ই-পেপার
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
বরিশাল থেকে প্রকাশিত একটি আঞ্চলিক অনলাইন গণমাধ্যম
ডেস্ক রিপোর্ট
১৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৫৪ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

শতাধিক গুম-খুনের অভিযোগ, কারাগারে রেখেই জিয়াউল আহসানের বিচার

সংবাদটি ই-পেপারে পড়ুন
আলোচিত সেনা কর্মকর্তা কিলার জিয়াউল আহসান

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে শতাধিক গুম ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিচারকাজ এখন থেকে কারাগারে রেখেই ভার্চ্যুয়ালি পরিচালিত হবে। নিরাপত্তাশঙ্কার কথা বিবেচনায় নিয়ে প্রসিকিউশনের আবেদনে এ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এ মামলার ১৫তম সাক্ষী ও তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামকে জেরা করবেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। গত ৮ অক্টোবর তাঁর জবানবন্দি গ্রহণ শেষ হয়। জবানবন্দিতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পর প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে লোকদেখানো প্রশাসনিক তদন্ত, মিথ্যা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও পুলিশ প্রতিবেদন তৈরির অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি।

প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম জানান, জিয়াউল আহসানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকায় তাঁকে অন্য আসামিদের সঙ্গে একই প্রিজন ভ্যানে করে ট্রাইব্যুনালে আনার পরিবর্তে কারাগারে রেখেই ভার্চ্যুয়ালি বিচারকাজ পরিচালনার প্রস্তাব দেওয়া হয়। ট্রাইব্যুনাল সেই আবেদন মঞ্জুর করেছেন।

মঙ্গলবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১-এ তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করার কথা রয়েছে। জিয়াউল আহসানের পক্ষে আইনজীবী সাহিদুর রহমান, নাজনীন নাহারসহ একটি আইনজীবী প্যানেল আইনি লড়াই করছেন।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। গত ৮ অক্টোবর তৃতীয় দিনের সাক্ষ্যে তাঁর জবানবন্দি শেষ হয়। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে হত্যাকাণ্ডের পর নিয়ন্ত্রিত প্রশাসনিক তদন্তের আশ্রয় নেওয়া হতো। প্রকৃত মৃত্যুর কারণ গোপন করে মিথ্যা ও ভুল ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং পুলিশ প্রতিবেদন তৈরিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বাধ্য করা হতো বলেও দাবি করেন তিনি।

তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব তদন্তের উদ্দেশ্য ছিল প্রকৃত অপরাধীদের দায়মুক্তি নিশ্চিত করা। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

প্রসিকিউশন জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছে। প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুরের সদর থানার পুবাইলে সড়কের পাশে তাঁর সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ তিনজনকে হত্যা করা হয়।

দ্বিতীয় অভিযোগে ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের চরদুয়ানী খালসংলগ্ন বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল, মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তৃতীয় অভিযোগে একই সময়ে তথাকথিত বনদস্যু দমনের আড়ালে আরও ৫০ জনকে হত্যার কথা বলেছে প্রসিকিউশন। অভিযোগ অনুযায়ী, বরগুনার বলেশ্বর নদী ও বাগেরহাটের শরণখোলায় সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় এসব হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ অভিযোগে মাসুদসহ ৫০ জনের প্রাণ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম বলেন, আগের শুনানিতে জিয়াউল আহসান নিজের জীবননাশের আশঙ্কা জানিয়ে একটি আবেদন করেন। কারাগার থেকে তাঁকে যে প্রিজন ভ্যানে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়, সেটির পরিবর্তে অন্য আসামিদের সঙ্গে একই প্রিজন ভ্যানে আনার আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি।

তামীমের ভাষ্য, জিয়াউল আহসানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে প্রসিকিউশন একমত হলেও অন্য আসামিদের সঙ্গে একই ভ্যানে আনার আবেদনে আপত্তি জানায়। কারণ, এ ধরনের ঝুঁকি তৈরি হলে একই গাড়িতে থাকা অন্য বন্দি ও আসামিদের নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে তাঁকে ট্রাইব্যুনালে না এনে কারাগার থেকে ভার্চ্যুয়ালি হাজির করার প্রস্তাব দেয় প্রসিকিউশন। তামীম জানান, কারাগার ও ট্রাইব্যুনালে এ ধরনের শুনানির জন্য প্রয়োজনীয় অডিও-ভিজ্যুয়াল ব্যবস্থা রয়েছে। এর মাধ্যমে জিয়াউল আহসান বিচারকের বক্তব্য, দুই পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শুনতে পারবেন এবং নিজের বক্তব্যও আদালতে তুলে ধরতে পারবেন।

করোনাকালে ভার্চ্যুয়ালি আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার নজিরও তুলে ধরেন এই প্রসিকিউটর। তাঁর মতে, প্রচলিত আইন ও ট্রাইব্যুনাল আইনের বিধান অনুসরণ করে কারাগার থেকেই বিচারপ্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগ আমলে নেন। একই দিন তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরে ২৩ ডিসেম্বর তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

এখন তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মধ্য দিয়ে মামলার পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম এগোবে। নিরাপত্তাশঙ্কার কারণে আসামিকে কারাগারে রেখেই ভার্চ্যুয়ালি বিচারকাজ পরিচালনার সিদ্ধান্তের মধ্যে দিয়ে মামলাটির শুনানি নতুন ব্যবস্থায় শুরু হচ্ছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে ববির অধীনে নেওয়ার উদ্যোগ

১

স্ত্রীকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে মোবাইল টাওয়ারে যুবক

২

শতাধিক গুম-খুনের অভিযোগ, কারাগারে রেখেই জিয়াউল আহসানের বিচার

৩

সমালোচনার মুখে শিক্ষকের পা ধরে ক্ষমা চাইলেন সেই শিক্ষার্থী

৪

ববিতে মালামাল সরবরাহ ছাড়াই ঠিকাদারের নামে ১৫ লাখ টাকার চেক ইস্যু

৫

বরিশাল নগরীর পরিচ্ছন্নতায় ৫০ ভ্যান বক্স ও ৩০ হ্যান্ড ট্রলি বিতরণ

৬

বরিশাল সদরে দুই ইউনিয়নে দুই ভাইয়ের সার ডিলারশিপ

৭

নলছিটি থেকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির মঞ্চে খালেদ সাইফুল্লাহ

৮

বরিশাল চৌমাথায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে বিসিসির অভিযান

৯

ইউক্রেন-রাশিয়া জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধে পারস্পরিক পদক্ষেপের প্রস্তাব জেলেনস্কির

১০

জিবুতির উপকূলে অভিবাসীবাহী নৌকা ডুবে বহু মানুষের প্রাণহানি

১১

রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধের মেয়াদ বাড়াল সৌদি আরব, অনলাইনে চলবে স্কুল

১২

মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের দিকে এগোচ্ছে শক্তিশালী হারিকেন সাইমন

১৩

পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীকে হামলার সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের তথ্য পেয়েছে পুলিশ

১৪

নবায়নযোগ্য জ্বালানি লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সংসদীয় কমিটির প্রশ্ন

১৫

জাপান সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী, আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক

১৬

সচিবদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়নে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা সরকারের

১৭

কৃষিপণ্য রপ্তানি বাড়াতে খাগড়াছড়িতে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ইপিবি

১৮

সারাদেশে দুর্গাপূজার মণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান

১৯

ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় চারজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৬৩১

২০