বিএম কলেজে ইসলামি ছাত্র আন্দোলন কলেজ শাখার উদ্যোগে জুলাই স্মৃতিচারণ, শহীদদের স্মরণে দোয়া-মুনাজাত এবং ক্যাম্পাসের নৈতিক জীবন গঠন শীর্ষক আলোচনা ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হলো মিট উইথ শায়েখে চরমোনাই।
বৃহস্পতিবার (২০ আগষ্ট) বিকেল ৪ ঘটিকায় কলেজের পরিক্ষা ভবনে উক্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. শেখ মো তাজুল ইসলাম। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামি ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির জয়েন্ট সেক্রেটারি মুহাম্মদ ফয়জুল ইসলাম। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএম কলেজের সামাজিক ও রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ইসলামি আন্দোলন বিএম কলেজ শাখার সভাপতি মুহাম্মদ ইমাম হাসান।
উপস্থিত বক্তরা জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে তাদের আবেগঘন স্মৃতি চারণ করে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিএম কলেজের শিক্ষার্থীদের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. শেখ মোঃ তাজুল ইসলাম শায়েখে চরমোনাইকে ক্যাম্পাসে স্বাগত জানান এবং কলেজের সার্বিক কল্যাণে তাঁর পরামর্শ কামনা করেন। তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে দেশটি আধিপত্যবাদের কবলে ছিল। ২০২৪-এর আন্দোলন আমাদের বাঁচার ও জীবনযাপনের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে।” পাশাপাশি তিনি দেশে ইসলাম ও মুসলমানদের সামাজিক ও নৈতিক অবস্থান উন্নত করতে বৃহৎ পরিসরে কাজ করার আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে এ দেশের মানুষের ওপর শোষণ-নিপীড়ন এবং ২০২৪ এর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের তাৎপর্য ও ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অতীতে রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসে বারবার স্বৈরাচারে পরিণত হয়েছে।
পরবর্তীতে উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি শিক্ষার্থীদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে ধাপে ধাপে শরিয়াহভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন, শিক্ষার্থীদের রাজনীতিতে সঠিক অংশগ্রহণ এবং এ দেশ ও জনপদ পরিবর্তনের জন্য ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা প্রদান করেন এবং পরিশেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদের স্বরণে দোয়া মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সমাপ্তি হয়।