একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকালে, ঢাকা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি দেয়া এক বক্তব্যে এ আহ্বান জানান তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা পুরো জাতি একসঙ্গে স্মরণ করছি এমন একদিন, যা এদেশের ইতিহাসে গভীর ধাপ রেখে গেছে। ৫ আগস্ট শুধু একটি বিশেষ দিবস নয়, এটি একটি প্রতিজ্ঞা, গণজাগরণের উপাখ্যান এবং ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে জাতির পুনর্জন্মের দিন। আজ আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সব বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। যাদের আত্মত্যাগে আমরা পেয়েছি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালে সাম্য মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এদেশের জনগণ সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। লাখো প্রাণের বিনিময়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পরেও এদেশের মানুষ সুবিচার ও গণতন্ত্র থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বৈষম্যের শিকার হয়েছে। ২০২৪ সালের উত্তাল জুলাই ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক সংকটময় অধ্যায়। ১৬ বছরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
‘এদেশের এই বিপুল সংখ্যক তরুণ ১৬ বছর ধরে ক্রমাগত হতাশায় নিমজ্জিত ছিল। ভালো ফলাফল করেও চাকরির জন্য ক্ষমতাসীনদের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেছে। চাকরিকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি আর তদবির বাণিজ্য। যে তরুণ ঘুষ দিতে পারেনি, এলাকার মাফিয়াদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলতে পারেনি, তার চাকরি হয়নি। সরকারি চাকরিতে বৈষম্যমূলক কোটা পদ্ধতি, যেটা মূলত ছিল দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির আরেকটা হাতিয়ার। এর বিরুদ্ধে তরুণ সমাজ দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করলেও ফ্যাসিবাদী শাসকের টনক নড়েনি।’
প্রতিটি সেক্টরে মাফিয়াতন্ত্র কায়েম করে একটি সুবিধাভোগী শ্রেণি তৈরি করা হয়েছিল জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, যারা আর্থিক অন্যান্য সুবিধার বিনিময়ে স্বৈরাচারের পক্ষে কথা বলবে, কাজ করবে, স্বৈরাচারের পক্ষের সঙ্গী হলেই তার চাকরি হবে। কাজ মিলবে। সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান, এমনকি বিচার ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক মন্ডলেও এ ধরনের সুবিধাবাদী শ্রেণি তৈরি হয়েছিল। এদেশের গরীব মেহনতি মানুষের পয়সা লুট করে, পতিত ফ্যাসিবাদ ও তাদের সহযোগীরা একেকজন টাকার পাহাড় গড়ে তোলে। সীমাহীন দুর্নীতির কবলে পড়ে অর্থনীতি ভেঙে পড়ে। এই দেড়যুগে প্রতিটি ন্যায্য দাবি প্রতিবাদ বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের পাশাপাশি দলীয় সন্ত্রাসীরা অস্ত্র হাতে আন্দোলনকারীদের পিটিয়েছে।
গত ১৬ বছরে যারাই সরকারের সমালোচনা করেছে, নাগরিকদের অধিকারের পক্ষে কথা বলেছে, তাদের গ্রেফতার অথবা গুম করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, লাখ লাখ বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নির্বিচারে আটক, গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ২৪ জুলাই দেশের ছাত্রসমাজ, তরুণ প্রজন্ম, সাধারণ মানুষ সবাই একত্রিত হয় এক নতুন দিনের প্রত্যাশায়। সমস্বরে তারা বলে ওঠে, এবার ফ্যাসিবাদীদের যেতে হবে। তবু দেশের মানুষের বুকে গুলি চালিয়ে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখতে চেয়েছিল ফ্যাসিবাদ সরকার। তারা নির্বিচারে গুলি করেছে। গ্রেপ্তার করেছে। ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যাকাণ্ডের তথ্য লুকাতে চেয়েছে। রাতের অন্ধকারে এলাকায় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছাত্রদের আটক করেছে। গুলিবিদ্ধ আহতদের তারা হাসপাতালের চিকিৎসা নিতে দেয়নি। হাসপাতালগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যেন আহতদের ভর্তি না করা হয়। এ কারণে বহু মানুষ চিকিৎসা না পেয়ে চিরতরে দৃষ্টি হারিয়েছে, পঙ্গু হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে জাতির সূর্য সন্তান জুলাই শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তিনি বলেন, তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। জুলাইয়ে যারা আহত হয়েছেন, চিরতরে পঙ্গু হয়েছেন, দৃষ্টি হারিয়েছেন, জাতির পক্ষ থেকে আমি তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। এই জাতি আপনাদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকবে। গত বছর ডিসেম্বর মাসে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার, আহতদের কল্যাণ ও যাবতীয় বিষয় প্রশাসনিক দায়িত্ব মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওপর বিন্যস্ত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৮৩৬টি শহীদ পরিবারের মধ্যে ৭৭৫টি শহীদ পরিবারকে মোট ৯৮ কোটি ৪০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ও মাসিক ভাতা বাবদ ব্যাংক চেক দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট যারা আছেন তাদেরও কয়েকটি বিষয় নিষ্পত্তি সাপেক্ষে সঞ্চয়পত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এর পাশাপাশি আহত ১৩ হাজার ৮০০ জুলাই যোদ্ধাকে তিনটি ক্যাটাগরিতে নগদ টাকা ও চেক বাবদ মোট ১৫৩ কোটি ৪ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে ৭৮ জন অতি গুরুতর আহত জুলাই যোদ্ধাকে সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, তুরস্ক এবং রাশিয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসা ব্যয় বাবদ এ পর্যন্ত ৯৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। জেলা উপজেলা পর্যায়ের সব সরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক বা স্বাস্থ্য কেন্দ্র, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে সব শ্রেণির আহত জুলাই যোদ্ধাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে জুলাই শহীদ ও আহতদের জন্য আরও নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে জুলাইয়ের মহানায়কদের আত্মত্যাগ তখনই সার্থক হবে, যখন এ দেশকে আমরা একটি সত্যিকারের জন কল্যাণকর দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারবো।
‘আজ আমরা কেবল অতীত স্মরণ করতে আসি নাই। আমরা একটি শপথ গ্রহণ করতে এসেছি। শপথ এই—আমরা কোনো ধরনের নিপীড়নের কাছে মাথা নোয়াবো না। আমরা প্রতিষ্ঠা করব, একটা জবাবদিহিমূলক, মানবিক, গণতান্ত্রিক এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র। এমন রাষ্ট্র- যা সবসময় জনকল্যাণে কাজ করবে। জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ আমরা বৃথা যেতে দেব না। তাদের আত্মত্যাগই হবে আমাদের পথ চলার প্রেরণা। তাদের স্বপ্নই হবে আমাদের আগামী বাংলাদেশের নির্মাণ রাখা। আজকের এই দিনে এটাই হোক আমাদের শপথ।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপকের ছেলে অপ্রতিম হত্যার ক্লু শনাক্ত করা এবং প্রকৃত হত্যাকারীকে গ্রেফতার না করা পর্যন্ত এ ঘটনায় ননস্টপ কাজ করে যাবেন বলে জানিয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
পুলিশ সুপার বলেন, কিছু তথ্যপ্রযুক্তিগত বিষয়সহ তদন্তের জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন। ঘটনাটি সবাইকে কাঁদিয়েছে। ছোট্ট নিষ্পাপ একটি শিশুর সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, ঘটনার মোটিভসহ সবকিছু খুব শিগগিরই তদন্ত করে জানানো হবে।
এ ঘটনায় আটক একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আটক ব্যক্তির মোবাইল, প্রযুক্তিগত তথ্য, লোকেশন এবং অপ্রতিমের অবস্থান—সবকিছু মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। যাকে আটক করা হয়েছে, সে নির্দোষও হতে পারে, আবার জড়িতও হতে পারে। তাই তদন্তের এ পর্যায়ে মূল হত্যাকারীরা যেন কোনো তথ্য পেয়ে আত্মগোপনে যেতে না পারে, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই কাজ করা হচ্ছে।
এদিকে, আজ অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে তার মা বলছিলেন, আমার ছোট্ট ছেলে কী অন্যায় করেছে, আমি এটার জবাব চাই। আমি কোনো বিচার মানিনা। আমাকে উত্তর দিতে হবে।
প্রসঙ্গত, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যায়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে অপ্রতিমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী জঙ্গল লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
এর আগে, শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হয়ে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। পরে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
আমার ছোট্ট ছেলে কী অন্যায় করেছে, আমি এটার জবাব চাই। আমি কোনো বিচার মানিনা। আমাকে উত্তর দিতে হবে। অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন কুমিল্লায় মৃত উদ্ধার ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিমের মা নাহিদা বেগম। তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্থানীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী শোকসন্তপ্ত পরিবারের সাথে দেখা করতে যান। তিনি গিয়ে বিলাপ করতে দেখেন সন্তানহারা মা’কে।
নাহিদা বেগম বলতে থাকেন, আমি কোন দেশে থাকি? এটা কোন দেশ? একটা ছেলে বের হলে তাকে মেরে ফেলতে হবে?
নাহিদা আর্তনাদ করতে করতে বলেন, আমি বাঁচব ক্যামনে? আমার তো একটাই ছেলে!আমি ক্যামনে আমার জীবন কাটাব? আমি আমার জীবন পার করবো ক্যামনে?
পরে সামনে আসেন শিশুর বাবাও। তিনিও অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ফোনটা নেওয়ার জন্য মেরে ফেললো আমার ছেলেকে!
এসময় উপস্থিত এমপি মনিরুল হকও কাঁদতে থাকেন। তাকেও হতবিহ্বল হয়ে চোখের জল মুছতে দেখা যায়।
বরিশালের বাকেরগঞ্জে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ঘুমন্ত স্ত্রীকে ধারালো বটি দিয়ে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে ইমরান হোসেন উজ্জ্বল নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। মেয়েকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাঁর শ্বশুর ও শাশুড়িকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখান থেকেই অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশ।
আহতরা হলেন—ইমরানের স্ত্রী রুমানা আক্তার (২১), শ্বশুর মাহবুব আলম মিন্টু হাওলাদার (৫৮) ও শাশুড়ি মাহমুদা বেগম (৫৫)। গুরুতর অবস্থায় তাঁদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টার দিকে উপজেলার দাঁড়িয়াল ইউনিয়নের উত্তমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ইমরান একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক বিরোধের জেরে ভোরে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ঘুমন্ত স্ত্রী রুমানাকে ধারালো বটি দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন ইমরান। রুমানার চিৎকার শুনে তাঁর বাবা-মা ছুটে এলে তাঁদের ওপরও হামলা চালানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে, তিনজনকে আহত করার পর ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান ইমরান। পরে আহতদের আর্তচিৎকার শুনে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
পুলিশের ভাষ্য, ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করে ইমরান নিজেও শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। খবর পেয়ে সকাল ১০টার দিকে হাসপাতাল থেকেই তাঁকে আটক করে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ।
বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি আদিল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নেশাগ্রস্ত জামাইয়ের হামলায় স্ত্রী, শ্বশুর ও শাশুড়ি গুরুতর আহত হয়েছেন। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি বলেন, হামলার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
উত্তর আন্দামান সাগরে থাইল্যান্ড উপকূলের কাছে সৃষ্টি হয়েছে একটি ঘূর্ণাবর্ত। অনুকূল পরিবেশ পেলে এটি শক্তি সঞ্চয় করে আজ সন্ধ্যার মধ্যে নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে। পরবর্তী সময়ে আরও শক্তিশালী হলে ঘূর্ণিঝড়েও পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হলে এর নাম হবে ‘অর্ণব’—নামটি দিয়েছে বাংলাদেশ।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের (আইএমডি) বরাতে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছে নিউজ১৮ বাংলা।
আইএমডির পূর্বাভাস বলছে, ২১ বা ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ঘূর্ণাবর্তটি শক্তিশালী হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর এটি অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা উপকূলের দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে আজ থেকে সোমবার পর্যন্ত উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও বজ্রপাতের পাশাপাশি দমকা হাওয়াও বইতে পারে। বৃষ্টির আওতায় আসতে পারে ওড়িশা, তেলেঙ্গানা, ছত্তিশগড় ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা।
এদিকে বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণাবর্ত ও মৌসুমি অক্ষরেখার প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় টানা বৃষ্টি হচ্ছে। সৌরাষ্ট্র থেকে বঙ্গোপসাগর এবং সিকিম থেকে উত্তর ওড়িশা পর্যন্ত বিস্তৃত অক্ষরেখার কারণে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জেলায় আজ বজ্রসহ বৃষ্টি ও ঘণ্টায় ৩০–৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এরই মধ্যে কয়েকটি জেলায় জারি করা হয়েছে হলুদ সতর্কতা। উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকাতেও বিচ্ছিন্নভাবে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে।
তবে ঘূর্ণাবর্তটি এখনো ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে—এমন নয়। পরবর্তী সময়ে এর গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের ওপরই পরিস্থিতি নির্ভর করবে।’
পাকিস্তানে আত্মঘাতী হামলায় পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৫৭ জন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কোহাট শহরে জুমার নামাজের সময় এ হামলা হয়। পুলিশ কম্পাউন্ডের ভেতরের মসজিদে তখন পুলিশ সদস্য ও তাঁদের পরিবারের অনেকে নামাজ আদায় করছিলেন।
পুলিশের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি পুলিশ কম্পাউন্ডের বাইরের দেয়ালে আঘাত করে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। একই সময়ে সশস্ত্র হামলাকারীরা কম্পাউন্ডে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলি শুরু হয়।
বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির পর নিরাপত্তা বাহিনী এবং উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি। পাকিস্তানি তালেবান বা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এ হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বাকেরগঞ্জে স্কুলে চুরির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটেছে চরামদ্দী ইউনিয়নের পশ্চিম বাদলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। চোরেরা বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, সাউন্ডবক্স ও নগদ টাকা নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অফিস কক্ষের পাশাপাশি আলমারি, ক্যাবিনেট ও শোকেসের তালাও ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। বিদ্যালয় থেকে একটি ল্যাপটপ, একটি প্রজেক্টর ও একটি সাউন্ডবক্স খোয়া গেছে। এছাড়া আলমারিতে রাখা ছয় হাজারের বেশি টাকাও পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতের কোনো এক সময়ে ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বুধবার বিকেল ৪টায় বিদ্যালয় ছুটি হওয়ার পর শিক্ষকরা বিদ্যালয় থেকে চলে যান।
বৃহস্পতিবার সকালে শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে এসে অফিস কক্ষের তালা ভাঙা দেখতে পান। পরে ভেতরে প্রবেশ করে আলমারি, ক্যাবিনেট ও শোকেসের তালাও ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান।
সহকারী শিক্ষিকা শামীমা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রতিদিন বিকেল ৪টায় বিদ্যালয় ছুটি হয়। এরপর শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে থাকেন না। সকালে এসে তারা অফিস কক্ষের তালা ভাঙা দেখতে পান।
পরে বিদ্যালয়ের মালামাল পরীক্ষা করে একটি ল্যাপটপ, প্রজেক্টর ও সাউন্ডবক্স পাওয়া যায়নি। আলমারিতে রাখা টাকাও খোয়া গেছে বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
বাকেরগঞ্জে স্কুলে চুরির ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে চুরির সঙ্গে কারা জড়িত, তা জানা যায়নি। চুরি হওয়া মালামালের হিসাব যাচাই করা হচ্ছে।
আকাশ, ঝালকাঠি প্রতিনিধি | 16 September 2026, 9:06 pm
এসো রক্তদানে এগিয়ে যাই’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) ঝালকাঠি প্রেসক্লাব অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন ‘YAS Blood Bank’ (ইয়াস ব্লাড ব্যাংক)-এর ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উৎসব।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা সভা, কেক কাটা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের রক্তযোদ্ধা এবং বিভিন্ন রক্তদান সংগঠনের দায়িত্বশীলদের আন্তরিক আমন্ত্রণ জানিয়েছে সংগঠন কর্তৃপক্ষ।
অনুষ্ঠানের সময় ও স্থান:
তারিখ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শুক্রবার
সময়: বিকাল ৪টা
স্থান: অডিটোরিয়াম, প্রেসক্লাব, ঝালকাঠি
📝 যেভাবে রেজিস্ট্রেশন করবেন:
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য কোনো ফি লাগবে না (সম্পূর্ণ ফ্রি)। তবে আসন সংখ্যা সীমিত থাকায় এবং সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার জন্য আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) রাত ১০টার মধ্যে অনলাইনে ফর্ম পূরণ করে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।
রেজিস্ট্রেশনের সহজ ধাপসমূহ:
আবেদন ফর্ম :
🔗 উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ ফর্ম: (ফ্রি)
https://forms.gle/tvmDZvLMXo1NwLoX6
প্রথমে আপনার মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে এই গুগল ফর্ম লিংকে প্রবেশ করুন: https://forms.gle/tvmDZvLMXo1NwLoX6
ফর্মে আপনার নাম, মোবাইল নম্বর এবং আপনি কোনো রক্তদান সংগঠনের সাথে যুক্ত আছেন কিনা তা সঠিকভাবে লিখুন।
সব তথ্য দেওয়া শেষে ‘Submit’ বাটনে ক্লিক করলেই আপনার রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়ে যাবে।
(নিউজ পোর্টালে সরাসরি রেজিস্ট্রেশন করতে এই লিংকে ক্লিক করুন: রেজিস্ট্রেশন ফর্ম লিংক)
প্রয়োজনে যোগাযোগ: যেকোনো তথ্যের জন্য বা রেজিস্ট্রেশনে কোনো সমস্যা হলে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন এই নম্বরগুলোতে: 📞 01739158800 📞 01929688031
ইয়াস ব্লাড ব্যাংকের দায়িত্বশীলরা জানান, রক্তযোদ্ধাদের এই মিলনমেলাকে আরও অর্থবহ ও সফল করে তুলতে সবার উপস্থিতি এবং সহযোগিতা একান্ত কাম্য।
আকাশ, ঝালকাঠি প্রতিনিধি | 14 September 2026, 8:20 pm
ঝালকাঠির ধানসিঁড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইয়ুথ অ্যাকশন সোসাইটি (YAS)-এর উদ্যোগে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক সেমিনার ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখর হালদার-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক অলক সাহ্। সেমিনারে বক্তারা বর্তমান সময়ে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা তুলে ধরে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং বিদ্যালয়ের চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি তথ্যবহুল সচেতনতামূলক সেমিনার পরিচালনা করেন ইয়াসের ভলান্টিয়ার আকাশ ও এশা। সেমিনার শেষে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বিষয়ের ওপর একটি আকর্ষণীয় কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। পরে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার হিসেবে জনপ্রিয় কিশোর পত্রিকা তুলে দেওয়া হয়।
দিনব্যাপী এই ব্যতিক্রমী কর্মসূচি সফল করতে বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দের পাশাপাশি নিরলসভাবে কাজ করেন ইয়ুথ অ্যাকশন সোসাইটির ভলান্টিয়ার রাহাত, আমিনুল, সিফাত, বিজু, রিয়াদ, নাইম, আশা ও মোহেবুল্লাহ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা তরুণদের এই মানবিক ও সচেতনতামূলক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমাজের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে বরিশাল জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ (কলেজ পর্যায়) নির্বাচিত হয়েছেন সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. শেখ মোঃ তাজুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সম্মাননা স্মারক ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোঃ মামুন খন্দকার তাঁর হাতে সম্মাননা তুলে দেন। জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আঃ জব্বারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্মাননা গ্রহণের পর অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. শেখ মোঃ তাজুল ইসলাম বলেন, জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ নির্বাচিত হওয়া আনন্দ ও গৌরবের। এ স্বীকৃতি শুধু তাঁর একার নয়, এটি পুরো বিএম কলেজ পরিবারের অর্জন। তিনি তাঁর সম্মাননা বিএম কলেজের সকল শিক্ষার্থীর প্রতি উৎসর্গ করেন।
তিনি আরও বলেন, তাঁর এ অর্জন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে শিক্ষার্থীরা আগামী দিনে নিজেদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে এটাই তাঁর প্রত্যাশা। আগামী শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠে দেশ ও জাতির সেবায় শিক্ষার্থীরা আত্মনিয়োগ করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. শেখ মোঃ তাজুল ইসলাম জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক এবং বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ নির্বাচিত হন। টানা দু’বার শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ নির্বাচিত হওয়ায় তাঁর এ অর্জনে বিএম কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের মধ্যে আনন্দ ও উদ্দীপনা বিরাজ করছে।