ডেস্ক রিপোর্ট
১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ৮:১৬ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

নগরীতে মাদক সেবনে বাঁধা দেওয়ায় স্বামী-স্ত্রীকে মারধর, থানায় মামলা

বরিশালে নগরীতে মাদক সেবনে বাঁধা দেওয়ায় জসিম (২৭) নামে এক যুবককে ও তার স্ত্রীকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বখাটেদের বিরুদ্ধে।

রবিবার (২৮ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে বরিশাল নগরীর ৫নং ওয়ার্ড পলাশপুর এলাকার ২নং ইমোশন গল্লির ভুক্তভোগী জসিমের ভাড়া বাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী জসিম অভিযোগ করে বলেন, আমাদের এই জায়গায় স্থানীয় কিছু বখাটে যুবক আমার বাসার সাবানে গাঁজা সেবন করতে ছিল। এমন সময় আমি তাদেরকে সেবন করতে নিষেধ করায় বখাটেরা ক্ষিপ্ত হয়ে আমার উপরে রড দিয়ে পিটিয়ে জখম করে। এ সময় আমি পুলিশকে কল দিতে গেলে আমার হাতে থাকা মোবাইলটি ভেঙে ফেলে ও ব্যাগে থাকা ১৫ হাজার টাকা সন্ত্রাসীরা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ডাক চিৎকার শুনে আমার স্ত্রী কাজল বেগম (২৫) ছুটে আসলে তাকেও মারধর করে এ সময় শ্লীলতাহানি করে তার গায়ে থাকা পোশাক ছিঁড়ে ফেলে ও গলায় থাকা একটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে যায় তারা।

এ ঘটনায় (২৯ জানুয়ারি) জসিমের মা বিউটি বেগম (৪৫) বাদী হয়ে, বরিশাল মেট্রোপলিটন কাউনিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার আসামীরা হলেন, ৫ নং ওয়ার্ড পলাশপুরের ইসলাম নগর প্রথম গল্লির মোঃ সায়েম (২১) পলাশপুর ৩নং গুচ্ছগ্রাম এর আঃ রশিদের ছেলে মোঃ সাব্বির (২০), পলাশপুর বউ বাজার চৌধুরী হাউজিং গগন গল্লির মোঃ রফিকের ছেলে মোঃ সজিব (২৩) ও মোঃ রনিসহ অজ্ঞাতনামা আরো ১০/১২ জন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইমোশন গল্লিতে প্রতিনিয়ত দিনে দুপুরে দলবদ্ধ হয়ে মাদক সেবন ও ছিনতাই অপহরণ ইভটিজিংসহ নানা অপকর্ম করে আসছে বখাটেরা। এদের ভয়ে আতংকে দিন কাটাচ্ছে এলাকাবাসি।

জসীমের মা বিউটি বেগম জানান, আমি লোকমুখে মারামারির ঘটনা শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে আমার ছেলে ও পুত্রবধুকে আহত অবস্থায় চিকিৎসার জন্য শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করি। বর্তমানে আমার ছেলে ও পুত্রবধু শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হলেও বাকিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং আমাদেরকে মামলা উঠিয়ে নেয়ার জন্য বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে এই ঘটনায় মামলা করার কারনে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করায় প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে তারা।

জসিমের স্ত্রী ভুক্তভোগী কাজল জানান, মারামারি চলাকালীন ডাক চিৎকার শুনে আমি ছুটে আসি তখন কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমাকে মারধর ও গায়ের থাকা পোশাক ছিঁড়ে ফেলে। এই সময় আমি আমার স্বামীর প্রাণ বাঁচাতে পুলিশকে কল দিতে গেলে তার হাতে থাকা মোবাইলটি ভেঙে ফেলে। এবং আমার গলা থেকে একটি স্বর্ণের চেইন ও ব্যাগে থাকা পনেরো হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনা আমার শাশুড়ি বাদী হয়ে মামলা করেন। তবে একজনকে পুলিশ আটক করলেও বাকিরা প্রকাশ্যে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে। এবং আমাদেকে বলে তোদের একবার মাইর খেয়ে হয় নাই তোদেরকে আবার মারা লাগবে। মামলা যদি না উঠাও তাহলে কপালে শনি আছে।

কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় মারধরের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এই ঘটনায় একজনকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের খুব শীঘ্রই আইনের আওতায় আনা হবে।

Facebook Comments Box

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে বরিশালে ১১ দলীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত

জুলাই সনদ নিয়ে প্রতারণা করলে পরিণতি ভালো হবে না: ফয়জুল করীম

ভোলায় স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ-ভিডিও ধারণ, ৩ কিশোর গ্রেফতার

আমরা যদি বলি জুলাই কার, তাহলে জুলাই কারোই থাকবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঝালকাঠিতে চোরের আঙুল কামড়ে বিচ্ছিন্ন করলেন গৃহবধূ

ছাত্রকে দিয়ে এইচএসসির খাতা মূল্যায়নের অভিযাগে শিক্ষক বরখাস্ত

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১০

বিএম কলেজে নানা আয়োজনে পালিত হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস

বিএম কলেজে “শিবির” ট্যাগ দিয়ে জুলাইয়ের অনুষ্ঠান বন্ধের অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে

সরকারি বিএম কলেজ যুব রেড ক্রিসেন্টের অরিয়েন্টেশন ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

১০

ডিগ্রি হলের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন পরিদর্শনে বিএম কলেজ অধ্যক্ষ, দ্রুত সংস্কারের নির্দেশনা

১১

বাকেরগঞ্জে বোমা বিস্ফোরণ, নারী-শিশুসহ দগ্ধ ৩

১২

ফের বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় লাফ

১৩

জাপানকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে ব্রাজিল

১৪

আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের বিসিএমডি প্রধান হলেন মাসুম মিজান

১৫

কাউনিয়া পুলিশের অভিযানে ৮০০ পিস ইয়াবাসহ মাদক বিক্রেতা গ্রেপ্তার

১৬

অপরিবর্তিত থাকছে বরিশাল সিটির অটো ভাড়া

১৭

বানারীপাড়ায় চাঁদাবাজি মামলায় বহিষ্কৃত যুবদল নেতা ওয়াসিম মৃধা গ্রেফতার, বাদীর দাবি—‘মামলায় তার নাম দিইনি’

১৮

১৯

বাড়তি অটো ভাড়ার বিরুদ্ধে মাঠে বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা

২০

Discover more from বরিশাল পত্রিকা

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading