বরিশাল শহরের বটতলা এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে অন্তত ১২ জনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। শনিবার বিকেলে স্থানীয় হালিমা খাতুন স্কুলসংলগ্ন একটি ভবন থেকে তাদের আটক করা হয়।
গোয়েন্দাপুলিশের দাবি, শহর অভ্যন্তরে নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশে বৈঠক চলছিল। কিন্তু এর আগেই সেখানে গোয়েন্দাপুলিশ হানা দেয় এবং ঘটনাস্থল থেকে ১২ জনকে হেফাজতে নেয়।
তাৎক্ষণিকভাবে আটকদের নাম পরিচয় না পাওয়া গেলেও ডিবি পুলিশের একটি সূত্র বলছে, সকলে কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বরকে কেন্দ্র করে তারা একটি বৈঠক করছিলেন।
বরিশাল নগরীতে বালু সরবরাহের সব পাইপলাইন অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। একই সঙ্গে নগরীর ১৮টি বালু অবতরণ কেন্দ্রের কার্যাদেশ বাতিল এবং এসব কেন্দ্রের চুক্তির মেয়াদ আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ রক্ষা ও নগরবাসীর বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিনের নির্দেশনায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিসিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা সিকদারের সই করা এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৮টি বালু অবতরণ কেন্দ্রকে এক বছরের জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। এসব কেন্দ্র থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বালু সরবরাহ করা হতো।
বিসিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পাইপলাইনের মাধ্যমে বালু সরবরাহ করতে গিয়ে অনেক জলাশয় অবৈধভাবে ভরাটের পাশাপাশি পরিবেশ ও কৃষিজমির ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া সড়কের নিচ দিয়ে বোরিং করে পাইপলাইন নেওয়ায় রাস্তার ক্ষতি হয়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের ওপর দিয়ে পাইপ নেওয়ায় দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে। এসব বিষয় নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং পরিবেশবিদ ও সাধারণ মানুষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বালু অবতরণ কেন্দ্রগুলোর কার্যাদেশ বাতিল ও চুক্তির মেয়াদ না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
একই সঙ্গে কার্যাদেশপ্রাপ্তদের বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় বালু সরবরাহের সব পাইপলাইন অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন নগরবাসীর সেবা ও পরিবেশ রক্ষায় বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছে তাঁর দপ্তর।
প্রশাসকের প্রেসসচিব সাকলাইন মোস্তাক জানান, পাইপের মাধ্যমে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাশয় ভরাটের বিষয়ে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নগরীর পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসক শিরিন এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
বিসিসির এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে নগরীর জলাশয় রক্ষা, সড়কের ক্ষয়ক্ষতি কমানো এবং পাইপলাইনের কারণে সৃষ্ট জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
মাগরিবের পর বাবার ফোন। ওপাশ থেকে বললেন, ‘মসজিদে মিলাদ দিয়েছি, ১ তারিখে জয়েন দিবি তাই।’ অথচ তখনো নিয়োগপত্র না পাওয়ার কথা বাবাকে বলতে পারেননি ফাহিম। সারা দিন একটু পরপর মা, বাবা, ভাই ফোন করে জানতে চাইছেন—‘কখন দিবে নিয়োগপত্র?’
ভোলা সদরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত আমজাদ হোসেন ফাহিমের জন্য ১ অক্টোবর ছিল নতুন জীবনের শুরু। সেই দিন চাকরিতে যোগ দেবেন—এমন বিশ্বাসে আগেই সেরেছিলেন প্রস্তুতি।
ঢাকায় টিউশনি করিয়ে চলা ফাহিম নিজের শখের সাইকেলটিও ছোট ভাইকে দিয়েছেন, ভেবেছিলেন গ্রামে চলে যাবেন। বইপত্র গুছিয়ে কুরিয়ারে বাড়িতে পাঠানোর প্রস্তুতিও ছিল। আত্মীয়স্বজন ও এলাকার লোকজনও জেনে গিয়েছিলেন, আমজাদ বাড়ি ফিরছেন, তার কাছে পড়তে পাঠাবেন সন্তানদের।
কিন্তু ২৪ সেপ্টেম্বর নিয়োগপত্র বিতরণ শুরু হলে সেই অপেক্ষার অবসান হয়নি। বরং সামনে আসে নতুন ধাক্কা। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েও তার নাম নেই নিয়োগপত্রের তালিকায়।
ফাহিমের দাবি, এনএসআই ও ডিএসবি ভেরিফিকেশনে ‘নেগেটিভ রিপোর্ট’-এর কারণে তাকে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কী কারণে এমন প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে, সেটি জানেন না তিনি।
ফাহিমের মতোই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়ার অভিযোগ তুলছেন আরও অনেক প্রার্থী। তাদের কেউ বলছেন রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে, কেউ বলছেন ভেরিফিকেশনে কী তথ্য এসেছে সেটিই তাদের জানানো হয়নি। ফলে দীর্ঘ আট মাসের অপেক্ষার পর নিয়োগপত্র হাতে না পাওয়ায় হতাশায় পড়েছেন অনেকেই।
শিক্ষিত বেকারদের শেষ আশ্রয়স্থল বলা হয়ে থাকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চাকরিকে। এই চাকরিতে ভেরিফিকেশন করে বাদ দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিয়োগবঞ্চিতরা।
দেশের অন্তত ২৭ জেলার হাজারের কাছাকাছি প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি বলে জানিয়েছেন নিয়োগবঞ্চিতরা। এর মধ্যে চাঁদপুরে ২৭, মুন্সীগঞ্জে ৩, শরীয়তপুরে ৬, ঝালকাঠিতে ১২, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৪, পাবনায় ৩৫, বগুড়ায় ৪৮, সুনামগঞ্জে ১২০, খুলনায় ৫৯, জামালপুরে ৫২, পিরোজপুরে ৪৫, ভোলায় ৮৪ জনসহ বিভিন্ন জেলার প্রার্থীরা রয়েছেন বলে দাবি তাদের।
এদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ প্রার্থীকে নিয়োগপত্র প্রদান শুরু হয় ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে। আগামী ১ অক্টোবর নিজ নিজ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে যোগদান এবং ৪ অক্টোবর থেকে পদায়নের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। নিয়োগপত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন, গোয়েন্দা প্রতিবেদন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ডোপ টেস্ট ও শিক্ষাগত সনদ যাচাইয়ের মতো বিষয়গুলো বিবেচনার নির্দেশনা রয়েছে।
তবে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিয়োগবঞ্চিতরা। নিয়োগবঞ্চিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সিয়াম আহমেদের দাবি, ভেরিফিকেশনের সময় বিএনপির কয়েকজন নেতার কাছ থেকে তার বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছিল। তিনি জামায়াতে ভোট দিয়েছিলেন এবং বিষয়টি এলাকায় অনেকে জানতেন। তার ধারণা, রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেই হয়তো তিনি বাদ পড়েছেন।
২০২৬ সালের জুনে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে প্রথমবারের মতো এনএসআই ভেরিফিকেশন যুক্ত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। এর আগে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ প্রার্থীর পুলিশ ভেরিফিকেশন চলছিল।
অথচ সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন নিয়ে প্রশ্ন ও সংস্কারের আলোচনা নতুন নয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন সরকারি চাকরিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন তুলে দেওয়ার সুপারিশ করার প্রস্তাব করেছিল। এরপর ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিচয় জানার প্রথা বাতিলের সুপারিশের কথাও সামনে আসে।
এসব আলোচনার মধ্যেই ভেরিফিকেশনের পর নিয়োগবঞ্চিত করার বিষয়টি অমানবিক ও বৈষম্যমূলক আচরণ বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থী আব্দুল কাইয়ুমও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তার ভাষায়, যোগ্যতা দিয়ে জীবনের প্রথম চাকরি পাওয়ার পরও ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া তার জীবনের ‘সবচেয়ে বড় ট্রমা’। তিনি রাষ্ট্রের কাছে এ বিষয়ে জবাবদিহি দাবি করেছেন।
আরেক প্রার্থী বিল্লাল হোসাইন দীপু জানিয়েছেন, তার বাবা একসময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তিনি নিজেও বিএনপির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। জুলাই আন্দোলনেও সক্রিয় থাকার কথা জানিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থেকেও তাকে কেন বাদ দেওয়া হলো।
কী বলছে রাজনৈতিক দলগুলো
নিয়োগবঞ্চিতদের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া এসেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘সুস্পষ্ট ও আইনসম্মত অভিযোগ ছাড়া কোনো প্রার্থীকে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হলে তার ব্যাখ্যা প্রয়োজন।’ তিনি ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া ও নিয়োগবঞ্চনার অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরও এক বিবৃতিতে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের রাজনৈতিক মতাদর্শ, পরিচয় বা পারিবারিক রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে নিয়োগবঞ্চিত না করার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি এবং নেতিবাচক প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য কারণ জানানোর দাবি করেছে।
ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমও ভেরিফিকেশনের নামে প্রার্থীদের বাদ দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ তরুণদের ভেরিফিকেশনের নামে বাদ দেওয়া চরম বৈষম্যমূলক, অন্যায্য ও অন্যায় সিদ্ধান্ত। সহস্রাধিক শহীদের রক্তের বিনিময়ে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত বিএনপি সরকারের এই সিদ্ধান্ত বৈষম্যবিরোধী জুলাই বিপ্লবের সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা।
তিনি বলেন, সরকারি চাকরিতে মেধা ও যোগ্যতাই নিয়োগের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত। কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা জানিয়ে আপিলের সুযোগ রাখতে হবে।
শিক্ষাবিদ এহসানুল মাহবুব যোবায়ের বলেন, ‘মেধা ও যোগ্যতায় উতরে যাওয়ার পর একজন প্রার্থীকে ভেরিফিকেশনের কারণে বাদ দেওয়া হলে এর সুনির্দিষ্ট কারণ থাকা প্রয়োজন। কেউ ফৌজদারি অপরাধে জড়িত থাকলে বা নিরাপত্তাজনিত কোনো গুরুতর তথ্য থাকলে সেটি ভিন্ন বিষয়। কিন্তু রাজনৈতিক মতাদর্শ বা পারিবারিক পরিচয়ের কারণে কাউকে সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়।’
আন্দোলনের ঘোষণা
এদিকে নিয়োগপত্র প্রদানের দাবিতে আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীরা। এ দাবিতে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে একত্র হবেন তারা। এরই মধ্যে তাদের কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানিয়েছেন ডাকসুর আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক খান জসিম।
যা বলছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘নিয়োগপত্রগুলো ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে। এজন্য অনেক এলাকায় সেগুলো পৌঁছাতে দেরি হতে পারে। এজন্য আমরা যোগদানের তারিখ ১ অক্টোবর পর্যন্ত দিয়েছি। প্রার্থীরা কিছুদিন অপেক্ষা করলে তারাও নিয়োগপত্র পেয়ে যাবেন।’
নতুন করে এনএসআই ভেরিফিকেশনের পর কোনো প্রার্থী বাদ পড়েছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বললেন, ‘কোন প্রার্থী বাদ গেছেন সেটি নির্দিষ্ট করে বলার সময় এখনো হয়নি।
দেশে জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর পর বরিশালসহ বিভিন্ন এলাকার পরিবহন ব্যয় ও যাত্রীভাড়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সরকার নির্ধারিত নতুন দাম ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) প্রকাশিত সরকারি প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, ডিজেল প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে দাম ছিল যথাক্রমে ১১৫, ১৪০, ১৪৫ ও ১৩৫ টাকা।
জ্বালানির দাম বাড়লে যানবাহন পরিচালনার খরচের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। তবে বরিশালের কোনো নির্দিষ্ট রুটে ভাড়া কতটা পরিবর্তিত হয়েছে, সে বিষয়ে এই প্রতিবেদনের জন্য পরিবহন কর্তৃপক্ষের হালনাগাদ ঘোষণা বা স্বাধীন মাঠতথ্য সংগ্রহ করা হয়নি। তাই কোনো নির্দিষ্ট ভাড়া বৃদ্ধির দাবি করা হচ্ছে না।
২১ সেপ্টেম্বরের সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, অতিরিক্ত পরিবহনভাড়া আদায় ও কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো কাজ করছে। ভাড়া সংক্রান্ত নতুন সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হলে যাত্রীদের তা যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।
বরিশাল–ঢাকা মহাসড়কের গৌরনদী অংশে খানাখন্দ ও ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ইট-বালু দিয়ে সংস্কারের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে প্রকাশিত একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সড়কের অবস্থা ও সংস্কারপদ্ধতি নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ উঠে এসেছে।
৯ সেপ্টেম্বর কালবেলার প্রতিবেদনে গৌরনদী অংশে বিটুমিনের পরিবর্তে ইট-বালু দিয়ে সড়ক সংস্কারের কথা জানানো হয়। প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদনে ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদীর ভূরঘাটা থেকে উজিরপুরের জয়শ্রী পর্যন্ত সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশের কথা উঠে এসেছে।
মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে সাময়িক সংস্কার ও দীর্ঘমেয়াদি মেরামতের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। চলাচলের উপযোগী রাখতে জরুরি কাজের পাশাপাশি কোন অংশে স্থায়ী সংস্কার প্রয়োজন, সে বিষয়ে স্পষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করা হলে যাত্রীরা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে পারবেন।
২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট অংশের সব সংস্কারকাজ শেষ হয়েছে কি না, তা এই প্রতিবেদনের জন্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বরিশাল মহানগরে লাইসেন্সবিহীন অটোরিকশা চলাচল, যাত্রীভাড়া ও যানজট নিয়ে আলোচনা চলছে। ২৯ জুন নগর ভবনে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় বিদ্যমান থ্রি-হুইলার ভাড়া বহাল রাখা এবং লাইসেন্সবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযানের সিদ্ধান্ত নেয় বরিশাল সিটি করপোরেশন।
ঢাকা পোস্টের ২৯ জুনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সভায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অন্যদিকে ১৯ সেপ্টেম্বর কালবেলার প্রতিবেদনে নগরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার কারণে যানজট ও ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগের কথা উঠে এসেছে।
যানবাহন নিয়ন্ত্রণের আলোচনায় চালক ও যাত্রী উভয়ের প্রয়োজন বিবেচনা জরুরি। কোন যানবাহনের লাইসেন্স রয়েছে, কোন রুটে কতটি গাড়ি চলতে পারবে এবং অনুমোদিত ভাড়া কী—এসব তথ্য প্রকাশ্যে থাকলে যাত্রী ও চালক উভয়ের জন্য নিয়ম বোঝা সহজ হবে।
যৌথ অভিযান কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে এবং বর্তমানে কতটি অটোরিকশার বৈধ অনুমোদন রয়েছে, সে বিষয়ে এই প্রতিবেদনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নতুন বক্তব্য সংগ্রহ করা হয়নি।
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরিশাল। | 25 September 2026, 7:59 am
বরিশাল নগরীর রাহাত আনোয়ার হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের পর নাজিয়া মাইশা নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় চিকিৎসক ডা. তহুরার বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন নিহতের স্বজনরা। তাঁদের দাবি, তাড়াহুড়ো করে অস্ত্রোপচার করার সময় জটিলতা সৃষ্টি হলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মাইশার মৃত্যু হয়।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। নিহত নাজিয়া মাইশা বরিশাল নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। বিয়ের মাত্র এক বছরের মাথায় প্রথম সন্তানের জন্ম দিতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সন্তান প্রসবের জন্য নাজিয়া মাইশাকে রাহাত আনোয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসক ডা. তহুরার তত্ত্বাবধানে তাঁর সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। স্বজনদের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের সময় মাইশার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
পরিবারের দাবি, অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁদের জানায়, মাইশার হৃদ্স্পন্দন রয়েছে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে দ্রুত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন। পরে তাঁকে সেখানে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলেছেন নিহতের স্বজনরা। তাঁদের দাবি, অস্ত্রোপচারের সময় যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করা হলে এমন পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতো।
তবে নাজিয়া মাইশার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসায় কোনো ধরনের গাফিলতি হয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে রাহাত আনোয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিংবা অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. তহুরার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দায়িত্ব পালনরত এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এ সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র এখনো তাঁদের কাছে পৌঁছায়নি। কাগজপত্র পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নবজাতকের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
নাজিয়া মাইশার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা বা ত্রুটি ছিল কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের আয়োজনে পেশা উন্নয়নবিষয়ক আলোচনা, আন্তঃবিভাগ পরিচিতি সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘ম্যানেজমেন্ট ফেস্ট ৩.০’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিনব্যাপী এ আয়োজনে ক্যারিয়ার গঠন, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এতে ব্যবস্থাপনা বিভাগের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণির বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক কামরুননেছার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শেখ মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। এ সময় বিভাগের শিক্ষক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
অধ্যাপক ড. শেখ মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগ। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এআইসহ নতুন নতুন প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। সারাদিন ফেসবুকে সময় নষ্ট না করে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সময় দিতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখন ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শুধু পেশাগত দক্ষতা অর্জন করলেই চলবে না, এর পাশাপাশি সততা, দেশপ্রেম ও নৈতিকতার চর্চাও করতে হবে। তোমরা ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী। আশা করি, নিজেদের বিষয় ভালোভাবে রপ্ত করে দক্ষ ব্যবস্থাপক হিসেবে গড়ে উঠবে। তোমাদের দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশ ও জাতি এগিয়ে যাবে।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক কামরুননেছা বলেন, বর্তমান করপোরেট জগৎ অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ। শুধু ভালো সিজিপিএ একটি সফল ক্যারিয়ারের নিশ্চয়তা দেয় না। পেশাগত উন্নয়নের জন্য যোগাযোগদক্ষতা, নেতৃত্বদানের ক্ষমতা, দলগত কাজ, সময়ানুবর্তিতা এবং প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। জীবনে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে সততার সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বক্তাদের পরামর্শ নিজেদের জীবনে কাজে লাগাতে না পারলে ক্যারিয়ারে সফলতা অর্জন করা সম্ভব হবে না। শিক্ষার্থীদের যেকোনো সৃজনশীল ও পেশা উন্নয়নমূলক উদ্যোগে বিভাগ সবসময় পাশে থাকবে। নিজেদের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রতিনিয়ত নতুন নতুন দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করতে হবে।
ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী রেদওয়ান আহমেদ অমি বলেন, বিএম কলেজের সবচেয়ে বড় বিভাগ আমাদের ব্যবস্থাপনা বিভাগ। নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি এ ধরনের মিলনমেলা আমাদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে উজ্জীবিত করে এবং মুক্ত আলোচনার সুযোগ তৈরি করে।
আলোচনা পর্ব শেষে বিভাগের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়। পরে বিকাল ৩টায় শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে বিভাগের শিক্ষার্থীরা গান, নৃত্যসহ বিভিন্ন পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। শিক্ষক, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি মিলনমেলায় পরিণত হয়।
বরিশালের হিজলা উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়নের চরছয়গাও গ্রামের এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী অসহায় নারী ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনা ঘটেছে । এ ঘটনায় অসহায় নারীর মা মেহেরাজি বাদি হয়ে ধর্ষণ আইনে হিজলা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে । এতে ঐ এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে ।
জানা গেছে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নারীর বাবা আকু আকনের মৃত্যুর পর বৃদ্ধ মা মেহেরাজি ,মেয়েকে নিয়ে একটি কুড়েঘরে বসবাস করেন । পার্শ্ববর্তী এলাকায় ভিক্ষাবৃত্তি করে কোনোরকমে মেয়েকে নিয়ে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে ।
ওই নারীর গর্ভধারণের বিষয়টি বৃদ্ধ মা টের পাওয়ার পর পর সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা ।
সম্প্রতি মেয়ের শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করার পরে বৃদ্ধ নারী চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলে তার ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বৃদ্ধি প্রতিবন্ধী নারীর মা।
বৃদ্ধ মা মেহেরাজি মেয়েকে নিয়ে বিচারের আশায় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। কিন্তু তার অভিযোগ সহায়তায় এলাকার কেউ এগিয়ে আসেনি।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ভুক্তভোগী নারী ও তার মেয়ের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে । অনেকেই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টায় নানা ভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল ।
এ ঘটনায় সরোজমিনে গেলে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নারী জরিত ফারুক হোসেন নামে একজন মিস্ত্রীর নাম প্রকাশ করেন । তিনি আত্নগোপনে রয়েছে । তাই তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় প্রকৃত বিষয় উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা বাসিন্দারা ।
স্থানীয় হরিনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা ছাত্তার মাঝি বলেন প্রতিবন্ধী নারীর অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে কেউ কোনো ধরনের অনৈতিক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে থাকলে তা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি । একই সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীকে সামাজিকভাবে হেয় না করে তার চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন ।এ ঘটনায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ।
তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং ভুক্তভোগী নারী ও তার অনাগত সন্তানের যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
হিজলা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ সোলায়মান জানান, এই বিষয়ে থানায় একটি মামলা হয়েছে । ভুক্তভোগী নারীকে সর্বাত্মক আইনি সহযোগিতা করা হবে । আসামিদের ধরার জন্য অভিযান চলছে ।
আট বছর হয়ে যাচ্ছে, এখনো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বরিশাল জেলা ও মহানগর যুবদল আহবায়ক কমিটি থেকে পূনার্ঙ্গ কমিটি গঠন হয়নি। ২০১৭ সালে এপ্রিলে কেন্দ্র থেকে বরিশাল জেলা যুবদলের সুপার ফাইভ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর ২০১৮ সালে আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির মেয়াদ তিন বছর থাকলেও অদ্যবদি সম্মেলন বা নতুন কমিটি গঠন করার দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ পরিস্থিতিতে বরিশাল জেলা যুবদলের নতুন কমিটি গঠনের দাবি তুলছেন নেতাকর্মীরা।
নতুন কমিটি গঠনের আলোচনায় রয়েছে নতুন ও পুরানো মুখ। তবে শুনা যাচ্ছে পুরোনোরা এবং নতুনরাই এবার কমিটি প্রাধান্য পাবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। সংগঠনটির অনেকে বলছেন, পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, যুবদলের নেতৃত্বে যুবাদের আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
তবে কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ফের আলোচনায় যুবদলের বরিশাল জেলা ও মহানগর কমিটি গঠন নিয়ে। সরগরম রয়েছে বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গন। নতুন নেতৃত্বে কারা আসছেন, সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে কাদের দেখা যেতে পারে – তা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে ব্যাপক আলোচনা, যোগাযোগ ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে লবিং-তদবির।
দলীয় সূত্র ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় একাধিক নাম ঘুরে ফিরে আসছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো নামই চূড়ান্ত বা আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত নয়। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় যুবদলের সিদ্ধান্তেই নেতৃত্ব নির্ধারিত হবে।
জেলা যুবদলে আলোচনায় যারা:
বরিশাল জেলা যুবদলের নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন অ্যাডভোকেট এইচ এম তসলিম উদ্দিন, মামুন রেজা খান, অ্যাডভোকেট হাফিজ আহমেদ বাবলু, ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুল আলম মিঠু, মো. বেলায়েত হোসেন ও মোঃ হাবিবুল্লাহসহ কয়েকজন। এর মধ্যে অ্যাডভোকেট তসলিম উদ্দিন ২০১৭ সালে বরিশাল দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও হাফিজ আহমেদ বাবলু সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ২০২১ সালে বিপ্লব মারা গেলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হন মামুন রেজা খান। পাশাপাশি এইচ এম তসলিম উদ্দিনের সাংগঠনিক ভূমিকা আরও দৃশ্যমান হয়। ২০২৬ সালের জুনে তিনি কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। ফলে জেলায় তার পদ নিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। তাই ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুল আলম মিঠু সদ্য সাবেক অবিভক্ত জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ)। দলের দুঃসময়ে বরিশাল বিভাগে দায়িত্ব পালন, হামলা-মামলা ও রাজপথে সক্রিয় থাকার কারণে তৃণমূলের আলোচনায় এসেছে। অপরদিকে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হচ্ছেন জেলা যুবদলের (উত্তর) যুগ্ম আহ্বায়ক কায়সার আহমেদ, জেলা দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ আহমেদ বাবলু এবং উত্তরের আহ্বায়ক সালাউদ্দিন পিপলু।
মহানগর যুবদলে পুরোনো-নতুনের প্রতিযোগিতা:
মহানগর যুবদলের সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন মাসুদ হাসান মামুন, অ্যাডভোকেট মাজহারুল ইসলাম জাহান, রেজাউল করিম রনি, আরিফুল ইসলাম মুন্না, আরিফুল ইসলাম জনি, রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ ও মুশফিকুর রহমান অভি। মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান মামুনকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বপদে বহাল রাখা হয়। এর আগে ২০২০ সালে তাকে বহিষ্কারের পর অ্যাডভোকেট মাজহারুল ইসলাম জাহান ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
হাইকমান্ডের নির্দেশনা ও তৃণমূলের প্রত্যাশা:
দলের চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের কঠিন বার্তা রয়েছে কমিটি গঠনের বিষয়ে। নির্দেশনা অনুযায়ী, দলের দুঃসময়ে যারা হামলা-মামলা, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন, তাদের যেন বাদ না পড়ে। পাশাপাশি যারা আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পরিবারের একই সাথে সম্পর্কিত এবং বিগত দিনে লিয়াজোঁ করে চলেছেন, তাদের বিষয়ে সজাগ থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি – ছাত্রদল থেকে বয়সের কারণে বাদ পড়া ত্যাগী নেতাদের যুবদলে সুযোগ দিতে হবে। বয়সের কারণে ছাত্রদল থেকে বাদ পড়া আরিফুল ইসলাম মুন্না ও আরিফুল ইসলাম জনির নাম এ ক্ষেত্রে বেশি আলোচনায় রয়েছে। নেতাকর্মীরা মনে করেন, যারা টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও সুবিধাবাদী রাজনীতিতে ছিলেন, তারা যেন কমিটিতে না আসে। পুরোনো ও নতুনের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠিত হোক।বরিশাল সম্পর্কিত খবর
যুবদলের দায়িত্বশীল সূত্রে জানিয়েছেন- উত্তর ও দক্ষিণ জেলা যুবদল একীভূত করে জেলা যুবদল গঠিত হচ্ছে। যে কারণে জেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাও বেড়েছে। তবে আগে যাঁরা পদে ছিলেন, তাঁদের শীর্ষ নেতৃত্বে রেখেই নতুন কমিটি এবার নতুন মুখও আসবে বলে ধারনা সকলের। তবে খুব শিগ্রই যুবদলের কমিটি ঘোষনা হতে পারে বলে একটি সূত্র জানায়। এই পরিস্থিতিতে জেলা যুবদলের সম্ভাব্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আছেন অনেকে। তবে দলের এক নেতা বলেন, কিছু দিন পূর্বে ‘উত্তর ও দক্ষিণ যুবদল এক করার সিদ্ধান্ত দিয়েছিলো কেন্দ্র। যে কারণে জেলা যুবদলের নেতৃত্বে আসা আমাদের অধিকার।’ তিনি বলেন, ‘সামনে নির্বাচন। যে নেতারা টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, সুবিধাবাদীতে ছিল, তারা যেন যুবদলের কমিটিতে না আসে। পুরোনো-নতুন মিলিয়ে কমিটি হোক। তা না হলে একচেটিয়া হয়ে দল দুর্বল হবে।’
অপরদিকে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হচ্ছেন জেলা যুবদলের (উত্তর) যুগ্ম আহ্বায়ক কায়সার আহমেদ। যুবদলের উত্তরের আহ্বায়ক সালাউদ্দিন পিপলু তিনি রয়েছেন সক্রিয়। উত্তর জেলা যুবদলের আহবায়ক সালাউদ্দিন পিপলু তিনি জেলা যুবদলের পদপ্রত্যাশী। তিনিও নেতাকর্মীদের আলোচনায় রয়েছেন। সাইয়েদুল আলম খান সেন্টু ও গোলাম মোর্শেদ মাসুদ,সুজন সহ আরো কয়েকজন রয়ে যুবদলের উত্তর কমিটির পদপ্রত্যাশী।
উত্তর-দক্ষিণের ভারসাম্য ও কেন্দ্রের অপেক্ষা:
বরিশালে দীর্ঘ সময় ধরে উত্তর ও দক্ষিণ জেলা যুবদলের পৃথক সাংগঠনিক কাঠামো থাকায় নতুন কমিটিতে ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। ২০২৫ সালের একটি প্রতিবেদনেও এই ভারসাম্যের আলোচনা উঠে এসেছিল। ২০২৬ সালের মে মাসে বরিশাল জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের নতুন আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদনের পর যুবদলের নতুন কমিটি নিয়ে আগ্রহ আরও বেড়েছে। প্রচলিত সাংগঠনিক ধারা অনুযায়ী ছাত্রদল থেকে যুবদলে নেতৃত্বের একটি অংশ উঠে আসে। তাই ছাত্রদলের নতুন কমিটির পর যুবদলে কারা জায়গা পান, সেদিকেই এখন সবার নজর। নতুন কমিটি পুরোনো নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে, নাকি তরুণদের সামনে এনে সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাস করবে – সেই প্রশ্নের উত্তর এখন কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।
বরিশাল সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নে বউ-শাশুড়ির ঝগড়া ও হাতাহাতির ঘটনায় রুনু বেগম (৬৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তাকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পুত্রবধূ ফাতেমা বেগমের (২৬) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ফাতেমাকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ইউনিয়নের আটহাজার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক বিষয় নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে রুনু বেগম ও ফাতেমা বেগমের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে গড়ায়। এ সময় রুনু বেগম ফাতেমার একটি আঙুল কামড়ে ধরেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে ফাতেমা তার শাশুড়ির গলা চেপে ধরেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে শ্বাসরোধ হয়ে রুনু বেগমের মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়দের দাবি।
খবর পেয়ে কাউনিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রুনু বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে ফাতেমা বেগমকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে।
কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সঞ্জিৎ চন্দ্র নাথ বলেন, বউ-শাশুড়ির ঝগড়া ও মারামারির একপর্যায়ে ফাতেমা তার শাশুড়ির গলা চেপে ধরলে শ্বাসরোধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
Search
Cookie Consent
We use cookies to improve your experience on our site. By using our site, you consent to cookies.
Contains information related to marketing campaigns of the user. These are shared with Google AdWords / Google Ads when the Google Ads and Google Analytics accounts are linked together.
90 days
__utma
ID used to identify users and sessions
2 years after last activity
__utmt
Used to monitor number of Google Analytics server requests
10 minutes
__utmb
Used to distinguish new sessions and visits. This cookie is set when the GA.js javascript library is loaded and there is no existing __utmb cookie. The cookie is updated every time data is sent to the Google Analytics server.
30 minutes after last activity
__utmc
Used only with old Urchin versions of Google Analytics and not with GA.js. Was used to distinguish between new sessions and visits at the end of a session.
End of session (browser)
__utmz
Contains information about the traffic source or campaign that directed user to the website. The cookie is set when the GA.js javascript is loaded and updated when data is sent to the Google Anaytics server
6 months after last activity
__utmv
Contains custom information set by the web developer via the _setCustomVar method in Google Analytics. This cookie is updated every time new data is sent to the Google Analytics server.
2 years after last activity
__utmx
Used to determine whether a user is included in an A / B or Multivariate test.
18 months
_ga
ID used to identify users
2 years
_gali
Used by Google Analytics to determine which links on a page are being clicked
30 seconds
_ga_
ID used to identify users
2 years
_gid
ID used to identify users for 24 hours after last activity
24 hours
_gat
Used to monitor number of Google Analytics server requests when using Google Tag Manager
1 minute
Jetpack's built-in visitor analytics. It records page views, referring sites, search terms, and outbound link clicks, and also carries the shared visitor-tracking library used by Jetpack Instant Search and WooCommerce Analytics.