কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, আগে নির্দিষ্ট কিছু কৃষি খাতে প্যারাকোয়াটের ব্যবহার বেশি দেখা গেলেও বর্তমানে ধান, সবজি ও অন্যান্য ফসলের জমিতেও এর ব্যবহার রয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় জুমচাষেও এ ধরনের আগাছানাশক ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
প্যারাকোয়াট শরীরে প্রবেশ করলে মারাত্মক বিষক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে ভুল করে পান করা বা ইচ্ছাকৃতভাবে গ্রহণের ঘটনায় গুরুতর অসুস্থতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে। বিষক্রিয়ার ফলে ফুসফুস, কিডনি ও লিভারসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বিষ বিশেষজ্ঞদের মতে, প্যারাকোয়াট বিষক্রিয়ার চিকিৎসা অত্যন্ত জটিল এবং এর জন্য দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। এ ধরনের বিষক্রিয়ায় নির্দিষ্ট কোনো সহজলভ্য প্রতিষেধক না থাকায় চিকিৎসকদের মূল লক্ষ্য থাকে রোগীর শারীরিক জটিলতা নিয়ন্ত্রণ ও সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া।
কৃষিজমিতে স্প্রে করার সময় যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকলেও কৃষক ও কৃষিশ্রমিকদের ঝুঁকির মধ্যে পড়ার আশঙ্কা থাকে। অসাবধানতাবশত শরীরে প্রবেশ, সংরক্ষণে ত্রুটি কিংবা শিশুদের নাগালের মধ্যে রেখে দেওয়ার কারণেও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
প্যারাকোয়াটের উচ্চমাত্রার বিষাক্ততা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্ক ও উদ্বেগ রয়েছে। বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলে এর ব্যবহার নিষিদ্ধ বা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। বিশেষ করে মানুষের বিষক্রিয়া ও পরিবেশগত ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অনেক দেশে এর ব্যবহার বন্ধ করা হয়েছে।
তবে বিভিন্ন দেশে এর আইনগত অবস্থান এক নয়। কোথাও সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, আবার কোথাও নির্দিষ্ট শর্ত ও নিরাপত্তা বিধি মেনে এর ব্যবহার অনুমোদিত। ফলে বাংলাদেশে প্যারাকোয়াটের ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নির্ভরযোগ্য সরকারি তথ্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগাছা দমনে শুধু রাসায়নিকের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে। জমিতে যান্ত্রিকভাবে আগাছা পরিষ্কার, ফসলভিত্তিক সমন্বিত আগাছা ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্প ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহিত করা যেতে পারে।
একই সঙ্গে প্যারাকোয়াটসহ উচ্চঝুঁকির কীটনাশক ও আগাছানাশকের বিক্রি, সংরক্ষণ এবং ব্যবহারে আইন ও বিধিমালা যথাযথভাবে কার্যকর করা জরুরি। কৃষকদের নিরাপদ ব্যবহার সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের তদারকি বাড়ানোরও দাবি রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষক, কৃষিশ্রমিক, ভোক্তা এবং পরিবেশের নিরাপত্তাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। উচ্চঝুঁকির রাসায়নিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারি, সঠিক তথ্য প্রকাশ এবং নিরাপদ বিকল্প ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।