বরিশাল নগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত শতবর্ষী এক জলাশয় বিবির পুকুর। একসময় এই পুকুর ছিল শহরের প্রাণ। এখন সেই পুকুর আর আগের মতো নেই। তাই পুকুরটির সৌন্দর্য ফেরাতে বসানো হচ্ছে ফোয়ারা। কিন্তু পুকুরটির দক্ষিণ পাশে বসানো হয়েছে লোহার তৈরি বিশাল খাঁচা। এ নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন করে বিতর্ক।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সকালে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, পুরো এলাকা ঘিরে ফেলার প্রস্তুতিও চলছে নেট দিয়ে। জানা গেছে মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) গভীর রাতে এই খাঁচা বসানো হয়।
স্থানীয়দের আশঙ্কা এই খাঁচায় হারিয়ে যাবে বিবির পুকুরের খোলা আকাশ, মুক্ত সৌন্দর্য। এর আগেও শহরের আরেক প্রান্তে, বেলস পার্ক লেক ঘিরে দেওয়ার উদ্যোগে তীব্র প্রতিবাদ হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমে খবর ছাপা হলে নাগরিকদের মানববন্ধন, চিত্রাঙ্কন আর স্মারকলিপির পর সেই কাজ স্থগিত হয়। তবে এবার যেন সেই পুরানো গল্পই ফিরে আসছে বিবির পুকুরে।
বিবির পুকুর শুধু একটি জলাশয় নয়, এটি ইতিহাসের ধারক। জানা যায়, খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারক উইলিয়াম কেরি ১৮০০ সালের দিকে বরিশালে এসে এক মুসলিম মেয়েকে পর্তুগিজ দস্যুদের হাত থেকে উদ্ধার করেন। নাম রাখেন জিন্নাত বিবি। নিঃসন্তান এই নারী ১৯০৮ সালে নিজের জমিতে এই পুকুর খনন করেন মানুষের উপকারে। সেই থেকে জলাশয়টির নাম, বিবির পুকুর।
প্রায় ৪০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৮৫০ ফুট প্রস্থের এই জলাশয় একসময় কীর্তনখোলা নদীর সঙ্গে দুটি খাল দিয়ে সংযুক্ত ছিল। নদীর জোয়ারে পানি এসে ভরে দিত পুকুর, মাছও আসত। কিন্তু সময়ের স্রোতে সেই খাল আজ বিলুপ্ত, আর পুকুরটিও হয়ে পড়েছে বদ্ধ ও নিস্তরঙ্গ। কয়েক বছর আগে প্রয়াত মেয়র শওকত হোসেন পুকুর ঘিরে সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেন। পার্ক, বেঞ্চ, আলোকসজ্জা, ফোয়ারা; সব ছিল সেই পরিকল্পনায়। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে হারিয়ে গেছে সেই জৌলুস। পুকুরের দক্ষিণ পাশে অবৈধ দোকান উঠলেও কিছুদিন পর আবার বসানো হয় করপোরেশনের অনুমতিতে।
স্থানীয় কবি ও ইতিহাসবিদ হেনরি স্বপন বলেন, একসময় বিবির পুকুর ছিল আমাদের শহরের গর্ব। এখন সেখানে মাছ চাষ, দোকান, ময়লার গন্ধ, সব মিলিয়ে জীর্ণ অবস্থা। রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে যারা আছেন, তারা যেন এই জায়গাটাকেই ভুলে গেছেন। যে শহর নিজের জলাশয় বাঁচাতে পারে না, সে তার ইতিহাসও টিকিয়ে রাখতে পারে না।
এ ব্যাপারে বরিশাল সিটি করপোরেশনের বাজার কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম জানান, কিছু ব্যক্তি অবৈধভাবে দোকান বসিয়ে ভাড়া তুলছিলেন, তাই উচ্ছেদ করা হয়েছে। বৈধ ব্যবসায়ীদের জন্য স্টিকার দেওয়া হচ্ছে, প্রতিদিন ৫০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী জানান, ফোয়ারার কাজ প্রায় শেষ। কাজ শেষ হলে বিবির পুকুর তার আগের রূপ ফিরে পাবে। এছাড়া পুকুর রক্ষার জন্য ময়লা যাতে পুকুরে না পড়ে, সে জন্যই গ্রিল ও নেট বসানো হচ্ছে।
বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের আয়োজনে পেশা উন্নয়নবিষয়ক আলোচনা, আন্তঃবিভাগ পরিচিতি সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘ম্যানেজমেন্ট ফেস্ট ৩.০’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিনব্যাপী এ আয়োজনে ক্যারিয়ার গঠন, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এতে ব্যবস্থাপনা বিভাগের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণির বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক কামরুননেছার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শেখ মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। এ সময় বিভাগের শিক্ষক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
অধ্যাপক ড. শেখ মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগ। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এআইসহ নতুন নতুন প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। সারাদিন ফেসবুকে সময় নষ্ট না করে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সময় দিতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখন ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শুধু পেশাগত দক্ষতা অর্জন করলেই চলবে না, এর পাশাপাশি সততা, দেশপ্রেম ও নৈতিকতার চর্চাও করতে হবে। তোমরা ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী। আশা করি, নিজেদের বিষয় ভালোভাবে রপ্ত করে দক্ষ ব্যবস্থাপক হিসেবে গড়ে উঠবে। তোমাদের দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশ ও জাতি এগিয়ে যাবে।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক কামরুননেছা বলেন, বর্তমান করপোরেট জগৎ অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ। শুধু ভালো সিজিপিএ একটি সফল ক্যারিয়ারের নিশ্চয়তা দেয় না। পেশাগত উন্নয়নের জন্য যোগাযোগদক্ষতা, নেতৃত্বদানের ক্ষমতা, দলগত কাজ, সময়ানুবর্তিতা এবং প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। জীবনে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে সততার সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বক্তাদের পরামর্শ নিজেদের জীবনে কাজে লাগাতে না পারলে ক্যারিয়ারে সফলতা অর্জন করা সম্ভব হবে না। শিক্ষার্থীদের যেকোনো সৃজনশীল ও পেশা উন্নয়নমূলক উদ্যোগে বিভাগ সবসময় পাশে থাকবে। নিজেদের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রতিনিয়ত নতুন নতুন দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করতে হবে।
ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী রেদওয়ান আহমেদ অমি বলেন, বিএম কলেজের সবচেয়ে বড় বিভাগ আমাদের ব্যবস্থাপনা বিভাগ। নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি এ ধরনের মিলনমেলা আমাদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে উজ্জীবিত করে এবং মুক্ত আলোচনার সুযোগ তৈরি করে।
আলোচনা পর্ব শেষে বিভাগের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়। পরে বিকাল ৩টায় শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে বিভাগের শিক্ষার্থীরা গান, নৃত্যসহ বিভিন্ন পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। শিক্ষক, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি মিলনমেলায় পরিণত হয়।
বরিশালের হিজলা উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়নের চরছয়গাও গ্রামের এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী অসহায় নারী ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনা ঘটেছে । এ ঘটনায় অসহায় নারীর মা মেহেরাজি বাদি হয়ে ধর্ষণ আইনে হিজলা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে । এতে ঐ এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে ।
জানা গেছে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নারীর বাবা আকু আকনের মৃত্যুর পর বৃদ্ধ মা মেহেরাজি ,মেয়েকে নিয়ে একটি কুড়েঘরে বসবাস করেন । পার্শ্ববর্তী এলাকায় ভিক্ষাবৃত্তি করে কোনোরকমে মেয়েকে নিয়ে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে ।
ওই নারীর গর্ভধারণের বিষয়টি বৃদ্ধ মা টের পাওয়ার পর পর সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা ।
সম্প্রতি মেয়ের শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করার পরে বৃদ্ধ নারী চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলে তার ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বৃদ্ধি প্রতিবন্ধী নারীর মা।
বৃদ্ধ মা মেহেরাজি মেয়েকে নিয়ে বিচারের আশায় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। কিন্তু তার অভিযোগ সহায়তায় এলাকার কেউ এগিয়ে আসেনি।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ভুক্তভোগী নারী ও তার মেয়ের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে । অনেকেই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টায় নানা ভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল ।
এ ঘটনায় সরোজমিনে গেলে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নারী জরিত ফারুক হোসেন নামে একজন মিস্ত্রীর নাম প্রকাশ করেন । তিনি আত্নগোপনে রয়েছে । তাই তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় প্রকৃত বিষয় উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা বাসিন্দারা ।
স্থানীয় হরিনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা ছাত্তার মাঝি বলেন প্রতিবন্ধী নারীর অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে কেউ কোনো ধরনের অনৈতিক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে থাকলে তা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি । একই সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীকে সামাজিকভাবে হেয় না করে তার চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন ।এ ঘটনায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ।
তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং ভুক্তভোগী নারী ও তার অনাগত সন্তানের যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
হিজলা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ সোলায়মান জানান, এই বিষয়ে থানায় একটি মামলা হয়েছে । ভুক্তভোগী নারীকে সর্বাত্মক আইনি সহযোগিতা করা হবে । আসামিদের ধরার জন্য অভিযান চলছে ।
আট বছর হয়ে যাচ্ছে, এখনো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বরিশাল জেলা ও মহানগর যুবদল আহবায়ক কমিটি থেকে পূনার্ঙ্গ কমিটি গঠন হয়নি। ২০১৭ সালে এপ্রিলে কেন্দ্র থেকে বরিশাল জেলা যুবদলের সুপার ফাইভ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর ২০১৮ সালে আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির মেয়াদ তিন বছর থাকলেও অদ্যবদি সম্মেলন বা নতুন কমিটি গঠন করার দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ পরিস্থিতিতে বরিশাল জেলা যুবদলের নতুন কমিটি গঠনের দাবি তুলছেন নেতাকর্মীরা।
নতুন কমিটি গঠনের আলোচনায় রয়েছে নতুন ও পুরানো মুখ। তবে শুনা যাচ্ছে পুরোনোরা এবং নতুনরাই এবার কমিটি প্রাধান্য পাবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। সংগঠনটির অনেকে বলছেন, পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, যুবদলের নেতৃত্বে যুবাদের আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
তবে কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ফের আলোচনায় যুবদলের বরিশাল জেলা ও মহানগর কমিটি গঠন নিয়ে। সরগরম রয়েছে বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গন। নতুন নেতৃত্বে কারা আসছেন, সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে কাদের দেখা যেতে পারে – তা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে ব্যাপক আলোচনা, যোগাযোগ ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে লবিং-তদবির।
দলীয় সূত্র ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় একাধিক নাম ঘুরে ফিরে আসছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো নামই চূড়ান্ত বা আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত নয়। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় যুবদলের সিদ্ধান্তেই নেতৃত্ব নির্ধারিত হবে।
জেলা যুবদলে আলোচনায় যারা:
বরিশাল জেলা যুবদলের নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন অ্যাডভোকেট এইচ এম তসলিম উদ্দিন, মামুন রেজা খান, অ্যাডভোকেট হাফিজ আহমেদ বাবলু, ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুল আলম মিঠু, মো. বেলায়েত হোসেন ও মোঃ হাবিবুল্লাহসহ কয়েকজন। এর মধ্যে অ্যাডভোকেট তসলিম উদ্দিন ২০১৭ সালে বরিশাল দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও হাফিজ আহমেদ বাবলু সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ২০২১ সালে বিপ্লব মারা গেলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হন মামুন রেজা খান। পাশাপাশি এইচ এম তসলিম উদ্দিনের সাংগঠনিক ভূমিকা আরও দৃশ্যমান হয়। ২০২৬ সালের জুনে তিনি কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। ফলে জেলায় তার পদ নিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। তাই ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুল আলম মিঠু সদ্য সাবেক অবিভক্ত জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ)। দলের দুঃসময়ে বরিশাল বিভাগে দায়িত্ব পালন, হামলা-মামলা ও রাজপথে সক্রিয় থাকার কারণে তৃণমূলের আলোচনায় এসেছে। অপরদিকে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হচ্ছেন জেলা যুবদলের (উত্তর) যুগ্ম আহ্বায়ক কায়সার আহমেদ, জেলা দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ আহমেদ বাবলু এবং উত্তরের আহ্বায়ক সালাউদ্দিন পিপলু।
মহানগর যুবদলে পুরোনো-নতুনের প্রতিযোগিতা:
মহানগর যুবদলের সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন মাসুদ হাসান মামুন, অ্যাডভোকেট মাজহারুল ইসলাম জাহান, রেজাউল করিম রনি, আরিফুল ইসলাম মুন্না, আরিফুল ইসলাম জনি, রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ ও মুশফিকুর রহমান অভি। মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান মামুনকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বপদে বহাল রাখা হয়। এর আগে ২০২০ সালে তাকে বহিষ্কারের পর অ্যাডভোকেট মাজহারুল ইসলাম জাহান ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
হাইকমান্ডের নির্দেশনা ও তৃণমূলের প্রত্যাশা:
দলের চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের কঠিন বার্তা রয়েছে কমিটি গঠনের বিষয়ে। নির্দেশনা অনুযায়ী, দলের দুঃসময়ে যারা হামলা-মামলা, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন, তাদের যেন বাদ না পড়ে। পাশাপাশি যারা আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পরিবারের একই সাথে সম্পর্কিত এবং বিগত দিনে লিয়াজোঁ করে চলেছেন, তাদের বিষয়ে সজাগ থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি – ছাত্রদল থেকে বয়সের কারণে বাদ পড়া ত্যাগী নেতাদের যুবদলে সুযোগ দিতে হবে। বয়সের কারণে ছাত্রদল থেকে বাদ পড়া আরিফুল ইসলাম মুন্না ও আরিফুল ইসলাম জনির নাম এ ক্ষেত্রে বেশি আলোচনায় রয়েছে। নেতাকর্মীরা মনে করেন, যারা টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও সুবিধাবাদী রাজনীতিতে ছিলেন, তারা যেন কমিটিতে না আসে। পুরোনো ও নতুনের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠিত হোক।বরিশাল সম্পর্কিত খবর
যুবদলের দায়িত্বশীল সূত্রে জানিয়েছেন- উত্তর ও দক্ষিণ জেলা যুবদল একীভূত করে জেলা যুবদল গঠিত হচ্ছে। যে কারণে জেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাও বেড়েছে। তবে আগে যাঁরা পদে ছিলেন, তাঁদের শীর্ষ নেতৃত্বে রেখেই নতুন কমিটি এবার নতুন মুখও আসবে বলে ধারনা সকলের। তবে খুব শিগ্রই যুবদলের কমিটি ঘোষনা হতে পারে বলে একটি সূত্র জানায়। এই পরিস্থিতিতে জেলা যুবদলের সম্ভাব্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আছেন অনেকে। তবে দলের এক নেতা বলেন, কিছু দিন পূর্বে ‘উত্তর ও দক্ষিণ যুবদল এক করার সিদ্ধান্ত দিয়েছিলো কেন্দ্র। যে কারণে জেলা যুবদলের নেতৃত্বে আসা আমাদের অধিকার।’ তিনি বলেন, ‘সামনে নির্বাচন। যে নেতারা টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, সুবিধাবাদীতে ছিল, তারা যেন যুবদলের কমিটিতে না আসে। পুরোনো-নতুন মিলিয়ে কমিটি হোক। তা না হলে একচেটিয়া হয়ে দল দুর্বল হবে।’
অপরদিকে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হচ্ছেন জেলা যুবদলের (উত্তর) যুগ্ম আহ্বায়ক কায়সার আহমেদ। যুবদলের উত্তরের আহ্বায়ক সালাউদ্দিন পিপলু তিনি রয়েছেন সক্রিয়। উত্তর জেলা যুবদলের আহবায়ক সালাউদ্দিন পিপলু তিনি জেলা যুবদলের পদপ্রত্যাশী। তিনিও নেতাকর্মীদের আলোচনায় রয়েছেন। সাইয়েদুল আলম খান সেন্টু ও গোলাম মোর্শেদ মাসুদ,সুজন সহ আরো কয়েকজন রয়ে যুবদলের উত্তর কমিটির পদপ্রত্যাশী।
উত্তর-দক্ষিণের ভারসাম্য ও কেন্দ্রের অপেক্ষা:
বরিশালে দীর্ঘ সময় ধরে উত্তর ও দক্ষিণ জেলা যুবদলের পৃথক সাংগঠনিক কাঠামো থাকায় নতুন কমিটিতে ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। ২০২৫ সালের একটি প্রতিবেদনেও এই ভারসাম্যের আলোচনা উঠে এসেছিল। ২০২৬ সালের মে মাসে বরিশাল জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের নতুন আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদনের পর যুবদলের নতুন কমিটি নিয়ে আগ্রহ আরও বেড়েছে। প্রচলিত সাংগঠনিক ধারা অনুযায়ী ছাত্রদল থেকে যুবদলে নেতৃত্বের একটি অংশ উঠে আসে। তাই ছাত্রদলের নতুন কমিটির পর যুবদলে কারা জায়গা পান, সেদিকেই এখন সবার নজর। নতুন কমিটি পুরোনো নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে, নাকি তরুণদের সামনে এনে সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাস করবে – সেই প্রশ্নের উত্তর এখন কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।
বরিশাল সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নে বউ-শাশুড়ির ঝগড়া ও হাতাহাতির ঘটনায় রুনু বেগম (৬৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তাকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পুত্রবধূ ফাতেমা বেগমের (২৬) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ফাতেমাকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ইউনিয়নের আটহাজার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক বিষয় নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে রুনু বেগম ও ফাতেমা বেগমের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে গড়ায়। এ সময় রুনু বেগম ফাতেমার একটি আঙুল কামড়ে ধরেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে ফাতেমা তার শাশুড়ির গলা চেপে ধরেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে শ্বাসরোধ হয়ে রুনু বেগমের মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়দের দাবি।
খবর পেয়ে কাউনিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রুনু বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে ফাতেমা বেগমকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে।
কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সঞ্জিৎ চন্দ্র নাথ বলেন, বউ-শাশুড়ির ঝগড়া ও মারামারির একপর্যায়ে ফাতেমা তার শাশুড়ির গলা চেপে ধরলে শ্বাসরোধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ম্যারাথন প্রতিযোগিতায় কয়েকজন অংশগ্রহণকারীর হাফপ্যান্ট পরা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ইসলামী আদর্শভিত্তিক একটি ছাত্রসংগঠনের আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের পোশাক ধর্মীয় শালীনতার নির্দেশনার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ ও সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ শাখার যৌথ উদ্যোগে এ ম্যারাথন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, শৃঙ্খলাবোধ এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের একটি ছবিতে দেখা যায়, সংগঠনের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিশেষ জার্সি পরে ম্যারাথনে অংশ নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের কয়েকজনের পরনে ছিল হাঁটুর ওপর পর্যন্ত হাফপ্যান্ট। একই অনুষ্ঠানে সংগঠনের অন্য সদস্যদের পাঞ্জাবি, পায়জামা ও টুপি পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়।
ইসলামী শরিয়তের প্রচলিত ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পুরুষের নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত অংশ ঢেকে রাখা আবশ্যক। তবে হাফপ্যান্ট পরিধান ধর্মীয় নির্দেশনার পরিপন্থী কি না, তা নির্ভর করে পোশাকের দৈর্ঘ্য এবং শরীরের কতটুকু অংশ অনাবৃত থাকছে, তার ওপর।
এমন পরিস্থিতিতে ইসলামী আদর্শ ও মূল্যবোধের চর্চার কথা বলা একটি ছাত্রসংগঠনের নিজস্ব আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের পোশাক নির্বাচনের বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে।
ম্যারাথন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সম্পাদক ইব্রাহিম নাসরুল্লাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য গাজী মুহাম্মাদ রেদওয়ান।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের নেতারা বলেন, তরুণ সমাজকে মাদক, অপরাধ ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে সুস্থ, সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে খেলাধুলা ও শরীরচর্চার বিকল্প নেই। এ ধরনের আয়োজন তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সুস্থ প্রতিযোগিতার মানসিকতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তবে ম্যারাথনে অংশগ্রহণকারীদের পোশাক নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের বিষয়ে আয়োজক সংগঠনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সড়ক দুর্ঘটনা কমানো ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে মোটরসাইকেল ও গাড়ি চালকদের জন্য ১২টি নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। সম্প্রতি বাংলাদেশ পুলিশের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা জানানো হয়।
পুলিশের নির্দেশনায় মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী উভয়কে হেলমেট পরার এবং গাড়ির চালক ও যাত্রীদের সিট বেল্ট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মোটরসাইকেলে চালকসহ সর্বোচ্চ দুজন চলাচল করতে পারবেন বলেও জানানো হয়েছে।
গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার না করা এবং অপ্রয়োজনে হর্ন না বাজানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা ও ট্রাফিক সিগন্যাল যথাযথভাবে অনুসরণের কথা বলা হয়েছে।
বড় ও ভারী যানবাহনের ‘ব্লাইন্ড স্পট’ সম্পর্কে সতর্ক থাকার পাশাপাশি লেন পরিবর্তন বা মোড় নেওয়ার আগে ইন্ডিকেটর ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। অন্য যানবাহনের সঙ্গে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখেও গাড়ি চালাতে বলা হয়েছে।
কুয়াশা, বৃষ্টি বা প্রতিকূল আবহাওয়ায় গতি কমিয়ে সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যানজট কিংবা অন্য চালকের ভুলের কারণে ধৈর্য না হারিয়ে মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখার কথাও বলা হয়েছে।
মাদক সেবন করে, তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় কিংবা উল্টো পথে গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। মহাসড়কে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেকিং না করে নির্ধারিত লেন অনুসরণ করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ যানবাহনের প্রয়োজনীয় সব হালনাগাদ কাগজপত্র সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ।
নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সড়কে চলাচলের সময় এসব নির্দেশনা মেনে চলার জন্য চালকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচ-এর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এ বৈঠকে বাংলাদেশ ও ক্রোয়েশিয়ার মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। দুই প্রধানমন্ত্রী অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, দক্ষ জনশক্তি, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং অন্যান্য সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জাতিসংঘসহ বহুপাক্ষিক ফোরামে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার এবং অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সমন্বয় বৃদ্ধির বিষয়েও বৈঠকে গুরুত্বারোপ করা হয়।
ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
প্রতারণার মামলায় জামিন পাওয়ার প্রায় দেড় ঘণ্টার মধ্যেই ঝালকাঠিতে সোহাগ মোল্লা ওরফে মোল্লা শাওনকে ফের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে পৃথক দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঝালকাঠি শহরের প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। বিষয়টি ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, মোল্লা শাওনের বিরুদ্ধে প্রতারণা, মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানোর চেষ্টা, অর্থ আত্মসাৎ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে ঝালকাঠি সদর থানায় একটি মামলা রয়েছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর মো. আজাদ খান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ২১১ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে অভিযোগ করা হয়েছে, পুলিশের এক এএসআইকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ফাঁসানোর চেষ্টা এবং একজনকে দিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করানোর ঘটনায় মোল্লা শাওনের সংশ্লিষ্টতা ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্তাধীন।
এদিকে, ২০২৩ সালেও ঝালকাঠির রাজাপুরে সাংবাদিক পরিচয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে মোল্লা শাওনকে আটক করে পুলিশ আদালতে পাঠিয়েছিল বলে সে সময়ের সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ওই ঘটনায় একজন ভুক্তভোগী প্রতারণার মামলা করেছিলেন।সাম্প্রতিক আরেকটি মামলায় মোল্লা শাওনকে বিএনপি নেত্রীকে মারধর এবং বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাকে জেলা বঙ্গবন্ধু ছাত্র-যুব প্রজন্ম লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের বাংলা বিভাগের বন্ধন বিতর্ক ও সাংস্কৃতিক ক্লাবের (বিডিসিসি) ২০২৬-২৭ সেশনের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সভাপতি পদে মো. আতিকুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. রিয়াদুল ইসলাম রিয়াদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ক্লাবের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। নবনির্বাচিত সভাপতি আতিকুর রহমান বাংলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এবং সাধারণ সম্পাদক রিয়াদুল ইসলাম রিয়াদ ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
ক্লাবের গঠনতন্ত্রের ষষ্ঠ অধ্যায়ের ২৩-৪ (খ) ধারা অনুযায়ী, শীর্ষ তিন পদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন বাংলা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. নেয়ামাতুল্লাহ।
ক্লাবের সাবেক সভাপতি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, মডারেটর, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের যৌথ স্বাক্ষরে নতুন কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আব্দুর রহমান সরদার বলেন, শিক্ষার্থীদের চিন্তা, আবেগ ও অনুভূতি সুস্পষ্টভাবে প্রকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম বিতর্ক। শিক্ষার্থীরা যাতে সুষ্ঠু পরিবেশে বিতর্কচর্চার সুযোগ পায়, সে লক্ষ্যেই তাঁদের উদ্যোগে ও তাঁর অনুপ্রেরণায় এই বিতর্ক সংসদ গড়ে উঠেছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, বন্ধন বিতর্ক ও সাংস্কৃতিক ক্লাব শিক্ষার্থীদের মেধা ও মনন বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলা বিভাগ ও কলেজের সুনাম বৃদ্ধি করবে।
নবনির্বাচিত সভাপতি মো. আতিকুর রহমান বলেন, ‘বন্ধন বিতর্ক ও সাংস্কৃতিক ক্লাবের সভাপতি হিসেবে আমাকে নির্বাচিত করায় সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা জানাচ্ছি। আমি মনে করি, এই দায়িত্ব কোনো পদ নয়, এটি একটি আমানত। বন্ধন শুধু একটি ক্লাব নয়, এটি আমাদের সবার। তাই সবার সহযোগিতা, পরামর্শ ও ভালোবাসা নিয়েই আমরা এই ক্লাবকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাব, ইনশাআল্লাহ।’
সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও লেখক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিনের লেখা ‘অগ্নিবীজ থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ বই নিয়ে পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় কলেজের মুক্তমঞ্চে ব্রজমোহন বই-বন্ধু সংগঠনের উদ্যোগে এ পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হয়।
পাঠচক্রে বইটির লেখক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বইটি রচনার প্রেক্ষাপট, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে পাঠকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। পাশাপাশি বইটির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং উপস্থিত পাঠকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
পাঠচক্রটি সঞ্চালনা করেন ব্রজমোহন বই-বন্ধুর সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সজিব। তাঁর সঞ্চালনায় লেখক, শিক্ষার্থী ও পাঠকদের অংশগ্রহণে বইটির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা, মতবিনিময় ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে ব্রজমোহন বই-বন্ধুর সভাপতি মুহাম্মাদ ইয়ামিন বইটির ওপর আলোচনা করেন। তিনি বইটির বিষয়বস্তু ও প্রেক্ষাপট নিয়ে নিজের পাঠ-অনুভূতি তুলে ধরার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য বই পড়া ও পাঠচর্চার গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেন।
এ সময় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সজিব বইটির বিভিন্ন দিক ও ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বই নিয়ে সম্মিলিতভাবে আলোচনা ও মতবিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পাঠচক্রে লেখকের বক্তব্যের পাশাপাশি উপস্থিত শিক্ষার্থী ও পাঠকদের অংশগ্রহণে বইটির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়। লেখকের সরাসরি উপস্থিতিতে পাঠকদের সঙ্গে এমন মতবিনিময় বইটির বিষয়বস্তু ও প্রেক্ষাপট আরও গভীরভাবে বোঝার সুযোগ তৈরি করে।
ব্রজমোহন বই-বন্ধু ৪ মার্চ ২০২৪ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা ও জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সংগঠনটির কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে বিনামূল্যে বই পড়ার সুযোগ, পাঠচক্র, কুইজ প্রতিযোগিতা ও বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক আলোচনা সভা। এসব আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বইয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা এবং ক্যাম্পাসে পাঠচর্চার পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে সংগঠনটি।
আয়োজকরা জানান, বইকে কেন্দ্র করে নিয়মিত আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠের আগ্রহ আরও বাড়বে। পাঠচক্র জ্ঞানকে বিকশিত করে এবং চিন্তার পরিধি বিস্তৃত করে। ভবিষ্যতেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বই নিয়ে পাঠচক্রসহ জ্ঞান ও সাহিত্যভিত্তিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।