের সংগঠিত করা, শিক্ষামূলক উদ্যোগ গ্রহণ এবং সামাজিক উন্নয়নে কাজ করার ধারাবাহিকতার স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচনা করেন।
শান্তি প্রতিষ্ঠায় ‘Peace Initiative’
বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগে মাস্টার্স করছেন খালেদ সাইফুল্লাহ। পড়াশোনার পাশাপাশি ‘Peace Initiative’ নামে একটি উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছেন তিনি। উদ্যোগটির মূল ধারণা P.E.A.C.E., যার পূর্ণরূপ Participate, Educate, Act, Connect ও Empower। এর স্লোগান ‘Learn Peace. Live Peace. Lead Peace.’
এই উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে শান্তির শিক্ষা, পারস্পরিক সহমর্মিতা, সংলাপ ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের চর্চা ছড়িয়ে দিতে চান তিনি। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনা এবং বিভেদের পরিবর্তে সহযোগিতার পরিবেশ তৈরিতে তরুণদের সম্পৃক্ত করাই তাঁর লক্ষ্য।
তরুণদের প্রতি খালেদের বার্তা
তরুণদের উদ্দেশে খালেদ সাইফুল্লাহর পরামর্শ, নিয়মিত বই ও পত্রিকা পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে, সহশিক্ষা ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে হবে এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও মতের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে বড় স্বপ্ন দেখা, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ, সততা বজায় রাখা এবং মহান সৃষ্টিকর্তার ওপর আস্থা রেখে কাজ করে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তাঁর মতে, শুধু একাডেমিক সাফল্য একজন তরুণকে পূর্ণাঙ্গভাবে গড়ে তোলে না। বাস্তব অভিজ্ঞতা, সৃজনশীলতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও নেতৃত্বের চর্চাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
নলছিটির স্থানীয় পরিসর থেকে শুরু হওয়া খালেদ সাইফুল্লাহর এই যাত্রা এখন জাতীয় স্বীকৃতি ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত। ভবিষ্যতে শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, স্বেচ্ছাসেবা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার কার্যক্রমকে সমন্বিত করে তরুণদের জন্য আরও কার্যকর প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে চান তিনি।
খালেদ সাইফুল্লাহর প্রত্যাশা, তরুণেরা নিজেদের মেধা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে, যেখানে সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপ, বিভেদের পরিবর্তে সহযোগিতা এবং বৈষম্যের পরিবর্তে ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে।
বরিশাল নগরীর চৌমাথা এলাকায় মহাসড়ক ও ফুটপাত অবৈধভাবে দখল করে পরিচালিত ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। রোববার (১১ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে চৌমাথা বাজারের সামনের অংশ থেকে এ অভিযান শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে বাজারসংলগ্ন এলাকা, সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের সামনের অংশ এবং চৌমাথা লেক এলাকায় উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান উজ জামানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ শাখার প্রধান লতিকুল্লাহ, ট্রেড লাইসেন্স বিভাগের আজিজ শাহীন এবং হাটবাজার শাখার প্রধান রেজাউল উপস্থিত ছিলেন।
বিসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান উজ জামান বলেন, নগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত করে জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে চৌমাথা এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়েছে। নগরীর সড়ক ও ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত রাখার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
নগরীর ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকাও পরিবহনকেন্দ্রসহ অন্যান্য স্থানে অবৈধ দখল ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ে জানতে চাইলে বিসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান উজ জামান বরিশাল টাইমসকে বলেন, “রূপাতলী ও নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় সড়ক ও জনসাধারণের চলাচলের স্থান দখল করে অবৈধ দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এসব স্থানে জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রাখা হবে। পাশাপাশি, উচ্ছেদের পর সড়ক ও ফুটপাত পুনরায় দখলমুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চৌমাথা এলাকায় এর আগেও একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে সিটি করপোরেশন। তবে অভিযান শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই পুনরায় ফুটপাত ও মহাসড়কের অংশবিশেষ দখল করে ব্যবসা পরিচালনার প্রবণতা দেখা যায়। এতে উচ্ছেদ কার্যক্রমের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ফুটপাত দখল থাকায় পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
নগরীর অন্যতম ব্যস্ত এ এলাকায় মহাসড়ক ও ফুটপাতের ওপর অবৈধ দখল স্থায়ীভাবে নিরসনে নিয়মিত তদারকি জোরদার এবং উচ্ছেদ-পরবর্তী সময়ে পুনর্দখল প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করলে ইউক্রেনও রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করতে প্রস্তুত। ১১ অক্টোবর রয়টার্সের প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, উত্তেজনা কমানোর পদক্ষেপ পারস্পরিক হতে হবে এবং কার্যকর নিশ্চয়তা থাকতে হবে। এ বিষয়ে রাশিয়ার অবস্থান ও পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের দিকে নজর রাখা হচ্ছে।
জিবুতির উপকূলে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ১০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নৌকাটিতে ৩০৫ জন ছিলেন; ৮০ জনের বেশি বেঁচে গেছেন এবং আরও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন। পূর্ব আফ্রিকা থেকে ইয়েমেনমুখী অভিবাসনপথে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ রাখার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, রাজধানীর স্কুলগুলোও সাময়িকভাবে অনলাইনে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিমান চলাচল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর সময় পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে জানানো হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শক্তিশালী হারিকেন সাইমন মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের দিকে এগোচ্ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঝড়টির বাতাসের গতি ঘণ্টায় প্রায় ১৫৫ মাইল পর্যন্ত পৌঁছেছে এবং উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কর্তৃপক্ষ সতর্কতা জারি করেছে এবং কিছু এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে।
পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে লক্ষ্য করে হামলার সম্ভাব্য পরিকল্পনা সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। রোববার নিরাপত্তা সংস্থা, পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে জরুরি বৈঠকের কথা জানানো হয়। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত ও নিরাপত্তা মূল্যায়ন চলছে।
দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি কর্মসূচির অগ্রগতি ও ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি প্রশ্ন তুলেছে বলে দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে। লক্ষ্য পূরণে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি, জমি, অর্থায়ন ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামোর বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কমিটির পরবর্তী বক্তব্যে অগ্রগতির বিস্তারিত জানা যাবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২৬ অক্টোবর জাপান সফরের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে দ্য ডেইলি স্টার। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে। সফরের চূড়ান্ত সূচি ও বৈঠকের বিষয়বস্তু সরকারি ঘোষণার ভিত্তিতে নিশ্চিত হবে।