কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে পুলিশের গুলিতে ঢাকা টাইমসের হাসান মেহেদীসহ চার সাংবাদিক নিহতের বিচারের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে সাংবাদিক সমাজ। শুক্রবার (২ আগস্ট) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এতে বক্তারা বলেন, সাংবাদিকরা কোনও পক্ষের হয়ে কাজ করে না। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার জন্য সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দেয়া প্রয়োজন। পেশাগত কাজের সময় সাংবাদিকরা প্রতিনিয়ত হামলার শিকার হচ্ছেন।
তারা আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আন্দোলনকারীরা সাংবাদিকদের আক্রমণ করছে। এতে চারজন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া, দুই শতাধিক সাংবাদিক আহত হয়েছেন। এসব ঘটনার সাথে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনার দাবিও জানান সাংবাদিকরা।
দেশে জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর পর বরিশালসহ বিভিন্ন এলাকার পরিবহন ব্যয় ও যাত্রীভাড়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সরকার নির্ধারিত নতুন দাম ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) প্রকাশিত সরকারি প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, ডিজেল প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে দাম ছিল যথাক্রমে ১১৫, ১৪০, ১৪৫ ও ১৩৫ টাকা।
জ্বালানির দাম বাড়লে যানবাহন পরিচালনার খরচের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। তবে বরিশালের কোনো নির্দিষ্ট রুটে ভাড়া কতটা পরিবর্তিত হয়েছে, সে বিষয়ে এই প্রতিবেদনের জন্য পরিবহন কর্তৃপক্ষের হালনাগাদ ঘোষণা বা স্বাধীন মাঠতথ্য সংগ্রহ করা হয়নি। তাই কোনো নির্দিষ্ট ভাড়া বৃদ্ধির দাবি করা হচ্ছে না।
২১ সেপ্টেম্বরের সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, অতিরিক্ত পরিবহনভাড়া আদায় ও কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো কাজ করছে। ভাড়া সংক্রান্ত নতুন সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হলে যাত্রীদের তা যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।
বরিশাল–ঢাকা মহাসড়কের গৌরনদী অংশে খানাখন্দ ও ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ইট-বালু দিয়ে সংস্কারের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে প্রকাশিত একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সড়কের অবস্থা ও সংস্কারপদ্ধতি নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ উঠে এসেছে।
৯ সেপ্টেম্বর কালবেলার প্রতিবেদনে গৌরনদী অংশে বিটুমিনের পরিবর্তে ইট-বালু দিয়ে সড়ক সংস্কারের কথা জানানো হয়। প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদনে ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদীর ভূরঘাটা থেকে উজিরপুরের জয়শ্রী পর্যন্ত সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশের কথা উঠে এসেছে।
মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে সাময়িক সংস্কার ও দীর্ঘমেয়াদি মেরামতের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। চলাচলের উপযোগী রাখতে জরুরি কাজের পাশাপাশি কোন অংশে স্থায়ী সংস্কার প্রয়োজন, সে বিষয়ে স্পষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করা হলে যাত্রীরা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে পারবেন।
২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট অংশের সব সংস্কারকাজ শেষ হয়েছে কি না, তা এই প্রতিবেদনের জন্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বরিশাল মহানগরে লাইসেন্সবিহীন অটোরিকশা চলাচল, যাত্রীভাড়া ও যানজট নিয়ে আলোচনা চলছে। ২৯ জুন নগর ভবনে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় বিদ্যমান থ্রি-হুইলার ভাড়া বহাল রাখা এবং লাইসেন্সবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযানের সিদ্ধান্ত নেয় বরিশাল সিটি করপোরেশন।
ঢাকা পোস্টের ২৯ জুনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সভায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অন্যদিকে ১৯ সেপ্টেম্বর কালবেলার প্রতিবেদনে নগরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার কারণে যানজট ও ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগের কথা উঠে এসেছে।
যানবাহন নিয়ন্ত্রণের আলোচনায় চালক ও যাত্রী উভয়ের প্রয়োজন বিবেচনা জরুরি। কোন যানবাহনের লাইসেন্স রয়েছে, কোন রুটে কতটি গাড়ি চলতে পারবে এবং অনুমোদিত ভাড়া কী—এসব তথ্য প্রকাশ্যে থাকলে যাত্রী ও চালক উভয়ের জন্য নিয়ম বোঝা সহজ হবে।
যৌথ অভিযান কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে এবং বর্তমানে কতটি অটোরিকশার বৈধ অনুমোদন রয়েছে, সে বিষয়ে এই প্রতিবেদনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নতুন বক্তব্য সংগ্রহ করা হয়নি।
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরিশাল। | 25 September 2026, 7:59 am
বরিশাল নগরীর রাহাত আনোয়ার হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের পর নাজিয়া মাইশা নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় চিকিৎসক ডা. তহুরার বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন নিহতের স্বজনরা। তাঁদের দাবি, তাড়াহুড়ো করে অস্ত্রোপচার করার সময় জটিলতা সৃষ্টি হলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মাইশার মৃত্যু হয়।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। নিহত নাজিয়া মাইশা বরিশাল নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। বিয়ের মাত্র এক বছরের মাথায় প্রথম সন্তানের জন্ম দিতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সন্তান প্রসবের জন্য নাজিয়া মাইশাকে রাহাত আনোয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসক ডা. তহুরার তত্ত্বাবধানে তাঁর সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। স্বজনদের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের সময় মাইশার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
পরিবারের দাবি, অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁদের জানায়, মাইশার হৃদ্স্পন্দন রয়েছে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে দ্রুত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন। পরে তাঁকে সেখানে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলেছেন নিহতের স্বজনরা। তাঁদের দাবি, অস্ত্রোপচারের সময় যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করা হলে এমন পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতো।
তবে নাজিয়া মাইশার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসায় কোনো ধরনের গাফিলতি হয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে রাহাত আনোয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিংবা অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. তহুরার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দায়িত্ব পালনরত এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এ সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র এখনো তাঁদের কাছে পৌঁছায়নি। কাগজপত্র পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নবজাতকের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
নাজিয়া মাইশার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা বা ত্রুটি ছিল কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের আয়োজনে পেশা উন্নয়নবিষয়ক আলোচনা, আন্তঃবিভাগ পরিচিতি সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘ম্যানেজমেন্ট ফেস্ট ৩.০’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিনব্যাপী এ আয়োজনে ক্যারিয়ার গঠন, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এতে ব্যবস্থাপনা বিভাগের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণির বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক কামরুননেছার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শেখ মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। এ সময় বিভাগের শিক্ষক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
অধ্যাপক ড. শেখ মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগ। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এআইসহ নতুন নতুন প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। সারাদিন ফেসবুকে সময় নষ্ট না করে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সময় দিতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখন ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শুধু পেশাগত দক্ষতা অর্জন করলেই চলবে না, এর পাশাপাশি সততা, দেশপ্রেম ও নৈতিকতার চর্চাও করতে হবে। তোমরা ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী। আশা করি, নিজেদের বিষয় ভালোভাবে রপ্ত করে দক্ষ ব্যবস্থাপক হিসেবে গড়ে উঠবে। তোমাদের দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশ ও জাতি এগিয়ে যাবে।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক কামরুননেছা বলেন, বর্তমান করপোরেট জগৎ অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ। শুধু ভালো সিজিপিএ একটি সফল ক্যারিয়ারের নিশ্চয়তা দেয় না। পেশাগত উন্নয়নের জন্য যোগাযোগদক্ষতা, নেতৃত্বদানের ক্ষমতা, দলগত কাজ, সময়ানুবর্তিতা এবং প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। জীবনে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে সততার সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বক্তাদের পরামর্শ নিজেদের জীবনে কাজে লাগাতে না পারলে ক্যারিয়ারে সফলতা অর্জন করা সম্ভব হবে না। শিক্ষার্থীদের যেকোনো সৃজনশীল ও পেশা উন্নয়নমূলক উদ্যোগে বিভাগ সবসময় পাশে থাকবে। নিজেদের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রতিনিয়ত নতুন নতুন দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করতে হবে।
ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী রেদওয়ান আহমেদ অমি বলেন, বিএম কলেজের সবচেয়ে বড় বিভাগ আমাদের ব্যবস্থাপনা বিভাগ। নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি এ ধরনের মিলনমেলা আমাদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে উজ্জীবিত করে এবং মুক্ত আলোচনার সুযোগ তৈরি করে।
আলোচনা পর্ব শেষে বিভাগের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়। পরে বিকাল ৩টায় শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে বিভাগের শিক্ষার্থীরা গান, নৃত্যসহ বিভিন্ন পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। শিক্ষক, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি মিলনমেলায় পরিণত হয়।
বরিশালের হিজলা উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়নের চরছয়গাও গ্রামের এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী অসহায় নারী ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনা ঘটেছে । এ ঘটনায় অসহায় নারীর মা মেহেরাজি বাদি হয়ে ধর্ষণ আইনে হিজলা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে । এতে ঐ এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে ।
জানা গেছে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নারীর বাবা আকু আকনের মৃত্যুর পর বৃদ্ধ মা মেহেরাজি ,মেয়েকে নিয়ে একটি কুড়েঘরে বসবাস করেন । পার্শ্ববর্তী এলাকায় ভিক্ষাবৃত্তি করে কোনোরকমে মেয়েকে নিয়ে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে ।
ওই নারীর গর্ভধারণের বিষয়টি বৃদ্ধ মা টের পাওয়ার পর পর সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা ।
সম্প্রতি মেয়ের শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করার পরে বৃদ্ধ নারী চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলে তার ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বৃদ্ধি প্রতিবন্ধী নারীর মা।
বৃদ্ধ মা মেহেরাজি মেয়েকে নিয়ে বিচারের আশায় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। কিন্তু তার অভিযোগ সহায়তায় এলাকার কেউ এগিয়ে আসেনি।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ভুক্তভোগী নারী ও তার মেয়ের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে । অনেকেই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টায় নানা ভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল ।
এ ঘটনায় সরোজমিনে গেলে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নারী জরিত ফারুক হোসেন নামে একজন মিস্ত্রীর নাম প্রকাশ করেন । তিনি আত্নগোপনে রয়েছে । তাই তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় প্রকৃত বিষয় উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা বাসিন্দারা ।
স্থানীয় হরিনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা ছাত্তার মাঝি বলেন প্রতিবন্ধী নারীর অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে কেউ কোনো ধরনের অনৈতিক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে থাকলে তা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি । একই সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীকে সামাজিকভাবে হেয় না করে তার চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন ।এ ঘটনায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ।
তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং ভুক্তভোগী নারী ও তার অনাগত সন্তানের যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
হিজলা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ সোলায়মান জানান, এই বিষয়ে থানায় একটি মামলা হয়েছে । ভুক্তভোগী নারীকে সর্বাত্মক আইনি সহযোগিতা করা হবে । আসামিদের ধরার জন্য অভিযান চলছে ।
আট বছর হয়ে যাচ্ছে, এখনো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বরিশাল জেলা ও মহানগর যুবদল আহবায়ক কমিটি থেকে পূনার্ঙ্গ কমিটি গঠন হয়নি। ২০১৭ সালে এপ্রিলে কেন্দ্র থেকে বরিশাল জেলা যুবদলের সুপার ফাইভ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর ২০১৮ সালে আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির মেয়াদ তিন বছর থাকলেও অদ্যবদি সম্মেলন বা নতুন কমিটি গঠন করার দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ পরিস্থিতিতে বরিশাল জেলা যুবদলের নতুন কমিটি গঠনের দাবি তুলছেন নেতাকর্মীরা।
নতুন কমিটি গঠনের আলোচনায় রয়েছে নতুন ও পুরানো মুখ। তবে শুনা যাচ্ছে পুরোনোরা এবং নতুনরাই এবার কমিটি প্রাধান্য পাবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। সংগঠনটির অনেকে বলছেন, পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, যুবদলের নেতৃত্বে যুবাদের আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
তবে কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ফের আলোচনায় যুবদলের বরিশাল জেলা ও মহানগর কমিটি গঠন নিয়ে। সরগরম রয়েছে বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গন। নতুন নেতৃত্বে কারা আসছেন, সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে কাদের দেখা যেতে পারে – তা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে ব্যাপক আলোচনা, যোগাযোগ ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে লবিং-তদবির।
দলীয় সূত্র ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় একাধিক নাম ঘুরে ফিরে আসছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো নামই চূড়ান্ত বা আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত নয়। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় যুবদলের সিদ্ধান্তেই নেতৃত্ব নির্ধারিত হবে।
জেলা যুবদলে আলোচনায় যারা:
বরিশাল জেলা যুবদলের নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন অ্যাডভোকেট এইচ এম তসলিম উদ্দিন, মামুন রেজা খান, অ্যাডভোকেট হাফিজ আহমেদ বাবলু, ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুল আলম মিঠু, মো. বেলায়েত হোসেন ও মোঃ হাবিবুল্লাহসহ কয়েকজন। এর মধ্যে অ্যাডভোকেট তসলিম উদ্দিন ২০১৭ সালে বরিশাল দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও হাফিজ আহমেদ বাবলু সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ২০২১ সালে বিপ্লব মারা গেলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হন মামুন রেজা খান। পাশাপাশি এইচ এম তসলিম উদ্দিনের সাংগঠনিক ভূমিকা আরও দৃশ্যমান হয়। ২০২৬ সালের জুনে তিনি কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। ফলে জেলায় তার পদ নিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। তাই ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুল আলম মিঠু সদ্য সাবেক অবিভক্ত জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ)। দলের দুঃসময়ে বরিশাল বিভাগে দায়িত্ব পালন, হামলা-মামলা ও রাজপথে সক্রিয় থাকার কারণে তৃণমূলের আলোচনায় এসেছে। অপরদিকে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হচ্ছেন জেলা যুবদলের (উত্তর) যুগ্ম আহ্বায়ক কায়সার আহমেদ, জেলা দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ আহমেদ বাবলু এবং উত্তরের আহ্বায়ক সালাউদ্দিন পিপলু।
মহানগর যুবদলে পুরোনো-নতুনের প্রতিযোগিতা:
মহানগর যুবদলের সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন মাসুদ হাসান মামুন, অ্যাডভোকেট মাজহারুল ইসলাম জাহান, রেজাউল করিম রনি, আরিফুল ইসলাম মুন্না, আরিফুল ইসলাম জনি, রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ ও মুশফিকুর রহমান অভি। মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান মামুনকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বপদে বহাল রাখা হয়। এর আগে ২০২০ সালে তাকে বহিষ্কারের পর অ্যাডভোকেট মাজহারুল ইসলাম জাহান ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
হাইকমান্ডের নির্দেশনা ও তৃণমূলের প্রত্যাশা:
দলের চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের কঠিন বার্তা রয়েছে কমিটি গঠনের বিষয়ে। নির্দেশনা অনুযায়ী, দলের দুঃসময়ে যারা হামলা-মামলা, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন, তাদের যেন বাদ না পড়ে। পাশাপাশি যারা আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পরিবারের একই সাথে সম্পর্কিত এবং বিগত দিনে লিয়াজোঁ করে চলেছেন, তাদের বিষয়ে সজাগ থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি – ছাত্রদল থেকে বয়সের কারণে বাদ পড়া ত্যাগী নেতাদের যুবদলে সুযোগ দিতে হবে। বয়সের কারণে ছাত্রদল থেকে বাদ পড়া আরিফুল ইসলাম মুন্না ও আরিফুল ইসলাম জনির নাম এ ক্ষেত্রে বেশি আলোচনায় রয়েছে। নেতাকর্মীরা মনে করেন, যারা টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও সুবিধাবাদী রাজনীতিতে ছিলেন, তারা যেন কমিটিতে না আসে। পুরোনো ও নতুনের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠিত হোক।বরিশাল সম্পর্কিত খবর
যুবদলের দায়িত্বশীল সূত্রে জানিয়েছেন- উত্তর ও দক্ষিণ জেলা যুবদল একীভূত করে জেলা যুবদল গঠিত হচ্ছে। যে কারণে জেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাও বেড়েছে। তবে আগে যাঁরা পদে ছিলেন, তাঁদের শীর্ষ নেতৃত্বে রেখেই নতুন কমিটি এবার নতুন মুখও আসবে বলে ধারনা সকলের। তবে খুব শিগ্রই যুবদলের কমিটি ঘোষনা হতে পারে বলে একটি সূত্র জানায়। এই পরিস্থিতিতে জেলা যুবদলের সম্ভাব্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আছেন অনেকে। তবে দলের এক নেতা বলেন, কিছু দিন পূর্বে ‘উত্তর ও দক্ষিণ যুবদল এক করার সিদ্ধান্ত দিয়েছিলো কেন্দ্র। যে কারণে জেলা যুবদলের নেতৃত্বে আসা আমাদের অধিকার।’ তিনি বলেন, ‘সামনে নির্বাচন। যে নেতারা টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, সুবিধাবাদীতে ছিল, তারা যেন যুবদলের কমিটিতে না আসে। পুরোনো-নতুন মিলিয়ে কমিটি হোক। তা না হলে একচেটিয়া হয়ে দল দুর্বল হবে।’
অপরদিকে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হচ্ছেন জেলা যুবদলের (উত্তর) যুগ্ম আহ্বায়ক কায়সার আহমেদ। যুবদলের উত্তরের আহ্বায়ক সালাউদ্দিন পিপলু তিনি রয়েছেন সক্রিয়। উত্তর জেলা যুবদলের আহবায়ক সালাউদ্দিন পিপলু তিনি জেলা যুবদলের পদপ্রত্যাশী। তিনিও নেতাকর্মীদের আলোচনায় রয়েছেন। সাইয়েদুল আলম খান সেন্টু ও গোলাম মোর্শেদ মাসুদ,সুজন সহ আরো কয়েকজন রয়ে যুবদলের উত্তর কমিটির পদপ্রত্যাশী।
উত্তর-দক্ষিণের ভারসাম্য ও কেন্দ্রের অপেক্ষা:
বরিশালে দীর্ঘ সময় ধরে উত্তর ও দক্ষিণ জেলা যুবদলের পৃথক সাংগঠনিক কাঠামো থাকায় নতুন কমিটিতে ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। ২০২৫ সালের একটি প্রতিবেদনেও এই ভারসাম্যের আলোচনা উঠে এসেছিল। ২০২৬ সালের মে মাসে বরিশাল জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের নতুন আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদনের পর যুবদলের নতুন কমিটি নিয়ে আগ্রহ আরও বেড়েছে। প্রচলিত সাংগঠনিক ধারা অনুযায়ী ছাত্রদল থেকে যুবদলে নেতৃত্বের একটি অংশ উঠে আসে। তাই ছাত্রদলের নতুন কমিটির পর যুবদলে কারা জায়গা পান, সেদিকেই এখন সবার নজর। নতুন কমিটি পুরোনো নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে, নাকি তরুণদের সামনে এনে সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাস করবে – সেই প্রশ্নের উত্তর এখন কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।
বরিশাল সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নে বউ-শাশুড়ির ঝগড়া ও হাতাহাতির ঘটনায় রুনু বেগম (৬৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তাকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পুত্রবধূ ফাতেমা বেগমের (২৬) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ফাতেমাকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ইউনিয়নের আটহাজার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক বিষয় নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে রুনু বেগম ও ফাতেমা বেগমের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে গড়ায়। এ সময় রুনু বেগম ফাতেমার একটি আঙুল কামড়ে ধরেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে ফাতেমা তার শাশুড়ির গলা চেপে ধরেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে শ্বাসরোধ হয়ে রুনু বেগমের মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়দের দাবি।
খবর পেয়ে কাউনিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রুনু বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে ফাতেমা বেগমকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে।
কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সঞ্জিৎ চন্দ্র নাথ বলেন, বউ-শাশুড়ির ঝগড়া ও মারামারির একপর্যায়ে ফাতেমা তার শাশুড়ির গলা চেপে ধরলে শ্বাসরোধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ম্যারাথন প্রতিযোগিতায় কয়েকজন অংশগ্রহণকারীর হাফপ্যান্ট পরা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ইসলামী আদর্শভিত্তিক একটি ছাত্রসংগঠনের আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের পোশাক ধর্মীয় শালীনতার নির্দেশনার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ ও সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ শাখার যৌথ উদ্যোগে এ ম্যারাথন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, শৃঙ্খলাবোধ এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের একটি ছবিতে দেখা যায়, সংগঠনের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিশেষ জার্সি পরে ম্যারাথনে অংশ নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের কয়েকজনের পরনে ছিল হাঁটুর ওপর পর্যন্ত হাফপ্যান্ট। একই অনুষ্ঠানে সংগঠনের অন্য সদস্যদের পাঞ্জাবি, পায়জামা ও টুপি পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়।
ইসলামী শরিয়তের প্রচলিত ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পুরুষের নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত অংশ ঢেকে রাখা আবশ্যক। তবে হাফপ্যান্ট পরিধান ধর্মীয় নির্দেশনার পরিপন্থী কি না, তা নির্ভর করে পোশাকের দৈর্ঘ্য এবং শরীরের কতটুকু অংশ অনাবৃত থাকছে, তার ওপর।
এমন পরিস্থিতিতে ইসলামী আদর্শ ও মূল্যবোধের চর্চার কথা বলা একটি ছাত্রসংগঠনের নিজস্ব আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের পোশাক নির্বাচনের বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে।
ম্যারাথন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সম্পাদক ইব্রাহিম নাসরুল্লাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য গাজী মুহাম্মাদ রেদওয়ান।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের নেতারা বলেন, তরুণ সমাজকে মাদক, অপরাধ ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে সুস্থ, সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে খেলাধুলা ও শরীরচর্চার বিকল্প নেই। এ ধরনের আয়োজন তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সুস্থ প্রতিযোগিতার মানসিকতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তবে ম্যারাথনে অংশগ্রহণকারীদের পোশাক নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের বিষয়ে আয়োজক সংগঠনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সড়ক দুর্ঘটনা কমানো ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে মোটরসাইকেল ও গাড়ি চালকদের জন্য ১২টি নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। সম্প্রতি বাংলাদেশ পুলিশের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা জানানো হয়।
পুলিশের নির্দেশনায় মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী উভয়কে হেলমেট পরার এবং গাড়ির চালক ও যাত্রীদের সিট বেল্ট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মোটরসাইকেলে চালকসহ সর্বোচ্চ দুজন চলাচল করতে পারবেন বলেও জানানো হয়েছে।
গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার না করা এবং অপ্রয়োজনে হর্ন না বাজানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা ও ট্রাফিক সিগন্যাল যথাযথভাবে অনুসরণের কথা বলা হয়েছে।
বড় ও ভারী যানবাহনের ‘ব্লাইন্ড স্পট’ সম্পর্কে সতর্ক থাকার পাশাপাশি লেন পরিবর্তন বা মোড় নেওয়ার আগে ইন্ডিকেটর ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। অন্য যানবাহনের সঙ্গে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখেও গাড়ি চালাতে বলা হয়েছে।
কুয়াশা, বৃষ্টি বা প্রতিকূল আবহাওয়ায় গতি কমিয়ে সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যানজট কিংবা অন্য চালকের ভুলের কারণে ধৈর্য না হারিয়ে মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখার কথাও বলা হয়েছে।
মাদক সেবন করে, তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় কিংবা উল্টো পথে গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। মহাসড়কে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেকিং না করে নির্ধারিত লেন অনুসরণ করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ যানবাহনের প্রয়োজনীয় সব হালনাগাদ কাগজপত্র সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ।
নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সড়কে চলাচলের সময় এসব নির্দেশনা মেনে চলার জন্য চালকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।