বরিশাল মহানগর বিএনপিতে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে ৮ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও ঘোষণা করা হয়নি পূর্ণাঙ্গ কমিটি। যে কারণে ব্যাপক ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করছেন মহানগর বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
প্রথমে ২০২৪ সালের ৭ জুলাই মনিরুজ্জামান খান ফারুককে আহ্বায়ক, আফরোজা খানম নাসরিনকে যুগ্ম আহ্বায়ক ও জিয়া উদ্দিন সিকদারকে সদস্য সচিব করে তিন সদস্যের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর ৪ নভেম্বর এই তিন নেতাকে একই পদে রেখে ৪২ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় বিএনপি। কমিটি ঘোষণার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার কথা থাকলেও ৮ মাস পার হয়ে গেলেও মহানগর বিএনপির নেতৃত্বে তিন ভাগে বিভক্তি থাকায় এখনও প্রকাশ পায়নি পূর্ণাঙ্গ কমিটি। যার ফলে দলীয় কোন্দল চরম আকার ধারণ করেছে। দলীয় কর্মসূচির ক্ষেত্রেও বর্তমান ও সাবেকরা কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়ে পৃথক পৃথকভাবে পালন করায় বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির একাধিক নেতা জানান, যোগ্য নেতৃত্ব না থাকায় কেউ কাউকে মানছেন না। অতীতে হেভিওয়েট নেতাদের ভুলের মাশুল গুনতে হচ্ছে বর্তমানে। এ নিয়ে সম্প্রতি বিএনপির স্থানীয় একাধিক নেতা অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। বর্তমান কমিটি কাউন্সিল প্রশ্নে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশনা মানছেন না বলে অভিযোগ করে আসছেন বর্তমান ও সাবেক নেতারা।
সার্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বর্তমানে মহানগর বিএনপি প্রধানত তিন ধারায় বিভক্ত। বর্তমান আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের একটি অংশ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা নাসরিনসহ অপর যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্যদের একটি অংশ এবং মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মীর জাহিদুল কবির জাহিদের একটি অংশ।
দলীয় সূত্র জানায়, মহানগর বিএনপির কোন্দল দেখা দেওয়ায় গত বছরের ২৫ নভেম্বর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা আসে কেন্দ্র থেকে। ঐ চিঠিতে ৯০ দিনের মধ্যে সম্মেলন শেষ করে কমিটি চূড়ান্ত করার নির্দেশ দেয় কেন্দ্র। পুরো বিষয়টি সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় দলের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টুকে। কিন্তু প্রস্তুতির শুরুতেই দেখা দেয় নেতৃত্বের কোন্দল। ৩০ নভেম্বর দলীয় কার্যালয়ে সভা আহ্বান করা হলেও অনুপস্থিত থাকেন অধিকাংশ সদস্য। সেখানে মহানগরের ৩০টি ওয়ার্ড কমিটি ভেঙে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি করার প্রস্তাব করেন সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার। সরাসরি সেই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন। এরপর বিরোধ চরম আকার ধারণ করলে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি বরিশাল মহানগর বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক করা হয় সাবেক ছাত্রনেতা বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুনকে। ইতিমধ্যে আব্দুল আউয়াল মিন্টু, হাসান মামুন এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমানসহ মহানগর বিএনপির বিবাদমান নেতৃবৃন্দকে নিয়ে একাধিক বৈঠক করলেও কোনো সুরাহা হয়নি। সর্বশেষ গত সপ্তাহে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক ও সদস্যসচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় মহানগর বিএনপির বিলুপ্ত ৩০টি ওয়ার্ডের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের লক্ষ্যে যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্যদের সমন্বয়ে আটটি টিম গঠন করা হয়েছে। টিমগুলোর দায়িত্বে রয়েছেন মোট ৩৯ নেতা। ঐ দিনই পালটা বিজ্ঞপ্তিতে মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন জানান, মহানগরের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন হাসান মামুন। হাসান মামুনের অনুপস্থিতিতে ওয়ার্ড কমিটি করার লক্ষ্যে টিম গঠন করায় আমরা হতবাক হয়েছি। সঙ্গে সঙ্গে সবার প্রত্যাশা পূরণ করতে মহানগরের ৩০টি ওয়ার্ড কমিটি করার ক্ষেত্রে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির মাধ্যমে টিম গঠন করতে হবে। এই টিম তারা মানেন না।
সভা শেষে কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান জানান, বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল, পদ-পদবি নিয়ে মতানৈক্য থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বৈঠকে মহানগর বিএনপির বিবাদমান নেতৃবৃন্দ তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী ওয়ার্ডগুলোতে কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠনের পর কাউন্সিলের মাধ্যমে মহানগর বিএনপি গঠিত হবে প্রশ্নে সকলেই ঐক্যমত পোষণ করেন। সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক হাসান মামুন জানান, বরিশাল মহানগর বিএনপির সার্বিক পরিস্থিতি তিনি ও দায়িত্বশীলরা ওয়াকিবহাল রয়েছেন। যথাসময়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং সকলকে আনুষ্ঠানিকভাবেই তা অবহিত করা হবে।
নাসরিনসহ অপর নেতৃবৃন্দের চাপে ঢাকায় শুক্রবারের বৈঠকের পর ফারুক-জিয়া বিরোধীদের মধ্যে স্বস্তি এসেছে। ঢাকায় বৈঠকে থাকা একাধিক নেতা ও মাঠ পর্যায়ের একাধিক নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ গণমাধ্যম কর্মীদের মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানিয়ে কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ কঠোর অবস্থানে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক জানান, সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক হাসান মামুন ঢাকায় বৈঠক করে জানিয়েছেন তিনি উপস্থিত থেকে কমিটি করবেন আমরা সে অপেক্ষায় আছি। আমাদের মধ্যে কোনো কোন্দল নেই। একইভাবে সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার বলেন, ‘মহানগর বিএনপিতে কোনো কোন্দল নেই।’
মহানগর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব ও ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন জানান, মহানগর আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের স্বেচ্ছাচারিতার ফলে কোন্দল সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ওয়ার্ড কমিটি গঠনের লক্ষ্যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশনা অনুযায়ী কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠনের লক্ষ্যে হাসান মামুনকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। তিনি এসে কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠন করবেন এবং সকলেই তাকে সহযোগিতা করবে বলেও জানান তিনি।
কিন্তু এত কিছুর পরও বিবাদমান পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমান কমিটির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক ও সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদারের সঙ্গে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা নাসরিনসহ অপর যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্যদের বিরোধ চরম আকার ধারণ করায় এবং তাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও নেতৃত্ব সংকট থাকায় কেউ কাউকে মানছেন না। অন্যদিকে, পদ-পদবি পেতে জোট বেঁধেছেন বরিশাল মহানগর বিএনপির সাবেক নেতারা। মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মীর জাহিদুল কবির জাহিদের নেতৃত্বে সাবেক বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল নেতৃবৃন্দ জোট বেঁধে দলের কার্যক্রম পরিচালিত করছেন দীর্ঘদিন ধরে। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক এমপি মজিবর রহমান সরোয়ারের অনুসারীরা। জানা গেছে, মহানগর বিএনপির বর্তমান কমিটির ওপর তাদের ক্ষোভের কারণেই এ বিভক্তি। দীর্ঘ ৩০ বছর বরিশাল বিএনপির নেতৃত্বে ছিলেন মজিবর রহমান সরোয়ার। এ সময়কালে বরিশাল বিএনপিতে সরোয়ার অনুসারী একটি বৃহৎ নেতা-কর্মী-সমর্থক গোষ্ঠী তৈরি হয়। কিন্তু ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলে সরোয়ার কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হন। এরপর ২০২১ ও ২০২৪ সালে বরিশাল মহানগর বিএনপির দুটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন হলেও ঐ দুই কমিটিতেই সরোয়ারের অনুসারীদের বাদ দেওয়া হয়। সরোয়ারের বিপুল কর্মী-সমর্থক ও বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ সাবেক সদস্য সচিব মীর জাহিদের সঙ্গে সমন্বয়ে রাজনীতির মাঠে ঐক্যবদ্ধ হওয়ায় বরিশালের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের সৃষ্টি হয়েছে।
বরিশাল মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মীর জাহিদুল কবির জাহিদ জানান, তিনি মহানগর ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি ও সে সময়ের ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীরা বর্তমান কমিটির কার্যক্রমে হতাশ। কেননা দলে হাইব্রিড, অনুপ্রবেশকারীদের নানাভাবে পদ-পদবি দিয়ে ত্যাগীদের অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। ফলে মহানগর বিএনপিতে নেতৃত্ব সংকট দেখা দিয়েছে। সেজন্য সাবেক ও বর্তমান ত্যাগী নেতারা ঐক্যবদ্ধভাবে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় ও বর্তমানে দলের বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। তিনি আরও জানান, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি যখন সদস্য সচিব ছিলেন তখন ওয়ার্ড কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সাবেক ছাত্রনেতাদের প্রাধান্য দিয়েছিলেন। সাবেক ছাত্রনেতাদের ওয়ার্ড কমিটিতে রাখার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বর্তমানে তাদেরকে বাদ দিয়ে অনুপ্রবেশকারীদের দিয়ে ব্যক্তিগত ফায়দা হাসিলের চেষ্টা চলছে যা সাধারণ নেতাকর্মীরা মেনে নিবেন না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মহানগর বিএনপির একাধিক তৃণমূল নেতাকর্মী জানান, তিন ধারায় নেতৃত্ব বিভক্ত হওয়ার কারণে ব্যাপক দলের মধ্যে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে যা দলীয় প্রোগামে দৃশ্যমান। বিভক্তির কারণে বেশিরভাগ প্রোগামেই ঝামেলা হয় যা মোটেই কাম্য নয়। সামনে নির্বাচন আর এখন যদি এমন চলে তাহলে নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব পরবে বলে মনে করেন তারা।
তৃণমূল নেতাকর্মীরা আরও জানান- দ্রুত সময়ের মধ্যে যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা না হলে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল আরও বাড়বে। এতে করে তৃণমূল নেতাকর্মীরা দলের উপর থেকে ভরসা হারিয়ে ফেলবে। সর্বপরি এ সকল বিষয়ের সমাধান না হলে দলের অপূরণীয় ক্ষতি হবে। তাই দলের স্বার্থে দ্রুত সময়ের মধ্যে বরিশাল মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের আহবান জানিয়েছেন তারা।
উল্লেখ্য, বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আব্দুল আউয়াল মিন্টুকে ২৫ নভেম্বর কেন্দ্রের দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে মহানগরসহ বিভাগের ৮টি সাংগঠনিক কমিটির সম্মেলন করতে হবে। সম্ভাব্য কমিটিতে প্রত্যাশিত পদ নিয়ে মহানগর বিএনপির ৩টি গ্রুপ আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে অবস্থানে নিয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকটি অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে।
ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
প্রতারণার মামলায় জামিন পাওয়ার প্রায় দেড় ঘণ্টার মধ্যেই ঝালকাঠিতে সোহাগ মোল্লা ওরফে মোল্লা শাওনকে ফের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে পৃথক দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঝালকাঠি শহরের প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। বিষয়টি ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, মোল্লা শাওনের বিরুদ্ধে প্রতারণা, মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানোর চেষ্টা, অর্থ আত্মসাৎ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে ঝালকাঠি সদর থানায় একটি মামলা রয়েছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর মো. আজাদ খান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ২১১ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে অভিযোগ করা হয়েছে, পুলিশের এক এএসআইকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ফাঁসানোর চেষ্টা এবং একজনকে দিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করানোর ঘটনায় মোল্লা শাওনের সংশ্লিষ্টতা ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্তাধীন।
এদিকে, ২০২৩ সালেও ঝালকাঠির রাজাপুরে সাংবাদিক পরিচয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে মোল্লা শাওনকে আটক করে পুলিশ আদালতে পাঠিয়েছিল বলে সে সময়ের সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ওই ঘটনায় একজন ভুক্তভোগী প্রতারণার মামলা করেছিলেন।সাম্প্রতিক আরেকটি মামলায় মোল্লা শাওনকে বিএনপি নেত্রীকে মারধর এবং বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাকে জেলা বঙ্গবন্ধু ছাত্র-যুব প্রজন্ম লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের বাংলা বিভাগের বন্ধন বিতর্ক ও সাংস্কৃতিক ক্লাবের (বিডিসিসি) ২০২৬-২৭ সেশনের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সভাপতি পদে মো. আতিকুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. রিয়াদুল ইসলাম রিয়াদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ক্লাবের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। নবনির্বাচিত সভাপতি আতিকুর রহমান বাংলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এবং সাধারণ সম্পাদক রিয়াদুল ইসলাম রিয়াদ ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
ক্লাবের গঠনতন্ত্রের ষষ্ঠ অধ্যায়ের ২৩-৪ (খ) ধারা অনুযায়ী, শীর্ষ তিন পদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন বাংলা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. নেয়ামাতুল্লাহ।
ক্লাবের সাবেক সভাপতি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, মডারেটর, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের যৌথ স্বাক্ষরে নতুন কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আব্দুর রহমান সরদার বলেন, শিক্ষার্থীদের চিন্তা, আবেগ ও অনুভূতি সুস্পষ্টভাবে প্রকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম বিতর্ক। শিক্ষার্থীরা যাতে সুষ্ঠু পরিবেশে বিতর্কচর্চার সুযোগ পায়, সে লক্ষ্যেই তাঁদের উদ্যোগে ও তাঁর অনুপ্রেরণায় এই বিতর্ক সংসদ গড়ে উঠেছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, বন্ধন বিতর্ক ও সাংস্কৃতিক ক্লাব শিক্ষার্থীদের মেধা ও মনন বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলা বিভাগ ও কলেজের সুনাম বৃদ্ধি করবে।
নবনির্বাচিত সভাপতি মো. আতিকুর রহমান বলেন, ‘বন্ধন বিতর্ক ও সাংস্কৃতিক ক্লাবের সভাপতি হিসেবে আমাকে নির্বাচিত করায় সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা জানাচ্ছি। আমি মনে করি, এই দায়িত্ব কোনো পদ নয়, এটি একটি আমানত। বন্ধন শুধু একটি ক্লাব নয়, এটি আমাদের সবার। তাই সবার সহযোগিতা, পরামর্শ ও ভালোবাসা নিয়েই আমরা এই ক্লাবকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাব, ইনশাআল্লাহ।’
সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও লেখক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিনের লেখা ‘অগ্নিবীজ থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ বই নিয়ে পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় কলেজের মুক্তমঞ্চে ব্রজমোহন বই-বন্ধু সংগঠনের উদ্যোগে এ পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হয়।
পাঠচক্রে বইটির লেখক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বইটি রচনার প্রেক্ষাপট, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে পাঠকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। পাশাপাশি বইটির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং উপস্থিত পাঠকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
পাঠচক্রটি সঞ্চালনা করেন ব্রজমোহন বই-বন্ধুর সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সজিব। তাঁর সঞ্চালনায় লেখক, শিক্ষার্থী ও পাঠকদের অংশগ্রহণে বইটির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা, মতবিনিময় ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে ব্রজমোহন বই-বন্ধুর সভাপতি মুহাম্মাদ ইয়ামিন বইটির ওপর আলোচনা করেন। তিনি বইটির বিষয়বস্তু ও প্রেক্ষাপট নিয়ে নিজের পাঠ-অনুভূতি তুলে ধরার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য বই পড়া ও পাঠচর্চার গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেন।
এ সময় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সজিব বইটির বিভিন্ন দিক ও ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বই নিয়ে সম্মিলিতভাবে আলোচনা ও মতবিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পাঠচক্রে লেখকের বক্তব্যের পাশাপাশি উপস্থিত শিক্ষার্থী ও পাঠকদের অংশগ্রহণে বইটির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়। লেখকের সরাসরি উপস্থিতিতে পাঠকদের সঙ্গে এমন মতবিনিময় বইটির বিষয়বস্তু ও প্রেক্ষাপট আরও গভীরভাবে বোঝার সুযোগ তৈরি করে।
ব্রজমোহন বই-বন্ধু ৪ মার্চ ২০২৪ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা ও জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সংগঠনটির কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে বিনামূল্যে বই পড়ার সুযোগ, পাঠচক্র, কুইজ প্রতিযোগিতা ও বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক আলোচনা সভা। এসব আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বইয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা এবং ক্যাম্পাসে পাঠচর্চার পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে সংগঠনটি।
আয়োজকরা জানান, বইকে কেন্দ্র করে নিয়মিত আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠের আগ্রহ আরও বাড়বে। পাঠচক্র জ্ঞানকে বিকশিত করে এবং চিন্তার পরিধি বিস্তৃত করে। ভবিষ্যতেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বই নিয়ে পাঠচক্রসহ জ্ঞান ও সাহিত্যভিত্তিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশে বড় রদবদল নিয়ে এসেছে সরকার। ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি এবং পুলিশ সুপার পর্যায়ের মোট ৩১ জন কর্মকর্তা পাচ্ছেন নতুন দায়িত্ব।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনে এ পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি হাবিবুর রহমান খানকে পুলিশের ট্রাফিক অ্যান্ড ড্রাইভিং স্কুলে (টিডিএস) কমান্ড্যান্ট, সুপারনিউমারারি ডিআইজি হিসেবে পদোন্নতি পাওয়া মোহাম্মদ এনামুল হককে সিলেট মহানগর থেকে খাগড়াছড়ি এপিবিএন ও বিশেষ ট্রেনিং সেন্টারে এবং ওই পদে থাকা পরিতোষ ঘোষকে পার্বত্য জেলা এপিবিএন কার্যালয় বদলি করা হয়েছে।
এছাড়া স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) অতিরিক্ত ডিআইজি আনিছুর রহমানকে খুলনা রেঞ্জে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ওএসডি হিসেবে থাকা অতিরিক্ত ডিআইজি গিয়াস উদ্দিন আহমদকে রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে।
পাশাপাশি সুপার নিউমারারি হিসেবে পদোন্নতি পাওয়া অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারও রয়েছেন বদলির এই তালিকায়।
ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় সব সমুদ্রবন্দরে জারি করা হয়েছে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এমন পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
এতে বলা হয়— পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে।
এটি আজ সন্ধ্যা ৬ টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৭০ কি.মি. দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৪৫ কি.মি. দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৬৯৫ কি.মি. দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭২০ কি.মি. দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। পরবর্তী ১২ ঘন্টায় আরো পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।
এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কি.মি. এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কি.মি., যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৫০ কি.মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।
এ অবস্থায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
বরিশালের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য উনকোরেক্স। যশোরে অভিযান চালিয়ে পিকআপভ্যান থেকে ২ হাজার ২৫৭ বোতল উনকোরেক্সসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৬-এর যশোর ও ঝিনাইদহের যৌথ দল।
গ্রেপ্তাররা হলেন বরিশাল সদরের হেমায়েত উদ্দীন ও মির্জাগঞ্জ এলাকার সুজন হোসেন।
এসআরবি সূত্র জানায়, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যশোরের চুড়ামনকাটি রেলক্রসিং এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি পিকআপভ্যানে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ উনকোরেক্স উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা জানান, উদ্ধার হওয়া মাদকের চালানটি বরিশালে নেওয়া হচ্ছিল। এতে বরিশালমুখী মাদকের এই চালান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
এসআরবি-৬-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর এটিএম ফজলে রাব্বি প্রিন্স জানান, গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। পরে তাদের যশোর কোতোয়ালী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।
বরিশালকে কেন্দ্র করে মাদকের এই চালানের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বরিশাল নগরীতে স্বামী নুরুজ্জামান হাওলাদার (৫৫) হত্যাকাণ্ডে প্রধান আসামি তার দ্বিতীয় স্ত্রী নাসিমা বেগমকে ঢাকার ভাটারা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বরিশাল এয়ারপোর্ট থানার ওসি (তদন্ত) সুমন কুমার আইচ জানান, নাসিমাকে গ্রেপ্তারের পর রাতেই পুলিশের একটি দল তাকে নিয়ে বরিশালের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইছাকাঠী কলোনির একটি ভাড়া বাসায় নুরুজ্জামানের মরদেহ পাওয়া যায়। পরদিন ভোরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নুরুজ্জামান বরিশাল আদালতের একজন আইনজীবীর সহকারী (মুহুরি) ছিলেন। পাশাপাশি তিনি বরিশাল আইনজীবী সহকারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
দাম্পত্য কলহের পর রহস্যজনক মৃত্যু
স্থানীয় সূত্রের বরাতে পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের আগে কয়েকদিন ধরে নুরুজ্জামান ও নাসিমার মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে দাম্পত্য কলহ চলছিল।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দাম্পত্য কলহের জেরে নুরুজ্জামানকে আঘাতের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এরপর বাসার বাইরে থেকে দরজায় তালা দিয়ে নাসিমা আত্মগোপনে চলে যান বলে পুলিশের দাবি।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই নাসিমা পলাতক ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে ঢাকার ভাটারা এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ।
নিহত নুরুজ্জামান মুলাদী উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নের পূর্ব তয়কা গ্রামের মৃত সাত্তার হাওলাদারের ছেলে। কর্মসূত্রে তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী নাসিমাকে নিয়ে বরিশাল নগরীর ইছাকাঠী এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
হত্যার নেপথ্যে আসলে কী ঘটেছিল—গ্রেপ্তার নাসিমাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে তারই উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) সামনের বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক সংস্কারের কোন কাজ না করায় শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েছেন বরিশাল সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম।
মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিনিধি দল সওজ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে গিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ শুরু না হওয়ার কারণ জানতে চায়। এ সময় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম তাদের তোপের মুখে পড়েন বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত চলতি বছরের ৯ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন দপদপিয়া ব্রিজে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। তার মৃত্যুর পর বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক সংস্কারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
ওই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের সামনে এসে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম লিখিত প্রতিশ্রুতি দেন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সড়কের বিটুমিন উঠে গেলে তা পুনরায় সংস্কার করা, আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে সড়কের দুই পাশে ফুটপাত নির্মাণের কাজ শুরু করা এবং ১০ নভেম্বরের মধ্যে মূল সড়কে আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ করার কথা ছিল। একই সঙ্গে সড়কের দুই পাশে আলোর ব্যবস্থা করারও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আন্দোলনের পর মাত্র একবার সড়কের গর্তগুলো বিটুমিন দিয়ে সংস্কার করা হলেও পরবর্তীতে আর কোনো দৃশ্যমান কাজ হয়নি।
মঙ্গলবার সরেজমিনে দপদপিয়া সেতুর টোল প্লাজা থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ভোলা রোড পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়েছে । বিশেষ করে দপদপিয়া সেতুর ওপর বেশ কয়েকটি বড় গর্ত দেখা গেছে। এতে যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর গেটের সামনেও ড্রেনে পানি জমে থাকতে ও অসংখ্য ছোট বড় গর্ত দেখা যায়।
স্থানীয় ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ করে বলছে , সড়কের খানাখন্দের কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। গত এক মাসে প্রায় পাঁচটি থ্রি-হুইলার উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে তারা জানান। এসব ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি দলের সদস্য মো. রাজীব বলেন, কথা ছিল আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে সকল প্রক্রিয়া শেষ করে রাস্তার দুই পাশে ফুটপাত নির্মাণের কাজ শুরু করতে হবে, পাশাপাশি ১০ নভেম্বরের ভিতর আরসিসি ঢালাই ও সড়কের পাশে আলোর ব্যবস্থা করতে হবে। এই কাজের তদারকি করার জন্য সড়ক জনপদের কর্মকর্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটা প্রতিনিধি টিম গঠন করা হয়। আমরা দেখেছি তাদের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক কোন কাজই হচ্ছে না। এখনো পর্যন্ত কোন কাজের টেন্ডারই করতে পারিনি। তাহলে তারা কিভাবে নির্ধারিত সময়ের ভিতরে কাজ শুরু করবে? তাদের কাজের সময় পার হচ্ছে যাচ্ছে সেটা জানান দিতেই আজ এখানে আসা।
আরেক সদস্য মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, সড়ক ও জনপদের কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম বলেছিল রাস্তায় যতবার গর্ত হবে ততবার সেটা বিটুমিন দিয়ে সংস্কার করে দিবে। কিন্তু নামে মাত্র একবার সংস্কার করে দিয়েই সড়ক ও জনপদের লোক হাওয়া হয়ে গেছে। রাস্তায় অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়েছে প্রতিদিনই কোন না দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের রাস্তায় দুরবস্থার কারণে আমরা মাইশা, ইয়াসিন আরাফাতকে হারিয়েছি। এখন আর কত লাশ দিলে এই রাস্তার সংস্কার হবে? লিখিত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত সড়ক সংস্কার, ফুটপাত নির্মাণ, আরসিসি ঢালাই ও সড়কের পাশে আলোর ব্যবস্থা করার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্যই এখানে আসা।
অপর দিকে বরিশাল সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে ফুটপাত নির্মাণ, আরসিসি রোড নির্মাণ, সড়কে লাইটের ব্যবস্থা করা। সে ব্যাপারে একটা প্রস্তবনা ইতিমধ্যে প্রেরণ করা হয়েছে। সেটা যদি অনুমোদন হয় তাহলে আমরা অতিশীগ্রই নতুন দরপত্র আহ্বান করে এই কাজগুলো করতে পারবো। তবে কবে নাগাত এই কাজ শুরু করতে পারবো সেটা বলতে পারছি না।
আমতলী প্রতিনিধি, বরগুনা | 21 September 2026, 9:29 pm
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক প্রতিরোধ জোরদার এবং শিশুদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বরগুনার আমতলী উপজেলাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাল্যবিবাহমুক্ত উপজেলা ঘোষণা করা হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় আমতলী উপজলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ফিতা কেটে ও ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে আমতলীকে বাল্যবিবাহ মুক্ত উপজেলা ঘোষণা করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মো. হাফিজুর রহমান।
ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, আমতলী এপির সহযোগিতায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নজরুল স্মৃতি সংসদ (এনএসএস) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
এনএসএসের মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন কর্মকর্তা ও সাংবাদিক মো. জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনএসএসের নির্বাহী পরিচালক ও সিনিয়র সাংবাদিক অ্যাডভোকেট শাহাবুদ্দিন পান্না। তিনি অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের বরিশাল এপিসিওর সিনিয়র ম্যানেজার স্টিফেন হালদার রুবেন, টেকনিক্যাল স্পেশালিস্ট মো. হুমায়ুন কবির এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, আমতলী এপির এরিয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার বিভুদান বিশ্বাস।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) সনঞ্জয় কুমার দত্ত, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রূপকুমার পাল, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রাসেল, উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. মনিরুল হক, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল আলম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রুনু বেগম, উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলী, উপজেলা মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম মাহমুদ সেলিম এবং আমতলী পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশিদ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন ফকির, সাবেক সদস্য সচিব মো. তুহিন মৃধা, আমতলী প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক মো. রেজাউল করিম বাদল, সুশাসনের জন্য নাগরিক—সুজনের আমতলী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু জিহাদ, আমতলী প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহসীন মাতুব্বর, গণমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মী আবদুর রহমান সালেহ, সাংবাদিক নাসরিন সুলতানা সিপু ও শিউলী মালাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ইমাম, পুরোহিত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, এনজিও প্রতিনিধি, ইয়ুথ ও চাইল্ড ফোরামের সদস্য, ভিডিএস সদস্য এবং এনএসএস ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের আমতলী এপির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ধারাবাহিক কার্যক্রম
অনুষ্ঠানে এনএসএস আমতলীর প্রোগ্রাম ম্যানেজার মৃদুল সরকার বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বিগত সময়ে পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রম, জনসচেতনতামূলক উদ্যোগ, সামাজিক সম্পৃক্ততা ও অর্জন নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। প্রেজেন্টেশনে বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব, শিশুদের শিক্ষা ও অধিকার সুরক্ষা, পরিবার ও সমাজের ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ শুধু একটি পারিবারিক বা সামাজিক সমস্যা নয়; এটি শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক বিকাশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। বাল্যবিবাহের কারণে বিশেষ করে কন্যাশিশুদের শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অল্প বয়সে মাতৃত্বের কারণে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ফলে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং তরুণ সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
‘সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি। এটি বন্ধ করতে শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়; পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন, গণমাধ্যমসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”
তিনি বলেন, আমতলীকে বাল্যবিবাহমুক্ত রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। কোথাও বাল্যবিবাহের আয়োজন বা বাল্যবিবাহ সংঘটিত হওয়ার খবর পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে শাহাবুদ্দিন পান্না বলেন, একটি শিশুর শিক্ষা, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও স্বাভাবিক বিকাশের অধিকার নিশ্চিত করা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত দায়িত্ব। বাল্যবিবাহ বন্ধ করা গেলে মেয়েদের বিদ্যালয়ে অবস্থান ও শিক্ষার সুযোগ বাড়বে, অল্প বয়সে মাতৃত্বজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি কমবে এবং পরিবার ও সমাজে একটি শিক্ষিত, দক্ষ ও সচেতন প্রজন্ম গড়ে উঠবে।
বক্তারা বলেন, শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মধ্যেই বাল্যবিবাহমুক্ত উপজেলার কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। ঘোষণাটিকে কার্যকর ও টেকসই করতে নিয়মিত নজরদারি, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বিদ্যালয়ভিত্তিক কার্যক্রম, পরিবারকে সম্পৃক্ত করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক প্রতিরোধ আরও জোরদার করতে হবে।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, এনজিও, গণমাধ্যম, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, অভিভাবক, তরুণ সমাজ ও শিশু প্রতিনিধিরা আমতলীকে বাল্যবিবাহমুক্ত রাখার বিষয়ে সম্মিলিত অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
অংশগ্রহণকারীরা বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা, কোনো শিশুর বাল্যবিবাহের আয়োজনের খবর পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা এবং শিশুদের শিক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করতে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তাদের প্রত্যাশা, প্রশাসন, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমতলী উপজেলার বাল্যবিবাহমুক্ত ঘোষণাটি একটি টেকসই সামাজিক উদ্যোগে পরিণত হবে এবং ভবিষ্যতেও আমতলী বাল্যবিবাহমুক্ত উপজেলা হিসেবে তার অবস্থান ধরে রাখবে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপকের ছেলে অপ্রতিম হত্যার ক্লু শনাক্ত করা এবং প্রকৃত হত্যাকারীকে গ্রেফতার না করা পর্যন্ত এ ঘটনায় ননস্টপ কাজ করে যাবেন বলে জানিয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
পুলিশ সুপার বলেন, কিছু তথ্যপ্রযুক্তিগত বিষয়সহ তদন্তের জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন। ঘটনাটি সবাইকে কাঁদিয়েছে। ছোট্ট নিষ্পাপ একটি শিশুর সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, ঘটনার মোটিভসহ সবকিছু খুব শিগগিরই তদন্ত করে জানানো হবে।
এ ঘটনায় আটক একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আটক ব্যক্তির মোবাইল, প্রযুক্তিগত তথ্য, লোকেশন এবং অপ্রতিমের অবস্থান—সবকিছু মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। যাকে আটক করা হয়েছে, সে নির্দোষও হতে পারে, আবার জড়িতও হতে পারে। তাই তদন্তের এ পর্যায়ে মূল হত্যাকারীরা যেন কোনো তথ্য পেয়ে আত্মগোপনে যেতে না পারে, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই কাজ করা হচ্ছে।
এদিকে, আজ অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে তার মা বলছিলেন, আমার ছোট্ট ছেলে কী অন্যায় করেছে, আমি এটার জবাব চাই। আমি কোনো বিচার মানিনা। আমাকে উত্তর দিতে হবে।
প্রসঙ্গত, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যায়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে অপ্রতিমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী জঙ্গল লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
এর আগে, শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হয়ে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। পরে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।