ডেস্ক রিপোর্ট
৫ জুন ২০২৬, ৩:০৮ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

দলে ফিরতে মরিয়া বিএনপি থেকে বহিষ্কৃতরা

নানা অনিয়ম ও বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ডের অভিযোগে চব্বিশের ৫ আগস্ট থেকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয় বিএনপি। দলটির দফতরের তথ্য অনুযায়ী, যার মধ্যে প্রায় দুই হাজার ৬শ’র বেশি বিভিন্ন পদের নেতা বহিষ্কার হন। যদিও নির্বাচনের আগে বহিষ্কৃতদের একটা ক্ষুদ্র অংশকে ফেরানো হয় দলে।

দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচন ঘিরে শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের দায়ে বহিস্কারের খড়গ নামে প্রায় দুই শতাধিক বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর ওপর। সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় অন্তত ১৯০ জন বিএনপি নেতা বহিষ্কৃত হন। যাদের অনেকেই কেন্দ্র ও তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদে ছিলেন। যদিও বেশিরভাগ স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভরাডুবি হয়, জয়ী হয় মাত্র সাতজন।

বিজয়ীদের একজন ময়মনসিংহ-১ আসনের সালমান ওমর রুবেল। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বহিষ্কৃত হলেও এখন দলে ফিরতে চান। রুমিন ফারহানা বাদে বাকি ছয় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মিলে দুইটি আবেদন করেন বিএনপি চেয়ারম্যানের কাছে। যার একটি নেতাকর্মীদের জন্য।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য সালমান ওমর রুবেল বলছিলেন, আমি যেহেতু স্বতন্ত্র নির্বাচন করেছি, আমি তো অপরাধী। উনি (দলের চেয়ারম্যান) শাস্তি দিয়েছেন, আমি এটা মাথা পেতে নিয়েছি। আমার যে মূল ভিত্তি সেটাকে তো অস্বীকার করতে পারব না। দলে ফেরার ব্যাপারে আবেদন আমরা অনেক আগেই করেছি। এখন আমরা অপেক্ষায় আছি।

বহিষ্কারের আগে ১৭ বছর এসব নেতাদের অনেকের ওপরই স্থানীয় বিএনপির রাজনীতি নির্ভর করতো। আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় কিংবা মামলা ও গ্রেফতারের মুখোমুখিও হয়েছেন তারা। তাই অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় নিয়ে তাদের ঘরে ফেরানোর পরামর্শ বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের।

তিনি বলেছেন, এক-দুই যুগ ধরে যাদের ত্যাগ, তাদের ছোটখাটো ত্রুটি যেগুলো আছে, সেগুলো যদি সংশোধনযোগ্য মনে করেন নীতি নির্ধারকরা তাহলে তাদেরকে ফিরিয়ে আনা উচিত। ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তা দিয়ে তাদেরকে দল করার সুযোগ দেওয়া উচিত।

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কারণে অন্তত ছয়টি আসনে হেরে যান জোটসঙ্গী জ্যেষ্ঠ নেতারা। এছাড়া, ভোট ভাগাভাগির সমীকরণে প্রায় দশটি আসনে অল্প ভোটে হেরে যায় ধানের শীষের প্রার্থী। সেজন্য বহিষ্কৃতদের দলে ফেরাতে সর্তক বিএনপির হাইকমান্ডও

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, অনেক অবদান থাকার পরও এমন কিছু হয়ে যায় আরকি যখন শাস্তি দিতে হয়। কিন্তু আমি আবার বলি যে, তাদেরকে যে শাস্তি দেওয়া হয়েছে এটা আমরা আন্দদের সাথে দিই নাই। খুব কষ্ট নিয়ে আমরা এটা করেছি। তো এ ব্যাপারে দল কী সিদ্ধান্ত নেয়, দেখার বিষয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয় নাই।

বহিস্কার প্রত্যাহার না হলেও অনেক নেতাই বিএনপির দলীয় কর্মকাণ্ডে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ অন্য দলে যোগ দেয়ার প্রস্তাব পেলেও আপাতত আছেন স্থানীয় নির্বাচনের অপেক্ষায়।

 

Facebook Comments Box

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে: টিআইবি

বিএম কলেজে ‘মিটআপ উইথ শায়েখে চরমোনাই’ ও জুলাই স্মরণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ইয়াসের আয়োজনে বৈদারাপুরে সচেতনতামূলক সেমিনার

ফের ক্রেতার সাথে খারাপ ব্যবহার “জেমি কর্ণার’র কর্মচারীর

আগাছানাশক ‘প্যারাক কোয়াট’: বিশ্বজুড়ে নিষিদ্ধ হলেও বাংলাদেশে অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, বাড়ছে প্রাণহানি:

প্রাণঝুঁকি আর মৃত্যুফাঁদে বসবাস করছে বিএম কলেজের ডিগ্রি হলের শিক্ষার্থীরা

আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন আজ

আখড়াবাড়ি মন্দিরে জন্মাষ্টমির প্রস্তুতি সভায় সাংবাদিক অলোক শাহের ওপর হামলা

চট্টগ্রামে জাহাজভাঙা কারখানায় গ্যাস বিষক্রিয়ায় নিহত বেড়ে ৮

চেতনা বিক্রির রাজনীতি বাংলাদেশে আর হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১০

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে বরিশালে ১১ দলীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত

১১

জুলাই সনদ নিয়ে প্রতারণা করলে পরিণতি ভালো হবে না: ফয়জুল করীম

১২

ভোলায় স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ-ভিডিও ধারণ, ৩ কিশোর গ্রেফতার

১৩

আমরা যদি বলি জুলাই কার, তাহলে জুলাই কারোই থাকবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৪

ঝালকাঠিতে চোরের আঙুল কামড়ে বিচ্ছিন্ন করলেন গৃহবধূ

১৫

ছাত্রকে দিয়ে এইচএসসির খাতা মূল্যায়নের অভিযাগে শিক্ষক বরখাস্ত

১৬

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১০

১৭

বিএম কলেজে নানা আয়োজনে পালিত হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস

১৮

বিএম কলেজে “শিবির” ট্যাগ দিয়ে জুলাইয়ের অনুষ্ঠান বন্ধের অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে

১৯

সরকারি বিএম কলেজ যুব রেড ক্রিসেন্টের অরিয়েন্টেশন ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

২০

Discover more from বরিশাল পত্রিকা

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading