বরিশাল জেলায় প্রথমবারের মতো জেলার সব ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি) উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সর্বজনীন পেনশন স্কিম বাস্তবায়ন বিষয়ক মতবিনিময় সভা হয়েছে। আজ সোমবার (১৮ মার্চ) বেলা ১২টায় জেলা প্রশাসন বরিশালের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সম্মেলন কক্ষে জেলার সব ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি) উদ্যোক্তাদের সঙ্গে এ সভা হয়। বরিশালে জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মনদীপ ঘরাই, ১০ উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা ও ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি) উদ্যোক্তারা।
শুরুতে সর্বজনীন পেনশন স্কিম নিয়ে ভিডিও ডকুমেন্টারি ও পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। পরে উন্মুক্ত আলোচনা শেষে সংক্ষিপ্ত এক আলোচনায় অতিথিরা সর্বজনীন পেনশন স্কিমের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরে আলোচনা করেন। এ সময় জেলা প্রশাসক বরিশাল শহিদুল ইসলাম বলেন, সর্বজনীন পেনশন স্কিম বাস্তবায়নে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি) উদ্যোক্তাগণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাদেরকে এ পেনশন স্কিম বাস্তবায়নে শুভেচ্ছা দূত হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় উদ্যোক্তারা জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বরিশাল জেলাকে সর্বোচ্চ পেনশন স্কিমের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
গত ১৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি এমনভাবে করা হচ্ছে যাতে দেশের ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী সব নাগরিকই এ ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারবেন এবং ৬০ বছর বয়স থেকে তারা আজীবন পেনশন পাবেন। শুরুর দিকে চিন্তা না থাকলেও পরে ৫০ বছরের বেশি বয়সীদেরও পেনশন কর্মসূচির আওতায় রাখার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। তারা টানা ১০ বছর চাঁদা দেওয়ার পরই পেনশন সুবিধা পাবেন।
আপাতত চার শ্রেণির জনগোষ্ঠীর জন্য চার ধরনের পেনশন কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। এগুলো হচ্ছে- প্রগতি, সুরক্ষা, সমতা ও প্রবাসী। এর মধ্যে বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের জন্য ‘প্রগতি’, স্বকর্মে নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য ‘সুরক্ষা’,প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ‘প্রবাসী’ এবং দেশের নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য ‘সমতা’ শীর্ষক কর্মসূচি চালু করা হবে। ‘প্রগতি’ ও ‘সুরক্ষা’ কর্মসূচির আওতায় মাসিক চাঁদার হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। ‘প্রবাসী’ কর্মসূচিতে মাসিক চাঁদার হার ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। ‘সমতা’ কর্মসূচিতে মাসিক চাঁদা ৫০০ টাকা। এ কর্মসূচিতে সমপরিমাণ অর্থাৎ ৫০০ টাকা করে চাঁদা দেবে সরকার
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় রাজস্ব খাতভুক্ত তিন ক্যাটাগরির পদে মোট ১৬ জনকে নিয়োগ দেবে। আগ্রহী যোগ্য প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন চলবে ১৭ অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।
পদ ও যোগ্যতা
সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম-কম্পিউটার অপারেটর: ৪ জন। শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা সমমান। বেতন স্কেল ২৪,০০০–৫৮,০০০ টাকা (গ্রেড-১৩)।
অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক: ৪ জন। শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি বা সমমান। বেতন স্কেল ২১,৯০০–৫২,৯০০ টাকা (গ্রেড-১৬)।
অফিস সহায়ক: ৮ জন। শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা সমমান। বেতন স্কেল ২০,০০০–৪৮,৪০০ টাকা (গ্রেড-২০)।
আবেদনের সময়
অনলাইন আবেদন শুরু হয়েছে ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল ৯টায়। আবেদনের শেষ সময় ১৭ অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যা ৬টা।
আবেদন যেভাবে
প্রার্থীদের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের Teletalk নিয়োগ পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন করার আগে অফিসিয়াল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সব শর্ত ভালোভাবে পড়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি। নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরের দিকে ইন্ডিয়া জোটের মিছিল আটকে দিলে পুলিশের ব্যারিকেডের ওপর উঠে পড়েন কংগ্রেস নেতা ও ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। পরে তাঁকে, তাঁর বোন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কয়েকজন বিরোধী নেতাকে আটক করে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দিল্লিতে এই ঘটনা ঘটে। বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল বিরোধী জোট। বিক্ষোভকারীরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগও দাবি করেন।
তবে বিরোধীদের অভিযোগ অস্বীকার করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।
ব্যারিকেড টপকে রাহুল
মঙ্গলবার পার্লামেন্ট ভবন চত্বর থেকে মিছিল শুরু করেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। নির্বাচন কমিশনের নয়াদিল্লির সদর দপ্তর ছিল তাঁদের গন্তব্য।
মিছিলটি পার্লামেন্ট স্ট্রিটে নীতি আয়োগের কার্যালয়ের কাছে পৌঁছালে পুলিশ সেটি আটকে দেয়। সেখানে আগে থেকেই বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন এবং ব্যারিকেড বসানো ছিল।
পুলিশের বাধার মুখে একপর্যায়ে একটি ব্যারিকেডের ওপর উঠে যান রাহুল গান্ধী। এ সময় তাঁর হাতে ছিল ভারতের জাতীয় পতাকা। তাঁর সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বিরোধী দলের আরও কয়েকজন নেতাকেও ব্যারিকেডের ওপর উঠতে দেখা যায়।
পরে বিরোধী সংসদ সদস্যরা সড়কে বসে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁদের হাতে ‘সেভ ডেমোক্রেসি’সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড ছিল।
আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা, পরে মুক্তি
মিছিল এগিয়ে যেতে না দেওয়ার পর পুলিশ রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কয়েকজন বিরোধী নেতাকে আটক করে। তাঁদের একটি পুলিশ বাসে তোলা হয়।
পরে অবশ্য তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর রাহুল ও অন্য বিরোধী নেতারা নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরের পাশের আকাশবাণী ভবনে প্রবেশ করেন। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁরা সেখানে অবস্থান করছিলেন।
বিক্ষোভ চলাকালে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন বিরোধী নেতারা। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে রাহুল গান্ধী লেখেন, ‘জ্ঞানেশ, এবার পদ ছাড়ুন।’
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। সংসদ ভবন ও নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের আশপাশে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। বসানো হয় একাধিক ব্যারিকেড।
যে কারণে বিরোধীদের বিক্ষোভ
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়া নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিরোধী দলগুলোর টানাপোড়েন চলছে।
বিরোধীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার কারণে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে অনিয়ম হয়েছে। তাঁদের দাবি, এর মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা এবং অনুপযুক্ত ও ভুয়া নাম বাদ দেওয়ার লক্ষ্যেই SIR প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে। কমিশন বিরোধীদের অনিয়মের অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছে।
এই ইস্যুতে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে আসছে। মঙ্গলবারের মিছিলকে সেই আন্দোলনেরই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ গত সোমবার নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় সরকার, জ্ঞানেশ কুমার এবং অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারকে নোটিশ দিয়েছেন।
তবে আদালত আপাতত জ্ঞানেশ কুমারকে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখার কোনো অন্তর্বর্তী আদেশ দেননি। আদালতের পর্যবেক্ষণ, শুধু সংবাদ প্রতিবেদন বা অনুমানের ভিত্তিতে এমন নির্দেশ দেওয়া যায় না; আগে অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
এদিকে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধী দলগুলোর আন্দোলন এবং নির্বাচন কমিশনের অবস্থান—দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
বরগুনায় এক কোটি টাকার চাঁদাবাজির মামলায় কালবেলার প্রতিনিধি সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তারের সময় হ্যান্ডকাফ পরিয়ে হেনস্তার ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) হারুন অর রশিদকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুলিশ।
এদিকে সাংবাদিক আসাদ সবুজের জামিন শুনানি মঙ্গলবার হওয়ার কথা থাকলেও বাদীর উপস্থিতিতে শুনানির জন্য তা বুধবার পুনর্নির্ধারণ করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনার পুলিশ সুপার কুদরত ই খুদা।
সাংবাদিককে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে হেনস্তা, অমানবিক আচরণ ও পুলিশ বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ গত ৩ অক্টোবর বরগুনায় গিয়ে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর এসআই হারুন অর রশিদকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়।
পুলিশ সুপার কুদরত ই খুদা এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটিকে ৩ থেকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও দায় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।
এর আগে গত ১ অক্টোবর রাতে সুভাষ ঘোষের দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলায় সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলায় আসাদ সবুজসহ মোট ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। এতে এক কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়।
গ্রেপ্তারের পর আসাদ সবুজকে হ্যান্ডকাফ পরানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাংবাদিকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির নেতৃবৃন্দ বরগুনায় গিয়ে ঘটনার তদন্তের দাবি জানান।
গত রোববার (৪ অক্টোবর) বরগুনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসাদ সবুজের জামিন আবেদন করা হয়। আদালত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জামিন শুনানির দিন ধার্য করেছিলেন। পরে বাদীর উপস্থিতিতে শুনানির জন্য তা বুধবার পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
মামলার শুনানিতে আসাদ সবুজের পক্ষে অ্যাডভোকেট এম এ বারী মতিন এবং বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের পক্ষে অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের ও অ্যাডভোকেট বাবুল দাস উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর বলেন, সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তারের নামে যে আচরণ করা হয়েছে, তা অমানবিক। এ ঘটনায় সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল বরগুনায় গিয়ে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জমিজমা ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের দাবি, এলাকার কয়েকটি হিন্দু পরিবারের কয়েক কোটি টাকার জমি দখলের প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে মামলাটি করা হয়েছে।
তবে জমি দখল ও মামলাটি সাজানোর অভিযোগের বিষয়ে মামলার বাদী সুভাষ ঘোষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) আগামী ১ জানুয়ারি থেকে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) আবার চালু করতে যাচ্ছে। এবার এই ব্যবস্থার মাধ্যমে অবৈধভাবে আমদানি করা ও তৈরি হ্যান্ডসেট শনাক্তের পাশাপাশি সেগুলো বন্ধ করার সুযোগও থাকবে।
২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন করে দেশে আনা হ্যান্ডসেটগুলো এনইআইআরের আওতায় আসবে। মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত ফোনের আইএমইআই নম্বর যাচাইয়ের মাধ্যমে বৈধতা নিশ্চিত করবে এই কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ।
২০২১ সালে পরীক্ষামূলকভাবে এনইআইআর চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। হ্যান্ডসেট ট্র্যাকিং ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর করতে এটি বিটিআরসির তৃতীয় উদ্যোগ।
সম্প্রতি বিটিআরসির কমিশন সভায় এনইআইআর চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দুই ধাপে চালু হবে এনইআইআর
এনইআইআর দুই ধাপে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে ১ জানুয়ারি থেকে ব্যবস্থাটির মূল সুবিধাগুলোর প্রায় সবই চালু হবে। তবে এ পর্যায়ে ‘ডি-রেজিস্ট্রেশন’ সুবিধা থাকবে না।
এই সুবিধা চালুর আগে সরকারের অনুমোদন নেবে বিটিআরসি। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মাধ্যমে অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হবে। তবে দ্বিতীয় ধাপ কবে থেকে চালু হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়নি।
ডি-রেজিস্ট্রেশন সুবিধা চালু হলে একটি হ্যান্ডসেটের মালিকানা একজন ব্যবহারকারীর কাছ থেকে অন্যজনের নামে পরিবর্তন করা যাবে। ফলে প্রতিটি ফোনের সঙ্গে তার বর্তমান বা সর্বশেষ মালিকের তথ্য যুক্ত থাকবে।
অবৈধ ফোন বন্ধের সুযোগ
প্রথম ধাপে এনইআইআরের মাধ্যমে অবৈধভাবে তৈরি বা আমদানি করা হ্যান্ডসেট শনাক্ত করা যাবে। একই সঙ্গে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে দেশে আনা ফোনের বিক্রি ও ব্যবহার বন্ধ করার ব্যবস্থাও নেওয়া সম্ভব হবে।
তবে বিটিআরসির সভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ক্লোন করা হ্যান্ডসেট শনাক্ত বা বন্ধ করা সম্ভব হবে না। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে এ ধরনের ফোন ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
পুরোনো ও মজুত ফোনের তথ্যও যুক্ত হবে
বর্তমানে মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্কে চালু থাকা হ্যান্ডসেটগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে এনইআইআরে নিবন্ধিত হবে। পাশাপাশি আমদানিকারকেরা তাদের আমদানি করা হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে পারবেন।
আগে আমদানি করা হলেও এখনো বিক্রি না হওয়া ফোন এবং গুদামে মজুত থাকা হ্যান্ডসেটের তথ্যও এনইআইআরে দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
বিটিআরসির এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দেশে ব্যবহৃত হ্যান্ডসেটের বৈধতা নিশ্চিত করা, অবৈধ আমদানি নিয়ন্ত্রণ করা এবং চুরি বা অবৈধভাবে ব্যবহৃত ফোন শনাক্ত ও বন্ধের ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা।
বরিশাল আদালত চত্বরে ১০ তলা জুডিশিয়াল ভবনের ষষ্ঠ তলা থেকে পড়ে নাজমুল হক (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নাজমুল হক বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজে ক্যাশিয়ার পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি বরিশাল নগরের কাশীপুর হাইস্কুলসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা এনামুল হকের ছেলে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, নাজমুল কী কারণে আদালত চত্বরে এসেছিলেন এবং কীভাবে ভবন থেকে পড়ে যান, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ জানায়, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নাজমুলকে উদ্ধার করে। পরে তাঁর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ওসি মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
ঘটনার পর আদালত চত্বরে উপস্থিত আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পাশাপাশি ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে।
ভোলার মনপুরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে ওজোপাডিকোর বিদ্যুৎ কার্যালয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান মনিরসহ চার গ্রাহক আহত হয়েছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সদর ডাকবাংলো মোড়ের ওজোপাডিকো বিদ্যুৎ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
আহত চার গ্রাহক হলেন হাজিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী ও বিদ্যুৎ গ্রাহক মো. শরিফ, মো. আক্তার, সোহাগ ও নিরব। তাদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিয়ম নিয়ে কথা বলতে কার্যালয়ে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তাদের মারধর করা হয়। এ সময় তাদের পোশাক ছিঁড়ে ফেলারও অভিযোগ করেন তারা।
ঘটনার পর চার গ্রাহককে মারধরের বিচার দাবিতে হাজিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী ও বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা বিক্ষোভ-মিছিল করেন। পরে তারা মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি দেন।
অন্যদিকে, বিদ্যুৎ কার্যালয়ে হামলা এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে মারধরের অভিযোগে থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবাসিক বিদ্যুৎ কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মনপুরায় দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে গ্রাহকদের অসন্তোষ রয়েছে। তাদের অভিযোগ, রাতে নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে এক থেকে দেড় ঘণ্টার বেশি সরবরাহ পাওয়া যায় না। এ নিয়ে ক্ষোভের মধ্যে সোমবার কয়েকজন গ্রাহক বিদ্যুৎ সরবরাহ ও নানা সমস্যার অভিযোগ জানাতে কার্যালয়ে যান। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় থেকে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে।
আহত গ্রাহক শরিফ, আক্তার, সোহাগ ও নিরবের অভিযোগ, রাতে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। তাদের আরও অভিযোগ, অতিরিক্ত সময় বিদ্যুৎ দেওয়ার জন্য উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনির অতিরিক্ত অর্থ দাবি করেন এবং অর্থ না দিলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দেন। এসব অভিযোগ জানাতে গেলে তাদের ওপর হামলা করা হয় বলে দাবি করেন তারা। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান মনির বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। এ বিষয়ে কথা বলতে আসা গ্রাহকেরা কোনো কথা না শুনে তার ওপর হামলা ও মারধর করেন। এ ঘটনায় তিনি থানায় মামলা করেছেন। অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।
এ বিষয় মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মাজাহারুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিদ্যুৎ কার্যালয়ে হামলা ও কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশের টহল অব্যাহত রয়েছে।
মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা তজুমদ্দিনের সহকারী কমিশনার তড়িৎ চন্দ্র শীল বলেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিষয়ে ব্যবসায়ীরা স্মারকলিপি দিয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নারী কেলেংকারীসহ বহু অঘটন পটিয়াসি ডিডাব্লিউএফ নার্সি কলেজের চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। প্রশিক্ষণের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগসমূহের প্রমাণ মেলায় তার বিরুদ্ধে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি সোমবার বরিশালটাইমসকে নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম।
বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা বলে বিতর্কিত ডিডাব্লিউএফ নার্সি কলেজ চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিলেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে এনিয়ে সংক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ফুসে উঠলে বিষয়টি তুমুল আলোচনা-সমালোচনা তৈরি করে। এবং সংবাদমাধ্যমে লেখালেখিতে এই জহিরুলের পরকীয়া প্রেমসহ বহুমুখী অপকর্ম প্রকাশ্যে আসে।
এসব ঘটনাসমূহ আদালতের নজরে আসলে তার বিরুদ্ধে স্বপ্রণোদিত হয়ে মিস কেস করেন বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এসএম শরিয়ত উল্লাহ। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তাকে অনিয়মগুলো তদন্তে নির্দেশনা দেওয়া হয়। পুলিশের তদন্তে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণ মেলায় এবার ডিডাব্লিউএফ নার্সিং কলেজ চেয়ারম্যানের জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলো।
এর আগে আন্দোলনের মুখে শিক্ষার্থীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করলেও তা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি, যা নিয়ে এখনও ক্ষোভে ফুঁসছেন শিক্ষার্থীরা।
অভিযোগ আছে, এই জহিরুল ইসলাম আইন লঙ্ঘন করে একই ভবনে একাধিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের শাসনামলে তিনি ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে অপকর্ম চালিয়েছেন। এবং প্রথম স্ত্রী মেহেরুন্নেছাকে জোরপূর্বক আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতে বাধ্য করেছেন, যা সংবাদ সম্মেলন করে আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রকাশ করেন তিনি।
মেহেরুন্নেছার অভিযোগ, চরিত্রহীন জহিরুল ইসলাম নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষার্থীর সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এর আগে তিনি আরেক শিক্ষার্থীর সাথে মুঠোফোনে আপত্তিকর কথাবার্তা বলেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এই মেহেরুন্নেছাও নারী নির্যাতনসহ বেশ কয়েকটি মামলা করেছেন জহিরুলের বিরুদ্ধে। সর্বশেষ প্রথম স্ত্রী বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে জহিরুলের সকল কুকীর্তি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেন।
মেহেরুন্নেছা অভিযোগ করেন, জহিরুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকলেও তিনি বরিশাল-বরগুনা-পটুয়াখালী বিভিন্ন স্থানে দাপটের সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এবং তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দখল নিতে বিভিন্ন কলাকৌশল চালিয়ে যাচ্ছেন। কিছুদিন পূর্বে পটুয়াখালী সদরে মেহেরুন্নেছা যে বাসাটিকে বসবাস করতেন সেটিও তালাবদ্ধ করে দিয়েছেন।
এই মস্তবড় প্রতারকের বিরুদ্ধে এবার শিক্ষার্থীদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের প্রমাণ সামনে আসল এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলেন খোদ আদালত।
আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম সোমবার জানান, আদালত জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দিয়েছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আরও মামলা আছে। একটি মামলায় তিনি আজ জামিনের আবেদন দিয়েছিলেন, পরে আবার ফেরত নিয়েছেন।
বিভিন্ন মাধ্যম জানা গেছে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত জহিরুল ইসলাম বরগুনা সদর থানা পুলিশের এসআই সোহাগকে ব্যবহার করে প্রথম স্ত্রী মেহেরুন্নেছাকে হয়রানির ওপর রাখছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই সোহাগ বলছেন, জিডির অনুসন্ধান করছেন। তাহলে মেহেরুন্নেছার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মীকে তিনি কোনো জহিরুলের ফোন ধরিয়ে দিলেন এমন প্রশ্ন করা হলে মাঠপুলিশ কর্মকর্তা কোনো সদুত্তোর দিতে না পেরে ফোনটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।’
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় পারিবারিক কলহ ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগের পর বিষপানে অসুস্থ হওয়া ঝুমুর খানম সেতু (২৭) মারা গেছেন। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক সন্তানের এই মায়ের মৃত্যু হয়।
ঝুমুর আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের উত্তর শিহিপাশা গ্রামের আব্দুল করিম খানের মেয়ে। তিনি গৌরনদী পৌর এলাকার চরগাধাতলী গ্রামের শাহারিয়া কাজী ওরফে শাহাবুদ্দিনের স্ত্রী। প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের চার বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
পরিবারের ভাষ্য, রোববার (৪ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে স্বামীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার সময় ঝুমুর বিষপান করেন। বিষয়টি টের পেয়ে স্বজনরা দ্রুত তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সেখানেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় সোমবার বেলা ১১টার দিকে চিকিৎসকেরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকায় নিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে তার মৃত্যু হয়।
বাবা আব্দুল করিম খানের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই মেয়েকে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিভিন্নভাবে মানসিক চাপে রাখতেন। তার দাবি, শাহারিয়া কর্মসূত্রে কুয়েতে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। স্বামীর পরিবারের সদস্যদের উসকানি ও প্ররোচনায় মেয়ের ওপর মানসিক নির্যাতন বাড়তে থাকে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, একপর্যায়ে ঝুমুর ও তার শিশুকন্যাকে স্বামীর বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে মেয়েটি সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতেই বসবাস করছিলেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিয়ের সময় প্রত্যাশা অনুযায়ী মালামাল না দেওয়া, বিয়েতে পাঁচশ বরযাত্রী না আনা এবং ঝুমুরের শারীরিক সৌন্দর্য নিয়ে কটূক্তিসহ নানা বিষয়কে কেন্দ্র করে তাকে দীর্ঘদিন ধরে অপমান ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে।
তার দাবি, ঘটনার রাতে ভিডিও কলে কথা বলার সময় শাহারিয়া তার মেয়েকে গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তাকে বিষপান করে মারা যাওয়ার জন্য উসকানি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এর পরই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ঝুমুর পরিবারের সদস্যদের অগোচরে বিষপান করেন বলে দাবি তার বাবার।
এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন ঝুমুরের বাবা। আগৈলঝাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ মাসুদ খান বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে ঝুমুরের বাবার করা অভিযোগের বিষয়ে শাহারিয়া কাজী শাহাবুদ্দিনের পরিবারের কোনো সদস্যের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তারা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
স্বজনেরা জানান, কয়েক মাস আগে ঝুমুরের ২০ বছর বয়সী একমাত্র ভাই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই ঝুমুরের মৃত্যুতে পরিবারটি আবারও গভীর শোকের মধ্যে পড়েছে। তার মৃত্যুতে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যেও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
বরিশালের উজিরপুরে বাবা আলী আকবর হাওলাদারকে হত্যার দায়ে ছেলে পলাশ হাওলাদারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ঘটনার দীর্ঘ ১৬ বছর পর এ মামলার রায় দেয়া হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশালের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সোহেল আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় পলাশ আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
এ মামলার অপর দুই আসামি কাওসার হাওলাদার ও মিজান হাওলাদারের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দিয়েছেন আদালত। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী (পেশকার) মোহাম্মদ তুহিন মোল্লা।
মামলার নথি ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, পলাশ হাওলাদার উজিরপুর উপজেলার পরমানন্দ সাহা গ্রামের মৃত আলী আকবর হাওলাদারের ছেলে। ২০১০ সালের ২ মে সন্ধ্যার পর পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে বাবা-ছেলের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা হয়। ওই রাতেই পলাশসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন আলী আকবরকে ঘর থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়।
পরদিন ৩ মে ভোরে প্রতিবেশী আলমগীর হাওলাদার পাশের একটি ধানক্ষেতে আলী আকবরকে হাত-পা ও চোখ-মুখ বাঁধা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের ছেলে ও মামলার বাদী শহিদ হাওলাদারের করা এজাহারে বলা হয়, পলাশ দ্বিতীয় বিয়ে করে স্ত্রীকে বাবার বাড়িতে নিয়ে আসতে চাইলে আলী আকবর তাতে আপত্তি জানান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এ ছাড়া প্রথম স্ত্রীকে ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় পলাশ কারাভোগ করেছিলেন।
এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই মামলায় বাবার ইন্ধন রয়েছে—এমন ধারণা থেকে আলী আকবরের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন পলাশ। ঘটনার রাতে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়ার পরদিন ধানক্ষেত থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ২৫ মার্চ উজিরপুর মডেল থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকুমার রায় পলাশ হাওলাদারসহ তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
এরপর সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণসহ দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত পলাশ হাওলাদারকে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় কাওসার হাওলাদার ও মিজান হাওলাদারকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
পিরোজপুর সদর উপজেলার কঁচা নদীতে অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু (বেকুটিয়া সেতু)–এর নিচ থেকে সরকারি লোহার পাইপ চুরির অভিযোগে শারিকতলা-ডুমরিতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. হেমায়েত বেপারিসহ নয়জনকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে সেতুর নিচে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, রাতে একটি চক্র সেতুর নিরাপত্তাবেষ্টনী অতিক্রম করে সরকারি লোহার পাইপ কেটে চুরির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর থানা-পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে নয়জনকে আটক করে। এ সময় পাইপ কাটার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামও জব্দ করা হয়।
পিরোজপুর সদর থানার ওসি মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, আটক হেমায়েত বেপারির বিরুদ্ধে চুরির ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম খান বলেন, তদন্তে হেমায়েত বেপারির সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
Search
Cookie Consent
We use cookies to improve your experience on our site. By using our site, you consent to cookies.
Contains information related to marketing campaigns of the user. These are shared with Google AdWords / Google Ads when the Google Ads and Google Analytics accounts are linked together.
90 days
__utma
ID used to identify users and sessions
2 years after last activity
__utmt
Used to monitor number of Google Analytics server requests
10 minutes
__utmb
Used to distinguish new sessions and visits. This cookie is set when the GA.js javascript library is loaded and there is no existing __utmb cookie. The cookie is updated every time data is sent to the Google Analytics server.
30 minutes after last activity
__utmc
Used only with old Urchin versions of Google Analytics and not with GA.js. Was used to distinguish between new sessions and visits at the end of a session.
End of session (browser)
__utmz
Contains information about the traffic source or campaign that directed user to the website. The cookie is set when the GA.js javascript is loaded and updated when data is sent to the Google Anaytics server
6 months after last activity
__utmv
Contains custom information set by the web developer via the _setCustomVar method in Google Analytics. This cookie is updated every time new data is sent to the Google Analytics server.
2 years after last activity
__utmx
Used to determine whether a user is included in an A / B or Multivariate test.
18 months
_ga
ID used to identify users
2 years
_gali
Used by Google Analytics to determine which links on a page are being clicked
30 seconds
_ga_
ID used to identify users
2 years
_gid
ID used to identify users for 24 hours after last activity
24 hours
_gat
Used to monitor number of Google Analytics server requests when using Google Tag Manager
1 minute
Jetpack's built-in visitor analytics. It records page views, referring sites, search terms, and outbound link clicks, and also carries the shared visitor-tracking library used by Jetpack Instant Search and WooCommerce Analytics.