বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) সদ্য প্রকাশিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কমিটিতে স্থান পেয়েছেন ১২৭ জন ছাত্রনেতা। অন্যদিকে বছরের শুরুতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হলেও সামনে এসেছে শুধুমাত্র সভাপতি ও সেক্রেটারির নাম।
এ বছরের ১ মে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয়বারের মতো কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ১২৭ সদস্যের আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করা হয়। এর আগে ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কাউন্সিলের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে সদস্যদের সরাসরি ভোটে সভাপতি পদে মো. মোশাররফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আরিফ হোসাইন শান্ত এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মো. মিজানুর রহমান নির্বাচিত হন।
অন্যদিকে ৩ জানুয়ারি ববি শিবিরের দুই নেতার নাম প্রকাশ করা হয়, যেখানে সভাপতি হিসেবে মো. মনিরুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি হিসেবে জাকারিয়া ইসলাম দায়িত্ব পেয়েছেন। তবে শিবির নেতাদের দাবি, অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠনের মতো ও সারা দেশের ন্যায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়েও শিবিরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি আছে; শুধুমাত্র কৌশলগত কারণে সবার নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের মূল সেক্রেটারিয়েট বডির বিভিন্ন পদে ১০ জন দায়িত্বে আছেন। এছাড়াও ছেলেদের দুইটি হলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ১০টি সাংগঠনিক থানায় রয়েছে পূর্ণাঙ্গ কমিটি। আর সমর্থক, কর্মী, সাথী ও সদস্য মিলে মোট জনশক্তি রয়েছে প্রায় দুই হাজার।
ছাত্রদলের ১২৭ সদস্যের এত বড় কমিটিকে নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে ববি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, “১২৭ সদস্যের কমিটি শতভাগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। যদিও মাঝেমধ্যে ঝামেলা হচ্ছে, তবুও ঈদ-পরবর্তী সময়ে কমিটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করি।” তিনি আরও বলেন, সংগঠনকে ভালোবেসে অনেকেই ছাত্রদলে যোগ দিতে চায়, সেই জায়গা থেকে তিনি মনে করেন এ সংখ্যাটা ২৩৯ জনের অধিক হওয়া উচিত ছিল। কমিটিতে ১২৭ সদস্যের বাইরেও যোগ্য জনবল আছে, যাদের বিভিন্ন জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে।
শিবিরের ২ সদস্যের কমিটি প্রসঙ্গে ছাত্রদলের এই নেতা বলেন, তাদের সাংগঠনিক পরিচয় (সবার) প্রকাশ না থাকার কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে থেকে বিভিন্ন অপকর্ম করে পার পেয়ে যায়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আগামীর বাংলাদেশে এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলবে বলে তিনি মনে করেন।
ববি শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি মনিরুল ইসলাম বলেন,’বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কেবল ছাত্র রাজনীতি নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক ধারায় পরিচালিত। প্রতি বছরের শুরুতেই সদস্য সম্মেলনের মাধ্যমে এর প্রতিটি শাখা কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। যেমন— বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কমিটি বছরের শুরু থেকেই সক্রিয় এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে পরিচিত। তবে কেন্দ্রীয় পলিসি অনুযায়ী কেবল সভাপতি ও সেক্রেটারির নামই প্রকাশ্যে আনা হয়, যা সংগঠনের একটি অনন্য ও অনুকরণযোগ্য সৌন্দর্য।
তিনি আরো বলেন, যারা শিবিরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে বারবার প্রশ্ন তোলেন, তাদের নিজেদের সংগঠনগুলোতেই বরং অন্তর্দলীয় কোন্দল ও রাস্তা অবরোধের মতো নেতিবাচক রাজনীতি দেখা যায়। তাই উৎসুক সাংবাদিক বন্ধুদের আমন্ত্রণ জানাই—আপনারা সেশনের শুরুতে আমাদের সদস্য সম্মেলন ও শাখা গঠন প্রক্রিয়াগুলো স্বচক্ষে দেখুন এবং আমাদের গঠনমূলক কার্যক্রম জাতির সামনে তুলে ধরুন।’
উল্লেখ্য, বাম সংগঠন গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল, এনসিপির ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইশা ছাত্র আন্দোলন থাকলেও এসব সংগঠনের জনবল খুবই সীমিত। জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক কমিটির বিভিন্ন পদে আছেন মাত্র ৭ জন, ইশায় আছে ১৯ সদস্যের কমিটি, অন্যদিকে ছাত্র কাউন্সিল চলছে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে।