বরগুনার তালতলী উপজেলার শিকারীপাড়া, কাজীর খাল ও নিউপাড়াসহ তিনটি গ্রামের ভাঙ্গন রোধে এলাকাবাসী সোমবার সকাল ১১টায় ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে স্থানীয় গ্রামবাসী।
শিকারীপাড়া গ্রামের আন্ধার মানিক নদীর তীরে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে শতাধিক মানুষ অংশগ্রহন করে।
স্থানীয়রা জানান, সাগর তীরবর্তী আন্ধার মানিক নদীর তীব্র ভাঙনের কারণে শিকারীপাড়া, নিউপাড়া ও কাজীরখাল গ্রামের শত শত পরিবার বসত ভিটা ও কৃষি জমি হারিয়ে তারা আজ নি:স্ব হয়ে অন্যত্র চলে গেছে।
গ্রাম তিনটিতে এখনো জারা বসবাস করছেন তাদেও বসত ভিটাও ও কৃষি জমিও বর্তমানে ভাঙ্গনের কারনে হুমকির মধ্যে রয়েছে।
ঋাঙ্গওনের হাত থেকে গ্রামবাসীকে রক্ষা করতে না পারলে সামনের বর্ষা মৌসুমে আরো পরিবার ভাঙ্গনের মুখে পড়তে পাওে বলে গ্রামবাসী আতঙ্কিত হয়ে পরছেন।
শিকারী পাড়া গ্রামের আজিজ ফকির বলেন, ভাঙ্গনের লইগ্যা মোগো গ্রামের ব্যামালা মানুষ ঘরবাড়ি ছাইর্যা অন্য জায়গায় চইল্যা গ্যাছে।
কাজিরখাল গ্রামের আম্বিয়া বেগম বলেন, বাবা মোরা ডরের মধ্যে আছি কোন সময় মোগো খালে সব লইয়া যায়। তালতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম হুমায়ুন আহমেদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন নিউপাড়া গ্রামের শানু আকন বলেন, ভাঙ্গনে মোগো জমি জমা থাকবে না।
জমি না থাকলে মোরা কি খাইয়া বাচমু। কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন উপজেলা জিয়া মঞ্চের সভাপতি ইমরান হোসেন ফোরকান, ইউপি সদস্য মো. আনোয়ার খান, সাবেক ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন, সমাজসেবক আলাউদ্দিন মোল্লা ও সাংবাদিক হাইরাজ মাঝি।
বক্তারা বলেন, প্রতি বছর নদী ভাঙ্গনের কারণে শিকারীপাড়া গ্রামের শত শত পরিবার তাদের বসতভিটা হারিয়ে বাস্তুহারা হয়েছে।
সামনের বর্ষা মৌসুমের আগে ভাঙ্গন রোধ করা না হলে ভাঙ্গনের ভয়াবহতা আরো বাড়বে বলে বক্তারা আশঙ্কা ব্যাক্ত করে অতিদ্রুত ব্লক ফেলে ভাঙ্গন রোধের দাবী জানান তারা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড তালতলীর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. হিমেল জানান, ভাঙ্গরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উর্ধতন কর্তপক্ষকে জানানো হবে।