এইচএসসির পরীক্ষা শুরুর ১৫ মিনিট আগে হলের সামনে থেকে অচেতন অবস্থায় সোমা আক্তার সুমনা (১৭) নামে এক শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়েছে। বরিশাল নগরীর অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে রোববার (৭ জুলাই) সকাল পৌনে ১০টায় এ ঘটনা ঘটে।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান। বমি করে অজ্ঞান হয়ে পড়া ওই পরীক্ষার্থী বিষ বা এ জাতীয় কিছু খেয়েছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সোমা। ওই শিক্ষার্থীর অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
আত্মহননচেষ্টাকারী শিক্ষার্থী সরকারি বরিশাল কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী এবং নগরীর পশ্চিম কাউনিয়া এলাকার বাসিন্দা সুমনের কন্যা।
অমৃত লাল দে কলেজের অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান বলেন, পৌনে ১০টার দিকে হলের সামনের বারান্দায় এক ছাত্রী বমি করে অজ্ঞান হয়ে যায়। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে বরিশাল সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রোববার এইচএসসির ইংরেজী দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষায় অংশ নিতে এসেছিল ওই পরীক্ষার্থী।
বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক সোমা বলেন, বিষ বা বিষ জাতীয় কিছু পানের কারণে ওই ছাত্রী বমি করছে. প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, সে আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে এমনটা করেছে। তার অবস্থা গুরুতর। সে কথা বলতে পারছে না। তাই তাকে বরিশাল শের ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরিশাল। | 24 October 2026, 7:48 pm
বরিশাল তরুণ সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের ২০২৬-২০২৭ সালের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিএইচএস নিউজের ওমর ফারুক (সাব্বির খান) এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন সময়ের বার্তার আল-আমিন গাজী।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় বরিশালের ইউরো কনভেনশন হলে পরিচিতি সভা ও নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
এতে বরিশাল নগরীর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
নবগঠিত কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি হয়েছেন ভয়েস অব বরিশালের এইচ এম হেলাল। সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের আহমেদ বায়েজীদ ও দখিনের কণ্ঠের মুরাদ হোসাইন।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন দৈনিক সুন্দরবনের তানজিমুন ইসলাম রিশাদ ও আমাদের বরিশালের নাইম হোসেন। সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন দৈনিক মতবাদের আবদুর রহমান। সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন প্রথম সকালের মিল্টন কবিরাজ ও আজকের পত্রিকার মেহেদী হাসান রাতুল।
কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ক্রাইম নিউজের রাহাত রাব্বি এবং সহ-কোষাধ্যক্ষ হয়েছেন দৈনিক আইন বার্তার মাছুম বিল্লাহ। দপ্তর সম্পাদক হয়েছেন দৈনিক ঘোষনা পত্রিকার জিহাদ হোসেন। প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হয়েছেন বিএইচএস নিউজের জয় চন্দ্র শীল এবং সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হয়েছেন আজকের তালাশের শাহাদাৎ হোসেন।
তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন আগামীর সময়ের জিহাদ হাসান। গণমাধ্যম ও যোগাযোগ সম্পাদক হয়েছেন আজকের বার্তার মোঃ এম টিটু এবং ডিজিটাল মিডিয়া সম্পাদক হয়েছেন বরিশাল টাইমসের মোঃ শাফায়েত হোসেন। আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক হয়েছেন দৈনিক দেশবার্তার আতিকুর রহমান, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন সিটিটি নিউজের পারভেজ হোসেন, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন বরিশাল টিভির মোঃ সাইমুন হোসেন এবং নারী বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন দৈনিক যুগান্তরের মনিকা চৌধুরী।
কমিটির সম্মানিত সদস্য হিসেবে রয়েছেন ক্রাইম নিউজের সাইফুল ইসলাম শান্ত, বরিশাল টাইমসের মেহেদী হোসেন, দৈনিক শাহনামার মোঃ সুজন হাওলাদার, দক্ষিণাঞ্চল পত্রিকার মোঃ সোহেল রানা, প্রত্যাশা বার্তার মোঃ রাশেদ, চ্যানেল ২৪-এর ভিডিও জার্নালিস্ট আরাফ আহমেদ শাকিল, বিএইচএস নিউজের এম এ গোফরান ও এস এম জাহিদ টিয়ান, আনন্দ টিভির সাঈদ আহমেদ মিরাজ, বরিশাল নিউজ ২৪-এর ফেরদাউস হোসেন, মোঃ শাহিন এবং কলমের কণ্ঠের বেল্লাল হোসেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম খসরু,বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন, সহ সভাপতি মোঃ জাকির হোসেন, বরিশাল টেলিভিশন মাল্টিমিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আকতার ফারুক শাহিন, দৈনিক প্রথম সকালের প্রকাশক ও সম্পাদক কাজী আল মামুন, বরিশাল প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম মোফাজ্জল, বরিশাল প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ সুখেন্দ এদবর, এবং কার্যকরী সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক ভূঁইয়া ও কমল সেন গুপ্ত ও বরিশাল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান হিরা।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন খবরের কাগজের বরিশাল ব্যুরো প্রধান মইনুল ইসলাম সবুজ, সময় টেলিভিশনের বরিশাল ব্যুরো প্রধান অপূর্ব অপু, জাগো নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক মোঃ শাওন খান, বাংলা নিউজ২৪-এর নিজস্ব প্রতিবেদক মুশফিক সৌরভ, দৈনিক আজকালের কে এম নয়ন, স্টার নিউজের ব্যুরো প্রধান সৈয়দ মেহেদী হাসান, চ্যানেল ওয়ানের ব্যুরো প্রধান আরিফুর রহমান, কালের কণ্ঠের নিজস্ব প্রতিবেদক আজিম হোসেন সুহাদ, দখিনের প্রতিবেদনের রাইসুল ইসলাম অভি, রিপোর্ট ৭১-এর আমিনুল ইসলাম সোহাগ, ক্রাইম নিউজের সম্পাদক খন্দকার রাকিব হোসেন এবং দৈনিক আজকের তালাশের সম্পাদক মারুফ হোসেনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকেরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা নবগঠিত কমিটির উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন। তাঁরা তরুণ সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থেকে পেশাগত দায়িত্বশীলতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসরণের মাধ্যমে বরিশালের গণমাধ্যম অঙ্গনে তরুণ সাংবাদিকদের ভূমিকা আরও জোরালো হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।
আকাশ, ঝালকাঠি প্রতিনিধি | 22 October 2026, 8:31 pm
সামাজিক দায়বদ্ধতা, মানবিক মূল্যবোধ ও তারুণ্যের বিকাশে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন শাকিল রনি। সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং তরুণদের মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে কাজ করছেন তিনি।
২০০৪ সালে সামাজিক সংগঠন সিটি ক্লাব ও পাঠাগারের সাধারণ সদস্য হিসেবে যুক্ত হন শাকিল রনি। তবে সদস্য হওয়ার আগ থেকেই সংগঠনটির বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে দপ্তর সম্পাদক, সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি সংগঠনটির আজীবন সদস্য।
দীর্ঘ সাংগঠনিক পথচলায় বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় সংগঠনে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন শাকিল রনি। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ইয়েস গ্রুপের দলনেতা হিসেবে দুইবার দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির যুব উপপ্রধান দুই ও যুব প্রধানের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সংগঠনটির আজীবন সদস্য হিসেবেও যুক্ত রয়েছেন।
প্রথম আলো বন্ধুসভার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা দীর্ঘদিনের। সংগঠনটিতে দপ্তর সম্পাদক, অর্থ সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। এ নিয়ে তিনবার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
পরিবেশ সংরক্ষণ ও সামাজিক সচেতনতা তৈরিতেও সক্রিয় শাকিল রনি। তিনি বিডি ক্লিন ঝালকাঠির জেলা সমন্বয়ক, ক্লিন রিভার বাংলাদেশের বরিশাল বিভাগীয় ক্যাপ্টেন, ইয়ুথ কাউন্সিল অব বাংলাদেশের বরিশাল বিভাগীয় অ্যাম্বাসাডর এবং গ্রিন ফোর্স বাংলাদেশের প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশের সহসভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন।
জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ধ্রুবতারা ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনে জেলা পর্যায়ে দপ্তর সম্পাদক থেকে শুরু করে সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। পরবর্তী সময়ে সংগঠনটির বরিশাল বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক, সহসভাপতি ও সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন। ইয়ুথ অ্যাকশন সোসাইটি ইয়াসের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন শাকিল রনি।
এ ছাড়া বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ঝালকাঠি জেলা সমন্বয়ক, প্রত্যয় তরুণ সংঘের সিনিয়র সহসভাপতি এবং শহর সমাজসেবা সমন্বয় পরিষদের প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। শহর সমাজসেবা সমন্বয় পরিষদে তাঁর দায়িত্বের মেয়াদ ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। তিনি ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির আজীবন সদস্য, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের ক্যাবের প্রচার সম্পাদক এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপার সদস্য হিসেবেও যুক্ত রয়েছেন।
সাংগঠনিক ব্যস্ততার মধ্যেও সাহিত্যের প্রতি রয়েছে তাঁর বিশেষ অনুরাগ। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে শিশু-কিশোর ও তরুণদের বই পড়ায় আগ্রহী করে তুলতে কাজ করছেন তিনি। নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে অনেকের মধ্যে বিনামূল্যে বই বিতরণ করেছেন। তাঁর বিশ্বাস, বই মানুষের চিন্তাকে প্রসারিত করে, মননশীলতা বাড়ায় এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলে।
নতুন প্রজন্মকে নিয়ে শাকিল রনির ভাবনাও স্পষ্ট। তাঁর মতে, পড়াশোনার পাশাপাশি তরুণদের সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা প্রয়োজন। তরুণেরা ভালো কাজে সম্পৃক্ত হলে তাদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত হবে। একই সঙ্গে মাদকসহ বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকতেও ইতিবাচক পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শাকিল রনির কাছে সামাজিক সংগঠন কেবল পদ-পদবি কিংবা পরিচিতির জায়গা নয়, বরং মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজের জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখার একটি ক্ষেত্র। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ড ও সাহিত্যচর্চার মধ্য দিয়ে তিনি নতুন প্রজন্মকে একটি মানবিক ও দায়িত্বশীল সমাজ গঠনে উদ্বুদ্ধ করতে চান।পরিচয়
আকাশ, ঝালকাঠি প্রতিনিধি | 21 October 2026, 9:45 pm
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্মৃতি মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর ফাইনাল খেলা উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে সুবিদপুর ইউনিয়নের মাদারঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন বালুর মাঠে এ ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
ফাইনাল ম্যাচে ‘দশআনি একাদশ’ বনাম ‘টেনশন একাদশ’ মুখোমুখি হয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে টেনশন একাদশকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে দশআনি একাদশ। খেলাটি দেখতে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
ফাইনাল খেলায় সুবিদপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আমন্ত্রিত অতিথিরা এ ধরনের সামাজিক ও ক্রীড়ামুখী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতেও সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে ২ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি ও ঝালকাঠি সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মো. আরিফুল ইসলাম আকাশ বলেন, “একমাত্র খেলাধুলাই পারে তরুণদের বিপথগামী হওয়া থেকে বিরত রাখতে। তরুণদের মেধা, মনন ও শারীরিক বিকাশে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই।”
টুর্নামেন্ট সফলভাবে আয়োজনের জন্য অংশগ্রহণকারী দল, প্লেয়ার, অতিথিবৃন্দ, দর্শক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছে আয়োজক কমিটি।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বরিশালের ঐতিহ্যবাহী সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর কাজী জাবের আহমেদের নেতৃত্বে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল। এ সময় কলেজের বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা ও সংকট নিয়ে আলোচনা হয়। সমস্যা সমাধানে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন চিফ হুইপ।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় বরিশাল সার্কিট হাউসে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে কলেজের শিক্ষা কার্যক্রমের পরিবেশ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। এ সময় দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান সমস্যা ও সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কলেজের সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
কলেজের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা কামনা করেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর কাজী জাবের আহমেদ। জবাবে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এমপি এসব সমস্যা সমাধানে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
উল্লেখ্য, ১৮৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত সরকারি ব্রজমোহন কলেজ দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন ধরে কলেজটি বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলে উচ্চশিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।
সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক সুলতান রিয়াজ মাহমুদ, সহযোগী অধ্যাপক ড. মাসুদ, রাশেদ খান শাহীন, সহকারী অধ্যাপক তৈমুর রহমান ও রিয়াজুল হক এবং বিএম কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ ও বাশার।
কয়েকটি কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের চেষ্টার বিষয়ে গোয়েন্দাদের কাছে পরিষ্কার খবর আছে। যারা পালিয়ে গেছে, তারা অর্থ সরবরাহ করছে এবং যারা বেহেশতের টিকিট বিক্রি করতো তাদের মাধ্যমে অর্থ দিচ্ছে। এই দুই পক্ষ এক হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর মাদরাসা মাঠে এক জনসভায় তিনি এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
কেউ যাতে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে সে বিষয়ে জনগণকে সচেতন হবার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান। তিনি বললেন, একটি দল মুখে চব্বিশের কথা বলে, কিন্তু তারা শহীদদের স্মরণে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলো না। তাদের মুখে এক কথা, কর্মে আরেক।
তারেক রহমান দাবি করেন, কতগুলো দল বিএনপির তথা জনগণের কর্মসূচি সফল হোক তা চায় না। আগামী ৫ বছর বিএনপিকে সমর্থন দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান দলটির চেয়ারম্যান।
সরকারপ্রধান আরও বলেন, বিদেশ থেকে কেউ এসে দেশ গড়ে দিয়ে যাবে না। নিজেদেরকেই গড়তে হবে। তিস্তা ও পদ্মায় সরকারই ব্যারেজ তৈরি করবে। কুচক্রী মহল দেশের ভাগ্য বদলে বাধা দিতে চেষ্টা করছে। পানির ন্যায্য হিস্যা বুঝে নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
পিরোজপুরের নাজিরপুর ও নেছারাবাদ খেয়া পারাপারে অতিরিক্ত যাত্রী ও ৬ টি মোটরসাইকেল বহনের কারণে একটি ট্রলার দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনায় এক শিশু প্রাণ হারিয়েছে এবং তার মা দুর্ঘটনার ১৮ ঘন্টা অতিবাহিত হওয়ার পরেও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে দুর্ঘটনাকবলিত নাজিরপুরের শ্রীরামকাঠী ও নেছারাবাদের ভরতকাটী খেয়া ঘাট এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মেদ সোহেল মনজুর।
জানা যায়, সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে শ্রীরামকাঠী-ভরতকাঠী ফেরিঘাট এলাকায় অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল নিয়ে কালিগঙ্গা নদী পার হওয়ার সময় অতিরিক্ত যাত্রী পারাপার করতে গেলে তলাটি একপাশে কাত হয়ে যায় এবং ট্রলারে থাকা যাত্রী নদীতে পড়ে যায়। নদীতে পড়ে যাওয়া যাত্রীরা সাঁতরে এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় পাড়ে উঠতে পারলেও নিখোঁজ হন মা ও মেয়ে। ফায়ার সার্ভিস ডুবুরি দলের চেষ্টায় রাত ১১ টা ১০ মিনিটের দিকে মৃত অবস্থায় মেয়েকে উদ্ধার করা হলেও মাকে (মঙ্গলবার বেলা তিনটা পর্যন্ত) ১৮ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরেও তার খোঁজ মেলেনি। তবে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এবং নৌ বাহিনীর ডুবুরী দলের উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী উদ্ধার কাজের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় নিখোঁজ নারীকে দ্রুত উদ্ধারে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা প্রশাসক মো. গোলাম রাব্বানী, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান, নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজিয়া শাহনাজ তমা, ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর কর্মকর্তা এবং নাজিরপুর থানা পুলিশের একটি দল।
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরিশাল। | 17 October 2026, 6:17 pm
বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিজেই ঠিকাদারীর সাথে যুক্ত হয়ে কাজ বাগানোর অভিযোগ উঠেছে। তাছাড়া ঘুষ, কমিশন বাণিজ্য, দরপত্রে অনিয়ম, বিল আটকে রাখা এবং নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার একাধিক অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্ট সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ২৪ জন ঠিকাদার। তাঁর অপসারণ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে মানববন্ধনও করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ঠিকাদারদের অভিযোগ, প্রকল্পের কার্যাদেশ দেওয়া থেকে শুরু করে বিল উত্তোলন ও নিরাপত্তা জামানত ফেরতের বিভিন্ন পর্যায়ে একটি প্রভাবশালী বলয়ের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের নামে কাজ নিয়ে অন্য ঠিকাদারদের কাছে সাবকন্ট্রাক্টে হস্তান্তর, দরপত্র মূল্যায়নে প্রভাব বিস্তার এবং বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে কমিশন দাবির অভিযোগও করেছেন তাঁরা।
অভিযোগকারীদের দাবি, বরিশালের মেসার্স মোমিন সিকদার, দিনাজপুরের মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজ, চট্টগ্রামের ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স এবং খুলনার মেসার্স রাফিদ ট্রেডার্স নামের চারটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ বণ্টন ও সাবকন্ট্রাক্টের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের সাথে বেনামে মালিকানায় থেকে ব্যবসায়িক সম্পর্ক এবং কাজ বণ্টন করছেন বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম।
প্রায় ৩২ কোটি টাকার কারিগরি স্কুল ও কলেজ স্থাপন প্রকল্প ঘিরেও কমিশন লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া বরিশাল নগরীর কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের দরপত্র, নিরাপত্তা জামানত কর্তন এবং ঠিকাদারদের বিল আটকে রাখার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। কাজ সম্পন্ন করার পরও অনেক ঠিকাদার মাসের পর মাস বিল পাচ্ছেন না। এতে ব্যাংকঋণের সুদ, শ্রমিকের মজুরি ও নির্মাণসামগ্রীর বকেয়া পরিশোধে সংকট তৈরি হচ্ছে।
দরপত্রে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দিতে প্রতিযোগী ঠিকাদারদের কারিগরি ত্রুটির অজুহাতে বাদ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি কাজের মান, প্রকল্পের অগ্রগতি এবং অতিরিক্ত বিলের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। দরপত্র, কার্যাদেশ, পরিমাপ বই, বিল-ভাউচার ও প্রকল্পের বাস্তব অবস্থা যাচাই করলেই এর সত্যতা পাওয়া যাবে।
নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঠিকাদার ফারুক হোসেনকে ফোনে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ২০২৫ সালের ২৯ নভেম্বরের ঘটনার পরদিন বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় ২০৭৬ নম্বরে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন ঠিকাদারদের একাংশ। সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত দাবি করেছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামকে অফিসে গিয়ে তার কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি। তার মুঠো ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী জানিয়েছেন, দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা পাঁচ দিনের ছুটির সমন্বয় করতে আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের কার্যক্রম চালু থাকবে। স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী চলবে সেবা কার্যক্রম। এদিকে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর দেশের সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। এর বিপরীতে আজ সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও ব্যাংক খোলা রাখা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সচল রাখতে সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দরে অবস্থিত ব্যাংকের শাখা ও বুথগুলোকে ২০ থেকে ২২ অক্টোবরের সরকারি ছুটি এবং ২৩ ও ২৪ অক্টোবরের সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও সীমিত পরিসরে আমদানি-রফতানিসংক্রান্ত ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে।
আকাশ, ঝালকাঠি প্রতিনিধি | 16 October 2026, 9:53 pm
মানুষের জন্য কিছু মানুষ বেঁচে থাকেন নিজের মতো করে। প্রচারের আলোয় নয়, বরং কারও মুখের হাসিতে, কারও বিপদের দিনে বাড়িয়ে দেওয়া সহযোগিতার হাতে তাঁরা খুঁজে নেন জীবনের সার্থকতা। আবির হোসেন রানা তেমনই একজন মানুষ, যাঁর দীর্ঘ পথচলার সঙ্গে মিশে আছে স্বেচ্ছাসেবা, মানবিকতা, নেতৃত্ব ও সাহিত্যের প্রতি গভীর অনুরাগ।
২০০৭ সালের দিকে প্রথম আলো বন্ধুসভার সঙ্গে যুক্ত হয়ে ঘূর্ণিঝড় সিডর পরবর্তী মানবিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তাঁর স্বেচ্ছাসেবী জীবনের সূচনা। দুর্যোগের ক্ষত বুকে নিয়ে বেঁচে থাকা মানুষের অসহায়ত্ব তাঁকে শিখিয়েছে, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সব সময় বড় সামর্থ্যের প্রয়োজন হয় না, প্রয়োজন হয় একটি সংবেদনশীল হৃদয়ের। সেই উপলব্ধি থেকেই ধীরে ধীরে বিস্তৃত হয়েছে তাঁর মানবিক পথচলা।
পরবর্তীকালে জাগো ফাউন্ডেশনের জাগো সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সাধারণ সদস্য হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করেন। ২০০৯ সালের দিকে প্রায় ১০০ জন পথশিশুর হাতে ঈদের পোশাক তুলে দেওয়ার উদ্যোগ ছিল তাঁর মানবিক কর্মকাণ্ডের উল্লেখযোগ্য একটি অধ্যায়। যাদের ঈদের আনন্দ অনেক সময় অভাবের আড়ালে চাপা পড়ে যায়, তাদের মুখে হাসি ফোটানোর এই প্রচেষ্টা প্রমাণ করে, মানুষের জন্য করা ছোট একটি উদ্যোগও কারও জীবনে বড় আনন্দ হয়ে উঠতে পারে।
মানুষের কল্যাণে কাজ করার পাশাপাশি সমাজের অসংগতি নিয়েও তাঁর ভাবনা রয়েছে। টিআইবির সচেতন নাগরিক কার্যক্রমের ইয়েস দলের দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর সামাজিক দায়বদ্ধতাকে আরও গভীর করেছে।
২০২০ সালে ইয়ুথ অ্যাকশন সোসাইটি, ইয়াস গঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন আবির হোসেন রানা। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠালগ্নে সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সাল থেকে সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে সংগঠনের কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তরুণদের মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, সামাজিক সচেতনতা তৈরি এবং মানুষের প্রয়োজনের সময়ে পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে তিনি স্বেচ্ছাসেবার পরিসরকে আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করছেন।
তবে একজন সংগঠক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের বাইরেও রয়েছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। তিনি নতুন প্রজন্মের স্বেচ্ছাসেবকদের কাছে একজন পরামর্শদাতা ও অনুপ্রেরণার মানুষ।
ইয়াসের স্বেচ্ছাসেবক আকাশ বলেন, আবির হোসেন রানা জুনিয়র স্বেচ্ছাসেবকদের সব সময় কাজের প্রতি উৎসাহিত করেন। ধৈর্য ধরে দায়িত্ব পালন করা, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও হাল না ছাড়া এবং নতুন উদ্যোগ নিয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করার বিষয়ে তিনি পরামর্শ দেন। তাঁর কাছ থেকে নতুনরা শুধু সাংগঠনিক কাজের অভিজ্ঞতাই নয়, বরং দায়িত্বশীলতা, ধৈর্য ও মানুষের প্রতি আন্তরিকতার শিক্ষাও পায়। একজন অভিজ্ঞ স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে তিনি নতুনদের এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখান এবং তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরিতে ভূমিকা রাখেন।
আবির হোসেন রানার শিক্ষাজীবন কেটেছে ঝালকাঠি পৌর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ঝালকাঠি সরকারি কলেজে। সামাজিক কর্মকাণ্ডের ব্যস্ততার বাইরেও গল্প ও উপন্যাস পড়ার প্রতি তাঁর রয়েছে বিশেষ ভালোবাসা। সাহিত্যের প্রতি এই টান তাঁর চিন্তাজগৎকে সমৃদ্ধ করে, মানুষের জীবন ও মনস্তত্ত্বকে কাছ থেকে বুঝতে সাহায্য করে। বইয়ের পাতায় তিনি খুঁজে পান মানুষের সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহ, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি আর সমাজের নানা বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি।
সাহিত্য মানুষের ভেতরের মানুষটিকে চিনতে শেখায়, আর স্বেচ্ছাসেবা সেই উপলব্ধিকে বাস্তব জীবনে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করে। আবির হোসেন রানার জীবনেও যেন এই দুই ধারার এক মেলবন্ধন রয়েছে। একদিকে বইয়ের পাতায় মানুষের জীবনকে জানা, অন্যদিকে বাস্তব জীবনে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। এই দুইয়ের সমন্বয় তাঁর ব্যক্তিত্বে যোগ করেছে আলাদা মাত্রা।
বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক মানবিক উদ্যোগের প্রচার দেখা যায়। কিন্তু আবির হোসেন রানার পরিচয়ের বিশেষ দিক হলো, প্রচারের চেয়ে কাজকে গুরুত্ব দেওয়ার মানসিকতা। তাঁর কাছে মানুষের পাশে দাঁড়ানো কোনো প্রদর্শনীর বিষয় নয়, বরং নিজের সামর্থ্য ও দায়িত্ববোধ থেকে করা এক ধরনের মানবিক অঙ্গীকার। যদিও তাঁর কাজের প্রতিটি দিক প্রচারের বাইরে থাকে কি না, তা আলাদাভাবে যাচাইয়ের বিষয়, তবু দীর্ঘদিনের স্বেচ্ছাসেবী সম্পৃক্ততা তাঁর সামাজিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতার পরিচয় দেয়।
সিডর পরবর্তী মানবিক কার্যক্রম থেকে পথশিশুদের ঈদের আনন্দে শামিল করা, দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা থেকে ইয়াসের নেতৃত্ব, প্রতিটি পর্যায়েই রয়েছে মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা। সময়ের সঙ্গে দায়িত্ব বদলেছে, কাজের পরিধি বেড়েছে, কিন্তু মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়ই তাঁর পথচলার মূল প্রেরণা হয়ে রয়েছে।
ঝালকাঠির এই মানবিক মুখ আবির হোসেন রানার গল্প তাই কেবল একজন স্বেচ্ছাসেবীর জীবনের গল্প নয়, এটি দায়িত্ববোধ, মননশীলতা ও মানুষের প্রতি মমত্ববোধের গল্প। যে গল্পে সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে সমাজের জন্য কাজ করে যাওয়ার নিরন্তর প্রয়াস। কারণ, সব অর্জন পদক বা পরিচয়ে মাপা যায় না, কিছু অর্জন থেকে যায় মানুষের মনে, কারও বিপদের দিনে পাশে দাঁড়ানোর স্মৃতিতে, আর কারও মুখে ফিরে আসা একটুখানি হাসিতে।
আবির সিকদার, বিএম কলেজ | 16 October 2026, 10:32 am
সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে নামমাত্র চিকিৎসাকেন্দ্র ও চিকিৎসক থাকলেও ন্যূনতম চিকিৎসা সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা নেই। প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের থেকে চিকিৎসা খাত বাবদ অর্থ আদায় করা হয়, কিন্তু সেখানে ওষুধ বা প্রাথমিক চিকিৎসার মৌলিক কোনো ব্যবস্থাপনা নেই। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ফি দিয়েও পাচ্ছেন না কাঙ্ক্ষিত সেবা, যা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মনে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজমান।
কলেজের হিসাব শাখার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর সেশন চার্জের সাথে প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে চিকিৎসাকেন্দ্র খাতে ২০ টাকা করে নেওয়া হয়। কলেজের ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর হিসাব অনুযায়ী, বাৎসরিক প্রায় ৬ লাখ টাকা এ খাতে জমা হয়। কিন্তু বাস্তবে চিকিৎসাকেন্দ্রে গেলে এক পিস প্যারাসিটামল, এন্টাসিড, অ্যান্টিহিস্টামিন, খাওয়ার স্যালাইন, অ্যান্টিসেপটিক বা সামান্য ব্যান্ডেজ পাওয়া যায় নাহ।
কলেজের কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে তাকে চিকিৎসাকেন্দ্রটিতে বা দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য অ্যাম্বুলেন্স, হুইলচেয়ার, ট্রলি কিংবা স্ট্রেচারের পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেই। গত বছরের অক্টোবরে প্রাথমিক চিকিৎসা না পেয়ে চরম অবহেলায় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্রী রুমানা আক্তার সুমির অকালমৃত্যু ঘটে।
চলতি বছরের গত মে মাসে ১০ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন নামলে প্রশাসন সপ্তাহে তিন দিনের জন্য একজন এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগ দেয়। বর্তমানে কলেজের জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন কলা ভবন-২-এর নিচতলায় নামমাত্র চিকিৎসাকেন্দ্রে ডা. নাইমা জান্নাত বসলেও সরঞ্জাম ও ওষুধের অভাবে কেবল পরামর্শ ও চিকিৎসাপত্র দেওয়া ছাড়া তিনি আর কোনো সেবা দিতে পারছেন না।
হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র মেহেদী হাসান তানবীর আক্ষেপ করে বলেন, “এখানে যে একটি চিকিৎসাকেন্দ্র আছে, তা অনেকেই জানে না। আর জেনে থাকলেও লাভ নেই, কারণ সেখানে কোনো ওষুধ পাওয়া যায় না।”
একই ধরনের অভিযোগ জানান অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ছাদিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গুরুতর অসুস্থ তো দূরে থাক। আমাদের শরীরের কোন অংশ কেটে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার মতো নূনতম সেবলন, তুলা বা ব্যান্ডেজ পর্যন্ত এখানে পাওয়া যায় নাহ। তাহলে প্রতি বছর আমরা যে টাকা চিকিৎসা খাত বাবদ দিয়ে থাকি তা কোথায় ব্যয় হয়?”
এ বিষয়ে চিকিৎসাকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. নাইমা জান্নাত বলেন, “প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবে বর্তমানে শুধু ব্যবস্থাপত্র দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। সদ্য বিদায়ী অধ্যক্ষের কাছে একাধিকবার প্রয়োজনীয় ঔষধ ও উপকরণ নিয়ে তাগিদ দেওয়া হলেও তা আলোর মূখ দেখেনি।”
অন্যদিকে, বিএম কলেজের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর কাজী জাবের আহমেদ জানান, “চিকিৎসকের নিকট প্রয়োজনীয় মালামালের পূর্ণাঙ্গ তালিকা চাওয়া হয়েছে। দ্রুতই অক্সিজেন সিলিন্ডার, স্ট্রেচার ও জরুরি ওষুধের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি একটি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থার জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানানো হবে।”