রোজার মাস ঈমানদারদের জন্য অসীম রহমত ও ফজিলতের মাস!এ মাসে ধনী-গরীব প্রায় সকলেই ঘরে ঘরে মিলাদ পড়ান এবং ইফতারের সময় আল্লাহর নিকট ফরিয়াদ জানান যেন তাঁদের অতীতের সকল গুনাহ মাফ হয়ে যায়। রোজার মাসের শেষের দিকে ঘরে ঘরে ঈদ আসে খুশির বার্তা নিয়ে!পরিবার-পরিজন,আত্মীয়স্বজন,বন্ধুবান্ধব মিলে সবাই
দু’এক দিনের জন্য হলেও নির্মল আনন্দে মেতে ওঠে।রোজার মাসের শেষের দিকে শুরু হতো গুঞ্জন,এবার রোজা একটি কম হবে নাকি ৩০টি হবে,এটাই ছিল আলোচনার শীর্ষ শিরোনাম। শেষ রোজার দিন মাগরিবের নামাজের পরে চাচাতো ভাইয়েরা মসজিদ থেকে সবাই বের হতো চাঁদ খুঁজতে।পশ্চিম-আকাশের দিকে তাকিয়ে তারা অধীর আগ্রহে সবাই মিলে ঈদের এক ফালি বাঁকা চাঁদ খুজতো।জীবনে কখনো এরকম এক চিলতে চিকন চাঁদ খুঁজে দেখার সৌভাগ্য হয়নি সবার কাছে শুনতাম চাঁদ নাকি এই দেখা যায় তো এই দেখা যায় নেই! মুহূর্তেই যেন মিলিয়ে যেত।ফের খুঁজে পেলে আঙুল ঘুরিয়ে চিৎকার করে অন্যদেরকে বলতো সে দেখতে পেয়েছে খুশিতে নাচতে নাচতে এক দৌড়ে চলে এসে বাড়িতে সবাইকে বলতো, ঈদ মোবারক।
স্মৃতি গুলো এখনও জীবন্ত,মনে হয় সে দিনের কথা।ঈদ মানে আনন্দ,ঈদ মানে খুশি।তার মধ্যে ঈদ উল ফিতরে আনন্দ আর খুশির মাত্রা বেড়ে যায় বহুগুণ।কারণ দীর্ঘ এক মাসের সংযম,ত্যাগ আর সিয়াম সাধনার পর মুসলমানেরা এই দিনটি খুব আনন্দের সাথে উদযাপন করে।বাংলাদেশ একটি মুসলিম প্রধান দেশ এবং ঈদ উল ফিতর হলো একটি অন্যতম বৃহত্তম উৎসব।তবুও জাতি-বর্ণ-ধর্ম নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি মানুষ ঈদের এই আনন্দে সামিল হয়।সবার মুখে আনন্দের হাসি।সকল দুঃখ-কষ্ট ভুলে অন্তত ঈদের দিনে যে যার সাধ্য মতো খুশিতে মেতে উঠে।তবে সবচেয়ে বেশী খুশি ছড়িয়ে পড়ে প্রতিটি শিশুর মুখে।এ যেন বাঁধ ভাঙা হাসির মেলা।ছোটরা ঈদের দিন সকাল বেলা গোসল করে নতুন জামা-কাপড় পড়ে সকাল থেকে শুরু করে সারাটা দিন সকল শিশুরা একত্রিত হয়ে যেন মৌমাছির মতো ঘুরে বেড়ায়,দেখেই মনটা আনন্দে ভরে যায়।সবচেয়ে বেশি আনন্দের মুহূর্ত হলো,ঈদের নামাজ শেষে সবাই খুশি মনে একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে কোলাকুলি করার দৃশ্য।ধনী গরিব সকল ভেদাভেদ ভুলে একে অপরের সঙ্গে আলিঙ্গন করে।
তাই বলে বড়দের আনন্দ যে কম,সেটা ভাবা ঠিক নয়। সারাদিন টো টো করে আত্মীয়-স্বজনের বাসায় আর বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে তারা দিনটিকে আনন্দে মুখরিত করে তোলে।সারাদিন ঘুরে ক্লান্ত হয়ে যখন ঘরে ফিরে,তখনও ক্লান্তিহীন ভাবে টেলিভিশনে আনন্দ উপভোগ করে।ঈদ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন চ্যানেল বেশ কয়েকদিন ধরে প্রচার করে থাকে ঈদের বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।
আমার সহপাঠী জুনায়েদ সিদ্দিকী ভাইয়ের অনুরোধে,স্মরণীয় ঈদ স্মৃতি লিখতে বসেছি। যদিও ভাই ঈদ স্মৃতিকে গল্প আকারে লিখতে বলেছেন।কিন্তু আমার তেমন কোন মধুর গল্প নাই। তাই শৈশব থেকে এপর্যন্ত ঈদগুলোর স্মৃতিই লিখলাম। আমার শৈশবের ঈদ স্মৃতি খুবই সাধারণ,পানসে,বর্ণহীন। ঈদের আনন্দ উপভোগ করার মতো কোন ভাই-বোন ছিল না ছোট বেলায়।তাই অন্য সবার মতো আমার ঈদ আনন্দে কাটতো না।
চাঁদ রাতে আম্মুর কাছ থেকে হাতে পায়ে মেহেদী পড়া হতো। ছোটবেলার ঈদ স্মৃতি বলতে,যে কথাটি সবার প্রথমে মনে আসে সেটি হলো,সকল মুসলমান বাড়ির মতো নিজের ঘরে খাবার-দাবারের আয়োজন।সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখতাম,আম্মু পায়েস,সেমাই,নুডলস রান্না করে রেখেছে।আর দুপুরের জন্য চলছে পোলাও,জর্দা, বোরহানি,মাছ,মাংস,ডিম,বিরিয়ানির আয়োজন।ছোট বেলায় মনে হতো ঈদ মানে অনেক খাবারের সমাহার।ঈদের দিন সকালে বেলা আব্বু নাস্তা করে ঈদের নামাজ পড়তে চলে যেত।
নামাজ শেষে,বাবার তার ভাই,চাচা,চাচাত ভাইদের,ব্যবসায়ী বন্ধুদের বাসায় নিয়ে আসত।তাদেরকে পায়েস,সেমাই,নুডলস পরিবেশন করা হতো।ভাল লাগত দিনগুলি।ঈদের আমেজ ছড়িয়ে যেত আমাদের ঘরে।ঈদের দিন আম্মু-আব্বুর সাথে সময় কাটানো, বিকালে বাবার হাত ধরে ঘুরতে যাওয়া। রাতে বাসায় এসে আম্মুর সাথে গল্প করে ঈদের দিন পার করতাম। আমার জীবনের সেরা ঈদ আসে আমার ছোট ভাইকে পাওয়ার পরে।ভাই হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত সব ঈদই আনন্দদায়ক।
তবে ২০১৯ সালের ঈদই ছিল আমার কাছে ব্যতিক্রম,স্মরণীয়।করোনা মহামারীর প্রকোপে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও এর প্রভাব কম নয়। চলমান সংকটে আতঙ্কিত সময়ের মধ্যে আমাদের সময় পার হচ্ছে। পৃথিবীর চিত্র বলে দেয়,সব কিছু থমকে আছে। আজ বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার শিখরে আরোহন করেও মানুষের অসহায়ত্ব প্রকাশ পাচ্ছে করোনা ভাইরাসের প্রকোপের কাছে। আমাদের এবারের ঈদটি স্মরণীয় হিসেবে উল্লেখ করতে চাই। এর মূল কারণ এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে ঈদ উদযাপন আগে কখনো হয়নি। সুতরাং জীবনের এক কঠিন সময় নিশ্চয়ই অতিক্রম করছি।চলমান বৈশ্বিক মহামারীতে আমাদের আনন্দ,আমাদের খুশি বা ঈদের হাসি সবকিছু থমকে গেছে। চলছে করোনা মোকাবেলা করে টিকে থাকার যুদ্ধ।ঈদ বাড়তি এক অনুভূতি নিয়ে হাজির হয় আমাদের মাঝে।ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে মেলবন্ধন তৈরি হয় ভ্রাতৃত্বের। আমাদের দেশসহ পৃথিবীর কোন দেশই সে বছর ঈদের দিন ঈদগাহে ঈদের নামায আদায় করতে পারেনি এমনকি নামায শেষে একে অন্যের সাথে কুশলাদি বিনিময় করতে পারেনি। আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধু-বান্ধবের বাড়িতে
বেড়াতে যাওয়া,আড্ডা দেওয়া আমাদের চলমান সামাজিক প্রথার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে প্রচলিত সহজাত এ চিত্র পাল্টে নতুনভাবে উদযাপন হয়েছিল করোনার ঈদ।ইতিহাসের পাতায় হয়তো সেবছরের পরিস্থিতিতে উদযাপিত ঈদ অমর হয়ে থাকবে। আমরা স্মৃতির পাতা হাতরে হয়তো বা চমকিত হবো সময়ের আবহে।সেবারের ঈদ সীমিত আকারে উদযাপিত ঈদ।
সকালে আম্মুর হাতের রান্না মজাদার খাবারের পসরা মনে ধরলো না। চলমান সংকটে আমাদের দুইভাইবোনের মনে আনন্দের পরিবর্তে শঙ্কা বেশি। কেমন যেন গুমোট নিস্তব্ধ পরিবেশ ছিল। কেউ কারো বাসায় যেত না,পরিবারের আপনজন অসুস্থ হলে তার আশেপাশে কেউ থাকতো না,সেবা করতো না।আমাদের জীবনে হয়তো এরকম পরিস্থিতি কখনো সৃষ্টি হয়নি মানুষ মারা গেলে জানাযা দেওয়ার মতো মানুষ পাওয়া যেত না।ঈদের দিন আব্বু,ছোট ভাই হালকা কিছু খাবার মুখে দিয়ে বেরিয়ে পড়ে ঈদের নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে।
করোনা মহামারীর কারণে সেবারে ঈদগাহের পরিবর্তে আমাদের মহল্লার মসজিদে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্বল্প পরিসরে ঈদের নামাজ আদায় করা হয়েছিল।যা ছিল আমার বাবার জীবনে এক নতুন অভিজ্ঞতা।নামাজ শেষে কোলাকুলি বা হাত মেলানোর প্রথা থেকে বেরিয়ে নিজের ঘরে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফিরে এসে পরিবারের সাথে সময় অতিবাহিত করতে হয়েছিল সবাই।সার্বিক পরিস্থিতি বলে দেয়,মানুষের মধ্যে চাপা আতঙ্ক অনুভূত হয়েছে।আনন্দের উচ্ছ্বাস যেন জীবনের শঙ্কার কাছে পরাজিত হয়েছে।
এ বিজয় হয়তো বা করোনাভাইরাসের।নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চার করে কাটিয়ে দিলাম ঈদের দিন।দিন শেষে প্রত্যাশা ছিল মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রকোপ থেকে মুক্ত হবে পৃথিবী।
ঈদের যে প্রকৃত দিক হাসি এবং খুশি,তার প্রাণবন্ত উদযাপনে আমাদের উৎসবমুখর সময় অতিবাহিত হবে।আমরা আবারও স্বরূপে উদযাপন করবো ঈদ।দিন শেষে আমার করেনা মহামারীর ঈদ উদযাপন স্মৃতির পাতায় অমর হয়ে আছে।সমৃদ্ধ হলো স্মৃতি,প্রত্যাশার ঝুলিতে কেটে যাক সংকট,মুক্ত পৃথিবীতে হোক মানুষের বিচরণ সেই প্রত্যাশা ছিল মনে।
বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের সুরেন্দ্র ভবন ছাত্রাবাসে অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে সিনিয়র ও জুনিয়র শিক্ষার্থীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আসিফ নামের এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে ক্রিকেট খেলার স্টাম্প দিয়ে মাথায় আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে সিনিয়র শিক্ষার্থী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। আহত শিক্ষার্থীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে ছাত্রাবাসে এ ঘটনা ঘটে। ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থী ও হল তত্ত্বাবধায়কের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হলের পুকুরের মাছ ধরা এবং ছাত্রাবাসের পুরোনো কিছু বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে কথা কাটাকাটির সময় নজরুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে আসিফের মাথায় ক্রিকেট খেলার স্টাম্প দিয়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার খবর পেয়ে ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়ক মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে আহত শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এদিকে অভিযুক্ত নজরুল ইসলামের ছাত্রত্ব নেই বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রাবাসের কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থী।
এ বিষয়ে বিএম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর কাজী জাবের আহমেদ বলেন, হলের তত্ত্বাবধায়ক তাঁকে বিষয়টি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে বিরোধের সূত্র ধরে নজরুলের সঙ্গে আসিফের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নজরুল ওই শিক্ষার্থীর মাথায় আঘাত করেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। আহত শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরে গেছেন বলে তাঁকে জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নজরুলের বিরুদ্ধে এর আগেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁর ছাত্রত্ব ও হলে থাকার বৈধতা নিয়েও পরস্পরবিরোধী তথ্য রয়েছে। বিষয়টি যাচাই করা হবে। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ছাত্রাবাসের পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।
ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়ক মিজানুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথমে কিছুটা মনোমালিন্য হয়। পরে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে নজরুল আসিফের মাথায় আঘাত করেন। তবে আহত শিক্ষার্থী আসিফের বিরুদ্ধেও আগে বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব বিষয়ে তাঁকে কয়েকবার সতর্ক করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর আসিফকে হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পর সিটি স্ক্যানের প্রতিবেদনে গুরুতর কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি বলে তাঁকে জানানো হয়েছে। বিষয়টি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসার কথা জানিয়েছেন।
ছাত্রাবাসের পুকুরের মাছ ধরা ও বিক্রির বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক মিজানুর রহমান বলেন, এসব বিষয় নিয়ে এর আগেও নজরুলকে সতর্ক করা হয়েছিল। তাঁকে ছাত্রাবাস ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, ছাত্রাবাসের পুকুরের কিছু মাছ ধরে বিক্রি করা হলেও সেই অর্থের কোনো অংশ হলের তহবিলে জমা দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে নজরুলের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি তাঁকে হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও এখনো তিনি ছাত্রাবাসে অবস্থান করছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত নজরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে আহত শিক্ষার্থী আসিফের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
আকাশ, ঝালকাঠি প্রতিনিধি | 1 November 2026, 6:54 pm
সাংগঠনিক দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ, ধৈর্য ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ঝালকাঠি জেলার সফল যুব সংগঠক পুরস্কার পেয়েছেন ইয়ুথ অ্যাকশন সোসাইটির (ইয়াস) সাধারণ সম্পাদক মো. মাহিদুল ইসলাম রাব্বি।
রবিবার (১ নভেম্বর) সকাল ১০টায় ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এ সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন। তিনি মাহিদুল ইসলাম রাব্বির হাতে সফল যুব সংগঠকের পুরস্কার তুলে দেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন ও সিভিল সার্জন ডা. হুমায়ুন কবির। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, ঝালকাঠির উপপরিচালক মো. আলাউদ্দিন।
যুবসমাজকে সংগঠিত করা, তরুণদের সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন এবং স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেওয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে ইয়ুথ অ্যাকশন সোসাইটির সাংগঠনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন মাহিদুল ইসলাম রাব্বি। সংগঠনের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন, স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়, নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল রাখতে তাঁর ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে যেকোনো উদ্যোগ বাস্তবায়নে ধৈর্য, দায়িত্বশীলতা ও সমন্বয় দক্ষতার পরিচয় দিয়ে থাকেন তিনি। সহযোদ্ধাদের নিয়ে কাজ করার মানসিকতা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও স্থির থেকে কাজ এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা তাঁকে সংগঠনের ভেতরে একটি নির্ভরযোগ্য অবস্থানে নিয়ে গেছে।
তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতৃত্বগুণের প্রশংসা করে ইয়াসের অঙ্গসংগঠন ইয়াস ব্লাড ব্যাংকের আহ্বায়ক আকাশ বলেন, মাহিদুল ভাইকে আমি সাংগঠনিক জাদুকর বলতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। কারণ, একটি আয়োজনের পেছনে যে কত ধরনের পরিকল্পনা, সমন্বয়, পরিশ্রম ও ধৈর্যের প্রয়োজন হয়, তা তিনি খুব ভালোভাবে বোঝেন। যেকোনো কাজ তিনি অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে সম্পন্ন করার চেষ্টা করেন। কোনো কিছুতেই তাড়াহুড়ো না করে প্রতিটি বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখেন এবং সহযোদ্ধাদের সাহস জোগান।
তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে শুদ্ধ কথন ও প্রমিত লিখনশৈলীর অভিযাত্রা শীর্ষক একটি আয়োজন বাস্তবায়নের সময় আমি তাঁর কাছ থেকে বিশেষ সহযোগিতা পেয়েছি। আয়োজনটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে তিনি আমাকে সাহস দিয়েছেন, বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন এবং প্রতিটি কাজ গুছিয়ে নিতে সহযোগিতা করেছেন। একজন সংগঠক হিসেবে তাঁর সবচেয়ে বড় গুণ হলো, তিনি শুধু নিজে কাজ করেন না, অন্যদেরও কাজ করার সাহস ও আত্মবিশ্বাস তৈরি করে দেন। তাঁর মতো ধৈর্যশীল, দায়িত্বশীল ও সহযোগিতাপরায়ণ মানুষ একটি সংগঠনের জন্য নিঃসন্দেহে বড় সম্পদ। তাঁর এই অর্জনে আমরা গর্বিত।
পুরস্কারপ্রাপ্তির অনুভূতি প্রকাশ করে মো. মাহিদুল ইসলাম রাব্বি বলেন, এই অর্জন শুধু আমার একার নয়, এটি ইয়ুথ অ্যাকশন সোসাইটির সকল সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক এবং সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে অক্লান্ত পরিশ্রম করা প্রত্যেক সহযোদ্ধার অর্জন। আমি এই পুরস্কার ইয়াসের সকল উপদেষ্টা, শুভাকাঙ্ক্ষী, সদস্য ও পরিশ্রমী সহযোদ্ধাদের প্রতি উৎসর্গ করছি। তাঁদের আন্তরিকতা, শ্রম ও সহযোগিতাই আমাকে আজকের এই অর্জনে অনুপ্রাণিত করেছে।
একটি সাংগঠনিক স্বীকৃতির বাইরেও এই অর্জন তরুণদের সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার অনুপ্রেরণা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মাহিদুল ইসলাম রাব্বির এ সম্মাননা ইয়ুথ অ্যাকশন সোসাইটির সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের উপলক্ষ তৈরি করেছে।
আকাশ, ঝালকাঠি প্রতিনিধি | 31 October 2026, 9:12 pm
ঝালকাঠির ছেলে সাব্বির হোসেন রানা। সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া তাঁর পথচলায় যুক্ত হয়েছে স্বেচ্ছাসেবা, সাংগঠনিক নেতৃত্ব, মানবিক কার্যক্রম, প্রযুক্তি এবং উদ্যোক্তা হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা। ২০১৬ সাল থেকে বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে যুক্ত থেকে নানা দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বর্তমানে চাকরির সুবাদে ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং একটি প্রতিষ্ঠানে আইটি এক্সিকিউটিভ হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত জাগো সেন্টার ফর হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ছিল তাঁর প্রথম সামাজিক সংগঠন। স্থানীয় এই সংগঠনে প্রথমে সদস্য এবং পরবর্তীতে প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। মূলত এই সংগঠনের মাধ্যমেই সামাজিক সংগঠনে কাজ করার প্রাথমিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
এরপর ২০১৮ সালে পাঠক সংগঠন প্রথম আলো বন্ধুসভার ঝালকাঠি শাখায় যুক্ত হন সাব্বির হোসেন রানা। সেখানে ভারপ্রাপ্ত তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তাঁর সাংগঠনিক পথচলা শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক, ২০২১ ও ২০২২ সালে সাধারণ সম্পাদক এবং ২০২৩ সালে সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বন্ধুসভার দায়িত্ব পালনকালে একুশের প্রথম প্রহর নামের একটি ম্যাগাজিন সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন তিনি। সাংগঠনিক দায়িত্বের পাশাপাশি সাহিত্য ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডেও তাঁর আগ্রহের পরিচয় পাওয়া যায় এ উদ্যোগে।
২০২০ সালে দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, টিআইবির ইয়েস গ্রুপে যুক্ত হন তিনি। সেখানে কাজের মাধ্যমে সুশাসন, নাগরিক সচেতনতা ও দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট, ইয়েস গ্রুপের লিডার হিসেবে ২০২২ সালের জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া অ্যাকটিভ সিটিজেনস গ্রুপের ভূমি টিমের সদস্য হিসেবেও কিছুদিন কাজ করেছেন।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবেও মাঠপর্যায়ে কাজ করেছেন সাব্বির। এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঘটক ও পুরোহিতদের সচেতন করা, ইউনিয়নভিত্তিক সভা সেমিনার আয়োজন এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেন তিনি।
তাঁর সাংগঠনিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ইয়ুথ অ্যাকশন সোসাইটি, ইয়াস। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় এবং ২০২০ সালের ১৭ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে এর যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠালগ্নে আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব এবং পরবর্তীতে কার্যনির্বাহী পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
বর্তমানে সংগঠনটি ঝালকাঠির স্থানীয় সমস্যা চিহ্নিতকরণ, সামাজিক উন্নয়ন এবং যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্প ও পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। সংগঠনটি সমাজসেবা অধিদপ্তর ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধিত।
করোনাকালীন সংকটময় সময়ে ইয়াসের উদ্যোগে কুইক অক্সিজেন রেসপন্স টিম গঠন করে বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবা প্রদান করা হয়। এছাড়া স্বাবলম্বী প্রজেক্ট, শিশুদের মুখে রঙিন হাসি, সাক্ষরতা দূরীকরণে সাপ্তাহিক ক্যাম্পসহ বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে সংগঠনটি। স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানে নানা উদ্যোগ গ্রহণেও সংগঠনটির কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
ইয়াসের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে ইউনিসেফ, ইয়াস ব্লাড ব্যাংক, ৭১ এর চেতনা, ডিওয়াইডিএফ এবং বিডি ক্লিনের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। এসব সংগঠনে কাজের পাশাপাশি ঝালকাঠি জেলা পর্যায়ে আইটি কোঅর্ডিনেটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
মানবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ পর্যন্ত ১১ বার স্বেচ্ছায় রক্তদান করেছেন সাব্বির হোসেন রানা। রক্তদানে আগ্রহ থেকেই বিভিন্ন রক্তদাতা সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন এবং একাধিক সংগঠনে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিক্ষণ ব্লাড রিজার্ভেশন অব বাংলাদেশের ঝালকাঠি শাখার সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি পেশাগত জীবনেও রয়েছে তাঁর বিভিন্ন অভিজ্ঞতা। বর্তমানে ঢাকায় HEMA নামের একটি প্রতিষ্ঠানে আইটি এক্সিকিউটিভ হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৭ সাল থেকে হেলথকেয়ার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে কাজ করে আসছে।
এর আগে ইউএনডিপির ল্যান্ড প্রজেক্টে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। এছাড়া ঝালকাঠি জজ কোর্ট, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রেকর্ড রুম এবং নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন প্রকল্পে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ডাটা এন্ট্রি পদে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
উদ্যোক্তা হিসেবেও নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন সাব্বির হোসেন রানা। ঝালকাঠিতে শখের সওদা নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কয়েক বছর সফলতার সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে উদ্যোক্তা হিসেবেও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তিনি।
সামাজিক সংগঠন থেকে শুরু করে স্বেচ্ছাসেবা, মানবিক কার্যক্রম, সাংগঠনিক নেতৃত্ব, প্রযুক্তি এবং উদ্যোক্তা কার্যক্রম, প্রতিটি ক্ষেত্রেই কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন সাব্বির হোসেন রানা। ঝালকাঠি থেকে শুরু হওয়া তাঁর এই পথচলা বর্তমানে বিস্তৃত হয়েছে রাজধানী ঢাকার পেশাগত জীবনেও।
বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের মহাত্মা অশ্বিনী কুমার (ডিগ্রি) হলে ‘বহিরাগতদের প্রবেশ’ নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল নেতাকর্মী ও আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে হলের ডাইনিংয়ে আবাসিক শিক্ষার্থীদের আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ ঘটনার সূত্রপাত হয় বলে শিক্ষার্থীরা জানান।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সভা চলাকালে রাত ১১টার দিকে বিএম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি জুবায়ের ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদের নেতৃত্বে নেতাকর্মী ও অর্ধশতাধিক বহিরাগত সেখানে উপস্থিত হন। সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যের পর সভায় বহিরাগতদের উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি জানান আবাসিক শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সভাস্থল ত্যাগ করেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এ সময় হলের কেয়ারটেকার মোবারকের বাসভবনে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে সিসিটিভি কন্ট্রোল রুমের চাবি নেয় ছাত্রদল এবং ক্যামেরাগুলো বন্ধ করে দেশীয় অস্ত্র, রামদা ও পাইপ নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার চেষ্টা করে। রাতভর কয়েক দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এতে হল এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের দিকে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ এবং বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি তাসনিম ও সাধারণ সম্পাদক তুষার ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।
আবাসিক শিক্ষার্থী আবির সিকদার বলেন, ওই রাতে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারত। তাঁদের অভিযোগ, প্রায়ই বহিরাগতদের মাধ্যমে তাঁরা হেনস্তা ও বাধার শিকার হচ্ছেন। বারবার অভিযোগ জানিয়েও কলেজ প্রশাসন ও হল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ পাচ্ছেন না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে বিএম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি জুবায়ের ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। কলেজ অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
হলের তত্ত্বাবধায়ক জানান, তিনি প্রাতিষ্ঠানিক কাজে ঢাকায় অবস্থান করছেন। এ কারণে রাতের ঘটনার বিস্তারিত তাঁর জানা নেই।
কোতোয়ালি মডেল থানার এক কর্মকর্তা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে তিনি জানান।
আকাশ, ঝালকাঠি প্রতিনিধি | 29 October 2026, 7:41 pm
সামাজিক কুসংস্কার দূরীকরণ দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গঠন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে তরুণদের সচেতন করতে ঝালকাঠি প্রেসক্লাবে নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে
বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর সকালে ঝালকাঠি প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সমতায় তারুণ্য ইয়ুথ ফর ইকুয়ালিটি প্রকল্পের আওতায় এ সংলাপের আয়োজন করে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন তারুণ্যের নলছিটি যুব সংগঠন জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের যৌথ বাস্তবায়নে এবং ঢাকাস্থ নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের আর্থিক সহায়তায় কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়
সংগঠনের সভাপতি মো খালেদ সাইফুল্লাহর সভাপতিত্বে সংলাপের বিভিন্ন সেশন পরিচালনা ও সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেরাব হোসেন রিফাত ও নুসরাত জাহান
সংলাপে ডিজিটাল নিরাপত্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা অনলাইনে প্রচারিত তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং সামাজিক পরিবর্তনে তরুণদের নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয় পাশাপাশি মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধে তরুণদের সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়
আলোচনায় মো খালেদ সাইফুল্লাহ অনলাইন নিরাপত্তা ও ডিজিটাল মাধ্যমে সতর্কতার সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনার গুরুত্ব তুলে ধরেন একই সঙ্গে লেখালেখির চর্চা দায়িত্বশীলভাবে মতপ্রকাশ এবং সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে লেখনীর ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন
কর্মসূচিতে ঝালকাঠির বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের তরুণ স্বেচ্ছাসেবীরা অংশ নেন এ সময় ঝালকাঠির স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইয়ুথ অ্যাকশন সোসাইটির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন আকাশ রেহান সাকিব রাহাত তামান্না মওদুদ ও ইভা
এর আগে সংগঠনটির ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২৮ অক্টোবর নলছিটি উপজেলা অডিটোরিয়ামে তরুণ-তরুণীদের অংশগ্রহণে একই প্রকল্পের আওতায় দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয় এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে তরুণদের মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
দেশজুড়ে প্রায় ২ হাজার ৩০০ ভিডিও নির্মাতাকে পেছনে ফেলে সেরা ২৫-এ জায়গা করে নিয়েছেন তরুণ এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর
বরিশালের তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইন্তেখাব তামিম জায়গা করে নিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান PRAN-RFL Group আয়োজিত ‘Get the Challenge’ প্রতিযোগিতার সেরা ২৫ প্রতিযোগীর তালিকায়। দেশজুড়ে প্রায় ২ হাজার ৩০০ জন ভিডিও নির্মাতাকে পেছনে ফেলে তাঁর এই অর্জন কনটেন্ট ক্রিয়েশনের জগতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
সৃজনশীল ভিডিও নির্মাণ ও নিজস্ব উপস্থাপনশৈলীর মাধ্যমে দর্শকদের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছেন এন্তেখাব তামিম। প্রতিযোগিতায় সেরা ২৫-এ জায়গা করে নেওয়া তাঁর সৃজনশীল কাজের স্বীকৃতির পাশাপাশি সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
PRAN-RFL-এর মতো বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ভিডিও নির্মাতারা অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেওয়ায় ইন্তেখাব তামিমের অর্জন বরিশালের তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্যও অনুপ্রেরণার বার্তা বহন করছে।
এখন সবার নজর প্রতিযোগিতার ফাইনাল পর্বের দিকে। সেখানে নিজের সৃজনশীলতা, নির্মাণদক্ষতা ও স্বতন্ত্র উপস্থাপনার মাধ্যমে আরও ভালো ফল অর্জনের প্রত্যাশা করছেন তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
বরিশালের এই তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বরং ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাণে তরুণদের সম্ভাবনা ও সৃজনশীলতারও একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। ফাইনাল পর্বে সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ইন্তেখাব তামিম আরও বড় অর্জন ছিনিয়ে আনবেন—এমন প্রত্যাশা তাঁর ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের।
মশিউর রহমান তাসনিম, বিশেষ প্রতিবেদক | 29 October 2026, 12:49 am
নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বরিশালে সড়ক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মামুন খন্দকার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ফারিসা উপমা, যিনি স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম, নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বরিশাল জেলা আলফা-থ্রি-হুইলার (টেম্পো/মাহিন্দ্রা) মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব এস এম মিজানুর রহমান অহিদসহ সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং চালক, যাত্রী ও পথচারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় সড়ক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য ও দাবি তুলে ধরেন তাঁরা।
সভায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বরিশালের ৩৯টি পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ট্রাস্টি বোর্ড কর্তৃক মঞ্জুরীকৃত আর্থিক সহায়তার আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়। এ সময় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ব্যক্তিদের জন্য ১ লাখ টাকা এবং নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদানের চেক প্রদান করা হয়।
বক্তারা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় একটি পরিবারের সদস্য হারানোর ক্ষতি কোনো আর্থিক সহায়তা দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে সরকারের এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তাঁরা।
আর্থিক সহায়তা পেয়ে উপকারভোগীরা সরকারের ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় পরিবারের সদস্য হারানো কিংবা গুরুতর আহত হওয়ার কারণে সৃষ্ট আর্থিক সংকটের মধ্যে এ সহায়তা তাঁদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের মানবিক উদ্যোগের জন্য তাঁরা সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে এ ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে প্রশাসন, পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভা শেষ হয়।
মেহেরাব হোসেন রিফাত, ঝালকাঠি | 28 October 2026, 9:56 pm
ছবি: বরিশাল পত্রিকা
সামাজিক কুসংস্কার ও প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করা, নারীর অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে ঝালকাঠির নলছিটিতে তরুণ-তরুণীদের নিয়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলা অডিটোরিয়ামে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে তারুণ্যের নলছিটি যুব সংগঠন। সমতায় তারুণ্য প্রকল্পের ইয়ুথ ফর ইক্যুয়ালিটি কার্যক্রমের আওতায় আয়োজিত প্রশিক্ষণে স্থানীয় নির্বাচিত তরুণ তরুণীরা অংশ নেন।
প্রশিক্ষণে জেন্ডার স্টেরিওটাইপ বা লিঙ্গভিত্তিক প্রচলিত ধারণা, নারীর অধিকার, ডিজিটাল নিরাপত্তা, গণমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং সামাজিক পরিবর্তনে তরুণদের নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রশিক্ষকরা আলোচনা করেন। পাশাপাশি এসব বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মেহেরাব হোসেন রিফাত ও নুসরাত জাহান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তারুণ্যের নলছিটি যুব সংগঠনের সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহ।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী মুনমুন আক্তার বলেন, এ প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে জেন্ডার সমতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও গণমাধ্যম সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পেরেছি। অর্জিত জ্ঞান ভবিষ্যতে আমাদের ব্যক্তিগত জীবন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে কাজে আসবে।
আয়োজকরা জানান, তরুণ তরুণীদের মধ্যে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি, সামাজিক বৈষম্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণেরা নিজেদের অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখবেন বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।
সমতায় তারুণ্য: ইয়ুথ ফর ইক্যুয়ালিটি প্রকল্পটি জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের যৌথ বাস্তবায়নে এবং ঢাকাস্থ নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের আর্থিক সহযোগিতায় পরিচালিত হচ্ছে।
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় সমুদ্রসৈকতের কাছে ১৫ তলাবিশিষ্ট পাঁচতারা হোটেল ও রিসোর্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’ নামের এ প্রকল্পে কটেজ, সুইমিং পুল, জিম ও জামে মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রকল্পটিকে প্রচারে দেশের প্রথম শরিয়াহসম্মত বা ‘হালাল’ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। তবে প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকায় প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এ সময় নির্মাণস্থলে নিষেধাজ্ঞাসংবলিত ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়। ব্যানারে উল্লেখ করা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া স্থাপনা নির্মাণ করায় কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকল্পটির তত্ত্বাবধানে রয়েছেন পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। তিনি প্রয়াত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে প্রকল্পটির প্রচার করেছেন তিনি।
প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন পাঁচতারা হোটেল ও রিসোর্টের পাশাপাশি সেখানে কটেজ, সুইমিং পুল, জিম ও মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটিতে সাধারণ মানুষের বিনিয়োগের সুযোগের কথাও প্রচার করা হয়েছে। সর্বনিম্ন চার লাখ টাকা বিনিয়োগ করে অংশীদার হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের বছরের নির্দিষ্ট সময়ে বিনা মূল্যে অবস্থানের সুযোগ এবং বছর শেষে মুনাফার অংশ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
তবে প্রকল্পটির ওয়েবসাইটে বিনিয়োগের বিস্তারিত শর্ত, এ পর্যন্ত সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ এবং মুনাফা বণ্টনের আইনগত ভিত্তি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক মো. ইয়াসীন সাদেক বলেন, প্রকল্পটির জন্য বরিশালের বিভাগীয় কমিশনারের অনুমোদন নেই। প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ দণ্ডনীয় অপরাধ।
বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, কুয়াকাটার মাস্টারপ্ল্যান এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এ ছাড়া কুয়াকাটা হয়ে পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে মোংলা পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ইস্তানবুল প্রকল্পের একটি অংশ প্রস্তাবিত রেললাইনের জন্য নির্ধারিত এলাকায় পড়েছে।
বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, প্রকল্পটির প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকায় স্থানীয় প্রশাসনকে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতেই নির্মাণকাজ বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী মৌজায় এসএ ২৯২ নম্বর খতিয়ানের প্রায় ২১ একর ৬৬ শতক জমিকে কেন্দ্র করে প্রকল্পটির কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে অন্তত ছয় একর জমিতে উন্নয়নকাজ ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে।
এদিকে প্রকল্পের জমির মালিকানা নিয়েও বিরোধ রয়েছে। কলাপাড়া উপজেলার হাড়িপাড়া এলাকার রাখাইন সম্প্রদায়ের বাসিন্দা উমাচ্যান জমিটির মালিকানা দাবি করে মামলা করেছেন। তাঁর দাবি, জমিটির মালিক ছিলেন তাঁর দাদা চিথাও ও নাথোও। তবে মামলার বর্তমান অবস্থা এবং জমির মালিকানা নিয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী বলেন, প্রকল্পের একটি অংশের অনুমোদন ছিল না। এ জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। দ্রুত অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার পর প্রকল্পটির নির্মাণকাজ কবে পুনরায় শুরু হবে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’
দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সড়ক যোগাযোগের অন্যতম প্রধান পথ ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে শৃঙ্খলা ফেরাতে বসানো হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) ক্যামেরা। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংসহ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে পদ্মা সেতু চালুর পর যান চলাচল বেড়েছে। তবে বেপরোয়া গতি ও ট্রাফিক আইন অমান্য করার কারণে সড়কটিতে দুর্ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকে ২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত এই সড়কে প্রায় ৫৮৯টি দুর্ঘটনায় ১৫২ জন নিহত এবং ৯৫০ জন আহত হয়েছেন।
এক্সপ্রেসওয়ের ৫৫ কিলোমিটার অংশের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলায় রয়েছে ৩৫ কিলোমিটার। ফলে দক্ষিণাঞ্চল থেকে ঢাকামুখী যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের চলাচলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে উঠেছে।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বাসসকে জানান, অধিকাংশ দুর্ঘটনার পেছনে রয়েছে বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা।
সম্প্রতি মুন্সীগঞ্জে উন্নয়নকাজ পরিদর্শনে গিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েকে এআই ক্যামেরার আওতায় আনার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলা ও আঞ্চলিক মহাসড়কেও এ প্রযুক্তির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি বাড়ানো হবে। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে আইনানুগ ব্যবস্থা।
গাজীপুর রিজিয়নের হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জানান, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে অধিকাংশ দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ অতিরিক্ত গতি। পুরো সড়ক এআই ক্যামেরার আওতায় এনে দ্রুতগতির যানবাহন, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মমিনুল ইসলাম বাসসকে জানান, দুর্ঘটনা রোধে সড়কের বিভিন্ন স্থানে গতিসীমা নির্ধারণ, সাইন-মার্কিং এবং সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
তবে বেপরোয়া গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের পাশাপাশি আকস্মিক ইউটার্ন, চালকের অসতর্কতা, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং ঘন কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এআই ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালু হলে চালকদের মধ্যে আইন মানার প্রবণতা বাড়বে। কমবে বেপরোয়া গাড়ি চালানো ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং। এতে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথে সড়ক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সহজ হবে।