“হাফপ্যান্ট পরে” ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের ম্যারাথন, পোশাক নিয়ে বিতর্ক

ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ম্যারাথন প্রতিযোগিতায় কয়েকজন অংশগ্রহণকারীর হাফপ্যান্ট পরা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ইসলামী আদর্শভিত্তিক একটি ছাত্রসংগঠনের আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের পোশাক ধর্মীয় শালীনতার নির্দেশনার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ ও সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ শাখার যৌথ উদ্যোগে এ ম্যারাথন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, শৃঙ্খলাবোধ এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের একটি ছবিতে দেখা যায়, সংগঠনের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিশেষ জার্সি পরে ম্যারাথনে অংশ নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের কয়েকজনের পরনে ছিল হাঁটুর ওপর পর্যন্ত হাফপ্যান্ট। একই অনুষ্ঠানে সংগঠনের অন্য সদস্যদের পাঞ্জাবি, পায়জামা ও টুপি পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়।
ইসলামী শরিয়তের প্রচলিত ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পুরুষের নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত অংশ ঢেকে রাখা আবশ্যক। তবে হাফপ্যান্ট পরিধান ধর্মীয় নির্দেশনার পরিপন্থী কি না, তা নির্ভর করে পোশাকের দৈর্ঘ্য এবং শরীরের কতটুকু অংশ অনাবৃত থাকছে, তার ওপর।
এমন পরিস্থিতিতে ইসলামী আদর্শ ও মূল্যবোধের চর্চার কথা বলা একটি ছাত্রসংগঠনের নিজস্ব আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের পোশাক নির্বাচনের বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে।

ম্যারাথন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সম্পাদক ইব্রাহিম নাসরুল্লাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য গাজী মুহাম্মাদ রেদওয়ান।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের নেতারা বলেন, তরুণ সমাজকে মাদক, অপরাধ ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে সুস্থ, সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে খেলাধুলা ও শরীরচর্চার বিকল্প নেই। এ ধরনের আয়োজন তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সুস্থ প্রতিযোগিতার মানসিকতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তবে ম্যারাথনে অংশগ্রহণকারীদের পোশাক নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের বিষয়ে আয়োজক সংগঠনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।










