দেশের প্রাথমিক শিক্ষার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া উৎসব প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা)’- সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে বরিশালের বাকেরগঞ্জের ছেলে এবং পাবনার সাঁথিয়ার মেয়েরা।
শনিবার (২০ জুন) বিকেলে রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালের রোমাঞ্চকর ম্যাচে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার দরিরামপুর সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছেলেরা।
অন্যদিকে, বালিকা বিভাগের ফাইনালে ময়মনসিংহের নান্দাইলের আচারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ৪-২ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয় পাবনার সাঁথিয়ার জোরগাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
বালক দলের ফাইনাল ম্যাচ বেলা ২টা ২০ মিনিট থেকে শুরু হয়ে ৩টা ৫০ মিনিট শেষ হয়। বালিকা দলের ফাইনাল ম্যাচ বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে শুরু হয়ে শেষ হয় বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে।
বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা নিয়ে উন্মাদনার মধ্যেই বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে এই খেলা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি খেলা উপভোগ করেন। পরে তিনি বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
গত বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন টুর্নামেন্টের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত ৬ এপ্রিল শুরু হওয়া এই বিশাল প্রতিযোগিতায় দেশের ৬৫ হাজার ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১১ লাখের বেশি ছাত্র ও ১১ লাখের বেশি ছাত্রী অংশ নিয়েছে।
মাহদী আমিন জানান, একেবারে গ্রাম পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় ধাপ পেরিয়ে দীর্ঘ লড়াই শেষে সেরা দলগুলো ঢাকায় চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। তৃণমূল পর্যায় থেকে ফুটবল প্রতিভা খুঁজে বের করার এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আয়োজন করা হবে। আগামী আসরে অন্তত ৫০ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।
পাকিস্তানে আত্মঘাতী হামলায় পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৫৭ জন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কোহাট শহরে জুমার নামাজের সময় এ হামলা হয়। পুলিশ কম্পাউন্ডের ভেতরের মসজিদে তখন পুলিশ সদস্য ও তাঁদের পরিবারের অনেকে নামাজ আদায় করছিলেন।
পুলিশের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি পুলিশ কম্পাউন্ডের বাইরের দেয়ালে আঘাত করে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। একই সময়ে সশস্ত্র হামলাকারীরা কম্পাউন্ডে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলি শুরু হয়।
বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির পর নিরাপত্তা বাহিনী এবং উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি। পাকিস্তানি তালেবান বা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এ হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বাকেরগঞ্জে স্কুলে চুরির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটেছে চরামদ্দী ইউনিয়নের পশ্চিম বাদলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। চোরেরা বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, সাউন্ডবক্স ও নগদ টাকা নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অফিস কক্ষের পাশাপাশি আলমারি, ক্যাবিনেট ও শোকেসের তালাও ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। বিদ্যালয় থেকে একটি ল্যাপটপ, একটি প্রজেক্টর ও একটি সাউন্ডবক্স খোয়া গেছে। এছাড়া আলমারিতে রাখা ছয় হাজারের বেশি টাকাও পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতের কোনো এক সময়ে ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বুধবার বিকেল ৪টায় বিদ্যালয় ছুটি হওয়ার পর শিক্ষকরা বিদ্যালয় থেকে চলে যান।
বৃহস্পতিবার সকালে শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে এসে অফিস কক্ষের তালা ভাঙা দেখতে পান। পরে ভেতরে প্রবেশ করে আলমারি, ক্যাবিনেট ও শোকেসের তালাও ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান।
সহকারী শিক্ষিকা শামীমা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রতিদিন বিকেল ৪টায় বিদ্যালয় ছুটি হয়। এরপর শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে থাকেন না। সকালে এসে তারা অফিস কক্ষের তালা ভাঙা দেখতে পান।
পরে বিদ্যালয়ের মালামাল পরীক্ষা করে একটি ল্যাপটপ, প্রজেক্টর ও সাউন্ডবক্স পাওয়া যায়নি। আলমারিতে রাখা টাকাও খোয়া গেছে বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
বাকেরগঞ্জে স্কুলে চুরির ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে চুরির সঙ্গে কারা জড়িত, তা জানা যায়নি। চুরি হওয়া মালামালের হিসাব যাচাই করা হচ্ছে।
আকাশ, ঝালকাঠি প্রতিনিধি | 16 September 2026, 9:06 pm
এসো রক্তদানে এগিয়ে যাই’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) ঝালকাঠি প্রেসক্লাব অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন ‘YAS Blood Bank’ (ইয়াস ব্লাড ব্যাংক)-এর ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উৎসব।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা সভা, কেক কাটা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের রক্তযোদ্ধা এবং বিভিন্ন রক্তদান সংগঠনের দায়িত্বশীলদের আন্তরিক আমন্ত্রণ জানিয়েছে সংগঠন কর্তৃপক্ষ।
অনুষ্ঠানের সময় ও স্থান:
তারিখ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শুক্রবার
সময়: বিকাল ৪টা
স্থান: অডিটোরিয়াম, প্রেসক্লাব, ঝালকাঠি
📝 যেভাবে রেজিস্ট্রেশন করবেন:
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য কোনো ফি লাগবে না (সম্পূর্ণ ফ্রি)। তবে আসন সংখ্যা সীমিত থাকায় এবং সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার জন্য আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) রাত ১০টার মধ্যে অনলাইনে ফর্ম পূরণ করে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।
রেজিস্ট্রেশনের সহজ ধাপসমূহ:
আবেদন ফর্ম :
🔗 উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ ফর্ম: (ফ্রি)
https://forms.gle/tvmDZvLMXo1NwLoX6
প্রথমে আপনার মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে এই গুগল ফর্ম লিংকে প্রবেশ করুন: https://forms.gle/tvmDZvLMXo1NwLoX6
ফর্মে আপনার নাম, মোবাইল নম্বর এবং আপনি কোনো রক্তদান সংগঠনের সাথে যুক্ত আছেন কিনা তা সঠিকভাবে লিখুন।
সব তথ্য দেওয়া শেষে ‘Submit’ বাটনে ক্লিক করলেই আপনার রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়ে যাবে।
(নিউজ পোর্টালে সরাসরি রেজিস্ট্রেশন করতে এই লিংকে ক্লিক করুন: রেজিস্ট্রেশন ফর্ম লিংক)
প্রয়োজনে যোগাযোগ: যেকোনো তথ্যের জন্য বা রেজিস্ট্রেশনে কোনো সমস্যা হলে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন এই নম্বরগুলোতে: 📞 01739158800 📞 01929688031
ইয়াস ব্লাড ব্যাংকের দায়িত্বশীলরা জানান, রক্তযোদ্ধাদের এই মিলনমেলাকে আরও অর্থবহ ও সফল করে তুলতে সবার উপস্থিতি এবং সহযোগিতা একান্ত কাম্য।
আকাশ, ঝালকাঠি প্রতিনিধি | 14 September 2026, 8:20 pm
ঝালকাঠির ধানসিঁড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইয়ুথ অ্যাকশন সোসাইটি (YAS)-এর উদ্যোগে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক সেমিনার ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখর হালদার-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক অলক সাহ্। সেমিনারে বক্তারা বর্তমান সময়ে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা তুলে ধরে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং বিদ্যালয়ের চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি তথ্যবহুল সচেতনতামূলক সেমিনার পরিচালনা করেন ইয়াসের ভলান্টিয়ার আকাশ ও এশা। সেমিনার শেষে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বিষয়ের ওপর একটি আকর্ষণীয় কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। পরে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার হিসেবে জনপ্রিয় কিশোর পত্রিকা তুলে দেওয়া হয়।
দিনব্যাপী এই ব্যতিক্রমী কর্মসূচি সফল করতে বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দের পাশাপাশি নিরলসভাবে কাজ করেন ইয়ুথ অ্যাকশন সোসাইটির ভলান্টিয়ার রাহাত, আমিনুল, সিফাত, বিজু, রিয়াদ, নাইম, আশা ও মোহেবুল্লাহ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা তরুণদের এই মানবিক ও সচেতনতামূলক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমাজের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে বরিশাল জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ (কলেজ পর্যায়) নির্বাচিত হয়েছেন সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. শেখ মোঃ তাজুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সম্মাননা স্মারক ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোঃ মামুন খন্দকার তাঁর হাতে সম্মাননা তুলে দেন। জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আঃ জব্বারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্মাননা গ্রহণের পর অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. শেখ মোঃ তাজুল ইসলাম বলেন, জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ নির্বাচিত হওয়া আনন্দ ও গৌরবের। এ স্বীকৃতি শুধু তাঁর একার নয়, এটি পুরো বিএম কলেজ পরিবারের অর্জন। তিনি তাঁর সম্মাননা বিএম কলেজের সকল শিক্ষার্থীর প্রতি উৎসর্গ করেন।
তিনি আরও বলেন, তাঁর এ অর্জন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে শিক্ষার্থীরা আগামী দিনে নিজেদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে এটাই তাঁর প্রত্যাশা। আগামী শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠে দেশ ও জাতির সেবায় শিক্ষার্থীরা আত্মনিয়োগ করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. শেখ মোঃ তাজুল ইসলাম জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক এবং বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ নির্বাচিত হন। টানা দু’বার শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ নির্বাচিত হওয়ায় তাঁর এ অর্জনে বিএম কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের মধ্যে আনন্দ ও উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
বিএম কলেজে অধ্যায়নরত হিজলা-মুলাদি-বাবুগঞ্জ-কাজিরহাট শিক্ষার্থী কল্যান পরিষদের কমিটি প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৬-২৭ কার্যবর্ষের ৫ সদস্যদের কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছে হাওলাদার ফাহিম ও সেক্রেটারি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন আবু বকর। সিনিয়র সহ সভাপতি হয়েছেন আজিজুল হাকিম সামি। কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল হোসেন ও দপ্তর সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন জিহাদুল ইসলাম।
বুধবার ( ৯ সেপ্টেম্বর ) বিএম কলেজে অধ্যায়নরত হিজলা-মুলাদি-বাবুগঞ্জ-কাজিরহাট শিক্ষার্থী কল্যান পরিষদের উপদেষ্টা মণ্ডলী ও কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. শেখ মো তাজুল ইসলামের স্বাক্ষরে নব গঠিত কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। নির্দেশনায়, আগামী ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে এই আংশিক কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিয়ে শিক্ষক উপদেষ্টা মণ্ডলীর কাছে জমা দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
নবগঠিত কমিটির সভাপতি হাওলাদার ফাহিম বলেন,এখানেই আপনাদের ঠিকানা যেখানে আমাদের মূল লক্ষ্য হলো একে অপরের পাশে দাঁড়ানো, বিপদে সাহায্য করা এবং একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়া। আমাদের এই পরিষদের প্রতিটি সদস্যের স্বপ্ন আর সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আসুন, আমরা সকলে মিলে এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলি, যা আমাদের ছাত্রসমাজের জন্য একটি সত্যিকারের আলোর দিশারী হয়ে উঠবে”।
সাধারণ সম্পাদক আবু বকর বলেন,”আলহামদুলিল্লাহ হিজলা-মুলাদী কাজীরহাট পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। এই দায়িত্ব কোনো ক্ষমতা নয়, বরং আমার কাছে একটি পবিত্র আমানত। ইনশাআল্লাহ, আপনাদের দোয়া ও সহযোগিতায় আমি আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করার চেষ্টা করব”।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও নবগঠিত কমিটির সিনিয়র সহ সভাপতি আজিজুল হাকিম সামি বলেন, আজ আমাদের দীর্ঘ দিনের একটি স্বপ্ন এবং যাত্রা আনুষ্ঠানিকতা পেলো।
একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চল হিজলা-মুলাদি-বাবুগঞ্জ ও কাজিহাটের শিক্ষার্থীরা বিএম কলেজে এসে পড়াশোনা করে কিন্তু তাদের অধিকার আদায় ও একত্রে মেলবন্ধনের কোন প্লাটফর্ম ছিলনা। তখন গত ২ বছর আগে এই অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় ও মেলবন্ধনের মাধ্যমে একে-অপরকে যেন পাশে পায়, তাই উক্ত উপজেলা গুলোর কয়েকজন শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করে কার্যক্রম শুরু করি। একে একে অনেক শিক্ষার্থী যুক্ত হয় এবং দেড় বছরের মাথায় প্রথম সফলতা হিসেবে আমরা আমাদের রুটে কলেজ বাস পাই। দুই বছরের মাথায় আজ আমাদের কমিটি প্রাকাশ হলো। সম্প্রীতির মাধ্যমে সবাইকে নিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে চাই।”
শিক্ষার্থীরা, নবগঠিত কমিটির মাধ্যমে যেন তাদের অধিকার আদায় হয় ও পারস্পরিক সম্প্রতির মাধ্যমে সবাই একে-অপরের পাশে দাড়ায় এই আশা ব্যাক্ত করেছেন।
আমতলী প্রতিনিধি, বরগুনা | 8 September 2026, 10:43 pm
নাগরিক অধিকার সুরক্ষা, সরকারি সেবার মানোন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বরগুনার আমতলীতে নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় আমতলী পিপলস ভয়েস অব আমতলী (পিভিএ) হলরুমে, ন্যাশনাল অ্যাডভান্সমেন্ট ফর গভর্ন্যান্স অ্যান্ড রাইটস ইনিশিয়েটিভস ইন কমিউনিটিস (NAGRIC) নাগরিক প্রকল্পের সহায়তায় এবং সিবিডিপি বরগুনার আয়োজনে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
আমতলী উপজেলা নাগরিক প্ল্যাটফর্মের সাধারণ সম্পাদক, গণমাধ্যম ও মানবাধিকারকর্মী আবু জিহাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বরগুনা জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) রূপ কুমার পাল।
এতে সভাপতিত্ব করেন আমতলী উপজেলা নাগরিক প্ল্যাটফর্মের সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক মো. জাকির হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরগুনা সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. হেমায়েত উদ্দিন এবং আমতলী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মনজুরুল হক কাওসার। বরগুনা সিবিডিপি নির্বাহী পরিচালক সিনিয়র সাংবাদিক মোঃ জাকির হোসেন মিরাজ,
সংলাপে আরও উপস্থিত ছিলেন আঠারগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নাজমুন নাহার মুকুল, আমতলী প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মো. মহসীন মাতুব্বর, আমতলী প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও গণমাধ্যম-মানবাধিকার
কর্মী আবদুর রহমান সালেহ, তারুণ্যের আলো যুব ফোরামের সভাপতি মুক্তা রানীসহ যুব ফোরামের সদস্যরা।
এ ছাড়া আমতলী উপজেলা, আমতলী সদর ইউনিয়ন ও আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের নাগরিক প্ল্যাটফর্মের সদস্য, প্রকল্পের উপকারভোগী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিক এবং মানবাধিকারকর্মীরা সংলাপে অংশ নেন।
সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুপ কুমার পাল বলেন, নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে হলে সরকারি সেবাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, নারী, যুবসমাজ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে তা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
নাগরিক সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা, সরকারি সেবা গ্রহণে প্রতিবন্ধকতা, নাগরিক অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, নারী ও যুবসমাজের অংশগ্রহণ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন।
আয়োজকরা জানান, স্থানীয় জনগণের মতামত ও অভিজ্ঞতা সরাসরি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছে তুলে ধরার মাধ্যমে নাগরিক ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ তৈরি করাই এ ধরনের সংলাপের অন্যতম উদ্দেশ্য। নিয়মিত এমন সংলাপ আয়োজনের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নাগরিক অংশগ্রহণ আরও জোরদার হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, যুব প্রতিনিধি, নাগরিক প্ল্যাটফর্মের সদস্য ও উপকারভোগীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও সৃজনশীলতা বিকাশের লক্ষ্য নিয়ে বরিশালে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘English Carnival 2026’। গত ৫ সেপ্টেম্বর বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে Kabbo’s English Point আয়োজিত এ কার্নিভালে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, অতিথি এবং বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
দিনব্যাপী আয়োজনটি শুধু ইংরেজি ভাষাভিত্তিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ ছিল না। শিক্ষার্থীদের বক্তৃতা, কসপ্লে, র্যাম্প ওয়াক, নাটক, নাচ, গান ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি মঞ্চ থেকে ঘোষণা করা হয় Kabbo’s English Point-এর বেশ কয়েকটি নতুন উদ্যোগ।
অনুষ্ঠানের বিশেষ পর্বে প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ইমতিয়াজ আহমেদ খান কাব্য নিজের জীবনের সংগ্রাম, পথচলা এবং Kabbo’s English Point গড়ে ওঠার গল্প তুলে ধরেন। একই মঞ্চে তিনি প্রতিষ্ঠানটির পরবর্তী যাত্রার রোডম্যাপও প্রকাশ করেন।
এর অংশ হিসেবে উন্মোচন করা হয় শিশুদের জন্য তৈরি Kids’ English Level 1 বই। শিশুদের ইংরেজি শেখার প্রাথমিক ধাপকে আরও সহজ, আনন্দদায়ক ও কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে বইটি তৈরি করা হয়েছে।
কার্নিভালে বিশেষভাবে সামনে আনা হয় Learning Point। একাডেমিক শিক্ষার সঙ্গে AI, ICT ও Digital Learning যুক্ত করে সময়োপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয় এ উদ্যোগের মাধ্যমে। এ সময় গাজী হাদিউজ্জামানকে ICT Faculty এবং নেয়ামুল রনিকে AI Faculty হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
ডিজিটাল উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয় kabbosenglishpoint.com। নতুন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির কোর্স, কার্যক্রম, শাখা, ভর্তি ও বিভিন্ন আপডেট একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে।
বরিশালের বাইরে কার্যক্রম সম্প্রসারণের ঘোষণাও আসে একই মঞ্চ থেকে। Transfotech Student Services (TSS)-এর সঙ্গে সহযোগিতায় ঢাকার উত্তরায় Kabbo’s English Point-এর নতুন শাখা চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়।
এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতামূলক একটি প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করতে নিজস্ব National Olympiad আয়োজনের পরিকল্পনা প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি।
কার্নিভালের আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘোষণা ছিল ‘NaamDaak’। নতুন এই Creative & Advertising Agency ব্র্যান্ডিং, বিজ্ঞাপন নির্মাণ, কনটেন্ট প্রোডাকশন, মডেল হায়ারিং, ইনফ্লুয়েন্সার কোলাবরেশন, সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইন ও ক্রিয়েটিভ স্ট্র্যাটেজিসহ বিভিন্ন সেবা নিয়ে কাজ করবে।
আয়োজনে বিভিন্ন সহযোগী ও অংশীদার প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা জানানোর পাশাপাশি শিক্ষক ও টিম সদস্যদের অবদানের স্বীকৃতিও দেওয়া হয়।
আয়োজকদের ভাষ্য, English Carnival 2026-এর উদ্দেশ্য ছিল একটি প্রচলিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠান আয়োজনের চেয়ে বড় কিছু করা। শিক্ষার্থীরা যেন শেখার পাশাপাশি মঞ্চে দাঁড়াতে পারে, নিজের কথা প্রকাশ করতে পারে এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতার সঙ্গে পরিচিত হতে পারে, সেই লক্ষ্যেই পুরো আয়োজনটি সাজানো হয়।
শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং একের পর এক নতুন উদ্যোগের ঘোষণার মধ্য দিয়ে শেষ হয় এবারের English Carnival 2026।
বরিশালের গির্জা মহল্লায় অবস্থিত মেডিনোভা হসপিটালের ২য় তলায় ২১০ নম্বর চিকিৎসকের কক্ষের সামনে রোগীদের সিরিয়াল পেতে অতিরিক্ত টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এতে হাসপাতালটির সেবা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন রোগী ও স্বজন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, চিকিৎসকের সিরিয়াল হাতে থাকা অবস্থায় রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে চোখের ইশারায় অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করিয়ে রাখা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী দাবি করেন, চিকিৎসকের ভিজিট বাবদ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়ার পরও চিকিৎসকের কক্ষের সামনে থাকা ব্যক্তিদের অতিরিক্ত ২০০ টাকা দিতে বলা হয়। অন্যথায় সিরিয়াল পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি রোগীদের সঙ্গে এমনভাবে কথা বলেন, যেন চিকিৎসকের সঙ্গে তার বিশেষ প্রভাব বা যোগাযোগ রয়েছে। এমনকি ওই ব্যক্তি দাবি করেন, তারাই চিকিৎসকদের হাসপাতালে নিয়ে আসেন—এমন বক্তব্যেও রোগীদের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগকারী আরও বলেন, বিষয়টি শুধু তার একার সঙ্গে নয়, একইভাবে আরও অনেক রোগী ও স্বজনের সঙ্গে ঘটছে। এতে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ হয়রানি ও আর্থিক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে, এসব অভিযোগের সঙ্গে মেডিনোভা হসপিটালের চিকিৎসক বা কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা অভিযোগের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।
রোগী ও স্বজনদের দাবি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং চিকিৎসকের সিরিয়াল দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও নির্ধারিত নিয়ম চালু করবে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বা রোগীদের হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
দীর্ঘ ১১ বছর পর দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের বার্ষিক সাময়িকী ‘অনুরণন’-এর মোড়ক উন্মোচন ও শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর সাময়িকীটি প্রকাশের মধ্য দিয়ে কলেজের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল চর্চায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কলেজের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির দ্বিতীয় তলায় শিক্ষক সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অনুরণন’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মামুন অর রশীদ। অনুষ্ঠানে আহ্বায়ক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর জাবের আহমেদ এবং সভাপতিত্ব করেন বিএম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শেখ মো. তাজুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা, মনন ও সৃজনশীলতা বিকাশে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব প্রকাশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দীর্ঘ বিরতির পর ‘অনুরণন’ প্রকাশ বিএম কলেজের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিএম কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠানের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কলেজের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার পাশাপাশি জাতীয় সংসদেও বিএম কলেজের বিভিন্ন সমস্যা ও উন্নয়ন-সংক্রান্ত বিষয় তুলে ধরবেন। প্রতিষ্ঠানের যেকোনো যৌক্তিক প্রয়োজনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাকে স্মরণ করতে পারেন বলেও জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মামুন অর রশীদ বিএম কলেজের সঙ্গে নিজের শিক্ষাজীবনের স্মৃতির কথা তুলে ধরে বলেন, সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার গভীর আবেগ ও স্মৃতি জড়িয়ে আছে। দীর্ঘ ১১ বছর পর সাময়িকী প্রকাশের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের চিন্তা, মেধা ও প্রতিভা প্রকাশের জন্য ‘অনুরণন’ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠতে পারে।
ম্যাগাজিনের আহ্বায়ক আহ্বায়ক প্রফেসর জাবের আহমেদ বলেন, দীর্ঘ বিরতির পর ‘অনুরণন’ প্রকাশের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা প্রকাশের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের প্রকাশনার ধারা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
সাময়িকীতে লেখা প্রকাশিত দুইজন শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে নিজেদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কলেজের বার্ষিক সাময়িকীতে নিজেদের লেখা প্রকাশের সুযোগ পাওয়াকে তারা আনন্দ ও গর্বের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। নিয়মিতভাবে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলে শিক্ষার্থীদের লেখালেখি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে আগ্রহ আরও বাড়বে বলেও তারা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সভাপতির বক্তব্যে বিএম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শেখ মো. তাজুল ইসলাম বলেন, কলেজের ঐতিহ্য ও শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতাকে ধারণ করেই ‘অনুরণন’ প্রকাশ করা হয়েছে। এবারের সংখ্যায় যাদের লেখা প্রকাশিত হয়নি, তাদের মন খারাপ না করে লেখালেখি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি। ভালো লেখা পরবর্তী সংখ্যার সাময়িকীতে প্রকাশের সুযোগ দেওয়া হবে বলেও আশ্বস্ত করেন অধ্যক্ষ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সংগীতা সরকার এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ, সাময়িকীতে লেখা প্রকাশিত লেখকসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ ১১ বছর পর ‘অনুরণন’ প্রকাশকে ঘিরে অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ ও প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যায়। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, নিয়মিত প্রকাশনার মাধ্যমে ‘অনুরণন’ বিএম কলেজের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে আরও সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে।