আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে শতাধিক গুম ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিচারকাজ এখন থেকে কারাগারে রেখেই ভার্চ্যুয়ালি পরিচালিত হবে। নিরাপত্তাশঙ্কার কথা বিবেচনায় নিয়ে প্রসিকিউশনের আবেদনে এ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এ মামলার ১৫তম সাক্ষী ও তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামকে জেরা করবেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। গত ৮ অক্টোবর তাঁর জবানবন্দি গ্রহণ শেষ হয়। জবানবন্দিতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পর প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে লোকদেখানো প্রশাসনিক তদন্ত, মিথ্যা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও পুলিশ প্রতিবেদন তৈরির অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি।
প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম জানান, জিয়াউল আহসানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকায় তাঁকে অন্য আসামিদের সঙ্গে একই প্রিজন ভ্যানে করে ট্রাইব্যুনালে আনার পরিবর্তে কারাগারে রেখেই ভার্চ্যুয়ালি বিচারকাজ পরিচালনার প্রস্তাব দেওয়া হয়। ট্রাইব্যুনাল সেই আবেদন মঞ্জুর করেছেন।
মঙ্গলবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১-এ তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করার কথা রয়েছে। জিয়াউল আহসানের পক্ষে আইনজীবী সাহিদুর রহমান, নাজনীন নাহারসহ একটি আইনজীবী প্যানেল আইনি লড়াই করছেন।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। গত ৮ অক্টোবর তৃতীয় দিনের সাক্ষ্যে তাঁর জবানবন্দি শেষ হয়। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে হত্যাকাণ্ডের পর নিয়ন্ত্রিত প্রশাসনিক তদন্তের আশ্রয় নেওয়া হতো। প্রকৃত মৃত্যুর কারণ গোপন করে মিথ্যা ও ভুল ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং পুলিশ প্রতিবেদন তৈরিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বাধ্য করা হতো বলেও দাবি করেন তিনি।
তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব তদন্তের উদ্দেশ্য ছিল প্রকৃত অপরাধীদের দায়মুক্তি নিশ্চিত করা। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
প্রসিকিউশন জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছে। প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুরের সদর থানার পুবাইলে সড়কের পাশে তাঁর সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ তিনজনকে হত্যা করা হয়।
দ্বিতীয় অভিযোগে ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের চরদুয়ানী খালসংলগ্ন বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল, মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তৃতীয় অভিযোগে একই সময়ে তথাকথিত বনদস্যু দমনের আড়ালে আরও ৫০ জনকে হত্যার কথা বলেছে প্রসিকিউশন। অভিযোগ অনুযায়ী, বরগুনার বলেশ্বর নদী ও বাগেরহাটের শরণখোলায় সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় এসব হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ অভিযোগে মাসুদসহ ৫০ জনের প্রাণ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম বলেন, আগের শুনানিতে জিয়াউল আহসান নিজের জীবননাশের আশঙ্কা জানিয়ে একটি আবেদন করেন। কারাগার থেকে তাঁকে যে প্রিজন ভ্যানে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়, সেটির পরিবর্তে অন্য আসামিদের সঙ্গে একই প্রিজন ভ্যানে আনার আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি।
তামীমের ভাষ্য, জিয়াউল আহসানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে প্রসিকিউশন একমত হলেও অন্য আসামিদের সঙ্গে একই ভ্যানে আনার আবেদনে আপত্তি জানায়। কারণ, এ ধরনের ঝুঁকি তৈরি হলে একই গাড়িতে থাকা অন্য বন্দি ও আসামিদের নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে তাঁকে ট্রাইব্যুনালে না এনে কারাগার থেকে ভার্চ্যুয়ালি হাজির করার প্রস্তাব দেয় প্রসিকিউশন। তামীম জানান, কারাগার ও ট্রাইব্যুনালে এ ধরনের শুনানির জন্য প্রয়োজনীয় অডিও-ভিজ্যুয়াল ব্যবস্থা রয়েছে। এর মাধ্যমে জিয়াউল আহসান বিচারকের বক্তব্য, দুই পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শুনতে পারবেন এবং নিজের বক্তব্যও আদালতে তুলে ধরতে পারবেন।
করোনাকালে ভার্চ্যুয়ালি আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার নজিরও তুলে ধরেন এই প্রসিকিউটর। তাঁর মতে, প্রচলিত আইন ও ট্রাইব্যুনাল আইনের বিধান অনুসরণ করে কারাগার থেকেই বিচারপ্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগ আমলে নেন। একই দিন তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরে ২৩ ডিসেম্বর তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
এখন তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মধ্য দিয়ে মামলার পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম এগোবে। নিরাপত্তাশঙ্কার কারণে আসামিকে কারাগারে রেখেই ভার্চ্যুয়ালি বিচারকাজ পরিচালনার সিদ্ধান্তের মধ্যে দিয়ে মামলাটির শুনানি নতুন ব্যবস্থায় শুরু হচ্ছে।
বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) অধীনে ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজিতে (আইইটি) রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে কলেজটির বিদ্যমান আইনি কাঠামো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ বিস্তারিত প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের শিক্ষকসংকট, প্রশাসনিক জটিলতা ও একাডেমিক অস্থিতিশীলতা নিরসনের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ছাড়াও ফরিদপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউটে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ৫ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের কারিগরি শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত চিঠি জারি করা হয়।
চিঠিতে চারটি কলেজের বিদ্যমান আইনগত ভিত্তি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রণালয়।
বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া এস এম খালিদ সাইফুল্লাহ মনে করেন, কলেজটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউটে রূপান্তর করা হলে শিক্ষকসংকট ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনের পথ তৈরি হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে কলেজটির কার্যক্রমে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ও বিশ্ববিদ্যালয়—দুই প্রশাসনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। ইনস্টিটিউটে রূপান্তর করা হলে একক প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে। এতে ইউজিসির নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের শিক্ষকসংকট দূর করা সম্ভব হবে।
খালিদ সাইফুল্লাহ আরও বলেন, সেমিস্টারের মাঝপথে যথেচ্ছ শিক্ষক বদলি বন্ধ করে একাডেমিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা যাবে। পাশাপাশি বিদ্যমান অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে নেভাল আর্কিটেকচার বিভাগ চালু করা সম্ভব হবে। দক্ষ ল্যাব জনবল নিয়োগের মাধ্যমে শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়সংকটও দূর করা যাবে।
বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউটে রূপান্তরিত হলে এর একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাঠামোয় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে ডিগ্রি প্রদান, পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, পরীক্ষা পরিচালনা, শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা কীভাবে পরিচালিত হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান পর্যালোচনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে বর্তমান শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম কীভাবে চলবে এবং রূপান্তরের ক্ষেত্রে তাঁদের জন্য কী ব্যবস্থা রাখা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে রূপান্তরের নির্দিষ্ট সময়সীমা কিংবা বাস্তবায়নের বিস্তারিত প্রক্রিয়া উল্লেখ করা হয়নি। বরং বিদ্যমান আইনি কাঠামো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পদক্ষেপসহ প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ, চারটি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউটে রূপান্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। আপাতত এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তি, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও করণীয় নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহযোগী অধ্যাপক মো. লিটন রাব্বানী বলেন, বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মন্ত্রণালয় ইউজিসিকে চিঠি দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ইউজিসি থেকে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজিতে রূপান্তরের প্রস্তাবটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের অংশ। মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্ত্রী অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে চলে গেছেন—এমন দাবি করে ভারতের হরিদ্বারে একটি মোবাইল টাওয়ারে উঠে বসেন এক যুবক। স্ত্রীকে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত নিচে নামবেন না বলে জানান তিনি। তাঁকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। পরে পুলিশ ও প্রশাসনের দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর সন্ধ্যা গড়িয়ে রাতে নিজেই টাওয়ার থেকে নেমে আসেন ওই যুবক।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বার জেলার শিবালিক নগরে এ ঘটনা ঘটে। স্ত্রী অন্য একজনের সঙ্গে পালিয়ে হরিদ্বারে চলে গেছেন বলে জানতে পেরে সেখানে ছুটে যান ওই যুবক। একপর্যায়ে তিনি উঠে পড়েন এলাকার একটি মোবাইল টাওয়ারে।
বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তাঁরা যুবককে নিচে নামানোর চেষ্টা করেন। তবে নানা অনুরোধেও তিনি রাজি হননি। টাওয়ারের ওপর থেকে যুবক দাবি করেন, তাঁর স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে হবে। স্ত্রীকে ফিরিয়ে না দিলে তিনি নিচে নামবেন না বলেও জানান।
পরিস্থিতি সামাল দিতে খবর দেওয়া হয় পুলিশে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে নিরাপদে নিচে নামানোর উদ্যোগ নেয়। তবে পুলিশের প্রাথমিক চেষ্টাও সফল হয়নি। নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে স্ত্রী না আসা পর্যন্ত টাওয়ার থেকে নামতে অস্বীকৃতি জানান ওই যুবক।
এ অবস্থায় পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাঁকে শান্ত করার পাশাপাশি নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যান। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও টাওয়ারের ওপর অবস্থান করছিলেন তিনি। পরে সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত নামার সময় পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। দীর্ঘ সময় পর ওই যুবক নিজেই টাওয়ার থেকে নেমে আসেন।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ‘ভূপি পাওয়ার’ নামের একটি এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডল থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে। এরই মধ্যে ভিডিওটি বহু মানুষের নজরে এসেছে।
তুমুল আলোচনা-সমালোচনার মুখে বরিশাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর তপন কুমার সাহার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন সেই শিক্ষার্থী। প্রাইমেরি শাখা খোলার খবরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির গুটিকয়েক শিক্ষার্থী সোমবার আন্দোলন শুরু করে এবং এনিয়ে অধ্যক্ষের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের একটি ভিডিওচিত্র ছড়িয়ে পড়ে। একজন শিক্ষকের সাথে শিক্ষার্থীর এমন আচরণের ভিডিওটি এবং ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় তোলপাড়। বিশেষ করে সুশীলসমাজ-সাংবাদিক এবং শিক্ষকেরা এই ঘটনাকে লজ্জাজনক ও ভয়াবহ নৈতিক অবক্ষয় হিসেবে তুলে ধরে বেয়াদব শিক্ষার্থীদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। এতে পরিবেশ বেগতিক হয়ে উঠলে একদিনের মাথায় মঙ্গলবার সেই আলোচিত শিক্ষার্থী আন্দোলনরতদের নিয়ে অধ্যক্ষ তপন কুমার সাহার কাছে গিয়ে পা ধরে ক্ষমা চেয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, বেলসপার্কসংলগ্ন বরিশাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রাইমেরী শাখা চালুর খবরে সোমবার দ্বাদশ শ্রেণির ওই ছাত্রের নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু হয়। এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অধ্যক্ষ প্রফেসর তপন কুমার সাহার সাথে তর্ক এবং বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন শিক্ষার্থীরা। তখন দ্বাদশ শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীকে আঙ্গুল উচিয়ে অধ্যক্ষকে হুমকি দিতে দেখা যায়, যার ভিডিওচিত্র সাংবাদিকেরা ক্যামেরায় ধারন করেন। সেই ভিডিও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সমাজপাতায় ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় বিতর্ক।
বিশেষ করে বিএম কলেজের সাবেক এই শিক্ষকের সাথে এমন রূঢ় আচরণের ঘটনায় সংক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন সাবেক শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ, যারা এখন প্রশাসন-সাংবাদিক, শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত আছেন। একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থীদের বেয়াদব আখ্যায়িত করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়ারও জোর দাবি ওঠে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পারিবারিক এবং সামাজিক শিক্ষা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
সূত্র জানিয়েছে, ২০০৭ সালে মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে তৃতীয় শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হতো। কিন্তু সাবেক জেলা প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন দায়িত্বে থাকাকালীন ২০২৬ সালে প্রাথমিকে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করা হয়। কয়েকদিন আগে প্রতিষ্ঠানের একটি অনুষ্ঠানে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন প্রধান অতিথি হয়েছিলেন। তখন তিনি অভিভাবকদের দাবির প্রেক্ষিতে আবারও প্রাথমিক শাখা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এনিয়ে কজন শিক্ষকের উস্কানিতে শিক্ষার্থীরা বেসামাল হয়ে উঠে এবং অধ্যক্ষের সাথে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছে। সেখানে গিয়ে এই শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন বরিশাল মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ¦ায়ক আফরোজা খানম নাসরিন, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও তুমুল আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
শিক্ষকের সাথে অসদ আচরণের এই ঘটনা নিয়ে সোমবার রাতভর ফেসবুকে নেতিবাচক লেখালেখি হলেও ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকে। এবং এ ঘটনার নেপথ্য কুশীলব একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেশ কজন সিনিয়র শিক্ষক ও বরিশাল মহানগর বিএনপি নেত্রীর নাম সামনে আসে। সূত্র বলছে, স্থানীয় রাজনীতি নিয়ে সিটি প্রশাসক বিএনপি নেত্রী বিলকিস জাহান শিরিন এবং নাসরিনের মধ্যেকার সম্পর্ক সাপেনেউলে। কোথায় সিটি প্রশাসক হস্তক্ষেপ রাখলে নাসরিনও সেখানে অতিউৎসাহী হয়ে ওঠেন।
একাধিক সূত্র নিশ্চিত করে, মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ অধ্যক্ষ হেনস্তার এই ঘটনাটি সরকারের উচ্চমহলের নজরে গিয়েছে এবং এর নেপথ্য অনুঘটক কারা তা অনুসন্ধানে নির্দেশনা আসতে পারে। সম্ভব্য বিপদের আলামত পেয়ে আড়ালের কুশীলবেরা সোমবার রাতের পরিবেশ পর্যবেক্ষক পরবর্তী শিক্ষার্থীদের দিয়ে ক্ষমা চাইয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছেন।
দ্বাদশ শ্রেণির সেই শিক্ষার্থী মঙ্গলবার অধ্যক্ষের কাছে ক্ষমা চাইতে গিয়ে বলেন, সোমবার তারা উত্তেজিত ছিলেন, নিজেদের কন্ট্রোল করতে পারেননি। বিষয়টি পরবর্তীতে উপলব্ধি হয় এবং এর জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।
আলোচিত শিক্ষক অধ্যক্ষ তপন কুমার সাহা সাংবাদিক ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের ক্ষমা করে দেন এবং তাদের ক্লাসে ফিরতে নির্দেশ দেন। সরকারি ব্রজমোহন কলেজের সাবেক এই শিক্ষক সৎ এবং পরিচ্ছন্ন হিসেবে সমাধিক পরিচিত।
এই পুরো ঘটনায় তার ভাষ্য হচ্ছে, ২০০৭ সালে মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে তৃতীয় শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। কিন্তু সাবেক জেলা প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন দায়িত্বে থাকাকালীন ২০২৬ সালে প্রাথমিকে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করা হয়। কয়েকদিন আগে প্রতিষ্ঠানের একটি অনুষ্ঠানে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন প্রধান অতিথি হয়ে আসলে তখন তার কাছে অভিভাবকদের তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি ব্যবস্থার দাবি রাখেন। সেই দাবির প্রেক্ষাপটে আবারও প্রাথমিক শাখা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এনিয়ে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ আন্দোলন করতে গিয়ে উদ্ভুত পরিবেশ তৈরি করেছিল।
প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্টদের দাবি, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ভুল বুঝিয়ে একটি পক্ষ ফায়দা হাসিল করতে চেয়েছিল। কিন্তু ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ এবং সংবাদমাধ্যমের জোরালো প্রতিবাদের মুখে সেই ষড়যন্ত্র ধোপে টেকেনি। মঙ্গলবার সেই শিক্ষার্থীরা অভিভাবক সহকারে এসে অধ্যক্ষের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন, তিনিও তাদের মন থেকে মার্জনা করেছেন।
প্রাসঙ্গিক এই বিষয়ে অধ্যক্ষ তপন কুমার সাহার বক্তব্য হচ্ছে, ‘সবাই আমার সন্তানের মতো। আমার সন্তান তাদের চেয়ে অন্তত ৫-৬ বছরের বড়। সন্তান অনেক সময় বাবা-মায়ের সাথে ভুল-ত্রুটি করে থাকে, তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি। শিক্ষকের এই ক্ষমা করে দেওয়ার বিষয়টি নীতিবিবর্জিত সমাজে অনুকরণীয় একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল— এমনটি মন্তব্য পাওয়া গেছে।’
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ফটোকপি মেশিন, স্ট্যান্ড ও পেপার শ্রেডার সরবরাহের কাজ পেয়েও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মালামাল সরবরাহ করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে চুক্তির কাজ অসম্পূর্ণ থাকা অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটির নামে ভ্যাট-ট্যাক্স বাদে ১৪ লাখ ৯৩ হাজার ১০ টাকার চেক প্রস্তুত করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তর।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রাজস্ব বাজেটের আওতায় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তর থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকার এ দরপত্র আহ্বান করা হয়। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ই-জিপি পোর্টালে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে (ওটিএম) আহ্বান করা দরপত্রে ১৯ লাখ ৯৯ হাজার টাকায় কাজটি পায় ঢাকার পুরানা পল্টনের প্রতিষ্ঠান ‘উইন ইন্টারন্যাশনাল’। চুক্তি অনুযায়ী, কার্যাদেশ পাওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে সব মালামাল সরবরাহ করার কথা ছিল। নির্ধারিত শর্তে চুক্তি ভঙ্গের ক্ষেত্রে কার্যাদেশ বাতিলের বিধানও রয়েছে।
দরপত্রের নথি অনুযায়ী, গত ১১ মার্চ প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। সে হিসাবে নির্ধারিত ৪৫ দিনের মধ্যে মালামাল সরবরাহের কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানটি সব সরঞ্জাম সরবরাহ করতে পারেনি।
অভিযোগ রয়েছে, মালামাল সম্পূর্ণ সরবরাহ না হলেও নথিতে সেগুলো গ্রহণের তথ্য দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি কাজ অসম্পূর্ণ থাকা অবস্থায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির নামে প্রায় ১৫ লাখ টাকার চেক প্রস্তুত করা হয়েছে।
সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় স্টোরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে শুধু ফটোকপি মেশিনের স্ট্যান্ডগুলো সারিবদ্ধভাবে রাখা রয়েছে। কোনো ফটোকপি মেশিন কিংবা পেপার শ্রেডার পাওয়া যায়নি।
কাজের অগ্রগতি ও মালামাল সরবরাহের বিষয়ে জানতে উইন ইন্টারন্যাশনালের মালিক মো. সুমনের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় স্টোরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, আমরা শুধু ফটোকপির স্ট্যান্ডগুলো পেয়েছি। বাকি কোনো কিছুই পাইনি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আপনি পরিকল্পনা দপ্তরের পরিচালক স্যারের সাথে কথা বলতে বলেন।
পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক হুমায়ুন কবির বলেন, জুন মাসে আমাদের ক্লোজিং মাস তার আগে আমাদের গোছায় রাখতে হয়। টাকাটা ধরে রাখতে হয়। মাল যখন আসবে, তখন টাকা দিতে হবে। যে মালগুলোর কথা বলছেন, সেগুলো বাংলাদেশে ছিল না। এ কারণে তারা দিতে পারেনি। আর আমিও ওই প্রতিষ্ঠানের মালিককে একাধিক বার ফোন করে পাচ্ছি না।
এদিকে অর্থ ও হিসাব দপ্তরের উপপরিচালক সুব্রত কুমার বাহাদুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে চেক প্রস্তুতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পরিকল্পনা দপ্তর ও কেন্দ্রীয় স্টোরের একটি লিখিত রয়েছে। যেহেতু তারা ই-জিপিতে কাজ পেয়েছে এবং কোম্পানি মাল দেওয়ার জন্য সময় চেয়েছে, এজন্য ভ্যাট-ট্যাক্স কেটে ১৪ লাখ ৯৩ হাজার ১০ টাকার একটি চেক প্রস্তুত করে রেখেছি। আবার জুন ক্লোজিং করতে হয়েছে। এখন মাল পুরোপুরি না দিলে চেক বাতিল হবে।
এ দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. আব্দুল আলিম বছির বলেন, ঘটনা সত্য হলে অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নগরীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মীদের মধ্যে ৫০টি ভ্যান বক্স ও ৩০টি হ্যান্ড ট্রলি বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টায় নগরীর আমানতগঞ্জ গ্যারেজে বিসিসির প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন ৩০টি ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের হাতে এসব সরঞ্জাম তুলে দেন।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা এবং কর্মীদের কাজের সুবিধা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরঞ্জাম বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন বিসিসির প্রধান প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবির, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আবুল বাশার, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মকসুমুল হাকিম রেজা, পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা মো. ইউসুফ আলী ও মাহবুব আলমসহ সিটি করপোরেশনের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী।
নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরিশাল। | 12 October 2026, 11:38 pm
বরিশাল সদর উপজেলার ০৯ নম্বর টুংঙ্গিবাড়িয়া ও ০৮ নম্বর চাঁদপুরা ইউনিয়নে একই পরিবারের দুই ভাইয়ের সার ডিলারশিপ পাওয়া নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। বড় ভাই বাবুল খন্দকার বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। তাঁর দুই ভাই সিরাজ খন্দকার ও শাহ আলম খন্দকার পৃথক দুটি ইউনিয়নে সার ডিলারশিপ পেয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া, যোগ্যতা যাচাই এবং সরকারি নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খন্দকার পরিবারের মূল বাড়ি ভোলা জেলায়। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারটি বরিশাল সদর উপজেলার টুংঙ্গিবাড়িয়া ইউনিয়নে বসতি স্থাপন করে। বাবুল খন্দকারের রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের বিষয়টি সামনে রেখে তাঁর ছোট ভাই সিরাজ খন্দকার টুংঙ্গিবাড়িয়া ইউনিয়নে সার ডিলারশিপ পেয়েছেন। অন্যদিকে, আরেক ভাই শাহ আলম খন্দকার চাঁদপুরা ইউনিয়নের কুন্দিয়ালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় দিয়ে ‘খন্দকার স্টোর’ নামে সার ডিলারশিপ নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৫’ এবং পরবর্তী সংশোধিত নির্দেশনায় ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণে স্বচ্ছতা, যোগ্যতা যাচাই এবং একই পরিবারের একাধিক ডিলারশিপের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণভাবে উঠে এসেছে। ২০২৫ সালের নীতিমালায় একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে ডিলার নিয়োগের সুযোগ রহিত করার কথা বলা হয়েছিল। পরবর্তী সংশোধিত নীতিমালা ও ২০২৬ সালের নির্দেশনাও এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত একই পরিবারের একাধিক সদস্যের ডিলারশিপ নিষিদ্ধ করার বিধানের ওপর হাইকোর্টের স্থিতাবস্থার আদেশ স্থগিত করেন বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট নিয়োগের ক্ষেত্রে কার্যকর নীতিমালা, আদেশের সময়কাল এবং প্রযোজ্য শর্ত যাচাই করা জরুরি।
অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয়দের প্রশ্ন, একই পরিবারের দুই ভাই পৃথক দুটি ইউনিয়নে সার ডিলারশিপ পেয়ে থাকলে তাঁদের নিয়োগের ক্ষেত্রে পারিবারিক সম্পর্ক,আবেদনকারীদের স্থায়ী ঠিকানা, ব্যবসায়িক যোগ্যতা, গুদাম ও অন্যান্য শর্ত কীভাবে যাচাই করা হয়েছে? একই সঙ্গে, ডিলার নিয়োগে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব কোনো ভূমিকা রেখেছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
কৃষকদের জন্য সরকার-নির্ধারিত মূল্যে সার সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ডিলার নিয়োগে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং যোগ্য আবেদনকারীদের ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ব্যাপারে নিয়োগ পাওয়া স্যার ডিলার খন্দকার শাহআলম ও খন্দকার সিরাজ প্রতিবেদককে জানান, আমরা সরকারি নিয়ম নীতি মেনেই ডিলারশিপ পেয়েছি।
ঝালকাঠির নলছিটি থেকে স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের যাত্রা শুরু করে জাতীয় পর্যায়ে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি অর্জন করেছেন মো. খালেদ সাইফুল্লাহ। শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অবদানের জন্য তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় প্রদত্ত ‘Youth Volunteer Award 2025’ অর্জন করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সারাদেশ থেকে নির্বাচিত ১২ জন পুরস্কারপ্রাপ্তের মধ্যে তিনি বরিশাল বিভাগের একমাত্র প্রতিনিধি।
শৈশব থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি সাংগঠনিক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে আগ্রহী ছিলেন খালেদ সাইফুল্লাহ। ঝালকাঠি এনএস কামিল মাদ্রাসায় পড়ার সময় কোরআন তেলাওয়াত, বক্তৃতা, কবিতা আবৃত্তি ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তাঁর আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বের বিকাশ ঘটে। অষ্টম শ্রেণিতে বন্ধুদের নিয়ে ‘মানব উন্নয়ন ফাউন্ডেশন’ গঠন করেন। ছোট পরিসরে সভা, সেমিনার ও সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তাঁর স্বেচ্ছাসেবামূলক পথচলা।
২০১৩ সালে ফিলিস্তিন সংকটের প্রেক্ষাপটে স্থানীয়ভাবে ইসরায়েলি পণ্য বর্জনের প্রচারণায় অংশ নেন তিনি। সংগঠনের কার্যক্রম সচল রাখতে শিক্ষার্থীদের জন্য সাজেশন পুস্তিকা বিক্রির উদ্যোগও গ্রহণ করেন। অষ্টম শ্রেণিতে জেলায় প্রথম স্থান অর্জনসহ ট্যালেন্টপুল বৃত্তি এবং দাখিলে জিপিএ-৫ অর্জন করেন খালেদ।
কলেজজীবনে লেখালেখি ও সংগঠনে সম্পৃক্ততা
কলেজজীবনে তাঁর সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি লেখালেখির প্রতি আগ্রহ বাড়ে। হাতেম আলী কলেজে অধ্যয়নকালে ‘ইসলামিক কালচারাল প্ল্যাটফর্ম’ গড়ে তোলেন। ‘চেতনার খোরাক’ নামে পাণ্ডুলিপি প্রকাশ এবং ‘সোনালী সকাল’ যৌথ কাব্যগ্রন্থে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সাহিত্যচর্চায় যুক্ত থাকেন।
বিতর্ক, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও অধিকারভিত্তিক আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলন ও প্রশ্নফাঁসবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ তাঁর নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করে। পাশাপাশি পাঠক পাঠাগার ও ডিবেটার্স কমিউনিটি অব বরিশালসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কাজ করেন।
করোনাকালে ‘তারুণ্যের নলছিটি’
২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারির সময় তরুণদের সংগঠিত করে নিজ এলাকায় সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন খালেদ সাইফুল্লাহ। তাঁর নেতৃত্বে ‘তারুণ্যের নলছিটি’ শিক্ষা, সবুজায়ন, সামাজিক সচেতনতা, দক্ষতা উন্নয়ন ও তরুণ নেতৃত্ব বিকাশে কাজ করতে থাকে।
কর্মশালা, অলিম্পিয়াড, প্রশিক্ষণ এবং স্থানীয় সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের সামাজিক কাজে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছে সংগঠনটি। বর্তমানে তিনি সংগঠনটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিশিক্ষায় ‘Team STEM’
শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক শিক্ষায় আগ্রহী করে তুলতে ‘Team STEM’ নামে একটি উদ্যোগ গড়ে তোলেন খালেদ সাইফুল্লাহ। কর্মশালা, প্রতিযোগিতা ও বিজ্ঞান প্রদর্শনীর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখার সুযোগ তৈরির চেষ্টা করা হয়।
২০২৪ সালে সেভ দ্য চিলড্রেন আয়োজিত ‘Idea Challenge 2024’-এ জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ী হওয়ার অভিজ্ঞতাকে তিনি নিজের উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিযোগিতায় অর্জিত পুরস্কারের অর্থ দিয়ে নলছিটিতে উদ্ভাবনবিষয়ক কর্মশালা ও STEM প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
খালেদের মতে, মেধা বিকাশের জন্য শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা, বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং নতুন কিছু করার সুযোগ। স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের এমন সুযোগ তৈরি করাই তাঁর উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
লেখালেখি ও সাংবাদিকতায় অবদান
লেখালেখি ও নাগরিক সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও সক্রিয় খালেদ সাইফুল্লাহ। বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কলাম, ফিচার ও চিঠিপত্র লিখেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে প্রায় অর্ধশত পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়েছে।
তাঁর বিশ্বাস, লেখালেখি মানুষের চিন্তা প্রকাশের পাশাপাশি সমাজের সমস্যা, সম্ভাবনা ও তৃণমূলের মানুষের কথা তুলে ধরার শক্তিশালী মাধ্যম। এ ছাড়া ‘পাঠক পাঠাগার’ নামে কমিউনিটি লাইব্রেরির ধারণা নিয়েও কাজ করেছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক পরিসরে তরুণ নেতৃত্ব নিয়ে কাজ
২০২৪ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা Care for Assets, Resources & Obligations (CARO)-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবে কাজ করছেন খালেদ সাইফুল্লাহ। বর্তমানে তিনি সংস্থাটির সাধারণ সম্পাদক।
CARO-এর মাধ্যমে সম্পদ, দায়িত্ব ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতে ন্যায়ভিত্তিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার ধারণা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। সংস্থাটির Universal Governance Framework (UGF), PlayerOne Initiative ও Youth Political Leadership Simulation-এর মতো উদ্যোগে তরুণদের নীতি প্রণয়ন, সমস্যা বিশ্লেষণ ও নেতৃত্বের অনুশীলনের সুযোগ তৈরির চেষ্টা চলছে।
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের তরুণদের মধ্যে নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারণ বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে এসব উদ্যোগ ভূমিকা রাখছে বলে জানান তিনি। তাঁর লক্ষ্য, তরুণদের শুধু পরিবর্তনের প্রত্যাশী হিসেবে নয়, বরং দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হিসেবেও গড়ে তোলা।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি
২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেন খালেদ সাইফুল্লাহ। তাঁর মতে, তরুণদের সম্মিলিত উদ্যোগ ও ঐক্য সমাজে পরিবর্তন আনার শক্তি রাখে। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি অর্জনের পর পুরস্কারটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের উৎসর্গ করেছেন বলে জানান তিনি।
২০২৫ সালে ‘Youth Volunteer Award’ অর্জন তাঁর দীর্ঘদিনের স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। পুরস্কারের সঙ্গে ক্রেস্ট, সনদ ও এক লাখ টাকা সম্মানী দেওয়া হয়। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণের মুহূর্তটি তাঁর জীবনের স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।
তবে এই অর্জনকে তিনি কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবে দেখেন না। বরং স্থানীয় পর্যায়ে তরুণদের সংগঠিত করা, শিক্ষামূলক উদ্যোগ গ্রহণ এবং সামাজিক উন্নয়নে কাজ করার ধারাবাহিকতার স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচনা করেন।
শান্তি প্রতিষ্ঠায় ‘Peace Initiative’
বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগে মাস্টার্স করছেন খালেদ সাইফুল্লাহ। পড়াশোনার পাশাপাশি ‘Peace Initiative’ নামে একটি উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছেন তিনি। উদ্যোগটির মূল ধারণা P.E.A.C.E., যার পূর্ণরূপ Participate, Educate, Act, Connect ও Empower। এর স্লোগান ‘Learn Peace. Live Peace. Lead Peace.’
এই উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে শান্তির শিক্ষা, পারস্পরিক সহমর্মিতা, সংলাপ ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের চর্চা ছড়িয়ে দিতে চান তিনি। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনা এবং বিভেদের পরিবর্তে সহযোগিতার পরিবেশ তৈরিতে তরুণদের সম্পৃক্ত করাই তাঁর লক্ষ্য।
তরুণদের প্রতি খালেদের বার্তা
তরুণদের উদ্দেশে খালেদ সাইফুল্লাহর পরামর্শ, নিয়মিত বই ও পত্রিকা পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে, সহশিক্ষা ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে হবে এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও মতের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে বড় স্বপ্ন দেখা, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ, সততা বজায় রাখা এবং মহান সৃষ্টিকর্তার ওপর আস্থা রেখে কাজ করে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তাঁর মতে, শুধু একাডেমিক সাফল্য একজন তরুণকে পূর্ণাঙ্গভাবে গড়ে তোলে না। বাস্তব অভিজ্ঞতা, সৃজনশীলতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও নেতৃত্বের চর্চাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
নলছিটির স্থানীয় পরিসর থেকে শুরু হওয়া খালেদ সাইফুল্লাহর এই যাত্রা এখন জাতীয় স্বীকৃতি ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত। ভবিষ্যতে শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, স্বেচ্ছাসেবা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার কার্যক্রমকে সমন্বিত করে তরুণদের জন্য আরও কার্যকর প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে চান তিনি।
খালেদ সাইফুল্লাহর প্রত্যাশা, তরুণেরা নিজেদের মেধা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে, যেখানে সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপ, বিভেদের পরিবর্তে সহযোগিতা এবং বৈষম্যের পরিবর্তে ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে।
বরিশাল নগরীর চৌমাথা এলাকায় মহাসড়ক ও ফুটপাত অবৈধভাবে দখল করে পরিচালিত ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। রোববার (১১ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে চৌমাথা বাজারের সামনের অংশ থেকে এ অভিযান শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে বাজারসংলগ্ন এলাকা, সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের সামনের অংশ এবং চৌমাথা লেক এলাকায় উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান উজ জামানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ শাখার প্রধান লতিকুল্লাহ, ট্রেড লাইসেন্স বিভাগের আজিজ শাহীন এবং হাটবাজার শাখার প্রধান রেজাউল উপস্থিত ছিলেন।
বিসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান উজ জামান বলেন, নগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত করে জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে চৌমাথা এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়েছে। নগরীর সড়ক ও ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত রাখার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
নগরীর ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকাও পরিবহনকেন্দ্রসহ অন্যান্য স্থানে অবৈধ দখল ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ে জানতে চাইলে বিসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান উজ জামান বরিশাল টাইমসকে বলেন, “রূপাতলী ও নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় সড়ক ও জনসাধারণের চলাচলের স্থান দখল করে অবৈধ দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এসব স্থানে জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রাখা হবে। পাশাপাশি, উচ্ছেদের পর সড়ক ও ফুটপাত পুনরায় দখলমুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চৌমাথা এলাকায় এর আগেও একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে সিটি করপোরেশন। তবে অভিযান শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই পুনরায় ফুটপাত ও মহাসড়কের অংশবিশেষ দখল করে ব্যবসা পরিচালনার প্রবণতা দেখা যায়। এতে উচ্ছেদ কার্যক্রমের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ফুটপাত দখল থাকায় পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
নগরীর অন্যতম ব্যস্ত এ এলাকায় মহাসড়ক ও ফুটপাতের ওপর অবৈধ দখল স্থায়ীভাবে নিরসনে নিয়মিত তদারকি জোরদার এবং উচ্ছেদ-পরবর্তী সময়ে পুনর্দখল প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করলে ইউক্রেনও রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করতে প্রস্তুত। ১১ অক্টোবর রয়টার্সের প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, উত্তেজনা কমানোর পদক্ষেপ পারস্পরিক হতে হবে এবং কার্যকর নিশ্চয়তা থাকতে হবে। এ বিষয়ে রাশিয়ার অবস্থান ও পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের দিকে নজর রাখা হচ্ছে।
জিবুতির উপকূলে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ১০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নৌকাটিতে ৩০৫ জন ছিলেন; ৮০ জনের বেশি বেঁচে গেছেন এবং আরও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন। পূর্ব আফ্রিকা থেকে ইয়েমেনমুখী অভিবাসনপথে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।