ক্যাম্পাস রাজনীতিতে শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জনের পথেই হাঁটতে চান বিএম কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন
বরিশালের ঐতিহ্যবাহী সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের ইতিহাস যেমন শিক্ষা, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক চর্চার দীর্ঘ ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ, তেমনি সময়ের পরিক্রমায় এই ক্যাম্পাস থেকে উঠে এসেছেন অসংখ্য নেতৃত্ব, যারা পরবর্তীতে জাতীয় পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। প্রতিটি সময়েই নতুন প্রজন্মের কিছু তরুণ নিজেদের চিন্তা, কর্ম এবং নেতৃত্বের মাধ্যমে আলাদা করে পরিচিতি তৈরি করেন। তাঁদেরই একজন ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের (২০২০–২১ সেশন) এই শিক্ষার্থী বর্তমানে সরকারি বিএম কলেজ ছাত্রদলের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক। তবে তাঁর সঙ্গে দীর্ঘ আলাপচারিতায় সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি সামনে এসেছে, তা হলো—তিনি নিজের পরিচয়কে কোনো পদ বা রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না। বরং তিনি বিশ্বাস করেন, একজন ছাত্রনেতার প্রকৃত পরিচয় তাঁর দায়িত্ববোধ, মানবিকতা এবং শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতায়।
আলাপের শুরুতেই তিনি বলেন,
“একজন শিক্ষার্থীর দায়িত্ব শুধু নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলা নয়; সমাজ, রাষ্ট্র এবং মানুষের প্রতিও তার দায়িত্ব রয়েছে। আমি সবসময় চেষ্টা করি সেই দায়িত্ববোধ নিয়েই পথ চলতে।”
কথাগুলো বলার সময় তাঁর কণ্ঠে ছিল আত্মবিশ্বাস, তবে তার চেয়েও বেশি ছিল দায়িত্বশীলতার প্রতিফলন। পুরো কথোপকথনের প্রায় প্রতিটি অংশেই ফিরে এসেছে একটি শব্দ—দায়িত্ব। যেন নেতৃত্বকে তিনি ক্ষমতার নয়, বরং সেবার জায়গা থেকে দেখতে অভ্যস্ত।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পাঠ থেকে বাস্তব রাজনীতির অঙ্গনে
সরকারি বিএম কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে রাষ্ট্র, গণতন্ত্র, নাগরিক অধিকার ও রাজনৈতিক দর্শনের নানা তত্ত্ব প্রতিদিনই তাঁর পাঠ্যসূচির অংশ। কিন্তু তাঁর কাছে রাজনীতি কেবল পাঠ্যবইয়ের বিষয় নয়; বরং মানুষের জীবন, অধিকার এবং সমাজের বাস্তবতার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত একটি অধ্যায়।
তিনি মনে করেন, একজন শিক্ষার্থী যদি দেশের রাজনীতি, গণতন্ত্র এবং নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন না হন, তাহলে তাঁর শিক্ষা পূর্ণতা পায় না। তাই একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তব অভিজ্ঞতার ক্ষেত্র হিসেবেও তিনি ছাত্ররাজনীতিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।
তাঁর ভাষায়,
“ছাত্ররাজনীতি হচ্ছে নেতৃত্ব শেখার প্রথম বিদ্যালয়। এখানে দায়িত্ব নেওয়া শেখা যায়, মানুষের কথা শোনা শেখা যায়, ত্যাগের শিক্ষা পাওয়া যায়।”
যে আদর্শ তাঁকে রাজনীতির পথে নিয়ে এসেছে
ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিনের রাজনৈতিক যাত্রা কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্তের ফল নয়। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরেই দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং রাষ্ট্রচিন্তা তাঁকে আকৃষ্ট করেছে।
তিনি বলেন, তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের ভিত্তি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ার চিন্তা। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়ার গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলন এবং বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও রাষ্ট্রচিন্তা তাঁকে ছাত্ররাজনীতিতে সম্পৃক্ত হতে অনুপ্রাণিত করেছে।
তবে তাঁর মতে, রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানুষের সেবা।
“রাজনীতি যদি শুধু ক্ষমতা বা ব্যক্তিগত পরিচয়ের জন্য হয়, তাহলে সেটি প্রকৃত রাজনীতি নয়। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সমাজের কল্যাণ এবং দেশ গঠনের দায়িত্ববোধ থেকেই রাজনীতি করা উচিত। আমি সেই বিশ্বাস থেকেই এই পথে এসেছি।”
পদ নয়, শুরুটা ছিল একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে
বর্তমানে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করলেও নিজের শুরুর দিনগুলো ভুলে যাননি।
ওয়ালিদ জানান, সংগঠনে যোগ দেওয়ার সময় তাঁর সামনে কোনো পদ বা পরিচয়ের স্বপ্ন ছিল না। বরং তিনি বিশ্বাস করতেন, একজন কর্মীর প্রকৃত পরিচয় তাঁর নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা, ত্যাগ এবং সংগঠনের প্রতি আন্তরিকতার মধ্যেই নিহিত।
তিনি বলেন,
“আমি কখনো ভাবিনি কোথায় পৌঁছাব। আমি শুধু চেষ্টা করেছি দায়িত্ব পালন করতে। কঠিন সময়ে সহকর্মীদের সঙ্গে ছিলাম, সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ নিয়েছি এবং নিজের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চটুকু দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমার কাছে পদ কোনো গন্তব্য নয়; এটি মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিফলন।”
ধীরে ধীরে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে করতেই আজ তিনি বিএম কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক। তবে এই অর্জনকে তিনি শেষ নয়, বরং নতুন দায়িত্বের সূচনা হিসেবেই দেখেন।
সাধারণ কর্মী থেকে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক—এই যাত্রা যতটা সম্মানের, ততটাই দায়িত্বেরও। ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন মনে করেন, একটি ছাত্রসংগঠনের নেতৃত্বে থাকা মানে শুধু কর্মসূচি পরিচালনা করা নয়; বরং শত শত শিক্ষার্থীর প্রত্যাশা, অভিযোগ, স্বপ্ন এবং সংকটের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখা।
তিনি বলেন, “আমার কাছে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয় নয়। এটি শিক্ষার্থীদের দেওয়া আস্থার প্রতিফলন। সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করাই আমার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।”
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি এবং তাঁর সহকর্মীরা সংগঠনের কার্যক্রমকে কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন সমস্যার দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাঁর ভাষায়, ছাত্রসংগঠনের গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার ওপর।
‘শোনা’ থেকেই শুরু নেতৃত্ব
ওয়ালিদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে একটি বিষয় বারবার উঠে এসেছে—তিনি নেতৃত্বের প্রথম শর্ত হিসেবে শোনার ক্ষমতাকে গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন,
“আমরা অনেক সময় মনে করি নেতৃত্ব মানেই নির্দেশ দেওয়া। কিন্তু আমার বিশ্বাস, নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় শক্তি মানুষের কথা মন দিয়ে শোনা। একজন শিক্ষার্থী যখন নিজের সমস্যার কথা বলতে পারে, তখনই সে নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখতে শুরু করে।”
এই চিন্তা থেকেই দায়িত্ব নেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই কলেজে অভিযোগ ও পরামর্শ বক্স স্থাপন করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল এমন শিক্ষার্থীদের মতামত সংগ্রহ করা, যারা হয়তো সরাসরি কোনো নেতার কাছে গিয়ে নিজের সমস্যার কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না।
ওয়ালিদের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে একাডেমিক সমস্যা, ক্যাম্পাস-সংক্রান্ত অসুবিধা এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রত্যাশা সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হয়েছে।
প্রতিশ্রুতিবাস্তবায়নেরচেষ্টা
নির্বাচনের সময় শিক্ষার্থীদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়েও তিনি আশাবাদী।
তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর কলেজ প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। একাডেমিক পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষাসেবা-সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা এবং শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা চালুর উদ্যোগ তাঁর উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমগুলোর একটি বলে তিনি মনে করেন।
তবে তিনি এটিও স্বীকার করেন, সব উদ্যোগ তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না।
“অনেক বিষয় আছে, যেগুলো আমাদের একার সিদ্ধান্তে করা সম্ভব নয়। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া রয়েছে, বাস্তবতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করি সমস্যাগুলো যথাযথ জায়গায় তুলে ধরতে এবং সমাধানের পথ খুঁজতে।”
মানবিককাজেওসক্রিয়থাকারপ্রত্যয়
ওয়ালিদের মতে, একটি ছাত্রসংগঠন কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে তার উদ্দেশ্য পূরণ হয় না।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানো, সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া এবং সংকটের সময়ে সহমর্মিতা দেখানোও একজন ছাত্রনেতার দায়িত্বের অংশ।
“মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারলে তবেই নেতৃত্বের মূল্য আছে। শুধু মঞ্চে বক্তৃতা দিলেই নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় না।”
প্রত্যাশারচাপইসবচেয়েবড়চ্যালেঞ্জ
দায়িত্ব পালনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী—এই প্রশ্নের উত্তরে ওয়ালিদ কিছুটা ভেবেই উত্তর দেন।
“সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মানুষের প্রত্যাশা। শিক্ষার্থীরা চায় তাদের সমস্যা দ্রুত সমাধান হোক। কর্মীরাও চায় সংগঠন আরও সক্রিয় হোক। কিন্তু বাস্তবতার কারণে সবকিছু সঙ্গে সঙ্গে করা সম্ভব হয় না।”
তাঁর মতে, অনেক সময় প্রশাসনিক জটিলতা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা কিংবা নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে কাঙ্ক্ষিত কাজ বাস্তবায়নে সময় লাগে। তবুও ধৈর্য, নিয়মিত যোগাযোগ এবং আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হয়।
ক্যাম্পাসেসহাবস্থানেরপক্ষে
বর্তমান সময়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার খবর প্রায়ই সামনে আসে। তবে ওয়ালিদ মনে করেন, মতের ভিন্নতা গণতান্ত্রিক সমাজের স্বাভাবিক বিষয়।
“ভিন্নমত থাকতেই পারে। কিন্তু সেই ভিন্নমত যেন কখনো সংঘাতের কারণ না হয়। আমরা চাই একটি শান্তিপূর্ণ, সহনশীল ও শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস, যেখানে সব শিক্ষার্থী নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারবে।”
তিনি বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, মানবিকতা এবং সহমর্মিতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারলেই ক্যাম্পাসের পরিবেশ আরও ইতিবাচক হবে।
শিক্ষার্থীদেরআস্থা—সবচেয়েবড়প্রাপ্তি
দীর্ঘ আলাপের এক পর্যায়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় অর্জন কী?
ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিনের উত্তর ছিল সংক্ষিপ্ত, কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ।
“আমার কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন কোনো পদ নয়। যদি একজন সাধারণ শিক্ষার্থী বিশ্বাস করে যে প্রয়োজনের সময় আমি তার পাশে দাঁড়াব, সেটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
পড়াশোনা, নেতৃত্ব ও স্বপ্ন—একজন ছাত্রনেতার ব্যক্তিগত দর্শন
একজন ছাত্রনেতার কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি—রাজনীতি আর পড়াশোনা কি পাশাপাশি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব? অনেকের মতে, সাংগঠনিক ব্যস্ততা একাডেমিক জীবনে প্রভাব ফেলে। আবার কেউ মনে করেন, সময় ব্যবস্থাপনা জানলে দুটি ক্ষেত্রেই সফল হওয়া সম্ভব।
ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন দ্বিতীয় মতের পক্ষেই দাঁড়ান। তাঁর মতে, একজন ছাত্রনেতার সবচেয়ে বড় পরিচয় হওয়া উচিত তিনি একজন শিক্ষার্থী। সেই পরিচয়কে অক্ষুণ্ন রেখেই নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করতে হয়।
তিনি বলেন,
“সময় ব্যবস্থাপনাই সবচেয়ে বড় বিষয়। আমি সবসময় চেষ্টা করি পড়াশোনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সংগঠনের দায়িত্বও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে।”
তবে তিনি স্বীকার করেন, অতীতের রাজনৈতিক বাস্তবতা তাঁর শিক্ষাজীবনকে কিছুটা প্রভাবিত করেছে।
“বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে ছাত্রদলের একজন কর্মী হওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই আমার একাডেমিক কার্যক্রম কিছুটা বিঘ্নিত হয়েছিল। এখন চেষ্টা করছি রাজনীতির পাশাপাশি সেদিকেও সমান গুরুত্ব দিতে। কারণ একজন ছাত্রনেতা যদি নিজেই শিক্ষাজীবনে সফল না হন, তাহলে অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা হওয়া কঠিন।”
‘নেতৃত্ব মানে দায়িত্ব’
ওয়ালিদের সঙ্গে দীর্ঘ আলাপের পুরোটা জুড়ে একটি বিষয় সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে—তিনি নেতৃত্বকে কখনো ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে দেখেন না।
বরং তাঁর ভাষায়,
“নেতৃত্ব মানে সবার আগে দায়িত্ব নেওয়া। নেতৃত্ব মানে মানুষের কথা শোনা, সংকটে পাশে দাঁড়ানো এবং নিজের চেয়ে অন্যের প্রয়োজনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া।”
একজন আদর্শ ছাত্রনেতার কী গুণ থাকা উচিত—এই প্রশ্নে তিনি বলেন,
“আমার কাছে একজন আদর্শ ছাত্রনেতা সেই ব্যক্তি, যিনি আগে একজন ভালো মানুষ। যার মধ্যে সততা, সাহস, বিনয়, ত্যাগের মানসিকতা এবং মানুষের কথা মন দিয়ে শোনার ক্ষমতা থাকবে। নেতৃত্ব কখনো অহংকারের বিষয় নয়; এটি জবাবদিহির একটি জায়গা।”
চারটি মূল্যবোধে বিশ্বাস
ব্যক্তিগত জীবনেও কিছু নীতিকে তিনি সবসময় অনুসরণ করার চেষ্টা করেন।
সততা, দায়িত্ববোধ, মানবিকতা এবং দেশপ্রেম—এই চারটি শব্দই তাঁর কাছে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
তিনি বলেন,
“মানুষকে পদ দিয়ে নয়, চরিত্র দিয়ে মূল্যায়ন করা উচিত। পদ একদিন থাকবে না, কিন্তু একজন মানুষের ব্যবহার, সততা এবং কর্মই তাকে মানুষের মনে বাঁচিয়ে রাখে।”
স্বপ্ন শুধু রাজনীতি নয়, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও
বিএম কলেজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ওয়ালিদের চোখে আলাদা উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
তিনি চান, কলেজটি শুধু ঐতিহ্যের জন্য নয়, শিক্ষার মান, গবেষণা, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশের দিক থেকেও দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হোক।
তাঁর স্বপ্নের তালিকায় রয়েছে—
ক্যারিয়ার অ্যান্ড স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেল,
উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ার গাইডেন্স ডেস্ক,
জরুরি শিক্ষার্থী সহায়তা তহবিল,
নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম,
প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শিক্ষা-সহায়ক ব্যবস্থা।
তিনি বলেন,
“আমি চাই ছাত্রসংগঠন শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকুক। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনেরও একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হোক। একজন শিক্ষার্থী যেন শুধু একটি ডিগ্রি নয়, দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস এবং নেতৃত্বের গুণ নিয়েও কলেজ থেকে বের হতে পারে।”
ভবিষ্যৎ নিয়ে অন্যরকম ভাবনা
অনেকেই ভবিষ্যৎ নিয়ে নির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা বলেন। কিন্তু ওয়ালিদের উত্তর ছিল কিছুটা ভিন্ন।
তিনি বলেন,
“আমি ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব বেশি পরিকল্পনা করি না। মানুষ মরণশীল। কখন, কোথায় এবং কীভাবে জীবনের সমাপ্তি হবে, তা একমাত্র মহান আল্লাহই জানেন। তাই আমি পদ নয়, প্রতিটি দিন যেন সততা, দায়িত্ববোধ এবং মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে পারি, সেই চেষ্টাই করি।”
কিছুক্ষণ থেমে তিনি আরও যোগ করেন,
“আমার একটাই প্রত্যাশা—যেদিন এই পৃথিবী থেকে বিদায় নেব, সেদিন মানুষ যেন আমাকে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এবং দোয়ার সঙ্গে স্মরণ করে। যদি একজন সৎ, দায়িত্বশীল ও মানবিক মানুষ হিসেবে মানুষের হৃদয়ে সামান্য জায়গাও করে নিতে পারি, সেটাই হবে আমার সবচেয়ে বড় অর্জন।”
নতুন প্রজন্মের প্রতি বার্তা
ছাত্ররাজনীতিতে আসতে আগ্রহী নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য তাঁর পরামর্শও বেশ স্পষ্ট।
“প্রথমে নিজেকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলুন। পড়াশোনাকে গুরুত্ব দিন। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকুন। রাজনীতিকে কখনো ব্যক্তিগত লাভের মাধ্যম হিসেবে নয়, মানুষের সেবার একটি মহৎ দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করুন। আদর্শ, শৃঙ্খলা ও ত্যাগ ছাড়া প্রকৃত নেতৃত্ব সৃষ্টি হয় না।”
শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে
আলাপের শেষদিকে কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের উদ্দেশে নিজের বার্তা তুলে ধরেন ওয়ালিদ।
তিনি বলেন,
“শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। নৈতিক মূল্যবোধ এবং দেশপ্রেম ধারণ করে নিজেকে একজন যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আমাদের শিক্ষকরা শুধু পাঠদান করেন না, তাঁরা আমাদের পথপ্রদর্শক। আর অভিভাবকদের প্রতি আমার অনুরোধ, সন্তানদের শুধু ভালো ফলাফলের জন্য নয়, একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে উৎসাহিত করুন। আমরা সবাই যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল হই, তাহলে আমাদের কলেজ, সমাজ এবং বাংলাদেশ অবশ্যই আরও সুন্দর ও সমৃদ্ধ হবে।”
শেষকথা
কথোপকথন শেষে ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিনকে বিদায় জানিয়ে বেরিয়ে আসার সময় মনে হচ্ছিল, তাঁর কথাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত শব্দ ছিল—দায়িত্ব।
রাজনীতির উত্তাপ, সাংগঠনিক ব্যস্ততা কিংবা নেতৃত্বের আলোচনার ভিড়েও তিনি বারবার ফিরে গেছেন মানুষের কাছে, শিক্ষার্থীদের কাছে, দায়িত্বের কাছে।
ভবিষ্যতে তাঁর পথচলা কোন দিকে যাবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—নিজের ভাষায় তিনি যে পরিচয়টি সবচেয়ে বেশি ধারণ করতে চান, সেটি কোনো পদবির নয়; একজন দায়িত্বশীল, মানবিক এবং শিক্ষার্থীদের আস্থার জায়গা হয়ে ওঠা মানুষের।
আর হয়তো এ কারণেই তাঁর একটি বাক্য দীর্ঘ আলাপের পরও মনে থেকে যায়—
“পদ একদিন শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু মানুষের ভালোবাসা ও বিশ্বাসই একজন মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়।”
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরিশাল। | 28 September 2026, 9:40 pm
দৈনিক বরিশাল প্রতিদিনের বার্তা সম্পাদক বেলায়েত বাবলুর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে গেছেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা বরিশাল জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ।
২৮ সেপ্টেম্বর (সোমবার) দুপুরে শেবাচিম হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন বেলায়েত বাবলুকে দেখতে যান তারা। এ সময় নেতৃবৃন্দ তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসার বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি ও দৈনিক বর্তমান’র ব্যুরো চিফ মোঃ মামুন-অর-রশিদ, সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ টুডের ব্যুরো চিফ জিহাদ রানা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও দৈনিক বর্তমান’র ফটোসাংবাদিক পারভেজ সরদার, প্রচার সম্পাদক ও দৈনিক দক্ষিণাঞ্চলের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার এম সাইফুল ইসলাম, নির্বাহী সদস্য ও সকাল সংবাদ-এর সম্পাদক সিহাব তোহাসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিক বেলায়েত বাবলুর দ্রুত সুস্থতা কামনা করে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার নেতৃবৃন্দ তার জন্য সবার কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেন। সম্প্রতি বুকে ব্যাথা ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তিন বাবলু। তার হার্টের সমস্যা থাকায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা হৃদরোগ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার জন্য রেফার করা হয়েছে।
ডিজিটাল যুগে অপতথ্য রোধে তথ্যপ্রকাশ নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং জনগণের তথ্যের অবাধ প্রবাহ ও অভিগম্যতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করতে তথ্য অধিকার আইনের সঠিক বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক তথ্য জানার অধিকার দিবস-২০২৬ উপলক্ষে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বরিশালে আয়োজিত র্যালি ও আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য নিশ্চিতকরণ: অপতথ্য রোধে তথ্য অধিকারের ভূমিকা’। দিবসটি উপলক্ষে বরিশাল জেলা প্রশাসন, সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-টিআইবি ও বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) যৌথভাবে র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করে।
সকাল সাড়ে ১১টায় র্যালি শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সালমা পারভীনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. মামুন খান্দকার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাসুম বিল্লাহ ও ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মুনশী মুবিনুল হক। এছাড়া সনাক-টিআইবি বরিশালের সভাপতি টুনু রানী কর্মকারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে নাগরিকের চিন্তা, বিবেক ও বাক্স্বাধীনতাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যার অবিচ্ছেদ্য অংশ তথ্য অধিকার। তথ্য অধিকার আইন শক্তিশালী হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এখনও বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ও প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। অবাধ তথ্যপ্রাপ্তি সুশাসন নিশ্চিত ও দুর্নীতি প্রতিরোধের অন্যতম পূর্বশর্ত।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. মামুন খান্দকার বলেন, তথ্য অধিকার জনগণের একটি গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক অধিকার এবং স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। ডিজিটাল যুগে তথ্যের অবাধ প্রবাহ মানুষের জীবনকে সহজ করলেও ভুল, বিভ্রান্তিকর ও গুজবনির্ভর তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, শুধু তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; জনগণের কাছে সময়োপযোগী, সঠিক, নির্ভরযোগ্য ও যাচাইযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়াও দায়িত্ব। তথ্যের অবাধ প্রবাহ ও অভিগম্যতা নিশ্চিত করতে তথ্য অধিকার আইনের সঠিক বাস্তবায়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সনাকের সভাপতি টুনু রানী কর্মকার বলেন, সরকারি দপ্তরগুলোকে তথ্যের স্বপ্রণোদিত প্রকাশ বাড়াতে হবে এবং তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী নাগরিকদের তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ আরও সহজ ও কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে জনগণকেও তথ্য যাচাই করে গ্রহণ ও প্রচারে সচেতন হতে হবে।
আলোচনা সভায় আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস-২০২৬ উপলক্ষে সর্বজনীন তথ্য অধিকার, প্রবেশগম্যতা ও জন-অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে টিআইবির ১৬ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে তথ্য কমিশন পুনর্গঠন, যোগ্য ও দলীয় প্রভাবমুক্ত ব্যক্তিদের কমিশনার হিসেবে নিয়োগ, কমিশনের জনবল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়।
অনুষ্ঠানে জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, যুব প্রতিনিধি, উন্নয়ন সংগঠক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, টিআইবির সনাক, ইয়েস ও এসিজি সদস্য এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা অংশ নেন।
বরিশালের উজিরপুরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের আটিপাড়া এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিন তরুণ নিহত হয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- উজিরপুর উপজেলার বামরাইল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আটিপাড়া গ্রামের তাওহী ও সৌরভ এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ধামসর গ্রামের মুত্তাকিন।
স্থানীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর মোহাম্মদ লালন ফকির নিহত তিন তরুণের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় কয়েকজন জানান, তিনজনই এ বছর একসঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলেন এবং পরস্পরের বন্ধু ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় ব্যবসায়ী সেলিম সরদার জানান, ঢাকা থেকে বরিশালগামী মোটরসাইকেলটির সঙ্গে ঢাকাগামী একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলটি ছিটকে পড়ে।
বাসটি ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার উত্তরে গিয়ে থামে। পরে বাসের চালক ও হেলপার পালিয়ে যান বলে জানান তিনি।
দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটার এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে উজিরপুর মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম তিনজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ মরদেহগুলো উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।
দুর্ঘটনার কারণ ও বাসটির চালক-হেলপারের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
এই স্লোগানকে সামমে রেখে জাতীয় শিশুকিশোর সংগঠন ফুলকুঁড়ি আসর বরিশাল মহানগরী শাখার আয়োজনে সংগঠনটির ৫২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফুলকুঁড়ি আসর বরিশাল মহানগরী উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি ডা.খান আব্দুর রউফ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এ্যাড. মোঃ রুহুল আমীন খায়ের(উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য)।
অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের বাংলাদেশের প্রধান কারিগর। একটি শিশুর সুস্থ ও স্বাভাবিক বিকাশ, নৈতিক চরিত্র গঠন এবং সৃজনশীলতার বিকাশই পারে একটি সুন্দর, আলোকিত ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণের শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করতে। তাই শিশুদের মাঝে স্বপ্ন, নৈতিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম ও আদর্শিক চেতনা জাগিয়ে তুলতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের পাশাপাশি সকলকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
অতিথিরা আরও বলেন, শিশুদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি তাদেরকে মানবিক, দায়িত্বশীল ও আদর্শবান নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ফুলকুঁড়ি আসর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে এবং এজন্য অতিথিরা ফুলকুঁড়ি আসরকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ও সার্বিক সহোযোগিতার আশ্বাস দেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে ফুলকুঁড়ি আসরের সদস্য, শিশু-কিশোরদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় প্রাণবন্ত ও মুখরিত এক মিলনমেলায়।
সর্বশেষ বেলুন উড়ানোর মাধ্যমে বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ ফুলকুড়ি আসনের ৫২ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের উপাধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন পেয়েছেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী জাবের আহমেদ।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখার এক প্রজ্ঞাপনে তাকে এ পদে পদায়ন করা হয়। পদায়নের পর বিএম কলেজে অনুষ্ঠিত যোগদান অনুষ্ঠানে বরিশাল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. মহিউদ্দিন, তালতলী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান, মাউশির আঞ্চলিক পরিচালক জাকির হোসেন, উপপরিচালক মো. নাজমুলসহ অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপকবৃন্দ এবং বিএম কলেজসহ বরিশালের বিভিন্ন কলেজের প্রায় শতাধিক শিক্ষক-কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
অধ্যাপক কাজী জাবের আহমেদ ১৮তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে প্রভাষক (পদার্থবিজ্ঞান) হিসেবে সরকারি ফজলুল হক কলেজ, চাখারে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ক্রমান্বয়ে আটটি কলেজে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি অধ্যাপক (পদার্থবিজ্ঞান) পদে সরকারি ব্রজমোহন কলেজে ইনসিটু হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকেই তাকে কলেজটির উপাধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
নতুন দায়িত্ব প্রসঙ্গে অধ্যাপক কাজী জাবের আহমেদ বলেন, সরকারের শিক্ষা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় সর্বদা সচেতন থাকব।
উল্লেখ্য, অধ্যাপক কাজী জাবের আহমেদ বর্তমানে বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন, বরিশাল জেলার সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি অষ্টাদশ বিসিএস (অল-ক্যাডার) ফোরামের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ক্ষমতায় আসার প্রথম ৬ মাসে নানা জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের আলাদা ভাবমূর্তি তৈরির চেষ্টা করছে বিএনপি সরকার। কিন্তু এরই মধ্যে দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখলদারি, সন্ত্রাস ও নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ সরকারের জন্য নতুন রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। রাজধানী থেকে জেলা-উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত এসব অভিযোগের খবর প্রকাশ পাওয়ায় একদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের মাঠপর্যায়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও আলোচনা বাড়ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে এ বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা। গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে মুখোশ পরা দুই শতাধিক সন্ত্রাসী স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে লুটপাট চালায় এবং পরে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধাপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্থানীয় বিএনপির দুটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে জায়গাটি দখলের চেষ্টা করছিল। হামলার পর সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেডে’র সাইনবোর্ডও টাঙানো হয়। এই হামলা ও দখলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার সংরক্ষিত নারী আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ও মিরপুরের শাহ আলী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হানিফ মিয়াসহ বিএনপির নেতাকর্মী-সন্ত্রাসীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে।
১৯৭৪ সালে মিরপুরের সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্ন আয়ের মানুষের মাতৃ ও শিশুসেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের কার্যক্রম শুরু হয়। শিশুদের টিকাদান, শিশু স্বাস্থ্যসেবা, প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছিল সুইডিশ ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থা রাড্ডা বার্নেন নামের প্রতিষ্ঠানটি। ফলে জমি দখলের অভিযোগের পাশাপাশি একটি দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুরের ঘটনাটি জনস্বার্থের প্রশ্নও সামনে এনেছে।
এমনকি এই জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানটির দখলে খোদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর প্রধান রাষ্ট্রীয় সংস্থা পুলিশের ভূমিকা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, ভাঙচুরের সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত ছিল। পরে চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ঘটনাটি প্রতিরোধ করা পুলিশের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে; পুলিশের কোনো সদস্যের দায়িত্বে অবহেলা বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, কোনো দল বা মত দেখা হবে না, অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখা হবে।
রাড্ডা সেন্টারের ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন; কাউকে দলীয়ভাবে দায়ী করার মতো চূড়ান্ত তদন্ত-ফল প্রকাশিত হয়নি। কিন্তু ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ক্ষমতাসীন দলের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, দখল ও অপরাধের অভিযোগ নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও বারবার সতর্কবার্তা দিচ্ছে।
এদিকে, মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা ও দখলের বিষয়ে আজ রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনিয়ম, সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখবে। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ঘটনায় সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, মিরপুরের রাড্ডা সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় শাহ আলী থানার ওসির দায়িত্বে অবহেলা ছিল। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে হামলায় জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯ জন গ্রেপ্তার হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এছাড়া, রাজধানীর ইসিবি চত্বরের ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জায়গাজমি নিয়ে পূর্ববিরোধের সম্ভাব্য জের বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সালমান মুক্তাদির কোনো মামলা করেননি; বরং বিএনপির বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। এর বাইরে গুলিস্তানে জাসদের কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গোপন বৈঠকের খবর পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৫০ জনকে আটক করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাদের মধ্যে ২৭ জন ছাড়া বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। নাশকতার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো অনুমতি ছাড়াই বৈঠক করতে পারে; তবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের তথ্য পাওয়ায় ওই অভিযান চালানো হয়।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্যেও একই অবস্থান উঠে এসেছে। তিনি বলেন, সরকার চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেছে। ঢাকায় এক দিনের পুলিশি অভিযানে ৪৭২ জনকে আটক করার তথ্য দেন তিনি। একই সঙ্গে সরকারি অর্থ ও সম্পদ লুটকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন রিজভী।
রিজভী আহমেদ দলীয় অবস্থান ব্যাখ্যা করে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ অপকর্ম করলে দল তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিচ্ছে। অবৈধ দখলদার ও চাঁদাবাজদের বিএনপি প্রশ্রয় দেয় না এবং এ ধরনের অভিযোগে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে ইতোমধ্যে দল থেকে বহিষ্কার বা পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।
এদিকে মাঠপর্যায়ে অভিযোগের পরিসরও কম নয়। জুনে নারায়ণগঞ্জের বিএনপি এমপির ছেলে ও জেলা যুবদলের এক নেতাকে চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছিল। সেপ্টেম্বরে পটুয়াখালীর বাউফলে এক বিএনপি নেতাকে এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে দলীয় পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এসব ঘটনায় অভিযোগের সত্যতা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করবে তদন্ত ও আদালত; তবে দলীয় নেতৃত্বের জন্য ঘটনাগুলো সাংগঠনিক শৃঙ্খলার প্রশ্ন সামনে এনেছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব অবশ্য পাল্টা যুক্তিও দিচ্ছে। রিজভী বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রাতারাতি শতভাগ স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়; গুরুত্বপূর্ণ হলো অপরাধের পর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না এবং অপরাধীরা গ্রেপ্তার ও শাস্তির মুখোমুখি হচ্ছে কি না।
এখানেই সরকারের জন্য রাজনৈতিক পরীক্ষাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থাকার পর বিএনপির কাছে মানুষের অন্যতম প্রত্যাশা ছিল আইনের শাসন, নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে প্রশাসনিক ব্যবস্থা। ফলে দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ বারবার উঠতে থাকলে তা শুধু সাংগঠনিক সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ কমে যায়; সরকারের ভাবমূর্তি ও প্রশাসনিক সক্ষমতার প্রশ্নও সামনে আসে।
বিশেষ করে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মতো একটি প্রতিষ্ঠানে রাতের আঁধারে হামলা, লুটপাট, স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং এরপর সেখানে দখলের দাবিসংবলিত সাইনবোর্ড টাঙানোর ঘটনা জনমনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি করেছে—ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় প্রভাব কি প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণকে ছাপিয়ে যাচ্ছে? আবার পুলিশের উপস্থিতি সত্ত্বেও হামলা ঠেকানো না যাওয়ার অভিযোগ সেই প্রশ্নকে আরও জোরালো করেছে। তদন্তে কারা জড়িত এবং তাদের রাজনৈতিক পরিচয় কী, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
ফলে বিএনপি সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জটি কেবল চাঁদাবাজি বা দখলদারি বন্ধ করা নয়; ক্ষমতাসীন দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে দ্রুত, দৃশ্যমান ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নেওয়া। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার মধ্যে ব্যবধান যত কমানো যাবে, সরকারের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার পরীক্ষাও ততটাই ইতিবাচকভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। আর সেই ব্যবধান থেকেই যদি নতুন নতুন অভিযোগের জন্ম হয়, তাহলে চাঁদাবাজি-দখল-সন্ত্রাসের বিতর্ক বিএনপি সরকারের জন্য ক্রমেই বড় রাজনৈতিক বোঝা হয়ে উঠতে পারে।
কর্মজীবী বাবা-মায়ের সন্তানদের নিরাপদ পরিচর্যা, প্রাথমিক শিক্ষা ও খেলাধুলার সুযোগ দিতে বরিশাল নগরীতে চালু হয়েছে ‘বরিশাল ডে কেয়ার এন্ড প্রি-স্কুল’। এক থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের জন্য প্রতিষ্ঠিত এ কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রি-স্কুল কার্যক্রম, পড়াশোনায় সহায়তা ও খেলাধুলার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
নগরীর নতুন বাজার এলাকার সপ্ত বর্ণ কমিউনিটি সেন্টারের তৃতীয় তলায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গতকাল দুপুর ৩টায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বলেন, বর্তমানে অনেক পরিবারে বাবা ও মা দুজনই কর্মজীবী। কর্মব্যস্ততার কারণে সন্তানদের নিয়মিত দেখাশোনা ও পরিচর্যা করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে শিশুদের নিরাপদ পরিবেশে রাখার পাশাপাশি তাদের শিক্ষা ও বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, একক অভিভাবকদের ক্ষেত্রেও সন্তান লালন-পালনে বাড়তি দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ থাকে। শিশুদের যত্নের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ফারজানা আক্তার মনি বলেন, এক বছর থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের এখানে ভর্তি করা যাবে। শিশুদের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে পুরো প্রতিষ্ঠানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। অভিভাবকদের ক্যামেরার অ্যাক্সেস দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এর ফলে তারা মোবাইল ফোন বা অন্য ডিভাইসের মাধ্যমে সন্তানদের কার্যক্রম লাইভ দেখতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, শুধু শিশুদের দেখাশোনা নয়, তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ জন্য রয়েছে খেলাধুলা ও শারীরিক চর্চার জন্য প্লে-জোন। পাশাপাশি প্রি-স্কুল কার্যক্রম ও পড়াশোনায় সহায়তার জন্য কোচিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
ফারজানা আক্তার মনি বলেন, কর্মজীবী অভিভাবকেরা কর্মস্থলে থাকা অবস্থায় যাতে সন্তানদের নিরাপদ পরিবেশে রাখা যায় এবং একই সঙ্গে তাদের শিক্ষা, খেলাধুলা ও সৃজনশীল বিকাশের সুযোগ দেওয়া যায়—সেই লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানটি চালু করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের একান্ত ব্যক্তিগত সচিব মাসুম হাসান, সহকারী ব্যক্তিগত সচিব সাকলাইন মোস্তাকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা।
আয়োজকদের মতে, নগরীতে কর্মজীবী অভিভাবকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের জন্য নিরাপদ ও পরিকল্পিত ডে কেয়ার সুবিধার প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে। সেই প্রয়োজন বিবেচনায় রেখে প্রতিষ্ঠানটিতে পরিচর্যা, শিক্ষা ও বিনোদনের সমন্বিত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
পটুয়াখালীর মহিপুরে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে মেহেদী হাসান ফারুক নামে এক ছাত্রদল নেতাকে তুলে নিয়ে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা, সদস্যসচিব ফাহিম, রাশেদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত ফারুক বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে মহিপুর বাজার থেকে সাদা পোশাকে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ফারুককে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যান। স্থানীয়দের দাবি, তাদের হাতে ওয়াকিটকি ছিল। পরে কলাপাড়ার একটি হোটেলের পাশের নির্জন এলাকায় নিয়ে ফারুককে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, একটি বিয়েতে সাক্ষী হওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরেই ফারুককে তুলে নেওয়া ও মারধরের ঘটনা ঘটে।
মহিপুর মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রবিউল বলেন, ওই রাতে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ফারুককে তুলে নেওয়ার খবর পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করা হয়। পরে রাত ১টার দিকে কলাপাড়ার রুবান হোটেলের পাশ থেকে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। প্রথমে কলাপাড়া ৫০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
অভিযোগের বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব ফাহিম বলেন, ‘মারধরের বিষয়টি আমি জানি। তবে এর সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।’
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মাসুদ রানাও। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ওয়াকিটকি হাতে এক ব্যক্তির সঙ্গে মাসুদ রানাকে দেখা গেছে।
কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি তুষার বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে আমি অবগত নই। আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি দেখেছি। ১৭ সেপ্টেম্বর পারিবারিক কাজে আমি চট্টগ্রামে ছিলাম। তবে ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।’
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার সত্যতা অনুসন্ধানে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’
অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তদন্তে ডিবি পরিচয় ব্যবহার, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।’
প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পরও নিয়োগপত্র পাননি বরিশাল জেলার ৭২ প্রার্থী। কেন তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়নি, তার সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে দেওয়া এক স্মারকলিপিতে এ দাবি জানান নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীরা।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর বরিশাল জেলায় ৩৭১ জনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। তবে সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে ৭২ জন এখনো নিয়োগপত্র পাননি বলে দাবি করেছেন তারা।
প্রার্থীদের অভিযোগ, বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার কথা বলা হলেও তাদের নিয়োগ না দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। এ অবস্থায় নিয়োগ বাতিল বা স্থগিতের কোনো লিখিত আদেশ, প্রতিবেদন কিংবা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত থাকলে তার অনুলিপি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়ার কোনো কাগজপত্র বা প্রশাসনিক কার্যক্রম অসম্পূর্ণ থাকলে তা সম্পন্ন করার সুযোগ, পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে লিখিত নির্দেশনা এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট স্মারক নম্বর ও বর্তমান অবস্থা জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীদের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে অনুসন্ধান করে কেন তাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি, সেই কারণ স্পষ্ট করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
বিএম কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মো. জাহিদ হাসান বলেন, ‘আমার বয়স শেষ পর্যায়ে। পরে আর সুযোগ পাব কি না জানি না। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করব—এই আশায় মেট্রোরেলের চাকরিও ছেড়ে দিয়েছিলাম। চাকরি ছাড়ার পর দীর্ঘ আট মাস বেকার সময় পার করছি। এখন আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কেন বাদ দেওয়া হয়েছে, সেটিও জানি না।’
তিনি বলেন, ‘এখনো যদি যোগদান করতে না পারি, তাহলে আমার সবকিছু হারাতে হবে। আমরা যারা বাদ পড়েছি, আমার মনে হয় সবাই যোগ্য প্রার্থী। তাই কোনো কারণ না জানিয়ে বাদ না দিয়ে আমাদের একযোগে নিয়োগ দিয়ে কর্মস্থলে যোগদানের সুযোগ দেওয়া উচিত।’
নিয়োগবঞ্চিত ৭২ প্রার্থীর দাবি, চূড়ান্ত সুপারিশের পরও কেন তাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি, তা দ্রুত স্পষ্ট করে যোগদানের সুযোগ নিশ্চিত করা হোক।
বরিশাল শহরের বটতলা এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে অন্তত ১২ জনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। শনিবার বিকেলে স্থানীয় হালিমা খাতুন স্কুলসংলগ্ন একটি ভবন থেকে তাদের আটক করা হয়।
গোয়েন্দাপুলিশের দাবি, শহর অভ্যন্তরে নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশে বৈঠক চলছিল। কিন্তু এর আগেই সেখানে গোয়েন্দাপুলিশ হানা দেয় এবং ঘটনাস্থল থেকে ১২ জনকে হেফাজতে নেয়।
তাৎক্ষণিকভাবে আটকদের নাম পরিচয় না পাওয়া গেলেও ডিবি পুলিশের একটি সূত্র বলছে, সকলে কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বরকে কেন্দ্র করে তারা একটি বৈঠক করছিলেন।
Search
Cookie Consent
We use cookies to improve your experience on our site. By using our site, you consent to cookies.
Contains information related to marketing campaigns of the user. These are shared with Google AdWords / Google Ads when the Google Ads and Google Analytics accounts are linked together.
90 days
__utma
ID used to identify users and sessions
2 years after last activity
__utmt
Used to monitor number of Google Analytics server requests
10 minutes
__utmb
Used to distinguish new sessions and visits. This cookie is set when the GA.js javascript library is loaded and there is no existing __utmb cookie. The cookie is updated every time data is sent to the Google Analytics server.
30 minutes after last activity
__utmc
Used only with old Urchin versions of Google Analytics and not with GA.js. Was used to distinguish between new sessions and visits at the end of a session.
End of session (browser)
__utmz
Contains information about the traffic source or campaign that directed user to the website. The cookie is set when the GA.js javascript is loaded and updated when data is sent to the Google Anaytics server
6 months after last activity
__utmv
Contains custom information set by the web developer via the _setCustomVar method in Google Analytics. This cookie is updated every time new data is sent to the Google Analytics server.
2 years after last activity
__utmx
Used to determine whether a user is included in an A / B or Multivariate test.
18 months
_ga
ID used to identify users
2 years
_gali
Used by Google Analytics to determine which links on a page are being clicked
30 seconds
_ga_
ID used to identify users
2 years
_gid
ID used to identify users for 24 hours after last activity
24 hours
_gat
Used to monitor number of Google Analytics server requests when using Google Tag Manager
1 minute
Jetpack's built-in visitor analytics. It records page views, referring sites, search terms, and outbound link clicks, and also carries the shared visitor-tracking library used by Jetpack Instant Search and WooCommerce Analytics.