দেশের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অতিমাত্রায় প্রকল্পনির্ভর সংস্কৃতির কারণে সংস্থাটি তাদের মূল কাজ—নিয়মিত ও নিরপেক্ষ পরিসংখ্যান প্রণয়ন থেকে অনেকটাই বিচ্যুত হয়ে পড়েছে। এ ‘প্রকল্প সংস্কৃতি’ মূল দায়িত্ব থেকে সংস্থার মনোযোগ সরিয়ে দিয়েছে। ফলে মাঠপর্যায়ের জরিপ যেমন দুর্বল হয়েছে, পাশাপাশি তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত এবং সদরদপ্তরকেন্দ্রিক কাজের প্রবণতা বেড়েছে।
এছাড়া রাজনৈতিক প্রভাব, জটিল আমলাতন্ত্র ও দাতানির্ভরতার কারণে প্রতিষ্ঠানটি তথ্যের মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখতে পারছে না। প্রকল্প পরিচালক হওয়া অনেক কর্মকর্তার ক্যারিয়ারের লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। বিবিএস সংস্কারের জন্য গঠিত টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
সোমবার (২০ অক্টোবর) পরিসংখ্যান দিবস উপলক্ষে বিবিএস আয়োজিত অনুষ্ঠানে টাস্কফোর্সের এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। গত ২৮ এপ্রিল আট সদস্যের একটি স্বাধীন বিশেষজ্ঞ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। যার দায়িত্ব ছিল বিবিএসের মান, স্বচ্ছতা, জরিপ পদ্ধতি ও সাংগঠনিক সক্ষমতা পর্যালোচনা করে সংস্কার প্রস্তাবের সুপারিশ করা।
আট সদস্যের এ টাস্কফোর্সের নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।
টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৬-০৭ অর্থবছরের দিকে তহবিল অনিশ্চয়তার কারণে বিবিএসকে দাতানির্ভর হতে হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই নির্ভরতা প্রকল্প সংস্কৃতিতে পরিণত হয়। এই সংস্কৃতি ‘ডেটা সাইলো’ তৈরি করেছে, বহিরাগতভাবে চাপানো পদ্ধতি চালু করেছে এবং ব্যুরোর বাজেট ব্যবস্থায় অদক্ষতা ও অপচয় বাড়িয়েছে।
এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বিবিএস এমন এক প্রকল্পনির্ভর সংস্কৃতির মধ্যে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে, যা প্রতিষ্ঠানটির প্রাতিষ্ঠানিক স্মৃতিশক্তি দুর্বল করেছে, অস্বাস্থ্যকর প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করেছে এবং সদরদপ্তরকেন্দ্রিক কর্মপদ্ধতির ফলে মাঠপর্যায়ে দুর্বলতা তৈরি করেছে।
প্রকল্প সংস্কৃতির কারণে প্রতিষ্ঠানটির সদরদপ্তরে ভিড়কে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যার ফলে তথ্যের উপস্থিতিতে ফাঁক তৈরি হচ্ছে, প্রাতিষ্ঠানিক স্মৃতিশক্তি দুর্বল হচ্ছে এবং অপচয়মূলক ও অদক্ষ বাজেট প্রবণতা তৈরি হচ্ছে।
প্রতিবেদন বলছে, একটি উল্লেখযোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক গতিশীলতা আবির্ভূত হয়েছে, যেখানে প্রকল্প পরিচালক বা উপ-প্রকল্প পরিচালকের পদ অনেক কর্মকর্তার জন্য একটি অত্যন্ত চাওয়া-পাওয়ার বিষয় বা ক্যারিয়ারের লক্ষ্য হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেদনে টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান জানান, বিবিএসকে একটি আধুনিক, পেশাদার ও স্বাধীন জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থায় রূপান্তরিত করতে হলে প্রকল্পনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে স্থায়ী কাঠামো ও নীতিগত সংস্কার প্রয়োজন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিবিএস রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। সরকারি পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এমন তথ্য প্রকাশে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাব পড়ছে। রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা, জটিল আমলাতান্ত্রিক কাঠামো এবং বহিরাগত অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বিবিএসের ডেটা প্রকাশের সংস্কৃতি বিলম্বিত ও বিকৃত করেছে। একই সঙ্গে নির্ভরযোগ্যতা ও সময়োপযোগিতা ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞ টাস্কফোর্সের মতে, প্রতিষ্ঠানটির বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে স্থায়ী চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে একটি হলো এর তথ্য প্রকাশ প্রক্রিয়ায় বহিরাগত হস্তক্ষেপ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান তৈরি ও প্রচারের আদেশ থাকা সত্ত্বেও মূল প্রতিবেদনের সময় স্বাধীনতা, গুণমান, স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে প্রায়শই রাজনৈতিক চাপের কারণে আপস করেছে সংস্থাটি। তথ্য প্রকাশে শুধু রাজনৈতিক চাপই নয়, বরং প্রায়শই রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা, দাতাদের নির্ভরতা এবং আমলাতান্ত্রিক তত্ত্বাবধানের কারণেও আপস করা হয়েছে। এ সমস্যাগুলো শুধু জনসাধারণের আস্থা নষ্ট করে না, বরং পরিসংখ্যানগত ফলাফলের নীতিগত প্রাসঙ্গিকতাও কমিয়ে দেয়।
টাস্কফোর্স বলেছে, একটি বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা (এনএসও) আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনার মূলভিত্তি। এটি সরকারের প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণ, জবাবদিহি, সম্পদের কার্যকর বরাদ্দ ও সামাজিক আলোচনা সচল রাখতে সহায়তা করে। সরকারি পরিসংখ্যানের ওপর আস্থা তখনই তৈরি হবে, যখন তা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে পেশাদার ও স্বচ্ছভাবে তৈরি হবে।
টাস্কফোর্সের চূড়ান্ত সুপারিশে বলা হয়েছে, পরিকল্পনা উপদেষ্টার নেতৃত্বে একটি টাস্ক টিম গঠন করা হোক, যারা প্রতিবেদন বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ ও গতিশীল করবে।
ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, আমরা আশা করি, এই বিশ্লেষণ ও সুপারিশগুলো বিবিএসকে একটি সত্যিকারের শক্তিশালী ও স্বাধীন পরিসংখ্যান সংস্থায় পরিণত করবে, যা রাষ্ট্র ও নাগরিক উভয়েরই কল্যাণে কাজ করবে।
বিবিএস সংস্কারে কাজ ও অর্থ খরচের স্বাধীনতাসহ অগ্রাধিকারমূলক ৭টি সুপারিশ তুলে ধরেছে এ বিষয়ে গঠিত বিশেষজ্ঞ টাস্কফোর্স। প্রশাসন ক্যাডারের পরিবর্তে পেশাদার কাউকে বিবিএসের নেতৃত্বে আনার সুপারিশও করা হয়েছে।
সুপারিশগুলো হলো—গুণগত মান নিশ্চিতে সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বাড়ানো; মানসম্পন্ন মানবসম্পদ ও নেতৃত্ব তৈরি; কার্যকর ডেটা ইকোসিস্টেম ও মৌলিক অবকাঠামো গড়ে তোলা; অংশীজনদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা; শক্তিশালী পরিচালন কাঠামো গঠন; বিবিএসের বাজেট স্বায়ত্তশাসন ও আর্থিক স্বাধীনতা এবং মুক্ত তথ্য ও প্রকাশের নীতিমালা প্রণয়ন করে জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
কিছু সংস্কারের পরামর্শ দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের পরিসংখ্যান আইন বিবিএসকে একটি স্পষ্ট আইনি আদেশ প্রদান করে, যদিও কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি এবং ফাঁক রয়েছে। তবুও ডেটা-সম্পর্কিত সিদ্ধান্তের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অপেশাদার অনুমোদন কাঠামোর ওপর নির্ভরতা, অনিশ্চিত তহবিলের বোঝা এবং এসআইডি ও বিবিএসের মধ্যে দায়িত্বের ত্রুটিপূর্ণ বণ্টনের কারণে বাধাগ্রস্ত হয়। পেশাদার স্বাধীনতার এ ফাঁকগুলো কাটিয়ে ওঠার পদক্ষেপ একটি স্পষ্ট সংস্কার অগ্রাধিকার।
বিশ্বাসযোগ্য তথ্য উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব
এদিকে বিশ্ব পরিসংখ্যান দিবসের সেমিনারে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, বিশ্বাসযোগ্য সরকারি ডেটা উৎপাদন করতে হবে—এটি বিনিয়োগ। বিবিএসের তথ্য উন্মুক্ত থাকা উচিত। তথ্য লুকোচুরি বা কারসাজির কোনো প্রশ্নই আসে না, নতুন বিধিমালায় এ নীতিকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব আলেয়া আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (অর্থ মন্ত্রণালয়) অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনের আলোকে বিবিএস এখন স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করতে পারে। তারা সরকারের অনুমোদন ছাড়াই যে কোনো জরিপের প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারবে। তবে সেই সক্ষমতা আছে কি না, তা যাচাই করতে হবে।
তিনি বলেন, বিবিএসের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সার্ভে পদ্ধতি জনসম্মুখে উপস্থাপন করতে হবে। আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই জরিপ পরিচালনা জরুরি।
‘টাস্কফোর্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এখন একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, যেখানে কোনো তথ্য লুকোচুরি বা কারসাজির সুযোগ নেই। বিবিএসের সব জাতীয় পরিসংখ্যান সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। কেউ যদি তথ্যের ঘাটতি বা ভুল খুঁজে পায়, সেটি জানাতে পারবে—এটি বিবিএসের জন্যও ভালো। নতুন বিধিমালায় তথ্য উন্মুক্ত রাখার বাধ্যবাধকতা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।’
উপদেষ্টা বলেন, বিশ্বাসযোগ্য তথ্য উৎপাদনও একটি বিনিয়োগ। বিনিয়োগকারীরা কোনো দেশে প্রবেশের আগে তার পরিসংখ্যান দেখে। তাই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে, দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তথ্য তৈরি করতে হবে। শুধু জিডিপি প্রবৃদ্ধি দিয়ে দেশের উন্নয়ন মাপা যাবে না। মানুষের জীবনমান ও সামাজিক সূচকের দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। আগে রাজনৈতিক দল ভালো করছে সেটা দেখাতে জিডিপির প্রবৃদ্ধি দেখানো হতো। মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পরিমাপক হিসেবে জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই।
বিবিএসের স্বাধীনতার বিষয়ে তিনি বলেন, বিধিমালা সংশোধন করার মাধ্যমে বিবিএসকে স্বাধীনতা দেওয়া হচ্ছে। অনুমতি ছাড়াই পরিসংখ্যান প্রকাশ করতে পারবে। তবে খাতের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে হবে। এটি সক্ষমতার জন্য প্রয়োজন, যেন তথ্যের স্বচ্ছতা ভালোভাবে নিশ্চিত করা যায়।
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে টাস্কফোর্সের প্রধান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, দেশে ৫৩ বছর ধরে পরিসংখ্যানের গুরুত্ব বেড়েছে। কিন্তু আমাদের তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট তৈরি হয়েছে। টাস্কফোর্সের মাধ্যমে আমরা পরিসংখ্যানে সংস্কারের সুযোগ পেয়েছি। বিশ্বাসযোগ্য তথ্য নিশ্চিত করতে মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান, প্রাতিষ্ঠানিক গভর্নেন্স ও আর্কিটেক্ট প্রয়োজন।
তিনি বলেন, মানসম্পন্ন নেতৃত্ব ও মানবসম্পদ, মানসম্মত ইকোসিস্টেম, তথ্যের প্রাপ্যতা ও সব স্টেকহোল্ডারের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। কোয়ালিটির চাহিদা থাকলে আর্থিক শক্তিশালীকরণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তবেই পরিসংখ্যানের তথ্য বিশ্বাস ও আস্থার হয়ে ওঠবে।
ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
প্রতারণার মামলায় জামিন পাওয়ার প্রায় দেড় ঘণ্টার মধ্যেই ঝালকাঠিতে সোহাগ মোল্লা ওরফে মোল্লা শাওনকে ফের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে পৃথক দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঝালকাঠি শহরের প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। বিষয়টি ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, মোল্লা শাওনের বিরুদ্ধে প্রতারণা, মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানোর চেষ্টা, অর্থ আত্মসাৎ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে ঝালকাঠি সদর থানায় একটি মামলা রয়েছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর মো. আজাদ খান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ২১১ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে অভিযোগ করা হয়েছে, পুলিশের এক এএসআইকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ফাঁসানোর চেষ্টা এবং একজনকে দিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করানোর ঘটনায় মোল্লা শাওনের সংশ্লিষ্টতা ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্তাধীন।
এদিকে, ২০২৩ সালেও ঝালকাঠির রাজাপুরে সাংবাদিক পরিচয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে মোল্লা শাওনকে আটক করে পুলিশ আদালতে পাঠিয়েছিল বলে সে সময়ের সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ওই ঘটনায় একজন ভুক্তভোগী প্রতারণার মামলা করেছিলেন।সাম্প্রতিক আরেকটি মামলায় মোল্লা শাওনকে বিএনপি নেত্রীকে মারধর এবং বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাকে জেলা বঙ্গবন্ধু ছাত্র-যুব প্রজন্ম লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের বাংলা বিভাগের বন্ধন বিতর্ক ও সাংস্কৃতিক ক্লাবের (বিডিসিসি) ২০২৬-২৭ সেশনের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সভাপতি পদে মো. আতিকুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. রিয়াদুল ইসলাম রিয়াদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ক্লাবের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। নবনির্বাচিত সভাপতি আতিকুর রহমান বাংলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এবং সাধারণ সম্পাদক রিয়াদুল ইসলাম রিয়াদ ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
ক্লাবের গঠনতন্ত্রের ষষ্ঠ অধ্যায়ের ২৩-৪ (খ) ধারা অনুযায়ী, শীর্ষ তিন পদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন বাংলা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. নেয়ামাতুল্লাহ।
ক্লাবের সাবেক সভাপতি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, মডারেটর, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের যৌথ স্বাক্ষরে নতুন কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আব্দুর রহমান সরদার বলেন, শিক্ষার্থীদের চিন্তা, আবেগ ও অনুভূতি সুস্পষ্টভাবে প্রকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম বিতর্ক। শিক্ষার্থীরা যাতে সুষ্ঠু পরিবেশে বিতর্কচর্চার সুযোগ পায়, সে লক্ষ্যেই তাঁদের উদ্যোগে ও তাঁর অনুপ্রেরণায় এই বিতর্ক সংসদ গড়ে উঠেছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, বন্ধন বিতর্ক ও সাংস্কৃতিক ক্লাব শিক্ষার্থীদের মেধা ও মনন বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলা বিভাগ ও কলেজের সুনাম বৃদ্ধি করবে।
নবনির্বাচিত সভাপতি মো. আতিকুর রহমান বলেন, ‘বন্ধন বিতর্ক ও সাংস্কৃতিক ক্লাবের সভাপতি হিসেবে আমাকে নির্বাচিত করায় সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা জানাচ্ছি। আমি মনে করি, এই দায়িত্ব কোনো পদ নয়, এটি একটি আমানত। বন্ধন শুধু একটি ক্লাব নয়, এটি আমাদের সবার। তাই সবার সহযোগিতা, পরামর্শ ও ভালোবাসা নিয়েই আমরা এই ক্লাবকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাব, ইনশাআল্লাহ।’
সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও লেখক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিনের লেখা ‘অগ্নিবীজ থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ বই নিয়ে পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় কলেজের মুক্তমঞ্চে ব্রজমোহন বই-বন্ধু সংগঠনের উদ্যোগে এ পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হয়।
পাঠচক্রে বইটির লেখক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বইটি রচনার প্রেক্ষাপট, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে পাঠকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। পাশাপাশি বইটির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং উপস্থিত পাঠকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
পাঠচক্রটি সঞ্চালনা করেন ব্রজমোহন বই-বন্ধুর সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সজিব। তাঁর সঞ্চালনায় লেখক, শিক্ষার্থী ও পাঠকদের অংশগ্রহণে বইটির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা, মতবিনিময় ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে ব্রজমোহন বই-বন্ধুর সভাপতি মুহাম্মাদ ইয়ামিন বইটির ওপর আলোচনা করেন। তিনি বইটির বিষয়বস্তু ও প্রেক্ষাপট নিয়ে নিজের পাঠ-অনুভূতি তুলে ধরার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য বই পড়া ও পাঠচর্চার গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেন।
এ সময় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সজিব বইটির বিভিন্ন দিক ও ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বই নিয়ে সম্মিলিতভাবে আলোচনা ও মতবিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পাঠচক্রে লেখকের বক্তব্যের পাশাপাশি উপস্থিত শিক্ষার্থী ও পাঠকদের অংশগ্রহণে বইটির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়। লেখকের সরাসরি উপস্থিতিতে পাঠকদের সঙ্গে এমন মতবিনিময় বইটির বিষয়বস্তু ও প্রেক্ষাপট আরও গভীরভাবে বোঝার সুযোগ তৈরি করে।
ব্রজমোহন বই-বন্ধু ৪ মার্চ ২০২৪ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা ও জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সংগঠনটির কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে বিনামূল্যে বই পড়ার সুযোগ, পাঠচক্র, কুইজ প্রতিযোগিতা ও বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক আলোচনা সভা। এসব আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বইয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা এবং ক্যাম্পাসে পাঠচর্চার পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে সংগঠনটি।
আয়োজকরা জানান, বইকে কেন্দ্র করে নিয়মিত আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠের আগ্রহ আরও বাড়বে। পাঠচক্র জ্ঞানকে বিকশিত করে এবং চিন্তার পরিধি বিস্তৃত করে। ভবিষ্যতেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বই নিয়ে পাঠচক্রসহ জ্ঞান ও সাহিত্যভিত্তিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশে বড় রদবদল নিয়ে এসেছে সরকার। ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি এবং পুলিশ সুপার পর্যায়ের মোট ৩১ জন কর্মকর্তা পাচ্ছেন নতুন দায়িত্ব।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনে এ পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি হাবিবুর রহমান খানকে পুলিশের ট্রাফিক অ্যান্ড ড্রাইভিং স্কুলে (টিডিএস) কমান্ড্যান্ট, সুপারনিউমারারি ডিআইজি হিসেবে পদোন্নতি পাওয়া মোহাম্মদ এনামুল হককে সিলেট মহানগর থেকে খাগড়াছড়ি এপিবিএন ও বিশেষ ট্রেনিং সেন্টারে এবং ওই পদে থাকা পরিতোষ ঘোষকে পার্বত্য জেলা এপিবিএন কার্যালয় বদলি করা হয়েছে।
এছাড়া স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) অতিরিক্ত ডিআইজি আনিছুর রহমানকে খুলনা রেঞ্জে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ওএসডি হিসেবে থাকা অতিরিক্ত ডিআইজি গিয়াস উদ্দিন আহমদকে রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে।
পাশাপাশি সুপার নিউমারারি হিসেবে পদোন্নতি পাওয়া অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারও রয়েছেন বদলির এই তালিকায়।
ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় সব সমুদ্রবন্দরে জারি করা হয়েছে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এমন পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
এতে বলা হয়— পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে।
এটি আজ সন্ধ্যা ৬ টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৭০ কি.মি. দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৪৫ কি.মি. দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৬৯৫ কি.মি. দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭২০ কি.মি. দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। পরবর্তী ১২ ঘন্টায় আরো পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।
এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কি.মি. এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কি.মি., যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৫০ কি.মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।
এ অবস্থায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
বরিশালের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য উনকোরেক্স। যশোরে অভিযান চালিয়ে পিকআপভ্যান থেকে ২ হাজার ২৫৭ বোতল উনকোরেক্সসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৬-এর যশোর ও ঝিনাইদহের যৌথ দল।
গ্রেপ্তাররা হলেন বরিশাল সদরের হেমায়েত উদ্দীন ও মির্জাগঞ্জ এলাকার সুজন হোসেন।
এসআরবি সূত্র জানায়, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যশোরের চুড়ামনকাটি রেলক্রসিং এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি পিকআপভ্যানে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ উনকোরেক্স উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা জানান, উদ্ধার হওয়া মাদকের চালানটি বরিশালে নেওয়া হচ্ছিল। এতে বরিশালমুখী মাদকের এই চালান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
এসআরবি-৬-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর এটিএম ফজলে রাব্বি প্রিন্স জানান, গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। পরে তাদের যশোর কোতোয়ালী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।
বরিশালকে কেন্দ্র করে মাদকের এই চালানের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বরিশাল নগরীতে স্বামী নুরুজ্জামান হাওলাদার (৫৫) হত্যাকাণ্ডে প্রধান আসামি তার দ্বিতীয় স্ত্রী নাসিমা বেগমকে ঢাকার ভাটারা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বরিশাল এয়ারপোর্ট থানার ওসি (তদন্ত) সুমন কুমার আইচ জানান, নাসিমাকে গ্রেপ্তারের পর রাতেই পুলিশের একটি দল তাকে নিয়ে বরিশালের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইছাকাঠী কলোনির একটি ভাড়া বাসায় নুরুজ্জামানের মরদেহ পাওয়া যায়। পরদিন ভোরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নুরুজ্জামান বরিশাল আদালতের একজন আইনজীবীর সহকারী (মুহুরি) ছিলেন। পাশাপাশি তিনি বরিশাল আইনজীবী সহকারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
দাম্পত্য কলহের পর রহস্যজনক মৃত্যু
স্থানীয় সূত্রের বরাতে পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের আগে কয়েকদিন ধরে নুরুজ্জামান ও নাসিমার মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে দাম্পত্য কলহ চলছিল।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দাম্পত্য কলহের জেরে নুরুজ্জামানকে আঘাতের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এরপর বাসার বাইরে থেকে দরজায় তালা দিয়ে নাসিমা আত্মগোপনে চলে যান বলে পুলিশের দাবি।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই নাসিমা পলাতক ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে ঢাকার ভাটারা এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ।
নিহত নুরুজ্জামান মুলাদী উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নের পূর্ব তয়কা গ্রামের মৃত সাত্তার হাওলাদারের ছেলে। কর্মসূত্রে তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী নাসিমাকে নিয়ে বরিশাল নগরীর ইছাকাঠী এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
হত্যার নেপথ্যে আসলে কী ঘটেছিল—গ্রেপ্তার নাসিমাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে তারই উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) সামনের বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক সংস্কারের কোন কাজ না করায় শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েছেন বরিশাল সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম।
মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিনিধি দল সওজ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে গিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ শুরু না হওয়ার কারণ জানতে চায়। এ সময় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম তাদের তোপের মুখে পড়েন বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত চলতি বছরের ৯ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন দপদপিয়া ব্রিজে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। তার মৃত্যুর পর বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক সংস্কারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
ওই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের সামনে এসে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম লিখিত প্রতিশ্রুতি দেন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সড়কের বিটুমিন উঠে গেলে তা পুনরায় সংস্কার করা, আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে সড়কের দুই পাশে ফুটপাত নির্মাণের কাজ শুরু করা এবং ১০ নভেম্বরের মধ্যে মূল সড়কে আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ করার কথা ছিল। একই সঙ্গে সড়কের দুই পাশে আলোর ব্যবস্থা করারও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আন্দোলনের পর মাত্র একবার সড়কের গর্তগুলো বিটুমিন দিয়ে সংস্কার করা হলেও পরবর্তীতে আর কোনো দৃশ্যমান কাজ হয়নি।
মঙ্গলবার সরেজমিনে দপদপিয়া সেতুর টোল প্লাজা থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ভোলা রোড পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়েছে । বিশেষ করে দপদপিয়া সেতুর ওপর বেশ কয়েকটি বড় গর্ত দেখা গেছে। এতে যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর গেটের সামনেও ড্রেনে পানি জমে থাকতে ও অসংখ্য ছোট বড় গর্ত দেখা যায়।
স্থানীয় ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ করে বলছে , সড়কের খানাখন্দের কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। গত এক মাসে প্রায় পাঁচটি থ্রি-হুইলার উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে তারা জানান। এসব ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি দলের সদস্য মো. রাজীব বলেন, কথা ছিল আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে সকল প্রক্রিয়া শেষ করে রাস্তার দুই পাশে ফুটপাত নির্মাণের কাজ শুরু করতে হবে, পাশাপাশি ১০ নভেম্বরের ভিতর আরসিসি ঢালাই ও সড়কের পাশে আলোর ব্যবস্থা করতে হবে। এই কাজের তদারকি করার জন্য সড়ক জনপদের কর্মকর্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটা প্রতিনিধি টিম গঠন করা হয়। আমরা দেখেছি তাদের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক কোন কাজই হচ্ছে না। এখনো পর্যন্ত কোন কাজের টেন্ডারই করতে পারিনি। তাহলে তারা কিভাবে নির্ধারিত সময়ের ভিতরে কাজ শুরু করবে? তাদের কাজের সময় পার হচ্ছে যাচ্ছে সেটা জানান দিতেই আজ এখানে আসা।
আরেক সদস্য মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, সড়ক ও জনপদের কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম বলেছিল রাস্তায় যতবার গর্ত হবে ততবার সেটা বিটুমিন দিয়ে সংস্কার করে দিবে। কিন্তু নামে মাত্র একবার সংস্কার করে দিয়েই সড়ক ও জনপদের লোক হাওয়া হয়ে গেছে। রাস্তায় অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়েছে প্রতিদিনই কোন না দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের রাস্তায় দুরবস্থার কারণে আমরা মাইশা, ইয়াসিন আরাফাতকে হারিয়েছি। এখন আর কত লাশ দিলে এই রাস্তার সংস্কার হবে? লিখিত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত সড়ক সংস্কার, ফুটপাত নির্মাণ, আরসিসি ঢালাই ও সড়কের পাশে আলোর ব্যবস্থা করার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্যই এখানে আসা।
অপর দিকে বরিশাল সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে ফুটপাত নির্মাণ, আরসিসি রোড নির্মাণ, সড়কে লাইটের ব্যবস্থা করা। সে ব্যাপারে একটা প্রস্তবনা ইতিমধ্যে প্রেরণ করা হয়েছে। সেটা যদি অনুমোদন হয় তাহলে আমরা অতিশীগ্রই নতুন দরপত্র আহ্বান করে এই কাজগুলো করতে পারবো। তবে কবে নাগাত এই কাজ শুরু করতে পারবো সেটা বলতে পারছি না।
আমতলী প্রতিনিধি, বরগুনা | 21 September 2026, 9:29 pm
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক প্রতিরোধ জোরদার এবং শিশুদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বরগুনার আমতলী উপজেলাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাল্যবিবাহমুক্ত উপজেলা ঘোষণা করা হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় আমতলী উপজলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ফিতা কেটে ও ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে আমতলীকে বাল্যবিবাহ মুক্ত উপজেলা ঘোষণা করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মো. হাফিজুর রহমান।
ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, আমতলী এপির সহযোগিতায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নজরুল স্মৃতি সংসদ (এনএসএস) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
এনএসএসের মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন কর্মকর্তা ও সাংবাদিক মো. জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনএসএসের নির্বাহী পরিচালক ও সিনিয়র সাংবাদিক অ্যাডভোকেট শাহাবুদ্দিন পান্না। তিনি অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের বরিশাল এপিসিওর সিনিয়র ম্যানেজার স্টিফেন হালদার রুবেন, টেকনিক্যাল স্পেশালিস্ট মো. হুমায়ুন কবির এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, আমতলী এপির এরিয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার বিভুদান বিশ্বাস।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) সনঞ্জয় কুমার দত্ত, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রূপকুমার পাল, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রাসেল, উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. মনিরুল হক, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল আলম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রুনু বেগম, উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলী, উপজেলা মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম মাহমুদ সেলিম এবং আমতলী পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশিদ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন ফকির, সাবেক সদস্য সচিব মো. তুহিন মৃধা, আমতলী প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক মো. রেজাউল করিম বাদল, সুশাসনের জন্য নাগরিক—সুজনের আমতলী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু জিহাদ, আমতলী প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহসীন মাতুব্বর, গণমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মী আবদুর রহমান সালেহ, সাংবাদিক নাসরিন সুলতানা সিপু ও শিউলী মালাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ইমাম, পুরোহিত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, এনজিও প্রতিনিধি, ইয়ুথ ও চাইল্ড ফোরামের সদস্য, ভিডিএস সদস্য এবং এনএসএস ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের আমতলী এপির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ধারাবাহিক কার্যক্রম
অনুষ্ঠানে এনএসএস আমতলীর প্রোগ্রাম ম্যানেজার মৃদুল সরকার বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বিগত সময়ে পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রম, জনসচেতনতামূলক উদ্যোগ, সামাজিক সম্পৃক্ততা ও অর্জন নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। প্রেজেন্টেশনে বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব, শিশুদের শিক্ষা ও অধিকার সুরক্ষা, পরিবার ও সমাজের ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ শুধু একটি পারিবারিক বা সামাজিক সমস্যা নয়; এটি শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক বিকাশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। বাল্যবিবাহের কারণে বিশেষ করে কন্যাশিশুদের শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অল্প বয়সে মাতৃত্বের কারণে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ফলে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং তরুণ সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
‘সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি। এটি বন্ধ করতে শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়; পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন, গণমাধ্যমসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”
তিনি বলেন, আমতলীকে বাল্যবিবাহমুক্ত রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। কোথাও বাল্যবিবাহের আয়োজন বা বাল্যবিবাহ সংঘটিত হওয়ার খবর পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে শাহাবুদ্দিন পান্না বলেন, একটি শিশুর শিক্ষা, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও স্বাভাবিক বিকাশের অধিকার নিশ্চিত করা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত দায়িত্ব। বাল্যবিবাহ বন্ধ করা গেলে মেয়েদের বিদ্যালয়ে অবস্থান ও শিক্ষার সুযোগ বাড়বে, অল্প বয়সে মাতৃত্বজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি কমবে এবং পরিবার ও সমাজে একটি শিক্ষিত, দক্ষ ও সচেতন প্রজন্ম গড়ে উঠবে।
বক্তারা বলেন, শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মধ্যেই বাল্যবিবাহমুক্ত উপজেলার কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। ঘোষণাটিকে কার্যকর ও টেকসই করতে নিয়মিত নজরদারি, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বিদ্যালয়ভিত্তিক কার্যক্রম, পরিবারকে সম্পৃক্ত করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক প্রতিরোধ আরও জোরদার করতে হবে।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, এনজিও, গণমাধ্যম, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, অভিভাবক, তরুণ সমাজ ও শিশু প্রতিনিধিরা আমতলীকে বাল্যবিবাহমুক্ত রাখার বিষয়ে সম্মিলিত অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
অংশগ্রহণকারীরা বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা, কোনো শিশুর বাল্যবিবাহের আয়োজনের খবর পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা এবং শিশুদের শিক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করতে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তাদের প্রত্যাশা, প্রশাসন, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমতলী উপজেলার বাল্যবিবাহমুক্ত ঘোষণাটি একটি টেকসই সামাজিক উদ্যোগে পরিণত হবে এবং ভবিষ্যতেও আমতলী বাল্যবিবাহমুক্ত উপজেলা হিসেবে তার অবস্থান ধরে রাখবে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপকের ছেলে অপ্রতিম হত্যার ক্লু শনাক্ত করা এবং প্রকৃত হত্যাকারীকে গ্রেফতার না করা পর্যন্ত এ ঘটনায় ননস্টপ কাজ করে যাবেন বলে জানিয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
পুলিশ সুপার বলেন, কিছু তথ্যপ্রযুক্তিগত বিষয়সহ তদন্তের জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন। ঘটনাটি সবাইকে কাঁদিয়েছে। ছোট্ট নিষ্পাপ একটি শিশুর সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, ঘটনার মোটিভসহ সবকিছু খুব শিগগিরই তদন্ত করে জানানো হবে।
এ ঘটনায় আটক একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আটক ব্যক্তির মোবাইল, প্রযুক্তিগত তথ্য, লোকেশন এবং অপ্রতিমের অবস্থান—সবকিছু মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। যাকে আটক করা হয়েছে, সে নির্দোষও হতে পারে, আবার জড়িতও হতে পারে। তাই তদন্তের এ পর্যায়ে মূল হত্যাকারীরা যেন কোনো তথ্য পেয়ে আত্মগোপনে যেতে না পারে, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই কাজ করা হচ্ছে।
এদিকে, আজ অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে তার মা বলছিলেন, আমার ছোট্ট ছেলে কী অন্যায় করেছে, আমি এটার জবাব চাই। আমি কোনো বিচার মানিনা। আমাকে উত্তর দিতে হবে।
প্রসঙ্গত, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যায়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে অপ্রতিমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী জঙ্গল লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
এর আগে, শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হয়ে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। পরে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।