বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দোয়ারিকা সেতুসংলগ্ন সুগন্ধা নদীতীরে নির্মিত সেই টায়ার ও প্লাস্টিক পাইরোলাইসিস কারখানা ‘পায়রা রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট’ এক সপ্তাহের মধ্যে বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)। উল্লেখিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিটসহ প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে সংস্থাটি। ২৫ জুন বেলার পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এস হাসানুল বান্না পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, বরিশালের জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট ১০ জন কর্মকর্তার কাছে ‘নোটিস অব ডিমান্ড ফর জাস্টিস’ প্রেরণ করা হয়।
নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, সুগন্ধা নদীতীরবর্তী ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পায়রা রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ২০২৩-এর বিভিন্ন শর্ত লঙ্ঘন করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কারখানাটির নির্গত কালো ধোঁয়া, বিষাক্ত গ্যাস ও শিল্পবর্জ্য স্থানীয় পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও নদীর প্রতিবেশের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবন-জীবিকা ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
পরিবেশ দূষণকারী এই প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিপদে থাকার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় অন্তত ১০ জনের বেশি মানুষ। তাদের মধ্যেকার একজন মনিরুজ্জামান খোকন বলেন, ৪ বছর আগে স্থানীয় কিছু কৃষকের জমি ভাড়া নিয়ে এই কারখানাটি স্থাপন করেন মিজানুর রহমান নামের বাকেরগঞ্জের জনৈক এক ব্যক্তি। এলাকার লোকজন প্রথমে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনুধাবন করতে পারেনি। কিন্তু যখন বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় এলাকার পরিবেশ বিষিয়ে তুলেছে, ঠিক তখন এলাকার লোকজন কারখানাটি অন্যত্র সরিয়ে নিতে মালিকপক্ষকে অনুরোধ করে। কিন্তু এলাকাবাসীর আপত্তির কোনো কর্ণপাত করেননি কারখানা মালিক। এতে সংক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি দিয়ে কারাখানাটি সরিয়ে নেওয়ার দাবি রাখেন। কিন্তু তাতেও কোনো সুফল আসেনি। কারখানা মালিক নিজের ইচ্ছেখুশি মতো টায়ার জ¦ালিয়ে পরিবেশ দূষণ করে চলছেন, যা উপজেলা প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করছে।
তবে কারখানার মালিক মো. মিজানুর রহমান দাবি করছেন, কারখানাটি পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থার অনুমোদন ও লাইসেন্স নিয়েই পরিচালিত হচ্ছে। তারপরেও এই প্রতিষ্ঠানকে স্থানীয় একটি মহল দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে।
মিজানুর রহমান জানান, এখানে তিনি ৫০ জন লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। এছাড়া টায়ার সংগ্রহসহ নানা কাজে আরও অন্তত ১০০টি পরিবার এই কারখানায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
তবে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) বলছে, শান্ত-স্নিগ্ধ সুগন্ধা নদীতীরে এ ধরনের দূষণকারী শিল্পকারখানা দীর্ঘ মেয়াদে নদীর জীববৈচিত্র্য, কৃষি, মৎস্য সম্পদ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পরিবেশগত ক্ষতি আরও বাড়ার আগেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এ জন্য বেলার পক্ষ থেকে আইনগত নোটিস পাঠানো হয়েছে।
নোটিসের বিষয়টি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়ক লিঙ্কন বায়েন বলেন, আগামী ৭ দিনের মধ্যে কারখানাটি বন্ধ করতে বলা হয়। নতুবা বেলার পক্ষ থেকে উচ্চআদালতে রিট আবেদন করার সিদ্ধান্ত গৃহিত করা হয়েছে।’