বরিশাল সদর রোডের পরিচিত ফুল বিক্রি ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান ‘জেমি কর্ণার’-এ ক্রেতাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এরই মধ্যে গোলাপের দাম নিয়ে তর্কাতর্কির জেরে এক ক্রেতাকে মারধরের অভিযোগের পর এবার প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে আরেক ক্রেতার সঙ্গে রূঢ় আচরণের অভিযোগ সামনে এসেছে।
অভিযোগকারী জানান, প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি জেমি কর্ণার থেকে ফুল কিনে আসছেন। ফুলের মান ভালো হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তিনি প্রতিষ্ঠানটি থেকে ফুল কিনতেন। এমনকি ঘটনার মাত্র দুই দিন আগেও তার স্বামী রিয়াদ জেমি কর্ণার থেকে তার জন্য গোলাপ কিনে দেন বলে জানান তিনি।
তবে বুধবার সকালে একটি বুকেট বানানোর জন্য জেমি কর্ণারে গেলে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারীর কাছ থেকে অপ্রত্যাশিত আচরণের শিকার হন বলে অভিযোগ করেন।
তার ভাষ্য, তিনি ফুলের বিষয়ে জানতে চাওয়ার আগেই ওই কর্মচারী তাকে ধমক দিয়ে বলেন, ‘নাই আমাদের কাছে নাই।’ এতে তিনি অবাক হয়ে কর্মচারীকে বলেন, ‘আমি তো ভালোভাবে জিজ্ঞেসই করতে পারলাম না আপনাকে, আছে কি না—আগেই বলছেন কীভাবে?’
অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর ওই কর্মচারী আরও রূঢ় আচরণ করে বলেন, ‘নাই বললাম নাই, আপনারে বারবার বলি নাই তাও বুঝেন না?’
এ ঘটনায় অপমানিত বোধ করে ওই ক্রেতা কোনো ফুল না কিনেই দোকান থেকে বেরিয়ে আসেন।
অভিযোগকারী বলেন, ওই কর্মচারীর কাছ থেকে এর আগেও কয়েকবার এমন আচরণের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। তবে দীর্ঘদিনের ক্রেতা হিসেবে বিষয়গুলো আগে গুরুত্ব দিয়ে দেখেননি। এবারও তিনি স্বাভাবিকভাবে ফুল কিনতে গিয়েছিলেন। কিন্তু আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে শেষ পর্যন্ত দোকান থেকে চলে আসেন।
তিনি বলেন, ‘আমি নিজের টাকা দিয়ে ফুল কিনতে যাই। কারও কাছে বিনা পয়সায় কিছু চাইতে যাই না। একজন কাস্টমারের সঙ্গে একজন স্টাফের এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
অভিযোগকারীর দাবি, তার স্বামী গত কয়েক বছরে তাকে যে ফুল দিয়েছেন, তার অধিকাংশই জেমি কর্ণার থেকে কেনা। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনার পর তিনি আর ওই দোকান থেকে ফুল না কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।
এদিকে, এর আগে গোলাপের দাম নিয়ে তর্কাতর্কির জেরে এক ক্রেতাকে মারধরের অভিযোগও উঠেছিল জেমি কর্ণারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, সকালে দোকানে গিয়ে গোলাপ কিনতে চাইলে প্রথমে প্রতিটি গোলাপের দাম ২০ টাকা বলা হয়। দরদাম করে ক্রেতা ১৫ টাকা প্রস্তাব করলে শেষ পর্যন্ত ১৪টি গোলাপ দেওয়া হয়। কিন্তু টাকা পরিশোধের সময় আবার প্রতিটি গোলাপের দাম ২০ টাকা দাবি করা হয়।
এ নিয়ে প্রশ্ন করলে দোকানদারের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয় এবং একপর্যায়ে ক্রেতার ওপর হাত তোলার অভিযোগ ওঠে। উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন বলে জানা যায়।
ওই ঘটনার পর জেমি কর্ণারের মালিকপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
তবে নতুন করে উঠে আসা দুর্ব্যবহারের অভিযোগে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারীদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগকারী আরও জানান, ঘটনার দিন জেমি কর্ণারে লিলির দামও তার কাছে ৮০০ টাকা চাওয়া হয়, যেখানে এর আগের দিন একই ফুলের দাম ৬০০ টাকা বলা হয়েছিল। তবে ফুলের দাম বাড়ানো বা কমানো নিয়ে তার আপত্তি নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ব্যবসায় পণ্যের দাম বাড়তেই পারে। কিন্তু একজন কাস্টমারের সঙ্গে কেমন আচরণ করা হচ্ছে, সেটাই মূল বিষয়।’
স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সদর রোড এলাকার বিভিন্ন ফুলের দোকানে ক্রেতাদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে মাঝেমধ্যে অভিযোগ ওঠে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা ও ব্যাপ্তি আলাদাভাবে যাচাই করা হয়নি।
ব্যবসায়ীদের মতে, ফুলের দোকানসহ যেকোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য পণ্যের মানের পাশাপাশি কাস্টমার সার্ভিসও গুরুত্বপূর্ণ। ক্রেতা পরিচিত কিংবা অপরিচিত—সবার সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করা ব্যবসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এ বিষয়ে জেমি কর্ণারের মালিকপক্ষের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তারা আগের ঘটনার বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিল। নতুন অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
অন্যদিকে, অভিযোগকারী জানিয়েছেন, তিনি ভবিষ্যতে জেমি কর্ণার থেকে ফুল না কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজন হলে আইনগত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করবেন।