ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তিতে জুলাই ঘোষণাপত্র দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আজ মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার পর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় এই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউনূস। এ সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই ঘোষণাপত্রে যা আছে…
১। যেহেতু উপনিবেশ বিরোধী লড়াইয়ের সুদীর্ঘকালের ধারাবাহিকতায় এই ভূখণ্ডের মানুষ দীর্ঘ ২৩ বছর পাকিস্তানের স্বৈরশাসকদের বঞ্চনা ও শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল এবং নির্বিচার গণহত্যার বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করে জাতীয় মুক্তির লক্ষ্যে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিল;
এবং
২। যেহেতু, বাংলাদেশের আপামর জনগণ দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এই ভূখণ্ডে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে বিবৃত সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের ভিত্তিতে উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়নের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছে;
এবং
৩। যেহেতু স্বাধীন বাংলাদেশের ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়ন পদ্ধতি, এর কাঠামোগত দুর্বলতা ও অপপ্রয়োগের ফলে স্বাধীনতা-পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযুদ্ধের জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছিল এবং গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা ক্ষুণ্ন করেছিল;
এবং
৪। যেহেতু স্বাধীনতা-পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকার স্বাধীনতার মূলমন্ত্র গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বিপরীতে বাকশালের নামে সাংবিধানিকভাবে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করে এবং মতপ্রকাশ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ করে, যার প্রতিক্রিয়ায় ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশে সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লব সংঘটিত হয় এবং পরবর্তী সময়ে একদলীয় বাকশাল পদ্ধতির পরিবর্তে বহুদলীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃপ্রবর্তনের পথ সুগম হয়,
এবং
৫। যেহেতু আশির দশকে সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ নয় বছর ছাত্র-জনতার অবিরাম সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয় এবং ১৯৯১ইং সনে পুনরায় সংসদীয় গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।
এবং
৬। যেহেতু দেশি-বিদেশি চক্রান্তে সরকার পরিবর্তনের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় ১/১১ -এর ষড়যন্ত্রমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার একচ্ছত্র ক্ষমতা, আধিপত্য ও ফ্যাসিবাদের পথ সুগম করা হয়;
এবং
৭। যেহেতু গত দীর্ঘ ষোল বছরের ফ্যাসিবাদী, অগণতান্ত্রিক এবং গণবিরোধী শাসনব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যে এবং একদলীয় রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অতি উগ্র বাসনা চরিতার্থ করার অভিপ্রায়ে সংবিধানের অবৈধ ও অগণতান্ত্রিক পরিবর্তন করা হয় এবং যার ফলে একদলীয় একচ্ছত্র ক্ষমতা ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়;
এবং
৮। যেহেতু শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসন, গুম-খুন, আইন-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ এবং একদলীয় স্বার্থে সংবিধান সংশোধন ও পরিবর্তন বাংলাদেশের সকল রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে ধ্বংস করে;
এবং
৯। যেহেতু, হাসিনা সরকারের আমলে তারই নেতৃত্বে একটি চরম গণবিরোধী, একনায়কতান্ত্রিক, ও মানবাধিকার হরণকারী শক্তি বাংলাদেশকে একটি ফ্যাসিবাদী, মাফিয়া এবং ব্যর্থ রাষ্ট্রের রূপ দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে;
এবং
১০। যেহেতু, তথাকথিত উন্নয়নের নামে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী নেতৃত্বে সীমাহীন দুর্নীতি, ব্যাংক লুট, অর্থ পাচার ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসের মধ্য দিয়ে বিগত পতিত দুর্নীতিবাজ আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশ ও এর অমিত অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে বিপর্যস্ত করে তোলে এবং এর পরিবেশ, প্রাণবৈচিত্র্য ও জলবায়ুকে বিপন্ন করে;
এবং
১১। যেহেতু শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দল, ছাত্র ও শ্রমিক সংগঠনসহ সমাজের সর্বস্তরের জনগণ গত প্রায় ষোল বছর যাবত নিরন্তর গণতান্ত্রিক সংগ্রাম করে জেল-জুলুম, হামলা-মামলা, গুম-খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়;
এবং
১২। যেহেতু বাংলাদেশে বিদেশি রাষ্ট্রের অন্যায় প্রভুত্ব, শোষণ ও খবরদারিত্বের বিরুদ্ধে এদেশের মানুষের ন্যায়সংগত আন্দোলনকে বহিঃশক্তির তাবেদার আওয়ামী লীগ সরকার নিষ্ঠুর শক্তিপ্রয়োগের মাধ্যমে দমন করে;
এবং
১৩। যেহেতু অবৈধভাবে ক্ষমতা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগ সরকার তিনটি প্রহসনের নির্বাচনে (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ এর জাতীয় সংসদ নির্বাচন) এদেশের মানুষকে ভোটাধিকার ও প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত করে;
এবং
১৪। যেহেতু, আওয়ামী লীগ আমলে ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, শিক্ষার্থী ও তরুণদের নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতন করা হয় এবং সরকারি চাকুরিতে একচেটিয়া দলীয় নিয়োগ ও কোটাভিত্তিক বৈষম্যের কারণে ছাত্র, চাকুরি প্রত্যাশী ও নাগরিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের জন্ম হয়;
এবং
১৫। যেহেতু বিরোধী রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের ওপর চরম নিপীড়নের ফলে দীর্ঘদিন ধরে জনরোষের সৃষ্টি হয় এবং জনগণ সকল বৈধ প্রক্রিয়া অবলম্বন করে ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই চালিয়ে যায়;
এবং
১৬। যেহেতু, সরকারি চাকরিতে বৈষম্যমূলক কোটাব্যবস্থার বিলোপ ও দুর্নীতি প্রতিরোধে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক ব্যাপক দমন-পীড়ন, বর্বর অত্যাচার ও মানবতাবিরোধী হত্যাকাণ্ড চালানো হয়, যার ফলে সারা দেশে দল-মত নির্বিশেষে ছাত্র-জনতার উত্তাল গণবিক্ষোভ গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়;
এবং
১৭। যেহেতু ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে অদম্য ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক দল, ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী, শ্রমিক সংগঠনসহ সমাজের সকল স্তরের মানুষ যোগদান করে এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদী বাহিনী রাজপথে নারী-শিশুসহ প্রায় এক হাজার মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করে, অগণিত মানুষ পঙ্গুত্ব ও অন্ধত্ব বরণ করে এবং আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে সামরিক বাহিনীর সদস্যগণ জনগণের গণতান্ত্রিক লড়াইকে সমর্থন প্রদান করে;
এবং
১৮। যেহেতু, অবৈধ শেখ হাসিনা সরকারের পতন, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের লক্ষ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে জনগণ অসহযোগ আন্দোলন শুরু করে, পরবর্তী সময়ে ৫ আগস্ট ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ পরিচালনা করে এবং ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনরত সকল রাজনৈতিক দল, ছাত্র-জনতা তথা সর্বস্তরের সকল শ্রেণি, পেশার আপামর জনসাধারণের তীব্র আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে গণভবনমুখী জনতার উত্তাল যাত্রার মুখে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়;
এবং
১৯। যেহেতু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট মোকাবেলায় গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ব্যক্ত জনগণের সার্বভৌমত্বের প্রত্যয় ও প্রয়োগ রাজনৈতিক ও আইনি উভয় দিক থেকে যুক্তিসংগত, বৈধ ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত;
এবং
২০। যেহেতু জনগণের দাবি অনুযায়ী এরপর অবৈধ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়া হয় এবং সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে সুপ্রীম কোর্টের মতামতের আলোকে সাংবিধানিকভাবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ৮ আগস্ট ২০২৪ তারিখে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়;
এবং
২১। যেহেতু, বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণের ফ্যাসিবাদবিরোধী তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদ, বৈষম্য ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণের অভিপ্রায় প্রকাশিত হয়;
এবং
২২। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ সুশাসন ও সুষ্ঠু নির্বাচন, ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ, আইনের শাসন এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে বিদ্যমান সংবিধান ও সকল রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের গণতান্ত্রিক সংস্কার সাধনের অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে;
এবং
২৩। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ বিগত ষোল বছরের দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রাম কালে এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালীন সময়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক সংঘটিত গুম-খুন, হত্যা, গণহত্যা, মানবতা বিরোধী অপরাধ ও সকল ধরনের নির্যাতন, নিপীড়ন এবং রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি লুণ্ঠনের অপরাধসমূহের দ্রুত উপযুক্ত বিচারের দৃঢ় অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে;
এবং
২৪। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদদের জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করে শহীদদের পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনকারী ছাত্রজনতাকে প্রয়োজনীয় সকল আইনি সুরক্ষা দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।
এবং
২৫। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ যুক্তিসংগত সময়ে আয়োজিতব্য অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদে প্রতিশ্রুত প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে দেশের মানুষের প্রত্যাশা, বিশেষত তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আইনের শাসন ও মানবাধিকার, দুর্নীতি, শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন ও মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।
এবং
২৬। সেহেতু বাংলাদেশের জনগণ এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছে যে একটি পরিবেশ ও জলবায়ু সহিষ্ণু অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়ন কৌশলের মাধ্যমে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার সংরক্ষিত হবে।
এবং
২৭। বাংলাদেশের জনগণ এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে যে, ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হবে এবং পরবর্তী নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের সংস্কারকৃত সংবিধানের তফসিলে এ ঘোষণাপত্র সন্নিবেশিত থাকবে।
এবং
২৮। ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে বিজয়ী বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে এই ঘোষণাপত্র প্রণয়ন করা হলো।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপকের ছেলে অপ্রতিম হত্যার ক্লু শনাক্ত করা এবং প্রকৃত হত্যাকারীকে গ্রেফতার না করা পর্যন্ত এ ঘটনায় ননস্টপ কাজ করে যাবেন বলে জানিয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
পুলিশ সুপার বলেন, কিছু তথ্যপ্রযুক্তিগত বিষয়সহ তদন্তের জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন। ঘটনাটি সবাইকে কাঁদিয়েছে। ছোট্ট নিষ্পাপ একটি শিশুর সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, ঘটনার মোটিভসহ সবকিছু খুব শিগগিরই তদন্ত করে জানানো হবে।
এ ঘটনায় আটক একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আটক ব্যক্তির মোবাইল, প্রযুক্তিগত তথ্য, লোকেশন এবং অপ্রতিমের অবস্থান—সবকিছু মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। যাকে আটক করা হয়েছে, সে নির্দোষও হতে পারে, আবার জড়িতও হতে পারে। তাই তদন্তের এ পর্যায়ে মূল হত্যাকারীরা যেন কোনো তথ্য পেয়ে আত্মগোপনে যেতে না পারে, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই কাজ করা হচ্ছে।
এদিকে, আজ অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে তার মা বলছিলেন, আমার ছোট্ট ছেলে কী অন্যায় করেছে, আমি এটার জবাব চাই। আমি কোনো বিচার মানিনা। আমাকে উত্তর দিতে হবে।
প্রসঙ্গত, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যায়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে অপ্রতিমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী জঙ্গল লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
এর আগে, শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হয়ে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। পরে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
আমার ছোট্ট ছেলে কী অন্যায় করেছে, আমি এটার জবাব চাই। আমি কোনো বিচার মানিনা। আমাকে উত্তর দিতে হবে। অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন কুমিল্লায় মৃত উদ্ধার ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিমের মা নাহিদা বেগম। তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্থানীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী শোকসন্তপ্ত পরিবারের সাথে দেখা করতে যান। তিনি গিয়ে বিলাপ করতে দেখেন সন্তানহারা মা’কে।
নাহিদা বেগম বলতে থাকেন, আমি কোন দেশে থাকি? এটা কোন দেশ? একটা ছেলে বের হলে তাকে মেরে ফেলতে হবে?
নাহিদা আর্তনাদ করতে করতে বলেন, আমি বাঁচব ক্যামনে? আমার তো একটাই ছেলে!আমি ক্যামনে আমার জীবন কাটাব? আমি আমার জীবন পার করবো ক্যামনে?
পরে সামনে আসেন শিশুর বাবাও। তিনিও অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ফোনটা নেওয়ার জন্য মেরে ফেললো আমার ছেলেকে!
এসময় উপস্থিত এমপি মনিরুল হকও কাঁদতে থাকেন। তাকেও হতবিহ্বল হয়ে চোখের জল মুছতে দেখা যায়।
বরিশালের বাকেরগঞ্জে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ঘুমন্ত স্ত্রীকে ধারালো বটি দিয়ে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে ইমরান হোসেন উজ্জ্বল নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। মেয়েকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাঁর শ্বশুর ও শাশুড়িকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখান থেকেই অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশ।
আহতরা হলেন—ইমরানের স্ত্রী রুমানা আক্তার (২১), শ্বশুর মাহবুব আলম মিন্টু হাওলাদার (৫৮) ও শাশুড়ি মাহমুদা বেগম (৫৫)। গুরুতর অবস্থায় তাঁদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টার দিকে উপজেলার দাঁড়িয়াল ইউনিয়নের উত্তমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ইমরান একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক বিরোধের জেরে ভোরে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ঘুমন্ত স্ত্রী রুমানাকে ধারালো বটি দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন ইমরান। রুমানার চিৎকার শুনে তাঁর বাবা-মা ছুটে এলে তাঁদের ওপরও হামলা চালানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে, তিনজনকে আহত করার পর ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান ইমরান। পরে আহতদের আর্তচিৎকার শুনে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
পুলিশের ভাষ্য, ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করে ইমরান নিজেও শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। খবর পেয়ে সকাল ১০টার দিকে হাসপাতাল থেকেই তাঁকে আটক করে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ।
বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি আদিল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নেশাগ্রস্ত জামাইয়ের হামলায় স্ত্রী, শ্বশুর ও শাশুড়ি গুরুতর আহত হয়েছেন। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি বলেন, হামলার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
উত্তর আন্দামান সাগরে থাইল্যান্ড উপকূলের কাছে সৃষ্টি হয়েছে একটি ঘূর্ণাবর্ত। অনুকূল পরিবেশ পেলে এটি শক্তি সঞ্চয় করে আজ সন্ধ্যার মধ্যে নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে। পরবর্তী সময়ে আরও শক্তিশালী হলে ঘূর্ণিঝড়েও পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হলে এর নাম হবে ‘অর্ণব’—নামটি দিয়েছে বাংলাদেশ।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের (আইএমডি) বরাতে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছে নিউজ১৮ বাংলা।
আইএমডির পূর্বাভাস বলছে, ২১ বা ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ঘূর্ণাবর্তটি শক্তিশালী হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর এটি অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা উপকূলের দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে আজ থেকে সোমবার পর্যন্ত উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও বজ্রপাতের পাশাপাশি দমকা হাওয়াও বইতে পারে। বৃষ্টির আওতায় আসতে পারে ওড়িশা, তেলেঙ্গানা, ছত্তিশগড় ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা।
এদিকে বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণাবর্ত ও মৌসুমি অক্ষরেখার প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় টানা বৃষ্টি হচ্ছে। সৌরাষ্ট্র থেকে বঙ্গোপসাগর এবং সিকিম থেকে উত্তর ওড়িশা পর্যন্ত বিস্তৃত অক্ষরেখার কারণে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জেলায় আজ বজ্রসহ বৃষ্টি ও ঘণ্টায় ৩০–৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এরই মধ্যে কয়েকটি জেলায় জারি করা হয়েছে হলুদ সতর্কতা। উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকাতেও বিচ্ছিন্নভাবে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে।
তবে ঘূর্ণাবর্তটি এখনো ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে—এমন নয়। পরবর্তী সময়ে এর গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের ওপরই পরিস্থিতি নির্ভর করবে।’
পাকিস্তানে আত্মঘাতী হামলায় পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৫৭ জন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কোহাট শহরে জুমার নামাজের সময় এ হামলা হয়। পুলিশ কম্পাউন্ডের ভেতরের মসজিদে তখন পুলিশ সদস্য ও তাঁদের পরিবারের অনেকে নামাজ আদায় করছিলেন।
পুলিশের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি পুলিশ কম্পাউন্ডের বাইরের দেয়ালে আঘাত করে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। একই সময়ে সশস্ত্র হামলাকারীরা কম্পাউন্ডে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলি শুরু হয়।
বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির পর নিরাপত্তা বাহিনী এবং উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি। পাকিস্তানি তালেবান বা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এ হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বাকেরগঞ্জে স্কুলে চুরির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটেছে চরামদ্দী ইউনিয়নের পশ্চিম বাদলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। চোরেরা বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, সাউন্ডবক্স ও নগদ টাকা নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অফিস কক্ষের পাশাপাশি আলমারি, ক্যাবিনেট ও শোকেসের তালাও ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। বিদ্যালয় থেকে একটি ল্যাপটপ, একটি প্রজেক্টর ও একটি সাউন্ডবক্স খোয়া গেছে। এছাড়া আলমারিতে রাখা ছয় হাজারের বেশি টাকাও পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতের কোনো এক সময়ে ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বুধবার বিকেল ৪টায় বিদ্যালয় ছুটি হওয়ার পর শিক্ষকরা বিদ্যালয় থেকে চলে যান।
বৃহস্পতিবার সকালে শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে এসে অফিস কক্ষের তালা ভাঙা দেখতে পান। পরে ভেতরে প্রবেশ করে আলমারি, ক্যাবিনেট ও শোকেসের তালাও ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান।
সহকারী শিক্ষিকা শামীমা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রতিদিন বিকেল ৪টায় বিদ্যালয় ছুটি হয়। এরপর শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে থাকেন না। সকালে এসে তারা অফিস কক্ষের তালা ভাঙা দেখতে পান।
পরে বিদ্যালয়ের মালামাল পরীক্ষা করে একটি ল্যাপটপ, প্রজেক্টর ও সাউন্ডবক্স পাওয়া যায়নি। আলমারিতে রাখা টাকাও খোয়া গেছে বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
বাকেরগঞ্জে স্কুলে চুরির ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে চুরির সঙ্গে কারা জড়িত, তা জানা যায়নি। চুরি হওয়া মালামালের হিসাব যাচাই করা হচ্ছে।
আকাশ, ঝালকাঠি প্রতিনিধি | 16 September 2026, 9:06 pm
এসো রক্তদানে এগিয়ে যাই’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) ঝালকাঠি প্রেসক্লাব অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন ‘YAS Blood Bank’ (ইয়াস ব্লাড ব্যাংক)-এর ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উৎসব।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা সভা, কেক কাটা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের রক্তযোদ্ধা এবং বিভিন্ন রক্তদান সংগঠনের দায়িত্বশীলদের আন্তরিক আমন্ত্রণ জানিয়েছে সংগঠন কর্তৃপক্ষ।
অনুষ্ঠানের সময় ও স্থান:
তারিখ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শুক্রবার
সময়: বিকাল ৪টা
স্থান: অডিটোরিয়াম, প্রেসক্লাব, ঝালকাঠি
📝 যেভাবে রেজিস্ট্রেশন করবেন:
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য কোনো ফি লাগবে না (সম্পূর্ণ ফ্রি)। তবে আসন সংখ্যা সীমিত থাকায় এবং সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার জন্য আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) রাত ১০টার মধ্যে অনলাইনে ফর্ম পূরণ করে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।
রেজিস্ট্রেশনের সহজ ধাপসমূহ:
আবেদন ফর্ম :
🔗 উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ ফর্ম: (ফ্রি)
https://forms.gle/tvmDZvLMXo1NwLoX6
প্রথমে আপনার মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে এই গুগল ফর্ম লিংকে প্রবেশ করুন: https://forms.gle/tvmDZvLMXo1NwLoX6
ফর্মে আপনার নাম, মোবাইল নম্বর এবং আপনি কোনো রক্তদান সংগঠনের সাথে যুক্ত আছেন কিনা তা সঠিকভাবে লিখুন।
সব তথ্য দেওয়া শেষে ‘Submit’ বাটনে ক্লিক করলেই আপনার রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়ে যাবে।
(নিউজ পোর্টালে সরাসরি রেজিস্ট্রেশন করতে এই লিংকে ক্লিক করুন: রেজিস্ট্রেশন ফর্ম লিংক)
প্রয়োজনে যোগাযোগ: যেকোনো তথ্যের জন্য বা রেজিস্ট্রেশনে কোনো সমস্যা হলে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন এই নম্বরগুলোতে: 📞 01739158800 📞 01929688031
ইয়াস ব্লাড ব্যাংকের দায়িত্বশীলরা জানান, রক্তযোদ্ধাদের এই মিলনমেলাকে আরও অর্থবহ ও সফল করে তুলতে সবার উপস্থিতি এবং সহযোগিতা একান্ত কাম্য।
আকাশ, ঝালকাঠি প্রতিনিধি | 14 September 2026, 8:20 pm
ঝালকাঠির ধানসিঁড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইয়ুথ অ্যাকশন সোসাইটি (YAS)-এর উদ্যোগে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক সেমিনার ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখর হালদার-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক অলক সাহ্। সেমিনারে বক্তারা বর্তমান সময়ে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা তুলে ধরে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং বিদ্যালয়ের চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি তথ্যবহুল সচেতনতামূলক সেমিনার পরিচালনা করেন ইয়াসের ভলান্টিয়ার আকাশ ও এশা। সেমিনার শেষে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বিষয়ের ওপর একটি আকর্ষণীয় কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। পরে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার হিসেবে জনপ্রিয় কিশোর পত্রিকা তুলে দেওয়া হয়।
দিনব্যাপী এই ব্যতিক্রমী কর্মসূচি সফল করতে বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দের পাশাপাশি নিরলসভাবে কাজ করেন ইয়ুথ অ্যাকশন সোসাইটির ভলান্টিয়ার রাহাত, আমিনুল, সিফাত, বিজু, রিয়াদ, নাইম, আশা ও মোহেবুল্লাহ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা তরুণদের এই মানবিক ও সচেতনতামূলক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমাজের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে বরিশাল জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ (কলেজ পর্যায়) নির্বাচিত হয়েছেন সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. শেখ মোঃ তাজুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সম্মাননা স্মারক ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোঃ মামুন খন্দকার তাঁর হাতে সম্মাননা তুলে দেন। জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আঃ জব্বারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্মাননা গ্রহণের পর অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. শেখ মোঃ তাজুল ইসলাম বলেন, জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ নির্বাচিত হওয়া আনন্দ ও গৌরবের। এ স্বীকৃতি শুধু তাঁর একার নয়, এটি পুরো বিএম কলেজ পরিবারের অর্জন। তিনি তাঁর সম্মাননা বিএম কলেজের সকল শিক্ষার্থীর প্রতি উৎসর্গ করেন।
তিনি আরও বলেন, তাঁর এ অর্জন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে শিক্ষার্থীরা আগামী দিনে নিজেদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে এটাই তাঁর প্রত্যাশা। আগামী শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠে দেশ ও জাতির সেবায় শিক্ষার্থীরা আত্মনিয়োগ করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. শেখ মোঃ তাজুল ইসলাম জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক এবং বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ নির্বাচিত হন। টানা দু’বার শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ নির্বাচিত হওয়ায় তাঁর এ অর্জনে বিএম কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের মধ্যে আনন্দ ও উদ্দীপনা বিরাজ করছে।