বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের শিক্ষার্থীরা পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদে কলেজের সামনে থেকে প্রায় শতাধিক অটোরিকশা আটক করেছে। রবিবার (২৮ জুন) সকাল থেকে এ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রুটে কোনো সরকারি ঘোষণা ছাড়াই অটোরিকশার ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। আগে যেখানে ৫ টাকার ভাড়া নেওয়া হতো, সেখানে বর্তমানে ১০ টাকা এবং ১০ টাকার ভাড়ার পরিবর্তে ১৫ টাকা আদায় করা হচ্ছে। এছাড়াও বিভিন্ন রুটে ইচ্ছেমতো অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার সকাল থেকে কলেজের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারী প্রায় শতাধিক অটোরিকশা আটক করে কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরে নিয়ে যান শিক্ষার্থীরা।
পরে কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ও অটোরিকশা চালকদের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ভাড়া প্রত্যাহারের জন্য ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভাড়া কমানো না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
শিক্ষার্থী প্রতিনিধি আবির সিকদার বলেন, “আমরা কোনো অযৌক্তিক দাবি করছি না। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে আগের ভাড়া পুনর্বহাল করতে হবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কার্যকর সিদ্ধান্ত না এলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
আরেক শিক্ষার্থী লাবণ্য রহমান বলেন, “প্রতিদিন অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে কলেজে আসা-যাওয়া করতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
অটোরিকশা চালক আব্দুল মালেক বলেন, “জ্বালানি, বিদ্যুৎতের দাম বৃদ্ধি, যন্ত্রাংশ ও দৈনন্দিন খরচ বেড়েছে। সে কারণেই অনেক চালক বেশি ভাড়া নিচ্ছেন। তবে আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান হলে আমরা তা মেনে চলব।”
আরেক চালক মো. সোহেল জানান, “আমরাও চাই যাত্রীদের সঙ্গে কোনো বিরোধ না থাকুক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলার চেষ্টা করব।”
এ ঘটনায় কলেজ ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় কিছু সময়ের জন্য অটোরিকশা চলাচল ব্যাহত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।