আর মাত্র একদিন বাদে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে বরিশালের ৬ টি আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৩৬ প্রার্থী অংশগ্রহণের কথা থাকলেও রোববার একজন সরে দাঁড়িয়েছেন। বরিশাল ২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে জাসদ মনোনীত ও গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট সমর্থিত ‘মোটরগাড়ি’ প্রতীকের আবুল কালাম আজাদ শারীরিক অসুস্থার অজুহাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় এখন ৬টি আসনে ৩৫ প্রার্থী ভোটযুদ্ধে থাকছেন। এই ভোট আয়োজনকে ঘিরে প্রতিটি আসনে বিএনপি-জামায়াত এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা আলোচনার অগ্রভাগে আছেন। বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী আলোচনায় এই তিনটির দলের প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পাচ্ছেন এবং ভোটারদের মধ্যেও তাদের নিয়ে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। তবে নিজ দলের বিদ্রোহী নিয়ে বরিশাল ১ আসনে বিএনপি প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন আছেন বিপদে।
৩ লাখ ২৮ হাজার ১৯৮ ভোটারের বরিশাল ১ (আগৈলঝাড়া-গৌরনদী) আসনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপনের সাথে জামায়াত ইসলামীর মো. কামরুল ইসলাম খানের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। নিজ দলীয় নেতা আব্দুস সোবাহান বিদ্রোহ করে ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তে অনঢ় থাকায় ধানের শীষের প্রার্থীর স্নায়ুচাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এই আসনে বিএনপির ভাগ্যে কি আছে তা নিয়ে দলীয় কর্ম-সমর্থকেরাও চিন্তায় আছেন। আওয়ামী লীগের শাসনামলের ১৫ বছরে এ আসনটিতে একবার তালুকদার মো. ইউনুস এবং দুইবার শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি ছিলেন।
এর আগে ২০০১ সালে ধানের শীষের প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন এমপি থাকাকালে সংখ্যালঘু নির্যাতনের উদাহরণ আছে। এবং ১/১১-তে স্বপনকে সংস্কারপন্থী হিসেবে প্রচার চালাচ্ছেন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুস সোবাহান। তিনি বলেন, ‘হিন্দুদের রক্ষার জন্য প্রার্থী হয়েছি। ফলে কিছুটা হলেও অনুমান করা যায়, ধানের শীষের প্রার্থীকে কতটা বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করতে হচ্ছে।
বরিশাল ২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনে ৮ প্রার্থী থাকলেও রোববার ঘোষণা দিয়ে সরে দাঁড়িয়েছেন জাসদের আবুল কালাম আজাদ। ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৭ ভোটারের এই আসনে এখন বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী সরদার শরফুদ্দিন সান্টুর মূল জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল মান্নান। বানারীপাড়া উপজেলার সহ-সভাপতি গোলাম মাহবুব এবং পৌর কৃষক দলের আব্দুল গাফফার হোসেনসহ কয়েক শ নেতাকর্মী গত ৩০ জানুয়ারি জামায়াতে যোগ দিয়েছেন। যোগদানের পরপরই তারা জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল মান্নানের জন্য ভোট চাইতে মাঠে নেমেছেন। এতে ধানের শীষের প্রার্থীকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে বলে জানিয়েছে ভোটাররা।
আড়িয়াল খাঁ নদীতীরবাতী বরিশাল ৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আসনে মোট ৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করলেও আলোচনার কেন্দ্রে আছেন ধানের শীষের জয়নুল আবেদীন, লাঙ্গল প্রতীকের গোলাম কিবরিয়া টিপু এবং ঈগল প্রতীকের ব্যারিস্টার মো. আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তবে এখানে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিনের সাথে জাতীয় পার্টির প্রার্থী টিপুর হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তিনবারের সাবেক এমপি টিপু জুলাই আন্দোলনসহ একাধিক মামলায় কারান্তরীণ থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তার পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে মিডিয়ায় শিরোনাম হয়েছেন মেয়ে। এই আসনে মোট ৩ লাখ ৩২ হাজার ০৯৭ জন ভোটাধিকার পেয়েছেন।
জাপার কেন্দ্রীয় অতিরিক্ত যুগ্ম মহাসচিব ইকবাল হোসেন তাপস সাংবাদিকদের বলেন, মুক্ত টিপুর চেয়ে কারাবন্দী টিপু বেশি শক্তিশালী, তিনি বারবার এই আসনের এমপি হয়েছেন, এবারও হবেন।
বরিশাল ৪ (মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা) আসনে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি রাজিব আহসান এবার ধানের শীষের প্রার্থী। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল জব্বার। বরিশালের ৬ টি আসনের মধ্যে এখানে জয়ের সম্ভাবনা দেখছে জামায়াত। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানের ৬ ফেব্রুয়ারি মেহেন্দিগঞ্জে সমাবেশও করেছেন। ৪ লাখ ২১ হাজার ৯৭৫ ভোটারের এই আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীসহ মোট ৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।
আওয়ামী লীগ শাসানামলে বরিশাল ৪ আসনে টানা তিনবারের এমপি ছিলেন বিতর্কিত রাজনৈতিক পঙ্কজ দেবনাথ। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পরে তিনি পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। এরপরে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী চরের জমি দখলসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। ফলে এখানে ধানের শীষের প্রার্থী রাজিব আহসানের জয়লাভ করাটা অনেকটা চ্যালেঞ্জের বলে মন্তব্য পাওয়া গেছে।
সিটি কর্পোরেশন ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল ৫ আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী মুয়াযযম হোসাইন হেলাল প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর থেকেই ফুরফুরে মেজাজে আছেন ধানের শীষের প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরওয়ার। এই আসনে ধানের শীষের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হাতপাখার প্রার্থী মুফতি মুহাম্মাদ ফয়জুল করিমকে ভাবা হলেও তিনি অতটা শক্তপোক্ত জনসমর্থনে নেই। ৫ লাখ ১৩ হাজার ৪ জন ভোটারের এ আসনে আলোচিত বাসদ নেত্রী মনীষা চক্রবর্তীও আলোচনায় আছেন।
কীর্তনখোলা তীর জনপদের সবচে মর্যাদাসম্পন্ন এই আসনে আওয়ামী লীগের শাসানামলে একবার জেবুন্নেছা আফরোজ এবং দুবার সাবেক সেনা কর্মকর্তা জাহিদ ফারুক শামীম এমপি ছিলেন। তার আগে পাঁচবার এমপি ছিলেন ধানের শীষের প্রার্থী মজিবর রহমান সরওয়ার এবং তিনি জনপ্রিয় রাজনৈতিকও বটে।
বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত বরিশাল ৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন ৬ প্রার্থী। তবে সবচে আলোচনার বিষয় হচ্ছে বরিশাল সদর আসনের পাশাপাশি বাকেরগঞ্জেও প্রার্থিতা করছেন হাতপাখার প্রার্থী ফয়জুল করিম। এখানে ধানের শীষের শক্তিশালি প্রার্থী আবুল হাসেন খান। আছে জামায়াতের প্রার্থী মো. মাহমুদুন্নবীও।
তবে এই আসনে বেশিমাত্রায় আলোচনায় আছেন ধানের শীষ এবং হাতপাখার প্রার্থী। ৩ লাখ ১৫ হাজার ৫৯৭ ভোটার আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে আবুল এবং ফয়জুলের মধ্যেকার একজনকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে চূড়ান্ত করবেন।
ভোট পেতে দুই প্রার্থী বিভিন্ন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন। তবে চরমোনাই প্রার্থী ফয়জুল আওয়ামী লীগের ভোটারদের টানতে বেশ কৌশলী পদক্ষেপ রাখছেন। তিনি পদধারী আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন, এমনকি আ’লীগের নিরিহ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করতেও পুলিশের কাছে সুপারিশ রাখেন।
এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আবুল হোসেন একবার এমপি ছিলেন। কর্মীসমর্থকেরা বলছেন, আবুল হোসেনের জনপ্রিয়তা আছে, তিনি এবারও এমপি হবেন।
অবশ্য হাতপাখার প্রার্থীর অনুসারীদের দাবি হচ্ছে, বরিশাল সদর এবং বাকেরগঞ্জে তাদের ভোট বেড়েছে। এছাড়া মানুষের মধ্যে চরমোনাই নায়েবে আমির ফয়জুল করিমকে নিয়ে আগ্রহ আছে, এই কারণে তিনি দুটি আসনে প্রার্থী হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে বরিশালের ৬টি আসনের ৫টিতে ধানের শীষ-জামায়াত এবং ইসলামী আন্দোলনের মধ্যেকার তুমুল ভোটযুদ্ধের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এই প্রভাব দেখা যেতে পারে বরিশাল ১, ২, ৩, ৪ এবং ৬ আসনে। তবে মর্যাদার বরিশাল ৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সরওয়ারের তেমন একটা বেগ না পাওয়ার সম্ভবনা বেশি।
চির প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের অনপুস্থিতিতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ নির্বাচনে বরিশালের মানুষ এখন কোন আসনে কার পক্ষে রায় দেবেন সেটাই দেখার অপেক্ষা।’
মশিউর রহমান তাসনিম, বিশেষ প্রতিবেদক | 28 October 2026, 7:08 pm
বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য ও বরিশাল জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে পরিচিত অ্যাডভোকেট জিয়াউর রহমান রুমিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন অভিযোগ ও বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টে তাঁর ব্যক্তিগত ভিডিও কলের কিছু দৃশ্য ভাইরাল হওয়ার দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংবাদপত্রের পাতায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তবে ভাইরাল হওয়া ছবি বা ভিডিওর সত্যতা, প্রেক্ষাপট এবং সেগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পৃক্ততা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
এ ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদপত্রে প্রচারিত পুরোনো একটি খবর আবারো আলোচনায় এসেছে। ২০১৮ সালে কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই মহিউদ্দিন মাহি এডভোকেট রুমিকে ইয়াবা বিক্রির সময় পুকুরে ঝাপ দিয়ে পালানোর সময় গ্রেপ্তার করে ও মাদক মামলায় তাঁকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্টে আইনজীবী সমিতি থেকে তাঁকে বহিষ্কারের বিষয়েও দাবি করা হয়েছে। তবে বহিষ্কারের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত, সংশ্লিষ্ট সমিতির বিজ্ঞপ্তি কিংবা কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া না গেলে বিষয়টিকে প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা সমীচীন নয়।
নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি
আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলে সেগুলোর যথাযথ তদন্ত এবং প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের আগে কাউকে দোষী হিসেবে উপস্থাপন করাও অনুচিত।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবী সমিতি, আদালত প্রশাসন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বক্তব্যের মাধ্যমে বিষয়গুলোর প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। অভিযোগগুলোর বিষয়ে অ্যাডভোকেট জিয়াউর রহমান রুমির বক্তব্যও জানা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন উঠছে—অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্যতা কী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অবস্থান কী? নির্ভরযোগ্য তথ্য, নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্যের ভিত্তিতেই এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে দেখা প্রয়োজন।
আকাশ, ঝালকাঠি প্রতিনিধি | 27 October 2026, 6:40 pm
জেন্ডার স্টেরিওটাইপ বা নারী–পুরুষকে নিয়ে প্রচলিত গতানুগতিক ধারণা দূরীকরণ, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঝালকাঠিতে অ্যাডভোকেসি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা ১১টায় ঝালকাঠি প্রেসক্লাব মিলনায়তনে স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ইয়ুথ অ্যাকশন সোসাইটির (ইয়াস) আয়োজনে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। ‘সমতায় তারুণ্য: ইয়ুথ ফর ইকুয়ালিটি’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত কর্মসূচিটি জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের উদ্যোগে, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সহযোগিতায় এবং নেদারল্যান্ডস সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
ইয়াসের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহিদুল ইসলাম রাব্বির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি আবির হোসেন রানা।
সংলাপে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি জেলা তথ্য অফিসার লেলিন বালা, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান, শহর সমাজসেবা অফিসার খান জসিম উদ্দিন, উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার মো. মাহামুদ আলম জোমাদ্দার, ঝালকাঠি দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ইসমাঈল মুসাফির এবং সাংবাদিক শাহিন আলম।
সংলাপে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন যুব সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন। এ সময় জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠা এবং নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ের সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও সম্ভাব্য সমাধান নির্ধারণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন দোলন আক্তার ও সাহরিয়া পাপন।
আলোচনায় জেন্ডারভিত্তিক সামাজিক ধ্যানধারণা, নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য, নারীর অধিকার সুরক্ষা এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের প্রতিটি স্তরে নারী-পুরুষের সমান মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্যহীন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
বক্তারা বলেন, জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠা ও নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও তরুণদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে।
জেলা তথ্য অফিসার লেলিন বালা বলেন, জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও ইতিবাচক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা জরুরি। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম ও তথ্যসেবার মাধ্যমে নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
মেডিকেল অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা, ব্যক্তিগত মর্যাদা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সুজনের সম্পাদক ইসমাঈল মুসাফির নারীর সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা, সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় নারীর অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ইয়াসের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহিদুল ইসলাম রাব্বি বলেন, “জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচক পরিবর্তন, নারীর অধিকার সুরক্ষা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় নারী ও তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে নারীর প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্য প্রতিরোধে সরকারি দপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং যুব সংগঠনগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। এ ধরনের সংলাপ পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার পাশাপাশি তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশেও ভূমিকা রাখবে।
সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠা, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা নিশ্চিত করার আশাবাদ জানান।
আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এ সংলাপের মাধ্যমে জেন্ডার সমতা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনের সঙ্গে সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বয় জোরদার এবং নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের পথ সুগম হবে।
মেহরাব হোসেন রিফাত, ঝালকাঠি। | 26 October 2026, 8:27 pm
ঝালকাঠির নলছিটিতে নেতিবাচক জেন্ডার স্টেরিওটাইপ মোকাবেলা, ডিজিটাল নিরাপত্তা, গণমাধ্যম সম্পর্কে সচেতনতা এবং সামাজিক পরিবর্তনে তরুণ তরুণীদের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে স্থানীয় সরকার, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধ নিয়েও আলোচনা হয়।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় নলছিটি উপজেলা পরিষদের হলরুমে তারুণ্যের নলছিটি যুব সংগঠনের আয়োজনে এবং জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের যৌথ বাস্তবায়নে এবং ঢাকাস্থ নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত সমতায় তারুণ্য প্রকল্পের আওতায় এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
তারুণ্যের নলছিটি যুব সংগঠনের সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেরাব হোসেন রিফাত। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নলছিটি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিসুর রহমান হেলাল, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার, উপজেলা মাধ্যমিক কার্যালয়ের একাডেমিক সুপারভাইজার বদরুল আমিন, নলছিটি থানার সেকেন্ড অফিসার সুফল সরকার, ভলান্টিয়ার্স অব নলছিটির আহ্বায়ক ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) নলছিটি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত আলম ফকির এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নলছিটি উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষক মনির ইউ জামান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নলছিটি উপজেলা শাখার সভাপতি শাহজালাল হোসাইন জিহাদী।
এ ছাড়া সরকারি নলছিটি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক জামাল হোসাইন, উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরি ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষক মনিরুজ্জামান, জুলফিকার আলী ভুট্টো ডিগ্রি কলেজের শরীরচর্চা শিক্ষক রুবেল হোসেন, উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রতিনিধি আঃ মান্নান, জাতীয় স্বীকৃতিপ্রাপ্ত উদ্যোক্তা ও রেনেসা যুব সামাজিক সংঘের সভাপতি আক্তারুজ্জামানসহ প্রাণের টানে রক্তদান, রাইট টক বাংলাদেশ, ইস্কুল ম্যাগাজিন, তারুণ্যের নলছিটি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সংলাপে বক্তারা মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধ, তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, নারী-পুরুষ সম্পর্কে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা ও সামাজিক কুসংস্কার দূর করা, নারীদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, অনলাইন নিরাপত্তা এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ব্যবহার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পাশাপাশি এসব সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও তরুণদের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিসুর রহমান হেলাল বলেন, মাদক ও কিশোর গ্যাং সমাজের জন্য একটি ব্যাধি। এসব সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি নারীদের অধিকার সুরক্ষা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সমাজের সব শ্রেণি পেশার মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার বলেন, নারীদের পিছিয়ে পড়া রোধে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের সংলাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নারীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
সংলাপে নারী পুরুষ সম্পর্কে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা, নেতিবাচক জেন্ডার স্টেরিওটাইপ, সামাজিক কুসংস্কার ও তার প্রভাব এবং মোকাবেলায় সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের সচেতন ও সংবেদনশীল করা হয়। আলোচনার শেষ পর্যায়ে সকলের অংশগ্রহণে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়।
আয়োজকেরা জানান, তরুণ তরুণীদের নেতৃত্ব বিকাশ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, নেতিবাচক জেন্ডার স্টেরিওটাইপ মোকাবেলা এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে তরুণদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এ ধরনের সংলাপের মূল লক্ষ্য। এই সংলাপের মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুব নেতৃত্বাধীন সংগঠনসমূহ স্থানীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়, যা নেতিবাচক জেন্ডার স্টেরিওটাইপ মোকাবেলায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
আকাশ, ঝালকাঠি প্রতিনিধি | 26 October 2026, 8:15 pm
প্রচলিত সামাজিক ভুল ধারণা ভাঙা, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সামাজিক পরিবর্তনে তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশের লক্ষ্যে ঝালকাঠির নলছিটিতে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২৬) নলছিটি উপজেলা অডিটোরিয়ামে উপজেলার ৩৫ জন তরুণের অংশগ্রহণে প্রশিক্ষণটির আয়োজন করে সুহাসিনী স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন। ‘সমতায় তারুণ্য’ প্রকল্পের ‘ইয়ুথ ফর ইক্যুয়ালিটি’ কার্যক্রমের আওতায় এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশিক্ষণে জেন্ডার স্টেরিওটাইপ, নারীর অধিকার, ডিজিটাল নিরাপত্তা, গণমাধ্যমে তথ্য যাচাই ও অ্যাডভোকেসির মাধ্যমে সামাজিক পরিবর্তনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। তরুণদের অধিকার সচেতনতা বৃদ্ধি, বৈষম্য ও কুসংস্কার প্রতিরোধ এবং সামাজিক সমস্যা সমাধানে গঠনমূলক ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এতে
প্রশিক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন মো. ইমরান খান ও সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি সাথী আক্তার।
জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের যৌথ বাস্তবায়নে এবং ঢাকাস্থ নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের আর্থিক সহযোগিতায় ‘সমতায় তারুণ্য’ প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণটি অনুষ্ঠিত হয়।
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরিশাল। | 24 October 2026, 7:48 pm
বরিশাল তরুণ সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের ২০২৬-২০২৭ সালের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিএইচএস নিউজের ওমর ফারুক (সাব্বির খান) এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন সময়ের বার্তার আল-আমিন গাজী।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় বরিশালের ইউরো কনভেনশন হলে পরিচিতি সভা ও নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
এতে বরিশাল নগরীর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
নবগঠিত কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি হয়েছেন ভয়েস অব বরিশালের এইচ এম হেলাল। সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের আহমেদ বায়েজীদ ও দখিনের কণ্ঠের মুরাদ হোসাইন।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন দৈনিক সুন্দরবনের তানজিমুন ইসলাম রিশাদ ও আমাদের বরিশালের নাইম হোসেন। সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন দৈনিক মতবাদের আবদুর রহমান। সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন প্রথম সকালের মিল্টন কবিরাজ ও আজকের পত্রিকার মেহেদী হাসান রাতুল।
কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ক্রাইম নিউজের রাহাত রাব্বি এবং সহ-কোষাধ্যক্ষ হয়েছেন দৈনিক আইন বার্তার মাছুম বিল্লাহ। দপ্তর সম্পাদক হয়েছেন দৈনিক ঘোষনা পত্রিকার জিহাদ হোসেন। প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হয়েছেন বিএইচএস নিউজের জয় চন্দ্র শীল এবং সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হয়েছেন আজকের তালাশের শাহাদাৎ হোসেন।
তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন আগামীর সময়ের জিহাদ হাসান। গণমাধ্যম ও যোগাযোগ সম্পাদক হয়েছেন আজকের বার্তার মোঃ এম টিটু এবং ডিজিটাল মিডিয়া সম্পাদক হয়েছেন বরিশাল টাইমসের মোঃ শাফায়েত হোসেন। আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক হয়েছেন দৈনিক দেশবার্তার আতিকুর রহমান, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন সিটিটি নিউজের পারভেজ হোসেন, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন বরিশাল টিভির মোঃ সাইমুন হোসেন এবং নারী বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন দৈনিক যুগান্তরের মনিকা চৌধুরী।
কমিটির সম্মানিত সদস্য হিসেবে রয়েছেন ক্রাইম নিউজের সাইফুল ইসলাম শান্ত, বরিশাল টাইমসের মেহেদী হোসেন, দৈনিক শাহনামার মোঃ সুজন হাওলাদার, দক্ষিণাঞ্চল পত্রিকার মোঃ সোহেল রানা, প্রত্যাশা বার্তার মোঃ রাশেদ, চ্যানেল ২৪-এর ভিডিও জার্নালিস্ট আরাফ আহমেদ শাকিল, বিএইচএস নিউজের এম এ গোফরান ও এস এম জাহিদ টিয়ান, আনন্দ টিভির সাঈদ আহমেদ মিরাজ, বরিশাল নিউজ ২৪-এর ফেরদাউস হোসেন, মোঃ শাহিন এবং কলমের কণ্ঠের বেল্লাল হোসেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম খসরু,বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন, সহ সভাপতি মোঃ জাকির হোসেন, বরিশাল টেলিভিশন মাল্টিমিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আকতার ফারুক শাহিন, দৈনিক প্রথম সকালের প্রকাশক ও সম্পাদক কাজী আল মামুন, বরিশাল প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম মোফাজ্জল, বরিশাল প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ সুখেন্দ এদবর, এবং কার্যকরী সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক ভূঁইয়া ও কমল সেন গুপ্ত ও বরিশাল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান হিরা।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন খবরের কাগজের বরিশাল ব্যুরো প্রধান মইনুল ইসলাম সবুজ, সময় টেলিভিশনের বরিশাল ব্যুরো প্রধান অপূর্ব অপু, জাগো নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক মোঃ শাওন খান, বাংলা নিউজ২৪-এর নিজস্ব প্রতিবেদক মুশফিক সৌরভ, দৈনিক আজকালের কে এম নয়ন, স্টার নিউজের ব্যুরো প্রধান সৈয়দ মেহেদী হাসান, চ্যানেল ওয়ানের ব্যুরো প্রধান আরিফুর রহমান, কালের কণ্ঠের নিজস্ব প্রতিবেদক আজিম হোসেন সুহাদ, দখিনের প্রতিবেদনের রাইসুল ইসলাম অভি, রিপোর্ট ৭১-এর আমিনুল ইসলাম সোহাগ, ক্রাইম নিউজের সম্পাদক খন্দকার রাকিব হোসেন এবং দৈনিক আজকের তালাশের সম্পাদক মারুফ হোসেনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকেরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা নবগঠিত কমিটির উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন। তাঁরা তরুণ সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থেকে পেশাগত দায়িত্বশীলতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসরণের মাধ্যমে বরিশালের গণমাধ্যম অঙ্গনে তরুণ সাংবাদিকদের ভূমিকা আরও জোরালো হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।
আকাশ, ঝালকাঠি প্রতিনিধি | 22 October 2026, 8:31 pm
সামাজিক দায়বদ্ধতা, মানবিক মূল্যবোধ ও তারুণ্যের বিকাশে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন শাকিল রনি। সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং তরুণদের মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে কাজ করছেন তিনি।
২০০৪ সালে সামাজিক সংগঠন সিটি ক্লাব ও পাঠাগারের সাধারণ সদস্য হিসেবে যুক্ত হন শাকিল রনি। তবে সদস্য হওয়ার আগ থেকেই সংগঠনটির বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে দপ্তর সম্পাদক, সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি সংগঠনটির আজীবন সদস্য।
দীর্ঘ সাংগঠনিক পথচলায় বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় সংগঠনে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন শাকিল রনি। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ইয়েস গ্রুপের দলনেতা হিসেবে দুইবার দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির যুব উপপ্রধান দুই ও যুব প্রধানের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সংগঠনটির আজীবন সদস্য হিসেবেও যুক্ত রয়েছেন।
প্রথম আলো বন্ধুসভার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা দীর্ঘদিনের। সংগঠনটিতে দপ্তর সম্পাদক, অর্থ সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। এ নিয়ে তিনবার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
পরিবেশ সংরক্ষণ ও সামাজিক সচেতনতা তৈরিতেও সক্রিয় শাকিল রনি। তিনি বিডি ক্লিন ঝালকাঠির জেলা সমন্বয়ক, ক্লিন রিভার বাংলাদেশের বরিশাল বিভাগীয় ক্যাপ্টেন, ইয়ুথ কাউন্সিল অব বাংলাদেশের বরিশাল বিভাগীয় অ্যাম্বাসাডর এবং গ্রিন ফোর্স বাংলাদেশের প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশের সহসভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন।
জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ধ্রুবতারা ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনে জেলা পর্যায়ে দপ্তর সম্পাদক থেকে শুরু করে সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। পরবর্তী সময়ে সংগঠনটির বরিশাল বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক, সহসভাপতি ও সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন। ইয়ুথ অ্যাকশন সোসাইটি ইয়াসের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন শাকিল রনি।
এ ছাড়া বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ঝালকাঠি জেলা সমন্বয়ক, প্রত্যয় তরুণ সংঘের সিনিয়র সহসভাপতি এবং শহর সমাজসেবা সমন্বয় পরিষদের প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। শহর সমাজসেবা সমন্বয় পরিষদে তাঁর দায়িত্বের মেয়াদ ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। তিনি ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির আজীবন সদস্য, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের ক্যাবের প্রচার সম্পাদক এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপার সদস্য হিসেবেও যুক্ত রয়েছেন।
সাংগঠনিক ব্যস্ততার মধ্যেও সাহিত্যের প্রতি রয়েছে তাঁর বিশেষ অনুরাগ। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে শিশু-কিশোর ও তরুণদের বই পড়ায় আগ্রহী করে তুলতে কাজ করছেন তিনি। নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে অনেকের মধ্যে বিনামূল্যে বই বিতরণ করেছেন। তাঁর বিশ্বাস, বই মানুষের চিন্তাকে প্রসারিত করে, মননশীলতা বাড়ায় এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলে।
নতুন প্রজন্মকে নিয়ে শাকিল রনির ভাবনাও স্পষ্ট। তাঁর মতে, পড়াশোনার পাশাপাশি তরুণদের সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা প্রয়োজন। তরুণেরা ভালো কাজে সম্পৃক্ত হলে তাদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত হবে। একই সঙ্গে মাদকসহ বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকতেও ইতিবাচক পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শাকিল রনির কাছে সামাজিক সংগঠন কেবল পদ-পদবি কিংবা পরিচিতির জায়গা নয়, বরং মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজের জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখার একটি ক্ষেত্র। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ড ও সাহিত্যচর্চার মধ্য দিয়ে তিনি নতুন প্রজন্মকে একটি মানবিক ও দায়িত্বশীল সমাজ গঠনে উদ্বুদ্ধ করতে চান।পরিচয়
আকাশ, ঝালকাঠি প্রতিনিধি | 21 October 2026, 9:45 pm
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্মৃতি মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর ফাইনাল খেলা উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে সুবিদপুর ইউনিয়নের মাদারঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন বালুর মাঠে এ ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
ফাইনাল ম্যাচে ‘দশআনি একাদশ’ বনাম ‘টেনশন একাদশ’ মুখোমুখি হয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে টেনশন একাদশকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে দশআনি একাদশ। খেলাটি দেখতে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
ফাইনাল খেলায় সুবিদপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আমন্ত্রিত অতিথিরা এ ধরনের সামাজিক ও ক্রীড়ামুখী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতেও সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে ২ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি ও ঝালকাঠি সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মো. আরিফুল ইসলাম আকাশ বলেন, “একমাত্র খেলাধুলাই পারে তরুণদের বিপথগামী হওয়া থেকে বিরত রাখতে। তরুণদের মেধা, মনন ও শারীরিক বিকাশে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই।”
টুর্নামেন্ট সফলভাবে আয়োজনের জন্য অংশগ্রহণকারী দল, প্লেয়ার, অতিথিবৃন্দ, দর্শক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছে আয়োজক কমিটি।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বরিশালের ঐতিহ্যবাহী সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর কাজী জাবের আহমেদের নেতৃত্বে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল। এ সময় কলেজের বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা ও সংকট নিয়ে আলোচনা হয়। সমস্যা সমাধানে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন চিফ হুইপ।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় বরিশাল সার্কিট হাউসে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে কলেজের শিক্ষা কার্যক্রমের পরিবেশ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। এ সময় দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান সমস্যা ও সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কলেজের সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
কলেজের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা কামনা করেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর কাজী জাবের আহমেদ। জবাবে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এমপি এসব সমস্যা সমাধানে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
উল্লেখ্য, ১৮৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত সরকারি ব্রজমোহন কলেজ দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন ধরে কলেজটি বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলে উচ্চশিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।
সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক সুলতান রিয়াজ মাহমুদ, সহযোগী অধ্যাপক ড. মাসুদ, রাশেদ খান শাহীন, সহকারী অধ্যাপক তৈমুর রহমান ও রিয়াজুল হক এবং বিএম কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ ও বাশার।
কয়েকটি কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের চেষ্টার বিষয়ে গোয়েন্দাদের কাছে পরিষ্কার খবর আছে। যারা পালিয়ে গেছে, তারা অর্থ সরবরাহ করছে এবং যারা বেহেশতের টিকিট বিক্রি করতো তাদের মাধ্যমে অর্থ দিচ্ছে। এই দুই পক্ষ এক হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর মাদরাসা মাঠে এক জনসভায় তিনি এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
কেউ যাতে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে সে বিষয়ে জনগণকে সচেতন হবার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান। তিনি বললেন, একটি দল মুখে চব্বিশের কথা বলে, কিন্তু তারা শহীদদের স্মরণে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলো না। তাদের মুখে এক কথা, কর্মে আরেক।
তারেক রহমান দাবি করেন, কতগুলো দল বিএনপির তথা জনগণের কর্মসূচি সফল হোক তা চায় না। আগামী ৫ বছর বিএনপিকে সমর্থন দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান দলটির চেয়ারম্যান।
সরকারপ্রধান আরও বলেন, বিদেশ থেকে কেউ এসে দেশ গড়ে দিয়ে যাবে না। নিজেদেরকেই গড়তে হবে। তিস্তা ও পদ্মায় সরকারই ব্যারেজ তৈরি করবে। কুচক্রী মহল দেশের ভাগ্য বদলে বাধা দিতে চেষ্টা করছে। পানির ন্যায্য হিস্যা বুঝে নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
পিরোজপুরের নাজিরপুর ও নেছারাবাদ খেয়া পারাপারে অতিরিক্ত যাত্রী ও ৬ টি মোটরসাইকেল বহনের কারণে একটি ট্রলার দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনায় এক শিশু প্রাণ হারিয়েছে এবং তার মা দুর্ঘটনার ১৮ ঘন্টা অতিবাহিত হওয়ার পরেও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে দুর্ঘটনাকবলিত নাজিরপুরের শ্রীরামকাঠী ও নেছারাবাদের ভরতকাটী খেয়া ঘাট এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মেদ সোহেল মনজুর।
জানা যায়, সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে শ্রীরামকাঠী-ভরতকাঠী ফেরিঘাট এলাকায় অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল নিয়ে কালিগঙ্গা নদী পার হওয়ার সময় অতিরিক্ত যাত্রী পারাপার করতে গেলে তলাটি একপাশে কাত হয়ে যায় এবং ট্রলারে থাকা যাত্রী নদীতে পড়ে যায়। নদীতে পড়ে যাওয়া যাত্রীরা সাঁতরে এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় পাড়ে উঠতে পারলেও নিখোঁজ হন মা ও মেয়ে। ফায়ার সার্ভিস ডুবুরি দলের চেষ্টায় রাত ১১ টা ১০ মিনিটের দিকে মৃত অবস্থায় মেয়েকে উদ্ধার করা হলেও মাকে (মঙ্গলবার বেলা তিনটা পর্যন্ত) ১৮ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরেও তার খোঁজ মেলেনি। তবে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এবং নৌ বাহিনীর ডুবুরী দলের উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী উদ্ধার কাজের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় নিখোঁজ নারীকে দ্রুত উদ্ধারে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা প্রশাসক মো. গোলাম রাব্বানী, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান, নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজিয়া শাহনাজ তমা, ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর কর্মকর্তা এবং নাজিরপুর থানা পুলিশের একটি দল।