ক্যাম্পাস রাজনীতিতে শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জনের পথেই হাঁটতে চান বিএম কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন
বরিশালের ঐতিহ্যবাহী সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের ইতিহাস যেমন শিক্ষা, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক চর্চার দীর্ঘ ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ, তেমনি সময়ের পরিক্রমায় এই ক্যাম্পাস থেকে উঠে এসেছেন অসংখ্য নেতৃত্ব, যারা পরবর্তীতে জাতীয় পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। প্রতিটি সময়েই নতুন প্রজন্মের কিছু তরুণ নিজেদের চিন্তা, কর্ম এবং নেতৃত্বের মাধ্যমে আলাদা করে পরিচিতি তৈরি করেন। তাঁদেরই একজন ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের (২০২০–২১ সেশন) এই শিক্ষার্থী বর্তমানে সরকারি বিএম কলেজ ছাত্রদলের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক। তবে তাঁর সঙ্গে দীর্ঘ আলাপচারিতায় সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি সামনে এসেছে, তা হলো—তিনি নিজের পরিচয়কে কোনো পদ বা রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না। বরং তিনি বিশ্বাস করেন, একজন ছাত্রনেতার প্রকৃত পরিচয় তাঁর দায়িত্ববোধ, মানবিকতা এবং শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতায়।
আলাপের শুরুতেই তিনি বলেন,
“একজন শিক্ষার্থীর দায়িত্ব শুধু নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলা নয়; সমাজ, রাষ্ট্র এবং মানুষের প্রতিও তার দায়িত্ব রয়েছে। আমি সবসময় চেষ্টা করি সেই দায়িত্ববোধ নিয়েই পথ চলতে।”
কথাগুলো বলার সময় তাঁর কণ্ঠে ছিল আত্মবিশ্বাস, তবে তার চেয়েও বেশি ছিল দায়িত্বশীলতার প্রতিফলন। পুরো কথোপকথনের প্রায় প্রতিটি অংশেই ফিরে এসেছে একটি শব্দ—দায়িত্ব। যেন নেতৃত্বকে তিনি ক্ষমতার নয়, বরং সেবার জায়গা থেকে দেখতে অভ্যস্ত।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পাঠ থেকে বাস্তব রাজনীতির অঙ্গনে
সরকারি বিএম কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে রাষ্ট্র, গণতন্ত্র, নাগরিক অধিকার ও রাজনৈতিক দর্শনের নানা তত্ত্ব প্রতিদিনই তাঁর পাঠ্যসূচির অংশ। কিন্তু তাঁর কাছে রাজনীতি কেবল পাঠ্যবইয়ের বিষয় নয়; বরং মানুষের জীবন, অধিকার এবং সমাজের বাস্তবতার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত একটি অধ্যায়।
তিনি মনে করেন, একজন শিক্ষার্থী যদি দেশের রাজনীতি, গণতন্ত্র এবং নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন না হন, তাহলে তাঁর শিক্ষা পূর্ণতা পায় না। তাই একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তব অভিজ্ঞতার ক্ষেত্র হিসেবেও তিনি ছাত্ররাজনীতিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।
তাঁর ভাষায়,
“ছাত্ররাজনীতি হচ্ছে নেতৃত্ব শেখার প্রথম বিদ্যালয়। এখানে দায়িত্ব নেওয়া শেখা যায়, মানুষের কথা শোনা শেখা যায়, ত্যাগের শিক্ষা পাওয়া যায়।”
যে আদর্শ তাঁকে রাজনীতির পথে নিয়ে এসেছে
ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিনের রাজনৈতিক যাত্রা কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্তের ফল নয়। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরেই দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং রাষ্ট্রচিন্তা তাঁকে আকৃষ্ট করেছে।
তিনি বলেন, তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের ভিত্তি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ার চিন্তা। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়ার গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলন এবং বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও রাষ্ট্রচিন্তা তাঁকে ছাত্ররাজনীতিতে সম্পৃক্ত হতে অনুপ্রাণিত করেছে।
তবে তাঁর মতে, রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানুষের সেবা।
“রাজনীতি যদি শুধু ক্ষমতা বা ব্যক্তিগত পরিচয়ের জন্য হয়, তাহলে সেটি প্রকৃত রাজনীতি নয়। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সমাজের কল্যাণ এবং দেশ গঠনের দায়িত্ববোধ থেকেই রাজনীতি করা উচিত। আমি সেই বিশ্বাস থেকেই এই পথে এসেছি।”
পদ নয়, শুরুটা ছিল একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে
বর্তমানে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করলেও নিজের শুরুর দিনগুলো ভুলে যাননি।
ওয়ালিদ জানান, সংগঠনে যোগ দেওয়ার সময় তাঁর সামনে কোনো পদ বা পরিচয়ের স্বপ্ন ছিল না। বরং তিনি বিশ্বাস করতেন, একজন কর্মীর প্রকৃত পরিচয় তাঁর নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা, ত্যাগ এবং সংগঠনের প্রতি আন্তরিকতার মধ্যেই নিহিত।
তিনি বলেন,
“আমি কখনো ভাবিনি কোথায় পৌঁছাব। আমি শুধু চেষ্টা করেছি দায়িত্ব পালন করতে। কঠিন সময়ে সহকর্মীদের সঙ্গে ছিলাম, সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ নিয়েছি এবং নিজের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চটুকু দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমার কাছে পদ কোনো গন্তব্য নয়; এটি মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিফলন।”
ধীরে ধীরে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে করতেই আজ তিনি বিএম কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক। তবে এই অর্জনকে তিনি শেষ নয়, বরং নতুন দায়িত্বের সূচনা হিসেবেই দেখেন।
সাধারণ কর্মী থেকে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক—এই যাত্রা যতটা সম্মানের, ততটাই দায়িত্বেরও। ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন মনে করেন, একটি ছাত্রসংগঠনের নেতৃত্বে থাকা মানে শুধু কর্মসূচি পরিচালনা করা নয়; বরং শত শত শিক্ষার্থীর প্রত্যাশা, অভিযোগ, স্বপ্ন এবং সংকটের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখা।
তিনি বলেন, “আমার কাছে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয় নয়। এটি শিক্ষার্থীদের দেওয়া আস্থার প্রতিফলন। সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করাই আমার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।”
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি এবং তাঁর সহকর্মীরা সংগঠনের কার্যক্রমকে কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন সমস্যার দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাঁর ভাষায়, ছাত্রসংগঠনের গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার ওপর।
‘শোনা’ থেকেই শুরু নেতৃত্ব
ওয়ালিদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে একটি বিষয় বারবার উঠে এসেছে—তিনি নেতৃত্বের প্রথম শর্ত হিসেবে শোনার ক্ষমতাকে গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন,
“আমরা অনেক সময় মনে করি নেতৃত্ব মানেই নির্দেশ দেওয়া। কিন্তু আমার বিশ্বাস, নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় শক্তি মানুষের কথা মন দিয়ে শোনা। একজন শিক্ষার্থী যখন নিজের সমস্যার কথা বলতে পারে, তখনই সে নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখতে শুরু করে।”
এই চিন্তা থেকেই দায়িত্ব নেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই কলেজে অভিযোগ ও পরামর্শ বক্স স্থাপন করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল এমন শিক্ষার্থীদের মতামত সংগ্রহ করা, যারা হয়তো সরাসরি কোনো নেতার কাছে গিয়ে নিজের সমস্যার কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না।
ওয়ালিদের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে একাডেমিক সমস্যা, ক্যাম্পাস-সংক্রান্ত অসুবিধা এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রত্যাশা সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হয়েছে।
প্রতিশ্রুতিবাস্তবায়নেরচেষ্টা
নির্বাচনের সময় শিক্ষার্থীদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়েও তিনি আশাবাদী।
তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর কলেজ প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। একাডেমিক পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষাসেবা-সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা এবং শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা চালুর উদ্যোগ তাঁর উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমগুলোর একটি বলে তিনি মনে করেন।
তবে তিনি এটিও স্বীকার করেন, সব উদ্যোগ তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না।
“অনেক বিষয় আছে, যেগুলো আমাদের একার সিদ্ধান্তে করা সম্ভব নয়। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া রয়েছে, বাস্তবতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করি সমস্যাগুলো যথাযথ জায়গায় তুলে ধরতে এবং সমাধানের পথ খুঁজতে।”
মানবিককাজেওসক্রিয়থাকারপ্রত্যয়
ওয়ালিদের মতে, একটি ছাত্রসংগঠন কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে তার উদ্দেশ্য পূরণ হয় না।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানো, সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া এবং সংকটের সময়ে সহমর্মিতা দেখানোও একজন ছাত্রনেতার দায়িত্বের অংশ।
“মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারলে তবেই নেতৃত্বের মূল্য আছে। শুধু মঞ্চে বক্তৃতা দিলেই নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় না।”
প্রত্যাশারচাপইসবচেয়েবড়চ্যালেঞ্জ
দায়িত্ব পালনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী—এই প্রশ্নের উত্তরে ওয়ালিদ কিছুটা ভেবেই উত্তর দেন।
“সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মানুষের প্রত্যাশা। শিক্ষার্থীরা চায় তাদের সমস্যা দ্রুত সমাধান হোক। কর্মীরাও চায় সংগঠন আরও সক্রিয় হোক। কিন্তু বাস্তবতার কারণে সবকিছু সঙ্গে সঙ্গে করা সম্ভব হয় না।”
তাঁর মতে, অনেক সময় প্রশাসনিক জটিলতা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা কিংবা নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে কাঙ্ক্ষিত কাজ বাস্তবায়নে সময় লাগে। তবুও ধৈর্য, নিয়মিত যোগাযোগ এবং আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হয়।
ক্যাম্পাসেসহাবস্থানেরপক্ষে
বর্তমান সময়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার খবর প্রায়ই সামনে আসে। তবে ওয়ালিদ মনে করেন, মতের ভিন্নতা গণতান্ত্রিক সমাজের স্বাভাবিক বিষয়।
“ভিন্নমত থাকতেই পারে। কিন্তু সেই ভিন্নমত যেন কখনো সংঘাতের কারণ না হয়। আমরা চাই একটি শান্তিপূর্ণ, সহনশীল ও শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস, যেখানে সব শিক্ষার্থী নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারবে।”
তিনি বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, মানবিকতা এবং সহমর্মিতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারলেই ক্যাম্পাসের পরিবেশ আরও ইতিবাচক হবে।
শিক্ষার্থীদেরআস্থা—সবচেয়েবড়প্রাপ্তি
দীর্ঘ আলাপের এক পর্যায়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় অর্জন কী?
ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিনের উত্তর ছিল সংক্ষিপ্ত, কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ।
“আমার কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন কোনো পদ নয়। যদি একজন সাধারণ শিক্ষার্থী বিশ্বাস করে যে প্রয়োজনের সময় আমি তার পাশে দাঁড়াব, সেটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
পড়াশোনা, নেতৃত্ব ও স্বপ্ন—একজন ছাত্রনেতার ব্যক্তিগত দর্শন
একজন ছাত্রনেতার কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি—রাজনীতি আর পড়াশোনা কি পাশাপাশি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব? অনেকের মতে, সাংগঠনিক ব্যস্ততা একাডেমিক জীবনে প্রভাব ফেলে। আবার কেউ মনে করেন, সময় ব্যবস্থাপনা জানলে দুটি ক্ষেত্রেই সফল হওয়া সম্ভব।
ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন দ্বিতীয় মতের পক্ষেই দাঁড়ান। তাঁর মতে, একজন ছাত্রনেতার সবচেয়ে বড় পরিচয় হওয়া উচিত তিনি একজন শিক্ষার্থী। সেই পরিচয়কে অক্ষুণ্ন রেখেই নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করতে হয়।
তিনি বলেন,
“সময় ব্যবস্থাপনাই সবচেয়ে বড় বিষয়। আমি সবসময় চেষ্টা করি পড়াশোনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সংগঠনের দায়িত্বও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে।”
তবে তিনি স্বীকার করেন, অতীতের রাজনৈতিক বাস্তবতা তাঁর শিক্ষাজীবনকে কিছুটা প্রভাবিত করেছে।
“বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে ছাত্রদলের একজন কর্মী হওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই আমার একাডেমিক কার্যক্রম কিছুটা বিঘ্নিত হয়েছিল। এখন চেষ্টা করছি রাজনীতির পাশাপাশি সেদিকেও সমান গুরুত্ব দিতে। কারণ একজন ছাত্রনেতা যদি নিজেই শিক্ষাজীবনে সফল না হন, তাহলে অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা হওয়া কঠিন।”
‘নেতৃত্ব মানে দায়িত্ব’
ওয়ালিদের সঙ্গে দীর্ঘ আলাপের পুরোটা জুড়ে একটি বিষয় সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে—তিনি নেতৃত্বকে কখনো ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে দেখেন না।
বরং তাঁর ভাষায়,
“নেতৃত্ব মানে সবার আগে দায়িত্ব নেওয়া। নেতৃত্ব মানে মানুষের কথা শোনা, সংকটে পাশে দাঁড়ানো এবং নিজের চেয়ে অন্যের প্রয়োজনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া।”
একজন আদর্শ ছাত্রনেতার কী গুণ থাকা উচিত—এই প্রশ্নে তিনি বলেন,
“আমার কাছে একজন আদর্শ ছাত্রনেতা সেই ব্যক্তি, যিনি আগে একজন ভালো মানুষ। যার মধ্যে সততা, সাহস, বিনয়, ত্যাগের মানসিকতা এবং মানুষের কথা মন দিয়ে শোনার ক্ষমতা থাকবে। নেতৃত্ব কখনো অহংকারের বিষয় নয়; এটি জবাবদিহির একটি জায়গা।”
চারটি মূল্যবোধে বিশ্বাস
ব্যক্তিগত জীবনেও কিছু নীতিকে তিনি সবসময় অনুসরণ করার চেষ্টা করেন।
সততা, দায়িত্ববোধ, মানবিকতা এবং দেশপ্রেম—এই চারটি শব্দই তাঁর কাছে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
তিনি বলেন,
“মানুষকে পদ দিয়ে নয়, চরিত্র দিয়ে মূল্যায়ন করা উচিত। পদ একদিন থাকবে না, কিন্তু একজন মানুষের ব্যবহার, সততা এবং কর্মই তাকে মানুষের মনে বাঁচিয়ে রাখে।”
স্বপ্ন শুধু রাজনীতি নয়, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও
বিএম কলেজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ওয়ালিদের চোখে আলাদা উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
তিনি চান, কলেজটি শুধু ঐতিহ্যের জন্য নয়, শিক্ষার মান, গবেষণা, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশের দিক থেকেও দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হোক।
তাঁর স্বপ্নের তালিকায় রয়েছে—
ক্যারিয়ার অ্যান্ড স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেল,
উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ার গাইডেন্স ডেস্ক,
জরুরি শিক্ষার্থী সহায়তা তহবিল,
নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম,
প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শিক্ষা-সহায়ক ব্যবস্থা।
তিনি বলেন,
“আমি চাই ছাত্রসংগঠন শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকুক। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনেরও একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হোক। একজন শিক্ষার্থী যেন শুধু একটি ডিগ্রি নয়, দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস এবং নেতৃত্বের গুণ নিয়েও কলেজ থেকে বের হতে পারে।”
ভবিষ্যৎ নিয়ে অন্যরকম ভাবনা
অনেকেই ভবিষ্যৎ নিয়ে নির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা বলেন। কিন্তু ওয়ালিদের উত্তর ছিল কিছুটা ভিন্ন।
তিনি বলেন,
“আমি ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব বেশি পরিকল্পনা করি না। মানুষ মরণশীল। কখন, কোথায় এবং কীভাবে জীবনের সমাপ্তি হবে, তা একমাত্র মহান আল্লাহই জানেন। তাই আমি পদ নয়, প্রতিটি দিন যেন সততা, দায়িত্ববোধ এবং মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে পারি, সেই চেষ্টাই করি।”
কিছুক্ষণ থেমে তিনি আরও যোগ করেন,
“আমার একটাই প্রত্যাশা—যেদিন এই পৃথিবী থেকে বিদায় নেব, সেদিন মানুষ যেন আমাকে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এবং দোয়ার সঙ্গে স্মরণ করে। যদি একজন সৎ, দায়িত্বশীল ও মানবিক মানুষ হিসেবে মানুষের হৃদয়ে সামান্য জায়গাও করে নিতে পারি, সেটাই হবে আমার সবচেয়ে বড় অর্জন।”
নতুন প্রজন্মের প্রতি বার্তা
ছাত্ররাজনীতিতে আসতে আগ্রহী নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য তাঁর পরামর্শও বেশ স্পষ্ট।
“প্রথমে নিজেকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলুন। পড়াশোনাকে গুরুত্ব দিন। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকুন। রাজনীতিকে কখনো ব্যক্তিগত লাভের মাধ্যম হিসেবে নয়, মানুষের সেবার একটি মহৎ দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করুন। আদর্শ, শৃঙ্খলা ও ত্যাগ ছাড়া প্রকৃত নেতৃত্ব সৃষ্টি হয় না।”
শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে
আলাপের শেষদিকে কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের উদ্দেশে নিজের বার্তা তুলে ধরেন ওয়ালিদ।
তিনি বলেন,
“শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। নৈতিক মূল্যবোধ এবং দেশপ্রেম ধারণ করে নিজেকে একজন যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আমাদের শিক্ষকরা শুধু পাঠদান করেন না, তাঁরা আমাদের পথপ্রদর্শক। আর অভিভাবকদের প্রতি আমার অনুরোধ, সন্তানদের শুধু ভালো ফলাফলের জন্য নয়, একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে উৎসাহিত করুন। আমরা সবাই যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল হই, তাহলে আমাদের কলেজ, সমাজ এবং বাংলাদেশ অবশ্যই আরও সুন্দর ও সমৃদ্ধ হবে।”
শেষকথা
কথোপকথন শেষে ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিনকে বিদায় জানিয়ে বেরিয়ে আসার সময় মনে হচ্ছিল, তাঁর কথাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত শব্দ ছিল—দায়িত্ব।
রাজনীতির উত্তাপ, সাংগঠনিক ব্যস্ততা কিংবা নেতৃত্বের আলোচনার ভিড়েও তিনি বারবার ফিরে গেছেন মানুষের কাছে, শিক্ষার্থীদের কাছে, দায়িত্বের কাছে।
ভবিষ্যতে তাঁর পথচলা কোন দিকে যাবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—নিজের ভাষায় তিনি যে পরিচয়টি সবচেয়ে বেশি ধারণ করতে চান, সেটি কোনো পদবির নয়; একজন দায়িত্বশীল, মানবিক এবং শিক্ষার্থীদের আস্থার জায়গা হয়ে ওঠা মানুষের।
আর হয়তো এ কারণেই তাঁর একটি বাক্য দীর্ঘ আলাপের পরও মনে থেকে যায়—
“পদ একদিন শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু মানুষের ভালোবাসা ও বিশ্বাসই একজন মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়।”
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরিশাল। | 12 October 2026, 11:38 pm
বরিশাল সদর উপজেলার ০৯ নম্বর টুংঙ্গিবাড়িয়া ও ০৮ নম্বর চাঁদপুরা ইউনিয়নে একই পরিবারের দুই ভাইয়ের সার ডিলারশিপ পাওয়া নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। বড় ভাই বাবুল খন্দকার বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। তাঁর দুই ভাই সিরাজ খন্দকার ও শাহ আলম খন্দকার পৃথক দুটি ইউনিয়নে সার ডিলারশিপ পেয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া, যোগ্যতা যাচাই এবং সরকারি নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খন্দকার পরিবারের মূল বাড়ি ভোলা জেলায়। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারটি বরিশাল সদর উপজেলার টুংঙ্গিবাড়িয়া ইউনিয়নে বসতি স্থাপন করে। বাবুল খন্দকারের রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের বিষয়টি সামনে রেখে তাঁর ছোট ভাই সিরাজ খন্দকার টুংঙ্গিবাড়িয়া ইউনিয়নে সার ডিলারশিপ পেয়েছেন। অন্যদিকে, আরেক ভাই শাহ আলম খন্দকার চাঁদপুরা ইউনিয়নের কুন্দিয়ালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় দিয়ে ‘খন্দকার স্টোর’ নামে সার ডিলারশিপ নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৫’ এবং পরবর্তী সংশোধিত নির্দেশনায় ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণে স্বচ্ছতা, যোগ্যতা যাচাই এবং একই পরিবারের একাধিক ডিলারশিপের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণভাবে উঠে এসেছে। ২০২৫ সালের নীতিমালায় একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে ডিলার নিয়োগের সুযোগ রহিত করার কথা বলা হয়েছিল। পরবর্তী সংশোধিত নীতিমালা ও ২০২৬ সালের নির্দেশনাও এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত একই পরিবারের একাধিক সদস্যের ডিলারশিপ নিষিদ্ধ করার বিধানের ওপর হাইকোর্টের স্থিতাবস্থার আদেশ স্থগিত করেন বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট নিয়োগের ক্ষেত্রে কার্যকর নীতিমালা, আদেশের সময়কাল এবং প্রযোজ্য শর্ত যাচাই করা জরুরি।
অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয়দের প্রশ্ন, একই পরিবারের দুই ভাই পৃথক দুটি ইউনিয়নে সার ডিলারশিপ পেয়ে থাকলে তাঁদের নিয়োগের ক্ষেত্রে পারিবারিক সম্পর্ক,আবেদনকারীদের স্থায়ী ঠিকানা, ব্যবসায়িক যোগ্যতা, গুদাম ও অন্যান্য শর্ত কীভাবে যাচাই করা হয়েছে? একই সঙ্গে, ডিলার নিয়োগে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব কোনো ভূমিকা রেখেছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
কৃষকদের জন্য সরকার-নির্ধারিত মূল্যে সার সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ডিলার নিয়োগে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং যোগ্য আবেদনকারীদের ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ব্যাপারে নিয়োগ পাওয়া স্যার ডিলার খন্দকার শাহআলম ও খন্দকার সিরাজ প্রতিবেদককে জানান, আমরা সরকারি নিয়ম নীতি মেনেই ডিলারশিপ পেয়েছি।
ঝালকাঠির নলছিটি থেকে স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের যাত্রা শুরু করে জাতীয় পর্যায়ে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি অর্জন করেছেন মো. খালেদ সাইফুল্লাহ। শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অবদানের জন্য তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় প্রদত্ত ‘Youth Volunteer Award 2025’ অর্জন করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সারাদেশ থেকে নির্বাচিত ১২ জন পুরস্কারপ্রাপ্তের মধ্যে তিনি বরিশাল বিভাগের একমাত্র প্রতিনিধি।
শৈশব থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি সাংগঠনিক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে আগ্রহী ছিলেন খালেদ সাইফুল্লাহ। ঝালকাঠি এনএস কামিল মাদ্রাসায় পড়ার সময় কোরআন তেলাওয়াত, বক্তৃতা, কবিতা আবৃত্তি ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তাঁর আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বের বিকাশ ঘটে। অষ্টম শ্রেণিতে বন্ধুদের নিয়ে ‘মানব উন্নয়ন ফাউন্ডেশন’ গঠন করেন। ছোট পরিসরে সভা, সেমিনার ও সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তাঁর স্বেচ্ছাসেবামূলক পথচলা।
২০১৩ সালে ফিলিস্তিন সংকটের প্রেক্ষাপটে স্থানীয়ভাবে ইসরায়েলি পণ্য বর্জনের প্রচারণায় অংশ নেন তিনি। সংগঠনের কার্যক্রম সচল রাখতে শিক্ষার্থীদের জন্য সাজেশন পুস্তিকা বিক্রির উদ্যোগও গ্রহণ করেন। অষ্টম শ্রেণিতে জেলায় প্রথম স্থান অর্জনসহ ট্যালেন্টপুল বৃত্তি এবং দাখিলে জিপিএ-৫ অর্জন করেন খালেদ।
কলেজজীবনে লেখালেখি ও সংগঠনে সম্পৃক্ততা
কলেজজীবনে তাঁর সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি লেখালেখির প্রতি আগ্রহ বাড়ে। হাতেম আলী কলেজে অধ্যয়নকালে ‘ইসলামিক কালচারাল প্ল্যাটফর্ম’ গড়ে তোলেন। ‘চেতনার খোরাক’ নামে পাণ্ডুলিপি প্রকাশ এবং ‘সোনালী সকাল’ যৌথ কাব্যগ্রন্থে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সাহিত্যচর্চায় যুক্ত থাকেন।
বিতর্ক, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও অধিকারভিত্তিক আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলন ও প্রশ্নফাঁসবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ তাঁর নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করে। পাশাপাশি পাঠক পাঠাগার ও ডিবেটার্স কমিউনিটি অব বরিশালসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কাজ করেন।
করোনাকালে ‘তারুণ্যের নলছিটি’
২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারির সময় তরুণদের সংগঠিত করে নিজ এলাকায় সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন খালেদ সাইফুল্লাহ। তাঁর নেতৃত্বে ‘তারুণ্যের নলছিটি’ শিক্ষা, সবুজায়ন, সামাজিক সচেতনতা, দক্ষতা উন্নয়ন ও তরুণ নেতৃত্ব বিকাশে কাজ করতে থাকে।
কর্মশালা, অলিম্পিয়াড, প্রশিক্ষণ এবং স্থানীয় সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের সামাজিক কাজে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছে সংগঠনটি। বর্তমানে তিনি সংগঠনটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিশিক্ষায় ‘Team STEM’
শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক শিক্ষায় আগ্রহী করে তুলতে ‘Team STEM’ নামে একটি উদ্যোগ গড়ে তোলেন খালেদ সাইফুল্লাহ। কর্মশালা, প্রতিযোগিতা ও বিজ্ঞান প্রদর্শনীর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখার সুযোগ তৈরির চেষ্টা করা হয়।
২০২৪ সালে সেভ দ্য চিলড্রেন আয়োজিত ‘Idea Challenge 2024’-এ জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ী হওয়ার অভিজ্ঞতাকে তিনি নিজের উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিযোগিতায় অর্জিত পুরস্কারের অর্থ দিয়ে নলছিটিতে উদ্ভাবনবিষয়ক কর্মশালা ও STEM প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
খালেদের মতে, মেধা বিকাশের জন্য শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা, বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং নতুন কিছু করার সুযোগ। স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের এমন সুযোগ তৈরি করাই তাঁর উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
লেখালেখি ও সাংবাদিকতায় অবদান
লেখালেখি ও নাগরিক সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও সক্রিয় খালেদ সাইফুল্লাহ। বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কলাম, ফিচার ও চিঠিপত্র লিখেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে প্রায় অর্ধশত পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়েছে।
তাঁর বিশ্বাস, লেখালেখি মানুষের চিন্তা প্রকাশের পাশাপাশি সমাজের সমস্যা, সম্ভাবনা ও তৃণমূলের মানুষের কথা তুলে ধরার শক্তিশালী মাধ্যম। এ ছাড়া ‘পাঠক পাঠাগার’ নামে কমিউনিটি লাইব্রেরির ধারণা নিয়েও কাজ করেছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক পরিসরে তরুণ নেতৃত্ব নিয়ে কাজ
২০২৪ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা Care for Assets, Resources & Obligations (CARO)-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবে কাজ করছেন খালেদ সাইফুল্লাহ। বর্তমানে তিনি সংস্থাটির সাধারণ সম্পাদক।
CARO-এর মাধ্যমে সম্পদ, দায়িত্ব ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতে ন্যায়ভিত্তিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার ধারণা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। সংস্থাটির Universal Governance Framework (UGF), PlayerOne Initiative ও Youth Political Leadership Simulation-এর মতো উদ্যোগে তরুণদের নীতি প্রণয়ন, সমস্যা বিশ্লেষণ ও নেতৃত্বের অনুশীলনের সুযোগ তৈরির চেষ্টা চলছে।
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের তরুণদের মধ্যে নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারণ বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে এসব উদ্যোগ ভূমিকা রাখছে বলে জানান তিনি। তাঁর লক্ষ্য, তরুণদের শুধু পরিবর্তনের প্রত্যাশী হিসেবে নয়, বরং দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হিসেবেও গড়ে তোলা।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি
২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেন খালেদ সাইফুল্লাহ। তাঁর মতে, তরুণদের সম্মিলিত উদ্যোগ ও ঐক্য সমাজে পরিবর্তন আনার শক্তি রাখে। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি অর্জনের পর পুরস্কারটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের উৎসর্গ করেছেন বলে জানান তিনি।
২০২৫ সালে ‘Youth Volunteer Award’ অর্জন তাঁর দীর্ঘদিনের স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। পুরস্কারের সঙ্গে ক্রেস্ট, সনদ ও এক লাখ টাকা সম্মানী দেওয়া হয়। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণের মুহূর্তটি তাঁর জীবনের স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।
তবে এই অর্জনকে তিনি কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবে দেখেন না। বরং স্থানীয় পর্যায়ে তরুণদের সংগঠিত করা, শিক্ষামূলক উদ্যোগ গ্রহণ এবং সামাজিক উন্নয়নে কাজ করার ধারাবাহিকতার স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচনা করেন।
শান্তি প্রতিষ্ঠায় ‘Peace Initiative’
বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগে মাস্টার্স করছেন খালেদ সাইফুল্লাহ। পড়াশোনার পাশাপাশি ‘Peace Initiative’ নামে একটি উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছেন তিনি। উদ্যোগটির মূল ধারণা P.E.A.C.E., যার পূর্ণরূপ Participate, Educate, Act, Connect ও Empower। এর স্লোগান ‘Learn Peace. Live Peace. Lead Peace.’
এই উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে শান্তির শিক্ষা, পারস্পরিক সহমর্মিতা, সংলাপ ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের চর্চা ছড়িয়ে দিতে চান তিনি। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনা এবং বিভেদের পরিবর্তে সহযোগিতার পরিবেশ তৈরিতে তরুণদের সম্পৃক্ত করাই তাঁর লক্ষ্য।
তরুণদের প্রতি খালেদের বার্তা
তরুণদের উদ্দেশে খালেদ সাইফুল্লাহর পরামর্শ, নিয়মিত বই ও পত্রিকা পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে, সহশিক্ষা ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে হবে এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও মতের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে বড় স্বপ্ন দেখা, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ, সততা বজায় রাখা এবং মহান সৃষ্টিকর্তার ওপর আস্থা রেখে কাজ করে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তাঁর মতে, শুধু একাডেমিক সাফল্য একজন তরুণকে পূর্ণাঙ্গভাবে গড়ে তোলে না। বাস্তব অভিজ্ঞতা, সৃজনশীলতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও নেতৃত্বের চর্চাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
নলছিটির স্থানীয় পরিসর থেকে শুরু হওয়া খালেদ সাইফুল্লাহর এই যাত্রা এখন জাতীয় স্বীকৃতি ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত। ভবিষ্যতে শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, স্বেচ্ছাসেবা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার কার্যক্রমকে সমন্বিত করে তরুণদের জন্য আরও কার্যকর প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে চান তিনি।
খালেদ সাইফুল্লাহর প্রত্যাশা, তরুণেরা নিজেদের মেধা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে, যেখানে সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপ, বিভেদের পরিবর্তে সহযোগিতা এবং বৈষম্যের পরিবর্তে ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে।
বরিশাল নগরীর চৌমাথা এলাকায় মহাসড়ক ও ফুটপাত অবৈধভাবে দখল করে পরিচালিত ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। রোববার (১১ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে চৌমাথা বাজারের সামনের অংশ থেকে এ অভিযান শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে বাজারসংলগ্ন এলাকা, সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের সামনের অংশ এবং চৌমাথা লেক এলাকায় উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান উজ জামানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ শাখার প্রধান লতিকুল্লাহ, ট্রেড লাইসেন্স বিভাগের আজিজ শাহীন এবং হাটবাজার শাখার প্রধান রেজাউল উপস্থিত ছিলেন।
বিসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান উজ জামান বলেন, নগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত করে জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে চৌমাথা এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়েছে। নগরীর সড়ক ও ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত রাখার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
নগরীর ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকাও পরিবহনকেন্দ্রসহ অন্যান্য স্থানে অবৈধ দখল ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ে জানতে চাইলে বিসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান উজ জামান বরিশাল টাইমসকে বলেন, “রূপাতলী ও নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় সড়ক ও জনসাধারণের চলাচলের স্থান দখল করে অবৈধ দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এসব স্থানে জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রাখা হবে। পাশাপাশি, উচ্ছেদের পর সড়ক ও ফুটপাত পুনরায় দখলমুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চৌমাথা এলাকায় এর আগেও একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে সিটি করপোরেশন। তবে অভিযান শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই পুনরায় ফুটপাত ও মহাসড়কের অংশবিশেষ দখল করে ব্যবসা পরিচালনার প্রবণতা দেখা যায়। এতে উচ্ছেদ কার্যক্রমের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ফুটপাত দখল থাকায় পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
নগরীর অন্যতম ব্যস্ত এ এলাকায় মহাসড়ক ও ফুটপাতের ওপর অবৈধ দখল স্থায়ীভাবে নিরসনে নিয়মিত তদারকি জোরদার এবং উচ্ছেদ-পরবর্তী সময়ে পুনর্দখল প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করলে ইউক্রেনও রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করতে প্রস্তুত। ১১ অক্টোবর রয়টার্সের প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, উত্তেজনা কমানোর পদক্ষেপ পারস্পরিক হতে হবে এবং কার্যকর নিশ্চয়তা থাকতে হবে। এ বিষয়ে রাশিয়ার অবস্থান ও পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের দিকে নজর রাখা হচ্ছে।
জিবুতির উপকূলে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ১০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নৌকাটিতে ৩০৫ জন ছিলেন; ৮০ জনের বেশি বেঁচে গেছেন এবং আরও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন। পূর্ব আফ্রিকা থেকে ইয়েমেনমুখী অভিবাসনপথে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ রাখার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, রাজধানীর স্কুলগুলোও সাময়িকভাবে অনলাইনে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিমান চলাচল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর সময় পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে জানানো হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শক্তিশালী হারিকেন সাইমন মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের দিকে এগোচ্ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঝড়টির বাতাসের গতি ঘণ্টায় প্রায় ১৫৫ মাইল পর্যন্ত পৌঁছেছে এবং উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কর্তৃপক্ষ সতর্কতা জারি করেছে এবং কিছু এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে।
পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে লক্ষ্য করে হামলার সম্ভাব্য পরিকল্পনা সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। রোববার নিরাপত্তা সংস্থা, পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে জরুরি বৈঠকের কথা জানানো হয়। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত ও নিরাপত্তা মূল্যায়ন চলছে।
দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি কর্মসূচির অগ্রগতি ও ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি প্রশ্ন তুলেছে বলে দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে। লক্ষ্য পূরণে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি, জমি, অর্থায়ন ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামোর বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কমিটির পরবর্তী বক্তব্যে অগ্রগতির বিস্তারিত জানা যাবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২৬ অক্টোবর জাপান সফরের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে দ্য ডেইলি স্টার। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে। সফরের চূড়ান্ত সূচি ও বৈঠকের বিষয়বস্তু সরকারি ঘোষণার ভিত্তিতে নিশ্চিত হবে।