কোটাবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বেশ কয়েকটি হলে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে হল কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (১৭ জুলাই) মধ্যরাত থেকে এ ঘোষণা দেওয়া শুরু হয়।
এখন পর্যন্ত যেসব হলে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে সেগুলো হলো- শহীদুল্লাহ হল, ফজলুল হক মুসলিম হল, অমর একুশে হল, রোকেয়া হল, মহসীন হল, কুয়েত মৈত্রী হল, জহুরুল হক হল, শামসুননাহার হল, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, সুফিয়া কামাল হল।
রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণার পাশাপাশি আরও কয়েকটি নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল
হলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা একযোগে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। বুধবার দিবাগত রাত দেড়টায় হলের শিক্ষার্থীরা এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। লিখিত অঙ্গীকারনামায় হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ফারহানা বেগম স্বাক্ষর করেন।
অঙ্গীকারনামায় শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের সাধারণ শিক্ষার্থী এই মর্মে লিখিত নিচ্ছি যে, আজ ১৭. ০৭. ২০২৪ থেকে বঙ্গমাতা হলে কোনো রাজনৈতিক গণরুম থাকবে না এবং কোনো ধরনের রাজনৈতিক (ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, যুবদল, ছাত্রফ্রন্ট, জামায়াত, শিবির) ইত্যাদি দল ও তাদের কার্যক্রম থাকবে না। আমরা হলের মেয়েরা যদি এসব দলের দ্বারা কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হই তাহলে এই দায় প্রশাসন ও হল প্রভোস্টকে নিতে হবে।
আজ থেকে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলকে ছাত্র রাজনীতি মুক্ত ঘোষণা করা হলো।
সুফিয়া কামাল হল
কবি সুফিয়া কামাল হলে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বুধবার রাত সাড়ে ৩টায় শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. গাউসিয়া ওয়াহিদুন্নো চৌধুরী এ সংক্রান্ত অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেন।
অঙ্গীকারনামায় শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা কবি সুফিয়া কামাল হলের সাধারণ শিক্ষার্থী এই মর্মে লিখিত নিচ্ছি যে, আজ ১৭ জুলাই রাত ২টা ৪০ মিনিট থেকে কবি সুফিয়া কামাল হলে কোনও প্রকার ছাত্র রাজনীতি (ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, যুবদল, শিবির) ইত্যাদি নিষিদ্ধ করা হলো। কোনও ধরনের রাজনৈতিক কার্যকলাপ সম্পৃক্ততা হলের সাথে থাকবে না। আমরা হলের মেয়েরা যদি এসব দলের দ্বারা কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হই, তাহলে এই দায় প্রশাসনের।
সবার জন্য সমান সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। সব ধরনের গণরুম বিলুপ্ত করতে হবে। পলিটিক্যাল গণরুমের মেয়েদের যত দ্রুত সম্ভব লিগ্যাল সিট দিতে হবে।
আজ থেকে কবি সুফিয়া কামাল হলে কোনও রকম রাজনীতি থাকবে না- এই প্রত্যয়ে আজ থেকে আমাদের দাবি কার্যকর করতে হবে। আমরা শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকব।
জহুরুল হক হল
শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে উত্তেজনা এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দ্বারা ককটেল বিস্ফোরণকে কেন্দ্র করে হলটিতে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার ভোর ৫টায় হলের প্রোভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রহিম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। এছাড়া হলের শিক্ষার্থীদের জন্য নিম্নোক্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়।
১. শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে স্থায়ীভাবে সকল প্রকার ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হলো।
২. কোনো বহিরাগত হলে অবস্থান করতে পারবে না।।
৩. শিক্ষার্থী কোনও প্রকার ক্ষতির (শারীরিক ও মৌখিক) সম্মুখীন হলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৪. প্রশাসনিকভাবে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সিট বণ্টনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৫. হলের সকল ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শামসুন নাহার হল
শামসুন নাহার হলকেও ছাত্র রাজনীতি মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টায় হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. লাফিফা জামালের সই করা অঙ্গীকারনামায় এই ঘোষণা দেওয়া হয়। লিখিত অঙ্গিকারনামায় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়। সেগুলো হলো:
১. শামসুন নাহার হলে কোনো ধরনের দলীয় রাজনীতি চলবে না।
২. সেসব ছাত্রীর হলে অবস্থানের মেয়াদ শেষ, তাদের অতি দ্রুত ছল ছাড়া করতে হবে এবং অছাত্রদের সিটে অতিদ্রুত মেধার ভিভিতে সিট বরাদ্দ দিতে হবে।
৩. কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত এবং আজকে রাতে অবস্থান নিয়েছে, সেই প্রত্যেক ছাত্রীর হলের সিট এবং শারীরিক-মানসিক স্বাস্থ্যের পূর্ণ নিরাপত্তা দিতে হবে।
৪. পরবর্তীতে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত আক্রোশের বশবর্তী হয়ে কোনো ছাত্রীকে হেনস্থার শিকার করা হবে না।
৫. কোনো ধরনের পদ-ক্ষমতার প্রদর্শন ঘটিয়ে কোনো অন্যায্য সুযোগ-সুবিধা কোনও ছাত্রীকে দেওয়া যাবে না।
৬. প্রত্যেক ছাত্রীকে মেধার ভিত্তিতে অথবা উপযুক্ত কারণ দেখিয়ে হলের সিট বরাদ্দ দিতে হবে এবং সমান সুযোগ প্রদান করতে হবে।
৭. শানসুন নাহার হলে ছাত্রলীগের সক্রিয় কার্যক্রম পরিচালনাকারী মেয়েরা মুচলেকা দিয়ে বের হতে হবে যে, তারা কখনো হলে ফিরবে না এবং হলের বাইরে থেকে কোনোরকম রাজনৈতিক পরিচালনা করার চেষ্টা করবে না।
৮. মধ্যভবন দ্বিতীয় তলার মেয়েদের রুম পরিবর্তন করে দিতে হবে।
বেগম রোকেয়া হল
বেগম রোকেয়া হলকে সব ধরনের রাজনীতিমুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। বুধবার দিবাগত রাত দেড়টায় হলের শিক্ষার্থীরা এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। লিখিত অঙ্গীকারনামায় হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. নিলুফার পারভীন সই করেন।
অঙ্গীকারনামায় শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা রোকেয়া হলের মেয়েরা আজ এই মর্মে লিখিত নিচ্ছি যে, আজ ১৭-০৭-২০২৪ তারিখ থেকে রোকেয়া হলের অভ্যন্তরে কোনো ধরনের ছাত্র রাজনীতি (ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, যুবদল, জামাত-শিবির ইত্যাদি) নিষিদ্ধ করা হলো। কোনো ধরনের পলিটিক্যাল রুম বা গণরুম থাকবে না, কোনো পলিটিক্যাল প্রোগ্রাম হলে হবে না, কোনো ধরনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা হলের সাথে থাকবে না।
আমরা হলের মেয়েরা যদি এসব দলের দ্বারা কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হই, তাহলে এই দায় প্রশাসন ও হল প্রভোস্টকে নিতে হবে। আজ থেকে রোকেয়া হলকে ছাত্র রাজনীতিমুক্ত ঘোষণা করা হলো— উল্লেখ করা হয় অঙ্গীকারনামায়।
এদিকে, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনে পুলিশ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে নিহতের ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে আজ গায়েবানা জানাজা ও কফিন মিছিল কর্মসূচি পালন করবেন আন্দোলনকারীরা।
দুপুর ২টায় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ গায়েবানা জানাজা ও কফিন মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপকের ছেলে অপ্রতিম হত্যার ক্লু শনাক্ত করা এবং প্রকৃত হত্যাকারীকে গ্রেফতার না করা পর্যন্ত এ ঘটনায় ননস্টপ কাজ করে যাবেন বলে জানিয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
পুলিশ সুপার বলেন, কিছু তথ্যপ্রযুক্তিগত বিষয়সহ তদন্তের জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন। ঘটনাটি সবাইকে কাঁদিয়েছে। ছোট্ট নিষ্পাপ একটি শিশুর সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, ঘটনার মোটিভসহ সবকিছু খুব শিগগিরই তদন্ত করে জানানো হবে।
এ ঘটনায় আটক একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আটক ব্যক্তির মোবাইল, প্রযুক্তিগত তথ্য, লোকেশন এবং অপ্রতিমের অবস্থান—সবকিছু মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। যাকে আটক করা হয়েছে, সে নির্দোষও হতে পারে, আবার জড়িতও হতে পারে। তাই তদন্তের এ পর্যায়ে মূল হত্যাকারীরা যেন কোনো তথ্য পেয়ে আত্মগোপনে যেতে না পারে, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই কাজ করা হচ্ছে।
এদিকে, আজ অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে তার মা বলছিলেন, আমার ছোট্ট ছেলে কী অন্যায় করেছে, আমি এটার জবাব চাই। আমি কোনো বিচার মানিনা। আমাকে উত্তর দিতে হবে।
প্রসঙ্গত, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যায়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে অপ্রতিমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী জঙ্গল লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
এর আগে, শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হয়ে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। পরে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
আমার ছোট্ট ছেলে কী অন্যায় করেছে, আমি এটার জবাব চাই। আমি কোনো বিচার মানিনা। আমাকে উত্তর দিতে হবে। অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন কুমিল্লায় মৃত উদ্ধার ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিমের মা নাহিদা বেগম। তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্থানীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী শোকসন্তপ্ত পরিবারের সাথে দেখা করতে যান। তিনি গিয়ে বিলাপ করতে দেখেন সন্তানহারা মা’কে।
নাহিদা বেগম বলতে থাকেন, আমি কোন দেশে থাকি? এটা কোন দেশ? একটা ছেলে বের হলে তাকে মেরে ফেলতে হবে?
নাহিদা আর্তনাদ করতে করতে বলেন, আমি বাঁচব ক্যামনে? আমার তো একটাই ছেলে!আমি ক্যামনে আমার জীবন কাটাব? আমি আমার জীবন পার করবো ক্যামনে?
পরে সামনে আসেন শিশুর বাবাও। তিনিও অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ফোনটা নেওয়ার জন্য মেরে ফেললো আমার ছেলেকে!
এসময় উপস্থিত এমপি মনিরুল হকও কাঁদতে থাকেন। তাকেও হতবিহ্বল হয়ে চোখের জল মুছতে দেখা যায়।
বরিশালের বাকেরগঞ্জে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ঘুমন্ত স্ত্রীকে ধারালো বটি দিয়ে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে ইমরান হোসেন উজ্জ্বল নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। মেয়েকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাঁর শ্বশুর ও শাশুড়িকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখান থেকেই অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশ।
আহতরা হলেন—ইমরানের স্ত্রী রুমানা আক্তার (২১), শ্বশুর মাহবুব আলম মিন্টু হাওলাদার (৫৮) ও শাশুড়ি মাহমুদা বেগম (৫৫)। গুরুতর অবস্থায় তাঁদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টার দিকে উপজেলার দাঁড়িয়াল ইউনিয়নের উত্তমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ইমরান একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক বিরোধের জেরে ভোরে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ঘুমন্ত স্ত্রী রুমানাকে ধারালো বটি দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন ইমরান। রুমানার চিৎকার শুনে তাঁর বাবা-মা ছুটে এলে তাঁদের ওপরও হামলা চালানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে, তিনজনকে আহত করার পর ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান ইমরান। পরে আহতদের আর্তচিৎকার শুনে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
পুলিশের ভাষ্য, ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করে ইমরান নিজেও শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। খবর পেয়ে সকাল ১০টার দিকে হাসপাতাল থেকেই তাঁকে আটক করে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ।
বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি আদিল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নেশাগ্রস্ত জামাইয়ের হামলায় স্ত্রী, শ্বশুর ও শাশুড়ি গুরুতর আহত হয়েছেন। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি বলেন, হামলার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
উত্তর আন্দামান সাগরে থাইল্যান্ড উপকূলের কাছে সৃষ্টি হয়েছে একটি ঘূর্ণাবর্ত। অনুকূল পরিবেশ পেলে এটি শক্তি সঞ্চয় করে আজ সন্ধ্যার মধ্যে নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে। পরবর্তী সময়ে আরও শক্তিশালী হলে ঘূর্ণিঝড়েও পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হলে এর নাম হবে ‘অর্ণব’—নামটি দিয়েছে বাংলাদেশ।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের (আইএমডি) বরাতে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছে নিউজ১৮ বাংলা।
আইএমডির পূর্বাভাস বলছে, ২১ বা ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ঘূর্ণাবর্তটি শক্তিশালী হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর এটি অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা উপকূলের দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে আজ থেকে সোমবার পর্যন্ত উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও বজ্রপাতের পাশাপাশি দমকা হাওয়াও বইতে পারে। বৃষ্টির আওতায় আসতে পারে ওড়িশা, তেলেঙ্গানা, ছত্তিশগড় ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা।
এদিকে বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণাবর্ত ও মৌসুমি অক্ষরেখার প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় টানা বৃষ্টি হচ্ছে। সৌরাষ্ট্র থেকে বঙ্গোপসাগর এবং সিকিম থেকে উত্তর ওড়িশা পর্যন্ত বিস্তৃত অক্ষরেখার কারণে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জেলায় আজ বজ্রসহ বৃষ্টি ও ঘণ্টায় ৩০–৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এরই মধ্যে কয়েকটি জেলায় জারি করা হয়েছে হলুদ সতর্কতা। উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকাতেও বিচ্ছিন্নভাবে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে।
তবে ঘূর্ণাবর্তটি এখনো ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে—এমন নয়। পরবর্তী সময়ে এর গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের ওপরই পরিস্থিতি নির্ভর করবে।’
পাকিস্তানে আত্মঘাতী হামলায় পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৫৭ জন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কোহাট শহরে জুমার নামাজের সময় এ হামলা হয়। পুলিশ কম্পাউন্ডের ভেতরের মসজিদে তখন পুলিশ সদস্য ও তাঁদের পরিবারের অনেকে নামাজ আদায় করছিলেন।
পুলিশের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি পুলিশ কম্পাউন্ডের বাইরের দেয়ালে আঘাত করে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। একই সময়ে সশস্ত্র হামলাকারীরা কম্পাউন্ডে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলি শুরু হয়।
বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির পর নিরাপত্তা বাহিনী এবং উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি। পাকিস্তানি তালেবান বা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এ হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বাকেরগঞ্জে স্কুলে চুরির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটেছে চরামদ্দী ইউনিয়নের পশ্চিম বাদলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। চোরেরা বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, সাউন্ডবক্স ও নগদ টাকা নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অফিস কক্ষের পাশাপাশি আলমারি, ক্যাবিনেট ও শোকেসের তালাও ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। বিদ্যালয় থেকে একটি ল্যাপটপ, একটি প্রজেক্টর ও একটি সাউন্ডবক্স খোয়া গেছে। এছাড়া আলমারিতে রাখা ছয় হাজারের বেশি টাকাও পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতের কোনো এক সময়ে ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বুধবার বিকেল ৪টায় বিদ্যালয় ছুটি হওয়ার পর শিক্ষকরা বিদ্যালয় থেকে চলে যান।
বৃহস্পতিবার সকালে শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে এসে অফিস কক্ষের তালা ভাঙা দেখতে পান। পরে ভেতরে প্রবেশ করে আলমারি, ক্যাবিনেট ও শোকেসের তালাও ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান।
সহকারী শিক্ষিকা শামীমা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রতিদিন বিকেল ৪টায় বিদ্যালয় ছুটি হয়। এরপর শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে থাকেন না। সকালে এসে তারা অফিস কক্ষের তালা ভাঙা দেখতে পান।
পরে বিদ্যালয়ের মালামাল পরীক্ষা করে একটি ল্যাপটপ, প্রজেক্টর ও সাউন্ডবক্স পাওয়া যায়নি। আলমারিতে রাখা টাকাও খোয়া গেছে বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
বাকেরগঞ্জে স্কুলে চুরির ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে চুরির সঙ্গে কারা জড়িত, তা জানা যায়নি। চুরি হওয়া মালামালের হিসাব যাচাই করা হচ্ছে।
আকাশ, ঝালকাঠি প্রতিনিধি | 16 September 2026, 9:06 pm
এসো রক্তদানে এগিয়ে যাই’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) ঝালকাঠি প্রেসক্লাব অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন ‘YAS Blood Bank’ (ইয়াস ব্লাড ব্যাংক)-এর ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উৎসব।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা সভা, কেক কাটা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের রক্তযোদ্ধা এবং বিভিন্ন রক্তদান সংগঠনের দায়িত্বশীলদের আন্তরিক আমন্ত্রণ জানিয়েছে সংগঠন কর্তৃপক্ষ।
অনুষ্ঠানের সময় ও স্থান:
তারিখ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শুক্রবার
সময়: বিকাল ৪টা
স্থান: অডিটোরিয়াম, প্রেসক্লাব, ঝালকাঠি
📝 যেভাবে রেজিস্ট্রেশন করবেন:
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য কোনো ফি লাগবে না (সম্পূর্ণ ফ্রি)। তবে আসন সংখ্যা সীমিত থাকায় এবং সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার জন্য আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) রাত ১০টার মধ্যে অনলাইনে ফর্ম পূরণ করে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।
রেজিস্ট্রেশনের সহজ ধাপসমূহ:
আবেদন ফর্ম :
🔗 উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ ফর্ম: (ফ্রি)
https://forms.gle/tvmDZvLMXo1NwLoX6
প্রথমে আপনার মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে এই গুগল ফর্ম লিংকে প্রবেশ করুন: https://forms.gle/tvmDZvLMXo1NwLoX6
ফর্মে আপনার নাম, মোবাইল নম্বর এবং আপনি কোনো রক্তদান সংগঠনের সাথে যুক্ত আছেন কিনা তা সঠিকভাবে লিখুন।
সব তথ্য দেওয়া শেষে ‘Submit’ বাটনে ক্লিক করলেই আপনার রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়ে যাবে।
(নিউজ পোর্টালে সরাসরি রেজিস্ট্রেশন করতে এই লিংকে ক্লিক করুন: রেজিস্ট্রেশন ফর্ম লিংক)
প্রয়োজনে যোগাযোগ: যেকোনো তথ্যের জন্য বা রেজিস্ট্রেশনে কোনো সমস্যা হলে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন এই নম্বরগুলোতে: 📞 01739158800 📞 01929688031
ইয়াস ব্লাড ব্যাংকের দায়িত্বশীলরা জানান, রক্তযোদ্ধাদের এই মিলনমেলাকে আরও অর্থবহ ও সফল করে তুলতে সবার উপস্থিতি এবং সহযোগিতা একান্ত কাম্য।
আকাশ, ঝালকাঠি প্রতিনিধি | 14 September 2026, 8:20 pm
ঝালকাঠির ধানসিঁড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইয়ুথ অ্যাকশন সোসাইটি (YAS)-এর উদ্যোগে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক সেমিনার ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখর হালদার-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক অলক সাহ্। সেমিনারে বক্তারা বর্তমান সময়ে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা তুলে ধরে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং বিদ্যালয়ের চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি তথ্যবহুল সচেতনতামূলক সেমিনার পরিচালনা করেন ইয়াসের ভলান্টিয়ার আকাশ ও এশা। সেমিনার শেষে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বিষয়ের ওপর একটি আকর্ষণীয় কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। পরে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার হিসেবে জনপ্রিয় কিশোর পত্রিকা তুলে দেওয়া হয়।
দিনব্যাপী এই ব্যতিক্রমী কর্মসূচি সফল করতে বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দের পাশাপাশি নিরলসভাবে কাজ করেন ইয়ুথ অ্যাকশন সোসাইটির ভলান্টিয়ার রাহাত, আমিনুল, সিফাত, বিজু, রিয়াদ, নাইম, আশা ও মোহেবুল্লাহ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা তরুণদের এই মানবিক ও সচেতনতামূলক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমাজের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে বরিশাল জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ (কলেজ পর্যায়) নির্বাচিত হয়েছেন সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. শেখ মোঃ তাজুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সম্মাননা স্মারক ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোঃ মামুন খন্দকার তাঁর হাতে সম্মাননা তুলে দেন। জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আঃ জব্বারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্মাননা গ্রহণের পর অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. শেখ মোঃ তাজুল ইসলাম বলেন, জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ নির্বাচিত হওয়া আনন্দ ও গৌরবের। এ স্বীকৃতি শুধু তাঁর একার নয়, এটি পুরো বিএম কলেজ পরিবারের অর্জন। তিনি তাঁর সম্মাননা বিএম কলেজের সকল শিক্ষার্থীর প্রতি উৎসর্গ করেন।
তিনি আরও বলেন, তাঁর এ অর্জন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে শিক্ষার্থীরা আগামী দিনে নিজেদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে এটাই তাঁর প্রত্যাশা। আগামী শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠে দেশ ও জাতির সেবায় শিক্ষার্থীরা আত্মনিয়োগ করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. শেখ মোঃ তাজুল ইসলাম জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক এবং বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ নির্বাচিত হন। টানা দু’বার শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ নির্বাচিত হওয়ায় তাঁর এ অর্জনে বিএম কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের মধ্যে আনন্দ ও উদ্দীপনা বিরাজ করছে।