ক্যাম্পাস রাজনীতিতে শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জনের পথেই হাঁটতে চান বিএম কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন
বরিশালের ঐতিহ্যবাহী সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের ইতিহাস যেমন শিক্ষা, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক চর্চার দীর্ঘ ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ, তেমনি সময়ের পরিক্রমায় এই ক্যাম্পাস থেকে উঠে এসেছেন অসংখ্য নেতৃত্ব, যারা পরবর্তীতে জাতীয় পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। প্রতিটি সময়েই নতুন প্রজন্মের কিছু তরুণ নিজেদের চিন্তা, কর্ম এবং নেতৃত্বের মাধ্যমে আলাদা করে পরিচিতি তৈরি করেন। তাঁদেরই একজন ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের (২০২০–২১ সেশন) এই শিক্ষার্থী বর্তমানে সরকারি বিএম কলেজ ছাত্রদলের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক। তবে তাঁর সঙ্গে দীর্ঘ আলাপচারিতায় সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি সামনে এসেছে, তা হলো—তিনি নিজের পরিচয়কে কোনো পদ বা রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না। বরং তিনি বিশ্বাস করেন, একজন ছাত্রনেতার প্রকৃত পরিচয় তাঁর দায়িত্ববোধ, মানবিকতা এবং শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতায়।
আলাপের শুরুতেই তিনি বলেন,
“একজন শিক্ষার্থীর দায়িত্ব শুধু নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলা নয়; সমাজ, রাষ্ট্র এবং মানুষের প্রতিও তার দায়িত্ব রয়েছে। আমি সবসময় চেষ্টা করি সেই দায়িত্ববোধ নিয়েই পথ চলতে।”
কথাগুলো বলার সময় তাঁর কণ্ঠে ছিল আত্মবিশ্বাস, তবে তার চেয়েও বেশি ছিল দায়িত্বশীলতার প্রতিফলন। পুরো কথোপকথনের প্রায় প্রতিটি অংশেই ফিরে এসেছে একটি শব্দ—দায়িত্ব। যেন নেতৃত্বকে তিনি ক্ষমতার নয়, বরং সেবার জায়গা থেকে দেখতে অভ্যস্ত।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পাঠ থেকে বাস্তব রাজনীতির অঙ্গনে
সরকারি বিএম কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে রাষ্ট্র, গণতন্ত্র, নাগরিক অধিকার ও রাজনৈতিক দর্শনের নানা তত্ত্ব প্রতিদিনই তাঁর পাঠ্যসূচির অংশ। কিন্তু তাঁর কাছে রাজনীতি কেবল পাঠ্যবইয়ের বিষয় নয়; বরং মানুষের জীবন, অধিকার এবং সমাজের বাস্তবতার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত একটি অধ্যায়।
তিনি মনে করেন, একজন শিক্ষার্থী যদি দেশের রাজনীতি, গণতন্ত্র এবং নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন না হন, তাহলে তাঁর শিক্ষা পূর্ণতা পায় না। তাই একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তব অভিজ্ঞতার ক্ষেত্র হিসেবেও তিনি ছাত্ররাজনীতিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।
তাঁর ভাষায়,
“ছাত্ররাজনীতি হচ্ছে নেতৃত্ব শেখার প্রথম বিদ্যালয়। এখানে দায়িত্ব নেওয়া শেখা যায়, মানুষের কথা শোনা শেখা যায়, ত্যাগের শিক্ষা পাওয়া যায়।”
যে আদর্শ তাঁকে রাজনীতির পথে নিয়ে এসেছে
ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিনের রাজনৈতিক যাত্রা কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্তের ফল নয়। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরেই দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং রাষ্ট্রচিন্তা তাঁকে আকৃষ্ট করেছে।
তিনি বলেন, তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের ভিত্তি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ার চিন্তা। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়ার গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলন এবং বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও রাষ্ট্রচিন্তা তাঁকে ছাত্ররাজনীতিতে সম্পৃক্ত হতে অনুপ্রাণিত করেছে।
তবে তাঁর মতে, রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানুষের সেবা।
“রাজনীতি যদি শুধু ক্ষমতা বা ব্যক্তিগত পরিচয়ের জন্য হয়, তাহলে সেটি প্রকৃত রাজনীতি নয়। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সমাজের কল্যাণ এবং দেশ গঠনের দায়িত্ববোধ থেকেই রাজনীতি করা উচিত। আমি সেই বিশ্বাস থেকেই এই পথে এসেছি।”
পদ নয়, শুরুটা ছিল একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে
বর্তমানে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করলেও নিজের শুরুর দিনগুলো ভুলে যাননি।
ওয়ালিদ জানান, সংগঠনে যোগ দেওয়ার সময় তাঁর সামনে কোনো পদ বা পরিচয়ের স্বপ্ন ছিল না। বরং তিনি বিশ্বাস করতেন, একজন কর্মীর প্রকৃত পরিচয় তাঁর নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা, ত্যাগ এবং সংগঠনের প্রতি আন্তরিকতার মধ্যেই নিহিত।
তিনি বলেন,
“আমি কখনো ভাবিনি কোথায় পৌঁছাব। আমি শুধু চেষ্টা করেছি দায়িত্ব পালন করতে। কঠিন সময়ে সহকর্মীদের সঙ্গে ছিলাম, সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ নিয়েছি এবং নিজের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চটুকু দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমার কাছে পদ কোনো গন্তব্য নয়; এটি মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিফলন।”
ধীরে ধীরে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে করতেই আজ তিনি বিএম কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক। তবে এই অর্জনকে তিনি শেষ নয়, বরং নতুন দায়িত্বের সূচনা হিসেবেই দেখেন।
সাধারণ কর্মী থেকে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক—এই যাত্রা যতটা সম্মানের, ততটাই দায়িত্বেরও। ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন মনে করেন, একটি ছাত্রসংগঠনের নেতৃত্বে থাকা মানে শুধু কর্মসূচি পরিচালনা করা নয়; বরং শত শত শিক্ষার্থীর প্রত্যাশা, অভিযোগ, স্বপ্ন এবং সংকটের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখা।
তিনি বলেন, “আমার কাছে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয় নয়। এটি শিক্ষার্থীদের দেওয়া আস্থার প্রতিফলন। সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করাই আমার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।”
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি এবং তাঁর সহকর্মীরা সংগঠনের কার্যক্রমকে কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন সমস্যার দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাঁর ভাষায়, ছাত্রসংগঠনের গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার ওপর।
‘শোনা’ থেকেই শুরু নেতৃত্ব
ওয়ালিদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে একটি বিষয় বারবার উঠে এসেছে—তিনি নেতৃত্বের প্রথম শর্ত হিসেবে শোনার ক্ষমতাকে গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন,
“আমরা অনেক সময় মনে করি নেতৃত্ব মানেই নির্দেশ দেওয়া। কিন্তু আমার বিশ্বাস, নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় শক্তি মানুষের কথা মন দিয়ে শোনা। একজন শিক্ষার্থী যখন নিজের সমস্যার কথা বলতে পারে, তখনই সে নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখতে শুরু করে।”
এই চিন্তা থেকেই দায়িত্ব নেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই কলেজে অভিযোগ ও পরামর্শ বক্স স্থাপন করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল এমন শিক্ষার্থীদের মতামত সংগ্রহ করা, যারা হয়তো সরাসরি কোনো নেতার কাছে গিয়ে নিজের সমস্যার কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না।
ওয়ালিদের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে একাডেমিক সমস্যা, ক্যাম্পাস-সংক্রান্ত অসুবিধা এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রত্যাশা সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হয়েছে।
প্রতিশ্রুতিবাস্তবায়নেরচেষ্টা
নির্বাচনের সময় শিক্ষার্থীদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়েও তিনি আশাবাদী।
তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর কলেজ প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। একাডেমিক পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষাসেবা-সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা এবং শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা চালুর উদ্যোগ তাঁর উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমগুলোর একটি বলে তিনি মনে করেন।
তবে তিনি এটিও স্বীকার করেন, সব উদ্যোগ তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না।
“অনেক বিষয় আছে, যেগুলো আমাদের একার সিদ্ধান্তে করা সম্ভব নয়। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া রয়েছে, বাস্তবতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করি সমস্যাগুলো যথাযথ জায়গায় তুলে ধরতে এবং সমাধানের পথ খুঁজতে।”
মানবিককাজেওসক্রিয়থাকারপ্রত্যয়
ওয়ালিদের মতে, একটি ছাত্রসংগঠন কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে তার উদ্দেশ্য পূরণ হয় না।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানো, সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া এবং সংকটের সময়ে সহমর্মিতা দেখানোও একজন ছাত্রনেতার দায়িত্বের অংশ।
“মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারলে তবেই নেতৃত্বের মূল্য আছে। শুধু মঞ্চে বক্তৃতা দিলেই নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় না।”
প্রত্যাশারচাপইসবচেয়েবড়চ্যালেঞ্জ
দায়িত্ব পালনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী—এই প্রশ্নের উত্তরে ওয়ালিদ কিছুটা ভেবেই উত্তর দেন।
“সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মানুষের প্রত্যাশা। শিক্ষার্থীরা চায় তাদের সমস্যা দ্রুত সমাধান হোক। কর্মীরাও চায় সংগঠন আরও সক্রিয় হোক। কিন্তু বাস্তবতার কারণে সবকিছু সঙ্গে সঙ্গে করা সম্ভব হয় না।”
তাঁর মতে, অনেক সময় প্রশাসনিক জটিলতা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা কিংবা নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে কাঙ্ক্ষিত কাজ বাস্তবায়নে সময় লাগে। তবুও ধৈর্য, নিয়মিত যোগাযোগ এবং আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হয়।
ক্যাম্পাসেসহাবস্থানেরপক্ষে
বর্তমান সময়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার খবর প্রায়ই সামনে আসে। তবে ওয়ালিদ মনে করেন, মতের ভিন্নতা গণতান্ত্রিক সমাজের স্বাভাবিক বিষয়।
“ভিন্নমত থাকতেই পারে। কিন্তু সেই ভিন্নমত যেন কখনো সংঘাতের কারণ না হয়। আমরা চাই একটি শান্তিপূর্ণ, সহনশীল ও শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস, যেখানে সব শিক্ষার্থী নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারবে।”
তিনি বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, মানবিকতা এবং সহমর্মিতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারলেই ক্যাম্পাসের পরিবেশ আরও ইতিবাচক হবে।
শিক্ষার্থীদেরআস্থা—সবচেয়েবড়প্রাপ্তি
দীর্ঘ আলাপের এক পর্যায়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় অর্জন কী?
ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিনের উত্তর ছিল সংক্ষিপ্ত, কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ।
“আমার কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন কোনো পদ নয়। যদি একজন সাধারণ শিক্ষার্থী বিশ্বাস করে যে প্রয়োজনের সময় আমি তার পাশে দাঁড়াব, সেটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
পড়াশোনা, নেতৃত্ব ও স্বপ্ন—একজন ছাত্রনেতার ব্যক্তিগত দর্শন
একজন ছাত্রনেতার কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি—রাজনীতি আর পড়াশোনা কি পাশাপাশি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব? অনেকের মতে, সাংগঠনিক ব্যস্ততা একাডেমিক জীবনে প্রভাব ফেলে। আবার কেউ মনে করেন, সময় ব্যবস্থাপনা জানলে দুটি ক্ষেত্রেই সফল হওয়া সম্ভব।
ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন দ্বিতীয় মতের পক্ষেই দাঁড়ান। তাঁর মতে, একজন ছাত্রনেতার সবচেয়ে বড় পরিচয় হওয়া উচিত তিনি একজন শিক্ষার্থী। সেই পরিচয়কে অক্ষুণ্ন রেখেই নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করতে হয়।
তিনি বলেন,
“সময় ব্যবস্থাপনাই সবচেয়ে বড় বিষয়। আমি সবসময় চেষ্টা করি পড়াশোনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সংগঠনের দায়িত্বও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে।”
তবে তিনি স্বীকার করেন, অতীতের রাজনৈতিক বাস্তবতা তাঁর শিক্ষাজীবনকে কিছুটা প্রভাবিত করেছে।
“বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে ছাত্রদলের একজন কর্মী হওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই আমার একাডেমিক কার্যক্রম কিছুটা বিঘ্নিত হয়েছিল। এখন চেষ্টা করছি রাজনীতির পাশাপাশি সেদিকেও সমান গুরুত্ব দিতে। কারণ একজন ছাত্রনেতা যদি নিজেই শিক্ষাজীবনে সফল না হন, তাহলে অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা হওয়া কঠিন।”
‘নেতৃত্ব মানে দায়িত্ব’
ওয়ালিদের সঙ্গে দীর্ঘ আলাপের পুরোটা জুড়ে একটি বিষয় সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে—তিনি নেতৃত্বকে কখনো ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে দেখেন না।
বরং তাঁর ভাষায়,
“নেতৃত্ব মানে সবার আগে দায়িত্ব নেওয়া। নেতৃত্ব মানে মানুষের কথা শোনা, সংকটে পাশে দাঁড়ানো এবং নিজের চেয়ে অন্যের প্রয়োজনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া।”
একজন আদর্শ ছাত্রনেতার কী গুণ থাকা উচিত—এই প্রশ্নে তিনি বলেন,
“আমার কাছে একজন আদর্শ ছাত্রনেতা সেই ব্যক্তি, যিনি আগে একজন ভালো মানুষ। যার মধ্যে সততা, সাহস, বিনয়, ত্যাগের মানসিকতা এবং মানুষের কথা মন দিয়ে শোনার ক্ষমতা থাকবে। নেতৃত্ব কখনো অহংকারের বিষয় নয়; এটি জবাবদিহির একটি জায়গা।”
চারটি মূল্যবোধে বিশ্বাস
ব্যক্তিগত জীবনেও কিছু নীতিকে তিনি সবসময় অনুসরণ করার চেষ্টা করেন।
সততা, দায়িত্ববোধ, মানবিকতা এবং দেশপ্রেম—এই চারটি শব্দই তাঁর কাছে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
তিনি বলেন,
“মানুষকে পদ দিয়ে নয়, চরিত্র দিয়ে মূল্যায়ন করা উচিত। পদ একদিন থাকবে না, কিন্তু একজন মানুষের ব্যবহার, সততা এবং কর্মই তাকে মানুষের মনে বাঁচিয়ে রাখে।”
স্বপ্ন শুধু রাজনীতি নয়, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও
বিএম কলেজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ওয়ালিদের চোখে আলাদা উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
তিনি চান, কলেজটি শুধু ঐতিহ্যের জন্য নয়, শিক্ষার মান, গবেষণা, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশের দিক থেকেও দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হোক।
তাঁর স্বপ্নের তালিকায় রয়েছে—
ক্যারিয়ার অ্যান্ড স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেল,
উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ার গাইডেন্স ডেস্ক,
জরুরি শিক্ষার্থী সহায়তা তহবিল,
নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম,
প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শিক্ষা-সহায়ক ব্যবস্থা।
তিনি বলেন,
“আমি চাই ছাত্রসংগঠন শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকুক। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনেরও একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হোক। একজন শিক্ষার্থী যেন শুধু একটি ডিগ্রি নয়, দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস এবং নেতৃত্বের গুণ নিয়েও কলেজ থেকে বের হতে পারে।”
ভবিষ্যৎ নিয়ে অন্যরকম ভাবনা
অনেকেই ভবিষ্যৎ নিয়ে নির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা বলেন। কিন্তু ওয়ালিদের উত্তর ছিল কিছুটা ভিন্ন।
তিনি বলেন,
“আমি ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব বেশি পরিকল্পনা করি না। মানুষ মরণশীল। কখন, কোথায় এবং কীভাবে জীবনের সমাপ্তি হবে, তা একমাত্র মহান আল্লাহই জানেন। তাই আমি পদ নয়, প্রতিটি দিন যেন সততা, দায়িত্ববোধ এবং মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে পারি, সেই চেষ্টাই করি।”
কিছুক্ষণ থেমে তিনি আরও যোগ করেন,
“আমার একটাই প্রত্যাশা—যেদিন এই পৃথিবী থেকে বিদায় নেব, সেদিন মানুষ যেন আমাকে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এবং দোয়ার সঙ্গে স্মরণ করে। যদি একজন সৎ, দায়িত্বশীল ও মানবিক মানুষ হিসেবে মানুষের হৃদয়ে সামান্য জায়গাও করে নিতে পারি, সেটাই হবে আমার সবচেয়ে বড় অর্জন।”
নতুন প্রজন্মের প্রতি বার্তা
ছাত্ররাজনীতিতে আসতে আগ্রহী নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য তাঁর পরামর্শও বেশ স্পষ্ট।
“প্রথমে নিজেকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলুন। পড়াশোনাকে গুরুত্ব দিন। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকুন। রাজনীতিকে কখনো ব্যক্তিগত লাভের মাধ্যম হিসেবে নয়, মানুষের সেবার একটি মহৎ দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করুন। আদর্শ, শৃঙ্খলা ও ত্যাগ ছাড়া প্রকৃত নেতৃত্ব সৃষ্টি হয় না।”
শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে
আলাপের শেষদিকে কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের উদ্দেশে নিজের বার্তা তুলে ধরেন ওয়ালিদ।
তিনি বলেন,
“শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। নৈতিক মূল্যবোধ এবং দেশপ্রেম ধারণ করে নিজেকে একজন যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আমাদের শিক্ষকরা শুধু পাঠদান করেন না, তাঁরা আমাদের পথপ্রদর্শক। আর অভিভাবকদের প্রতি আমার অনুরোধ, সন্তানদের শুধু ভালো ফলাফলের জন্য নয়, একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে উৎসাহিত করুন। আমরা সবাই যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল হই, তাহলে আমাদের কলেজ, সমাজ এবং বাংলাদেশ অবশ্যই আরও সুন্দর ও সমৃদ্ধ হবে।”
শেষকথা
কথোপকথন শেষে ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিনকে বিদায় জানিয়ে বেরিয়ে আসার সময় মনে হচ্ছিল, তাঁর কথাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত শব্দ ছিল—দায়িত্ব।
রাজনীতির উত্তাপ, সাংগঠনিক ব্যস্ততা কিংবা নেতৃত্বের আলোচনার ভিড়েও তিনি বারবার ফিরে গেছেন মানুষের কাছে, শিক্ষার্থীদের কাছে, দায়িত্বের কাছে।
ভবিষ্যতে তাঁর পথচলা কোন দিকে যাবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—নিজের ভাষায় তিনি যে পরিচয়টি সবচেয়ে বেশি ধারণ করতে চান, সেটি কোনো পদবির নয়; একজন দায়িত্বশীল, মানবিক এবং শিক্ষার্থীদের আস্থার জায়গা হয়ে ওঠা মানুষের।
আর হয়তো এ কারণেই তাঁর একটি বাক্য দীর্ঘ আলাপের পরও মনে থেকে যায়—
“পদ একদিন শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু মানুষের ভালোবাসা ও বিশ্বাসই একজন মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়।”
আকাশ, ঝালকাঠি প্রতিনিধি | 22 October 2026, 8:31 pm
সামাজিক দায়বদ্ধতা, মানবিক মূল্যবোধ ও তারুণ্যের বিকাশে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন শাকিল রনি। সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং তরুণদের মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে কাজ করছেন তিনি।
২০০৪ সালে সামাজিক সংগঠন সিটি ক্লাব ও পাঠাগারের সাধারণ সদস্য হিসেবে যুক্ত হন শাকিল রনি। তবে সদস্য হওয়ার আগ থেকেই সংগঠনটির বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে দপ্তর সম্পাদক, সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি সংগঠনটির আজীবন সদস্য।
দীর্ঘ সাংগঠনিক পথচলায় বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় সংগঠনে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন শাকিল রনি। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ইয়েস গ্রুপের দলনেতা হিসেবে দুইবার দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির যুব উপপ্রধান দুই ও যুব প্রধানের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সংগঠনটির আজীবন সদস্য হিসেবেও যুক্ত রয়েছেন।
প্রথম আলো বন্ধুসভার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা দীর্ঘদিনের। সংগঠনটিতে দপ্তর সম্পাদক, অর্থ সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। এ নিয়ে তিনবার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
পরিবেশ সংরক্ষণ ও সামাজিক সচেতনতা তৈরিতেও সক্রিয় শাকিল রনি। তিনি বিডি ক্লিন ঝালকাঠির জেলা সমন্বয়ক, ক্লিন রিভার বাংলাদেশের বরিশাল বিভাগীয় ক্যাপ্টেন, ইয়ুথ কাউন্সিল অব বাংলাদেশের বরিশাল বিভাগীয় অ্যাম্বাসাডর এবং গ্রিন ফোর্স বাংলাদেশের প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশের সহসভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন।
জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ধ্রুবতারা ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনে জেলা পর্যায়ে দপ্তর সম্পাদক থেকে শুরু করে সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। পরবর্তী সময়ে সংগঠনটির বরিশাল বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক, সহসভাপতি ও সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন। ইয়ুথ অ্যাকশন সোসাইটি ইয়াসের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন শাকিল রনি।
এ ছাড়া বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ঝালকাঠি জেলা সমন্বয়ক, প্রত্যয় তরুণ সংঘের সিনিয়র সহসভাপতি এবং শহর সমাজসেবা সমন্বয় পরিষদের প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। শহর সমাজসেবা সমন্বয় পরিষদে তাঁর দায়িত্বের মেয়াদ ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। তিনি ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির আজীবন সদস্য, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের ক্যাবের প্রচার সম্পাদক এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপার সদস্য হিসেবেও যুক্ত রয়েছেন।
সাংগঠনিক ব্যস্ততার মধ্যেও সাহিত্যের প্রতি রয়েছে তাঁর বিশেষ অনুরাগ। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে শিশু-কিশোর ও তরুণদের বই পড়ায় আগ্রহী করে তুলতে কাজ করছেন তিনি। নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে অনেকের মধ্যে বিনামূল্যে বই বিতরণ করেছেন। তাঁর বিশ্বাস, বই মানুষের চিন্তাকে প্রসারিত করে, মননশীলতা বাড়ায় এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলে।
নতুন প্রজন্মকে নিয়ে শাকিল রনির ভাবনাও স্পষ্ট। তাঁর মতে, পড়াশোনার পাশাপাশি তরুণদের সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা প্রয়োজন। তরুণেরা ভালো কাজে সম্পৃক্ত হলে তাদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত হবে। একই সঙ্গে মাদকসহ বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকতেও ইতিবাচক পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শাকিল রনির কাছে সামাজিক সংগঠন কেবল পদ-পদবি কিংবা পরিচিতির জায়গা নয়, বরং মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজের জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখার একটি ক্ষেত্র। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ড ও সাহিত্যচর্চার মধ্য দিয়ে তিনি নতুন প্রজন্মকে একটি মানবিক ও দায়িত্বশীল সমাজ গঠনে উদ্বুদ্ধ করতে চান।পরিচয়
আকাশ, ঝালকাঠি প্রতিনিধি | 21 October 2026, 9:45 pm
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্মৃতি মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর ফাইনাল খেলা উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে সুবিদপুর ইউনিয়নের মাদারঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন বালুর মাঠে এ ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
ফাইনাল ম্যাচে ‘দশআনি একাদশ’ বনাম ‘টেনশন একাদশ’ মুখোমুখি হয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে টেনশন একাদশকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে দশআনি একাদশ। খেলাটি দেখতে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
ফাইনাল খেলায় সুবিদপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আমন্ত্রিত অতিথিরা এ ধরনের সামাজিক ও ক্রীড়ামুখী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতেও সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে ২ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি ও ঝালকাঠি সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মো. আরিফুল ইসলাম আকাশ বলেন, “একমাত্র খেলাধুলাই পারে তরুণদের বিপথগামী হওয়া থেকে বিরত রাখতে। তরুণদের মেধা, মনন ও শারীরিক বিকাশে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই।”
টুর্নামেন্ট সফলভাবে আয়োজনের জন্য অংশগ্রহণকারী দল, প্লেয়ার, অতিথিবৃন্দ, দর্শক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছে আয়োজক কমিটি।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বরিশালের ঐতিহ্যবাহী সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর কাজী জাবের আহমেদের নেতৃত্বে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল। এ সময় কলেজের বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা ও সংকট নিয়ে আলোচনা হয়। সমস্যা সমাধানে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন চিফ হুইপ।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় বরিশাল সার্কিট হাউসে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে কলেজের শিক্ষা কার্যক্রমের পরিবেশ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। এ সময় দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান সমস্যা ও সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কলেজের সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
কলেজের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা কামনা করেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর কাজী জাবের আহমেদ। জবাবে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এমপি এসব সমস্যা সমাধানে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
উল্লেখ্য, ১৮৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত সরকারি ব্রজমোহন কলেজ দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন ধরে কলেজটি বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলে উচ্চশিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।
সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক সুলতান রিয়াজ মাহমুদ, সহযোগী অধ্যাপক ড. মাসুদ, রাশেদ খান শাহীন, সহকারী অধ্যাপক তৈমুর রহমান ও রিয়াজুল হক এবং বিএম কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ ও বাশার।
কয়েকটি কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের চেষ্টার বিষয়ে গোয়েন্দাদের কাছে পরিষ্কার খবর আছে। যারা পালিয়ে গেছে, তারা অর্থ সরবরাহ করছে এবং যারা বেহেশতের টিকিট বিক্রি করতো তাদের মাধ্যমে অর্থ দিচ্ছে। এই দুই পক্ষ এক হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর মাদরাসা মাঠে এক জনসভায় তিনি এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
কেউ যাতে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে সে বিষয়ে জনগণকে সচেতন হবার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান। তিনি বললেন, একটি দল মুখে চব্বিশের কথা বলে, কিন্তু তারা শহীদদের স্মরণে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলো না। তাদের মুখে এক কথা, কর্মে আরেক।
তারেক রহমান দাবি করেন, কতগুলো দল বিএনপির তথা জনগণের কর্মসূচি সফল হোক তা চায় না। আগামী ৫ বছর বিএনপিকে সমর্থন দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান দলটির চেয়ারম্যান।
সরকারপ্রধান আরও বলেন, বিদেশ থেকে কেউ এসে দেশ গড়ে দিয়ে যাবে না। নিজেদেরকেই গড়তে হবে। তিস্তা ও পদ্মায় সরকারই ব্যারেজ তৈরি করবে। কুচক্রী মহল দেশের ভাগ্য বদলে বাধা দিতে চেষ্টা করছে। পানির ন্যায্য হিস্যা বুঝে নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
পিরোজপুরের নাজিরপুর ও নেছারাবাদ খেয়া পারাপারে অতিরিক্ত যাত্রী ও ৬ টি মোটরসাইকেল বহনের কারণে একটি ট্রলার দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনায় এক শিশু প্রাণ হারিয়েছে এবং তার মা দুর্ঘটনার ১৮ ঘন্টা অতিবাহিত হওয়ার পরেও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে দুর্ঘটনাকবলিত নাজিরপুরের শ্রীরামকাঠী ও নেছারাবাদের ভরতকাটী খেয়া ঘাট এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মেদ সোহেল মনজুর।
জানা যায়, সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে শ্রীরামকাঠী-ভরতকাঠী ফেরিঘাট এলাকায় অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল নিয়ে কালিগঙ্গা নদী পার হওয়ার সময় অতিরিক্ত যাত্রী পারাপার করতে গেলে তলাটি একপাশে কাত হয়ে যায় এবং ট্রলারে থাকা যাত্রী নদীতে পড়ে যায়। নদীতে পড়ে যাওয়া যাত্রীরা সাঁতরে এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় পাড়ে উঠতে পারলেও নিখোঁজ হন মা ও মেয়ে। ফায়ার সার্ভিস ডুবুরি দলের চেষ্টায় রাত ১১ টা ১০ মিনিটের দিকে মৃত অবস্থায় মেয়েকে উদ্ধার করা হলেও মাকে (মঙ্গলবার বেলা তিনটা পর্যন্ত) ১৮ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরেও তার খোঁজ মেলেনি। তবে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এবং নৌ বাহিনীর ডুবুরী দলের উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী উদ্ধার কাজের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় নিখোঁজ নারীকে দ্রুত উদ্ধারে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা প্রশাসক মো. গোলাম রাব্বানী, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান, নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজিয়া শাহনাজ তমা, ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর কর্মকর্তা এবং নাজিরপুর থানা পুলিশের একটি দল।
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরিশাল। | 17 October 2026, 6:17 pm
বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিজেই ঠিকাদারীর সাথে যুক্ত হয়ে কাজ বাগানোর অভিযোগ উঠেছে। তাছাড়া ঘুষ, কমিশন বাণিজ্য, দরপত্রে অনিয়ম, বিল আটকে রাখা এবং নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার একাধিক অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্ট সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ২৪ জন ঠিকাদার। তাঁর অপসারণ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে মানববন্ধনও করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ঠিকাদারদের অভিযোগ, প্রকল্পের কার্যাদেশ দেওয়া থেকে শুরু করে বিল উত্তোলন ও নিরাপত্তা জামানত ফেরতের বিভিন্ন পর্যায়ে একটি প্রভাবশালী বলয়ের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের নামে কাজ নিয়ে অন্য ঠিকাদারদের কাছে সাবকন্ট্রাক্টে হস্তান্তর, দরপত্র মূল্যায়নে প্রভাব বিস্তার এবং বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে কমিশন দাবির অভিযোগও করেছেন তাঁরা।
অভিযোগকারীদের দাবি, বরিশালের মেসার্স মোমিন সিকদার, দিনাজপুরের মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজ, চট্টগ্রামের ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স এবং খুলনার মেসার্স রাফিদ ট্রেডার্স নামের চারটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ বণ্টন ও সাবকন্ট্রাক্টের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের সাথে বেনামে মালিকানায় থেকে ব্যবসায়িক সম্পর্ক এবং কাজ বণ্টন করছেন বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম।
প্রায় ৩২ কোটি টাকার কারিগরি স্কুল ও কলেজ স্থাপন প্রকল্প ঘিরেও কমিশন লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া বরিশাল নগরীর কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের দরপত্র, নিরাপত্তা জামানত কর্তন এবং ঠিকাদারদের বিল আটকে রাখার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। কাজ সম্পন্ন করার পরও অনেক ঠিকাদার মাসের পর মাস বিল পাচ্ছেন না। এতে ব্যাংকঋণের সুদ, শ্রমিকের মজুরি ও নির্মাণসামগ্রীর বকেয়া পরিশোধে সংকট তৈরি হচ্ছে।
দরপত্রে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দিতে প্রতিযোগী ঠিকাদারদের কারিগরি ত্রুটির অজুহাতে বাদ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি কাজের মান, প্রকল্পের অগ্রগতি এবং অতিরিক্ত বিলের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। দরপত্র, কার্যাদেশ, পরিমাপ বই, বিল-ভাউচার ও প্রকল্পের বাস্তব অবস্থা যাচাই করলেই এর সত্যতা পাওয়া যাবে।
নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঠিকাদার ফারুক হোসেনকে ফোনে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ২০২৫ সালের ২৯ নভেম্বরের ঘটনার পরদিন বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় ২০৭৬ নম্বরে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন ঠিকাদারদের একাংশ। সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত দাবি করেছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামকে অফিসে গিয়ে তার কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি। তার মুঠো ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী জানিয়েছেন, দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা পাঁচ দিনের ছুটির সমন্বয় করতে আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের কার্যক্রম চালু থাকবে। স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী চলবে সেবা কার্যক্রম। এদিকে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর দেশের সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। এর বিপরীতে আজ সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও ব্যাংক খোলা রাখা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সচল রাখতে সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দরে অবস্থিত ব্যাংকের শাখা ও বুথগুলোকে ২০ থেকে ২২ অক্টোবরের সরকারি ছুটি এবং ২৩ ও ২৪ অক্টোবরের সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও সীমিত পরিসরে আমদানি-রফতানিসংক্রান্ত ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে।
আকাশ, ঝালকাঠি প্রতিনিধি | 16 October 2026, 9:53 pm
মানুষের জন্য কিছু মানুষ বেঁচে থাকেন নিজের মতো করে। প্রচারের আলোয় নয়, বরং কারও মুখের হাসিতে, কারও বিপদের দিনে বাড়িয়ে দেওয়া সহযোগিতার হাতে তাঁরা খুঁজে নেন জীবনের সার্থকতা। আবির হোসেন রানা তেমনই একজন মানুষ, যাঁর দীর্ঘ পথচলার সঙ্গে মিশে আছে স্বেচ্ছাসেবা, মানবিকতা, নেতৃত্ব ও সাহিত্যের প্রতি গভীর অনুরাগ।
২০০৭ সালের দিকে প্রথম আলো বন্ধুসভার সঙ্গে যুক্ত হয়ে ঘূর্ণিঝড় সিডর পরবর্তী মানবিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তাঁর স্বেচ্ছাসেবী জীবনের সূচনা। দুর্যোগের ক্ষত বুকে নিয়ে বেঁচে থাকা মানুষের অসহায়ত্ব তাঁকে শিখিয়েছে, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সব সময় বড় সামর্থ্যের প্রয়োজন হয় না, প্রয়োজন হয় একটি সংবেদনশীল হৃদয়ের। সেই উপলব্ধি থেকেই ধীরে ধীরে বিস্তৃত হয়েছে তাঁর মানবিক পথচলা।
পরবর্তীকালে জাগো ফাউন্ডেশনের জাগো সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সাধারণ সদস্য হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করেন। ২০০৯ সালের দিকে প্রায় ১০০ জন পথশিশুর হাতে ঈদের পোশাক তুলে দেওয়ার উদ্যোগ ছিল তাঁর মানবিক কর্মকাণ্ডের উল্লেখযোগ্য একটি অধ্যায়। যাদের ঈদের আনন্দ অনেক সময় অভাবের আড়ালে চাপা পড়ে যায়, তাদের মুখে হাসি ফোটানোর এই প্রচেষ্টা প্রমাণ করে, মানুষের জন্য করা ছোট একটি উদ্যোগও কারও জীবনে বড় আনন্দ হয়ে উঠতে পারে।
মানুষের কল্যাণে কাজ করার পাশাপাশি সমাজের অসংগতি নিয়েও তাঁর ভাবনা রয়েছে। টিআইবির সচেতন নাগরিক কার্যক্রমের ইয়েস দলের দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর সামাজিক দায়বদ্ধতাকে আরও গভীর করেছে।
২০২০ সালে ইয়ুথ অ্যাকশন সোসাইটি, ইয়াস গঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন আবির হোসেন রানা। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠালগ্নে সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সাল থেকে সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে সংগঠনের কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তরুণদের মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, সামাজিক সচেতনতা তৈরি এবং মানুষের প্রয়োজনের সময়ে পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে তিনি স্বেচ্ছাসেবার পরিসরকে আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করছেন।
তবে একজন সংগঠক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের বাইরেও রয়েছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। তিনি নতুন প্রজন্মের স্বেচ্ছাসেবকদের কাছে একজন পরামর্শদাতা ও অনুপ্রেরণার মানুষ।
ইয়াসের স্বেচ্ছাসেবক আকাশ বলেন, আবির হোসেন রানা জুনিয়র স্বেচ্ছাসেবকদের সব সময় কাজের প্রতি উৎসাহিত করেন। ধৈর্য ধরে দায়িত্ব পালন করা, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও হাল না ছাড়া এবং নতুন উদ্যোগ নিয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করার বিষয়ে তিনি পরামর্শ দেন। তাঁর কাছ থেকে নতুনরা শুধু সাংগঠনিক কাজের অভিজ্ঞতাই নয়, বরং দায়িত্বশীলতা, ধৈর্য ও মানুষের প্রতি আন্তরিকতার শিক্ষাও পায়। একজন অভিজ্ঞ স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে তিনি নতুনদের এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখান এবং তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরিতে ভূমিকা রাখেন।
আবির হোসেন রানার শিক্ষাজীবন কেটেছে ঝালকাঠি পৌর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ঝালকাঠি সরকারি কলেজে। সামাজিক কর্মকাণ্ডের ব্যস্ততার বাইরেও গল্প ও উপন্যাস পড়ার প্রতি তাঁর রয়েছে বিশেষ ভালোবাসা। সাহিত্যের প্রতি এই টান তাঁর চিন্তাজগৎকে সমৃদ্ধ করে, মানুষের জীবন ও মনস্তত্ত্বকে কাছ থেকে বুঝতে সাহায্য করে। বইয়ের পাতায় তিনি খুঁজে পান মানুষের সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহ, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি আর সমাজের নানা বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি।
সাহিত্য মানুষের ভেতরের মানুষটিকে চিনতে শেখায়, আর স্বেচ্ছাসেবা সেই উপলব্ধিকে বাস্তব জীবনে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করে। আবির হোসেন রানার জীবনেও যেন এই দুই ধারার এক মেলবন্ধন রয়েছে। একদিকে বইয়ের পাতায় মানুষের জীবনকে জানা, অন্যদিকে বাস্তব জীবনে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। এই দুইয়ের সমন্বয় তাঁর ব্যক্তিত্বে যোগ করেছে আলাদা মাত্রা।
বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক মানবিক উদ্যোগের প্রচার দেখা যায়। কিন্তু আবির হোসেন রানার পরিচয়ের বিশেষ দিক হলো, প্রচারের চেয়ে কাজকে গুরুত্ব দেওয়ার মানসিকতা। তাঁর কাছে মানুষের পাশে দাঁড়ানো কোনো প্রদর্শনীর বিষয় নয়, বরং নিজের সামর্থ্য ও দায়িত্ববোধ থেকে করা এক ধরনের মানবিক অঙ্গীকার। যদিও তাঁর কাজের প্রতিটি দিক প্রচারের বাইরে থাকে কি না, তা আলাদাভাবে যাচাইয়ের বিষয়, তবু দীর্ঘদিনের স্বেচ্ছাসেবী সম্পৃক্ততা তাঁর সামাজিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতার পরিচয় দেয়।
সিডর পরবর্তী মানবিক কার্যক্রম থেকে পথশিশুদের ঈদের আনন্দে শামিল করা, দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা থেকে ইয়াসের নেতৃত্ব, প্রতিটি পর্যায়েই রয়েছে মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা। সময়ের সঙ্গে দায়িত্ব বদলেছে, কাজের পরিধি বেড়েছে, কিন্তু মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়ই তাঁর পথচলার মূল প্রেরণা হয়ে রয়েছে।
ঝালকাঠির এই মানবিক মুখ আবির হোসেন রানার গল্প তাই কেবল একজন স্বেচ্ছাসেবীর জীবনের গল্প নয়, এটি দায়িত্ববোধ, মননশীলতা ও মানুষের প্রতি মমত্ববোধের গল্প। যে গল্পে সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে সমাজের জন্য কাজ করে যাওয়ার নিরন্তর প্রয়াস। কারণ, সব অর্জন পদক বা পরিচয়ে মাপা যায় না, কিছু অর্জন থেকে যায় মানুষের মনে, কারও বিপদের দিনে পাশে দাঁড়ানোর স্মৃতিতে, আর কারও মুখে ফিরে আসা একটুখানি হাসিতে।
আবির সিকদার, বিএম কলেজ | 16 October 2026, 10:32 am
সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে নামমাত্র চিকিৎসাকেন্দ্র ও চিকিৎসক থাকলেও ন্যূনতম চিকিৎসা সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা নেই। প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের থেকে চিকিৎসা খাত বাবদ অর্থ আদায় করা হয়, কিন্তু সেখানে ওষুধ বা প্রাথমিক চিকিৎসার মৌলিক কোনো ব্যবস্থাপনা নেই। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ফি দিয়েও পাচ্ছেন না কাঙ্ক্ষিত সেবা, যা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মনে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজমান।
কলেজের হিসাব শাখার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর সেশন চার্জের সাথে প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে চিকিৎসাকেন্দ্র খাতে ২০ টাকা করে নেওয়া হয়। কলেজের ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর হিসাব অনুযায়ী, বাৎসরিক প্রায় ৬ লাখ টাকা এ খাতে জমা হয়। কিন্তু বাস্তবে চিকিৎসাকেন্দ্রে গেলে এক পিস প্যারাসিটামল, এন্টাসিড, অ্যান্টিহিস্টামিন, খাওয়ার স্যালাইন, অ্যান্টিসেপটিক বা সামান্য ব্যান্ডেজ পাওয়া যায় নাহ।
কলেজের কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে তাকে চিকিৎসাকেন্দ্রটিতে বা দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য অ্যাম্বুলেন্স, হুইলচেয়ার, ট্রলি কিংবা স্ট্রেচারের পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেই। গত বছরের অক্টোবরে প্রাথমিক চিকিৎসা না পেয়ে চরম অবহেলায় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্রী রুমানা আক্তার সুমির অকালমৃত্যু ঘটে।
চলতি বছরের গত মে মাসে ১০ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন নামলে প্রশাসন সপ্তাহে তিন দিনের জন্য একজন এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগ দেয়। বর্তমানে কলেজের জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন কলা ভবন-২-এর নিচতলায় নামমাত্র চিকিৎসাকেন্দ্রে ডা. নাইমা জান্নাত বসলেও সরঞ্জাম ও ওষুধের অভাবে কেবল পরামর্শ ও চিকিৎসাপত্র দেওয়া ছাড়া তিনি আর কোনো সেবা দিতে পারছেন না।
হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র মেহেদী হাসান তানবীর আক্ষেপ করে বলেন, “এখানে যে একটি চিকিৎসাকেন্দ্র আছে, তা অনেকেই জানে না। আর জেনে থাকলেও লাভ নেই, কারণ সেখানে কোনো ওষুধ পাওয়া যায় না।”
একই ধরনের অভিযোগ জানান অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ছাদিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গুরুতর অসুস্থ তো দূরে থাক। আমাদের শরীরের কোন অংশ কেটে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার মতো নূনতম সেবলন, তুলা বা ব্যান্ডেজ পর্যন্ত এখানে পাওয়া যায় নাহ। তাহলে প্রতি বছর আমরা যে টাকা চিকিৎসা খাত বাবদ দিয়ে থাকি তা কোথায় ব্যয় হয়?”
এ বিষয়ে চিকিৎসাকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. নাইমা জান্নাত বলেন, “প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবে বর্তমানে শুধু ব্যবস্থাপত্র দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। সদ্য বিদায়ী অধ্যক্ষের কাছে একাধিকবার প্রয়োজনীয় ঔষধ ও উপকরণ নিয়ে তাগিদ দেওয়া হলেও তা আলোর মূখ দেখেনি।”
অন্যদিকে, বিএম কলেজের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর কাজী জাবের আহমেদ জানান, “চিকিৎসকের নিকট প্রয়োজনীয় মালামালের পূর্ণাঙ্গ তালিকা চাওয়া হয়েছে। দ্রুতই অক্সিজেন সিলিন্ডার, স্ট্রেচার ও জরুরি ওষুধের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি একটি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থার জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানানো হবে।”
শিশুদের রক্তে সিসার উপস্থিতি ও এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করেছে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআর,বি। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১১টায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে কলেজের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
কর্মসূচির শুরুতে প্রজেক্টরের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিসার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। পরে সিসা দূষণ প্রতিরোধের উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি কলেজ ক্যাম্পাসসহ বরিশালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্টিকার লাগানো এবং বিভিন্ন দোকানে লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়।কর্মসূচিটি সমন্বয় করেন বিএম কলেজের শিক্ষার্থী মো. সজিব, মো. মেহেরাব হোসেন, অনামিকা, রিফাত ও জামিল।
বরিশালে কর্মসূচির সমন্বয়ক মো. সজিব বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সিসা দূষণ ও এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির জন্য এ আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট ও স্টিকার বিতরণ করা হয়েছে।
আইসিডিডিআর,বি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সিসা দূষণ প্রতিরোধ সপ্তাহ উপলক্ষে ১৮ থেকে ২৪ অক্টোবর সনাক্তকরণ থেকে প্রতিরোধে প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ২০২৬ সালের বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে দেশের ১৭টি জেলার ২৫টি উপজেলার স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে সিসা দূষণবিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি জনবহুল এলাকায় তরুণদের সম্পৃক্ত করে লিফলেট ও স্টিকার বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউনিসেফের মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (এমআইসিএস) ২০২৫ অনুযায়ী, দেশে ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৩৮ দশমিক ৪ শতাংশ শিশুর রক্তে প্রতি ডেসিলিটারে ৫ মাইক্রোগ্রাম বা তার বেশি মাত্রায় সিসা পাওয়া গেছে। সিসা একটি বিষাক্ত ভারী ধাতু, যা মস্তিষ্ক, কিডনি ও শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ও আচরণের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সিসাযুক্ত ধুলা ও ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ এবং দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে এটি মানবদেহে প্রবেশ করতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সিসার এমন কোনো মাত্রা নেই, যাকে সম্পূর্ণ নিরাপদ বলা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সিসার সংস্পর্শ কমাতে দূষণের উৎস শনাক্ত করা, নিরাপদ খাবার ও পানি নিশ্চিত করা এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি। এ ক্ষেত্রে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।