গেলো ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে বৈধপথে ২৫২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে। টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ ৩১ হাজার ৯৪ কোটি (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে)। সে হিসাবে দৈনিক গড়ে রেমিট্যান্স এসেছে ৯ কোটি ডলার বা এক হাজার ১১০ কোটি টাকা।
আজ রোববার (২ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
এর আগে, বাংলাদেশের ইতিহাসে ফেব্রুয়ারিতে এত পরিমাণ রেমিট্যান্স আসেনি। এবারের ফেব্রুয়ারিতে আগের বছরের ফেব্রুয়ারির তুলনায় ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে রেমিট্যান্সে। গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২ কোটি ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৮ মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে এক হাজার ৮৪৯ কোটি মার্কিন ডলার। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২৩ দশমিক ৮০ শতাংশ বেশি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল এক হাজার ৪৯৩ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর টানা ৭ মাস দুই বিলিয়নের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে বাংলাদেশে।
নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। পৃথক তিন পদে মোট ১০ জনকে নিয়োগ দেবে বাংলাদেশ পুলিশের ট্যুরিস্ট পুলিশ কার্যালয়। আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনের মাধ্যমে আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।
প্রতিষ্ঠানের নাম: বাংলাদেশ পুলিশ পদের সংখ্যা: ৩ পদে ১০ জন
পদের বিবরণ:
কর্মস্থল: ঢাকা চাকরির ধরন: স্থায়ী প্রার্থীর ধরন: নারী – পুরুষ। তবে প্রার্থীকে অবশ্যই বাংলাদেশের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। বয়স: ২৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ ১৮-৩২ বছর। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না।
আবেদন ফি: টেলিটক প্রি-পেইড সিমের মাধ্যমে পরীক্ষার ফি বাবদ প্রতিটি পদের জন্য ১১২ টাকা অফেরতযোগ্য হিসেবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাঠাতে হবে
আবেদনের প্রক্রিয়া: আগ্রহী প্রার্থীরা বাংলাদেশ পুলিশের ট্যুরিস্ট পুলিশ কার্যালয়ের এই https://tphq.teletalk.com.bd/ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের সঙ্গে ৩০০-৩০০ সাইজের ছবি ও ৩০০-৮০ সাইজের স্বাক্ষর স্ক্যান করে যুক্ত করতে হবে।
আবেদনের সময়সীমা: আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১ অক্টোবর, ২০২৬ ইং তারিখ থেকে আগামী ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ইং তারিখ বিকেল ৪টা পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।
সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে ‘গণতন্ত্রমূলক আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। চূড়ান্ত পর্বে বিএম কলেজ বিতর্ক দলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক দল।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় কলেজের শহীদ তাহিদুল ইসলাম লাইব্রেরি ভবনের দ্বিতীয় তলায় এ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএম কলেজের পক্ষে তুফা ইসলাম, মাহফুজুর রহমান ও আশরাফুল ইসলাম এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে কাজী গালিব, মানজারুল হক ও নুসরাত অংশ নেন।
বিএম কলেজ ডিবেটিং ক্লাবের ব্যবস্থাপনায় এবং বরিশাল মহানগর ছাত্রদল ও বিএম কলেজ শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করা হয়। এতে গণতন্ত্রের বিভিন্ন দিক ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে বিতার্কিকরা যুক্তি-পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন করেন। আয়োজকদের মতে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণতন্ত্র, যুক্তিবোধ ও তথ্যনির্ভর মত প্রকাশের চর্চা বাড়ানোই ছিল এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) খলিল আহমেদ। সম্মানিত অতিথি ছিলেন বিএম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শেখ মো. তাজুল ইসলাম এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক কাজী জাবের আহমেদ। প্রধান আলোচক ছিলেন বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. এনামুল হাসান তাসনিম এবং প্রধান বক্তা বিএম কলেজ ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি অনিক হোসেন তুহিন।
অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শেখ মো. তাজুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও মনন বিকাশে বিতর্কসহ সৃজনশীল কর্মকাণ্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গণতন্ত্রকে কেন্দ্র করে এমন আয়োজনের প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রতিযোগিতায় একটি দল চ্যাম্পিয়ন হলেও প্রত্যেক বিতার্কিক বিষয় নিয়ে পড়াশোনা, বিশ্লেষণ ও যুক্তি তৈরির সুযোগ পেয়েছেন। এটিই এ ধরনের প্রতিযোগিতার বড় অর্জন।
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি বিতর্কচর্চা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তোমরা পড়াশোনা চালিয়ে যাও, বিতর্ক চালিয়ে যাও। যে স্বপ্ন নিয়ে এই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছ, সেই স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে যাও।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ গণতন্ত্রের চর্চায় নাগরিক অধিকার, দায়িত্ব ও সহনশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন প্রজন্মকে প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেট অব থিংস, রোবটিকস, থ্রিডি প্রিন্টিং, অটোমেশন ও স্মার্ট প্রযুক্তির প্রসঙ্গ তুলে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিএম কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম জুবায়েরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিএম কলেজ ডিবেটিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, বিএম কলেজ ডিবেটিং ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির সাবেক সভাপতি, বিভিন্ন পর্যায়ের বিতার্কিক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
চূড়ান্ত পর্ব শেষে বিচারকদের সিদ্ধান্তে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক দলকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়। পরে অতিথিরা বিজয়ী দলকে অভিনন্দন জানান এবং অংশগ্রহণকারী বিতার্কিকদের যুক্তিচর্চা ও প্রস্তুতির প্রশংসা করেন।
জন্মহার বাড়াতে এবার বিয়ের সঙ্গী খুঁজে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সিঙ্গাপুর সরকার। দেশটির সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে ‘ফার্স্টডেট’ নামের একটি ডেটিং সেবা। ২১ থেকে ৩৫ বছর বয়সী সরকারি কর্মীরা এতে অংশ নিতে পারবেন।
ফার্স্টডেটের বিশেষত্ব হলো, প্রচলিত ডেটিং অ্যাপের মতো অসংখ্য প্রোফাইল সোয়াইপ করার সুযোগ নেই। বরং ‘গেইল-শ্যাপলি স্টেবল ম্যারেজ’ অ্যালগরিদম ব্যবহার করে একবারে একজন সম্ভাব্য সঙ্গীর সঙ্গে জুটি মিলিয়ে দেওয়া হবে। ব্যবহারকারীরা জাতীয় ডিজিটাল পরিচয়পত্র দিয়ে লগইন করে নিজেদের আগ্রহ, অভ্যাস ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে একটি জরিপে অংশ নেবেন।
এই অ্যালগরিদমের অন্যতম উদ্ভাবক লয়েড শ্যাপলি ২০১২ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পান। সরকারি স্কুলে ভর্তি ও চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ পদায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর ব্যবহার রয়েছে।
উদ্যোগটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২৯ বছর বয়সী কর্মী এলিজাবেথ বিবিসিকে বলেন, তিনি সেবাটি ব্যবহার করে দেখতে আগ্রহী। সরকারি কর্মীদের জন্য হওয়ায় প্রতারণার ঝুঁকি কিছুটা কম হতে পারে বলেও মনে করেন তিনি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ বয়সসীমা ও শুধু সরকারি কর্মীদের জন্য সেবাটি চালুর সমালোচনা করেছেন।
রেকর্ড নিম্ন জন্মহারের প্রেক্ষাপটেই উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালে সিঙ্গাপুরে প্রথমবারের মতো এক বছরে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা ৩০ হাজারের নিচে নেমে যায়। একই সময়ে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ২৬ হাজার ৫০০ মানুষের।
এর আগে ১৯৮৪ সালেও তরুণদের বিয়েতে উৎসাহ দিতে ঘটকালির সরকারি উদ্যোগ নিয়েছিলো সিঙ্গাপুর। জাপানের টোকিও সরকারও ২০২৪ সালে জন্মহার বাড়াতে এআই-চালিত ডেটিং অ্যাপ চালু করে। সূত্র: বিবিসি
সাংগঠনিক অনিয়ম, নৈতিক পদস্খলন ও অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেনসহ একাধিক অভিযোগের পর বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ‘সাথী’ পদ হারিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার।
২০২৫ সালে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পর প্রথমে পদটি মুলতবি করা হয়। পরে অভিযোগের যথাযথ জবাব দিতে ব্যর্থ হওয়ার কথা উল্লেখ করে একই বছরের সেপ্টেম্বরের মাসিক সেক্রেটারিয়েট বৈঠকে পদটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় শিবির।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান।
তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি ২০২৫ সালের। কিছু অনিয়মের অভিযোগে তার সাথী পদ বাতিল করা হয়েছে।’
শাখা শিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালের স্বাক্ষরিত ২০২৬ সালের ৩১ জুলাইয়ের একটি চিঠিতে আম্মারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, আম্মারের বিরুদ্ধে নৈতিক পদস্খলন, মৌলিক ইবাদত পালনে উদাসীনতা, মেয়েদের সঙ্গে অবাধ বিচরণ, অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেন ও সম্পদের তছরুপের অভিযোগ ওঠে। সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও করা হয়।
এসব অভিযোগের পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসিক সেক্রেটারিয়েট বৈঠকে তার ‘সাথী’ পদ মুলতবি করা হয়। পরে অভিযোগগুলোর যথাযথ জবাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সেপ্টেম্বরের বৈঠকে পদটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে আরও দাবি করা হয়, আম্মারের কর্মকাণ্ডের কারণে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তার কিছু কর্মকাণ্ড ক্যাম্পাসকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এ কারণে সংগঠনের নেতাকর্মীদের তার অনলাইন ও অফলাইন কর্মকাণ্ডে কোনো ধরনের ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া না দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে রাকসুর নির্বাচিত দায়িত্বশীলদের তার সঙ্গে দাপ্তরিক সম্পর্ক রাখার কথা বলা হয়।
পদ বাণিজ্যের অভিযোগ
এর আগে ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি শাখা ছাত্রশিবিরের তৎকালীন সভাপতি এবং বর্তমানে রাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) মুস্তাকুর রহমান জাহিদের স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে আম্মারের বিরুদ্ধে আরও একটি অভিযোগের উল্লেখ করা হয়।
ওই চিঠিতে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী মহানগর ও জেলা কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল আম্মারের বিরুদ্ধে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের অভিযোগ নিয়ে ২০২৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি শাখা শিবিরের মাসিক সেক্রেটারিয়েট সভায় আলোচনা হয়।
সভায় অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তার ‘সাথী’ পদ মুলতবি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সালাউদ্দিন আম্মারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) র্যাগিংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগে চার বিভাগের ৪৮ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদে একাডেমিক বহিষ্কার ও আর্থিক জরিমানার শাস্তি আরোপ করা হয়েছে এবং ৬ শিক্ষার্থীকে অফিসিয়াল শোকজ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় নিয়ে এসব শাস্তি দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আইন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, মার্কেটিং এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে র্যাগিংয়ের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিটি ও তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে শাস্তির এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আইন বিভাগ:
১৫ জুলাই আইন বিভাগে র্যাগিংয়ের ঘটনায় পাঁচ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। জয়শ্রী রাণী বিশ্বাসকে ছয় মাসের জন্য একাডেমিক বহিষ্কার অথবা ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রুবাইয়া সুলতানা রাবা, মো. রিদোয়ান চৌধুরী, মো. মানজারুল হক ও রেসবুল হাসান আবিরকে এক বছরের জন্য একাডেমিক বহিষ্কার অথবা ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ:
২২ জুলাই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে র্যাগিংয়ের ঘটনায় ১০ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। মো. কাজী নাবির, সুমাইয়া আক্তার রিয়া, ইয়ামিন হোসেন, ফারিয়া বিনতে হোসেনইলমা, মো. ওয়েদুজ্জামান রিফাত, মো. আরিফুল ইসলাম, সাদিয়া ইসলাম ও মো. নাইম ইসলামকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। মাহি আনোয়ারকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা অথবা ছয় মাসের জন্য একাডেমিক বহিষ্কার এবং মো. রাকিবুল ইসলামকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা এক বছরের জন্য একাডেমিক বহিষ্কার করা হয়েছে।
মার্কেটিং বিভাগ:
১৯ আগস্ট মার্কেটিং বিভাগে র্যাগিংয়ের ঘটনায় ১৯ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। সুরাইয়া আক্তার, সৌরভ মালী, মো. মেহেদী হাসান অমি, আজিজুল ইসলাম চয়ন, ঐশী মহন্ত, এসএম সাইফুজ্জামান, মো. খালেদ হোসেন, জান্নাতুল বুশরা জুনি, আলিফ হোসেন নয়ন, নূর নবী, কিশোর কুমার দত্ত, রিফাত হাওলাদার ও হাসিব শেখকে ছয় মাসের জন্য একাডেমিক বহিষ্কার অথবা ১৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
মো. সবুজ মিয়াকে এক বছরের জন্য একাডেমিক বহিষ্কার অথবা ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া সাদিয়া বেগম, স্নেহা আক্তার, ফারিয়া শিমুল কলি, দিদারুল ইসলাম ও তাশফিক কবির রাফিকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
সিএসই বিভাগ:
৯ আগস্ট সিএসই বিভাগে র্যাগিংয়ের ঘটনায় ১৪ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। মো. মুজাহিদ হাওলাদার, অনিন্দা সাহা অর্ঘ্য, চন্দন মিস্ত্রি, কাউসার হোসেন সৌরভ, সুস্ময় তরুয়া, সাফায়েত ইসলাম শিহাব, অয়ন দাস দ্বীপ ও সিদ্ধার্থ সরকারকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
মো. মাসুম বিল্লাহ ও মুবিনুল ইসলাম নোবেলকে এক বছরের জন্য একাডেমিক বহিষ্কার অথবা ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। মো. রবিউল ইসলাম, মো. মইনুল ইসলাম সাকিব, মো. রেজুয়ান আজাদ ওয়াসি ও মো. মাহফুজুর রহমানকে ছয় মাসের জন্য একাডেমিক বহিষ্কার অথবা ১৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের ২০ সেপ্টেম্বরের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এসব শাস্তি আরোপ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিটি ও তদন্ত কমিটির সুপারিশ এবং প্রতিবেদনের আলোকে অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় নিয়ে শাস্তির ধরন নির্ধারণ করা হয়।
একই সাথে বলা হয়েছে জরিমানা পরিশোধের সময়সীমা পত্র ইস্যুর তারিখ থেকে ০১ (এক) মাস। উল্লেখ্য যে, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে জরিমানা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে দ্বিগুনহারে জরিমানা প্রযোজ্য হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন,” শিক্ষার্থীরা যেন সংশোধন হয় সেজন্য আমরা পরীক্ষামূলকভাবে এ শাস্তি দিয়েছি। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আমাদের এমন কার্যক্রম অব্যহত থাকবে।”
সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শেখ মো. তাজুল ইসলামের অবসর উপলক্ষে বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘ কর্মজীবনের শেষ দিনে সহকর্মীদের শ্রদ্ধা, শুভেচ্ছা ও স্মৃতিচারণে তাকে বিদায় জানানো হয়।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় কলেজের লাইব্রেরি ভবনের দ্বিতীয় তলায় শিক্ষক সম্মেলন কক্ষে এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. শেখ মো. তাজুল ইসলামের কর্মজীবন, শিক্ষা প্রশাসনে তার দায়িত্ব পালন এবং বিএম কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের স্মৃতিচারণ করেন বক্তারা।
বিএম কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক কাজী জাবের আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম, সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান খান, বরিশাল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন এবং সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড, বরিশালের পরিচালক মো. আব্বাস উদ্দীন। এ ছাড়া বিএম কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, ছাত্রনেতা ও সংশ্লিষ্টরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষকতার পাশাপাশি শিক্ষা প্রশাসনে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করেছেন। বিএম কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং কলেজের উন্নয়নেও তার ভূমিকার কথা তুলে ধরেন তারা। দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা তার সঙ্গে কর্মজীবনের বিভিন্ন স্মৃতি তুলে ধরেন এবং অবসরজীবনে তার সুস্বাস্থ্য ও সার্বিক কল্যাণ কামনা করেন।
উল্লেখ্য, অধ্যাপক ড. শেখ মো. তাজুল ইসলাম ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে সরকারি ব্রজমোহন কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ১৪তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন শিক্ষা বিভাগে কর্মরত ছিলেন।
ক্যাম্পাস রাজনীতিতে শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জনের পথেই হাঁটতে চান বিএম কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন
বরিশালের ঐতিহ্যবাহী সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের ইতিহাস যেমন শিক্ষা, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক চর্চার দীর্ঘ ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ, তেমনি সময়ের পরিক্রমায় এই ক্যাম্পাস থেকে উঠে এসেছেন অসংখ্য নেতৃত্ব, যারা পরবর্তীতে জাতীয় পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। প্রতিটি সময়েই নতুন প্রজন্মের কিছু তরুণ নিজেদের চিন্তা, কর্ম এবং নেতৃত্বের মাধ্যমে আলাদা করে পরিচিতি তৈরি করেন। তাঁদেরই একজন ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের (২০২০–২১ সেশন) এই শিক্ষার্থী বর্তমানে সরকারি বিএম কলেজ ছাত্রদলের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক। তবে তাঁর সঙ্গে দীর্ঘ আলাপচারিতায় সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি সামনে এসেছে, তা হলো—তিনি নিজের পরিচয়কে কোনো পদ বা রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না। বরং তিনি বিশ্বাস করেন, একজন ছাত্রনেতার প্রকৃত পরিচয় তাঁর দায়িত্ববোধ, মানবিকতা এবং শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতায়।
আলাপের শুরুতেই তিনি বলেন,
“একজন শিক্ষার্থীর দায়িত্ব শুধু নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলা নয়; সমাজ, রাষ্ট্র এবং মানুষের প্রতিও তার দায়িত্ব রয়েছে। আমি সবসময় চেষ্টা করি সেই দায়িত্ববোধ নিয়েই পথ চলতে।”
কথাগুলো বলার সময় তাঁর কণ্ঠে ছিল আত্মবিশ্বাস, তবে তার চেয়েও বেশি ছিল দায়িত্বশীলতার প্রতিফলন। পুরো কথোপকথনের প্রায় প্রতিটি অংশেই ফিরে এসেছে একটি শব্দ—দায়িত্ব। যেন নেতৃত্বকে তিনি ক্ষমতার নয়, বরং সেবার জায়গা থেকে দেখতে অভ্যস্ত।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পাঠ থেকে বাস্তব রাজনীতির অঙ্গনে
সরকারি বিএম কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে রাষ্ট্র, গণতন্ত্র, নাগরিক অধিকার ও রাজনৈতিক দর্শনের নানা তত্ত্ব প্রতিদিনই তাঁর পাঠ্যসূচির অংশ। কিন্তু তাঁর কাছে রাজনীতি কেবল পাঠ্যবইয়ের বিষয় নয়; বরং মানুষের জীবন, অধিকার এবং সমাজের বাস্তবতার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত একটি অধ্যায়।
তিনি মনে করেন, একজন শিক্ষার্থী যদি দেশের রাজনীতি, গণতন্ত্র এবং নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন না হন, তাহলে তাঁর শিক্ষা পূর্ণতা পায় না। তাই একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তব অভিজ্ঞতার ক্ষেত্র হিসেবেও তিনি ছাত্ররাজনীতিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।
তাঁর ভাষায়,
“ছাত্ররাজনীতি হচ্ছে নেতৃত্ব শেখার প্রথম বিদ্যালয়। এখানে দায়িত্ব নেওয়া শেখা যায়, মানুষের কথা শোনা শেখা যায়, ত্যাগের শিক্ষা পাওয়া যায়।”
যে আদর্শ তাঁকে রাজনীতির পথে নিয়ে এসেছে
ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিনের রাজনৈতিক যাত্রা কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্তের ফল নয়। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরেই দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং রাষ্ট্রচিন্তা তাঁকে আকৃষ্ট করেছে।
তিনি বলেন, তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের ভিত্তি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ার চিন্তা। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়ার গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলন এবং বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও রাষ্ট্রচিন্তা তাঁকে ছাত্ররাজনীতিতে সম্পৃক্ত হতে অনুপ্রাণিত করেছে।
তবে তাঁর মতে, রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানুষের সেবা।
“রাজনীতি যদি শুধু ক্ষমতা বা ব্যক্তিগত পরিচয়ের জন্য হয়, তাহলে সেটি প্রকৃত রাজনীতি নয়। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সমাজের কল্যাণ এবং দেশ গঠনের দায়িত্ববোধ থেকেই রাজনীতি করা উচিত। আমি সেই বিশ্বাস থেকেই এই পথে এসেছি।”
পদ নয়, শুরুটা ছিল একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে
বর্তমানে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করলেও নিজের শুরুর দিনগুলো ভুলে যাননি।
ওয়ালিদ জানান, সংগঠনে যোগ দেওয়ার সময় তাঁর সামনে কোনো পদ বা পরিচয়ের স্বপ্ন ছিল না। বরং তিনি বিশ্বাস করতেন, একজন কর্মীর প্রকৃত পরিচয় তাঁর নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা, ত্যাগ এবং সংগঠনের প্রতি আন্তরিকতার মধ্যেই নিহিত।
তিনি বলেন,
“আমি কখনো ভাবিনি কোথায় পৌঁছাব। আমি শুধু চেষ্টা করেছি দায়িত্ব পালন করতে। কঠিন সময়ে সহকর্মীদের সঙ্গে ছিলাম, সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ নিয়েছি এবং নিজের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চটুকু দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমার কাছে পদ কোনো গন্তব্য নয়; এটি মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিফলন।”
ধীরে ধীরে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে করতেই আজ তিনি বিএম কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক। তবে এই অর্জনকে তিনি শেষ নয়, বরং নতুন দায়িত্বের সূচনা হিসেবেই দেখেন।
সাধারণ কর্মী থেকে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক—এই যাত্রা যতটা সম্মানের, ততটাই দায়িত্বেরও। ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন মনে করেন, একটি ছাত্রসংগঠনের নেতৃত্বে থাকা মানে শুধু কর্মসূচি পরিচালনা করা নয়; বরং শত শত শিক্ষার্থীর প্রত্যাশা, অভিযোগ, স্বপ্ন এবং সংকটের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখা।
তিনি বলেন, “আমার কাছে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয় নয়। এটি শিক্ষার্থীদের দেওয়া আস্থার প্রতিফলন। সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করাই আমার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।”
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি এবং তাঁর সহকর্মীরা সংগঠনের কার্যক্রমকে কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন সমস্যার দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাঁর ভাষায়, ছাত্রসংগঠনের গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার ওপর।
‘শোনা’ থেকেই শুরু নেতৃত্ব
ওয়ালিদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে একটি বিষয় বারবার উঠে এসেছে—তিনি নেতৃত্বের প্রথম শর্ত হিসেবে শোনার ক্ষমতাকে গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন,
“আমরা অনেক সময় মনে করি নেতৃত্ব মানেই নির্দেশ দেওয়া। কিন্তু আমার বিশ্বাস, নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় শক্তি মানুষের কথা মন দিয়ে শোনা। একজন শিক্ষার্থী যখন নিজের সমস্যার কথা বলতে পারে, তখনই সে নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখতে শুরু করে।”
এই চিন্তা থেকেই দায়িত্ব নেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই কলেজে অভিযোগ ও পরামর্শ বক্স স্থাপন করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল এমন শিক্ষার্থীদের মতামত সংগ্রহ করা, যারা হয়তো সরাসরি কোনো নেতার কাছে গিয়ে নিজের সমস্যার কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না।
ওয়ালিদের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে একাডেমিক সমস্যা, ক্যাম্পাস-সংক্রান্ত অসুবিধা এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রত্যাশা সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হয়েছে।
প্রতিশ্রুতিবাস্তবায়নেরচেষ্টা
নির্বাচনের সময় শিক্ষার্থীদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়েও তিনি আশাবাদী।
তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর কলেজ প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। একাডেমিক পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষাসেবা-সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা এবং শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা চালুর উদ্যোগ তাঁর উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমগুলোর একটি বলে তিনি মনে করেন।
তবে তিনি এটিও স্বীকার করেন, সব উদ্যোগ তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না।
“অনেক বিষয় আছে, যেগুলো আমাদের একার সিদ্ধান্তে করা সম্ভব নয়। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া রয়েছে, বাস্তবতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করি সমস্যাগুলো যথাযথ জায়গায় তুলে ধরতে এবং সমাধানের পথ খুঁজতে।”
মানবিককাজেওসক্রিয়থাকারপ্রত্যয়
ওয়ালিদের মতে, একটি ছাত্রসংগঠন কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে তার উদ্দেশ্য পূরণ হয় না।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানো, সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া এবং সংকটের সময়ে সহমর্মিতা দেখানোও একজন ছাত্রনেতার দায়িত্বের অংশ।
“মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারলে তবেই নেতৃত্বের মূল্য আছে। শুধু মঞ্চে বক্তৃতা দিলেই নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় না।”
প্রত্যাশারচাপইসবচেয়েবড়চ্যালেঞ্জ
দায়িত্ব পালনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী—এই প্রশ্নের উত্তরে ওয়ালিদ কিছুটা ভেবেই উত্তর দেন।
“সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মানুষের প্রত্যাশা। শিক্ষার্থীরা চায় তাদের সমস্যা দ্রুত সমাধান হোক। কর্মীরাও চায় সংগঠন আরও সক্রিয় হোক। কিন্তু বাস্তবতার কারণে সবকিছু সঙ্গে সঙ্গে করা সম্ভব হয় না।”
তাঁর মতে, অনেক সময় প্রশাসনিক জটিলতা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা কিংবা নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে কাঙ্ক্ষিত কাজ বাস্তবায়নে সময় লাগে। তবুও ধৈর্য, নিয়মিত যোগাযোগ এবং আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হয়।
ক্যাম্পাসেসহাবস্থানেরপক্ষে
বর্তমান সময়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার খবর প্রায়ই সামনে আসে। তবে ওয়ালিদ মনে করেন, মতের ভিন্নতা গণতান্ত্রিক সমাজের স্বাভাবিক বিষয়।
“ভিন্নমত থাকতেই পারে। কিন্তু সেই ভিন্নমত যেন কখনো সংঘাতের কারণ না হয়। আমরা চাই একটি শান্তিপূর্ণ, সহনশীল ও শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস, যেখানে সব শিক্ষার্থী নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারবে।”
তিনি বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, মানবিকতা এবং সহমর্মিতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারলেই ক্যাম্পাসের পরিবেশ আরও ইতিবাচক হবে।
শিক্ষার্থীদেরআস্থা—সবচেয়েবড়প্রাপ্তি
দীর্ঘ আলাপের এক পর্যায়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় অর্জন কী?
ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিনের উত্তর ছিল সংক্ষিপ্ত, কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ।
“আমার কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন কোনো পদ নয়। যদি একজন সাধারণ শিক্ষার্থী বিশ্বাস করে যে প্রয়োজনের সময় আমি তার পাশে দাঁড়াব, সেটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
পড়াশোনা, নেতৃত্ব ও স্বপ্ন—একজন ছাত্রনেতার ব্যক্তিগত দর্শন
একজন ছাত্রনেতার কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি—রাজনীতি আর পড়াশোনা কি পাশাপাশি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব? অনেকের মতে, সাংগঠনিক ব্যস্ততা একাডেমিক জীবনে প্রভাব ফেলে। আবার কেউ মনে করেন, সময় ব্যবস্থাপনা জানলে দুটি ক্ষেত্রেই সফল হওয়া সম্ভব।
ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন দ্বিতীয় মতের পক্ষেই দাঁড়ান। তাঁর মতে, একজন ছাত্রনেতার সবচেয়ে বড় পরিচয় হওয়া উচিত তিনি একজন শিক্ষার্থী। সেই পরিচয়কে অক্ষুণ্ন রেখেই নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করতে হয়।
তিনি বলেন,
“সময় ব্যবস্থাপনাই সবচেয়ে বড় বিষয়। আমি সবসময় চেষ্টা করি পড়াশোনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সংগঠনের দায়িত্বও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে।”
তবে তিনি স্বীকার করেন, অতীতের রাজনৈতিক বাস্তবতা তাঁর শিক্ষাজীবনকে কিছুটা প্রভাবিত করেছে।
“বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে ছাত্রদলের একজন কর্মী হওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই আমার একাডেমিক কার্যক্রম কিছুটা বিঘ্নিত হয়েছিল। এখন চেষ্টা করছি রাজনীতির পাশাপাশি সেদিকেও সমান গুরুত্ব দিতে। কারণ একজন ছাত্রনেতা যদি নিজেই শিক্ষাজীবনে সফল না হন, তাহলে অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা হওয়া কঠিন।”
‘নেতৃত্ব মানে দায়িত্ব’
ওয়ালিদের সঙ্গে দীর্ঘ আলাপের পুরোটা জুড়ে একটি বিষয় সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে—তিনি নেতৃত্বকে কখনো ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে দেখেন না।
বরং তাঁর ভাষায়,
“নেতৃত্ব মানে সবার আগে দায়িত্ব নেওয়া। নেতৃত্ব মানে মানুষের কথা শোনা, সংকটে পাশে দাঁড়ানো এবং নিজের চেয়ে অন্যের প্রয়োজনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া।”
একজন আদর্শ ছাত্রনেতার কী গুণ থাকা উচিত—এই প্রশ্নে তিনি বলেন,
“আমার কাছে একজন আদর্শ ছাত্রনেতা সেই ব্যক্তি, যিনি আগে একজন ভালো মানুষ। যার মধ্যে সততা, সাহস, বিনয়, ত্যাগের মানসিকতা এবং মানুষের কথা মন দিয়ে শোনার ক্ষমতা থাকবে। নেতৃত্ব কখনো অহংকারের বিষয় নয়; এটি জবাবদিহির একটি জায়গা।”
চারটি মূল্যবোধে বিশ্বাস
ব্যক্তিগত জীবনেও কিছু নীতিকে তিনি সবসময় অনুসরণ করার চেষ্টা করেন।
সততা, দায়িত্ববোধ, মানবিকতা এবং দেশপ্রেম—এই চারটি শব্দই তাঁর কাছে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
তিনি বলেন,
“মানুষকে পদ দিয়ে নয়, চরিত্র দিয়ে মূল্যায়ন করা উচিত। পদ একদিন থাকবে না, কিন্তু একজন মানুষের ব্যবহার, সততা এবং কর্মই তাকে মানুষের মনে বাঁচিয়ে রাখে।”
স্বপ্ন শুধু রাজনীতি নয়, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও
বিএম কলেজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ওয়ালিদের চোখে আলাদা উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
তিনি চান, কলেজটি শুধু ঐতিহ্যের জন্য নয়, শিক্ষার মান, গবেষণা, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশের দিক থেকেও দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হোক।
তাঁর স্বপ্নের তালিকায় রয়েছে—
ক্যারিয়ার অ্যান্ড স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেল,
উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ার গাইডেন্স ডেস্ক,
জরুরি শিক্ষার্থী সহায়তা তহবিল,
নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম,
প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শিক্ষা-সহায়ক ব্যবস্থা।
তিনি বলেন,
“আমি চাই ছাত্রসংগঠন শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকুক। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনেরও একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হোক। একজন শিক্ষার্থী যেন শুধু একটি ডিগ্রি নয়, দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস এবং নেতৃত্বের গুণ নিয়েও কলেজ থেকে বের হতে পারে।”
ভবিষ্যৎ নিয়ে অন্যরকম ভাবনা
অনেকেই ভবিষ্যৎ নিয়ে নির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা বলেন। কিন্তু ওয়ালিদের উত্তর ছিল কিছুটা ভিন্ন।
তিনি বলেন,
“আমি ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব বেশি পরিকল্পনা করি না। মানুষ মরণশীল। কখন, কোথায় এবং কীভাবে জীবনের সমাপ্তি হবে, তা একমাত্র মহান আল্লাহই জানেন। তাই আমি পদ নয়, প্রতিটি দিন যেন সততা, দায়িত্ববোধ এবং মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে পারি, সেই চেষ্টাই করি।”
কিছুক্ষণ থেমে তিনি আরও যোগ করেন,
“আমার একটাই প্রত্যাশা—যেদিন এই পৃথিবী থেকে বিদায় নেব, সেদিন মানুষ যেন আমাকে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এবং দোয়ার সঙ্গে স্মরণ করে। যদি একজন সৎ, দায়িত্বশীল ও মানবিক মানুষ হিসেবে মানুষের হৃদয়ে সামান্য জায়গাও করে নিতে পারি, সেটাই হবে আমার সবচেয়ে বড় অর্জন।”
নতুন প্রজন্মের প্রতি বার্তা
ছাত্ররাজনীতিতে আসতে আগ্রহী নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য তাঁর পরামর্শও বেশ স্পষ্ট।
“প্রথমে নিজেকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলুন। পড়াশোনাকে গুরুত্ব দিন। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকুন। রাজনীতিকে কখনো ব্যক্তিগত লাভের মাধ্যম হিসেবে নয়, মানুষের সেবার একটি মহৎ দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করুন। আদর্শ, শৃঙ্খলা ও ত্যাগ ছাড়া প্রকৃত নেতৃত্ব সৃষ্টি হয় না।”
শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে
আলাপের শেষদিকে কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের উদ্দেশে নিজের বার্তা তুলে ধরেন ওয়ালিদ।
তিনি বলেন,
“শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। নৈতিক মূল্যবোধ এবং দেশপ্রেম ধারণ করে নিজেকে একজন যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আমাদের শিক্ষকরা শুধু পাঠদান করেন না, তাঁরা আমাদের পথপ্রদর্শক। আর অভিভাবকদের প্রতি আমার অনুরোধ, সন্তানদের শুধু ভালো ফলাফলের জন্য নয়, একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে উৎসাহিত করুন। আমরা সবাই যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল হই, তাহলে আমাদের কলেজ, সমাজ এবং বাংলাদেশ অবশ্যই আরও সুন্দর ও সমৃদ্ধ হবে।”
শেষকথা
কথোপকথন শেষে ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিনকে বিদায় জানিয়ে বেরিয়ে আসার সময় মনে হচ্ছিল, তাঁর কথাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত শব্দ ছিল—দায়িত্ব।
রাজনীতির উত্তাপ, সাংগঠনিক ব্যস্ততা কিংবা নেতৃত্বের আলোচনার ভিড়েও তিনি বারবার ফিরে গেছেন মানুষের কাছে, শিক্ষার্থীদের কাছে, দায়িত্বের কাছে।
ভবিষ্যতে তাঁর পথচলা কোন দিকে যাবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—নিজের ভাষায় তিনি যে পরিচয়টি সবচেয়ে বেশি ধারণ করতে চান, সেটি কোনো পদবির নয়; একজন দায়িত্বশীল, মানবিক এবং শিক্ষার্থীদের আস্থার জায়গা হয়ে ওঠা মানুষের।
আর হয়তো এ কারণেই তাঁর একটি বাক্য দীর্ঘ আলাপের পরও মনে থেকে যায়—
“পদ একদিন শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু মানুষের ভালোবাসা ও বিশ্বাসই একজন মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়।”
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরিশাল। | 28 September 2026, 9:40 pm
দৈনিক বরিশাল প্রতিদিনের বার্তা সম্পাদক বেলায়েত বাবলুর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে গেছেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা বরিশাল জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ।
২৮ সেপ্টেম্বর (সোমবার) দুপুরে শেবাচিম হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন বেলায়েত বাবলুকে দেখতে যান তারা। এ সময় নেতৃবৃন্দ তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসার বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি ও দৈনিক বর্তমান’র ব্যুরো চিফ মোঃ মামুন-অর-রশিদ, সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ টুডের ব্যুরো চিফ জিহাদ রানা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও দৈনিক বর্তমান’র ফটোসাংবাদিক পারভেজ সরদার, প্রচার সম্পাদক ও দৈনিক দক্ষিণাঞ্চলের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার এম সাইফুল ইসলাম, নির্বাহী সদস্য ও সকাল সংবাদ-এর সম্পাদক সিহাব তোহাসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিক বেলায়েত বাবলুর দ্রুত সুস্থতা কামনা করে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার নেতৃবৃন্দ তার জন্য সবার কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেন। সম্প্রতি বুকে ব্যাথা ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তিন বাবলু। তার হার্টের সমস্যা থাকায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা হৃদরোগ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার জন্য রেফার করা হয়েছে।
ডিজিটাল যুগে অপতথ্য রোধে তথ্যপ্রকাশ নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং জনগণের তথ্যের অবাধ প্রবাহ ও অভিগম্যতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করতে তথ্য অধিকার আইনের সঠিক বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক তথ্য জানার অধিকার দিবস-২০২৬ উপলক্ষে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বরিশালে আয়োজিত র্যালি ও আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য নিশ্চিতকরণ: অপতথ্য রোধে তথ্য অধিকারের ভূমিকা’। দিবসটি উপলক্ষে বরিশাল জেলা প্রশাসন, সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-টিআইবি ও বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) যৌথভাবে র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করে।
সকাল সাড়ে ১১টায় র্যালি শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সালমা পারভীনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. মামুন খান্দকার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাসুম বিল্লাহ ও ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মুনশী মুবিনুল হক। এছাড়া সনাক-টিআইবি বরিশালের সভাপতি টুনু রানী কর্মকারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে নাগরিকের চিন্তা, বিবেক ও বাক্স্বাধীনতাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যার অবিচ্ছেদ্য অংশ তথ্য অধিকার। তথ্য অধিকার আইন শক্তিশালী হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এখনও বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ও প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। অবাধ তথ্যপ্রাপ্তি সুশাসন নিশ্চিত ও দুর্নীতি প্রতিরোধের অন্যতম পূর্বশর্ত।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. মামুন খান্দকার বলেন, তথ্য অধিকার জনগণের একটি গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক অধিকার এবং স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। ডিজিটাল যুগে তথ্যের অবাধ প্রবাহ মানুষের জীবনকে সহজ করলেও ভুল, বিভ্রান্তিকর ও গুজবনির্ভর তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, শুধু তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; জনগণের কাছে সময়োপযোগী, সঠিক, নির্ভরযোগ্য ও যাচাইযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়াও দায়িত্ব। তথ্যের অবাধ প্রবাহ ও অভিগম্যতা নিশ্চিত করতে তথ্য অধিকার আইনের সঠিক বাস্তবায়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সনাকের সভাপতি টুনু রানী কর্মকার বলেন, সরকারি দপ্তরগুলোকে তথ্যের স্বপ্রণোদিত প্রকাশ বাড়াতে হবে এবং তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী নাগরিকদের তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ আরও সহজ ও কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে জনগণকেও তথ্য যাচাই করে গ্রহণ ও প্রচারে সচেতন হতে হবে।
আলোচনা সভায় আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস-২০২৬ উপলক্ষে সর্বজনীন তথ্য অধিকার, প্রবেশগম্যতা ও জন-অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে টিআইবির ১৬ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে তথ্য কমিশন পুনর্গঠন, যোগ্য ও দলীয় প্রভাবমুক্ত ব্যক্তিদের কমিশনার হিসেবে নিয়োগ, কমিশনের জনবল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়।
অনুষ্ঠানে জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, যুব প্রতিনিধি, উন্নয়ন সংগঠক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, টিআইবির সনাক, ইয়েস ও এসিজি সদস্য এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা অংশ নেন।
বরিশালের উজিরপুরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের আটিপাড়া এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিন তরুণ নিহত হয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- উজিরপুর উপজেলার বামরাইল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আটিপাড়া গ্রামের তাওহী ও সৌরভ এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ধামসর গ্রামের মুত্তাকিন।
স্থানীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর মোহাম্মদ লালন ফকির নিহত তিন তরুণের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় কয়েকজন জানান, তিনজনই এ বছর একসঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলেন এবং পরস্পরের বন্ধু ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় ব্যবসায়ী সেলিম সরদার জানান, ঢাকা থেকে বরিশালগামী মোটরসাইকেলটির সঙ্গে ঢাকাগামী একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলটি ছিটকে পড়ে।
বাসটি ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার উত্তরে গিয়ে থামে। পরে বাসের চালক ও হেলপার পালিয়ে যান বলে জানান তিনি।
দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটার এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে উজিরপুর মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম তিনজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ মরদেহগুলো উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।
দুর্ঘটনার কারণ ও বাসটির চালক-হেলপারের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
Search
Cookie Consent
We use cookies to improve your experience on our site. By using our site, you consent to cookies.
Contains information related to marketing campaigns of the user. These are shared with Google AdWords / Google Ads when the Google Ads and Google Analytics accounts are linked together.
90 days
__utma
ID used to identify users and sessions
2 years after last activity
__utmt
Used to monitor number of Google Analytics server requests
10 minutes
__utmb
Used to distinguish new sessions and visits. This cookie is set when the GA.js javascript library is loaded and there is no existing __utmb cookie. The cookie is updated every time data is sent to the Google Analytics server.
30 minutes after last activity
__utmc
Used only with old Urchin versions of Google Analytics and not with GA.js. Was used to distinguish between new sessions and visits at the end of a session.
End of session (browser)
__utmz
Contains information about the traffic source or campaign that directed user to the website. The cookie is set when the GA.js javascript is loaded and updated when data is sent to the Google Anaytics server
6 months after last activity
__utmv
Contains custom information set by the web developer via the _setCustomVar method in Google Analytics. This cookie is updated every time new data is sent to the Google Analytics server.
2 years after last activity
__utmx
Used to determine whether a user is included in an A / B or Multivariate test.
18 months
_ga
ID used to identify users
2 years
_gali
Used by Google Analytics to determine which links on a page are being clicked
30 seconds
_ga_
ID used to identify users
2 years
_gid
ID used to identify users for 24 hours after last activity
24 hours
_gat
Used to monitor number of Google Analytics server requests when using Google Tag Manager
1 minute
Jetpack's built-in visitor analytics. It records page views, referring sites, search terms, and outbound link clicks, and also carries the shared visitor-tracking library used by Jetpack Instant Search and WooCommerce Analytics.