আগের দুটি বিশ্বকাপে প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ পুরস্কার দেওয়ার ক্ষেত্রে সরাসরি যুক্ত ছিল একটি মদ প্রস্তুতকারী সংস্থা। ২০১৮ বিশ্বকাপে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর মিশরের গোলকিপার মোহাম্মদ আল শেনাওই এই কারণে পুরস্কার নিতে অস্বীকার করেছিলেন।
যে কারণে এবারের বিশ্বকাপে মুসলিম ফুটবলারদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (ফিফা)। এই পরিবর্তন আসলে আনা হয়েছে ম্যান অফ দ্য ম্যাচ পুরস্কার দেওয়ার সময়।
এবারের বিশ্বকাপে অনলাইনে ভোট দিয়ে সমর্থকরাই প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ নির্বাচন করছেন। এই পুরস্কার দেওয়াতে ফিফাকে সহায়তা করছে মাইকেল আলট্রা নামে একটি ব্র্যান্ড।
সাধারণত, ম্যাচ সেরার পুরস্কার নেওয়ার সময় পুরস্কারজয়ী ফুটবলার ট্রফি হাতে স্পন্সরের নামের ব্যাকড্রপের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন। তাদের ট্রফিতেও থাকে স্পন্সরের নাম। পরে সেই ছবি ফিফা নিজেদের সমাজমাধ্যমে আপলোড করে।
এবার একটি ছোট্ট পরিবর্তন আনা হয়েছে- এই পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান নিয়ে। এর পেছনে রয়েছে একটি ধর্মীয় কারণ। এ জন্যই ফিফা মূলত মুসলিম প্লেয়ারদের জন্য এই পরিবর্তন করেছে। যেহেতু এই ব্র্যান্ড একটি মাদক ব্র্যান্ড এবং ইসলাম ধর্মে মদ্যপান নিষিদ্ধ, তাই এই পরিবর্তন ফিফার।
মুসলিম প্রধান দেশে মদপান নিয়ে কড়া আইন রয়েছে। তাই কোনও মুসলিম ফুটবলার যদি ম্যাচের সেরা হন, তার পুরস্কারের ব্যাকড্রপ থেকে ওই কোম্পানির নাম সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই এই নিয়ম প্রয়োগ হয়েছে কানাডার ইসমাইল কোনে, কাতারের মাহমুদ আবুনাদা, ইসমাইল সাইবাড়িদের উপর। মুসলিম ফুটবলরদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে কোম্পানির নাম দেখানোর পরিবর্তে ব্যাকড্রপে শুধু লেখা Superior player of the match ও তার সঙ্গে ফিফা বিশ্বকাপের লোগো রাখা হচ্ছে। ট্রফির নকশা একই থাকছে। সরে যাচ্ছে মদ কোম্পানির নাম।
২০২২ সালে কিলিয়ান এমবাপ্পে ম্যাচের সেরা হওয়ার পর এই পুরস্কারে মদ প্রস্তুতকারক সংস্থার লোগোতে হাত দিয়ে ঢেকে রেখেছিলেন। কারণ, তিনি কোনও মদ বা জুয়া সংস্থার হয়ে কোনও বিজ্ঞাপন প্রচার করবেন না। এমনকি ঘরোয়া ফুটবলেও এখন অনেক নিয়ম বদল হয়েছে।
এখন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রেই শ্যাম্পেনের বদলে নন অ্যালকোহলিক শ্যাম্পেন ব্যবহার করা হয়। তবে ফিফার এই নিয়ম ইতিমধ্যেই প্রশংসা পাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের উপাধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন পেয়েছেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী জাবের আহমেদ।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখার এক প্রজ্ঞাপনে তাকে এ পদে পদায়ন করা হয়। পদায়নের পর বিএম কলেজে অনুষ্ঠিত যোগদান অনুষ্ঠানে বরিশাল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. মহিউদ্দিন, তালতলী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান, মাউশির আঞ্চলিক পরিচালক জাকির হোসেন, উপপরিচালক মো. নাজমুলসহ অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপকবৃন্দ এবং বিএম কলেজসহ বরিশালের বিভিন্ন কলেজের প্রায় শতাধিক শিক্ষক-কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
অধ্যাপক কাজী জাবের আহমেদ ১৮তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে প্রভাষক (পদার্থবিজ্ঞান) হিসেবে সরকারি ফজলুল হক কলেজ, চাখারে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ক্রমান্বয়ে আটটি কলেজে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি অধ্যাপক (পদার্থবিজ্ঞান) পদে সরকারি ব্রজমোহন কলেজে ইনসিটু হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকেই তাকে কলেজটির উপাধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
নতুন দায়িত্ব প্রসঙ্গে অধ্যাপক কাজী জাবের আহমেদ বলেন, সরকারের শিক্ষা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় সর্বদা সচেতন থাকব।
উল্লেখ্য, অধ্যাপক কাজী জাবের আহমেদ বর্তমানে বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন, বরিশাল জেলার সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি অষ্টাদশ বিসিএস (অল-ক্যাডার) ফোরামের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ক্ষমতায় আসার প্রথম ৬ মাসে নানা জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের আলাদা ভাবমূর্তি তৈরির চেষ্টা করছে বিএনপি সরকার। কিন্তু এরই মধ্যে দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখলদারি, সন্ত্রাস ও নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ সরকারের জন্য নতুন রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। রাজধানী থেকে জেলা-উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত এসব অভিযোগের খবর প্রকাশ পাওয়ায় একদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের মাঠপর্যায়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও আলোচনা বাড়ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে এ বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা। গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে মুখোশ পরা দুই শতাধিক সন্ত্রাসী স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে লুটপাট চালায় এবং পরে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধাপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্থানীয় বিএনপির দুটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে জায়গাটি দখলের চেষ্টা করছিল। হামলার পর সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেডে’র সাইনবোর্ডও টাঙানো হয়। এই হামলা ও দখলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার সংরক্ষিত নারী আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ও মিরপুরের শাহ আলী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হানিফ মিয়াসহ বিএনপির নেতাকর্মী-সন্ত্রাসীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে।
১৯৭৪ সালে মিরপুরের সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্ন আয়ের মানুষের মাতৃ ও শিশুসেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের কার্যক্রম শুরু হয়। শিশুদের টিকাদান, শিশু স্বাস্থ্যসেবা, প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছিল সুইডিশ ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থা রাড্ডা বার্নেন নামের প্রতিষ্ঠানটি। ফলে জমি দখলের অভিযোগের পাশাপাশি একটি দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুরের ঘটনাটি জনস্বার্থের প্রশ্নও সামনে এনেছে।
এমনকি এই জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানটির দখলে খোদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর প্রধান রাষ্ট্রীয় সংস্থা পুলিশের ভূমিকা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, ভাঙচুরের সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত ছিল। পরে চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ঘটনাটি প্রতিরোধ করা পুলিশের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে; পুলিশের কোনো সদস্যের দায়িত্বে অবহেলা বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, কোনো দল বা মত দেখা হবে না, অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখা হবে।
রাড্ডা সেন্টারের ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন; কাউকে দলীয়ভাবে দায়ী করার মতো চূড়ান্ত তদন্ত-ফল প্রকাশিত হয়নি। কিন্তু ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ক্ষমতাসীন দলের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, দখল ও অপরাধের অভিযোগ নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও বারবার সতর্কবার্তা দিচ্ছে।
এদিকে, মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা ও দখলের বিষয়ে আজ রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনিয়ম, সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখবে। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ঘটনায় সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, মিরপুরের রাড্ডা সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় শাহ আলী থানার ওসির দায়িত্বে অবহেলা ছিল। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে হামলায় জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯ জন গ্রেপ্তার হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এছাড়া, রাজধানীর ইসিবি চত্বরের ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জায়গাজমি নিয়ে পূর্ববিরোধের সম্ভাব্য জের বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সালমান মুক্তাদির কোনো মামলা করেননি; বরং বিএনপির বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। এর বাইরে গুলিস্তানে জাসদের কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গোপন বৈঠকের খবর পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৫০ জনকে আটক করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাদের মধ্যে ২৭ জন ছাড়া বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। নাশকতার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো অনুমতি ছাড়াই বৈঠক করতে পারে; তবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের তথ্য পাওয়ায় ওই অভিযান চালানো হয়।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্যেও একই অবস্থান উঠে এসেছে। তিনি বলেন, সরকার চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেছে। ঢাকায় এক দিনের পুলিশি অভিযানে ৪৭২ জনকে আটক করার তথ্য দেন তিনি। একই সঙ্গে সরকারি অর্থ ও সম্পদ লুটকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন রিজভী।
রিজভী আহমেদ দলীয় অবস্থান ব্যাখ্যা করে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ অপকর্ম করলে দল তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিচ্ছে। অবৈধ দখলদার ও চাঁদাবাজদের বিএনপি প্রশ্রয় দেয় না এবং এ ধরনের অভিযোগে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে ইতোমধ্যে দল থেকে বহিষ্কার বা পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।
এদিকে মাঠপর্যায়ে অভিযোগের পরিসরও কম নয়। জুনে নারায়ণগঞ্জের বিএনপি এমপির ছেলে ও জেলা যুবদলের এক নেতাকে চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছিল। সেপ্টেম্বরে পটুয়াখালীর বাউফলে এক বিএনপি নেতাকে এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে দলীয় পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এসব ঘটনায় অভিযোগের সত্যতা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করবে তদন্ত ও আদালত; তবে দলীয় নেতৃত্বের জন্য ঘটনাগুলো সাংগঠনিক শৃঙ্খলার প্রশ্ন সামনে এনেছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব অবশ্য পাল্টা যুক্তিও দিচ্ছে। রিজভী বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রাতারাতি শতভাগ স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়; গুরুত্বপূর্ণ হলো অপরাধের পর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না এবং অপরাধীরা গ্রেপ্তার ও শাস্তির মুখোমুখি হচ্ছে কি না।
এখানেই সরকারের জন্য রাজনৈতিক পরীক্ষাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থাকার পর বিএনপির কাছে মানুষের অন্যতম প্রত্যাশা ছিল আইনের শাসন, নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে প্রশাসনিক ব্যবস্থা। ফলে দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ বারবার উঠতে থাকলে তা শুধু সাংগঠনিক সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ কমে যায়; সরকারের ভাবমূর্তি ও প্রশাসনিক সক্ষমতার প্রশ্নও সামনে আসে।
বিশেষ করে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মতো একটি প্রতিষ্ঠানে রাতের আঁধারে হামলা, লুটপাট, স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং এরপর সেখানে দখলের দাবিসংবলিত সাইনবোর্ড টাঙানোর ঘটনা জনমনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি করেছে—ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় প্রভাব কি প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণকে ছাপিয়ে যাচ্ছে? আবার পুলিশের উপস্থিতি সত্ত্বেও হামলা ঠেকানো না যাওয়ার অভিযোগ সেই প্রশ্নকে আরও জোরালো করেছে। তদন্তে কারা জড়িত এবং তাদের রাজনৈতিক পরিচয় কী, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
ফলে বিএনপি সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জটি কেবল চাঁদাবাজি বা দখলদারি বন্ধ করা নয়; ক্ষমতাসীন দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে দ্রুত, দৃশ্যমান ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নেওয়া। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার মধ্যে ব্যবধান যত কমানো যাবে, সরকারের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার পরীক্ষাও ততটাই ইতিবাচকভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। আর সেই ব্যবধান থেকেই যদি নতুন নতুন অভিযোগের জন্ম হয়, তাহলে চাঁদাবাজি-দখল-সন্ত্রাসের বিতর্ক বিএনপি সরকারের জন্য ক্রমেই বড় রাজনৈতিক বোঝা হয়ে উঠতে পারে।
কর্মজীবী বাবা-মায়ের সন্তানদের নিরাপদ পরিচর্যা, প্রাথমিক শিক্ষা ও খেলাধুলার সুযোগ দিতে বরিশাল নগরীতে চালু হয়েছে ‘বরিশাল ডে কেয়ার এন্ড প্রি-স্কুল’। এক থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের জন্য প্রতিষ্ঠিত এ কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রি-স্কুল কার্যক্রম, পড়াশোনায় সহায়তা ও খেলাধুলার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
নগরীর নতুন বাজার এলাকার সপ্ত বর্ণ কমিউনিটি সেন্টারের তৃতীয় তলায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গতকাল দুপুর ৩টায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বলেন, বর্তমানে অনেক পরিবারে বাবা ও মা দুজনই কর্মজীবী। কর্মব্যস্ততার কারণে সন্তানদের নিয়মিত দেখাশোনা ও পরিচর্যা করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে শিশুদের নিরাপদ পরিবেশে রাখার পাশাপাশি তাদের শিক্ষা ও বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, একক অভিভাবকদের ক্ষেত্রেও সন্তান লালন-পালনে বাড়তি দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ থাকে। শিশুদের যত্নের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ফারজানা আক্তার মনি বলেন, এক বছর থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের এখানে ভর্তি করা যাবে। শিশুদের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে পুরো প্রতিষ্ঠানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। অভিভাবকদের ক্যামেরার অ্যাক্সেস দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এর ফলে তারা মোবাইল ফোন বা অন্য ডিভাইসের মাধ্যমে সন্তানদের কার্যক্রম লাইভ দেখতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, শুধু শিশুদের দেখাশোনা নয়, তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ জন্য রয়েছে খেলাধুলা ও শারীরিক চর্চার জন্য প্লে-জোন। পাশাপাশি প্রি-স্কুল কার্যক্রম ও পড়াশোনায় সহায়তার জন্য কোচিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
ফারজানা আক্তার মনি বলেন, কর্মজীবী অভিভাবকেরা কর্মস্থলে থাকা অবস্থায় যাতে সন্তানদের নিরাপদ পরিবেশে রাখা যায় এবং একই সঙ্গে তাদের শিক্ষা, খেলাধুলা ও সৃজনশীল বিকাশের সুযোগ দেওয়া যায়—সেই লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানটি চালু করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের একান্ত ব্যক্তিগত সচিব মাসুম হাসান, সহকারী ব্যক্তিগত সচিব সাকলাইন মোস্তাকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা।
আয়োজকদের মতে, নগরীতে কর্মজীবী অভিভাবকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের জন্য নিরাপদ ও পরিকল্পিত ডে কেয়ার সুবিধার প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে। সেই প্রয়োজন বিবেচনায় রেখে প্রতিষ্ঠানটিতে পরিচর্যা, শিক্ষা ও বিনোদনের সমন্বিত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
পটুয়াখালীর মহিপুরে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে মেহেদী হাসান ফারুক নামে এক ছাত্রদল নেতাকে তুলে নিয়ে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা, সদস্যসচিব ফাহিম, রাশেদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত ফারুক বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে মহিপুর বাজার থেকে সাদা পোশাকে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ফারুককে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যান। স্থানীয়দের দাবি, তাদের হাতে ওয়াকিটকি ছিল। পরে কলাপাড়ার একটি হোটেলের পাশের নির্জন এলাকায় নিয়ে ফারুককে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, একটি বিয়েতে সাক্ষী হওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরেই ফারুককে তুলে নেওয়া ও মারধরের ঘটনা ঘটে।
মহিপুর মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রবিউল বলেন, ওই রাতে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ফারুককে তুলে নেওয়ার খবর পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করা হয়। পরে রাত ১টার দিকে কলাপাড়ার রুবান হোটেলের পাশ থেকে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। প্রথমে কলাপাড়া ৫০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
অভিযোগের বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব ফাহিম বলেন, ‘মারধরের বিষয়টি আমি জানি। তবে এর সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।’
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মাসুদ রানাও। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ওয়াকিটকি হাতে এক ব্যক্তির সঙ্গে মাসুদ রানাকে দেখা গেছে।
কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি তুষার বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে আমি অবগত নই। আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি দেখেছি। ১৭ সেপ্টেম্বর পারিবারিক কাজে আমি চট্টগ্রামে ছিলাম। তবে ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।’
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার সত্যতা অনুসন্ধানে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’
অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তদন্তে ডিবি পরিচয় ব্যবহার, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।’
প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পরও নিয়োগপত্র পাননি বরিশাল জেলার ৭২ প্রার্থী। কেন তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়নি, তার সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে দেওয়া এক স্মারকলিপিতে এ দাবি জানান নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীরা।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর বরিশাল জেলায় ৩৭১ জনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। তবে সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে ৭২ জন এখনো নিয়োগপত্র পাননি বলে দাবি করেছেন তারা।
প্রার্থীদের অভিযোগ, বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার কথা বলা হলেও তাদের নিয়োগ না দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। এ অবস্থায় নিয়োগ বাতিল বা স্থগিতের কোনো লিখিত আদেশ, প্রতিবেদন কিংবা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত থাকলে তার অনুলিপি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়ার কোনো কাগজপত্র বা প্রশাসনিক কার্যক্রম অসম্পূর্ণ থাকলে তা সম্পন্ন করার সুযোগ, পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে লিখিত নির্দেশনা এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট স্মারক নম্বর ও বর্তমান অবস্থা জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীদের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে অনুসন্ধান করে কেন তাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি, সেই কারণ স্পষ্ট করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
বিএম কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মো. জাহিদ হাসান বলেন, ‘আমার বয়স শেষ পর্যায়ে। পরে আর সুযোগ পাব কি না জানি না। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করব—এই আশায় মেট্রোরেলের চাকরিও ছেড়ে দিয়েছিলাম। চাকরি ছাড়ার পর দীর্ঘ আট মাস বেকার সময় পার করছি। এখন আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কেন বাদ দেওয়া হয়েছে, সেটিও জানি না।’
তিনি বলেন, ‘এখনো যদি যোগদান করতে না পারি, তাহলে আমার সবকিছু হারাতে হবে। আমরা যারা বাদ পড়েছি, আমার মনে হয় সবাই যোগ্য প্রার্থী। তাই কোনো কারণ না জানিয়ে বাদ না দিয়ে আমাদের একযোগে নিয়োগ দিয়ে কর্মস্থলে যোগদানের সুযোগ দেওয়া উচিত।’
নিয়োগবঞ্চিত ৭২ প্রার্থীর দাবি, চূড়ান্ত সুপারিশের পরও কেন তাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি, তা দ্রুত স্পষ্ট করে যোগদানের সুযোগ নিশ্চিত করা হোক।
বরিশাল শহরের বটতলা এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে অন্তত ১২ জনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। শনিবার বিকেলে স্থানীয় হালিমা খাতুন স্কুলসংলগ্ন একটি ভবন থেকে তাদের আটক করা হয়।
গোয়েন্দাপুলিশের দাবি, শহর অভ্যন্তরে নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশে বৈঠক চলছিল। কিন্তু এর আগেই সেখানে গোয়েন্দাপুলিশ হানা দেয় এবং ঘটনাস্থল থেকে ১২ জনকে হেফাজতে নেয়।
তাৎক্ষণিকভাবে আটকদের নাম পরিচয় না পাওয়া গেলেও ডিবি পুলিশের একটি সূত্র বলছে, সকলে কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বরকে কেন্দ্র করে তারা একটি বৈঠক করছিলেন।
বরিশাল নগরীতে বালু সরবরাহের সব পাইপলাইন অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। একই সঙ্গে নগরীর ১৮টি বালু অবতরণ কেন্দ্রের কার্যাদেশ বাতিল এবং এসব কেন্দ্রের চুক্তির মেয়াদ আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ রক্ষা ও নগরবাসীর বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিনের নির্দেশনায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিসিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা সিকদারের সই করা এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৮টি বালু অবতরণ কেন্দ্রকে এক বছরের জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। এসব কেন্দ্র থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বালু সরবরাহ করা হতো।
বিসিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পাইপলাইনের মাধ্যমে বালু সরবরাহ করতে গিয়ে অনেক জলাশয় অবৈধভাবে ভরাটের পাশাপাশি পরিবেশ ও কৃষিজমির ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া সড়কের নিচ দিয়ে বোরিং করে পাইপলাইন নেওয়ায় রাস্তার ক্ষতি হয়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের ওপর দিয়ে পাইপ নেওয়ায় দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে। এসব বিষয় নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং পরিবেশবিদ ও সাধারণ মানুষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বালু অবতরণ কেন্দ্রগুলোর কার্যাদেশ বাতিল ও চুক্তির মেয়াদ না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
একই সঙ্গে কার্যাদেশপ্রাপ্তদের বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় বালু সরবরাহের সব পাইপলাইন অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন নগরবাসীর সেবা ও পরিবেশ রক্ষায় বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছে তাঁর দপ্তর।
প্রশাসকের প্রেসসচিব সাকলাইন মোস্তাক জানান, পাইপের মাধ্যমে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাশয় ভরাটের বিষয়ে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নগরীর পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসক শিরিন এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
বিসিসির এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে নগরীর জলাশয় রক্ষা, সড়কের ক্ষয়ক্ষতি কমানো এবং পাইপলাইনের কারণে সৃষ্ট জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
মাগরিবের পর বাবার ফোন। ওপাশ থেকে বললেন, ‘মসজিদে মিলাদ দিয়েছি, ১ তারিখে জয়েন দিবি তাই।’ অথচ তখনো নিয়োগপত্র না পাওয়ার কথা বাবাকে বলতে পারেননি ফাহিম। সারা দিন একটু পরপর মা, বাবা, ভাই ফোন করে জানতে চাইছেন—‘কখন দিবে নিয়োগপত্র?’
ভোলা সদরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত আমজাদ হোসেন ফাহিমের জন্য ১ অক্টোবর ছিল নতুন জীবনের শুরু। সেই দিন চাকরিতে যোগ দেবেন—এমন বিশ্বাসে আগেই সেরেছিলেন প্রস্তুতি।
ঢাকায় টিউশনি করিয়ে চলা ফাহিম নিজের শখের সাইকেলটিও ছোট ভাইকে দিয়েছেন, ভেবেছিলেন গ্রামে চলে যাবেন। বইপত্র গুছিয়ে কুরিয়ারে বাড়িতে পাঠানোর প্রস্তুতিও ছিল। আত্মীয়স্বজন ও এলাকার লোকজনও জেনে গিয়েছিলেন, আমজাদ বাড়ি ফিরছেন, তার কাছে পড়তে পাঠাবেন সন্তানদের।
কিন্তু ২৪ সেপ্টেম্বর নিয়োগপত্র বিতরণ শুরু হলে সেই অপেক্ষার অবসান হয়নি। বরং সামনে আসে নতুন ধাক্কা। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েও তার নাম নেই নিয়োগপত্রের তালিকায়।
ফাহিমের দাবি, এনএসআই ও ডিএসবি ভেরিফিকেশনে ‘নেগেটিভ রিপোর্ট’-এর কারণে তাকে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কী কারণে এমন প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে, সেটি জানেন না তিনি।
ফাহিমের মতোই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়ার অভিযোগ তুলছেন আরও অনেক প্রার্থী। তাদের কেউ বলছেন রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে, কেউ বলছেন ভেরিফিকেশনে কী তথ্য এসেছে সেটিই তাদের জানানো হয়নি। ফলে দীর্ঘ আট মাসের অপেক্ষার পর নিয়োগপত্র হাতে না পাওয়ায় হতাশায় পড়েছেন অনেকেই।
শিক্ষিত বেকারদের শেষ আশ্রয়স্থল বলা হয়ে থাকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চাকরিকে। এই চাকরিতে ভেরিফিকেশন করে বাদ দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিয়োগবঞ্চিতরা।
দেশের অন্তত ২৭ জেলার হাজারের কাছাকাছি প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি বলে জানিয়েছেন নিয়োগবঞ্চিতরা। এর মধ্যে চাঁদপুরে ২৭, মুন্সীগঞ্জে ৩, শরীয়তপুরে ৬, ঝালকাঠিতে ১২, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৪, পাবনায় ৩৫, বগুড়ায় ৪৮, সুনামগঞ্জে ১২০, খুলনায় ৫৯, জামালপুরে ৫২, পিরোজপুরে ৪৫, ভোলায় ৮৪ জনসহ বিভিন্ন জেলার প্রার্থীরা রয়েছেন বলে দাবি তাদের।
এদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ প্রার্থীকে নিয়োগপত্র প্রদান শুরু হয় ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে। আগামী ১ অক্টোবর নিজ নিজ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে যোগদান এবং ৪ অক্টোবর থেকে পদায়নের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। নিয়োগপত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন, গোয়েন্দা প্রতিবেদন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ডোপ টেস্ট ও শিক্ষাগত সনদ যাচাইয়ের মতো বিষয়গুলো বিবেচনার নির্দেশনা রয়েছে।
তবে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিয়োগবঞ্চিতরা। নিয়োগবঞ্চিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সিয়াম আহমেদের দাবি, ভেরিফিকেশনের সময় বিএনপির কয়েকজন নেতার কাছ থেকে তার বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছিল। তিনি জামায়াতে ভোট দিয়েছিলেন এবং বিষয়টি এলাকায় অনেকে জানতেন। তার ধারণা, রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেই হয়তো তিনি বাদ পড়েছেন।
২০২৬ সালের জুনে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে প্রথমবারের মতো এনএসআই ভেরিফিকেশন যুক্ত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। এর আগে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ প্রার্থীর পুলিশ ভেরিফিকেশন চলছিল।
অথচ সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন নিয়ে প্রশ্ন ও সংস্কারের আলোচনা নতুন নয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন সরকারি চাকরিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন তুলে দেওয়ার সুপারিশ করার প্রস্তাব করেছিল। এরপর ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিচয় জানার প্রথা বাতিলের সুপারিশের কথাও সামনে আসে।
এসব আলোচনার মধ্যেই ভেরিফিকেশনের পর নিয়োগবঞ্চিত করার বিষয়টি অমানবিক ও বৈষম্যমূলক আচরণ বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থী আব্দুল কাইয়ুমও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তার ভাষায়, যোগ্যতা দিয়ে জীবনের প্রথম চাকরি পাওয়ার পরও ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া তার জীবনের ‘সবচেয়ে বড় ট্রমা’। তিনি রাষ্ট্রের কাছে এ বিষয়ে জবাবদিহি দাবি করেছেন।
আরেক প্রার্থী বিল্লাল হোসাইন দীপু জানিয়েছেন, তার বাবা একসময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তিনি নিজেও বিএনপির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। জুলাই আন্দোলনেও সক্রিয় থাকার কথা জানিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থেকেও তাকে কেন বাদ দেওয়া হলো।
কী বলছে রাজনৈতিক দলগুলো
নিয়োগবঞ্চিতদের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া এসেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘সুস্পষ্ট ও আইনসম্মত অভিযোগ ছাড়া কোনো প্রার্থীকে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হলে তার ব্যাখ্যা প্রয়োজন।’ তিনি ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া ও নিয়োগবঞ্চনার অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরও এক বিবৃতিতে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের রাজনৈতিক মতাদর্শ, পরিচয় বা পারিবারিক রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে নিয়োগবঞ্চিত না করার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি এবং নেতিবাচক প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য কারণ জানানোর দাবি করেছে।
ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমও ভেরিফিকেশনের নামে প্রার্থীদের বাদ দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ তরুণদের ভেরিফিকেশনের নামে বাদ দেওয়া চরম বৈষম্যমূলক, অন্যায্য ও অন্যায় সিদ্ধান্ত। সহস্রাধিক শহীদের রক্তের বিনিময়ে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত বিএনপি সরকারের এই সিদ্ধান্ত বৈষম্যবিরোধী জুলাই বিপ্লবের সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা।
তিনি বলেন, সরকারি চাকরিতে মেধা ও যোগ্যতাই নিয়োগের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত। কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা জানিয়ে আপিলের সুযোগ রাখতে হবে।
শিক্ষাবিদ এহসানুল মাহবুব যোবায়ের বলেন, ‘মেধা ও যোগ্যতায় উতরে যাওয়ার পর একজন প্রার্থীকে ভেরিফিকেশনের কারণে বাদ দেওয়া হলে এর সুনির্দিষ্ট কারণ থাকা প্রয়োজন। কেউ ফৌজদারি অপরাধে জড়িত থাকলে বা নিরাপত্তাজনিত কোনো গুরুতর তথ্য থাকলে সেটি ভিন্ন বিষয়। কিন্তু রাজনৈতিক মতাদর্শ বা পারিবারিক পরিচয়ের কারণে কাউকে সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়।’
আন্দোলনের ঘোষণা
এদিকে নিয়োগপত্র প্রদানের দাবিতে আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীরা। এ দাবিতে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে একত্র হবেন তারা। এরই মধ্যে তাদের কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানিয়েছেন ডাকসুর আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক খান জসিম।
যা বলছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘নিয়োগপত্রগুলো ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে। এজন্য অনেক এলাকায় সেগুলো পৌঁছাতে দেরি হতে পারে। এজন্য আমরা যোগদানের তারিখ ১ অক্টোবর পর্যন্ত দিয়েছি। প্রার্থীরা কিছুদিন অপেক্ষা করলে তারাও নিয়োগপত্র পেয়ে যাবেন।’
নতুন করে এনএসআই ভেরিফিকেশনের পর কোনো প্রার্থী বাদ পড়েছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বললেন, ‘কোন প্রার্থী বাদ গেছেন সেটি নির্দিষ্ট করে বলার সময় এখনো হয়নি।
দেশে জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর পর বরিশালসহ বিভিন্ন এলাকার পরিবহন ব্যয় ও যাত্রীভাড়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সরকার নির্ধারিত নতুন দাম ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) প্রকাশিত সরকারি প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, ডিজেল প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে দাম ছিল যথাক্রমে ১১৫, ১৪০, ১৪৫ ও ১৩৫ টাকা।
জ্বালানির দাম বাড়লে যানবাহন পরিচালনার খরচের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। তবে বরিশালের কোনো নির্দিষ্ট রুটে ভাড়া কতটা পরিবর্তিত হয়েছে, সে বিষয়ে এই প্রতিবেদনের জন্য পরিবহন কর্তৃপক্ষের হালনাগাদ ঘোষণা বা স্বাধীন মাঠতথ্য সংগ্রহ করা হয়নি। তাই কোনো নির্দিষ্ট ভাড়া বৃদ্ধির দাবি করা হচ্ছে না।
২১ সেপ্টেম্বরের সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, অতিরিক্ত পরিবহনভাড়া আদায় ও কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো কাজ করছে। ভাড়া সংক্রান্ত নতুন সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হলে যাত্রীদের তা যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।
বরিশাল–ঢাকা মহাসড়কের গৌরনদী অংশে খানাখন্দ ও ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ইট-বালু দিয়ে সংস্কারের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে প্রকাশিত একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সড়কের অবস্থা ও সংস্কারপদ্ধতি নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ উঠে এসেছে।
৯ সেপ্টেম্বর কালবেলার প্রতিবেদনে গৌরনদী অংশে বিটুমিনের পরিবর্তে ইট-বালু দিয়ে সড়ক সংস্কারের কথা জানানো হয়। প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদনে ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদীর ভূরঘাটা থেকে উজিরপুরের জয়শ্রী পর্যন্ত সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশের কথা উঠে এসেছে।
মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে সাময়িক সংস্কার ও দীর্ঘমেয়াদি মেরামতের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। চলাচলের উপযোগী রাখতে জরুরি কাজের পাশাপাশি কোন অংশে স্থায়ী সংস্কার প্রয়োজন, সে বিষয়ে স্পষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করা হলে যাত্রীরা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে পারবেন।
২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট অংশের সব সংস্কারকাজ শেষ হয়েছে কি না, তা এই প্রতিবেদনের জন্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
Contains information related to marketing campaigns of the user. These are shared with Google AdWords / Google Ads when the Google Ads and Google Analytics accounts are linked together.
90 days
__utma
ID used to identify users and sessions
2 years after last activity
__utmt
Used to monitor number of Google Analytics server requests
10 minutes
__utmb
Used to distinguish new sessions and visits. This cookie is set when the GA.js javascript library is loaded and there is no existing __utmb cookie. The cookie is updated every time data is sent to the Google Analytics server.
30 minutes after last activity
__utmc
Used only with old Urchin versions of Google Analytics and not with GA.js. Was used to distinguish between new sessions and visits at the end of a session.
End of session (browser)
__utmz
Contains information about the traffic source or campaign that directed user to the website. The cookie is set when the GA.js javascript is loaded and updated when data is sent to the Google Anaytics server
6 months after last activity
__utmv
Contains custom information set by the web developer via the _setCustomVar method in Google Analytics. This cookie is updated every time new data is sent to the Google Analytics server.
2 years after last activity
__utmx
Used to determine whether a user is included in an A / B or Multivariate test.
18 months
_ga
ID used to identify users
2 years
_gali
Used by Google Analytics to determine which links on a page are being clicked
30 seconds
_ga_
ID used to identify users
2 years
_gid
ID used to identify users for 24 hours after last activity
24 hours
_gat
Used to monitor number of Google Analytics server requests when using Google Tag Manager
1 minute
Jetpack's built-in visitor analytics. It records page views, referring sites, search terms, and outbound link clicks, and also carries the shared visitor-tracking library used by Jetpack Instant Search and WooCommerce Analytics.