নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে পালিত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬।
সকাল ১০টায় কলেজ ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্ট থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় জিরো পয়েন্টে এসে শেষ হয়। এতে অংশ নেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. শেখ মো. তাজুল ইসলাম, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি প্রফেসর গোলাম রাব্বি, কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

র্যালি শেষে অধ্যক্ষের নেতৃত্বে উপস্থিত সবাই কলেজের লাইব্রেরি ভবনে স্থাপিত ‘জুলাই ২০২৪ স্মৃতি জাদুঘর’ পরিদর্শন করেন। এ সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ সরকারি বিএম কলেজের একমাত্র শিক্ষার্থী মো. তাহিদুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত আলোকচিত্র ও তাঁর ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী দেখে উপস্থিতরা আবেগাপ্লুত হন।
জাদুঘর পরিদর্শন শেষে শিক্ষক সম্মেলন কক্ষে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ উপলক্ষে স্মৃতিচারণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. শেখ মো. তাজুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ বিএম কলেজের শিক্ষার্থী তাহিদুল ইসলামের পিতা আবদুল মান্নান সরদার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি প্রফেসর গোলাম রাব্বি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. শেখ মো. তাজুল ইসলাম বলেন, “আজ আমাদের বাংলাদেশের জীবনে একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। কারণ, একাত্তরের স্বাধীনতা অর্জনের পরও বিভিন্ন সময়ে আমাদের নানা আগ্রাসী শক্তির প্রভাবের মুখে পড়তে হয়েছে। দেশের অবস্থা একসময় করদ রাজ্যের মতো হয়ে গিয়েছিল। সেই দুর্বিষহ অবস্থা থেকে মুক্তি এনে দেয় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার সফল আন্দোলন। আজ প্রয়োজন জুলাইয়ের যোদ্ধাদের মধ্যে ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং জুলাইয়ের চেতনাকে আরও শাণিত করা, যাতে ভবিষ্যতে কোনো স্বৈরাচারী শক্তি কিংবা কোনো বিদেশি অপশক্তি এ দেশে আধিপত্য বিস্তার করতে না পারে।”

স্মৃতিচারণ পর্ব শেষে যোহরের নামাজের পর বিএম কলেজ কেন্দ্রীয় মসজিদে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬-এর কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।